দেড় মাসের বেশি সময় পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত সোমবার রাত থেকেই বেড়েছে সরবরাহ। গতকাল মঙ্গলবার যা আরও কিছুটা বেড়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনায় শুরুতে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সময়মতো এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়াতে দেরি হয়েছে। এখন নিয়মিত আসছে কার্গো।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। গত সোমবার রাত ১০টায় এলএনজি সরবরাহ করা হয় ৯৮ কোটি ঘনফুট। আর গতকাল রাত আটটায় এটি বেড়ে হয়েছে ১০১ কোটি ঘনফুট। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৬৩ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট।
এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছিল ২৬৪ কোটি ঘনফুট। তখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ৯৯ কোটি ঘনফুট। এখন এলএনজি থেকে একই পরিমাণ সরবরাহ করা হলেও দেশি গ্যাস থেকে এরই মধ্যে উৎপাদন কমেছে ৪ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি।
আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এ মাসে আরামকোর দুটি, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে কার্গো ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহ করেছে। এরপর আজ ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো ও ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো আসার কথা। ফলে এলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই অক্টোবরের জন্য ১১টি এলএনজি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে অক্টোবরের ৮টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৩টি কিনতে গতকাল দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমতিয়াজ রাজীব বলেন, চাপ ১০ পিএসআই থাকার কথা, আসছে ৪ পিএসআই। আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কারখানা চালাতে যতটুকু চাপ প্রয়োজন, সেই পরিমাণ চাপ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর আগে গত মাসে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ হিসাবে আগের তুলনায় লোডশেডিং কমে এসেছে।
লোডশেডিং থামেনি, কিছুটা কমেছে
গ্যাসের সংকটে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কয়লার স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছিল না। এতে এক মাস ধরেই সারা দেশে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এটি কমাতে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফার্নেস তেলের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বেশি করা যাচ্ছে না। ২০ সেপ্টেম্বরের পর তেল থেকে উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।
গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। গত রোববার দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এক ইউনিট বন্ধের পর গতকাল ৬১০ মেগাওয়াট উৎপাদন করেছে কেন্দ্রটি। এটি আবার পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে আরও দুই দিন লাগতে পারে।
পটুয়াখালীতে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় নির্মিত হয়। এর মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। এতে উৎপাদন হচ্ছে ৫৭০ মেগাওয়াট। এখানে পর্যাপ্ত কয়লা আছে। আর একই জেলার আরেকটি কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কয়লা থেকে। কিন্তু এক মাস ধরে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জ্বালানি তেল থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর আগে গত মাসে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ হিসাবে আগের তুলনায় লোডশেডিং কমে এসেছে।
[তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ]
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চ্যাটজিপিটি এখন অনেকেরই দৈনন্দিন কাজের সঙ্গী। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, লেখালেখি, কাজের পরিকল্পনা কিংবা প্রয়োজনীয় নোট অনেক কিছুই চ্যাট হিস্ট্রিতে রেখে দেন ব্যবহারকারীরা। কিন্তু অসাবধানতায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথোপকথন ডিলিট হয়ে গেলে বিপদে পড়তে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মুছে যাওয়া সেই চ্যাট কি আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব? ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটিতে কোনো চ্যাট একবার ডিলিট করা হলে সেটি আর পুনরুদ্ধার করা যায় না। এমনকি ভুল করে মুছে ফেলা চ্যাটও চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই প্রয়োজনীয় কথোপকথন সরানোর আগে ডিলিট এবং আর্কাইভের পার্থক্য জানা জরুরি। তবে চ্যাট হিস্ট্রিতে কোনো কথোপকথন খুঁজে না পেলেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে সেটি ডিলিট হয়ে গেছে। চ্যাটটি আর্কাইভ করা থাকতে পারে। আবার অন্য অ্যাকাউন্ট বা ওয়ার্কস্পেসে লগ ইন থাকলেও পুরোনো চ্যাট দেখা যাবে না। তাই চ্যাট হারিয়ে গেছে মনে হলে কয়েকটি বিষয় আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। আরও পড়ুন চ্যাটজিপিটি জেনে যাচ্ছে আপনার নাড়ি-নক্ষত্র, সাবধান হবেন যেভাবে চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট ডিলিট করবেন কীভাবে? অপ্রয়োজনীয় কথোপকথন চ্যাট হিস্ট্রি থেকে সরাতে ডিলিট অপশন ব্যবহার করা যায়। এর জন্য প্রথমে চ্যাটজিপিটি খুলে সাইডবারে চ্যাট হিস্ট্রিতে যেতে হবে। এরপর যে কথোপকথনটি মুছতে চান, সেটির পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করুন। সেখান থেকে ডিলিট নির্বাচন করে চ্যাটটি মুছে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কথোপকথনটি হিস্ট্রি থেকে আর দেখা যাবে না। ডিলিট করা চ্যাট কি আবার উদ্ধার করা যায়? সংক্ষেপে উত্তর না। ওপেনএআই জানিয়েছে, ডিলিট করা চ্যাটজিপিটি চ্যাট ইন্টারফেস, এপিআই কিংবা সাপোর্টের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা যায় না। অর্থাৎ ভুল করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন মুছে ফেললেও সেটি ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। একইভাবে সেটিংসের ডাটা কন্ট্রোলস থেকে ডিলিট অল চ্যাটস ব্যবহার করে সব কথোপকথন মুছে ফেললে সেগুলোও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই ডিলিট বেছে নেওয়ার আগে চ্যাটটি সত্যিই আর প্রয়োজন নেই কি না, তা নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাট হঠাৎ হিস্ট্রি থেকে উধাও হলে কী করবেন? কোনও চ্যাট খুঁজে না পাওয়া মানেই সেটি মুছে ফেলা হয়েছে এমনটা নয়। প্রথমে নিজের চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টটি পরীক্ষা করুন। অনেক সময় অন্য অ্যাকাউন্টে লগ ইন থাকার কারণে আগের কথোপকথন দেখা যায় না। এ ছাড়া আপনি সঠিক ওয়ার্কস্পেস ব্যবহার করছেন কি না, সেটিও দেখে নিন। চ্যাটটি আর্কাইভ করা হয়েছে কি না সেটাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চ্যাটজিপিটি পেজ রিফ্রেশ করে বা অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করে আবার লগ ইন করতে পারেন। এরপরও চ্যাট না পাওয়া গেলে ওপেনএআইয়ের সার্চস স্ট্যাটাস পেজে গিয়ে পরিষেবায় সাময়িক কোনও সমস্যা চলছে কি না দেখে নিতে পারেন। আর্কাইভ করা চ্যাট কোথায় পাবেন? কোনো কথোপকথন ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু আপাতত চ্যাট হিস্ট্রিতে রাখতে না চাইলে ডিলিটের বদলে আর্কাইভ করা নিরাপদ। আর্কাইভ করলে চ্যাটটি অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে যায় না; শুধু সাধারণ হিস্ট্রি থেকে সরিয়ে রাখা হয়। আরও পড়ুন যে ১০ কাজ চ্যাটজিপিটি দিয়ে করতে পারবেন আর্কাইভ করা চ্যাট দেখতে চ্যাটজিপিটির সেটিংসে যান। এরপর ডাটা কন্ট্রোলস বিভাগে গিয়ে আর্কাইভ চ্যাটসের পাশে থাকা ম্যানেজ অপশন নির্বাচন করুন। সেখানে আর্কাইভ করা কথোপকথন দেখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে আনআর্কাইভ করে সেটিকে আবার সাধারণ চ্যাট হিস্ট্রিতে ফিরিয়ে আনা যায়। চ্যাটজিপিটিতে চ্যাট আর্কাইভ করবেন কী ভাবে? চ্যাট আর্কাইভ করার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। সাইডবারে যে কথোপকথনটি রাখতে চান, সেটি খুঁজে নিন। এরপর চ্যাটের পাশে থাকা তিন ডটের মেনুতে ক্লিক করে আর্কাইভ নির্বাচন করুন। আর্কাইভ করার পর চ্যাটটি মুছে যাবে না এবং সাধারণত আলাদা করে ডিলিটের মতো নিশ্চিতকরণও প্রয়োজন হয় না। পরে প্রয়োজন হলে আর্কাইভড চ্যাটস থেকে সেটি আবার ফিরিয়ে নেওয়া যাবে। কেএসকে
৪৯ বলে ১১৪*। সেঞ্চুরিটা এসেছে ৪২ বলে—ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয় দ্রুততম। গতকাল রাতে ব্রুকের দুর্দান্ত এ সেঞ্চুরিতে সাউদাম্পটনে তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১১৯ রানে হারায় ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড যেখানে করেছে ২৫৪ রান, শ্রীলঙ্কা সেই উইকেটেই গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৫ রানে।দুর্দান্ত এ ইনিংসে ইংলিশ কিংবদন্তি কেভিন পিটারসেনকে বরণ করে নিয়েছেন ব্রুক। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে জমে থাকা মান-অভিমান ভুলে এই সিরিজে ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে ইংল্যান্ড দলে যোগ দিয়েছেন পিটারসেন।ব্রুক যে এমন বেধড়ক পিটুনি দিতে পারেন, সেটা পিটারসেন ভালো করেই জানেন। তিনিও আগে ব্রুকের প্রশংসা করেছেন। তবে এবার হয়তো প্রথমবার দেখলেন ড্রেসিংরুম থেকে। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মেন্টর পিটারসেনপিটারসেনের সঙ্গে এমনিতেই ব্রুকের নামটা জুড়ে আছে বেশ কিছুদিন। কে বেশি প্রতিভাবান, পিটারসেন নাকি ব্রুক, এই আলোচনাও নতুন নয়। এ প্রশ্নের উত্তর ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস কাল নিজের মতো করে এক্সে দিয়ে দিয়েছেন, ‘আমার তো মনে হয় না, কেভিন পিটারসেনের মতো জিনিয়াসও প্রতিভার দিক থেকে হ্যারি ব্রুকের ধারেকাছে আসতে পারে।’আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩২ সেঞ্চুরি করা পিটারসেনকে ব্রুক ছাড়িয়ে যেতে পারবেন কি না, সে রায় এখনই দেওয়া ঠিক হবে না। সেটা সময়ই বলবে। তবে ব্রুক পথেই আছেন, সেটা বলা যায়। ২৭ বছর বয়সী ব্রুকের সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৫। সংখ্যাটা আরও বেশি থাকত। কিন্তু সেঞ্চুরির পরোয়া করে ব্রুক সাধারণত খেলেন না। সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজেই এক ইনিংসে ৯১ রানে আউট হন। এরপরও চলতি সময়ে ব্রুককে সব সংস্করণ মিলিয়ে দুনিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান বিবেচনা করেন অনেকেই। সেটা এমনি এমনি নয়। সামর্থ্যই তার প্রমাণ। যেমন ধরুন, শ্রীলঙ্কার বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া ব্রুকই আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটসম্যান।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে লম্বা ক্যারিয়ার কারব্রুকের প্রশংসায় জস বাটলারকেও ভুলে যাওয়া যাবে না। কাল ৪৪ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন। এ মাঠেই সর্বশেষ জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১৩১। বাটলার করেছেন ৮০ রান, সেই পথে খেলছেন রিভার্স সুইপমানে শেষ দুই টি-টুয়েন্টিতে বাটলারের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২১১ রান। মজার ব্যাপার, চলতি বছর টি-টুয়েন্টিতে এ দুটি ম্যাচের আগে খেলেছেন ১৪ ম্যাচ, রান মাত্র ২১২। বাটলারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপও কেটেছে জঘন্য। অনেকে তো ইংল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানের শেষটাই দেখেছিলেন। বাটলার আপাতত এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন।শুধু তা–ই নয়, রোহিত শর্মাকে পেছনে ফেলে গতকাল আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছেন বাটলার। ১৫১ ইনিংসে ৪২৩১ রান করা রোহিত এখন তৃতীয়, ১৪৮ ইনিংসে ৪২৯২ রান করা বাটলার দ্বিতীয়। ১৩৬ ইনিংসে ৪৫৯৬ রান নিয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের বাবর আজম।কাউন্টিতে এবার খালেদের ৫ উইকেট
২০০০ সালের পর থেকে ডেঙ্গু দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, ডেঙ্গু বেড়ে গেলে সরকার তোড়জোড় শুরু করে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চায়। পরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে গেলে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের কথা ভুলে যায়।২০০০ সালের পর থেকে ডেঙ্গু দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছেডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ধরনের সদিচ্ছা দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন তিনি। বিএনপি সরকারের নতুন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্যোগে অতীতের কিছু পদক্ষেপ, উদ্যোগ বা পরামর্শ বর্তমান সরকারের কাজে লাগতে পারে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ কী ছিল ২০১৭ সালে দেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ দেখা দিলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের রোগতত্ত্ববিদ ড. কে কৃষ্ণমূর্তিকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে ওই রোগতত্ত্ববিদ ২২ পৃষ্ঠার একটি পরিকল্পনা দলিল তৈরি করে দিয়ে যান। ‘মিড-টার্ম প্ল্যান ফর কন্ট্রোলিং অ্যান্ড প্রিভেন্টিং এডিস-বর্ন ডেঙ্গু অ্যান্ড চিকুনগুনিয়া ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশে এডিসবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা)’ শীর্ষক এই পরিকল্পনায় দুটি উদ্দেশ্যের কথা বলা ছিল। প্রথমত, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের হার কমানো। দ্বিতীয়ত, ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমানো। ওই দলিলে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা ছিল:১. ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ণয় এবং রোগপ্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি মূল্যায়ন।২. রোগতত্ত্ববিদ, কীটতত্ত্ববিদ, অণুজীববিজ্ঞানী, তথ্য-শিক্ষা-যোগাযোগবিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠন করা জরুরি।৩. ১২টি মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।২০১৯ সালের মধ্যে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু তখনকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ওই দলিল খুলেই দেখেননি।ডেঙ্গু জ্বরে পেঁপেপাতার রস, সতর্ক করলেন চিকিৎসক২০১৯ সালে দেশে বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়। ওই বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপালকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল সরকারকে এডিস মশা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। ওই কীটতত্ত্ববিদ একাধিক মন্ত্রণালয়ে ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এডিস মশার চরিত্র এবং কীভাবে এই মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তা নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন ও পরামর্শ দেন। নাগপাল বলেছিলেন, এডিস মশা ডিম পাড়ার পর এক বছর পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। কোনো পাত্রে ডিম থাকলে এক বছরের মাথায় পানির স্পর্শ পেলে ডিম থেকে আবার মশা হয়। এডিস মশা কখনোই নর্দমায় ডিম পাড়ে না। তারা ছোট ছোট পানির আধারে ডিম পাড়তে পছন্দ করে।নাগপাল একাধিক অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দিয়ে এডিস মশা কমানো সম্ভব না। কর্মীরা সব মানুষের বাড়ির মধ্যে ঢোকার অনুমতি পাবেন না। অথচ এই মশা বিশ্রাম নেয় টেবিল-চেয়ার-সোফা-বিছানার নিচে, পর্দা-আলমারির পেছনে—অর্থাৎ যেখানে অন্ধকার থাকে। এই মশা হাইড্রোফিলিক, এই মশা আর্দ্রতা পছন্দ করে।ডেঙ্গু রোগী বাড়িতে থাকলে চিকিৎসা কীনাগরিকের কী করার আছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় একটি ভবনের নিচতলায় মশার প্রজননস্থল খুঁজছেন সিটি করপোরেশনের কর্মী ও স্কাউট সদস্যরা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য খাতে সাংবাদিকতা করার সুবাদে বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে যে তথ্য পেয়েছি, তাতে ধারণা করা যায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলার সময়ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। অভিযান শেষ হলেও ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, সেই নিশ্চিয়তা নেই। তাই ডেঙ্গুর বিষয়ে সচেতনতা ও সতর্কতা খুবই জরুরি।ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো জানতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে বা হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু নিশ্চিত হলে আবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাঁর পরামর্শমতো ওষুধ সেবন ও পথ্য খেতে হবে।একটি কথা মনে রাখতে হবে, জ্বর সেরে যাওয়া মানেই ডেঙ্গুমুক্ত হওয়া নয়। এ বিষয়ে চিকিৎসক যা বলেন, তা মেনে চলতে হবে।প্রতিটি পরিবারে চার ধরনের মানুষের প্রতি বেশি নজর রাখতে হবে: শিশু, গর্ভবতী, প্রবীণ এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী একাধিক রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তি। তাঁরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়। সুতরাং জ্বর হলেই সতর্ক হতে হবে।সরকার মশা নিয়ন্ত্রণে নেমেছে, এখন নাগরিকের উচিত তার দায়িত্ব পালন। সরকার ও সচেতন নাগরিকেরা এককাতারে হাঁটলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা যায়।ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর অবস্থা কেন দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছে