জাতীয়

এক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে নজিরবিহীন অনিয়ম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
এক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে নজিরবিহীন অনিয়ম
এক কর্মকর্তার পদোন্নতি দিতে নজিরবিহীন অনিয়ম

চট্টগ্রাম বন্দরে এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে নজিরবিহীন ছলচাতুরির আশ্রয়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অপেক্ষাকৃত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে কনিষ্ঠ এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিতে করা হয়েছে নানামুখী অনিয়ম।

ভুক্তভোগী দাবি করে চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক ভূমি-১ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন অভিযোগ করেছেন মন্ত্রণালয়ে। তাকে ডিঙিয়ে অপেক্ষাকৃত কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক ভূমি-২ মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে উপ-ব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন শিহাব উদ্দিন।

জাগো নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও গুরুতর অনিয়ম। মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাকে দেওয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের সাতটি ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি দিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান। অন্য দুটি দেন বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কাওছার রশীদ। সাতটি অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারের মধ্যে মাত্র একটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষের মেমো নম্বর থাকলেও অন্য ছয়টিতে নেই। একটিতে কোনো তারিখও নেই।

আরও পড়ুন

নীতিমালা ভেঙে বন্দরের কাছেই ডিপো, প্রশ্নের মুখে কাস্টমস-বন্দর

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সম্পৃক্ততা নেই এমন প্রকল্পেও রায়হান উদ্দিনকে দেওয়া হয়েছে ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’। আবার ১০ মাসের প্রশিক্ষণে বিদেশে অবস্থান করার সময়ে সংগঠিত কাজের জন্যও দেওয়া হয়েছে এমন ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’। এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে কাজ করেছেন পদোন্নতিবঞ্চিত শিহাব উদ্দিন, কিন্তু ওই কাজের জন্য ‘লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে।

জাগো নিউজের হাতে আসা বেশ কিছু নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের ২৮ জুন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) পদে পদোন্নতির বিভাগীয় পদোন্নতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে, ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) পদটি অবসরজনিত কারণে শূন্য। জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী উক্ত পদের উপযুক্ত প্রার্থী দুজন। মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন ও মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনকে ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

ওই সভায় রায়হান উদ্দিনকে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে বন্দর চেয়ারম্যানের পাঁচটি এবং একই সময়ে সদস্যের (প্রকৌশল) দুটি লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশনকে মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে- বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৮৮০ একর জমি অতি কমমূল্যে অধিগ্রহণের স্বীকৃতি- ০২/০৮/২৫ ইং; লালদিয়ার চর এলাকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের স্বীকৃতি- ১১/০৮/২৫ ইং; পানগাঁও আইসিটি অপারেশনাল কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে কমমূল্যে জমি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়া স্বল্পসময়ে সম্পন্ন করার স্বীকৃতি- ২৭/০৮/২৫ইং; বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৫০০ দশমিক ৭০১ একর খাসজমি অতি কমমূল্যে ভূমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে বন্দরের ১১৯৭ কোটি টাকা সাশ্রয় করার স্বীকৃতি- ২৩/১০/২৫ ইং; বে-টার্মিনাল পিপিপি প্রকল্পের ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজর নিয়োগে ৩৭০ কোটি টাকার চুক্তি ২৫ দশমিক ৫ কোটি টাকায় সম্পন্ন করার স্বীকৃতি- ২৭/১১/২৫ ইং। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সদস্য (সদস্য-প্রকৌশল) থেকে তিনি ২০২৫ সালে দুটি লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন প্রাপ্ত হন বলে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরে যেন ‘অনিয়মই নিয়ম’

কার্যবিবরণীতে ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৮৮০ একর জমি অতি কমমূল্যে অধিগ্রহণের স্বীকৃতি-০২/০৮/২৫ ইং’ উল্লেখ করা হলেও জাগো নিউজের হাতে থাকা ওই অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে দেখা যায়, চিঠিটি ২০২৪ সালের ২ আগস্টের। ওই সময়ে বন্দরের চেয়ারম্যান ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইল। যিনি বর্তমানে কারাবন্দি। একমাত্র ওই চিঠিতেই পত্রের মেমো নম্বর লেখা ছিল।

কার্যবিবরণীতে ৪ নম্বর অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে ‘বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৫০০ দশমিক ৭০১ একর খাসজমি অতি কমমূল্যে ভূমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে বন্দরের ১১৯৭ কোটি টাকা সাশ্রয় করার স্বীকৃতি- ২৩/১০/২৫ ইং’ উল্লেখ রয়েছে। অথচ ৫০০ দশমিক ৭০১ জমি প্রতীকী মূল্যে কেনার প্রক্রিয়া হয়েছে শিহাব উদ্দিনের মাধ্যমে।

একই অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে রায়হান উদ্দিনের অসাধারণ প্রচেষ্টায় নগরের পূর্ব পতেঙ্গা মৌজায় কর্ণফুলী পাড়ের ৭ একর এবং ৩ দশমিক ৬৬ একর জমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য লিজ দিয়ে বন্দর কমবেশি ৫৫০ কোটি টাকা আয় করবে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ টেন্ডার ছাড়াই ৩ দশমিক ৬৬ এর জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়। এ নিয়ে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘পরিকল্পনা-টেন্ডার ছাড়াই বন্দরের জমি ২০ বছরের ইজারা’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ।

তাছাড়া বে-টার্মিনাল নিয়ে এই দুটি আলাদা অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার দেওয়া হলেও জাগো নিউজের অনুসন্ধান বলছে, ৮৮০ একর জমির মধ্যে ৫০০ দশমিক ৭০১ জমি অন্তর্ভুক্ত। পর্যালোচনায় দেখা যায়, বে-টার্মিনাল প্রকল্পের ৮৮০ একর জমির মধ্যে ৫০০ দশমিক ৭০১ একর সরকারি খাসজমি, ১৮৮ দশমিক ০৭১১ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত মামলা জটিলতা সংক্রান্ত, ১২৪ একর বনবিভাগের এবং ৬৬ দশমিক ৮৫ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

এসব জমি অধিগ্রহণের কাজ করেছেন ওই সময়ের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন। ৫০০ দশমিক ৭০১ একর জমি প্রতীকী মূল্য পরিশোধের জন্য ২০২৪ সালের ১৪ মে তারিখে জেলা প্রশাসনকে লেখা ৩ কোটি তিন টাকার পে-অর্ডারের চিঠিটিতেও স্বাক্ষর করেন শিহাব উদ্দিন। এর আগে প্রতীকী মূল্যে জমি পাওয়ার বিষয়ে বন্দরের ২০২৩ তারিখের ১৩ সেপ্টেম্বর তারিখের চিঠিটিও শিহাব উদ্দিনের স্বাক্ষরিত। ওই বছরের ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে বন্দরের প্রতিনিধিত্ব করেন শিহাব।

কার্যবিবরণীতে ২ নম্বর অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারে ‘লালদিয়ার চর এলাকার অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের স্বীকৃতি- ১১/০৮/২৫ ইং’ কথা উল্লেখ রয়েছে। যেটি রায়হান উদ্দিনকে দেওয়া হয়। কিন্তু জাগো নিউজের হাতে আসা নথি বলছে- লালদিয়ার চরের জমিগুলো অবৈধ দখল উচ্ছেদ হয় ২০২০ সালের ১-৩ মার্চ। ওই সময় বন্দর চেয়ারম্যান ছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। তখন বন্দরের উপব্যবস্থাপক (ভূমি) ছিলেন জিল্লুর রহমান।

অথচ ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান নিজ স্বাক্ষরে রায়হান উদ্দিনকে অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার দেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনপরবর্তী বন্দরের দখলে থাকা লালদিয়া চরের জমিতে কিছু অবৈধ দখলদার স্থাপনা নির্মাণ করে। ওই দখল উচ্ছেদে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নোট উপস্থাপনসহ যাবতীয় পদক্ষেপ নেন শিহাব উদ্দিন।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরে চার শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরের লাইসেন্স স্থগিত

কার্যবিবরণীতে ৩ নম্বর অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারটিও ‘পানগাঁও আইসিটি অপারেশনাল কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে কম মূল্যে জমি ইজারা নেওয়ার প্রক্রিয়া স্বল্পসময়ে সম্পন্ন করার স্বীকৃতি- ২৭/০৮/২৫ইং’ দেওয়া হয় রায়হান উদ্দিনকে। জাগো নিউজের হাতে আসা নথি বলছে, পানগাঁও আইসিটির জন্য কম মূল্যে জমি ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রে রায়হান উদ্দিনের ভূমিকা ছিল না। শুধু ফাইলিং করার জন্য ইজারা সংক্রান্ত কাজের চিঠির অনুলিপি দেওয়া হতো রায়হান উদ্দিনকে।

বিআইডব্লিউটিএ তাদের ২০১৯ সালের অনুমোদিত শুল্কহার অনুযায়ী নির্ধারিত ইজারামূল্য পরিশোধের জন্য ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) কাজী ওয়াকিল নওয়াজ।

এর আগে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ সমঝোতা চুক্তি করে। সমঝোতা চুক্তিতে প্রথম পক্ষ লাইসেন্সদাতা হিসেবে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা ও দ্বিতীয় পক্ষ লাইসেন্স গ্রহীতা হিসেবে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বন্দরের পক্ষে সদস্য (প্রকৌশল) কমোডের কাওছার রশীদ ও টার্মিনাল ম্যানেজার আশরাফ করিম চৌধুরী সাক্ষী হিসেবে সই করেন।

এ বিষয়ে শিহাব উদ্দিনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। তাও যথাযথভাবে দাপ্তরিক জবাব দেওয়া হবে।-চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইজারামূল্য নির্ধারণ করেছে লাইসেন্সদাতা প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ। শুল্কের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০১৯ সালের একটি অনুমোদিত শুল্ক হার রয়েছে বিআইডব্লিউটিএর। তাছাড়া পানগাঁও আইসিটির জায়গা ইজারা নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে চুক্তি হয় ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু রায়হান উদ্দিনকে অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার দেওয়া হয় তারও দেড় মাস আগে একই বছরের ২৭ আগস্ট।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডের ২২ শতাংশ জায়গা খালি কনটেইনারের দখলে

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের ঠিকাদার পেন্টাওশান-টিওএ জেভির সাথে সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্টের (প্যাকেজ-১) দরপত্র মূল্যায়নে ১১শ কোটি টাকা বাঁচিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য রায়হান উদ্দিনকে একটি লেটার অব অ্যাপ্রিসিয়েশন দেন বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কাওছার রশীদ। জাগো নিউজের হাতে আসা ওই অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটারটিতে কোনো তারিখ নেই। কাওছার রশীদ সাবেক প্রকল্প পরিচালক উল্লেখ করে চিঠিটিতে সই করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিনের একটি অভিযোগের আপিল আমার কাছে এসেছে। আমি বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির জবাব পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবো।-আপিল কর্মকর্তা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল 

জাগো নিউজের অনুসন্ধান বলছে, ওই দরপত্র মূল্যায়ন হয়েছিল ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে। তখন কাওছার রশীদ চট্টগ্রাম বন্দরেই যোগ দেননি। পাশাপাশি ওই দরপত্র মূল্যায়নকালীন রায়হান উদ্দিন ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ১০ মাসের উচ্চশিক্ষা ছুটিতে সুইডেনে অবস্থান করছিলেন। তাছাড়া ওই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির ১৪ সদস্যের মধ্যে ছিল না রায়হান উদ্দিনের নাম। ওই দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) আহ্বায়ক ছিলেন ওই সময়ের সদস্য (প্রকৌশল) কমডোর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রকৌশল) কাওছার রশীদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে পদোন্নতি পাওয়া উপ-ব্যবস্থাপক (ভূমি) মো. রায়হান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এ বিষয়ে বন্দরের মুখপাত্র হিসেবে সচিব স্যারই কথা বলেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা দিলেও সাড়া দেননি। গত ৮ সেপ্টেম্বর বন্দর চেয়ারম্যানের দাপ্তরিক মেইলে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে মেইল করলেও কোনো প্রত্যুত্তর আসেনি।

একই মেইলে সিসি (অনুলিপি) দেওয়া হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ও বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের দাপ্তরিক মেইলেও। এ বিষয়ে কথা হলে সৈয়দ রেফায়েত হামিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান স্যারকে যখন মেইল করেছেন, তখন অপেক্ষা করেন, তিনি কী উত্তর দেন।’

জানতে চাইলে অভিযোগকারী চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক ভূমি-১ মুহাম্মদ শিহাব উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছি এটি সত্য, কিন্তু গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।’

আরও পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব

তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও চট্টগ্রাম বন্দরের আপিল নিষ্পত্তি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়ালের কাছে করা আপিলের একটি কপি সংগ্রহ করেছে জাগো নিউজ। তাতে উল্লেখ করা হয়, শিহাব ২০১৮ সালে মেধা তালিকায় প্রথম হয়ে বন্দরে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে তাকে উপ-ব্যবস্থাপকের চলতি দায়িত্ব দিয়ে কাজ করিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু চলতি বছরের ২৮ জুন তাকে চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে পদোন্নতির বৈধ অধিকারকে বিবেচনা না করে মেধাক্রমে জুনিয়র কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অথচ বিগত পাঁচ বছরে তার এসিআরের গড় নম্বর ছিল ৯৭ শতাংশ। এর মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি শাখার পদোন্নতিতে ১৪০ বছরের প্রথা ভঙ্গ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে শিহাব উদ্দিনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। পরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আপিল করেছেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পেয়েছি। তাও যথাযথভাবে দাপ্তরিক জবাব দেওয়া হবে।’

আপিল কর্মকর্তা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল জাগো নিউজকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিনের একটি অভিযোগের আপিল আমার কাছে এসেছে। আমি বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। চিঠির জবাব পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবো।’

এমডিআইএইচ/এএসএ/ এমএফএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ন্যাটো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ভূপাতিত, বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের সীমানা?
ন্যাটো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ভূপাতিত, বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের সীমানা?

  ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ যেন ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। এবার লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, ড্রোনটি বেলারুশ হয়ে দেশটির আকাশসীমায় ঢুকেছিল। পরে মধ্যাঞ্চলের প্রাতকুনাই গ্রামের কাছে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। এলাকাটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাসের কাছাকাছি। ড্রোনটি আকাশসীমায় ঢোকার পর ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালির একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে ভূপাতিত করে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল বলে জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্তাস কাউনাস। তবে, সেটি রাশিয়ার নাকি অন্য কোনো দেশের, তা নিশ্চিত করতে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেছেন, ড্রোনটি সম্ভবত রাশিয়া থেকে এসেছিল। লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালির যুদ্ধবিমান ড্রোনটি ভূপাতিত করায় জোটটির গুরুত্ব এবং মিত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, ঘটনাটিকে ইউরোপের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন ও উসকানি’র ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুলও এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। তবে, এ বিষয়ে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন রাজপুত্রের হাতের হাড় দেখিয়ে সেনাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্যোগ রাশিয়ার এর আগে, গত সোমবার বাল্টিক সাগরে রুশ একটি যুদ্ধজাহাজকে নজরদারি করা ডেনমার্কের সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে রাশিয়া ফ্লেয়ার ছুড়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ন্যাটোর সদস্যদেশ ডেনমার্ক। এর এক দিন পরই লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটল। এদিকে, পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিজ বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এর আগে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর ইউক্রেন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছিল পোল্যান্ড। আরও পড়ুন ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ইউরোপীয় নেতারা তবে, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন ঢুকে পড়ার ঘটনায় ইউক্রেনের যুদ্ধ ন্যাটোর সীমান্তের আরও কাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে নতুন করে আসঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমায় ২০০৪ সাল থেকে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান টহল দিয়ে আসছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২

দুইয়ে থেকেই অবসরের ঘোষণা রদ্রিগেজের

দুইয়ে থেকেই অবসরের ঘোষণা রদ্রিগেজের

সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য: রাষ্ট্রের সেবায় সবাই, সুবিধার বেলায় কেন শুধু সরকারি কর্মচারী

সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য: রাষ্ট্রের সেবায় সবাই, সুবিধার বেলায় কেন শুধু সরকারি কর্মচারী

সিডনিতে কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন
সিডনিতে কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন

সিডনিতে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কৃষিবিদদের সংগঠন ‘কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়া’র বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এতে কৃষিবিদ আবুল সরকার সভাপতি এবং ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি সিডনির ইঙ্গেলবার্নে আয়োজিত এ সভায় নির্বাচন কমিশনার ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ নতুন পূর্ণাঙ্গ পরিষদ ঘোষণা করেন।সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিদায়ী সভাপতি কৃষিবিদ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের চলমান শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম ও সাংগঠনিক অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০০ টাকা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০০ টাকা

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাবিতে চাকরি পেলেন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শাকিল

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাবিতে চাকরি পেলেন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শাকিল

পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ

পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ

পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত
পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ফলে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় এবং নতুন কাজের আদেশ কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি) গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাদের ব্যবসা মূলত এখাতের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসা বর্তমানে স্থবিরতা ও ধীরগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাজের আদেশ কমে যাওয়া এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় পোশাকের উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের চাহিদা কমেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে দেশের পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে স্থানীয় পোশাকশিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এছাড়া এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বিভিন্ন দেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। পাশাপাশি পরোক্ষ রপ্তানির মাধ্যমে এ খাতের রপ্তানি আয় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ফলে পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক শিল্প দেশের রপ্তানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শিল্প হিসেবে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কেন নেতিবাচক প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং শিল্প নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। পোশাকশিল্পে কোনো ধরনের সংকট দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পোশাকের উপকরণ প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়ে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ কমে গেলে উৎপাদন কমে যায়। এর সঙ্গে বোতাম, জিপার, লেবেল, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের চাহিদাও হ্রাস পায়। ফলে এসব উপকরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি, আয় ও উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শাহরিয়ার আরও বলেন, পাশাপাশি, পোশাক কারখানাগুলো আর্থিক সংকটে পড়লে সরবরাহকারীদের বিল ও পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে। এতে উপকরণ প্রস্তুতকারকদের নগদ অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ থাকায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মুনাফার পরিমাণও কমে যায়। বিপিএএমইএ সভাপতি জানান, পোশাকশিল্পের সংকট শুধু পোশাক কারখানাগুলোকেই প্রভাবিত করে না; এর প্রভাব পুরো সরবরাহব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পোশাকশিল্প ও উপকরণশিল্প একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি খাতে অস্থিরতা তৈরি হলে অন্য খাতেও এর প্রভাব পড়ে। আরও পড়ুন উৎপাদন আংশিক বন্ধ ৭৮ শতাংশ কারখানায়, ক্রয়াদেশ কমেছে ৫৫ শতাংশের বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি যা বলছেন প্রস্তুতকারকরা পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে গার্মেন্টসের আনুষঙ্গিক ও প্যাকেজিং পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। পোশাকের অর্ডার কমলে স্বাভাবিকভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ডারও কমে যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্পভাবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। কিন্তু এই বাড়তি ব্যয় পোশাক কারখানাগুলোর কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে, বলে জানিয়েছেন বিপিএএমইএর পরিচালক ও বাদশা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, অর্ডার কম থাকায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন অর্ডার আসতে শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা করছেন উদ্যোক্তারা। চট্টগ্রামভিত্তিক পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারী আদিল ট্রিমসের স্বত্বাধিকারী এস এম আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, একসময় ব্যবসায় ভালো অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকের উপকরণ সরবরাহের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকদের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় নতুন করে উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের অর্ডারও কমে গেছে। এর পাশাপাশি চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারীদের ব্যবসায়। আরও পড়ুন পোশাক কারখানায় তালা, কর্মসংস্থানের দরজা কি বন্ধ হয়ে যাবে? গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল শিল্প, ১১ দফা দাবি বিকেডিওএ’র আরিফুর রহমানের মতে, রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নগদ প্রবাহ উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে। কাজ কমে যাওয়ার কারণে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধের চাপ রয়েছে। এতে শ্রমিকের বেতন, কাঁচামাল কেনা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন অনেক ব্যবসায়ী। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি বেশি কঠিন। বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তাদের নগদ অর্থের মজুত ও ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত হওয়ায় কয়েক মাসের কম অর্ডার ও উচ্চ ব্যয়ের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তারা। আরও পড়ুন নারায়ণগঞ্জ / গ্যাস সংকটে কমেছে উৎপাদন, বাড়ছে কারখানা বন্ধের শঙ্কা গ্যাস সংকটে বসে আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র সংকট কাটাতে কী প্রয়োজন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে জরুরি হলো শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী চালানো সম্ভব হবে, বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় কমবে এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে শুধু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করলেই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তৈরি পোশাক খাতে নতুন অর্ডার বাড়ানো, রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং স্থানীয় অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। তাদের দাবি, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ শিল্পকে শুধু পোশাক খাতের সহায়ক শিল্প হিসেবে দেখলে হবে না। তৈরি পোশাকের সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি অর্ডার বাড়ানোর উদ্যোগ একসঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। আইএইচও/এমএমএআর/এমএফএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তিতে কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তিতে কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

সিটিটিসির সাবেক প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিটিটিসির সাবেক প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এবার হেমায়েতপুরে ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ খুলছেন ওমর সানী

এবার হেমায়েতপুরে ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ খুলছেন ওমর সানী

0 Comments