জাতীয়

বইয়ের মোড়কে দেশের ‘ক্রিকেটের দলিল’ লিখলেন লুৎফুর রহমান

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
বইয়ের মোড়কে দেশের ‘ক্রিকেটের দলিল’ লিখলেন লুৎফুর রহমান
বইয়ের মোড়কে দেশের ‘ক্রিকেটের দলিল’ লিখলেন লুৎফুর রহমান

তাঁর পুরো জীবনটাই ক্রিকেটময়। ব্রিটিশ আমলে দর্শক হিসেবে ক্রিকেট খেলা দেখেছেন, পাকিস্তান আমলে চুটিয়ে ক্রিকেট খেলেছেন, অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে ঢাকার মাঠে দীর্ঘদিন আয়োজন করেছেন গ্রীষ্মকালীন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট কারদার সামার ক্রিকেট; যা তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বেশ জনপ্রিয় ছিল। পঞ্চাশ-ষাটের দশকের সেই ক্রিকেটার ও প্রবীণ ক্রিকেট সংগঠক লুৎফুর রহমান মাখন এবার ৯৩ বছর বয়সে ক্রিকেট নিয়ে লিখলেন এক বই।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে তাঁর তৃতীয় বই ‘ষাটের দশকের ক্রিকেট এই বাংলায়’-এর প্রকাশনা উৎসব হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার, বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক, সাবেক ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা, ওমর খালেদ রুমিসহ আরও অনেকেই।

ক্রিকেটের সঙ্গে দীর্ঘ সময় সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে লুৎফুর রহমান মাখন আগেও ‘যখন নির্বাচক ও আমার ক্লাব’ এবং ‘ক্রিকেটের সাথে পথচলা’ নামের দুটি বই লিখেছেন। সর্বশেষ ‘ক্রিকেটের সাথে পথচলা’ প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালে।

আজ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাবেক ক্রিকেটার ও লেখকের বন্ধু কাজী হাবিবুর রহমান। বইটি প্রকাশিত হয়েছে সাবেক ক্রিকেটার দুলাল হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায়। প্রকাশ করেছে সৌম্য প্রকাশনী।

লুৎফুর রহমান মাখন

পাক্ষিক ক্রীড়াজগতের সাবেক সম্পাদক দুলাল মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বইটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন। মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ‘বইটি শুধু ইতিহাস নয়, এটি ক্রিকেটের এক অনন্য দলিল।’

সৈয়দ আশরাফুল হক বইটিকে বলেন, ‘এই বইয়ে অনেকগুলো স্কোরকার্ড দেওয়া আছে, যা অসাধারণ একটা দিক। অনেক ম্যাচের অংশ ছিলাম আমি নিজেও। পঞ্চাম-ষাটের দশকের ক্রিকেট সম্পর্কে যাঁদের ধারণা নেই, তাঁরা এই বই থেকে অনেক কিছু জানতে পারবেন।’ কাজী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এমন বই লিখে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন মাখন।’

ওমর খালেদ রুমির কণ্ঠেও লেখকের প্রশংসা, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে বই লেখা হয়েছে। তবে এমন বই আগে দেখিনি। এখানে এত স্কোরকার্ড, যা অবিশ্বাস্য!’ বিসিবির সাবেক পরিচালক ও ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদীনের কথা, ‘এই বয়সেও মাখন ভাই তিনটি বই লিখেছেন, এটা তাঁকে ছাড়া সম্ভব ছিল না।’ ক্রীড়া লেখক খন্দকার সালেক সুফি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটেই এই বইটি অনন্য হয়ে থাকবে।’

লেখক তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই প্রয়াত কিংবদন্তি ফুটবলার জাকারিয়া পিন্টুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘বই লিখব কখনো ভাবিনি। অনেকের অনুরোধ এবং সহযোগিতায় লিখেছি। আশা করি, বইটি পাঠকের ভালো লাগবে।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্রীড়া লেখক ইকরামউজ্জমান ও সাবেক ক্রিকেটার শহীদুল আলম রতন।

৫৫২ পৃষ্ঠার বইটির নামের সঙ্গে ষাটের দশকও জড়িয়ে আছে

বইটিতে ষাটের দশকের কিছু দুর্লভ স্কোরবোর্ড আছে, যার অনেকগুলোর ছবি লেখকের নিজের তোলা। ৫৫২ পৃষ্ঠার বইটির নামের সঙ্গে যদিও ষাটের দশক জড়িয়ে আছে, তবে তার আগে-পরের অনেক ইতিহাসও এতে উঠে এসেছে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় কীভাবে ক্রিকেট খেলা হতো, কারা খেলতেন—সেসব তুলে ধরা হয়েছে। পঞ্চাশের দশকে শুরু হওয়া কারদার সামার ক্রিকেট, কায়দে আজম ট্রফি, আইয়ুব ট্রফি ক্রিকেট, ইপিএসএফ নকআউট টুর্নামেন্ট, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ইত্যাদি টুর্নামেন্ট সম্পর্কেও বইটিতে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

অনুষ্ঠানে বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের ইতিহাস সংরক্ষণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, বইটি ইতিহাসের বাঁকে পড়ে থাকা আসল ইতিহাসকেই নতুন করে তুলে ধরেছে।

১৯৩৩ সালের নভেম্বরে কুমিল্লায় জন্ম লুৎফুর রহমান মাখনের। শৈশব কেটেছে ময়মনসিংহে। শহর ময়মনসিংহের পন্ডিতপাড়া অ্যাথলেটিক ক্লাবে ক্রিকেটের প্রথম পাঠ নেন। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে ঢাকার প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে অভিষেক হয় তাঁর। পাকিস্তানের প্রধান ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা কায়দে আজম ট্রফি ঢাকায় প্রথমবার আয়োজিত হলে তিনি পূর্ব পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেন। এই টুর্নামেন্টে ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে তাঁর নেতৃত্বে ইস্ট জোনে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক ত্রুটি, ‘স্যাবোটাজ’ কি না প্রশ্ন রিজভীর
বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক ত্রুটি, ‘স্যাবোটাজ’ কি না প্রশ্ন রিজভীর

দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, এসব ঘটনা ‘স্যাবোটাজ’ (নাশকতা) কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। ১২–দলীয় জোট এ সভার আয়োজন করে।দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশে গ্যাস–সংকট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না থাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে। মহেশখালীতে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রমেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। রিজভী বলেন, ‘আজকে এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রকামী মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে তা যেন সীমালঙ্ঘন না করে।ইসলামি উত্তরাধিকার আইন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানেরা মা–বাবার যথাযথ খোঁজখবর রাখেন না। এ বিষয়ে যে আইন করা হয়েছে, তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে।সভাপতির বক্তব্যে ১২–দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, সরকারকে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে। তবে বর্তমান বিরোধী দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সভায় আরও বক্তব্য দেন মহিউদ্দিন ইকরাম, মো. শামসুদ্দিন পারভেজ, আহসান হাবিব লিংকন, মাওলানা আবদুল করিম, কারি আবু তাহের, আমিনুল ইসলাম, এম এ বাশার, ফিরোজ মোহাম্মদ লিটন প্রমুখ।

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম ২৩ সেপ্টেম্বর

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম ২৩ সেপ্টেম্বর

অ্যানফিল্ড লিভারপুলের ঘরের মাঠ, না পরের মাঠ

অ্যানফিল্ড লিভারপুলের ঘরের মাঠ, না পরের মাঠ

বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে দেশেই একজনকে পাওয়া গিয়েছিল: স্পিকার

বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে দেশেই একজনকে পাওয়া গিয়েছিল: স্পিকার

ফেসবুকে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর, বাড়ছে ঝুঁকি
ফেসবুকে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর, বাড়ছে ঝুঁকি

ফেসবুকে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে অবৈধ গ্যাস কম্প্রেসর। গ্যাসের চাপ বাড়ানোর নামে চলছে বাণিজ্য; তিতাস বলছে, এসব যন্ত্র ব্যবহার অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে...

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
দুই আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান ট্রাম্প, এখনই গণভোটে রাজি নয় যুক্তরাজ্য

দুই আয়ারল্যান্ডকে এক দেখতে চান ট্রাম্প, এখনই গণভোটে রাজি নয় যুক্তরাজ্য

আমাদের স্বৈরাচার ফিরে আসার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে: জামায়াত আমির

আমাদের স্বৈরাচার ফিরে আসার ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে: জামায়াত আমির

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাগজে জন্ম, কাগজেই মৃত্যু

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাগজে জন্ম, কাগজেই মৃত্যু

0 Comments