জাতীয়

হেয়ার রোডের ছাগলকাহিনি

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হেয়ার রোডের ছাগলকাহিনি
হেয়ার রোডের ছাগলকাহিনি

শান্তিনিকেতন থেকে নোবেল চুরির ঘটনার মধ্যে কেমন একটা সাহিত্য-সাহিত্য ভাব আছে। শুনতে খারাপ লাগে না।

কল্পনায় নোবেলচোরকে ঠিক চোর চোর মনে হয় না, কেমন যেন সূক্ষ্ম শিল্পকর্মের প্রতি গভীর অনুরাগবিশিষ্ট প্রাণীবিশেষ মনে হয়। কারণ শান্তিনিকেতনের সঙ্গে নোবেল চুরির মতো জিনিস যায়; মুরগি চুরি যায় না।

প্রায় সেই কায়দায় আমাদের হেয়ার রোডের মন্ত্রীর বাড়ির সঙ্গে সরকারি নথি বা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার চুরির ঘটনা যতটা ভদ্রস্থ ও স্বাভাবিক শোনায়, ছাগলচুরি ততটা শোনায় না।

না শোনালেও এই ঘটনা ঘটেছে বেশ আগে। তবে তার রেশ তো কাটেইনি, বরং তা আবার গাঁজিয়ে উঠেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, নোবেলচোর আর ছাগলচোর এক না। এই কারণে নোবেল চোরের মতো ছাগলচোর মনের মধ্যে ‘মর্যাদার’ আসন পায় না। ছাগলচোর শুনলে মনের মধ্যে ছ্যাঁচ্চড় টাইপের কিছু লোকের বীভৎস ছবি ভেসে ওঠে।

ঘটনা হলো, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে ড. আসিফ নজরুলের হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে তাঁর ছোট মেয়ের একটি পোষা ছাগল উধাও হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

শোনা যাচ্ছিল, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণে এনসিপির নেতারা জোরালো দাবি করেছিলেন। কিন্তু আসিফ নজরুল নাকি তাতে বাধ সেধেছিলেন।

সেই কারণে এনসিপির নেতারা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। রাগের চোটে তাঁরা তাঁর একটি ছাগল জবাই করে খেয়ে ফেলেন এবং একটি ছাগলের গলায় ‘চুপ্পুর অপসারণ চাই’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে রেখে যান।

ওই সময় একটি টক শো’তে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কথা হচ্ছিল। হুবহু কথাগুলো ছিল—

নাসীরুদ্দীন : আসিফ স্যারের ছাগল খাওয়া হইছে রান্নাবান্না করে। এটা আমি শুনেছি।

খালেদ মুহিউদ্দীন: সিরিয়াসলি? সিরিয়াসলি? আপনারা আসিফ নজরুলের ছাগল রান্নাবান্না করে খায়া ফেলছেন? এটা কি তাকে শিক্ষা দিতে? ইয়া করতে? মানে, কী করতে? আমি তো ভাবছিলাম এটা রেটোরিক্যাল।

নাসীরুদ্দীন : এটা অনেকে মনে করে যে, এটার মাধ্যমে আসিফ স্যার এটার মাধ্যমে শিক্ষা পাবে। আবার এটা অনেকে মনে করে যে, বাড়ির পাশে ছাগল থাকলে...হাহা হাহা...পরে আমি শুনছি নাকি তাকে (আসিফ নজরুলকে) একটা ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছে এবং এটা নিয়ে উনি রাগ করেছেন। যেটাকে খাওয়া হয়েছে, সেটা নাকি কালো নাকি লাল ছিল...ওনাকে যেটা কিনে দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে রং মেলে নাই, সেজন্য নাকি উনি সে ছাগল নেননি। ফেরত দিয়েছেন।

খালেদ মুহিউদ্দীন: কারা খেয়েছিলেন ছাগলটা?

নাসীরুদ্দীন : আমি তো মন্ত্রীপাড়ায় থাকি না, তাদের পাড়াপ্রতিবেশিরা বলতে পারবেন। আসিফ নজরুল স্যারকেও আপনার জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য অনুযায়ী, যাঁরা ছাগলটি খেয়েছিলেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি ছাগল আসিফ নজরুলকে দিতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু আসিফ নজরুলের মেয়ের পোষা ছাগলের গায়ের রংয়ের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এনসিপির নেতাদের প্রস্তাবিত ছাগলটির গাত্রবর্ণের মিল না থাকায় তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, ছাগল চুরি নিয়ে যা ঘটেছে, তা তাঁর জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা।

ওই ঘটনা সেখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। দিন কয়েক আগে খালেদ মুহিউদ্দীনের শো’তে আসিফ নজরুল আসেন।

সেখানে সংবিধান, গঠনতন্ত্র, বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের মতো অতি উচ্চমার্গীয় দুর্বোধ্য প্রসঙ্গের মাঠে সহজবোধ্য ঘাস খেতে খেতে সেই ছাগলটি ঢুকে পড়ে। তাঁদের কথোপকথন হুবহু ছিল এ রকম:

খালেদ মুহিউদ্দীন: আপনার ওপর তারা (এনসিপি নেতারা) এতটাই ক্ষুব্ধ ছিল যে আপনার শিশুকন্যার ছাগল প্রতিশোধ হিসেবে তারা খেয়ে ফেলেছে এবং তারা প্রকাশ্যেই এটা বলেছে।

আসিফ নজরুল: ছাগল চুরি নিয়ে যা ঘটেছে, তা আমার জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা। এটা যদি কেউ আপনাকে বলে থাকে প্রতিশোধ হিসেবে করেছে, তাহলে তার মতো অমানুষ, তার মতো পিশাচ, তার মতো নির্মম, তার মতো খারাপ কোনো মানুষ হইতে পারে না।

এ ছাগলটাকে কাটা হইছে কীভাবে সেটাও শুনতে হবে আপনার। পুরা ঘটনাটা তারা মজা করে করেছে। আমার বাচ্চাটা...তখন তার বয়স ছিল সাড়ে নয় বছর। সে যখন ফুলার রোড থেকে চলে যায়, হেয়ার রোডে তার বন্ধুবান্ধব কেউ ছিল না। সে প্রচণ্ড ট্রমাটাইজড হয়ে যায়। হেয়ার রোডে একা বাসা। তখন তাদের পালার জন্য ছাগলটা আমরা কিনে দিই এবং এই ছাগলটা প্রত্যেক দিন বসে থাকত, কখন সে স্কুলে যাবে। সে স্কুল থেকে আসার পর ছাগলটা তার সঙ্গে খেলত। ওর যে ফোন ছিল, সেখানে তার মায়ের ছবি বাদ দিয়ে ছাগলের সঙ্গে গলা জড়িয়ে ধরে থাকা ছবিটাকে সেভ করে রেখেছিল।

ছাগলটাকে যখন খেয়ে ফেলা হয়, তখন আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিচ্ছিল। দেড় দিন ধরে সে কিছু খেতে পারেনি। খুবই অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। আজ পর্যন্ত সে জানে না ছাগলটাকে খাওয়া হয়েছে। ভাগ্য ভালো সে টক শো দেখে না। আমরা বলেছি, ‘বাবা দরজাটা খোলা ছিল, ছাগলটা পালায়ে চলে গেছে।’

খালেদ, আপনাকে আমি বলতে চাইনি। কিন্তু আপনি যখন বললেন, প্রতিশোধ হিসেবে..., তখন বলছি, ওর মতো ইতর, বদমাইশ, পাষণ্ড পশু আর কেউ নাই। এই ছাগলটাকে কাটা হয়েছে কীভাবে, এটাও শুনতে হবে আপনাকে। ছাগলটা যখন প্রথম বটি দিয়ে কাটে তখন কাটছিল না। তো অর্ধেক কাটা হয়েছে, তখন নাকি কারওরানবাজার থেকে ধারালো ছুরি এনে ছাগলটাকে কাটা হয়।

২.

আসিফ নজরুলের ছাগল ছাত্ররা খেয়েছেন—বিষয়টিকে স্নেহের চোখে দেখার সুযোগ এই সমাজে আছে। কারণ এ দেশে মুরগি বা ছাগল চুরি করে মজা করে খাওয়ার রেওয়াজ আছে।

শুধু তা-ই না, সেই মুরগি বা ছাগল খাওয়ার পর এক ধরনের অধিকার আদায়ের গৌরব প্রচারের মতো করে মালিকের কাছে তা বুক ফুলিয়ে স্বীকার করার মধ্যে কোনো ধরনের সংকোচ না দেখানোর ঐতিহ্য এখানে অতি প্রাচীন। অনেক মহান নেতা ছোটবেলায় ছাগল চুরি করে খেয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা পর্যন্ত শৈশবের ছাগল চুরি করেছেন। ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ শিরোনামের আত্মজীবনীতে সেই ঘটনার বিশদ বিবরণ তিনি দিয়েছেন। আর শৈশব-কৈশরের ডাব চুরি, মাছ চুরি, ফল চুরি আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই ‘ধুর বাদ দেন তো’ বলে উপেক্ষাযোগ্য অপরাধ।

আসিফ নজরুলও বলেছেন, তাঁর ধারণা ছাগলটি এনসিপির নেতারা স্রেফ মজা করে খেয়েছেন। তাই তিনি এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন: ‘আমি মনে করি যে আসিফ নজরুলের ছাগল একটা খাওয়া হয়েছে, কিন্তু দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল।

কিন্তু ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ছাগলটি খাওয়া হয়েছে বলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া স্বীকারোক্তি তিনি হজম করতে পারেননি।

সে কারণেই তিনি বলেছেন, ‘আপনি যখন বললেন, প্রতিশোধ হিসেবে..., তখন বলছি, ওর মতো ইতর, বদমাইশ, পাষণ্ড পশু আর কেউ নাই।’

আসিফ নজরুলের জবানিতে তাঁর মেয়ের ট্রমাটাইজড্ হয়ে যাওয়ার কথা যাঁরা শুনেছেন, তাঁদের কাছে ছাগল চুরির ঘটনা আর মজা করার মতো বিষয় থাকেনি। তারা মেয়েটার আহাজারির কথা শুনে কষ্ট পেয়েছেন।

ধারণা করেছিলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আসিফ নজরুলের কথাগুলো শোনার পর দুঃখপ্রকাশ করবেন এবং মেয়েটার উদ্দেশে কোনো সান্ত্বনার কথা বলবেন।

রাজনীতিক হিসেবে তাঁর দিক থেকে এ ধরনের বক্তব্য আসার বিষয়টাই প্রত্যাশিত ছিল।

কিন্তু নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন: ‘আমি মনে করি যে আসিফ নজরুলের ছাগল একটা খাওয়া হয়েছে, কিন্তু দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল। এবং আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ না। এবং গতকাল দেখলাম...উনি...ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট ছিল কত...এক বছর, দেড় বছর...এর মধ্যে উনি গরু ছাগল মুরগি পালা শুরু করছে। যেখানে গরু ছাগল মুরগি পালত, সেখানে পুলিশের সিকিউরিটিও দাঁড় করাইছে। তো আসিফ নজরুলের এটা যারা খাইছে, আমি মনে করি যে তাদের আরেকটাও খাওয়া উচিত ছিল।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই আক্রমণাত্মক কথায় ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসের আবদুল কাদেরের ছোটোবিবির কথা মনে পড়ে। ‘ছোটোবিবি সতিনকে উদ্দেশ করে “তোমার বুড়ার সম্পত্তিত হামি প্যাশাব করি, প্যাশাব করি” বলতে বলতে তার কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত সে এমনভাবে দোলায় যে মনে হয়, তার সংকল্পটি সে এক্ষুনি কার্যকর করতে যাচ্ছে।’

নাসীরুদ্দীন যে উত্তেজিত অভিব্যক্তিতে আসিফ নজরুলের আরও একটি ছাগল খাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গে ‘বুড়ার সম্পত্তিত হামি প্যাশাব করি’ বলে কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত দোলানি দিয়ে ‘নিজ সংকল্প এক্ষুনি কার্যকর করতে’ উদ্যত হওয়া ছোটোবিবির বিরল মিল দেখা গেছে। মনে হয়েছে, পারলে তিনি এখনই আসিফ নজরুলের দ্বিতীয় ছাগলটিকে খেয়ে ফেলতেন।  

ছাগলচুরির বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মধ্যে তেমন কোনো লজ্জাশরম বা অনুশোচনা দেখা গেল না। বরং দুটো ছাগল না খেয়ে একটা খাওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ছাগলচোরদের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে তাঁদের হৃদয় নিংড়ানো ধিক্কার জানিয়েছেন।

নাসীরুদ্দীনের ছাগল চুরিবিষয়ক ‘অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস’-এর আসল কারণ হলো, বাংলাদেশে ছাগল আর শুধু ছাগল নেই।

ছাগল এখন রাজনৈতিক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাগল এখন প্রতিবাদ। ছাগল এখন প্রতিশোধ। ছাগল এখন রাষ্ট্রচিন্তা। ছাগল এখন টকশোর বিষয়। ছাগল এখন রাজনৈতিক দর্শনেরও অংশ।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সূচনার পেছনে ১৫ লাখ টাকা দাম ওঠা এক ঐতিহাসিক উচ্চবংশীয় রামছাগলের বিরাট ভূমিকা ছিল।

আজ ছাগল নেই, বলিও নেই; কিন্তু মানুষের রাজনীতিতে স্কেপগোটের অভাব নেই। অর্থাৎ, ছাগল গেছে, ছাগলামি যায়নি। হেয়ার রোডের দুই ছাগলের একটিকে জবাই করে খাওয়া ও একটিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ইয়োম কিপুরের কথা মনে করিয়ে দেয়।

৩.

প্রাচীন জেরুজালেমের মন্দিরে ইয়োম কিপুরের বিশেষ আচার হিসেবে দুটি ছাগল নেওয়া হতো। লটারির মাধ্যমে একটি নির্ধারিত হতো ঈশ্বরের উদ্দেশে বলির জন্য।

অন্য ছাগলটির ওপর মহাযাজক ইসরায়েলিদের পাপের প্রতীকী দায় চাপিয়ে দিয়ে সেটিকে মরুভূমির দিকে পাঠিয়ে দিতেন। দ্বিতীয় এই ছাগলটি এস্কেপ করত বা চলে যেত বলে এটাই পরে ইংরেজিতে ‘scapegoat’ শব্দের উৎস হয়।

অর্থাৎ সেখানে একটি ছাগল বলি হতো। আরেকটি হয়ে যেত ‘স্কেপগোট’—অর্থাৎ সবার পাপের দায় নিজের ঘাড়ে নিয়ে বিদায়।

আজ ছাগল নেই, বলিও নেই; কিন্তু মানুষের রাজনীতিতে স্কেপগোটের অভাব নেই। অর্থাৎ, ছাগল গেছে, ছাগলামি যায়নি। হেয়ার রোডের দুই ছাগলের একটিকে জবাই করে খাওয়া ও একটিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ইয়োম কিপুরের কথা মনে করিয়ে দেয়।

আমাদের রাজনীতিতেও বলির পাঁঠার অভাব নেই। পার্থক্য শুধু এই-সেখানে একটি ছাগলকে বলি দেওয়া হতো পাপের দায় বহনের প্রতীক হিসেবে; এখানে কখনো ছাগলকে খাওয়ানো হয় রাজনৈতিক রাগের প্রতীক হিসেবে।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘ছাগলের যতটুকু শিং আছে, তাহাতে তাহার কাজ চলিয়া যায়, কিন্তু হরিণের শিঙের পনেরো আনা অনাবশ্যকতা দেখিয়া আমরা মুগ্ধ হইয়া থাকি।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ছাগল-সংক্রান্ত বক্তব্য সেই অর্থে এক বিরল রাজনৈতিক সম্পদ। কারণ, তাঁর বক্তব্য শুনলে মনে হয়, রবীন্দ্রনাথ ছাগলের শিং নিয়ে যা বলেননি, সেটিও নাসীরুদ্দীন বলে গেছেন—শিংয়ের প্রয়োজন সামান্য, কিন্তু যথার্থ ছাগলের শিং দেখানোর আকাঙ্ক্ষাটা অসীম।

  • সারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক।
    sarfuddin2003@gmail.com

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাজবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ, পদ্মাপাড়ে উৎসবের আমেজ
রাজবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ, পদ্মাপাড়ে উৎসবের আমেজ

রাজবাড়ীর কালুখালীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বড় আকৃতির ৮টি নৌকা অংশ নিয়েছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে পদ্মাপাড়ে। মুখরোচক খাবারসহ হরেক পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। এ সময় দর্শনার্থীদের কেউ নৌকায়, কেউ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন এ প্রতিযোগিতা। আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বড় আকৃতির মোট ৮টি নৌকা অংশ নিয়েছে। প্রথম দিনের প্রতিযোগিতায় চারটি বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতা শেষ হবে। উদ্বোধনী বাইচে উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে জয় পেয়েছে ‘নিউ শাপলা’ নৌকা। দ্বিতীয় বাইচে চর গোবিন্দপুরের নৌকাকে হারিয়ে জয় পেয়েছে ‘নিউজ জনতার সংগ্রাম’ এবং তৃতীয় বাইচে দুলদুল এক্সপ্রেসকে হারিয়ে জয় পায় খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার। শেষ বাইচে কুষ্টিয়ার লালনকে হারিয়ে জয় পায় পাবনার সুজানগরের রায় শিমুল একতা এক্সপ্রেস। নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা একটি নৌকা/ ছবি- জাগো নিউজ কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতা বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি গ্রামবাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী বাইচে উপস্থিত ছিলেন কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান রুমা, সাবেক আহ্বায়ক কে. এম. আইনুল হাবীব, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মনজুর হোসেন মঞ্জু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান তোতা, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. জামাল খান প্রমুখ। রুবেলুর রহমান/এসজেডএইচ/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হালান্ডের গোল বাতিল করে দেওয়া উচিত ছিল, একদিন পর ক্ষমা চাইল রেফারিরা

হালান্ডের গোল বাতিল করে দেওয়া উচিত ছিল, একদিন পর ক্ষমা চাইল রেফারিরা

দ্বিতীয় বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী

দ্বিতীয় বিয়ে করলেন ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী

সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ও শুক্র

সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ও শুক্র

হাটহাজারীতে অভিযান, আড়াই কোটি টাকার সরকারি জমি পুনরুদ্ধার
হাটহাজারীতে অভিযান, আড়াই কোটি টাকার সরকারি জমি পুনরুদ্ধার

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমান। অভিযানকালে পশ্চিম ধলইয়ের মনিয়া পুকুরপাড় সংলগ্ন হাটহাজারী-নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন প্রায় ২০ শতক জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা এসব সরকারি জমির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এদিকে, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমআরএএইচ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
কীটনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশাহারা কৃষক

কীটনাশক কোম্পানির ‘ইচ্ছামতো’ দামে দিশাহারা কৃষক

কর্মস্থলে নেই ১৪ মাস, কর পরিদর্শক সোহেলাকে চাকরি থেকে অপসারণ

কর্মস্থলে নেই ১৪ মাস, কর পরিদর্শক সোহেলাকে চাকরি থেকে অপসারণ

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় হাতাহাতি, আহত ৫

দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় হাতাহাতি, আহত ৫

পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিলো বিজেপি সরকার
পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিলো বিজেপি সরকার

পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপির সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সরকারিভাবে অনুমোদিত ও অনুমোদনহীন মাদ্রাসার কার্যপদ্ধতি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই কমিটির তদন্তের পর প্রথম পর্যায়ে ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি ১০০টিরও বেশি মাদ্রাসাকে শোকজ করা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, যেসব মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় সরকারি বা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছিল, সেসব মাদ্রাসায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের ২২ জেলা ও কলকাতার মাদ্রাসাগুলোর তথ্য সংগ্ৰহ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন, পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী সংখ্যা, তাদের পরিচয়, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, অর্থের উৎস- সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  প্রসাশন সূত্রে জানা গেছে, যেসব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষের অভাব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা কম, রাজ্যের নির্ধারিত স্কুলের পাঠ্যক্রম থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি ও প্রশাসনের নিয়ম না মানার অভিযোগ পাওয়া গেছে- এমন একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৪৫টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে। এরপর রয়েছে দিনাজপুর, সেখানে প্রায় ৩৭টি মাদ্রাসায় নোটিশ পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার।  দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে ৩২টি এবং নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ দেওয়ার পর অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদি জানিয়েছেন, সরকারের অধীনে থাকা মাদ্রাসা বন্ধ করলে তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমাদের পরিচালিত, সরকারের নিয়ন্ত্রণে বাইরে থাকা আড়াই শতাংশ মাদ্রাসা বন্ধ করে দেখান। মাওলানা সাজিদ রশিদির মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সাজিদ রশিদি কে? আমাদের লড়াই কোনো মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়। মাদ্রাসার নামে যে ‘ভারতবিরোধী’ কাজ হচ্ছে, আমরা তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামউন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, মাদ্রাসা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এর আগে বহু সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে, যারা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন ও দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, বহুবার বহু মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যারা বিধিবদ্ধভাবে রেজিস্ট্রেশন করা সরকারের নিয়ম-নীতি মেনে চালাচ্ছেন, তাদের মাদ্রাসা চলবে। যেখানে-সেখানে মাদ্রাসা খুলে উৎপাত করার অনুমতি সরকার দেবে না, আর সেই কাজ শুরু হয়েছে। মাদ্রাসা বন্ধের বিষয়ে রাজ্যের কেবিনেট মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, বিগত দিনে দেখেছি, ভোট ব্যাংকের জন্য এসব মাদ্রাসা ব্যাবহার করা হয়েছে। খারিজি মাদ্রাসায় ভারত বিরোধী কার্যকলাপ হয়েছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সব পরিবারের বাচ্চারা আমাদের সন্তান। কেন হবে এসব? আমরা ভারতবর্ষকে টুকরো টুকরো করতে দেবো না। তথ্য বলছে, এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে চলছে। অন্যদিকে, সরকারি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছে ২৩৯৬টি মাদ্রাসা। ডিডি/এসএএইচ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
স্মার্ট ক্যাম্পাসের পথে ইউএপি, চালু হলো ‘ওয়ানকার্ড’

স্মার্ট ক্যাম্পাসের পথে ইউএপি, চালু হলো ‘ওয়ানকার্ড’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মঙ্গলবার ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মঙ্গলবার ১৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লাল কার্ড, এমবাপ্পের প্রত্যাবর্তন

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লাল কার্ড, এমবাপ্পের প্রত্যাবর্তন

0 Comments