জাতীয়

ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ লাখ টাকার ট্রাস্ট ফান্ড গঠন

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ লাখ টাকার ট্রাস্ট ফান্ড গঠন
ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৭ লাখ টাকার ট্রাস্ট ফান্ড গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশন ইউ.কে ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশন ইউ.কে ট্রাস্ট ফান্ডের সভাপতি মুহাম্মাদ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা চৌধুরী ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ চেক হস্তান্তর করেন। এ উপলক্ষে ঢাবি উপাচার্যের অফিস সংলগ্ন সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এছাড়া অনুষ্ঠানে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশন ইউ.কে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই ট্রাস্ট ফান্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও এমফিল ডিগ্রি পেলেন ৩২ গবেষক

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশন ইউ.কে-এর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

এই ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষ এলএলবি (সম্মান) থেকে এলএলএম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়মিত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী কিংবা অসচ্ছল ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হবে। আগামী ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আরটি/এমএমকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
একটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস সিলগালা ও জরিমানা
একটি রিক্রুটিং এজেন্সির অফিস সিলগালা ও জরিমানা

বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে অবৈধ ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে ‘ত্রিপল এ ওভারসিজ’ (আরএল-২৬৩০) নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি সিলগালা এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেখান থেকে ৩ বাক্স পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।আজ বৃহস্পতিবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সেখানে বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্দেশে আজ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে জমা নেওয়া ৩ বাক্স পাসপোর্ট জব্দ করে বিএমইটির জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশগামী মেহনতি কর্মী ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। কোনো অবস্থাতেই কোনো অসাধু বা অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করতে দেওয়া হবে না। যারা নিয়ম অমান্য করবে এবং প্রবাসীদের জিম্মি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।জব্দ করা পাসপোর্টগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ইয়েমেনের আল–মোখা শহর হুতিদের দখলে, চাপে সরকারি বাহিনী

ইয়েমেনের আল–মোখা শহর হুতিদের দখলে, চাপে সরকারি বাহিনী

পদ্মার পানি বাড়ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

পদ্মার পানি বাড়ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা আর সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, আলোচনায় সেই সিরিজ

ঘনিষ্ঠতা, ভালোবাসা আর সম্পর্কের জটিল সমীকরণ, আলোচনায় সেই সিরিজ

তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, দুই আসামি রিমান্ডে
তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, দুই আসামি রিমান্ডে

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামিসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া একই মামলায় গ্রেপ্তার আরও দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন জহুরুল (৩২), আপন (২৬) ও জিহাদ (২৩)। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে জহুরুল ও আপন এবং জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমদের আদালতে জিহাদ জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।অন্যদিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া দুই আসামি হলেন কাশেম আলী (৩৮) ও দাদি আল ফায়েত (১৯)। ঢাকার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত তাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ এই তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. জাকির আল আহসান। একই সঙ্গে অপর দুই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাভারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি গ্যারেজের সামনে অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। তা থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তা আলতাব হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন। পরে রাত আটটার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালান। রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আলতাব হোসেনকে গুরুতর জখম করা হয়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন ছেলে আরিফুল ইসলাম। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় নিহত আলতাব হোসেনের স্ত্রী শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির আল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ৯ জন। আজ প্রধান আসামিসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং দুজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
যাত্রীবাহী বাস থেকে ১০৩টি টিয়া উদ্ধার, আকাশে অবমুক্ত করল পুলিশ

যাত্রীবাহী বাস থেকে ১০৩টি টিয়া উদ্ধার, আকাশে অবমুক্ত করল পুলিশ

৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সম্পন্ন, মাত্র একটিতে সভাপতি পদে বিরোধী দল

৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সম্পন্ন, মাত্র একটিতে সভাপতি পদে বিরোধী দল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লুডু খেলা নিয়ে হাতাহাতি–মারধর, যুবক নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লুডু খেলা নিয়ে হাতাহাতি–মারধর, যুবক নিহত

মহাসড়কে চলন্ত সিএনজিতে আগুন, দৌড়ে পালালেন চালক–যাত্রী
মহাসড়কে চলন্ত সিএনজিতে আগুন, দৌড়ে পালালেন চালক–যাত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকায় চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগুন লাগে। ১০ সেপ্টেম্বর বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত ভিডিওতে...

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
অদৃশ্য স্পিডব্রেকার

অদৃশ্য স্পিডব্রেকার

মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য: স্পিকার

মতের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য: স্পিকার

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে বাঙালির হৃদয়াবেগ ও মানবিকতার অনন্ত পাঠ

শরৎচন্দ্রের সাহিত্যে বাঙালির হৃদয়াবেগ ও মানবিকতার অনন্ত পাঠ

0 Comments