নওগাঁ জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নওগাঁ এবং এর আওতাধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক ও নওগাঁ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। একজন প্রার্থী কেবল একটি পদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন।
চাকরির বিবরণ
পদের নাম ও সংখ্যা—
১. হিসাব সহকারী
পদসংখ্যা: ৩
বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০/-
২. অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০/-
৩. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ১০
বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০/–
৪. নিরাপত্তাপ্রহরী
পদসংখ্যা: ৯
বেতন স্কেল: ৮,২৫০-২০,০১০/-
আবেদনে বয়সসীমা
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ১৮ হতে ৩২ বছর হতে হবে। বয়সের ক্ষেত্রে অ্যাভিডেভিড গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদন প্রক্রিয়া
আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইলের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি প্রদান করতে হবে।
আবেদনের সময়সীমা—
আবেদন শুরুর তারিখ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সকাল ১০:০০ টা)
আবেদনের শেষ তারিখ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ (বিকাল ০৪:০০ টা)
আবেদন ফি:
১ ও ২ নম্বর ক্রমিকের পদের জন্য ১১২ টাকা এবং ৩ ও ৪ নম্বর ক্রমিকের পদের জন্য ৫৬ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ) প্রদান করতে হবে।
বিস্তারিত নিচের বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
যশোরে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনে জমি বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী সেবা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশ্বাস দেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সনেট কক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ফিজিওথেরাপি এখন বৃহৎ সেক্টর। ফিজিওথেরাপি বিষয় নিয়ে এখন যারা অধ্যয়ন করছেন, তারা সত্যিকার অর্থেই সেবার ব্রত নিয়ে মানবসেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করবেন। এই সেক্টরের আধুনিকায়ন, সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রচার-প্রসারে যা যা করা দরকার, সে বিষয়ে আমরা সরকারকে অবহিত করব। বক্তব্যের একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক যশোর শহরে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনে জমি বরাদ্দের আশ্বাস দেন। এনডিডি সেবাদান কেন্দ্রের কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি) ডা. মিল্লাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা। বক্তব্য রাখেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন, জেলা তথ্য অফিসার এলিন সাঈদ-উর রহমান প্রমুখ। এর আগে সকাল ১০টায় শহরের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে বিশেষায়িত ফিজিওথেরাপি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। যবিপ্রবির পিটিআর বিভাগের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টদের তত্ত্বাবধানে শতাধিক প্রতিবন্ধী এবং নিউরোলজিক্যাল ও মাস্কুলোস্কেলিটাল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীকে বিনামূল্যে আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। মিলন রহমান/এসআর/এএসএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার দুই বছরেও চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। দ্রুত শোধনাগারটি চালু করে সুপেয় পানি সরবরাহের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌরসভার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা পৌরসভার চলমান রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এটি চালু হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি পড়ে থাকলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। তারা আরও বলেন, পানি শোধনাগার নির্মাণের পরও পৌরবাসীর ঘরে সুপেয় পানি না পৌঁছানো অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে শোধনাগারটি চালু এবং নিয়মিত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পানি শোধনাগার চালু করে পৌরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পৌরবাসী এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মুজাহিদ, শাহিন আলম, পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজু প্রমুখ। আনোয়ার আল শামীম/কেএইচকে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার অনিয়মের অভিযোগে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মবিধি না মানায় আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শাতে (শোকজ) বলেছে। এই রাজ্যের অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসার কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শেষে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে মাদ্রাসা পরিচালনার পদ্ধতি, শিক্ষক ও ছাত্রের সংখ্যা, উপস্থিতি, পরিকাঠামো এবং অর্থের উৎসের তথ্য যাচাইয়ের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজ্যস্তর থেকে বিশেষ পরিদর্শক দল বিভিন্ন মাদ্রাসায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপরই ২৫২টি মাদ্রাসাকে অবিলম্বে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কলকাতাসহ রাজ্যের ২২টি জেলার মাদ্রাসা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে যেসব মাদ্রাসা সরকারিভাবে অনুমোদিত সেগুলো চালু রাখা হয়েছে। আর যেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে।রাজ্যের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন তদন্ত শেষে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর। পশ্চিমবঙ্গে ৬১৪টি সরকার অনুমোদিত মাদ্রাসা রয়েছে, যার মধ্যে ৪২৩টি হাই মাদ্রাসা, ৮৯টি জুনিয়র হাই মাদ্রাসা এবং ১০২টি সিনিয়র মাদ্রাসা। এই ৬১৪টি মাদ্রাসা পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষারও ব্যবস্থা রয়েছে।যদিও রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেছেন, অতীতে বিভিন্ন মাদ্রাসার কিছু শিক্ষকের উগ্রপন্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে নতুন করে তদন্তের পর রাজ্য সরকার এই ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।