জাতীয়

হোয়াইট হোলকে বলা যায় ব্ল্যাকহোলের ছোট ভাই—কার্লো রোভেল্লি, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
হোয়াইট হোলকে বলা যায় ব্ল্যাকহোলের ছোট ভাই—কার্লো রোভেল্লি, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ
হোয়াইট হোলকে বলা যায় ব্ল্যাকহোলের ছোট ভাই—কার্লো রোভেল্লি, তাত্ত্বিক পদার্থবিদ

বর্তমানে আলোচিত তাত্ত্বিক পদার্থবিদের মধ্যে অন্যতম কার্লো রোভেল্লি। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি। সতীর্থ কয়েকজন বিজ্ঞানীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তিনি গড়ে তুলেছেন লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি নামের জটিল এক তত্ত্ব। এতে তিনি চেষ্টা করছেন আপেক্ষিকতা ও কোয়ান্টাম বলবিদ্যাকে একসূত্রে গাঁথতে। তাঁর মতে, স্থান শূন্য নয়; বরং এর গঠন অতি ক্ষুদ্র, কোয়ান্টাম স্তরের জালের মতো, যেন স্থানকাল নিজেই সূক্ষ্ম বুননের এক কাপড়।

রোভেল্লি শুধু পদার্থবিদই নন, জনপ্রিয় লেখকও বটে। স্থান, কাল ও বাস্তবতার গভীরতম প্রশ্নগুলো তুলে ধরেন নিখাদ কৌতূহল ও মানবিক স্পর্শে। তাঁর লেখায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ধাঁধা মিশে যায় দার্শনিক ভাবনায়। বিজ্ঞানের যুক্তি হয়ে ওঠে জীবনের এক গভীর কবিতা। সে কারণেই তাঁকে অনেকে বলেন ‘পদার্থবিজ্ঞানের কবি’।

রোভেল্লির লেখা জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে সেভেন ব্রিফ লেসনস অব ফিজিকস, দ্য অর্ডার অব টাইম, রিয়েলিটি ইজ নট হোয়াট ইট সিমস ও হোয়াইট হোলস। সেগুলো অনূদিত হয়েছে বহু ভাষায় এবং পাঠকদের হাতে হাতে ঘুরেছে যেন দার্শনিক প্রবন্ধের মতো। এর মধ্যে সেভেন ব্রিফ লেসনস অব ফিজিকস প্রায় ৫২টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বিক্রি হয়েছে ১০ লাখের বেশি কপি।

১৯৫৬ সালে ইতালির ভারোনা শহরে জন্ম নেওয়া রোভেল্লি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন কৌতূহলী। গণিত ও দর্শনের টানে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তাঁর ভাবনার পরিধি কখনোই শুধু ল্যাবরেটরি বা সমীকরণের মধ্যে আটকে থাকেনি। তিনি প্রশ্ন করেছেন—সময় কীভাবে বয়ে যায়, স্থান আসলে কেমন আর আমাদের দেখার ওপর গঠন কতটা নির্ভর করে।

বর্তমানে ফ্রান্সের সেন্টার ডি ফিজিক থিওরিক অব মার্সেলিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত এই বিজ্ঞানী গবেষণা করছেন হোয়াইট হোল বা শ্বেতগহ্বর নিয়ে। বছরখানেক আগে এ বিষয়ে একটি বইও প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের গবেষণাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ওয়ারড ডট সিজেডের সহযোগী সম্পাদক মাইকেল সেংক।

মাইকেল সেংক: একটি ফটোগ্রাফ কি অতীতের কোনো মুহূর্তকে ধরে রাখে? এটা কি আমাদের মনে একই স্মৃতি বা অনুভূতি জাগায়? অন্যদিকে সময় ধরে রাখার হাতিয়ার কী হতে পারে? আর ভবিষ্যৎ দেখতে কেমন?

কার্লো রোভেল্লি: একটি ছবি আমাদের অতীত সম্পর্কে কিছু একটা দেয়। এটা অবশ্যই অনুভূতি জাগায়। কখনো কখনো সেটা হয়ে ওঠে খুব তীব্র কোনো অনুভূতি। তার কারণ, ছবিতে অতীতের ছাপ থাকে। আবার আমাদের মস্তিষ্কে ও স্মৃতিতেও ওই অতীতের ছাপ থাকে। তাই ছবিটি এগুলোর সঙ্গে একধরনের অনুরণন তৈরি করে। আমাদের কাছে যদি ভবিষ্যতের কোনো ছবি থাকত, কিন্তু ভবিষ্যতের কোনো স্মৃতি না থাকত, তাহলে আমরা একই অনুরণন পেতাম না। কিন্তু যদি আমাদের কাছে ভবিষ্যতের ছবি ও স্মৃতি দুটিই থাকত, তাহলে তা একই রকম হতো।

মাইকেল সেংক: কালের প্রকৃতি নিয়ে আপনি অনেক লিখেছেন। আপনি ব্যক্তিগতভাবে সময়কে কীভাবে অনুভব করেন? আপনি কি কখনো ‘আমার সময় আছে’ বা ‘আমার সময় নেই’, এই বাক্যগুলো ব্যবহার করেন?

কার্লো রোভেল্লি: হ্যাঁ! আমি এই বাক্যগুলো খুব ঘন ঘন ব্যবহার করি! আমার জন্য সময় অন্য সবার মতোই। সময় যে বিভিন্ন পরিসরে ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্নভাবে কাজ করে, সেটা জেনেও আমাদের দৈনন্দিন জীবন খুব একটা বদলায় না। পৃথিবী গোল জেনেও শহরে আমাদের কারও হাঁটার পদ্ধতি যেমন বদলায় না, ব্যাপারটা অনেকটা সে রকম।

একটি ছবি আমাদের অতীত সম্পর্কে কিছু একটা দেয়। এটা অবশ্যই অনুভূতি জাগায়। কখনো কখনো সেটা হয়ে ওঠে খুব তীব্র কোনো অনুভূতি। তার কারণ, ছবিতে অতীতের ছাপ থাকে।

মাইকেল সেংক: আপনার কাছে বাস্তবতা মানে কী? আপনার কি কোনো ‘অবৈজ্ঞানিক’ বিশ্বাস বা কুসংস্কার আছে?

কার্লো রোভেল্লি: আমার এমন সব বিশ্বাস আছে, যার সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমি যদি বুঝতে পারি যে আমার কোনো বিশ্বাস বিজ্ঞানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ, তখন সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলি। কিন্তু বিষয়গুলো সূক্ষ্ম ও জটিল…আমরা কুসংস্কার ধরে রাখতে পছন্দ করি। সেগুলো আক্ষরিক অর্থে হয়তো সত্য নয়, কিন্তু এদের একটা ভূমিকা আছে। যেমন আমাদের ছোট ছোট কিছু রীতিনীতি আছে এবং আমরা বলি যে কিছু ঘটার জন্য এগুলো করা দরকার। অবশ্যই আমাদের রীতিনীতির বাইরের জগতের ওপর কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু আমাদের ওপর সেগুলোর প্রভাব আছে। এটাই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেগুলো বিজ্ঞানবিরোধী বলে মনে হলেও বৈজ্ঞানিক বিশ্বদৃষ্টিকে যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বুঝতে পারলে সেগুলোরও একটা অর্থ আছে।

মাইকেল সেংক: সময় ও পদার্থ বিষয়ে আমরা নিউটনীয় পদার্থবিজ্ঞান, আইনস্টাইনের তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ত্ব পেয়েছি। আর কী প্রয়োজন? বিশ্বজগৎকে আরও ভালোভাবে বুঝতে হলে পদার্থবিজ্ঞানের কি আধুনিক কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে?

কার্লো রোভেল্লি: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটা প্রয়োজন, সেটা হলো আইনস্টাইনের তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের মধ্যে দৃশ্যমান বিরোধগুলোর সমাধান করা। এ ছাড়া আরও কিছু জিনিস আছে, যা আমরা বুঝতে পারি না। যেমন কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে কী ঘটে। আর আমাদের কাছে একটা অদ্ভুত খণ্ড বিশ্বচিত্র আছে। আমাদের যে আরও কিছু বোঝার আছে, সেটা বেশ স্পষ্ট।

আমার এমন সব বিশ্বাস আছে, যার সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু আমি যদি বুঝতে পারি যে আমার কোনো বিশ্বাস বিজ্ঞানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ, তখন সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলি।

মাইকেল সেংক: নিউটনীয় ও আইনস্টাইনীয় পদার্থবিজ্ঞান একই প্রশ্ন ও ঘটনা নিয়ে কাজ করে, কিন্তু তাদের বর্ণনা ও ব্যাখ্যায় ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পদার্থবিজ্ঞানের কি কোনো সাধারণ ভাষার প্রয়োজন?

কার্লো রোভেল্লি: একই ঘটনার ওপর বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা স্বাভাবিক। অনেক দূর থেকে দেখা একটি বন খুব কাছ থেকে দেখা বনের চেয়ে একেবারেই আলাদা। নিউটনীয় ও আইনস্টাইনীয় পদার্থবিজ্ঞানও একই। প্রথমটি সবকিছু দূর থেকে দেখে। তাই খুঁটিনাটি ও অনেক বিশেষ ঘটনা এড়িয়ে যায়। আমরা যখন আরও পরিমার্জিত দৃষ্টিভঙ্গি পাই, তখন আমরা আমাদের ভাষা নতুন করে সাজাই, আরও শক্তিশালী ভাষা তৈরি করি। পুরোনো ভাষা অনেক ক্ষেত্রেই ভালো। আপনি যখন কোনো উপত্যকায় গাড়ি চালান, আপনার কাছে বনটি তখনো একটি সমতল মখমলি সবুজ ছাড়া আর কিছুই নয়।

তাত্ত্বিক পদার্থবিদ কার্লো রোভেল্লি

মাইকেল সেংক: আপনার বক্তৃতা ও একাডেমিক গবেষণায় আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সাহসী তত্ত্ব নিয়েও কাজ করেন। এগুলো নিয়ে কেন সবার আগ্রহী হওয়া উচিত?

কার্লো রোভেল্লি: এ বিষয়ে কারও আগ্রহী হওয়া উচিত নয়। একই কারণে কারও সংগীত শোনা, সিনেমা দেখা, পাহাড়ে হাইকিং করা, ছুটিতে যাওয়া বা বই পড়ায় আগ্রহী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যে কেউ চাইলে নিজের জীবনের সুন্দর অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার স্বাধীনতা আছে।

আমরা যখন আরও পরিমার্জিত দৃষ্টিভঙ্গি পাই, তখন আমরা আমাদের ভাষা নতুন করে সাজাই, আরও শক্তিশালী ভাষা তৈরি করি। পুরোনো ভাষা অনেক ক্ষেত্রেই ভালো।

মাইকেল সেংক: আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যাকে বলা হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। প্রশ্ন হলো, প্রযুক্তি কি মানবজাতির গভীর জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, নাকি প্রযুক্তি একধরনের বাধাও?

কার্লো রোভেল্লি: প্রযুক্তি এখন এতই বড় বিষয় যে একে এককথায় ভালো বা খারাপ বলা যায় না। যেমন ভালো প্রযুক্তি হলো, যেটা বহুদূরে থাকা সত্ত্বেও আমাদের দুজনকে এত সহজে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দিয়েছে। এ ছাড়া ভালো প্রযুক্তি চিকিৎসায় অগ্রগতি সম্ভব করেছে। এর কারণে গত শতকের মানুষের গড় আয়ু প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই প্রযুক্তি না থাকলে আমাদের অনেকেই হয়তো এখন আর বেঁচেই থাকত না। আমি প্রযুক্তির প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ, আমি এত দীর্ঘ জীবন পাচ্ছি, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। অন্যদিকে পারমাণবিক বোমা একেবারেই নির্বোধ একটা প্রযুক্তি।

মাইকেল সেংক: দর্শন ছাড়া আপনি কেমন পদার্থবিজ্ঞানী হতেন? কিংবা পদার্থবিজ্ঞান ছাড়া কেমন দার্শনিকই হতেন?

কার্লো রোভেল্লি: বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞানী আছেন। কেউ কেউ টেকনিক্যাল। তাঁরা হিসাব করেন বা পরীক্ষা করেন বা উপপাদ্য প্রমাণ করেন। আবার অন্য ধরনের বিজ্ঞানী আছেন, যাঁরা অজানাকে অনুসন্ধান করেন। আমি মনে করি, এর জন্য দর্শন খুব উপযোগী। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের দার্শনিকও আছেন। আমি মনে করি, যাঁরা আধুনিক বিজ্ঞানের অর্জিত জ্ঞান উপেক্ষা করেন, তাঁরা অপরিহার্য কিছু বিষয় থেকে বঞ্চিত হন।

আর আমি নিজে? আমার নিজের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দার্শনিকতা বোঝার ক্ষমতা দিয়েছে যে স্থান ও কাল সম্পর্কে আমরা সাধারণত যেভাবে ভাবি, তা গভীরতর ভুলও হতে পারে। এ উপলব্ধিই কোয়ান্টাম স্থান ও কোয়ান্টাম কালের মতো ধারণা বোঝার ও গড়ে তোলার পথ খুলে দিয়েছে।

প্রযুক্তি এখন এতই বড় বিষয় যে একে এককথায় ভালো বা খারাপ বলা যায় না। যেমন ভালো প্রযুক্তি হলো, যেটা বহুদূরে থাকা সত্ত্বেও আমাদের দুজনকে এত সহজে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

মাইকেল সেংক: আপনি সুপরিচিত বিজ্ঞানী ও লেখক। আপনি কী ধরনের প্রভাব ফেলতে চান? সেটা কি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

কার্লো রোভেল্লি: আমি আমার প্রভাব নিয়ে আগ্রহী, কিন্তু সেটা আমার জন্য অপরিহার্য কিছু নয়। মানুষ যদি আমাকে ভুলে যায়, তাতে খুব একটা আফসোসের কিছু নেই। কারণ, শেষ পর্যন্ত সবকিছুই বিস্মৃতির আড়ালে চলে যায়। কিন্তু অবশ্যই খুশি হব, যদি কোনোভাবে এই পৃথিবী বা মানুষের চিন্তাভাবনা বোঝার ক্ষেত্রে সামান্য অবদান রাখতে পারি। আরও ভালো লাগবে, যদি আমার প্রভাবের কণা অংশও মানুষকে একটু কম নির্বোধ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কম যুদ্ধংদেহী হতে প্রেরণা দেয়।

মাইকেল সেংক: আপনার কাছে বিজ্ঞানের তারকা কে? আপনি কাকে শ্রদ্ধা ও অনুসরণ করেন? কাকে পড়ার, শোনার বা দেখার যোগ্য মনে করেন?

কার্লো রোভেল্লি: এ রকম অনেকে আছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় নামটি, যদিও উত্তরটা সহজেই অনুমান করা যায়—তিনি হলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। আমি তাঁকে শ্রদ্ধা করি তাঁর স্বাধীনচেতা মনোভাবের জন্য, তাঁর রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য এবং কোনো আপস না করে সব সময় নিজের মতো থাকার জন্য।

আমি আমার প্রভাব নিয়ে আগ্রহী, কিন্তু সেটা আমার জন্য অপরিহার্য কিছু নয়। মানুষ যদি আমাকে ভুলে যায়, তাতে খুব একটা আফসোসের কিছু নেই। কারণ, শেষ পর্যন্ত সবকিছুই বিস্মৃতির আড়ালে চলে যায়।

মাইকেল সেংক: আজকের সভ্যতা বিজ্ঞানকে খুবই গুরুত্ব দেয়। আপনার কি মনে হয়, চিরকাল এমনই থাকবে না? আপনি কি মনে করেন, কখনো ধর্ম, দর্শন, শক্তির প্রবাহ, মনোভাব বা অনুভূতির মতো বিষয়গুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?

কার্লো রোভেল্লি: আমার ধারণা, এটা ভুলভাবে বিভাজন করা হচ্ছে। অনুভূতি, মনোভাব, শক্তির প্রবাহ ও দর্শনের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো বিরোধ নেই। এমনকি ধর্মকে, যা আসলে একটি জটিল ও বহু স্তরবিশিষ্ট ঘটনা, বিজ্ঞানের আলোয় বোঝা সম্ভব। এর মানেও বের করা সম্ভব। এগুলো সবই বাস্তব ঘটনা। বিজ্ঞান সেগুলো অস্বীকারও করে না। তাই আশা করি, একদিন আমরা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারব, যেখানে একে আর বিজ্ঞানের সঙ্গে বিরোধিতা হিসেবে দেখানো হবে না।

কার্লো রোভেল্লি

বিজ্ঞান তাদের অস্বীকার করে, এ ধারণা আসলে ভুল; বরং বিজ্ঞান আমাদের সেই ভুলগুলোর বিরুদ্ধে সতর্ক করতে পারে, যেগুলোর মধ্যে আমরা ধর্ম, দর্শন বা অনুভূতির টানে প্রায়ই পড়ে যাই। আশা করি আমরা সেই ভুলগুলো এড়াতে পারব।

মাইকেল সেংক: আপনি বর্তমানে কী নিয়ে আগ্রহী? সম্প্রতি কোন প্রশ্নগুলো আপনার মনে সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খায়? সেটা কাজ–সম্পর্কিত হোক বা অন্য কিছু, যদি শেয়ার করতেন।

কার্লো রোভেল্লি: যে প্রশ্নটি আমাকে রাতে জাগিয়ে রাখে, সেটা হলো ভবিষ্যৎ ঠিক কী কারণে অতীত থেকে আলাদা? এই পার্থক্যের শিকড় কোথায়? আমরা কেন অতীত মনে রাখি, কিন্তু ভবিষ্যৎ মনে রাখতে পারি না?

এগুলো নিয়ে আমার আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, আমি সারা জীবন যে তত্ত্বটি নিয়ে কাজ করেছি, সেই লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি তত্ত্ব পরীক্ষা করার একটা উপায় হতে পারে এই হোয়াইট হোল।

মাইকেল সেংক: আপনি কি আদৌ কল্পনা করতে পারেন যে আমরা ভবিষ্যৎ মনে রাখতে পারব?

কার্লো রোভেল্লি: অবশ্যই পারি। কেন নয়? আপনি যেমন নিজের তরুণ বয়সের স্মৃতি মনে রাখতে পারেন, তেমনি নিজের বার্ধক্যের স্মৃতিও থাকতে পারে। যদি তা–ই হতো, আমাদের সময়বোধ একেবারেই অন্য রকম হতো।

মাইকেল সেংক: এটা নিয়ে কি এ মুহূর্তে গবেষণা করছেন?

কার্লো রোভেল্লি: একভাবে তা–ই বলা যায়। আমি এখন হোয়াইট হোল বা শ্বেতগহ্বর নিয়ে কাজ করছি। এগুলোকে বলা যায়, ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ছোট ভাই। কৃষ্ণগহ্বর খুবই রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তু। আমরা সেগুলো আকাশে দেখি। আমরা দেখি, পদার্থ কীভাবে তাদের ভেতরে পড়ে যাচ্ছে। এর ভেতরে পড়া পদার্থের ভাগ্যে কী ঘটে, তা নিয়ে বলতে গেলে আমরা কিছুই জানি না।

কিন্তু এগুলো নিয়ে আমার আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, আমি সারা জীবন যে তত্ত্বটি নিয়ে কাজ করেছি, সেই লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি তত্ত্ব পরীক্ষা করার একটা উপায় হতে পারে এই হোয়াইট হোল। এই তত্ত্ব স্থান ও সময়ের কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করে। তবে সেটা এখন পর্যন্ত পরীক্ষিত নয়। এ তত্ত্ব ভবিষ্যদ্বাণী করে যে দূর ভবিষ্যতে প্রতিটি কৃষ্ণগহ্বর একটি শ্বেতগহ্বরে পরিণত হয়। এর সেখান থেকে কৃষ্ণগহ্বরের ভেতরে পড়া সবকিছু শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসতে পারে।

আমি এখন হোয়াইট হোল বা শ্বেতগহ্বর নিয়ে কাজ করছি। এগুলোকে বলা যায়, ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ছোট ভাই। কৃষ্ণগহ্বর খুবই রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তু। আমরা সেগুলো আকাশে দেখি।

মাইকেল সেংক: আপনি কি মনে করেন যে কোনো একটি হোয়াইট হোলই বিগ ব্যাংয়ের জন্য দায়ী হতে পারে?

কার্লো রোভেল্লি: বিগ ব্যাংয়ের পদার্থবিজ্ঞান ও কৃষ্ণগহ্বরের পদার্থবিজ্ঞানের মধ্যে কিছু মিল আছে। বিগ ব্যাং হয়তো একটি ধসে পড়া মহাবিশ্ব থেকে একটি বিগ বাউন্স ছিল। একইভাবে একটি কৃষ্ণগহ্বরও শেষ পর্যন্ত বাউন্স করে একটি শ্বেতগহ্বরে পরিণত হয়। কিন্তু এগুলো শুধু সাদৃশ্য। কারণ, দুটি ঘটনার প্রকৃতি আসলে বেশ আলাদা।

মাইকেল সেংক: আমাদের মহাবিশ্ব যেভাবে শুরু হয়েছিল, সেটা কি কোনো দিন একইভাবে বা একই প্রক্রিয়ায় শেষ হতে পারে?

কার্লো রোভেল্লি: দূর ভবিষ্যতে আমাদের সামনে কী আছে, কে জানে? শুধু ঈশ্বরই জানেন অথবা হয়তো তিনিও নন...

*লেখাটি ২০২৫ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় নভেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নতুন পরিচয়ে হানিয়া আমির, শুরুতেই চমক
নতুন পরিচয়ে হানিয়া আমির, শুরুতেই চমক

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির এবার পা রাখলেন সংগীতের জগতে। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার সংগীতশিল্পী হিসেবে নতুন পরিচয় তৈরি করলেন তিনি। নিজের প্রথম গান ‘পাবলো’ দিয়ে সংগীতে অভিষেক হয়েছে তার। গানটির বিশেষত্ব হলো-এটি শুধু গেয়েই থেমে থাকেননি হানিয়া। গানটির কথা, সুর ও পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। ফলে ‘পাবলো’ হানিয়ার জন্য হয়ে উঠেছে একেবারেই নিজের ভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ। গান প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনের একাধিক তারকা হানিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার নতুন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে গানটির শেষ মুহূর্তে এসে দর্শকদের জন্য ছিল আরও একটি চমক। সেখানে দেখা যায় ভারতের আলোচিত অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্তকে। হানিয়ার গানের প্রশংসা করে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছেন রাখি। আরও পড়ুন বক্স অফিস সাফল্যের মাঝেই বিতর্কে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ রাখির এই উপস্থিতি হানিয়ার প্রথম গানকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। দুই দেশের দুই পরিচিত তারকার এই সংযোগ নিয়েও ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। আরও পড়ুন নামী ব্র্যান্ডের পণ্যে পোকা পেলেন অভিনেত্রী অভিনয়ে এরই মধ্যে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন হানিয়া আমির। এবার সংগীতেও নিজের প্রতিভার প্রকাশ ঘটিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করলেন তিনি। ‘পাবলো’ দিয়ে শুরু হওয়া এই পথচলা ভবিষ্যতে তাকে সংগীতের জগতেও নিয়মিত দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এমএমএফ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতারণার আস্তানা, চট্টগ্রামে আটক ৬৩ বিদেশি কারাগারে

ভবন ভাড়া নিয়ে প্রতারণার আস্তানা, চট্টগ্রামে আটক ৬৩ বিদেশি কারাগারে

আগামী মার্চের মধ্যেই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আগামী মার্চের মধ্যেই পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প উদ্বোধন: পানিসম্পদ মন্ত্রী

নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার-১৫
নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার-১৫

নওগাঁয় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১০ মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ৬১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫০টি ইয়াবা, পাঁচ শতাধিক লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জেলার মহাদেবপুর, মান্দা, পোরশা, পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের নেতৃত্বে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি পুলিশ মহাদেবপুরে অভিযান চালিয়ে ৪০০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। মান্দায় ২৪টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫০টি ইয়াবা ও একটি পালসার মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয় দুজনকে। পোরশায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাদক ও উপকরণ ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়ামতপুরে ১৫০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন এবং পত্নীতলায় পৃথক দুটি অভিযানে ৩৬টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। একই উপজেলায় আরও পাঁচজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদক পরিবহনে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে জেলার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরমান হোসেন রুমন/এএইচ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
হতে পারতেন ‘আরেক শচিন’, কুয়াশার রাতের এক দুর্ঘটনায় সব শেষ

হতে পারতেন ‘আরেক শচিন’, কুয়াশার রাতের এক দুর্ঘটনায় সব শেষ

হাটহাজারী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

হাটহাজারী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

বাউফলে কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

বাউফলে কিশোরীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিলো প্রশাসন

বাবা গুম, মা দুর্ঘটনায় নিহত- সেই রিফাদের জন্য বই পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
বাবা গুম, মা দুর্ঘটনায় নিহত- সেই রিফাদের জন্য বই পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকার দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম রাশেদ ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল গুমের শিকার হন। এরপর থেকে বাবার অপেক্ষায় অনিশ্চয়তার মধ্যেই বেড়ে উঠছে তার ছোট ছেলে রামীমুল ইসলাম রিফাদ। স্বামীর গুমের বিচারের জন্য ছোটাছুটিতে মোহাম্মদপুরে রিফাদের মা রুমা বেগম ২০২১ সালের নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর সাভারের হেমায়েতপুরে পরিবারের বসতভিটাটুকুও চাচার দখলে চলে যায়। ফলে বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে রিফাদ বর্তমানে চাঁদপুরে খালার কাছে থেকে বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এবার সে এসএসসি পরীক্ষার্থী। গুম পরিবারের সন্তান রিফাদের এসএসসি পরীক্ষার জন্য কিছু বই, টেস্ট পেপার প্রয়োজন। রিফাদের বড় ভাই রিমন বিষয়টি জানালে বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।  শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন রিফাদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বই তার ভাই রিমনের হাতে পৌঁছে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনিস্টিউট ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ, শেকৃবি ছাত্রদল নেতা শোআইব ইসলাম ও ইয়াসির আরাফাত মিরাজ প্রমুখ।  গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠন সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি -১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান। কেএইচ/জেএইচ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৩১ বছরের বসতভিটা দখলচেষ্টার অভিযোগ

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৩১ বছরের বসতভিটা দখলচেষ্টার অভিযোগ

সিঙ্গাপুরের মতো বরিশালেও জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকাশের সুযোগ রয়েছে

সিঙ্গাপুরের মতো বরিশালেও জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিকাশের সুযোগ রয়েছে

গুলশানে আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

গুলশানে আওয়ামী লীগ এত বড় মিছিল করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

0 Comments