সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ঢেউটিন ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পিপিআর লঙ্ঘনের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে বিএমটিএফ (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) নিজেরা উৎপাদিত ঢেউটিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে সরবরাহ করবে। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কার্যাদেশ নিয়েছে বিএমটিএফ। কিন্তু আদতে তা তারা উৎপাদন করেনি।
টিকে গ্রুপ থেকে ঢেউটিন কিনে এনে তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে সরবরাহ করেছে। এতে পিপিআর লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির কারণে দর প্রতিযোগিতার কোনো সুযোগ ছিল না। টেউটিনের দাম ধরা হয়েছে বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি সরকারের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ভ্যাটও ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেটে ঢেউটিন খাতে বরাদ্দ ছিল ৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্য থেকে সর্বশেষ ৩৪ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮শ’ টাকার ঢেউটিন কেনা হয়। পাঁচটি প্যাকেজের টেন্ডার আইডি-তে ঢেউটিনগুলো কেনা হয়। পিপিআর অনুযায়ী, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিজেরা পণ্য উৎপাদন করে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য কেনা যাবে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড নিজেরা ঢেউটিন উৎপাদন করে এবং নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন তারা সরবরাহ করবে- এ অঙ্গীকারনামায় প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে।
ঢেউটিনগুলোর ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮শ’ টাকা করে। বাজারদরের চেয়ে এই মূল্য অনেক বেশি, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট। বাজারে সর্বোচ্চ মানের ঢেউটিন প্রতি মেট্রিক টন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি। ত্রাণের ঢেউটিন কখনোই ভালো মানের কেনা হয় না, এটা সবারই জানা কথা। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সরবরাহ করা এই ঢেউটিনগুলোও সরেজমিন পরিদর্শনে নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তেজগাঁও সিএসডিস্থ কেন্দ্রীয় ত্রাণ গুদাম পরিদর্শনে আরও ভয়াবহ রকমের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। তা হলো, প্রত্যেকটি ঢেউটিনের গায়ে ‘টিকে’ কোম্পানির সিল রয়েছে। অর্থাৎ ‘টিকে’ কোম্পানির উৎপাদিত ঢেউটিন এগুলো। বিএমটিএফ নিজেরা উৎপাদন করেনি বা নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন সরবরাহ করেনি।
অবাক ব্যাপার হলো, ঢেউটিন সরবরাহের কাজে এ রকমের জাল-জালিয়াতি তো করা হয়েছেই, এমনকি নিজেদের উৎপাদিত পণ্য- একথা দাবি করে সরকারের ভ্যাটও ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে সরকারকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার কথা। কিন্তু বিএমটিএফ (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) নিজেদের উৎপাদিত পণ্য- দাবি করে ১০ শতাংশ ছাড় পেয়েছে। পরিশোধ করেছে মাত্র ৫ শতাংশ ভ্যাট।
মোট ৩৪ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮শ’ টাকার ভ্যাট ১০ শতাংশের হারে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিএমটিএফ’র এমন কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক ও বড় ধরনের অনিয়ম বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন। বিএমটিএফ যে নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন সরবরাহ করছে না, একথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের শীর্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সবাই জানেন। জেনে বুঝেই তারা এমন অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ঢেউটিন ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পিপিআর লঙ্ঘনের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে বিএমটিএফ (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) নিজেরা উৎপাদিত ঢেউটিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে সরবরাহ করবে। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কার্যাদেশ নিয়েছে বিএমটিএফ। কিন্তু আদতে তা তারা উৎপাদন করেনি। টিকে গ্রুপ থেকে ঢেউটিন কিনে এনে তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে সরবরাহ করেছে। এতে পিপিআর লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির কারণে দর প্রতিযোগিতার কোনো সুযোগ ছিল না। টেউটিনের দাম ধরা হয়েছে বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি সরকারের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ভ্যাটও ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেটে ঢেউটিন খাতে বরাদ্দ ছিল ৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্য থেকে সর্বশেষ ৩৪ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮শ’ টাকার ঢেউটিন কেনা হয়। পাঁচটি প্যাকেজের টেন্ডার আইডি-তে ঢেউটিনগুলো কেনা হয়। পিপিআর অনুযায়ী, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিজেরা পণ্য উৎপাদন করে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য কেনা যাবে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড নিজেরা ঢেউটিন উৎপাদন করে এবং নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন তারা সরবরাহ করবে- এ অঙ্গীকারনামায় প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে। ঢেউটিনগুলোর ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮শ’ টাকা করে। বাজারদরের চেয়ে এই মূল্য অনেক বেশি, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট। বাজারে সর্বোচ্চ মানের ঢেউটিন প্রতি মেট্রিক টন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি। ত্রাণের ঢেউটিন কখনোই ভালো মানের কেনা হয় না, এটা সবারই জানা কথা। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সরবরাহ করা এই ঢেউটিনগুলোও সরেজমিন পরিদর্শনে নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তেজগাঁও সিএসডিস্থ কেন্দ্রীয় ত্রাণ গুদাম পরিদর্শনে আরও ভয়াবহ রকমের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। তা হলো, প্রত্যেকটি ঢেউটিনের গায়ে ‘টিকে’ কোম্পানির সিল রয়েছে। অর্থাৎ ‘টিকে’ কোম্পানির উৎপাদিত ঢেউটিন এগুলো। বিএমটিএফ নিজেরা উৎপাদন করেনি বা নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন সরবরাহ করেনি। অবাক ব্যাপার হলো, ঢেউটিন সরবরাহের কাজে এ রকমের জাল-জালিয়াতি তো করা হয়েছেই, এমনকি নিজেদের উৎপাদিত পণ্য- একথা দাবি করে সরকারের ভ্যাটও ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে সরকারকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার কথা। কিন্তু বিএমটিএফ (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) নিজেদের উৎপাদিত পণ্য- দাবি করে ১০ শতাংশ ছাড় পেয়েছে। পরিশোধ করেছে মাত্র ৫ শতাংশ ভ্যাট। মোট ৩৪ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮শ’ টাকার ভ্যাট ১০ শতাংশের হারে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিএমটিএফ’র এমন কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক ও বড় ধরনের অনিয়ম বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন। বিএমটিএফ যে নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন সরবরাহ করছে না, একথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের শীর্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সবাই জানেন। জেনে বুঝেই তারা এমন অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন।
নওগাঁ জেলা (স্টাফ রিপোর্টার) মোঃ আকতার হোসেন। নওগাঁর পোরশায় উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) সমমান পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে এসে মূল পরীক্ষার্থীসহ ২ যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের উভয়কেই ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ১৭৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। শনিবার দুপুরে পোরশা সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— মূল পরীক্ষার্থী পোরশা থানার বারিন্দা গ্রামের মোঃ রেজাউল সরদারের ছেলে মোঃ জাহিদ হাসান (২১) এবং প্রক্সি পরীক্ষার্থী একই থানার দেওনাপাড়া গ্রামের সময় বর্মনের ছেলে বিপ্লব বর্মন (২০)। পুলিশ ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, আজ পোরশা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি (সমমান) পরীক্ষা চলাকালীন মূল পরীক্ষার্থী জাহিদ হাসানের পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেন বিপ্লব বর্মন। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছে বিপ্লবের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে প্রবেশপত্রের ছবির সাথে পরীক্ষার্থীর চেহারার মিল না পাওয়ায় শিক্ষক বিষয়টি কেন্দ্রে কর্তব্যরত এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) ম্যাজিস্ট্রেট মোসাঃ নাবিলা ফেরদৌস কে অবহিত করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রথমে প্রক্সি পরীক্ষার্থী বিপ্লব বর্মনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল পরীক্ষার্থী জাহিদ হাসানকেও পরীক্ষা কেন্দ্রে ডেকে এনে আটক করা হয়। আটকের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত (মামলা নং-৯৬, ৯৭; তারিখ: ০৪/০৭/২০২৬) পাবলিক পরীক্ষা সমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ১৩ (৩-ক) ধারা মোতাবেক অপরাধ স্বীকার করায় উভয় আসামিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং একই সাথে ১৭৫০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। একই সাথে তাদের পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পোরশা থানা অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামী আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে নওগাঁ কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছ।
দেশের জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই বিল দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। কাজ না করেই বিল তুলে ভাগাভাগিতে জড়িত খোদ এই প্রকল্পের পরিচালক নাফরিজা শ্যামা। যিনি কাজ শুরুর আগেই ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর বিদেশ সফরে এই কমিশনের অর্থ ডলারে দিতে হবে বলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন গণপূর্তের এক নির্বাহী প্রকৌশলী। সম্প্রতি দেশের জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেশের দুটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দেয়া হয় ৩০০ কোটি টাকার আসবাবপত্র সরবরাহের দায়িত্ব। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা বিভাগ-১ সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে দেড়শ’ কোটি টাকার টেণ্ডার আহ্বান করে। যাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত কাঠের কারখানা বিভাগ-২ থেকেও এ কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও এখন পর্যন্ত শেষ করা হয়নি। আগামী ৩০ জুন চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও এর পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ২৩ জুনের মধ্যে। যেখানে এই কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়নি সেখানে তড়িঘড়ি করে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন এই প্রকল্পের পরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা। সম্প্রতি তিনি আমেরিকা সফর করেন। এর আগেই এই অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। আসবাবপত্র সরবরাহ তো দূরের কথা যেখানে টেন্ডার প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়নি সেখানে কেনো তিনি তড়িঘড়ি করে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন, সাধারণত: এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে অনানুষ্ঠানিক সম্মান জানানোর রেওয়াজ প্রচলিত রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রকল্প পরিচালক না-কি তিন পার্সেন্ট হারে টাকা নিয়েছেন বলে গণপূর্ত কাঠের কারখানা বিভাগে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বিশেষ করে এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর নাম করে দরপত্রে অংশ নেয়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে এ হারেই টাকা তুলেছেন। একটি বড় ফার্নিচার কোম্পানি এতো বেশি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দরপত্রে তারা যেখানে ৮টিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে,সেখানে তাদের মাত্র ১টি কাজ দেয়া হয়েছে। ওই নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারদের জানিয়েছেন, প্রকল্প পরিচালক ম্যাডাম বিদেশ সফরে যাবেন তাকে ডলারে পেমেন্ট দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক নাফরিজা শ্যামার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, আমি তো বিদেশ সফর শেষ করে এসেছি। কাজ শুরুর আগেই গণপূর্তকে কেনো ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি। এটা কোন অনিয়ম না বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে আবার ফোন করলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে বলেন, সরকারি ছুটির দিনেও আপনাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এই বলে তিনি তাঁর মোবাইল বন্ধ করে দেন। শনিবার সারাদিনও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ইতিমধ্যেই অবহিত হয়েছেন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। প্রথমে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী ও ইএম-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হককে মন্ত্রণালয়ে তলব করে এর ব্যাখ্যা চেয়েছেন। পরে জাতীয় সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে এ নিয়ে আবার ব্যাখ্যার জন্য ডেকেছিলেন মন্ত্রী। সেখানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহাবুবুল হক চৌধুরী মন্ত্রীকে জানিয়েছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। টেকনিক্যাল জ্ঞান না থাকায় প্রকৌশলীদের এই ব্যাখ্যাই তিনি মেনে নিয়েছেন। অথচ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরতে পরতে প্রকাশ্য দিবালোকের মতো দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট। গত ৮ জুন পর্যন্ত আহ্বান করা মোট ১২টি দরপত্রের ৮টিতেই সর্বনিম্ন দরদাতা হয় দেশের সবচেয়ে নামকরা ফার্নিচার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘হাতিল ফার্নিচার’। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি এর মধ্য থেকে মাত্র ১টি কাজের কার্যাদেশ দিলেও বাকি ৭টি কাজের আদেশ ঝুলিয়ে রাখে মুলত গণপূর্তের প্রকৌশলী ত্রয়ের অতিরিক্ত অর্থ দাবির আবদার মেটাতে না পারায়। এই বিষয়ে ন্যায়সঙ্গত: আচরণ পেতে হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রেজাউল করিম গত ৮ জুন গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রকৌশলী (ই/এম) জোন আশ্রাফুল হকের কাছে আবেদন করেন। সেখানে তিনি জেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পের পরিচালক থেকে শুরু করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগ করেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের কাছেও। মন্ত্রী বিষয়টি আমলে নিয়ে গণপূর্তের প্রকৌশলীদের তলব করলেও প্রকৌশলীরা মন্ত্রীকে ‘ভুল’ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর তাতেই সন্তষ্ট হয়েছেন তিনি।