গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এআইয়ের অনৈতিক ব্যবহারে জাল গবেষণাপত্রের সংখ্যা বাড়ছে। ‘পেপার মিল’ (টাকার বিনিময়ে ভুয়া গবেষণাপত্র)–এর মতো কার্যক্রমও ধরা পড়ছে। ভুয়া ও মনগড়া পরিসংখ্যান এবং ভুল উদ্ধৃতির কারণে গবেষণার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। নতুন এই সংকট দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে এআই নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মাল্টিপারপাস হলে আজ বুধবার আয়োজিত ‘একাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ ইন্টেগ্রিটি কনক্লেভ ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথাগুলো বলেন। ‘এআই যুগে গবেষণায় নৈতিকতা, মান ও দায়িত্বশীল একাডেমিক চর্চা’ ছিল এবারের কনক্লেভের মূল আলোচ্য বিষয়। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আয়েশা আবেদ লাইব্রেরি এ আয়োজন করে। এতে জ্ঞান সহযোগী ছিল গবেষণায় সাদৃশ্য ও এআই-নির্ভর লেখা শনাক্তকরণ প্রতিষ্ঠান টার্নিটিন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, গ্রন্থাগারিক, সম্পাদক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
গবেষণায় সাদৃশ্য ও এআই লেখা শনাক্তকরণ প্রতিষ্ঠান টার্নিটিনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক চৈতালি মিত্র বলেন, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে গবেষণায় জালিয়াতির নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ‘পেপার মিল’ চক্র এআই ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক ভুয়া গবেষণাপত্র তৈরি করছে। ২০২০ সালের তুলনায় বর্তমানে গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের হার প্রায় ৮০ গুণ বেড়েছে। ইউক্রেনকেন্দ্রিক একটি নেটওয়ার্ক থেকেই দেড় হাজারের বেশি জাল গবেষণাপত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চৈতালি মিত্র বলেন, এআই ভুয়া তথ্য, মনগড়া পরিসংখ্যান ও অস্তিত্বহীন উদ্ধৃতি তৈরি করতে পারে। এসব তথ্য অনেক সময় সাধারণ পর্যালোচনায় ধরা পড়ে না। ফলে ভুল তথ্য গবেষণায় ঢুকে পড়ছে। এআইয়ের তথ্যভান্ডারে থাকা প্রত্যাহৃত বা ভুল গবেষণাও পরবর্তী সময়ে আবার সঠিক তথ্য হিসেবে সামনে আসতে পারে। এতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
গবেষণায় সাদৃশ্য মানেই চৌর্যবৃত্তি নয় বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল বাসিত। তিনি বলেন, ‘এআইয়ের যুগে চৌর্যবৃত্তি প্রতিরোধে আমাদের ভাবতে হবে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে অবশ্যই পেশাদারত্ব ও পক্ষপাতহীন থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ বলেন, এআইকে নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে এর দায়িত্বশীল, নীতিগত ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।
মামুন আহমেদ বলেন, কোন কাজ বা গবেষণায় এআই ব্যবহার করা যাবে, কোথায় যাবে না এবং কতটুকু ব্যবহার করা যাবে, তা নীতিমালায় স্পষ্ট থাকতে হবে। এআই কাজ দ্রুত করলেও ভুল তথ্য ও পক্ষপাত ছড়াতে পারে। তাই প্রযুক্তির ব্যবহারের চূড়ান্ত দায়ভার মানুষেরই।
গবেষণায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এআইয়ের ব্যবহার কতটা হয়েছে, সেটা ঘোষণা দেওয়ার পরামর্শ দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। এ ছাড়া শুধু এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর না করে মৌখিক পরীক্ষা, গবেষণার খসড়া সংরক্ষণ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের মতো পদ্ধতি চালুর কথা বলেন তিনি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, এআইকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো, কীভাবে এটি ব্যবহার করা হবে এবং কীভাবে নৈতিকতা ও গবেষণার মান বজায় রাখা হবে। রাশেদা কে চৌধূরীর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অর্জিত জ্ঞানকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
এআইকে যাতে মানুষের বিকল্প ভাবা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এ এফ এম ইউসুফ হায়দার। তিনি বলেন, শুধু এআই শনাক্তকারী সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করাও ঠিক হবে না। একাডেমিক সততা নিশ্চিত করতে ভালো মূল্যায়ন পদ্ধতি, স্বচ্ছতা ও সততার সংস্কৃতি প্রয়োজন। এআই ভবিষ্যতে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মতোই অপরিহার্য হয়ে উঠবে। তবে এটি যেন মানুষের চিন্তার বিকল্প না হয়, তা–ও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তিকে কতটা এবং কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে ভাববার পরামর্শ দিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, এআই দ্রুত ও সহজে কাজ করে বলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এর ওপর নির্ভর করতে পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরতা স্বাধীন চিন্তা, মৌলিকতা ও নতুন জ্ঞান তৈরির সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। তাই এআইকে নিষিদ্ধ বা শর্তহীনভাবে গ্রহণ—কোনোটিই সমাধান নয়।
ইউসুফ হায়দার বলেন, এআইকে সহায়ক ও শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এটি মানুষের বিচারবোধ, সৃজনশীলতা ও গবেষণার বিকল্প হতে পারে না। উচ্চশিক্ষায় এআই ব্যবহারের জন্য ইউজিসির নেতৃত্বে জাতীয় কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী এআইকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে সঠিক ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এআই শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তবে মৌলিকতা, কর্তৃত্ব, গোপনীয়তা, মেধাস্বত্ব ও দায়িত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে এখানে।
আরশাদ মাহমুদ বলেন, শুধু নীতিমালা করলেই হবে না। এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ডেটাবেজ, ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারেরও সুযোগ দিতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে ইউজিসির এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘মানসম্মত শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে একাডেমিক ও গবেষণার সততা’ বিষয়ে আলোচনা করেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উপাচার্য অধ্যাপক শামসাদ মর্তুজা। ‘উচ্চশিক্ষায় একাডেমিক ও গবেষণার সততার জন্য জাতীয় কাঠামো’ বিষয়ে আলোচনা করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম।
কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির ডিজিটাল অবকাঠামো বিভাগের সহযোগী ডিন ও ওপেন সোর্স প্রোগ্রামস অফিসের পরিচালক সাইয়েদ চৌধুরী ‘উচ্চশিক্ষায় দায়িত্বশীল এআই ও একাডেমিক সততার ভবিষ্যৎ’ বিষয়ে বক্তব্য দেন।
ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক কাওসার আফসানা জনস্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও নীতিনির্ভর গবেষণার অভিজ্ঞতার আলোকে গবেষণার সততা ও দায়িত্বশীল গবেষণা বিষয়ে বক্তব্য দেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চায়ন সেলের উপপরিচালক স্বাক্ষর শতাব্দী এআই যুগে মূল্যায়ন, শেখানো ও একাডেমিক সততা নতুনভাবে ভাবার বিষয়ে আলোচনা করেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আয়েশা আবেদ লাইব্রেরির বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারিক হাসিনা আফরোজ একাডেমিক সততা রক্ষায় লাইব্রেরির ভূমিকা, এআই বিষয়ে জ্ঞান এবং দায়িত্বশীল গবেষণা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ খায়রুল বাশার। পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং প্রক্টর রুবানা আহমেদ।
বক্তারা বলেন, এআই উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এর সুফল পেতে হলে প্রযুক্তির সঙ্গে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মৌলিক চিন্তার সমন্বয় করতে হবে। এআইকে মানুষের চিন্তার বিকল্প না বানিয়ে মানুষের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী থানা এলাকায় একটি পুরোনো ভবন ভাঙার কাজ করার সময় দেয়ালধসে মো. জসিম (৪৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিড়িয়াখানা সড়কের বক্সনগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জসিমের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়।শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন আগে বক্সনগর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি গ্রামীণ টেলিকমের পাশের একটি পুরোনো ভবন কেনেন। বুধবার দুপুরে ভবনটি ভাঙার কাজ করছিলেন পাঁচ শ্রমিক। একপর্যায়ে ভবনের একটি দেয়াল শ্রমিকদের ওপর ধসে পড়ে। দুটি ভবন পাশাপাশি হওয়ায় গ্রামীণ টেলিকমেরও একটি দেয়াল ধসে পড়ে। এতে তিন শ্রমিক আহন হন।ওসি আরও বলেন, দেয়াল ধসে পড়ার পরপরই আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে দ্রুত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিমের মৃত্যু হয়।ময়নাতদন্তের জন্য নিহত ব্যক্তির মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে দুর্বৃত্তের হামলায় হাসি আক্তার নামের এক যৌনকর্মী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। এদিকে, গত ২৯ আগস্ট রাতে যৌনপল্লিতে কথিত প্রেমিক মো. জুয়েলের মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন সোনিয়া আক্তার নামের এক যৌনকর্মী। পরে তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আরও পড়ুন বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে, পথে প্রাণ গেলো ট্রাকচাপায় নিহত সোনিয়া পল্লির তোফাজ্জেল হোসেন তপুর বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। এ ঘটনায় তপু বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে। সে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. লোকমান হোসেন শেখের ছেলে। রুবেলুর রহমান/একিউএফ
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল সংসদে পাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির অভিযোগ, জনমত উপেক্ষা করে সরকার এসব আইন পাস করেছে এবং জনগণের কাছে দেওয়া একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমাদের উন্নত আইন দেওয়ার কথা বলে ধোঁকা দিয়েছেন। একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, আগামী দিনে তাঁরাও ক্ষমতার বাইরে যেতে পারেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার নিয়ে করা এই আইন একদিন আপনাদের জন্যই বুমেরাং হবে।’আজ বুধবার বিকেল চারটায় রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে এ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সঞ্চালনা করেন এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন।সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা পূরণ হয়নি। আগের অধ্যাদেশ বাতিল করে আরও শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল আইন করা হয়েছে।গুমের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠছে, সেই বাহিনীর হাতেই যদি গুমের অভিযোগের তদন্ত থাকে, তাহলে তা নিছক প্রহসন। গুমের তদন্ত এমন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে হবে, যার কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি বা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের চাপের ভয় থাকবে না। অতীতে গুমের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো গুমের দায় স্বীকার করেনি। তাই গুমের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, নতুন আইনে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতা ও বিরোধ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দানকৃত সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ সময় মঞ্জু তিনটি আইন পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করার দাবি জানান।এদিন বিক্ষোভ সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, যাঁরা ধানখেতে, পাটখেতে ঘুমানোর ইতিহাস দেখেছেন, তাঁরা আজ নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ভোটে সংসদে গিয়ে সেই ইতিহাস ভুলে গেছেন। জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ইতিহাস এবং হাজার হাজার মানুষকে গুম, গুলি ও ক্রসফায়ারের সেই ইতিহাসও ভুলে যাওয়া হয়েছে।২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে দাবি করে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আইন যদি ফিরিয়ে আনতেই হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকেও ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।’ এই সংসদ অক্ষরে অক্ষরে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তারা ৩১ দফার সঙ্গে বেইমানি করেছে এবং লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ফুয়াদ সতর্ক করে বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, আবারও মুচলেকা দিতে হতে পারে।’বিক্ষোভ সমাবেশে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।