জাতীয়

২৫ কোটি টাকার যে কৃষি প্রকল্পে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয়

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
২৫ কোটি টাকার যে কৃষি প্রকল্পে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয়
২৫ কোটি টাকার যে কৃষি প্রকল্পে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয়

নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বছরব্যাপী ফসল উৎপাদন করতে রাজশাহী বিভাগের ১০২ জন চাষিকে ‘পলিনেট হাউস’ নির্মাণ করে দিয়েছিল কৃষি বিভাগ। একটি প্রকল্পের আওতায় তিন বছর আগে ওই হাউস নির্মাণ করার সময় চাষিদের বলা হয়েছিল, অসময়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলিয়ে তাঁরা লাভবান হবেন। কিন্তু তিন বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ পলিনেট হাউসে ফসল উৎপাদনই হচ্ছে না।

এরপরও কৃষি বিভাগের অনুষ্ঠানে সাফল্যের গল্প বানিয়ে বলতে হয়েছিল চাষিদের। ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি নিয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০২টি পলিনেট হাউস নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। আর প্রতিটি হাউস তৈরিতে গড়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা।

পলিনেট হাউস হলো বিশেষ পলিথিন, নেট ও লোহার কাঠামো দিয়ে তৈরি একধরনের ঘর। প্রতিকূল আবহাওয়া, পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে ফসল এবং চারা অনেকটাই সুরক্ষিত রেখে সারা বছর চাষাবাদের প্রযুক্তি রয়েছে এই ঘরে। এমনকি প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও সেচের ব্যবস্থাও এতে যুক্ত থাকে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যেসব চাষিকে পলিনেট হাউস তৈরি করে দিয়েছে সরকার, তাঁদের সবার সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি করেছে কৃষি বিভাগ। এ চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে পলিনেট হাউসের কোনো পরিবর্তন ও ধ্বংস করা যাবে না; কৃষক নিজ তাগিদে উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করবেন, কোনো মৌসুমে এই হাউস ফেলে রাখা যাবে না।

চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পলিনেট হাউস ক্ষতিগ্রস্ত হলে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চাষিকেই তা মেরামত করতে হবে। এই হাউসের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা হলে কিংবা হাউসটি ব্যবহৃত না হলে ব্যবস্থা নিতে পারবে কৃষি বিভাগ। সে ক্ষেত্রে পলিনেট হাউস নির্মাণের ব্যয় সাত দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে কৃষি বিভাগ।

নিজের জমি আছে এবং পলিনেট হাউস নিতে আগ্রহী এমন চাষিদের পলিনেট হাউস প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। এতে চাষির কোনো টাকা লাগেনি। পলিনেট করতে জমি লাগে এক বিঘা। তার মধ্যে ২৫ শতাংশের ওপরে নেট হাউস নির্মাণ করে দেওয়া হয়। বাকিটা চারপাশে ফাঁকা থাকে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ওপরে পলিথিন ও তার নিচে নেট থাকে। এতে ৬০ শতাংশ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর ‘মিক্সড ইরিগেশন’ যন্ত্রের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর জন্য মিস্ট পদ্ধতিতে কুয়াশার মতো করে পানি ছিটানো যায়। হাউসের তাপমাত্রা বাড়লে ১০ মিনিট পরপর মিস্ট পদ্ধতি চালু করতে হয়। তখন তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

এই পলিনেট হাউসে চাষযোগ্য ফসল হিসেবে ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি, স্কোয়াশ, স্ট্রবেরি, মেলন, শসা, কপি, বাঁধাকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, লেটুস ও চিনাশাক এবং গোলাপ, জারবেরা, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের কথা বলা হয়েছে।

চাষিরা বলছেন, যাঁরা আগে থেকে নার্সারিতে পেশাদার চারা উৎপাদনকারী ও ফুলচাষি ছিলেন, তাঁরা পলিনেট হাউসের থেকে সুবিধা পাচ্ছেন; কিন্তু কোনো চাষি অসময়ের সবজি চাষ করতে পারেননি। অনেকেই পরিত্যক্ত এই হাউসে আঙুরগাছ লাগিয়ে রেখেছেন। তাঁদের কেউ অন্য হাউসে ফলন হচ্ছে দেখে আঙুরগাছ লাগিয়েছেন, কেউ আবার কিছু একটা লাগাতে হবে বলে আঙুর লাগিয়ে রেখেছেন।

চাষিরা অভিযোগ করেছেন, পলিনেট হাউস নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে তা টেকসই হয়নি। একই কারণে হাউসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কৃষকেরা পরামর্শ না মানায় সফলতা পাননি।

মাঠে–মাঠে ব্যর্থতার গল্প

১০২টি পলিনেট হাউসের মধ্যে রাজশাহী জেলায় ২২টি, নাটোরে ২৯টি, নওগাঁয় ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬টি, পাবনায় ১৭টি, জয়পুরহাটে ৬টি, বগুড়ায় ১১ ও সিরাজগঞ্জে ৪টি রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় হর্টিকালচার সেন্টারে আরও ৯টি পলিনেট হাউস করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঝড়ে ছিঁড়ে গেছে কৃষক মর্তুজা আহমেদের পলিনেট হাউস। ভেতরে কোনো ফসল হচ্ছে না। এখন এক পাশে আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন। ৩১ আগস্ট রাজশাহীর পবার বড়গাছি গ্রামে

কৃষি বিভাগের কাছ থেকে পলিনেট হাউস পেয়েছেন, এমন ১৬ জনের সঙ্গে গত আগস্ট মাসে কথা বলেছে প্রথম আলো। এর মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার তিনজন, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দুজন, চারঘাট উপজেলার একজন, পবা উপজেলার তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার দুজন, নওগাঁর মান্দার একজন, রানীনগরের একজন ও সদর উপজেলার একজন। এ ছাড়া বগুড়া সদরের একজন ও জয়পুরহাট সদরের একজন রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনই বলেছেন, এই হাউস চাষ করে তাঁরা বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে আছেন। তবে ছয়জন বলেছেন, তাঁদের লোকসান হয়নি। এই ছয়জনের মধ্যে চারজন চারা উৎপাদনে, একজন আঙুর চাষে ও একজন ফুল চাষে সফলতা পাওয়ার কথা বলেছেন।

এই প্রতিবেদক সরেজমিন সাতটি পলিনেট হাউস ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে রয়েছে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার তিনটি, রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার দুটি, পবা উপজেলার দুটি হাউস। এর মধ্যে চারটি হাউসের পলিথিন ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। একটির পলিথিন সম্পূর্ণ খুলে ফেলা হয়েছে।

পলিনেট হাউসে ‘মিক্সড ইরিগেশন সিস্টেম’ রয়েছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর জন্য মিস্ট পদ্ধতিতে কুয়াশার মতো করে পানি ছিটানো যায়। আবার ‘ড্রিপ পদ্ধতি’তে গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পানি দেওয়া যায়।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বখতারপুর গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, পলিনেট হাউসে চাষ না করে ওই জমি ইজারা দিলে বছরে এক লাখ টাকা পেতেন।  
গত ৩০ আগস্ট বখতারপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পলিনেট হাউসে কোনো পলিথিন নেই। শুধু কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। এর ভেতরে এখন পটোল চাষ করেছেন নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম বলেন, হাউসের ভেতরে যা কিছু চাষের চেষ্টা করেছেন, তার কোনোটাই হয়নি। উল্টো বছর বছর জমির ইজারামূল্য দিতে হচ্ছে। ভেতরে তাপমাত্রা এত বেশি যে কোনো কর্মচারী কাজ করতে চান না। বাধ্য হয়ে হাউসের পলিথিন খুলেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামে শাহিনুজ্জামানের পলিনেট হাউসে গিয়ে দেখা যায়, তিনি গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। আগস্টের শুরুর দিকে চারা লাগিয়েছেন। দু–একটি গাছের মাথা দেখা যাচ্ছে। এর আগে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি করলা লাগিয়েছেন। গাছ ভালো হয়নি। দু–একটি লতায় করলা দেখা যায়। কিছুই হচ্ছে না দেখে হাউসের এক পাশে আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন।

কৃষক শাহিনুজ্জামান গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও করলা চাষ করে সফলতা পাননি। পলিনেট হাউস নিয়ে এখন তিনি হতাশ। গত ৩০ আগস্ট পাবনার ঈশ্বরদীর মহাদেবপুর গ্রামে

মহাদেবপুরের পাশের গ্রাম জগন্নাথপুরে বেলি বেগমের হাউসে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে পালংশাক ও টমেটো চাষ করা হয়েছে; কিন্তু চেহারা একেবারেই খারাপ। এক পাশের পলিথিন খুলে দেওয়া হয়েছে। সেদিকের শাকের চেহারা একটু ভালো হয়েছে।
রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি গ্রামের মর্তুজা আহমেদের হাউসে গিয়ে দেখা যায়, পলিথিন ছিঁড়ে গেছে। বাতাসের কারণে ভেতরে পতপত শব্দ হচ্ছে। কোনো ফসল করতে না পেরে তিনি হাউসের এক পাশে আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এই হাউসে কোনো ফসল চাষ করে এক টাকাও লাভ করতে পারেননি; বরং ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

যেসব সমস্যায় কৃষকেরা

কৃষকেরা বলছেন, পলিনেট হাউস পরিচালনার জন্য তাঁদের কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। তবে হাউস স্থাপনের এক বছর পর একবার (পাবনার হর্টিকালচার সেন্টার) এবং দুই বছর পর আরেকবার (নিটোর হর্টিকালচার সেন্টার) অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানে কী কী ভুল হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার হয়। কয়েকজন কৃষিবিশেষজ্ঞ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর বাইরে তাঁদের আর কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বেতগাড়ি এলাকার চাষি মাসুদ রানা পলিনেট হাউস করে ১০ লাখ টাকা লোকসান গুনেছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এক বছর পরের অভিজ্ঞতা নিয়ে পাবনায় হর্টিকালচার সেন্টারে একটা সভা হয়। সেখানে এক বিশেষজ্ঞ এসেছিলেন। ব্যর্থতার কথা শুনে বিদেশি একটি কোম্পানির বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

মাসুদ রানা বলেন, দামের কথা শুনে উপস্থিত চাষিরা সেই বীজ নিতে সাহস করেননি। শুধু তিনি এক লাখ টাকায় ক্যাপসিকাম ও টমেটোর বীজ নিয়েছিলেন। সেটি চাষ করতে আরও তিন লাখ টাকা খরচ হয়। উৎপাদন শেষে দেখা গেল বাইরে চাষ করলে যে ফলন হতো, তার অর্ধেকও হয়নি।

মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, যে মেকানিকেরা (কারিগর) পলিনেট হাউস নির্মাণ করতে এসেছিলেন, তাঁরা বলেছিলেন অন্তত ২০০ মাইক্রোনের (ঘনত্ব) পলিথিন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেওয়া হয় ১০০ মাইক্রোনের কম। এটিসহ অন্যান্য ত্রুটির কারণে সফলতা আসেনি বলে মনে করেন তিনি।

নওগাঁ সদরের আরেক চাষি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘দুই নম্বর জিনিস দিয়ে এটা বানাইয়ে দিয়েছে। ছিঁড়ে যাচ্ছে। এখন শুধু দেখানোর জন্য আঙুর লাগিয়ে রেখেছেন। যাতে বলা যাবে কিছু একটা হচ্ছে।’

পলিনেট হাউসের মধ্যে ‘স্প্রিঙ্কলার’ নামে একটি সেচযন্ত্র রয়েছে। এর মাধ্যমে পানি সেচ দেওয়া যায়; আবার তরল সার ও কীটনাশকও ছিটানো যায়। আরেকটি আছে ‘মিক্সড ইরিগেশন সিস্টেম’। এই যন্ত্রের মাধ্যমে তাপমাত্রা কমানোর জন্য মিস্ট পদ্ধতিতে কুয়াশার মতো করে পানি ছিটানো যায়। আবার ‘ড্রিপ পদ্ধতি’তে গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পানি দেওয়া যায়।

জানা গেছে, বেশির ভাগ পলিনেট হাউসের মিক্সড ইরিগেশন মেশিন সচল নেই। প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চাষিরা এই মিক্সড ইরিগেশন মেশিন ব্যবহার না করে ফেলে রেখেছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিতে মাত্রা অতিরিক্ত আয়রন থাকার কারণে এবং খর পানি হওয়ার কারণেও এ যন্ত্রগুলো নষ্ট হয়েছে।

বেশির ভাগ পলিনেট হাউসের মিক্সড ইরিগেশন মেশিন সচল নেই। ৩১ আগস্ট রাজশাহীর পবার বড়গাছি গ্রামে

তবে কৃষকেরা বলছেন, মিক্সড ইরিগেশন পদ্ধতি সারাক্ষণ চালু না রাখলে ঘর ঠান্ডা হয় না। আর বেশি চালালে ভেতরে আদ্র৴তা বেড়ে যায়। তখন ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দেয়। এক বছর যেতে না যেতেই সব মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। প্রকল্প থেকে মেরামত করার করে দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি।

চারা উৎপাদন ও ফুল চাষে কিছু সাফল্য

কৃষকেরা বলছেন, যাঁরা পেশাদার চারা উৎপাদন করেন, পলিনেট হাউসে তাঁদের সুবিধা হয়েছে। তাঁরা আগে থেকেই পলিথিনের শেড তৈরি করে তার মধ্যে চারা তৈরি করতেন। এটা পেয়ে তাঁদের ওই শেড তৈরি করতে হচ্ছে না; আর যাঁরা পেশাদার ফুল চাষি, তাঁদেরও সুবিধা হচ্ছে।

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ইলিয়াস শেখ একজন চারা উৎপাদনকারী। তিনি এই পলিনেটে মুনাফা করতে পেরেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষি সাদিকুল ইসলামও বলেছেন, ফুল চাষ করে তিনি সফলতা পেয়েছেন। হাউসে তিনি জারবেরা ফুলের চাষ করেছেন।

চারঘাটের ইউসুফপুর গ্রামের চাষি মনোয়ার হোসেন নেট হাউসে বিভিন্ন চারা উৎপাদন করছেন। কৃষি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সফল হয়েছেন। অবশ্য মনোয়ার হোসেন বলছেন, তিনি করলা ও রক মেলন চাষ করে দেখেছেন। ভালো হয়নি। আঙুরের গাছ লাগিয়েছেন। তাতে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাঁর মনে হয়েছে এখানে ফসল হিসেবে চাষ করলে একমাত্র আঙুর হতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চাষি সাদিকুল ইসলাম পলিনেট হাউসে জারবেরা ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন বলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রচার করা হচ্ছে। যদিও পলিনেট হাউসের মান নিয়ে অসন্তুষ্ট সাদিকুল। বৃহস্পতিবার উপজেলার বেলখরিয়া গ্রামে

জয়পুরহাট সদর এলাকার চাষি আমিনুল ইসলাম পলিনেট হাউসে ক্যাকটাসসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল-ফলের চারা করে লাভবান হয়েছেন। নিজেকে শৌখিন চাষি দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর মতো অভিজ্ঞতা কারও নেই। পলিনেট হাউসে চাষের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নিজ খরচে ভারতে গেছেন।

আমিনুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাটের পলিনেট হাউসে চাষ করে তিনি ছাড়া আর কেউ ভালো করতে পারেননি। এই হাউসে চাষ করা তাঁর একটা ক্যাকটাসের দামই ২০ হাজার টাকা।

দুই বছরের বেশি সময় পলিনেট হাউসগুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হাউসের ৮০ শতাংশ এলাকায় চারা উৎপাদন হবে। বাকি এলাকায় আঙুর, ক্যাপসিকাম, গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও জারবেরা ফুল চাষ করা সম্ভব। পলিনেট হাউসে চারা উৎপাদন ও চাষাবাদের বিষয়ে চাষিদের নির্দেশিকা দেওয়া রয়েছে।

সফলতার গল্প বানিয়ে বলতে হয়

নওগাঁরর এক চাষি পলিনেট হাউসে গত তিন বছরে ২৮ রকমের ফসল উৎপাদনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটিতেও সফল হতে পারেননি।

এই চাষি (নাম প্রকাশ করতে চাননি) প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্প শুরু হওয়ার এক বছর পর কৃষি বিভাগের উদ্যোগে পাবনার হর্টিকালচার সেন্টারে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সবাইকে বানিয়ে সফলতার গল্প বলতে বাধ্য করা হয়। চাষিরা যাতে সফলতার কথা বলেন, তা নজরদারি করার জন্য সেখানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কড়া পাহারায় ছিলেন। কিন্তু কথায়–কথায় একজন চাষি মুখ ফসকে সত্য কথা বলে ফেলেন, তারপর সবাই তাঁদের ব্যর্থতার গল্প ফাঁস করে দেন। তখন একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছিল।

দুই বছর আগে চাষিদের নিয়ে নাটোরে একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়। সেখানে রাজশাহী, বগুড়া, নওগাঁ, নাটোরে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও পাবনার চাষিরা ছিলেন। তখন কয়েকজন চাষির সই করা এটি আবেদন প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে, পলিনেট হাউস ব্যবহারের অনুপযোগী। এটা ঠিক করে এতে উপযুক্ত বীজ সরবরাহ করতে হবে।

ওই প্রশিক্ষণে বগুড়া সদরের একজন চাষিকে কৃষি বিভাগ সফল বলে প্রচার করন। তাঁর (নাম প্রকাশ করতে চাননি) সঙ্গে ২ সেপ্টেম্বর মুঠোফোনে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, এটা এখন লোকদেখানো প্রকল্প হয়ে গেছে। এটি কর্তৃপক্ষও জানে।

আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পটি মোট ১৮৭ কোটি টাকার। এর আওতায় পলিনেট হাউসের পাশাপাশি ১০ হাজার ৭৩৩টি কৃষি যন্ত্রপাতি ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভুট্টামাড়াই মেশিন, স্প্রে মেশিন, গার্ডেন টিলার ইত্যাদি। প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষিপ্রযুক্তি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া এ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া ও রাজশাহীতে কৃষি বিভাগের জন্য সাড়ে ১১ হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভবন চারতলার। তবে হয়েছে তিনতলা পর্যন্ত। দুটি ভবনের নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ১১ কোটি টাকা।

কৃষকের পাশে কেউ নেই

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছিলেন, পাঁচ বছরে পলিনেট হাউসের কোনো সমস্যা হলে সরকার থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে। তারপর বলা হলো তিন বছর। শেষে দেখা গেল এক বছরের মাথায় কৃষকের পাশে আর কেউ নেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান প্রকল্পটির (আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকেরা পরিশ্রম করতে চান না। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন না। এ জন্য সফল হয় না।

পলিনেট হাউসে অন্য ফসল চাষে ব্যর্থ হয়ে আঙুর চাষ করেছেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার চাষি মাসুদ রানা। সম্প্রতি উপজেলার বেতগাড়ি গ্রামে

চাষিদের করা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে হাসানুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের চাষিরা সবাই অস্থির। কাউকে জোর করে পলিনেট হাউস দেওয়া হয়নি। আঙুরের জন্য এটা টেকসই একটা প্রযুক্তি। এখন চাষিদের আঙুর চাষ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।’

আঙুর তো খালি পরিবেশেও হচ্ছে, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে হাসানুজ্জামান বলেন, বাইরের চেয়ে ভেতরে (হাউস) ভালো হচ্ছে। ভেতরে দুবার ফলন হবে। চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যাঁরা বিশেষজ্ঞ আছেন, তাঁদের দিয়ে প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে। জারবেরা ফুল দারুণ হচ্ছে। যাঁরা করছেন, লাভবান হচ্ছেন।
রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ কত বছর ছিল—জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক হাসানুজ্জামান বলেন, পাঁচ বছরের প্রকল্প। ঠিকাদার এক বছর বিনা মূল্যে সার্ভিস দেবেন। পলিথিন ছিঁড়ে গেলে তিন বছর ঠিক করে দেওয়া হবে। সেই সময় পার হওয়ায় এখন চাষিরা নিজেরাই চালাবেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার দারুশা গ্রামের চাষি সারোয়ার হোসাইনের পলিনেট হাউস ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামত করতে তাঁর ৭০-৮০ হাজার টাকা লাগবে। একাধিকবার উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করতে গিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, নিম্নমানের পলিনেট হাউসের কারণেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ফসলও হয় না। এ অবস্থায় অতিরিক্ত ব্যয় করে তাঁর পক্ষে এই পলিনেট হাউস মেরামত করা সম্ভব নয়।

সরকারি খরচে হাউসটি মেরামত করে দেওয়ার জন্য প্রকল্প পরিচালক বরাবর গত ২৯ জুন আবেদন জানিয়েছেন। এখনো সাড়া পাননি জানিয়ে সারোয়ার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আবার আবেদন করবেন।

প্রকল্পটির বিষয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. আহসানুল হক প্রথম আলোকে বলেন, শীতপ্রধান দেশে ঠান্ডার প্রকোপ থেকে ফসল রক্ষায় পলিনেট বা গ্রিনহাউসে চাষাবাদ স্বাভাবিক। তবে গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশে এ ধরনের হাউস করতে হলে ভেতরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল ফসলের উপযোগী রাখতে হয়। একেকটি ফসলের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকা দরকার। কিন্তু দেশের পলিনেট হাউসগুলোতে সব ফসলের জন্য প্রায় একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যে কারণে প্রকল্পটি সফল হচ্ছে না।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আজ যে দামে কিনতে পারবেন সোনা-রুপার গহনা
আজ যে দামে কিনতে পারবেন সোনা-রুপার গহনা

দেশের বাজারে দু-একদিন পরপরই বাড়ে-কমে সোনা-রুপার গহনার দাম। সর্বশেষ গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সোনার গহনার দাম কমানো হয়। নতুন দাম নির্ধারণ না হওয়ায় আগের দামেই সোনার গহনা ও রুপার গহনা বিক্রি হবে। ওই দিন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয় ১ হাজার ১০৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। বর্তমানে এই দামেই বাজারে সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে। আর ভালো মানের রুপার গহনার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকার ওপরে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ওয়েবসাইটেও এ তথ্য দেওয়া আছে। আরও পড়ুন বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে, ভরি কত? বাজুস নির্ধারণ করা দর অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা। অন্যদিকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হচ্ছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিএ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
স্মার্টওয়াচে দেখানো হার্ট রেট-ক্যালরি, সব তথ্য কি নির্ভুল?

স্মার্টওয়াচে দেখানো হার্ট রেট-ক্যালরি, সব তথ্য কি নির্ভুল?

নামী ব্র্যান্ডের পণ্যে পোকা পেলেন অভিনেত্রী

নামী ব্র্যান্ডের পণ্যে পোকা পেলেন অভিনেত্রী

পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান করছে, বলছেন নাসের হুসেইন

পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান করছে, বলছেন নাসের হুসেইন

আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না
আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না

নির্জন নাহুয়েলগ্যাংস্টার, ফিরব বলে, তাঁহার খোঁজে অচিনপুরে, অভিমান, আস্কারা—একের পর এক জনপ্রিয় নাটক দিয়ে তরুণ দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন নির্জন নাহুয়েল। তাঁর এক দশকের পথচলার গল্প শোনাচ্ছেন মনজুরুল আলমমাসে খুব বেশি দিন শুটিং করেন না নির্জন নাহুয়েল। ১২ থেকে ১৬ দিন ক্যামেরার সামনে আসেন। প্রতিটি নাটকের জন্য রাখেন তিন থেকে চার দিন। ফলে হাতে অনেক অবসর থাকার কথা। কিন্তু তারপরও নির্জন নাহুয়েলকে ফোনে পাওয়া একটু কঠিন। কারণ, শুটিংয়ের বাইরের প্রায় পুরো সময়টাই চিত্রনাট্য লেখায় চলে যায়। নির্জন বলেন, ‘আমার প্রায় ৯০ শতাংশ নাটকের চিত্রনাট্যই নিজের লেখা। শুটিংয়ের বাইরে পুরো সময় আমি চিত্রনাট্য লিখি। এখানে অনেক সময় চলে যায়।’নির্জন নাহুয়েলশুধু অভিনয় বা লেখালেখি নয়, পরিচালনার অভিজ্ঞতাও নির্জনের রয়েছে। আসলে নির্মাণ দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। প্রায় এক দশক আগে, ২০১৬ সালে শুরু হয় এই যাত্রা। তখন বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতেন। সেসব কনটেন্ট তৈরির প্রায় সব দায়িত্ব একাই সামলাতেন। এসব কাজের মধ্য দিয়েই পরিচালনা, সম্পাদনা ও কালারের মতো বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করেছেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।পরিচালক থেকে অভিনেতা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে নির্জন বলেন, ‘আমার পছন্দের কাজ ছিল সম্পাদনা। সম্পাদক হতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকে পরিচালক হয়ে গেলাম, পরে অভিনয়ে নাম লেখালাম।’ ২০২২ সাল থেকে নিয়মিত অভিনয় করছেন, ‘ভবিষ্যতে শিল্পের অন্য কোনো দিক ভালো লাগলে হয়তো সেদিকে চলে যাব।’নির্জন নাহুয়েলভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি পরিকল্পনা করেন না নির্জন। তাঁর উপলব্ধি, ‘আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না। পরিকল্পনা করে অনেক কিছুই করতে চেয়েছি, কিন্তু সেগুলো থেকে ভালো কিছু হয়নি। আবার পরিকল্পনা না করেও অনেক ভালো কিছু পেয়েছি। এ কারণে এখন যেটা ভালো লাগছে, সেটাই করব।’নির্জনের বেশির ভাগ নাটকই অল্প সময়ের মধ্যে ৫০ লাখ ভিউয়ের মাইলফলক ছুঁয়েছে। অভিমান ও আসকারা নাটকের ভিউ তো তিন কোটির বেশি। এই সাফল্যের পেছনে দর্শকের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় কারণ মনে করেন নির্জন, ‘একশ্রেণির দর্শক নিয়মিত আমার নাটক দেখেন। এটাও শুনি, অনেকে আমার নতুন নাটকের জন্য অপেক্ষা করেন।’ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে কাজের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও মানের সঙ্গে আপস করতে চান না নির্জন, ‘চাইলে বেশি কাজ করতে পারি, বেশি কাজ করতেও চাই। কিন্তু যে কাজটি করব, সেটি ভালোভাবে ও সময় নিয়ে করতে চাই। আমার অভিনীত নাটকের গল্প, চরিত্র, ফ্রেমিং ও উপস্থাপনা দেখলেই বোঝা যাবে, কাজ নিয়ে আমি কতটা সিরিয়াস।’বিরতির পর যেভাবে ফিরছেন অপূর্ব-নীহা জুটিনির্জন নাহুয়েলনির্জনের নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য অ্যাকশন। নির্জন বলেন, ‘কনটেন্ট তৈরি করার সময় থেকেই ভাবতাম, নাটকের মধ্যেই কীভাবে সিনেম্যাটিক অনুভূতি দেওয়া যায়। সেখানে আবেগ থাকবে, অ্যাকশনও থাকবে। সব মিলিয়ে দর্শক বাণিজ্যিক বিনোদনের স্বাদ পাবেন। হয়তো এই জায়গায় কিছুটা সফল হয়েছি বলেই দর্শক আমার নাটক দেখেন।’জুটিপ্রথা বিষয়ে নির্জন বলেন, ‘জুটি হিসেবে দর্শক পছন্দ করায় অনেক পরিচালক ঘুরেফিরে একই শিল্পীদের নেন। কখনো তাঁরা আমার পরামর্শ চান, তবে বেশির ভাগ সময় সিদ্ধান্তটা তাঁদের ওপরই ছেড়ে দিই।’শোবিজ দুনিয়ায় এক দশকের যাত্রা বিষয়ে নির্জনের মূল্যায়ন, ‘অপ্রাপ্তি খুব একটা নেই। সবাই ভালোবাসেন। একসময় পরিবার হয়তো বলত, এসব বন্ধ করে আগে স্নাতক শেষ করো। এখন তাঁরাও আমাকে সমর্থন করেন। বাইরে বের হলে দর্শকেরা বলেন, “আপনার সব কাজ দেখি, আপনার অভিনয় ও সংলাপ ভালো লাগে।” এগুলোই তো অর্জন। দর্শকের এই ভালোবাসা আমাকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে।’

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবাসী যুবক নিহত

এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবাসী যুবক নিহত

সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরানের সেনাবাহিনী: কমান্ডার

সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরানের সেনাবাহিনী: কমান্ডার

বটগাছ যেভাবে ‘হাঁটে'

বটগাছ যেভাবে ‘হাঁটে'

খেলা শেষেই কোচের পদত্যাগ, ক্লাব সভাপতি বললেন, যত দিন আছি তিনিই কোচ
খেলা শেষেই কোচের পদত্যাগ, ক্লাব সভাপতি বললেন, যত দিন আছি তিনিই কোচ

আর্চি ব্রাউনের মুখের চাহনিই সব বলে দিচ্ছিল। বোঝাই যাচ্ছিল, এমন কিছু শোনার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।ইস্তাম্বুলে ম্যাচ শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। ঘরের মাঠে এএস রোমার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ফেনেরবাচে। তুর্কি ক্লাবটির সমতাসূচক গোলটি ইংলিশ ডিফেন্ডার ব্রাউনের। রোমা গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ চিপে করা গোল। মিক্সড জোনে দাঁড়িয়ে ব্রাউন হয়তো ভেবেছিলেন, প্রথম প্রশ্নটাই হবে তাঁর গোলটি কিংবা ম্যাচসেরা হওয়া নিয়ে।কিন্তু সেসবে না গিয়ে তাৎক্ষণিক এক খবরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় ব্রাউনের কাছে। খবরটি হলো ফেনেরবাচে কোচের পদ ছেড়েছেন ইসমাইল কারতাল। ভাষান্তরিত প্রশ্নটি শুনে পুরোপুরি হতবাক হয়ে যান ব্রাউন। দলের কোচ পদত্যাগ করেছেন কিন্তু তিনি কিছুই জানেন না!চোখেমুখে বিস্ময় ফুটিয়ে ব্রাউন পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘বলেন কী, তিনি পদত্যাগ করেছেন? আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’ব্রাউন কিছুই জানতেন না। এমন কিছু যে ঘটতে যাচ্ছে, সে আভাসও ছিল না তাঁর কাছে। অথচ কিছুক্ষণ আগেই ফেনেরবাচের ইতিহাসে প্রথম তুর্কি কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে পয়েন্ট অর্জন করেছেন কারতাল। দলের খেলা সমর্থকদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট না করলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ ভালোই খেলে ফেনেরবাচে।সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে কারতাল নিজেই বলেছেন, ‘এটি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্য এক ফুটবল প্রদর্শনী। আমি আমার খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাতে চাই।’ কিন্তু তখন পর্যন্তও কেউ ভাবতে পারেননি, যে ক্লাবে কারতাল এক সময় খেলেছেন, সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন, সেই ক্লাবের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেবেন।ফেনেরবাচে সভাপতি আজিজ ইলদিরিমকারতাল প্রথমে ক্লাব সভাপতির প্রশংসা করে বলেন, ‘এখানে তিন মাস হলো আছি। মৌসুমের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে করা ট্রেনিং সেশন, ক্যাম্প ও আমাদের ক্লাবের সভাপতির প্রচেষ্টা অত্যন্ত সহায়ক ছিল। দিনগুলো দারুণ কেটেছে।’ এরপরই আসে কোচের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা, ‘নিজের পদ থেকে আমি সরে দাঁড়াচ্ছি। ক্লাবের জন্য নতুন পথ উন্মুক্ত করতেই এ সিদ্ধান্ত। আমরা পুরো কোচিং স্টাফ মিলে যৌথভাবে সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। ফেনেরবাচে, আমার খেলোয়াড় ও ভবিষ্যৎ কোচদের সুবিধার্থে আমি পদত্যাগ করেছি—আর কখনো না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে।’চলতি বছর জুনে চতুর্থ মেয়াদে ফেনেরবাচের কোচের দায়িত্বে ফেরেন ৬৫ বছর বয়সী কারতাল । তাঁর হাত ধরেই ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরে ক্লাবটি। তুর্কি সুপার লিগে দুই জয় ও দুই হারে দল টেবিলের ৯ নম্বরে থাকা অবস্থায় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের মাত্র একটি ম্যাচ পরই কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি।তবে ৬৫ বছর বয়সী কারতালের পদত্যাগ মেনে নেননি ফেনেরবাচে সভাপতি আজিজ ইলদিরিম।ক্লাবটির ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে ইলদিরিম বলেন, ‘ইসমাইল কারতাল এখনো দায়িত্বে আছেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষের উচিত আমাদের কোচকে সমর্থন করা। আমি যত দিন আছি, তত দিন ইসমাইল কারতালই ফেনেরবাচের প্রধান কোচ।’ফেনেরবাচে সভাপতি আজিজ ইলদিরিমইসমাইল কারতালের নিজে থেকে বলার প্রয়োজন নেই যে তিনি থাকবেন। আমি তাঁর বড়, আমি বলেছি তিনি থাকবেন—ব্যস, এটাই শেষ কথা। আমরা একটি পরিবার।ইলদিরিম নিশ্চিত করেন যে সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি কারতালের সঙ্গে কথা বলেছেন। তীব্র মানসিক ‘চাপ’ ও খেলা চলাকালে গ্যালারি থেকে ছোড়া বোতলের আঘাতে আহত হওয়ার ঘটনা তাঁকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেনেরবাচে জানিয়েছে, বোতল ছোড়ার ঘটনায় জড়িত দর্শককে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।প্রত্যাবর্তনে ইউনাইটেডের বড় জয়, বায়ার্নেরও গোল–উৎসব, কোমোর স্মরণীয় অভিষেকসমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন ইলদিরিম। ক্রমাগত সমালোচনার মাধ্যমে যে মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে তা উল্লেখ করে দুই পক্ষকেই ‘ফেনেরবাচে পরিমণ্ডলের ভাবমূর্তি রক্ষা’ করা এবং কারতালের প্রতি আরও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।গোলের পর ফেনেরবাচে লেফট ব্যাক আর্চি ব্রাউনের উদ্‌যাপনকারতালের বিষয়ে আরও শক্ত অবস্থান নিয়ে ইলদিরিম বলেন, ‘ক্লাব পরিমণ্ডলের উচিত ইসমাইল কারতালকে সমর্থন করা। এভাবে আঘাত করে তো সমর্থন জানানো যায় না। ইসমাইল কারতালের নিজে থেকে বলার প্রয়োজন নেই যে তিনি থাকবেন। আমি তাঁর বড়, আমি বলেছি তিনি থাকবেন—ব্যস, এটাই শেষ কথা। আমরা একটি পরিবার।’এর আগে সহকারী কোচ হিসেবে চার বছর কাটানোর পর ২০১৪ সালে ফেনেরবাচের প্রধান কোচ হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে তুর্কি সুপার কাপ জেতেন কারতাল। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব পালন করেন সাবেক এ রাইটব্যাক। খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবটির হয়ে দুটি লিগ শিরোপাসহ মোট ছয়টি ট্রফি জিতেছিলেন কারতাল।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
পাজামা পার্টি ফিরিয়ে আনতে পারে আপনার কৈশোরের আনন্দ

পাজামা পার্টি ফিরিয়ে আনতে পারে আপনার কৈশোরের আনন্দ

ছিনতাই!

ছিনতাই!

বন্যার পর নীরব স্কুল, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিশুদের স্মৃতি

বন্যার পর নীরব স্কুল, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিশুদের স্মৃতি

0 Comments