জাতীয়

দুদকের অভিযানেও বদলায়নি ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
দুদকের অভিযানেও বদলায়নি ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র
দুদকের অভিযানেও বদলায়নি ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র

খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগীর চাপ। কিন্তু সে তুলনায় বৃদ্ধি পায়নি সেবার মান। উল্টো রোগীদের জিম্মি করে চলছে ওষুধ ও টেস্ট বাণিজ্য। গত বছর একাধিক অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান হয়। ধরাও পড়ে অনিয়ম। কিন্তু বদলায়নি হাসপাতালের পুরোনো রূপ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের বিপরীতে জনবল আছে মাত্র ছয়জন। আউটসোর্সিং পদে গত অর্থ বছরে ১৯ জন লোক কাজ করেছে। তাদের মধ্যে অনেকে এখন স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। হাসপাতালে শিশু বেড রয়েছে মাত্র ২টি। রয়েছে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৬৫-৭২ জন রোগী ভর্তি থাকেন। আগে যেখানে দৈনিক হাসপাতালে গড়ে ১৫০-২০০ জন রোগীর সেবা দেওয়া হতো সেখানে এখন জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে রোজ ৩৫০-৪০০ রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে।

হাসপাতালে সরকারিভাবে দেওয়া ওষুধের তালিকায় রয়েছে ৩৯টি পদ। বাকি অতিরিক্ত ওষুধ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ক্রয় করা হয়। গত অর্থ বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকার ওষুধ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বেশি আসছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আউটডোরে প্রতিদিন সকাল থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। দুপুর পর্যন্ত চলে চিকিৎসাসেবা। বহির্বিভাগে শিশু কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার, দন্ত বিভাগ, এনসিডি কর্নার, কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারিভাবে ৩০ ধরনের টেস্ট এই হাসপাতালে করার সুযোগ রয়েছে। শিশু কনসালটেন্ট শুক্র ও শনিবার ব্যতীত প্রতিদিন রোগী দেখছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু মাসুমের অভিভাবক পারভিন বলেন, মাসুমের কয়েকদিন ধরে জ্বর জ্বর ভাব। এজন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। প্রতিদিন চিকিৎসক থাকেন। তবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি জানান। তবে তিনি ওষুধ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে চাননি।

জ্বরে আক্রান্ত অন্য একজন রোগী অপর্না বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাশি। এজন্য ডাক্তার দেখাতে এসেছি। টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়েছি। কিছু টেস্ট দিয়েছে। টেস্ট করিয়ে আবার ডাক্তার দেখাবো।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগ থাকলেও দিয়ে লাভ নেই। অভিযোগ দিলে চিকিৎসা নিতে এলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। গতবার শুনেছি দুদক অভিযান চালিয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতি খুঁজে পেলেও তৎকালীন কর্মকর্তারা কর্মরত আছেন। স্থানীয়দের এখানে আসতে হয় চিকিৎসা নিতে। অভিযোগ দিয়ে কেউ বিপদে পড়তে চাইবে না। তবে বলতে চাই, ফুলতলা একটি জনবহুল উপজেলা। এখানকার চিকিৎসার সিস্টেম আরও ভালো হওয়া দরকার। জবাবদিহিতা দৃষ্টান্তমূলক হওয়া প্রয়োজন। তাহলে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দেওয়া খাবারে অনিয়ম প্রতিনিয়ত হচ্ছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে ফুলতলা থেকে রোগী খুলনায় নিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথা থাকলেও রোগী প্রতি নেওয়া হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। ওষুধ ক্রয়ে গত অর্থ বছরে কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বাড়তি টেস্ট দেওয়া হয়। যা বাইরে থেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রোগীদের করতে হয়। নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট না করলে অসাধু কিছু ডাক্তার রিপোর্ট দেখতে গড়িমসি করেন। এমনকি কমিশনের ভিত্তিতে রোগীদের অতিরিক্ত ওষুধ লেখা হয়। এগুলো কৌশলে লেখা হয়। এখানকার একটি চক্র এই ওষুধ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। এখানকার স্থানীয় মানুষদের নিরুপায় হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে হয়। বিকল্প সুযোগ না থাকায় ঝামেলা হবে বিধায় অনেক রোগী অভিযোগ করতেও ভয় পান।

এমনকি গত বছর অতিরিক্ত ওষুধ লেখাকে কেন্দ্র একটি ঝামেলাও হয়েছিল। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় ভুল স্বীকার করে তা সমাধান করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে একাধিক অনিয়মের সত্যতা পায়। কিন্তু অনিয়ম পেলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা দুদক কর্তৃপক্ষ নেয়নি। উল্টো এখানকার সিন্ডিকেট সন্দেহবসত অনেককে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। এমনকি এখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবগত থাকলে পদক্ষেপ নিতে ভয় পান। বিগত সময়ে তিনি রাজনৈতিক বলয় ব্যবহার করে এ হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। এখনো তাই করছেন। অনেকের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম করে চলেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম। সেসময় রোগীদের জন্য সরকার নির্ধারিত একজনের জন্য ১৫১ গ্রাম মাছ বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩৯ গ্রাম, পাশাপাশি নিম্নমানের চাল সরবরাহের প্রমাণ, এছাড়া বহির্বিভাগের রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ৩ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রমাণ মেলে। এমনকি ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত ওষুধ সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ করা হয় না এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে হাজিরার অনিয়মও ধরা পড়ে। কিন্তু এরপর দীর্ঘদিন দুদক কমিশন না থাকায় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলেও ফিরতি কোনো আদেশ না পাওয়ায় প্রতিবেদন আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তার নির্দেশেই সবকিছু হয়। তার এলাকার লোক পরসিংখ্যানবিদ তোতা মিয়াকে দিয়ে একাধারে ক্যাশিয়ারের কাজ, স্টোর কিপারের কাজ এবং কমিশন কালেকশানের কাজ করান পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তোতা মিয়ার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। হাসপাতালে ফর্মাসিস্ট ওষুধ সংরক্ষণের কাজ করলেও আসলে তা করেন তোতা মিয়া। হাসপাতালের নানান অনিয়মের সঙ্গে তোতা মিয়া সম্পৃক্ত।

খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখা এবং তা রোগীকে সেবন করানো একপ্রকার অপচর্চা। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো এমন অনিয়ম এবং অপচর্চা চললেও সংশ্লিষ্টদের অবগত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। এছাড়া অনিয়মের একাধিক অভিযোগ আমরা এরইমধ্যে জানতে পেরেছি। খুব দ্রুত তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হাসপাতালের বিষয়ে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরা মুঠোফোনে বলেন, গত অর্থ বছরে পাওয়া সরকারি ওষুধ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের ওষুধ অক্টোবরে পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। গত অর্থ বছরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনেক পদের ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মেশিন না থাকায় অনেক টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমানে থাকা চিকিৎসক ও নার্স এই উপজেলা পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। পুরো হাসপাতালে একজন মাত্র পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তার পক্ষে ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে কাজ করানো হয়।

আউটসোর্সিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আউটসোর্সিংয়ের নীতিমালায় তাদের প্রক্রিয়া গত জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে। এখন শুনছি নতুন করে টেন্ডার হবে। গত সময়ে ১৯ জন আউটসোর্সিং কর্মী ছিল। তারা অনেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কেউ যদি সুযোগ পান তাহলে তারা বেতন পাবেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন যদি বলি ভাই আপনি সাংবাদিক, আপনি অমুক জায়গা থেকে রিপোর্ট করার ভয় দেখিয়ে টাকা নিছেন। এটা বলাটা কি ঠিক হবে? আপনি যদি তথ্য প্রমাণ না দেখাতে পারেন তাহলে তো ব্যাপারটা উল্টো দিকে যাবে। আপনি হাসপাতালে একদিন আসেন। শহর থেকে আসার আগে ফোন দিয়ে এলে ভালোভাবে তথ্য দিতে পারবো।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন বলেন, শুধু ফুলতলা নয়, আমার এখানেসহ সব উপজেলাতে জনবল সংকট রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি প্রথম জানলাম। তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এফএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ন্যাটো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ভূপাতিত, বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের সীমানা?
ন্যাটো অঞ্চলে রুশ ড্রোন ভূপাতিত, বাড়ছে ইউক্রেন যুদ্ধের সীমানা?

  ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ যেন ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। এবার লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, ড্রোনটি বেলারুশ হয়ে দেশটির আকাশসীমায় ঢুকেছিল। পরে মধ্যাঞ্চলের প্রাতকুনাই গ্রামের কাছে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। এলাকাটি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কাউনাসের কাছাকাছি। ড্রোনটি আকাশসীমায় ঢোকার পর ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালির একটি যুদ্ধবিমান সেটিকে ভূপাতিত করে। আরও পড়ুন রাশিয়ার জ্বালানিতে নয়, অন্য কিছুতে হামলা চালাও: ইউক্রেনকে ট্রাম্প ড্রোনটিতে বিস্ফোরক ছিল বলে জানিয়েছেন লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্তাস কাউনাস। তবে, সেটি রাশিয়ার নাকি অন্য কোনো দেশের, তা নিশ্চিত করতে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেছেন, ড্রোনটি সম্ভবত রাশিয়া থেকে এসেছিল। লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালির যুদ্ধবিমান ড্রোনটি ভূপাতিত করায় জোটটির গুরুত্ব এবং মিত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, ঘটনাটিকে ইউরোপের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন ও উসকানি’র ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুলও এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। তবে, এ বিষয়ে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন রাজপুত্রের হাতের হাড় দেখিয়ে সেনাদের মনোবল বাড়ানোর উদ্যোগ রাশিয়ার এর আগে, গত সোমবার বাল্টিক সাগরে রুশ একটি যুদ্ধজাহাজকে নজরদারি করা ডেনমার্কের সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে রাশিয়া ফ্লেয়ার ছুড়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ন্যাটোর সদস্যদেশ ডেনমার্ক। এর এক দিন পরই লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা ঘটল। এদিকে, পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিজ বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এর আগে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর ইউক্রেন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছিল পোল্যান্ড। আরও পড়ুন ইউক্রেনের ট্রেনে রুশ হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ইউরোপীয় নেতারা তবে, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন ঢুকে পড়ার ঘটনায় ইউক্রেনের যুদ্ধ ন্যাটোর সীমান্তের আরও কাছে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে নতুন করে আসঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমায় ২০০৪ সাল থেকে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান টহল দিয়ে আসছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২

সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১২

দুইয়ে থেকেই অবসরের ঘোষণা রদ্রিগেজের

দুইয়ে থেকেই অবসরের ঘোষণা রদ্রিগেজের

সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য: রাষ্ট্রের সেবায় সবাই, সুবিধার বেলায় কেন শুধু সরকারি কর্মচারী

সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য: রাষ্ট্রের সেবায় সবাই, সুবিধার বেলায় কেন শুধু সরকারি কর্মচারী

সিডনিতে কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন
সিডনিতে কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার নতুন কমিটি গঠন

সিডনিতে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কৃষিবিদদের সংগঠন ‘কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়া’র বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এতে কৃষিবিদ আবুল সরকার সভাপতি এবং ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি সিডনির ইঙ্গেলবার্নে আয়োজিত এ সভায় নির্বাচন কমিশনার ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ নতুন পূর্ণাঙ্গ পরিষদ ঘোষণা করেন।সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিদায়ী সভাপতি কৃষিবিদ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের চলমান শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম ও সাংগঠনিক অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০০ টাকা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে নিয়োগ, আবেদন ফি ১০০০ টাকা

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাবিতে চাকরি পেলেন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শাকিল

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাবিতে চাকরি পেলেন দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থী শাকিল

পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ

পৈতৃক ভিটায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে ৩ পরিবারকে অবরুদ্ধ

পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত
পোশাকশিল্পের সংকটে চাপে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের ফলে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় এবং নতুন কাজের আদেশ কমে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি) গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাদের ব্যবসা মূলত এখাতের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসা বর্তমানে স্থবিরতা ও ধীরগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাজের আদেশ কমে যাওয়া এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় পোশাকের উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের চাহিদা কমেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন, বিক্রয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে দেশের পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প হিসেবে স্থানীয় পোশাকশিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ উপকরণের চাহিদা পূরণে সক্ষম। এছাড়া এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বিভিন্ন দেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করছে। পাশাপাশি পরোক্ষ রপ্তানির মাধ্যমে এ খাতের রপ্তানি আয় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি হয়েছে। ফলে পোশাকের উপকরণ ও মোড়ক শিল্প দেশের রপ্তানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শিল্প হিসেবে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। কেন নেতিবাচক প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং শিল্প নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। পোশাকশিল্পে কোনো ধরনের সংকট দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পোশাকের উপকরণ প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়ে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, পোশাক কারখানায় ক্রয়াদেশ কমে গেলে উৎপাদন কমে যায়। এর সঙ্গে বোতাম, জিপার, লেবেল, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণের চাহিদাও হ্রাস পায়। ফলে এসব উপকরণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি, আয় ও উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শাহরিয়ার আরও বলেন, পাশাপাশি, পোশাক কারখানাগুলো আর্থিক সংকটে পড়লে সরবরাহকারীদের বিল ও পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে। এতে উপকরণ প্রস্তুতকারকদের নগদ অর্থের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং দৈনন্দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রম ব্যয় ক্রমাগত বাড়লেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ থাকায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মুনাফার পরিমাণও কমে যায়। বিপিএএমইএ সভাপতি জানান, পোশাকশিল্পের সংকট শুধু পোশাক কারখানাগুলোকেই প্রভাবিত করে না; এর প্রভাব পুরো সরবরাহব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পোশাকশিল্প ও উপকরণশিল্প একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি খাতে অস্থিরতা তৈরি হলে অন্য খাতেও এর প্রভাব পড়ে। আরও পড়ুন উৎপাদন আংশিক বন্ধ ৭৮ শতাংশ কারখানায়, ক্রয়াদেশ কমেছে ৫৫ শতাংশের বাব আল-মান্দেবও অনিরাপদ, জ্বালানি-বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি যা বলছেন প্রস্তুতকারকরা পোশাক খাতে অর্ডার কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে গার্মেন্টসের আনুষঙ্গিক ও প্যাকেজিং পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। পোশাকের অর্ডার কমলে স্বাভাবিকভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ডারও কমে যায়। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্পভাবে জেনারেটর চালাতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। কিন্তু এই বাড়তি ব্যয় পোশাক কারখানাগুলোর কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে, বলে জানিয়েছেন বিপিএএমইএর পরিচালক ও বাদশা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, অর্ডার কম থাকায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নতুন অর্ডার আসতে শুরু করায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির আশা করছেন উদ্যোক্তারা। চট্টগ্রামভিত্তিক পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারী আদিল ট্রিমসের স্বত্বাধিকারী এস এম আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, একসময় ব্যবসায় ভালো অবস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকের উপকরণ সরবরাহের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকদের রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় নতুন করে উপকরণ ও মোড়কজাত পণ্যের অর্ডারও কমে গেছে। এর পাশাপাশি চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিভিন্ন কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পোশাকের উপকরণ সরবরাহকারীদের ব্যবসায়। আরও পড়ুন পোশাক কারখানায় তালা, কর্মসংস্থানের দরজা কি বন্ধ হয়ে যাবে? গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল শিল্প, ১১ দফা দাবি বিকেডিওএ’র আরিফুর রহমানের মতে, রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধেও বিলম্ব হচ্ছে। ফলে ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নগদ প্রবাহ উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে। কাজ কমে যাওয়ার কারণে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি পরিশোধের চাপ রয়েছে। এতে শ্রমিকের বেতন, কাঁচামাল কেনা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন অনেক ব্যবসায়ী। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি বেশি কঠিন। বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তাদের নগদ অর্থের মজুত ও ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত হওয়ায় কয়েক মাসের কম অর্ডার ও উচ্চ ব্যয়ের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তারা। আরও পড়ুন নারায়ণগঞ্জ / গ্যাস সংকটে কমেছে উৎপাদন, বাড়ছে কারখানা বন্ধের শঙ্কা গ্যাস সংকটে বসে আছে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র সংকট কাটাতে কী প্রয়োজন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে জরুরি হলো শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন পরিকল্পনা অনুযায়ী চালানো সম্ভব হবে, বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় কমবে এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে শুধু জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করলেই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তৈরি পোশাক খাতে নতুন অর্ডার বাড়ানো, রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং স্থানীয় অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। তাদের দাবি, গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ শিল্পকে শুধু পোশাক খাতের সহায়ক শিল্প হিসেবে দেখলে হবে না। তৈরি পোশাকের সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি। এজন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি অর্ডার বাড়ানোর উদ্যোগ একসঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। আইএইচও/এমএমএআর/এমএফএ

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তিতে কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তিতে কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

সিটিটিসির সাবেক প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিটিটিসির সাবেক প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এবার হেমায়েতপুরে ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ খুলছেন ওমর সানী

এবার হেমায়েতপুরে ‘চাপওয়ালার শ্বশুরবাড়ি’ খুলছেন ওমর সানী

0 Comments