অমাবস্যা কেটে যাওয়ার পর পশ্চিম আকাশে খুব সরু চাঁদ উদিত হয়। কাস্তে আকৃতির এই চাঁদের পাশে দেখা যায় উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ। সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ ও শুক্র গ্রহের এই যুগল উপস্থিতি তৈরি করে এক মনোরম দৃশ্য। নগরের ব্যস্ততার মধে৵ও মহাশূন্যের এই ক্ষণিক সৌন্দর্য হয়ে ওঠে মুগ্ধতার একটি মুহূর্ত। ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদ ও শুক্র গ্রহের ছবি নিয়ে এই ছবির গল্প।






শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নারীদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রশিক্ষণের পর অর্জিত দক্ষতা কোথায় ও কীভাবে কাজে লাগিয়ে তারা আয় করতে পারবেন, সেই পথও দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে প্রশিক্ষণ দিলে সরকারি অর্থ ও প্রশিক্ষণার্থীদের সময় ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই প্রশিক্ষণের আগে সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা, কাজের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা প্রয়োজন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, আমার দায়িত্ব শুধু ২০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া-এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারী কোথায় কাজ করবেন এবং কীভাবে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করবেন, সেই পরিকল্পনাও থাকতে হবে। প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও কাজের সুযোগ এক নয়। তাই সব এলাকায় একই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর নাও হতে পারে। কোন এলাকায় কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা যাচাই করেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সহযোগী বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে একজন নারী যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ না পান, তাহলে প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণই শেষ কথা নয়। অর্জিত দক্ষতার নিয়মিত চর্চা করতে হবে। পাশাপাশি বাজার ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে। জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের চাহিদার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। একজন উদ্যোক্তা যে পণ্য তৈরি করবেন, তাতে তার সময়, শ্রম ও বিনিয়োগ রয়েছে। তাই সেই পণ্যের বাজারে চাহিদা আছে কি না, সেটিও ভাবতে হবে। প্রতিদিন নিজের দক্ষতা কতটা বাড়ালেন এবং নতুন কী শিখলেন, সে বিষয়েও মনোযোগী হতে হবে। আরও পড়ুন বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের নিজেদের দক্ষতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের আয় শুরু করলে সেটি তার ব্যক্তিগত সফলতা। কিন্তু সেই দক্ষতার মাধ্যমে আশপাশের আরও কয়েকজন নারী উপকৃত হলে তখন এর সামাজিক সার্থকতা তৈরি হয়। সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনার হাতে সেলাই মেশিন পৌঁছালেই কর্মসূচি সফল হবে না। আপনার কাছ থেকে আরও ১০ জন প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন করতে পারলে তখনই এ উদ্যোগ সত্যিকার অর্থে সফল হবে। শুধু সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের কর্মক্ষম সময় সীমিত। তাই সুযোগ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের বড় শক্তি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে। নারীদের ক্ষেত্রেও কতজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো, তার চেয়ে প্রশিক্ষণের পর কতজন স্বাবলম্বী হলেন সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নকারী এনজিওগুলোকে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং সেই চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজেদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে বলেন। অনুষ্ঠানে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন সম্পর্কে নিয়মিত জানার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজকের প্রশিক্ষণই শেষ নয়। অর্জিত দক্ষতাকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করতে হবে। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীদেরও এগিয়ে যেতে হবে। এমআরএএইচ/এএমএ
ডাকসু সংগ্রহশালা সংস্কারের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও স্মারকগুলোকে সরিয়ে দিয়ে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন ইতিহাস তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেন এটা করা হলো তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। ডাকসুর সংগ্রহশালায় স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কোনো ছবি স্থান পায়নি। সেখানে পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এবং রাজাকারদের তালিকার মতো বিষয়গুলো ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।কোন নীতিমালার ভিত্তিতে এটা করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বাধীনতাসংগ্রামের স্মারকগুলো কোথায় রাখা হয়েছে, সেই ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তিনি। আজ সোমবার রাতে প্রথম আলোর নিয়মিত অনুষ্ঠান ‘বার্তাকক্ষে’ অংশ নিয়ে এসব কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সক্রিয় সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান।সংস্কার শেষে গতকাল রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা চালু করা হয়। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি বাদ দিয়ে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। আজ দুপুরে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক শিক্ষার্থী। পরে জিন্নাহর ছবির জায়গায় ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি লাগিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নেতা–কর্মীরা।ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন এক শিক্ষার্থীডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। অনেক শিক্ষার্থীও এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এই বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করে প্রথম আলোর বার্তাকক্ষে অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে, এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের অনুমোদন ছিল না। ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়েরই অংশ এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে প্রশাসনকে সহায়তা করার কথা। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে বা প্রশাসনের বিকল্প হিসেবে কাজ করা ডাকসুর দায়িত্ব নয়।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ডাকসুর সংগ্রহশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ এবং এর মালিকানা ডাকসুর নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এবং সিন্ডিকেটের।এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন বলেন, এই ডাকসু নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন করে জিন্নাহর ছবি টাঙানোর বিষয়টিও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যাঁরা অন্ধ, তাঁরাই এমনটা করতে পারেন: জিন্নাহর ছবি ছেঁড়া নিয়ে গোলাম পরওয়ার‘শিক্ষকদের মূল্যায়ন ডাকসুর এখতিয়ারবহির্ভূত’ বার্তাকক্ষে ‘শিক্ষক মূল্যায়ন ও জিন্নাহর ছবি বিতর্কে ডাকসু’ বিষয়ে কথা বলেন অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন। ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষকদের মূল্যায়ন ও রেটিং দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করাকে এখতিয়ারবহির্ভূত ও ‘প্যারালাল প্রশাসন তৈরির চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন। তাঁর মতে, শিক্ষক মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা জরুরি হলেও সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত। ডাকসু এ দায়িত্ব নিলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষকদের মূল্যায়ন পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই আছে, যেটিকে সাধারণত ‘স্টুডেন্টস ফিডব্যাক’ বলা হয়। শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তবে শিক্ষককে এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নীতিমালা রয়েছে, তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক যুক্ত করা জরুরি।জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনশুধু কত বছর চাকরি করেছেন, কতটি প্রকাশনা আছে কিংবা পিএইচডি বা অন্য ডিগ্রি আছে—এসব দিয়ে একজন শিক্ষক তাঁর পেশাগত দায়িত্ব কতটা ভালোভাবে পালন করছেন, তা পুরোপুরি বোঝা যায় না বলে উল্লেখ করেন তানজীমউদ্দিন খান। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক ভালো গবেষক হলেও পাঠদানের ক্ষেত্রে অবহেলা করতে পারেন। আবার যিনি গবেষণা ও পাঠদান—দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁকে মূল্যায়নের যথাযথ ব্যবস্থাও নেই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষক মূল্যায়নের একটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন বলেন, কিছু বিভাগে সেটি চালুও হয়েছে। আইবিএ ও আইআরসহ কিছু বিভাগে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁর নিজের বিভাগেও এ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ বিষয়ে তৎপর ছিল। তবে এখনো তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।ডাকসুর উদ্যোগের বিষয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ডাকসুর সুনির্দিষ্ট গঠনকাঠামো ও কর্মকাণ্ডের পরিধি রয়েছে। শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা সেই এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, সেটিই প্রথম প্রশ্ন। তাঁর মতে, ডাকসু প্রশাসন নয়। ফলে প্রশাসনের কাজ নিজেরা করতে গেলে একধরনের ‘প্যারালাল প্রশাসন’ তৈরি হয়।ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি সংযুক্ত করার প্রতিবাদে গোলাম আযমকে অপমানের ছবি লাগাল ছাত্র ফেডারেশনঅধ্যাপক তানজীমউদ্দিন বলেন, ডাকসু নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান হলেও এটি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। ডাকসুর সদস্যদের মতাদর্শগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং তার প্রতিফলন তাঁদের কর্মকাণ্ডে পড়তে পারে। অন্যদিকে শিক্ষকদের মধ্যেও মতাদর্শগত ভিন্নতা রয়েছে। ফলে ডাকসুর করা মূল্যায়নে পক্ষপাতের আশঙ্কা থাকে।এই অধ্যাপকের মতে, ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষকদের নম্বর শিক্ষার্থীরা দেখতে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়া এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘প্রাইভেসির লঙ্ঘন’। এর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুস্থ সম্পর্ক জটিলতার মধ্যে পড়তে পারে। একজন শিক্ষক ক্লাসে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না, এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হওয়া উচিত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক তানজীমউদ্দীন বলেন, ডাকসু নেতৃত্ব তৈরির এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু ডাকসু যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আনতে না পারে, তাহলে তা জাতীয় রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজের মেয়েকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে অহিদুল মোল্লা নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত অহিদুল মোল্লা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ডোবাতলা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন। পেশায় একজন অটোচালক। স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মিয়াসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অহিদুলের প্রথম স্ত্রী কয়েক বছর আগে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পেই বিষপানে আত্মহত্যা করেন। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে যমজ ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অহিদুল পুনরায় বিবাহ করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। আরও পড়ুন ছোট মেয়েকে ধর্ষণ, মেজ মেয়ের মামলায় বাবা কারাগারে ভুক্তভোগী শিশু জানায়, তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন তার বাবা। দুই মাস আগে বিষয়টি দাদিকে জানালে তিনি কাউকে বলতে নিষেধ করেন। ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে হত্যার হুমকি দেন অহিদুল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোমবার সকালে শিশুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করে। পরে অহিদুল বাড়িতে ফিরলে স্থানীয়রা তাকে গণটিুনি দেন। একপর্যায়ে অপরাধ স্বীকার করেন অহিদুল। খবর পেয়ে নাজিরপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় অহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরিকুল ইসলাম/এসআর