এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠবে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে তার আগেই মাঠে গড়াচ্ছে ক্রিকেট, যেখানে সোনা জয়ের লড়াইয়ে নামবে এশিয়ার ক্রিকেট শক্তিগুলো। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলগুলোর সঙ্গে থাকছে স্বাগতিক জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ। ছেলে ও মেয়েরা মাঠে নামছে কবে, কোন ফরম্যাটে খেলা, কয়টি দল অংশ নিচ্ছে, কারা খেলছেন, কোথায় হবে ম্যাচ—এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট নিয়ে জানার আছে যা কিছু, থাকছে এই আয়োজনে।
ক্রিকেট কি এই প্রথম
না। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট আগেও হয়েছে। তবে নিয়মিত ছিল না। ২০১০ গুয়াংঝু এবং ২০১৪ ইঁচিয়নের পর তৃতীয়বার হয় ২০২৩ সালে হাংঝুতে। এবার জাপানের আইচি–নাগোয়া আসে ক্রিকেট যুক্ত হয়েছে চতুর্থবার।
কতটি ইভেন্ট, কত দল
ক্রিকেটে মোট দুটি ইভেন্ট—একটি ছেলেদের, আরেকটি মেয়েদের। ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে ১০টি দল, মেয়েদের ইভেন্টে ৮টি।
কোন কোন দেশ খেলছে
মোট ১২টি দেশ ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই দল আছে বাংলাদেশ, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। শুধু ছেলেদের বিভাগে দল আছে আফগানিস্তান, হংকং, নেপাল ও ওমানের। আর শুধু নারী বিভাগে আছে চীন ও থাইল্যান্ড।
ইভেন্ট অনুসারে দেখলে, পুরুষ ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে: আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, হংকং, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। আর নারী ইভেন্টে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড।
কবে খেলা শুরু
মেয়েদের খেলা শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর। ২২ সেপ্টেম্বর সোনা (ফাইনাল) ও ব্রোঞ্জের (তৃতীয় স্থান নির্ধারণী) লড়াই।
ছেলেদের খেলা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। পদকের লড়াই (ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী) ৩ অক্টোবর।
খেলা কোথায়
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সব খেলাই একই ভেন্যুতে। মাঠের নাম কোরোগি স্পোর্টস পার্ক। এ বছরের শুরুতে ২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া–প্যাসিফিক সাব রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার হয়েছিল এ মাঠে। এশিয়ান গেমসের আগে এ মাঠের স্টান্ডের দর্শক ধারণক্ষমতা ২ হাজার।

কোন ফরম্যাটে খেলা
ছেলে ও মেয়েদের ইভেন্টে ফরম্যাট ভিন্ন।
মেয়েদের ইভেন্টে আটটি দল। আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি এশিয়ান গেমসে জায়গা করে। জাপানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় স্বাগতিক হওয়ায়। আর একটি বাছাই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করেছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও চীন।
এই আটটি দল চারটি কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে। জয়ী দল সেমিফাইনালে, দুই সেমিজয়ী ফাইনালে। আগেই হয়ে যাওয়া ড্র অনুসারে কোয়ার্টার ফাইনাল–১–এ বাংলাদেশ–চীন, কোয়ার্টার ফাইনাল–২–এ পাকিস্তান–থাইল্যান্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল–৩–এ শ্রীলঙ্কা–মালয়েশিয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনাল–৪–এ ভারত–জাপান মুখোমুখি হচ্ছে।
ছেলেদের ইভেন্টে দল মোট ১০টি। আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশ হিসেবে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এবং স্বাগতিক হিসেবে জাপান সরাসরি জায়গা করেছে। গত মে–জুনে হওয়া বাছাইপর্বের মাধ্যমে যোগ হয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ওমান।
দশ দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা চার দল ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বাকি ছয় দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে প্রিলিমিনারি স্টেজ। প্রতি গ্রুপের সেরা দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে।
কারা খেলছেন
নারী ইভেন্টে আইসিসির পূর্ণ সদস্যদেশগুলো নিজেদের পূর্ণশক্তির দলই পাঠিয়েছে। পুরুষদের ইভেন্টেও গড়া হয়েছে শক্তিশালী দল।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলে নিগার সুলতানা, মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার; ভারতীয় দলে হারমানপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি বর্মা; পাকিস্তান দলে ফাতিমা সানা, মুনিবা অলী, আলিয়া রিয়াজ এবং শ্রীলঙ্কা দলে চামারি আতাপাত্তু, নীলাক্ষী দি সিলভা, হাসিনি পেরেরারা আছেন।
ছেলেদের ইভেন্টে বাংলাদেশ অধিনায়ক করেছে লিটন দাসকে। এ ছাড়া ভারতকে শ্রেয়াস আইয়ার, আফগানিস্তানকে দারউইশ রাসুল, পাকিস্তানকে সাহিবজাদা ফারহান ও শ্রীলঙ্কাকে সাহান আরাচিগে নেতৃত্ব দেবেন।
ফেবারিট কারা
ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই সোনার দৌড়ে ভারতই ফেবারিট। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপজয়ী দলটিকে নিয়ে এশিয়ান গেমসে নামছে ভারত। আর ছেলেদের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দেশটি গেমসে দল পাঠিয়েছে যশপ্রীত বুমরা, বৈভব সূর্যবংশী, অক্ষর প্যাটেল, অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসনসহ নিয়মিত আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলা দলটিকেই।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকার যায় সরকার আসে, কিন্তু আমাদের আমলাতন্ত্রের গাড়িবিলাস বন্ধ হয় না। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের গাড়ি অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। অথচ প্রকল্পের গাড়ি মানেই যেন হয়ে উঠেছে নাগরিকদের করের অর্থ সবাই মিলে অনিয়ম করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার। প্রশাসনযন্ত্রের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের এই যোগসাজশমূলক গাড়িবিলাস শুধু অনৈতিক নয়, দুর্নীতি বিস্তারের ক্ষেত্রেও সহায়ক।প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যাচ্ছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন প্রকল্পের নামে গাড়ি কিনে তা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য দেয়। এ তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, এমনকি দুদকও রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত প্রকল্পে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গাড়ি কেনা হয়। এলজিইডি বিভিন্ন প্রকল্পে শত শত গাড়ি কিনেছে। অধিদপ্তরটি ঠিক কতটি গাড়ি কিনেছে, এ সম্পর্কে কেউই প্রকৃত তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে প্রথম আলো ২৬১টি গাড়ির একটি তালিকা পেয়েছে। এর মধ্যে ২১১টি গাড়ি এলজিইডির কর্মকর্তারা চালান। বাকি ৫৯টি গাড়ি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।প্রকল্প শেষ হলে যেখানে গাড়িগুলো পরিবহন পুলে জমা দেওয়ার কথা, সেখানে এলজিইডির কর্মকর্তারা নিজেরাই গাড়ি নিয়েছেন এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে গাড়ি দিয়েছেন। এলজিইডির বিরুদ্ধে যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ অত্যন্ত ব্যাপক, সেখানে অন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের গাড়ি দেওয়ার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে স্বার্থের সংঘাত। আমরা মনে করি, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক যথার্থই বলেছেন যে সংস্থার কর্মকর্তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অন্য সংস্থাকে গাড়ি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন কি না, এটা ভাবা অমূলক নয়।সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এমন ৩৫ জন কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে, যাঁরা সরকারের বিনা সুদের ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন, সেসব গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে মাসে ৫০ হাজার করে টাকা পাচ্ছেন আবার এলজিইডির দেওয়া গাড়িও ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁরা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা চূড়ান্তভাবে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। না হলে প্রশাসনের শীর্ষ পদের কর্মকর্তা কীভাবে বলতে পারেন, ‘এর চেয়ে বড় অকাম-কুকাম আছে, সেগুলো নিয়ে লেখেন।’অথচ কর্মকর্তাদের এই গাড়িবিলাস জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা আর অপচয়ের বড় কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের মাথাভারী প্রশাসনের কারণে সরকারের পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। ফলে উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেট কাটছাঁট করতে হয়। সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কারণে সরকারের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হবে। রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ সীমিত থাকায় দুর্নীতি, অপচয় ও পরিচালন ব্যয় কমানো সরকারের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ।অতীতে দেখা গেছে, আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সুদমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন জনপ্রশাসনের একটি অংশ। এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েই আমলাতন্ত্রকে রাজনীতিকরণ করা হয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর জনপ্রশাসন সংস্কারের দাবি জোরালোভাবে উঠলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে জনপ্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়নি।প্রকল্পের গাড়ি ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তাঁরা সেটা আমলে নেননি। আমরা মনে করি, প্রকল্পের নামে এলজিইডির গাড়ি কেনা এবং সেই গাড়ি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়ার এই অনিয়ম বন্ধ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের কাছেই থাকেন জন হ্যানসন। বছরের পর বছর ধরে তাঁর বাড়িতে একটি পুরোনো সাময়িকী (ম্যাগাজিন) পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু কীভাবে সেটি বাড়িতে এল, জানেন না। দেখা গেল, সাময়িকীটি নিউ হ্যাম্পশায়ারের কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার নেওয়া। বিস্ময়কর হলো, সেটি ধার নেওয়া হয়েছিল ১৮৯৪ সালে। অর্থাৎ ১৩২ বছর আগে।অবশেষে গত সপ্তাহে সাময়িকীটি গ্রন্থাগারটিতে ফিরেছে। হিসাব কষে দেখা গেল, নির্ধারিত সময়ের ৪৮ হাজার ২২০ দিন পর সেটি গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ ফেরত পেল। সাময়িকীটির নাম দ্য সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড মান্থলি ম্যাগাজিন। ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যা।নিয়ম অনুযায়ী জরিমানার অঙ্ক হিসাব করলে তা দাঁড়াত ১২ হাজার ৫৫ ডলারে। তবে হ্যানসনকে জরিমানার অর্থ দিতে হচ্ছে না। কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরি ১ সেপ্টেম্বর থেকে বছরব্যাপী জরিমানা মওকুফের (ফাইন ফ্রি লাইব্রেরি) একটি বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সংবাদপত্রে গ্রন্থাগারটির এ জরিমানা বাতিল করার খবর পড়েই সাময়িকীটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান হ্যানসন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছে, দীর্ঘদিনের বকেয়া বই ফেরত আসবে এমন আশা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত যে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগের কোনো সাময়িকী ফেরত আসবে, তা তাদের কল্পনায়ও ছিল না।১৩২ বছর পর সাময়িকীটি গ্রন্থাগারে ফেরত এলেও সেটি আর সাধারণ পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে না বলে জানিয়েছে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। সেটিকে গ্রন্থাগারের ‘কনকর্ড রুম’-এ রাখার পরিকল্পনা চলছে। বিশেষ ওই কক্ষে স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও জ্বালানি খরচ কমাতে দেশের পরিবহন খাতে এখন নতুন ছোঁয়া লেগেছে। ক্ষতিকারক কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে এসেছে বিশেষ পরিবেশবান্ধব গাড়ি ঋণসুবিধা। আর্থিক খাতের এই সময়োপযোগী ইতিবাচক উদ্যোগ পরিবেশসচেতন ক্রেতাদের নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা দিচ্ছে। বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই ঋণ কেবল নতুন গাড়িতে আর সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির জন্য রয়েছে বিশেষ অর্থায়নসুবিধা। এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ হাইব্রিড গাড়ির পাশাপাশি সাশ্রয়ী সেমি-হাইব্রিড গাড়ির ঋণসুবিধাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য পরিবেশবান্ধব এসব আধুনিক গাড়ি কেনা আগের চেয়ে অনেক সহজ হচ্ছে।বিশেষ করে তরুণ চাকরিজীবীদের আর্থিক সামর্থ্য ও চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে ঋণের এই বিশেষ প্যাকেজগুলো। তরুণদের নাগালের মধ্যে রাখতে দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী ইএমআই সুবিধা। পাশাপাশি প্রারম্ভিক আর্থিক খরচ কমাতে দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ জিরো প্রসেসিং ফি সুবিধা। ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতেই কম খরচে নিজস্ব পরিবেশবান্ধব গাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে পারছেন তরুণ পেশাজীবীরা।অন্যদিকে গ্রাহকসেবা ঝঞ্ঝাটমুক্ত করতে আইপিডিসি, আইডিএলসি ও লঙ্কাবাংলার মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি নজর দিয়েছে দ্রুততম লোন অনুমোদন ও আধুনিক কাস্টমার সার্ভিসের দিকে। ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার পর ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় খুব দ্রুত ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেডিকেটেড রিলেশনশিপ অফিসার এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবার মাধ্যমে কেনাকাটার প্রতিটি পদক্ষেপে ঝামেলাহীন সেবা পাচ্ছেন গ্রাহকেরা।খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক খাতের এই সহজ ও সবুজ অর্থায়নসুবিধা দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করবে। এই উদ্যোগ পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি আমাদের দেশের সাধারণ ব্যক্তিগত যাতায়াতব্যবস্থাতেও এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।