ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি হয়েছে পাকিস্তানের। দ্বিতীয় টেস্টের পর বাদ দেওয়া হয় ৭ ক্রিকেটারকে। সেই তালিকায় ছিলেন সালমান আলী আগা। বাদ পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছেন তিনি।
আর ফিরেই ব্যাট হাতে দিয়েছেন দুর্দান্ত জবাব। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ কিংসমেন একাডেমির হয়ে মার্কহোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতে ৭২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল কিংসমেন। সেখান থেকে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সালমান। মোহাম্মদ সুলেমানের সঙ্গে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৮৫ রানের জুটি। এরপর সেঞ্চুরিকে ডাবল এবং ডাবল সেঞ্চুরিকে ট্রিপলে রূপ দেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
এই ম্যাচের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সালমানের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৬৯। ফলে একই ইনিংসে প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি পাওয়াটা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন।
ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন সালমান। কিন্তু হেডিংলিতে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে একাদশ থেকে বাদ পড়েন। এরপর তৃতীয় টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারের সঙ্গে তাকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে এমন ইনিংস যেন সালমানের নীরব জবাব। তার স্ত্রীও ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘মূল জায়গায় ফিরে যেতে কোনো সমস্যা নেই।’ সেই কথারই যেন বাস্তব প্রতিফলন ঘটালেন সালমান।
আইএন
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বয়স বাড়ছে, কিন্তু গোলের ক্ষুধা যেন কমছে না লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও ফুটবল মাঠে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন দুই মহাতারকা। একজন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মিয়ামির হয়ে, অন্যজন সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের জার্সিতে। চলতি সপ্তাহেও গোল করেছেন দু’জনই। তাতে মেসির ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯২৮, আর রোনালদো পৌঁছে গেছেন ৯৭৯ গোলে। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরেও মেসির ফুটবল-সাম্রাজ্য বিস্তৃত হচ্ছে। স্পেনে দ্বিতীয় একটি ক্লাবের মালিকানার পথে এগিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। সব মিলিয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ক্যারিয়ারে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়। গোলের সঙ্গে মেসির ক্লাব-সাম্রাজ্যও বাড়ছে ইন্টার মিয়ামির হয়ে চলতি সপ্তাহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। প্রথমটি শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে, পরেরটি ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দল ন্যাশভিলের বিপক্ষে। শিকাগোর বিপক্ষে ম্যাচে মিয়ামি প্রথমে পিছিয়ে পড়ে। নতুন তারকা রবার্ট লেওয়ানডস্কির দুর্দান্ত ফিনিশে এগিয়ে যায় ফায়ার। দ্বিতীয়ার্ধে মিয়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি নিজে গোল করে নয়, তার নিখুঁত কর্নার থেকে ক্যাসেমিরো হেডে গোল করে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ন্যাশভিলের বিপক্ষের ম্যাচে অবশ্য মেসিই হয়ে ওঠেন মূল আকর্ষণ। শুরুতেই স্যাম সারিজের গোলে পিছিয়ে পড়ে মিয়ামি। এরপর শুরু হয় মেসির জাদু। প্রথমে মেসির ভেতরের দিকে বাঁকানো কর্নার থেকে রিড বেকার-হোয়াইটিং নিজেদের জালে বল পাঠান। আত্মঘাতী গোল হওয়ায় সেটি মেসির অ্যাসিস্ট হিসেবে অবশ্য যোগ হয়নি। এরপর নিজেই গোলের চেষ্টা করেন মেসি। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে পরের সুযোগ আর নষ্ট করেননি ৩৯ বছর বয়সী তারকা। রদ্রিগো ডি পলের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁকানো শটে বল পাঠান দূরের পোস্টের কোণে। মেসির সেই চিরচেনা ফিনিশে ম্যাচে সমতায় ফেরে মায়ামি। তবে মেসির গোলের পরও জয় এলো না। গোল করার পরও থামেননি মেসি। লুইস সুয়ারেজের একটি প্রচেষ্টার পর পাওয়া রিবাউন্ড থেকে শট নিয়ে পোস্টে আঘাত করেন তিনি। সেই আক্রমণের শুরুটাও হয়েছিল মেসির পাস থেকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জয়ের দারুণ সুযোগও পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সুয়ারেজের পাসে একেবারে একা গোলরক্ষকের সামনে চলে যান তিনি। গোলরক্ষক ব্রায়ান শভাকেকে কাটিয়েও ফেলেছিলেন মেসি। কিন্তু গোলমুখে তার শট অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন ন্যাশভিলের ডিফেন্ডার জেইসন পালাসিওস। গোললাইন থেকে সেই প্রতিরোধে নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় ন্যাশভিল। আর সেই সুযোগ নষ্ট করার খেসারতও দিতে হয়েছে মিয়ামিকে। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও গোল করেন সারিজ। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ২-২ সমতায়। এই ড্রয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিয়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা নয় পয়েন্ট পিছিয়ে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা শার্লট এফসি ও নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে মায়ামি। ৯২৮ গোল মেসির ন্যাশভিলের বিপক্ষে গোলটি যোগ হয়েছে মেসির বিশাল গোলসংখ্যায়। চলতি সপ্তাহে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট যোগ করে তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ৯২৮ গোল ও ৪২৩ অ্যাসিস্টে। বয়স ৩৯ ছুঁয়েও মেসির পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ফুটবলবিশ্বকে বিস্মিত করে চলেছে। গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের গোল করানো, সুযোগ তৈরি এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এখনো তিনি মিয়ামির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। এরই মধ্যে মাঠের বাইরেও নিজের ফুটবল-ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন মেসি। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এলদেনসে নেওয়ার পথে এগিয়েছেন তিনি। এর আগে বার্সেলোনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব কর্নেইয়ার মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের পাশাপাশি স্প্যানিশ ফুটবলেও তার বিনিয়োগের পরিধি বাড়ছে। রোনালদোর ৯৭৯ মেসির মতোই চলতি সপ্তাহে গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। আল নাসরের হয়ে মঙ্গলবার আবহা এবং শনিবার আল খালিজের বিপক্ষে মাঠে নামেন পর্তুগিজ তারকা। আবহার বিপক্ষে শুরুতেই গোল করেন রোনালদো। অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের নেওয়া ভেতরের দিকে বাঁকানো কর্নারে উঁচুতে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন রোনালদো। দ্রুত ঘুরে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট লাগে দূরের পোস্টে। পরে গোললাইন থেকেও তার আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ডোনোভান লিওন ও আবহার অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। আল নাসরের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন আবদুল্লাহ আল হামদান। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচটি জেতে আল নাসর। তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় ম্যাচে আল খালিজের বিপক্ষে জয় পায়নি তারা। ওমর মাসকারেল ও আল হামদানের গোলের পর ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। রোনালদো গোলের একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে মার্কারকে পেছনে ফেলে কাছ থেকে হেড নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। গোলের মাইলফলকে রোনালদো এগিয়ে আল খালিজের বিপক্ষে গোল না পেলেও আবহার বিপক্ষে করা গোলটি রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যায় যোগ হয়েছে। চলতি সপ্তাহ শেষে তার গোল এখন ৯৭৯টি। সঙ্গে আছে ২৬১টি অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে মেসির গোলসংখ্যা ৯২৮, অ্যাসিস্ট ৪২৩। অর্থাৎ মোট গোলের হিসাবে রোনালদো এখন মেসির চেয়ে ৫১ গোলে এগিয়ে। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে মেসিই অনেক এগিয়ে। দুজনের বয়স, লিগ ও ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায় আলাদা হলেও ফুটবলবিশ্বে তাদের তুলনা এখনো শেষ হয়নি। বরং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়েও গোল করে চলার কারণে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। আইএইচএস/
এজবাস্টন টেস্টে হারার পর পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মাইক হেসন। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের সাদা বলের কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারার পর অন্তর্বর্তী কোচ হেসন জানান, পাকিস্তানের লাল বলের প্রতিভা তাকে আশাবাদী করছে। তৃতীয় টেস্ট শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসেই এই আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। মাইক হেসন বলেন, ‘অবশ্যই, আমি এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। আমি টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি। পাকিস্তানের ক্রিকেট ব্যবস্থায় যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে আমরা সামনে এগোতে পারি। অবশ্যই এক-দুই ম্যাচে এর ফল পাওয়া যাবে না। তবে এমন কিছু দক্ষ ক্রিকেটার আছে, যাদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি আমি অবশ্যই বিবেচনা করবো।’ লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হারার পর সরফরাজ আহমেদকে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করে পিসিবি। এরপরই লাল বলের কোচের অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পান তিনি। সপ্তাহ দুয়েকের কম সময় আগে এই দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। তখন হেসন জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের টেস্ট দলের স্থায়ী দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। টেস্ট দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই একই দায়িত্বের জন্য ইংল্যান্ডের সঙ্গে হেসনের যোগাযোগ হয়েছিল। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উত্তরসূরি খুঁজতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিল ইংল্যান্ড। তবে হেসনের ভাষ্য, সেই আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়েই থেমে যায়। শেষ পর্যন্ত স্টিফেন ফ্লেমিংকে দায়িত্ব দেয় ইংল্যান্ড। এর পর পাকিস্তানের হয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন হেসন। আগ্রহ প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব তিনি নেবেন কি না, সেটি পুরোপুরি তার হাতে নেই। পিসিবি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। হেসন বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কোনো চাকরির প্রস্তাব নিয়ে ভাবিইনি। দেশে ফেরার এক সপ্তাহ পরই এশিয়ান গেমস আছে। সাদা বলের ক্রিকেটে আপাতত সেটিই আমার মূল মনোযোগ। সময়টা এলে টেস্ট দল নিয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা হবে। নির্বাচকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবো।’ ভবিষ্যতে কী হবে বা সেটি যাই হোক, এই সপ্তাহে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিবেশে কিছু বিষয় নিয়ে সন্তুষ্ট হেসন। তিনি বলেন, ‘আমরা বার্মিংহামে পৌঁছানোর পর সবাই সামনে কী আছে, সেটি নিয়ে বেশ মনোযোগী ছিল। লর্ডসে যা ঘটেছিল, দলের কয়েকজন সম্ভবত আমার চেয়েও বেশি সময় ধরে সেটির মধ্য দিয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে, তারা বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে।’ পাকিস্তানের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ নভেম্বরে। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। আইএন
ছোটবেলার বন্ধুকেই শেষ বয়সে এসে সতীর্থ হিসেবে পেতে যাচ্ছেন নেইমার। সান্তোসে যোগ দিতে যাচ্ছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কৌতিনহো। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কৌতিনহোর ব্যাপারে ঘোষণা দেয়নি সন্তোস। যদিও ক্লাব সান্তোসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে পারলেন না নেইমার। বন্ধুর নতুন ঠিকানা যে সান্তোস- ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করে দিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। শুধু তাই নয়, ছোটবেলার বন্ধু ফিলিপে কৌতিনহোকে নতুন ক্লাবে স্বাগতও জানালেন তিনি। কৌতিনহোর সান্তোসে যোগ দেওয়ার খবরটি নেইমার নিজেই যেন ‘ফাঁস’ করে দিলেন। একটি ভিডিও পোস্ট করে বন্ধুকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আবেগঘন বার্তাও লিখেছেন ব্রাজিলের এই তারকা। ‘এটা যদি স্বপ্ন হয়, তাহলে আমি জেগে উঠতে চাই না’- কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে এমনই লিখেছেন নেইমার। দুই বন্ধুর সম্পর্ক অবশ্য আজকের নয়। কৈশোর থেকেই একে অপরকে চেনেন নেইমার ও কৌতিনহো। বয়সভিত্তিক ব্রাজিল দল থেকে শুরু করে পরে জাতীয় দলের সিনিয়র পর্যায়েও একসঙ্গে খেলেছেন তারা। তবে ক্লাব ফুটবলে এতদিন পর্যন্ত একই দলের জার্সিতে দেখা যায়নি দু’জনকে। এবার সেই অপেক্ষারও অবসান হতে যাচ্ছে। সান্তোসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন নেইমার। ভিডিওতে কৌতিনহোও বন্ধুকে ধন্যবাদ জানান। তার কথায় ইঙ্গিত মেলে, সান্তোসে আসার পেছনে নেইমারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অর্থাৎ শুধু একই ক্লাবে খেলার সুযোগ নয়, কৌতিনহোর সান্তোসে ফেরার পথ তৈরিতেও নেইমারের প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবার রূপ নিতে যাচ্ছে ক্লাব সতীর্থতায়। নেইমার ও কৌতিনহোর বন্ধুত্বের শুরু ব্রাজিলের যুব দলের সময় থেকে। বয়সভিত্তিক দলের হয়ে একসঙ্গে খেলার পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তারা বহু ম্যাচে পাশাপাশি ছিলেন। কখনো কখনো ক্লাব ফুটবলে একে অপরের প্রতিপক্ষও হয়েছেন। কিন্তু একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। ৩৪ বছর বয়সী কৌতিনহো সান্তোসে যোগ দিচ্ছেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে। ভাস্কো দা গামার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সান্তোসের সঙ্গে তার চুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন তিনি। সান্তোসের সঙ্গে কৌতিনহোর চুক্তিটি স্বল্পমেয়াদি হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই ক্লাবের পক্ষ থেকে তার আগমনের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিকতার আগেই নেইমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে খবরটি প্রকাশ্যে চলে আসে। বন্ধুর নতুন ক্লাবে আসার আনন্দ তাই আর ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। সান্তোসের ঘোষণা দেওয়ার আগেই তিনি নিজের মতো করে কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে দিলেন। আইএইচএস/