জাতীয়

ডাকসুর মূল্যায়ন উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ, শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ডাকসুর মূল্যায়ন উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ, শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ
ডাকসুর মূল্যায়ন উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ, শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ

শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসু যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, তা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বেশির ভাগ ডাকসুর এই উদ্যোগে ক্ষুব্ধ। তাঁরা মনে করছেন, উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া উচিত ছিল, ডাকসুর নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ১০ সেপ্টেম্বর ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে। এরপর গতকাল রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৮৯ জন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছেন। কোন শিক্ষক কত নম্বর পেয়েছেন, তা ওয়েবসাইটটি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অনেক শিক্ষক ব্যঙ্গ ও কটূক্তির (ট্রল) শিকার হচ্ছেন।

শিক্ষকেরা বলছেন, এখতিয়ারের বাইরে শিক্ষকদের মূল্যায়নের উদ্যোগ অগ্রহণযোগ্য। তার চেয়েও অগ্রহণযোগ্য প্রাপ্ত নম্বর গোপন রাখতে না পারা। পড়াতে না পারলে শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। তবে হেয় করার সুযোগ নেই।

ডাকসু যেভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছে, তার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এদিকে সমালোচনার মুখে গতকাল মূল্যায়নে শিক্ষকদের প্রাপ্ত নম্বর দেখার সুযোগ বন্ধ করে দেয় ডাকসু। কিন্তু এর আগেই নম্বর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কতার সঙ্গে করা দরকার। এর মধ্যে কিছু বিষয় গোপনীয় রাখতেই হবে, নইলে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কাজ শুধু ক্লাস নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁরা গবেষণা ও অন্যান্য কাজের সঙ্গেও যুক্ত থাকেন। এ ধরনের জরিপ তাই শিক্ষক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেয় না।

মূল্যায়ন কেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০ সালে বিভাগের সংখ্যা ছিল ৪৭। এখন ৮৪টি। দুই দশকে ৯টি থেকে বেড়ে ইনস্টিটিউট হয়েছে ১২টি। সাড়ে ২২ হাজার থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজারের বেশি। শিক্ষকসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজারে (২ হাজার ১৫ জন)।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষক রাজনীতিতে দল ভারী করতে একের পর এক বিভাগ খোলা ও শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের অনেকের বিরুদ্ধে নিজেরা পড়াশোনা না করা, গবেষণায় ফাঁকি দেওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অদক্ষতার অভিযোগ রয়েছে। আবার কোনো কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপছন্দের শিক্ষার্থীদের নম্বর কম দেওয়া, পছন্দের শিক্ষার্থীকে বেশি দেওয়া এবং হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ কম। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের মূল্যায়নের দাবিও ছিল।

২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ইশতেহারে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ছিল। মেয়াদ শেষের চার দিন আগে শিক্ষক মূল্যায়নের একটি ওয়েবসাইট চালু করে ডাকসু। নাম ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’।

ওয়েবসাইটটি চালুর ক্ষেত্রে সক্রিয় ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। ওয়েবসাইট চালুর অনুষ্ঠানে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েমসহ শিবির-সমর্থিত প্যানেলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন না ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটটি চালুর জন্য তিনি বিগত এক বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে গিয়েছেন; কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আপত্তি থাকলেও ওয়েবসাইটটি চলবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইটের হোমপেজ

ডাকসু জানিয়েছে, তিন মাসের মূল্যায়ন ও মতামতের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে।

ডাকসুর নির্ধারিত এক বছরের মেয়াদ আজ সোমবার শেষ। গঠনতন্ত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে মেয়াদ তিন মাস বাড়বে।

শিক্ষকেরা কতটা স্পষ্টভাবে পড়ান, প্রশ্ন ও আলোচনায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন কি না, তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করেন কি না এবং নিয়মিত ও সময়মতো ক্লাস নেন কি না—এসব বিষয়েও মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন

ডাকসুর তৈরি ওয়েবসাইটে ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য সেখানে বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোর্সের কাঠামো ও পাঠ্যসূচি, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন, পেশাদারি এবং সার্বিক সন্তুষ্টি।

শিক্ষকেরা কতটা স্পষ্টভাবে পড়ান, প্রশ্ন ও আলোচনায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন কি না, তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করেন কি না এবং নিয়মিত ও সময়মতো ক্লাস নেন কি না—এসব বিষয়েও মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারছেন। মূল্যায়ন করতে হলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ই-মেইল দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা শুধু নিজ বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারছেন।

ডাকসুর সদস্যরা জানিয়েছেন, মূল্যায়নকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হচ্ছে। শিক্ষকদের পরিচয় ও নাম জানার সুযোগ ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ১১ হাজারের বেশি মূল্যায়ন দিয়েছেন। একজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একাধিক শিক্ষককে মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওয়েবসাইটের কোনো মূল্যায়ন চূড়ান্ত নয়। আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছি যে এটি এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।’ তিনি বলেন, তাঁরা এ উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করলে তাঁরা বন্ধ করে দেবেন।

যেসব শিক্ষক ট্রলের শিকার হচ্ছেন, তাঁদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি। গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর রেটিং নম্বর ছিল ৫-এর মধ্যে ১ দশমিক ৪৯। এই নম্বর ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। পরে আরেকটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁর নম্বর ১ দশমিক ৮৩।

শেহরীন আমিন এ বিষয়ে শনিবার ফেসবুকে দীর্ঘ একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছেন, শিক্ষক মূল্যায়ন নিয়ে তাঁর কোনো আপত্তি ছিল না। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পড়ানোর সুবাদে তিনি অনেকবার এর মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি কয়েকটি প্রশ্ন তোলেন।

ওয়েবসাইটে গতকাল শিক্ষকদের ব্যক্তিগত রেটিং দেখানো বন্ধ করা হলেও সার্বিক একটি চিত্র ছিল। বিকেল চারটা পর্যন্ত পাঁচটির বেশি মূল্যায়ন পাওয়া ৮১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে রেটিংয়ে ৪-৫-এর মধ্যে রয়েছেন ৩৪৭ জন শিক্ষক। ৩-৪ রেটিংয়ের মধ্যে রয়েছেন ২০৫ জন শিক্ষক। ২-৩ রেটিংয়ের মধ্যে রয়েছেন ১৫৫ জন। রেটিংয়ে ২-এর নিচে রয়েছেন ১০৯ জন শিক্ষক।

প্রথম প্রশ্ন, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রন্ধ্রে রন্ধ্রে রাজনীতি, সেখানে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন কীভাবে হবে? সব শিক্ষার্থী পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যায়ন করবেন, সেটা কে নিশ্চিত করবে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, অনেক শিক্ষার্থী যেখানে মূল্যায়নে অংশ নেননি, সেখানে এই মূল্যায়ন যথাযথ ও প্রতিনিধিত্বশীল কীভাবে হবে?

শেহরীন আমিন আরও লিখেছেন, তারপরও শিবির-সমর্থিত ডাকসু প্যানেলের এই উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান। তবে যথাযথভাবে তৈরি না করে হুট করে ওয়েবসাইট চালু করে দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের ‘ইস্যু’ হতে পারে।

ওয়েবসাইটে গতকাল শিক্ষকদের ব্যক্তিগত রেটিং দেখানো বন্ধ করা হলেও সার্বিক একটি চিত্র ছিল। বিকেল চারটা পর্যন্ত পাঁচটির বেশি মূল্যায়ন পাওয়া ৮১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে রেটিংয়ে ৪-৫-এর মধ্যে রয়েছেন ৩৪৭ জন শিক্ষক। ৩-৪ রেটিংয়ের মধ্যে রয়েছেন ২০৫ জন শিক্ষক। ২-৩ রেটিংয়ের মধ্যে রয়েছেন ১৫৫ জন। রেটিংয়ে ২-এর নিচে রয়েছেন ১০৯ জন শিক্ষক।

শিক্ষকদের ক্ষোভ

ডাকসু ওয়েবসাইটটি চালুর পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপত্তি জানিয়েছিল। শিক্ষকেরাও ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন দল ও মতের অনুসারী ১০ জন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন এবং বেশির ভাগ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষকদের অসম্মান করার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কোন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের মতে, ক্লাসে ঠিকমতো উপস্থিত থাকেন না, এমন শিক্ষার্থী যদি একজন শিক্ষককে মূল্যায়ন করেন, সেটা কি যৌক্তিক হবে? একজন শিক্ষার্থী সব শিক্ষকের কোর্স নেন না। ফলে একজনকে বিভাগের সব শিক্ষককে মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া ঠিক নয়।

শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত শিক্ষক মূল্যায়নের ফল শিক্ষক, ডিন বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেখতে পারে; শিক্ষার্থী বা সাধারণ জনগণের জন্য তা উন্মুক্ত থাকে না।

ওয়েবসাইটে গতকাল শিক্ষকদের ব্যক্তিগত রেটিং দেখানো বন্ধ করা হলেও সার্বিক একটি চিত্র ছিল। বিকেল চারটা পর্যন্ত পাঁচটির বেশি মূল্যায়ন পাওয়া ৮১৬ জন শিক্ষকের মধ্যে রেটিংয়ে ৪-৫-এর মধ্যে রয়েছেন ৩৪৭ জন শিক্ষক। ৩-৪ রেটিংয়ের মধ্যে রয়েছেন ২০৫ জন শিক্ষক। ২-৩ রেটিংয়ের মধ্যে রয়েছেন ১৫৫ জন। রেটিংয়ে ২-এর নিচে রয়েছেন ১০৯ জন শিক্ষক।

শিক্ষকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগেই শিক্ষক মূল্যায়নের জরিপ ফরম তৈরি করা হয়েছে এবং সেই জরিপে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে অংশগ্রহণের নির্দেশনাও আছে। সরকার পরিবর্তন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রদবদলের কারণে কাজটি নতুন করে শুরু করা যায়নি।

২০২২ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতির নীতিমালা করা হয়। পরে ২০২৪ সালে এ পদ্ধতির অংশ হিসেবে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) নামে একটি ওয়েবসাইটও করা হয়েছিল। সেখানে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি শর্ত পূরণ করে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শুরুতে অন্তত ১৪টি বিভাগে শিক্ষক মূল্যায়ন চালু হয়েছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৪ বিভাগেই তা একযোগে চালুর কথা ছিল; পরে তা হয়নি।

ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়নব্যবস্থা চালুকে একটি রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষক ও গবেষক আসিফ বিন আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এর মাধ্যমে আসলে ছাত্রনেতাদের ক্ষমতা দেখানো হলো, বার্তা দেওয়া হলো যে তাঁরা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারেন। তিনি বলেন, মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে মূল্যায়ন করা হলে সেটা যথাযথ প্রক্রিয়ায় হতো। সে ধরনের উদাহরণও আছে। এ ধরনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পেশাগত ও তথ্যগত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় এবং সেই মূল্যায়ন শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়।

আসিফ বিন আলীর মতে, শিক্ষকদের মূল্যায়ন অবশ্যই দরকার। তবে তা একাডেমিক প্রক্রিয়ার ভেতরে যথাযথ সম্মান রেখেই হতে পারে। শিক্ষক মূল্যায়নের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্য দেশে কী হয়

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক মূল্যায়নব্যবস্থা রয়েছে। যেমন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক। তবে কোন শিক্ষক কত নম্বর পেলেন, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষকদের মূল্যায়নের পদ্ধতি আন্তর্জাতিক অনুশীলনের অংশ এবং এটি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো ক্যাম্পাসের নিউরোসায়েন্সেস বিভাগে কর্মরত গবেষক নাদিম মাহমুদ প্রথম আলোকে জানান, সেখানে শুরুতে শিক্ষক নিয়োগ করা হয় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য। মেয়াদ শেষে তাঁর পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়ের একটি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন। তিনি বলেন, এই মূল্যায়নের আয়োজন ছাত্রসংসদ করে না। মূল্যায়নের ফল প্রকাশ্যে আসে না।

মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ায় কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের লম্বা একটি মূল্যায়ন ফরম পূরণ করতে হয়। সেখানে শিক্ষকদের সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন ও উদীয়মান প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ এরশাদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল্যায়নে আমি কত পেয়েছি, তা আমার সহকর্মীও জানতে পারবেন না।’

নানা উদ্যোগ ও তৎপরতা

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকা তৈরির ঘটনা বেড়েছে। সর্বশেষ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ‘গোপন তৎপরতায়’ জড়িত শিক্ষকদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, এমন তৎপরতায় দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।

দুই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৩২ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে শিক্ষকদেরই একটি পক্ষ। এ ছাড়া ‘গোপন তৎপরতায় লিপ্ত’ থাকার অভিযোগে শিক্ষকদের বিষয় খতিয়ে দেখতে ১৩ আগস্ট তিন সদস্যের কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ১৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসব উদ্যোগ ও তৎপরতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে পক্ষ–বিপক্ষ রয়েছে। তবে আলাপে শিক্ষকেরা বলছেন, শিক্ষক মূল্যায়নে ডাকসুর ওয়েবসাইট নিয়ে আপত্তি প্রায় সব শিক্ষকেরই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষক মূল্যায়নের পক্ষে; কিন্তু সেই কাজ ডাকসু করবে না। এটা ডাকসুর এখতিয়ারে নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষায়, শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের মতামত সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে-সেই ব্যবস্থাও আমরা করছি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন।’

অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী বলেন, ‘ডাকসুর কাজটি শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক শিক্ষক আমাদের অভিযোগ জানাচ্ছেন; মৌখিকভাবে জানাচ্ছেন, ফোনে জানাচ্ছেন, আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসে জানাচ্ছেন। শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার একটা বিশাল সুযোগ এখানে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
অভিনেতা-গায়ক মুকুল জামিল মারা গেছেন
অভিনেতা-গায়ক মুকুল জামিল মারা গেছেন

অভিনেতা ও গায়ক মুকুল জামিল আর নেই। রোববার রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন তিনি।  মুকুল জামিলের আকস্মিক মৃত্যুতে সংগীত ও অভিনয় অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনয় ও সংগীতাঙ্গনের অনেকেই। মুকুল জামিলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, অভিনয়শিল্পী সংঘের সম্মানিত সদস্য মুকুল জামিল ইন্তেকাল করেছেন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। উনার প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত।’ ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি ঝোঁক ছিল মুকুল জামিলের। বোনের হাত ধরেই গানে আসা। জীবনের ৩০ টির বেশি মিক্স অ্যালবামে কাজ করেছেন তিনি। একটি সলো অ্যালবাম রয়েছে, নাম ‘আমি তো এমনই’।  তার বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘মন’, ‘আচ্ছা’, ‘বিলবোর্ড’, ‘ভালবাসার মানে’ ও ‘ফাগুনের হাওয়া’। এ ছাড়া তার ‘চায়ের চুমুকে’ গানটি এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন মুকুল জামিল। ‘ওয়েডিং বেলস’ (২০১৯), ‘আমানুষ’ (২০২২) ও ‘ছাত্রী বউ’ (২০২৪)-এর মতো চলচ্চিত্রে যুক্ত ছিলেন তিনি।   এমআই/এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকল ডকাত দল, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে লুটপাট

গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকল ডকাত দল, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে লুটপাট

২০০ জনকে নিয়োগ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট, লাগবে না অভিজ্ঞতা

২০০ জনকে নিয়োগ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট, লাগবে না অভিজ্ঞতা

ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন পেন্ডিং থাকায় দুই কর্মকর্তাকে শোকজ

ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন পেন্ডিং থাকায় দুই কর্মকর্তাকে শোকজ

টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু
টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

  গাজীপুরের টঙ্গীতে কাভার্ডভ্যান চাপায় রাব্বি (৮) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টঙ্গী-কালীগঞ্জ  আঞ্চলিক শাখা সড়কের নতুন বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ‎নিহত রাব্বি টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ বস্তির সালামত মিয়ার ছেলে। সে রেলওয়ে শিশু বিদ্যানিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। ‎পুলিশ জানায়, ‎সোমবার সকালে স্কুল ছুটির পর বাসার ফিরছিলো শিশু রাব্বি। এসময় নতুন বাজার এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন বিআরটিসি বাস পিষে দিলো স্কুলছাত্রকে ‎ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান ও চালক রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম। শিহাব খান/এনএইচআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
কৃষকের সার গুদামে আছে, মাঠে নেই

কৃষকের সার গুদামে আছে, মাঠে নেই

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

নকল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট অয়েল: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ

নকল ও নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট অয়েল: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ

১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া শিশুটি ৭ মাস পর ফিরল পঙ্গু হয়ে
১০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া শিশুটি ৭ মাস পর ফিরল পঙ্গু হয়ে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চুল কাটাতে বাড়ি ছেড়েছিল রায়হান। সাত মাস পর ফিরল ডান পা কাটা অবস্থায়। পরিবারের অভিযোগ, ভিক্ষায় নামাতে একটি চক্র তাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা?

ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা?

বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে?

বিমান কি বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে?

‎এশিয়ান গেমস নারী ফুটবল: বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল

‎এশিয়ান গেমস নারী ফুটবল: বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল

0 Comments