
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য চারটি দেশের সঙ্গে আটটি চুক্তি আছে বাংলাদেশের। এসব চুক্তির আওতায় এ বছর মোট ১০৩টি এলএনজি কার্গো (জাহাজ) আসার কথা। প্রথম নয় মাসে এসেছে মাত্র ২১টি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে চুক্তির অধিকাংশ কার্গো আসেনি। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার (স্পট) থেকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এই অবস্থায় সরবরাহ ধরে রাখতে এলএনজির উৎস বাড়াচ্ছে সরকার।
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি খাত তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর এ সংস্থার অধীন আমদানির কাজটি করে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, গত বছর এলএনজির ৭০ শতাংশ আমদানি হয় কাতার থেকে। এ বছর আরও বেশি আসার কথা ছিল দেশটি থেকে। কেননা, এলএনজি আমদানির আটটি চুক্তির মধ্যে ছয়টির মূল উৎস কাতার। গত মার্চে কাতারের সবচেয়ে বড় এলএনজি ইউনিটে হামলার পর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই এলএনজি সরবরাহ কমতে থাকে।
এলএনজি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে সরবরাহ করা গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। সাধারণত দুটি প্রক্রিয়ায় এলএনজি আমদানি করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির অধীনে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে দরপত্র আহ্বান করে। কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি দুটি করে চারটি চুক্তি আছে সরকারের। ওমানের সঙ্গে একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তি আছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে একটি চুক্তি আছে দীর্ঘমেয়াদি। সৌদি আরামকোর সঙ্গেও স্বল্পমেয়াদে একটি চুক্তি আছে। আর সবশেষ বর্তমান সরকারের সময়ে আমেরিকার কোম্পানি গানভরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি করা হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর থেকে গানভরের সরবরাহ শুরু হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, গত বছর মোট ১০৯টি এলএনজি কার্গো আনা হয় দেশে। এবার ১১৫টি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে আসার কথা ৮৬টি কার্গো। আগস্ট পর্যন্ত এসেছে মাত্র ১৩টি। এ মাসে আরও দুটি আসার কথা রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১৭টির মধ্যে এসেছে চারটি, এ মাসে আরও দুটি আসার কথা। চুক্তির বাইরে দরপত্র ডেকে এ বছর ১২টি কার্গো কেনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চুক্তি থেকে সরবরাহ কমায় বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কিনতে হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৬টি কার্গো এসেছে দরপত্রের মাধ্যমে, আরও তিনটি আসার কথা রয়েছে এ মাসে।
এলএনজি–বিষয়ক একাধিক ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ২৪টি দেশ এলএনজি রপ্তানি করলেও ৭৬ শতাংশ সরবরাহ করে মাত্র পাঁচটি দেশ। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কাতার থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। এ দেশটি থেকেই আসে সবচেয়ে বেশি সরবরাহ। দেশটির সঙ্গে করা চুক্তি অনুসারে এলএনজি সরবরাহের পাশাপাশি ওমান ও এক্সিলারেট বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে কাতার থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর পাল্টাপাল্টি আঘাত হানা হয়েছে জ্বালানি স্থাপনায়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ কমেছে, বেড়েছে দাম।
গত ১৯ আগস্ট দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিশ্বের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে কাতার। তবে কাতার থেকে শিগগিরই সরবরাহ বাড়ার তেমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
১ সেপ্টেম্বর ইউরো নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিবার্য পরিস্থিতির মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। যুদ্ধের প্রথম ছয় মাসে কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি চালান রপ্তানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫০৯। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে এলএনজি পরিবহন এখনো প্রায় বন্ধ। কাতারের বিকল্প পথও তেমন নেই। কাতার এনার্জির সর্বশেষ যেসব চালান বাতিল হয়েছে, সেগুলোর সময়সীমা নভেম্বরের প্রথমভাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতারা বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, দীর্ঘমেয়াদি পাঁচটি চুক্তির আওতায় আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ৪৭টি কার্গোর সরবরাহ বাতিল হয়েছে। যুদ্ধের কারণে অপারগতা প্রকাশ করেছে তারা। এসব কার্গো খোলাবাজার থেকে কিংবা স্বল্পমেয়াদি চুক্তির উৎস থেকে কেনা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানিনিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরবরাহের উৎস বহুমুখী করা। তাই বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে সরকার, যাতে করে কোনো একক উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি না হয়।
শুরু থেকেই এলএনজি আমদানির উৎস মূলত কাতার ও ওমান। এর বাইরে চাহিদা বুঝে খোলাবাজার থেকে দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিয়মিত এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়। এক মাস ধরে দেশে তীব্র গ্যাস–সংকট চলছে। দেশের জ্বালানি সুরক্ষায় এলএনজি আমদানির উৎস বাড়াতে কাজ করছে সরকার। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছে সরকার। এ ছাড়া অবকাঠামো সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। স্থলভাগেও একটি টার্মিনাল নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
চুক্তি অনুসারে গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে ছয় কার্গো কেনার কথা রয়েছে।
পেট্রোবাংলার দুজন কর্মকর্তা বলেন, এ বছর সাতটি চুক্তির অধীনে এলএনজি কেনার পরিকল্পনা ছিল। বিএনপি সরকার এসে গানভর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এ চুক্তির অধীনে বছরের বাকি চার মাসে পাঁচটি কার্গো সরবরাহের কথা রয়েছে। এর মধ্যে এ মাসেই আসছে দুটি। এতে করে কিছুটা হলেও ঘাটতি দূর হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, মালয়েশিয়া থেকে আমদানির আলোচনা চলছে। স্বল্প মেয়াদে দুই বছরের জন্য একটি চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে আমদানির বাধ্যবাধকতা থাকবে না। চাহিদা ও দাম বুঝে বাংলাদেশ তাদের কাছে এলএনজি চাইবে, তারা মজুত বুঝে সরবরাহ করবে। সমঝোতা হলে একটি সম্পূরক চুক্তি করে এলএনজি আমদানি করা হবে। এ ছাড়া আইএসও ট্যাংকারে করে দেশটি থেকে আমদানির একটি পরিকল্পনা থাকলেও এটি ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আরও সময় নিচ্ছে সরকার।
মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানিরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে দেশটির সীমান্তে সংঘাত চলমান থাকায় আপাতত এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এলএনজি করে আনা যায় কি না, সেটি চিন্তা করা হচ্ছে।
বিশ্বে শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারকদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়া থেকে সরাসরি আমদানি করে না বাংলাদেশ। তবে নিয়মিত সরবরাহকারী কোম্পানির মধ্যে কেউ কেউ অস্ট্রেলিয়া থেকে সরবরাহ করে। এর বাইরে বাকি দেশগুলোর মধ্যে অ্যাঙ্গোলা ও নাইজেরিয়া থেকে কেউ কেউ এলএনজি সরবরাহ করেছে। নতুন করে আরও কিছু দেশ থেকে এলএনজি আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ ছাড়া কম দামে কেনার জন্য দরপত্র এড়িয়ে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহার করে ২০২৬ সালের জন্য কিছু ক্রয়াদেশ দেয় সরকার। হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস এলএনজি, চীনের চায়না রানজে হোল্ডিংস গ্রুপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনকরপোরেটেড থেকে মোট আট কার্গো এলএনজি কেনার ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত মাসে চারটি আসার কথা ছিল, আসেনি একটিও।
এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। দুটি থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় সরবরাহ করা হলে বছরে ১১৫টি কার্গো আমদানি করতে হবে। আগামী বছরে চুক্তির অধীনে ১১৬টি কার্গো আসার কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগামী বছরেও খোলাবাজার থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হতে পারে। তাই আগে থেকেই নতুন উৎস তৈরি করতে হবে।
এলএনজি আমদানির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজির উৎস বিশ্বে খুব বেশি নয়। এটি খুবই বিশেষায়িত ব্যবসা। যে কারও পক্ষে এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। তাই উৎস বাছাই করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে নতুন করে যাদের এলএনজি সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ আগস্টের জন্য নির্ধারিত কার্গো সরবরাহ করতে পারেনি। এতে গ্যাসের সংকট বেড়েছে।
সবশেষ এলএনজি কার্গো কিনতে প্রতি ইউনিটে ২৮ ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে। বেশি দামে কেনায় পেট্রোবাংলার ঘাটতি বাড়ছে। সূত্র বলছে, প্রতি মাসে গড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো লোকসান করে পেট্রোবাংলা। ঘাটতি মেটাতে চলতি বাজেটে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ আছে গ্যাস খাতে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর এলএনজির দাম বেড়ে গেছে। চুক্তির এলএনজি কমায় বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কিনতে হয়েছে। এতে যুদ্ধের সাত মাসে (মার্চ-সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার অতিরিক্ত লোকসান হয়েছে ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সরকারের কাছে এটি ভর্তুকি হিসেবে দাবি করেছে তারা।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। গতকাল বৃহস্পতিবার সরবরাহ হয়েছে ২৩২ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস থেকে উৎপাদন হয় ১৬২ কোটি ঘনফুট। এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৭০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি থেকে দিনে সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন নিয়মিত কমছে। তাই আপাতত এলএনজি আমদানির কোনো বিকল্প নেই। তবে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। তাই অন্যদের চেয়ে ঝুঁকিটাও বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, চীন ও অন্যান্য দেশ থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এলএনজির ক্ষেত্রে কাতারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে। এই বহুমুখীকরণকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। শুধু নিয়মিত আমদানি করলেই হবে না, কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা দরকার।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফরিদপুরের মধুখালীতে তিনটি কার্টনের (শক্ত কাগজের বাক্স) ভেতর থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ছয় টুকরা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন একটি কাঁচা সড়কের পাশের ঝোপ থেকে খণ্ডিত লাশটি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি ছয়টি অংশে খণ্ডিত ছিল। দুই হাতের আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পুরুষ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ সামনে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন একটি কাঁচা সড়কের পাশের ঝোপে তিনটি কার্টন পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। কার্টনগুলোর মুখ বাঁধা ছিল এবং সেগুলো থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। মধুখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্টন তিনটি উদ্ধার করে। পরে কার্টন খুলে বস্তাবন্দী অবস্থায় খণ্ডিত লাশ দেখতে পায় পুলিশ।লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে পুলিশ। মধুখালী, ফরিদপুর; ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬লাশ উদ্ধারের খবরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও ক্রাইমসিন ইউনিট। তারা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে।লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মধুখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) এস এম মাসুদুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মাণাধীন দুটি হলের কাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও এখনো ভবন দুটির কাজ শেষ হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসন সুবিধা রয়েছে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীর। ফলে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে ভুগছেন। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট লাঘবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি ১০ তলা হলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি ভবন দুটির নির্মাণকাজ। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ভবনের নির্মাণকাজে হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে এরই মধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে ভবন দুটির নির্মাণকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সরেজমিনে জানা যায়, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ভবন দুটির নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ চলায় শ্রমিক সংকটসহ নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এতে দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়েও নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণকাজের এমন দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসআই কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল মিয়া বলেন, ভবনের অধিকাংশ কাজ শেষ। আমরা এখন ফিনিশিংয়ের কাজ করছি। আশা করছি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। এর আগে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বারবার প্রশাসনিক পদে পরিবর্তন এবং ফাইল আটকে থাকার কারণে নির্মাণকাজে বিলম্ব হয়েছে বলে জানান। আরও পড়ুন শিবির সভাপতি / শিক্ষার্থীরা এতো কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও থাকার জায়গা পান না এ বিষয়ে সিএসআই কনস্ট্রাকশনের প্রশাসক রুমেল ও রিপোর্টিং পরিচালক শাহআলম বাদশার সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এদিকে, প্রকল্পের কাজের বারবার মেয়াদ বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। এরপর অনুমতি পেলে দেওয়া যাবে। তবে চলমান বর্ধিত সময়সীমা ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে না পারলে তাদের আইনি শাস্তির আওতায় নেওয়া হবে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম। এনএইচআর/এএসএম
হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদল নেতা । ১২ সেপ্টেম্বর বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত দেখুন প্রতিবেদনে-