ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে উপাচার্য চত্বর থেকে টিএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্বোধন করা ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং এস্টেট ব্যবস্থাপক ফাতেমা বিনতে মুস্তাফা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপনসহ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পরে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সামনে আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নিয়মিত কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে গত ৪ আগস্ট উপাচার্য বরাবর আমরা যে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম, সেখানে ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা নিশ্চিত করাসহ যেসব সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও আমরা প্রশাসনকে তাগিদ দিয়েছি।’
এ বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আমরা আমাদের সাংগঠনিক পরিসর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হল শাখাগুলো আগামীকাল থেকে নিজ নিজ প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও আলোচনা করবে। পাশাপাশি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে।’
আরটি/এসএইচএস
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
যশোরে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনে জমি বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী সেবা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশ্বাস দেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সনেট কক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ফিজিওথেরাপি এখন বৃহৎ সেক্টর। ফিজিওথেরাপি বিষয় নিয়ে এখন যারা অধ্যয়ন করছেন, তারা সত্যিকার অর্থেই সেবার ব্রত নিয়ে মানবসেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করবেন। এই সেক্টরের আধুনিকায়ন, সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রচার-প্রসারে যা যা করা দরকার, সে বিষয়ে আমরা সরকারকে অবহিত করব। বক্তব্যের একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক যশোর শহরে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনে জমি বরাদ্দের আশ্বাস দেন। এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রের কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি) ডা. মিল্লাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা। বক্তব্য রাখেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন, জেলা তথ্য অফিসার এলিন সাঈদ-উর রহমান প্রমুখ। এর আগে সকাল ১০টায় শহরের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে বিশেষায়িত ফিজিওথেরাপি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। যবিপ্রবির পিটিআর বিভাগের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে শতাধিক প্রতিবন্ধী এবং নিউরোলজিক্যাল ও মাস্কুলোস্কেলিটাল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীকে বিনামূল্যে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। মিলন রহমান/এসআর/এএসএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। দ্রুত শোধনাগারটি চালু করে সুপেয় পানি সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা পৌরসভার চলমান রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এটি চালু হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি পড়ে থাকলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। তারা আরও বলেন, পানি শোধনাগার নির্মাণের পরও পৌরবাসীর ঘরে সুপেয় পানি না পৌঁছানো অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে শোধনাগারটি চালু এবং নিয়মিত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পানি শোধনাগার চালু করে পৌরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পৌরবাসী এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মুজাহিদ, শাহিন আলম, পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু প্রমুখ। আনোয়ার আল শামীম/কেএইচকে