খেলাধুলার জন্য ক্লাব কেনার ব্যবসা যে কতটা বড় হতে পারে, তার ধারণা পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ক্লাবের মালিকদের তালিকায়। ফোর্বসের ২০২৬ সালের হিসাবে, দেশটির শীর্ষ ১৬ ক্লাবের ১০ মালিকের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৬৬ বিলিয়ন বা ৬৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। এখানে তাঁদের অন্য ব্যবসার সম্পদ যুক্ত আছে।
এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৬০৭ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
এই তালিকার শীর্ষে আছেন মাইক্রোসফটের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ বালমার। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১৫৬ বিলিয়ন বা ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রব ওয়ালটনের সম্পদ ১৩২ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার। এরপরের আটজনের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২৯০ কোটি ডলার থেকে ৩৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের মধ্যে।
এই তালিকায় জায়গা পাওয়ার জন্য শুধু ক্রীড়া দল থাকলেই হয় না। এবার ন্যূনতম সম্পদের সীমা ১২ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২২০ কোটি ডলার। গত বছর এই সীমা ছিল ১০ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এক বছরে এই সীমা বেড়েছে ২১ শতাংশ।

সম্পদ: ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার | দল: লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্স | সম্পদের মূল উৎস: মাইক্রোসফট
টানা ১২ বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া দলের মালিকের তালিকার শীর্ষে আছেন স্টিভ বালমার। তাঁর সম্পদের মূল উৎস ক্রীড়া ব্যবসা নয়, মাইক্রোসফটের শেয়ার। ২০১৪ সালে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারে লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্স কিনেছিলেন বালমার।
ফোর্বসের হিসাবে, এখন দলটির মূল্য ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ৭৫০ কোটি ডলার অর্থাৎ এক যুগে প্রায় চার গুণ।

সম্পদ: ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার | দল: ডেনভার ব্রঙ্কোস | সম্পদের মূল উৎস: ওয়ালমার্ট
ওয়ালমার্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্যাম ওয়ালটনের জ্যেষ্ঠ ছেলে রব ওয়ালটন আছেন দ্বিতীয় স্থানে। ৮১ বছর বয়সী ওয়ালটনের সম্পদের পরিমাণ ১৩২ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
২০২২ সালে ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে ডেনভার ব্রঙ্কোস কেনার জন্য গঠিত কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রব ওয়ালটন। পরে দলের দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব জামাতা গ্রেগ পেনারের হাতে তুলে দেন। ব্রঙ্কোস গত মে মাসে ৫৮ একর জমি কিনেছে। সেখানে ২০৩১ সালে নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এই স্টেডিয়াম ও আশপাশের বিনোদন এলাকা নির্মাণে খরচ হতে পারে ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি।

সম্পদ: ৩ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার | দল: অ্যানাহেইম ডাকস | সম্পদের মূল উৎস: সেমিকন্ডাক্টর
তালিকার তৃতীয় ব্যক্তি হেনরি স্যামুয়েলি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৮৯ কোটি ডলার। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ২২ শতাংশ। চিপ কোম্পানি ব্রডকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্যামুয়েলি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসার সম্ভাবনায় ব্রডকমের শেয়ারের দাম গত এক বছরে বেশ বেড়েছে।

সম্পদ: ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার | দল: ডালাস ম্যাভেরিকস | সম্পদের মূল উৎস: ক্যাসিনো
ডালাস ম্যাভেরিকসের মালিক মিরিয়াম অ্যাডেলসনের সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। তালিকায় তাঁর অবস্থান চতুর্থ। তবে শীর্ষ ২০ মালিকের মধ্যে সম্পদ কমেছে, এমন তিনজনের একজন তিনি। এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। লাস ভেগাস স্যান্ডসের প্রতিষ্ঠাতা শেলডন অ্যাডেলসনের স্ত্রী মিরিয়াম ২০২৩ সালে মার্ক কিউবানের কাছ থেকে ম্যাভেরিকসের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ কিনে নেন।

সম্পদ: ২ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার | দল: মেমফিস গ্রিজলিস | সম্পদের মূল উৎস: ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং
মেমফিস গ্রিজলিসের মালিক রবার্ট পেরার সম্পদের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৯৬০ কোটি ডলার। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইউবিকুইটির প্রতিষ্ঠাতা পেরা ২০১২ সালে ৩৭৭ মিলিয়ন বা ৩৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে গ্রিজলিস কিনেছিলেন। এখন দলটির মূল্য ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ৩৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ পেরার মালিকানায় আসার পর দলটির মূল্য বেড়েছে ৮০০ শতাংশের বেশি।
ফোর্বসের হিসাবে, তিন বছর ধরে গ্রিজলিস এনবিএর সবচেয়ে কম দামি দল।

সম্পদ: ২ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার | দল: ক্যারোলাইনা প্যান্থারস ও শার্লট এফসি | সম্পদের মূল উৎস: হেজ ফান্ড
২০১৮ সালে ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ২৩০ কোটি ডলারে ক্যারোলাইনা প্যান্থারস কিনেছিলেন ডেভিড টেপার। এখন দুই দলের হোম ভেন্যু ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়াম সংস্কারে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ডলার খরচ করছেন টেপার। তাঁর লক্ষ্য, শার্লটে সুপার বোল ও ২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসরের আয়োজন করা।

সম্পদ: ২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার | দল: ছয়টি বড় ক্রীড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি | সম্পদের মূল উৎস: ক্রীড়া ও আবাসন ব্যবসা
শুধু ক্রীড়া দলের মালিকানা বিবেচনায় নিলে সবচেয়ে বড় পোর্টফোলিও স্ট্যান ক্রোয়েনকের। তাঁর সম্পদ গত এক বছরে বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ক্রোয়েনকের মালিকানায় রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস র্যামস, ডেনভার নাগেটস, কলোরাডো অ্যাভালাঞ্চ, কলোরাডো র্যাপিডস, আর্সেনাল এফসি ও আর্সেনাল উইমেন এফসি।
ফোর্বসের হিসাবে, ঋণ বাদ দেওয়ার পর ক্রোয়েনকের ক্রীড়া দলগুলোর অংশীদারির মূল্য প্রায় ২২ বিলিয়ন বা ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

সম্পদ: ২ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার | দল: নিউইয়র্ক মেটস | সম্পদের মূল উৎস: হেজ ফান্ড
নিউইয়র্ক মেটসের মালিক স্টিভ কোহেনের সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে নিউইয়র্ক মেটস টানা দুই মৌসুমে আশানুরূপ খেলতে পারেনি। দলটির মালিক স্টিভ কোহেন অর্থ খরচে পিছিয়ে নেই। গত বছর নিউইয়র্ক মেটসের নগদ বেতন ব্যয় ছিল এমএলবিতে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিয়ন বা ৪০ কোটি ডলারের বেশি।

সম্পদ: ২ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার | দল: ডালাস কাউবয়েজ | সম্পদের মূল উৎস: ক্রীড়া ও জ্বালানি
ডালাস কাউবয়েজের মালিক জেরি জোন্স আছেন নবম স্থানে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। গত এক বছরে সম্পদ বেড়েছে ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। জোন্সের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এই ডালাস কাউবয়েজ।
১৯৮৯ সালে ১৪০ মিলিয়ন বা ১৪ কোটি ডলারে দলটি কিনেছিলেন জেরি জোন্স। এখন কাউবয়েজের আনুমানিক মূল্য ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। গত মৌসুমে দলটি প্রায় ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলার রাজস্ব আয় করেছে।

সম্পদ: ২ হাজার ২৯০ কোটি ডলার | দল: ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্স | সম্পদের মূল উৎস: বন্ধক ঋণ ব্যবসা
ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সের মালিক ড্যান গিলবার্ট শীর্ষ ১০–এর শেষ ব্যক্তি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। তবে গত এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। রকেট মর্টগেজের সহপ্রতিষ্ঠাতা গিলবার্টের সম্পদের মূল উৎস বন্ধক ঋণ ব্যবসা। গত বছর ফোর্বস ক্যাভালিয়ার্সের মূল্য নির্ধারণ করেছিল ৪৮০ কোটি ডলার।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সুনামগঞ্জে প্রায় ১৭ লাখ টাকা মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নাসির বিড়িসহ আব্দুল করিম (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের আব্দুজ জহুর সেতুর ওপর থেকে তাকে আটক করা হয়। আব্দুল করিম ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী চাকলপাড়া গ্রামের জফির আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ভারতীয় নাসির বিড়ি একটি গাড়িতে করে সুনামগঞ্জ শহরের দিকে নেওয়া হচ্ছে। পরে আব্দুজ জহুর সেতু এলাকায় গাড়িটিতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পিকআপ গাড়িতে থাকা আটটি বস্তা থেকে ৩ লাখ ৩৬ হাজার শলাকা শেখ নাসিরুদ্দিন বিড়ি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে গাড়িটিও জব্দ করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জ শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই অভিজিৎ ভেমিক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিড়ি ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির চালক পালিয়ে গেলেও তাঁর সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লিপসন আহমেদ/কেএইচকে
নওগাঁর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন আজন্ম দৃষ্টিহীন শাকিল হোসেন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া শাকিল মেধা ও অদম্য পরিশ্রমে শিক্ষাজীবন সফলভাবে শেষ করলেও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির জন্য ঘুরেও সাড়া পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল হোসেন। জানা গেছে, শাকিলের চাকরির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সহযোগিতায় তাকে চাকরির ব্যবস্থা করেন। শাকিলকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শাকিল নওগাঁর একটি প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আজন্ম দৃষ্টিহীন হলেও মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। তবে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর চাকরি পাওয়াই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চাকরির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরলেও দৃষ্টিহীনতার কারণে তার চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছিল। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর এপিএস জাহেদুল আলম। কেএইচ/কেএইচকে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই সাজা দেওয়া হয়েছে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র (শীর্ষ নেতৃত্বের দায়) দায়ে।আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দণ্ডিত পাঁচ নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিতরণ করা হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ১০ মাস পর আরেকটি মামলায় গতকাল দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খানকে এবং ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এই সাত আসামিই পলাতক। তাঁদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। এসব অপরাধের ঘটনায় সপ্তম রায় হলো গতকাল।দুটি ট্রাইব্যুনালের ৭টি রায়ে ৬৮ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ২২ আসামির মধ্যে ১৮ জন পলাতক। কারাগারে আছেন চারজন।রায়ের আগে যা বললেন ট্রাইব্যুনালতিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে এজলাসে আসেন। পরে কয়েকটি মামলার শুনানি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়।ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায় ঘোষণার শুরুতে বলেন, এই মামলার অনেক কাগজ। তাঁদের পড়তে কষ্ট হয়েছে। রায় দিতে কষ্ট হয়েছে। প্রসিকিউশনেরও কম কষ্ট হয়নি। সাক্ষীরাও কষ্ট করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা অবর্ণনীয় পরিশ্রম করেছেন। সাংবাদিকেরাও সহযোগিতা করেছেন। সবাইকে ধন্যবাদ।বিচারপতি নজরুল ইসলাম বলেন, রায়ের কপি ৫৫০ পৃষ্ঠার বেশি। পৃষ্ঠা আরও বাড়বে। পুরো রায় ইংরেজিতে। তবে সহজে বোঝার জন্য এর কিছু অংশ বাংলা করে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের পুরো রায় পড়া উচিত ছিল। আসামিরা উপস্থিত থাকলে পড়ে শোনাতেন। এরপর আসামিদের কার কী সাজা, তা ঘোষণা করেন তিনি।কী অপরাধ, কী সাজা ওবায়দুল কাদেরওবায়দুল কাদেরএই মামলার রায়ে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের সব কটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চারটি অভিযোগের তিনটিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটিতে (দুই নম্বর অভিযোগ) দেওয়া হয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড।প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে কথোপকথন হয়। আন্দোলন দমনের সরাসরি নির্দেশ দিয়ে সাদ্দামকে তখন কাদের বলেছিলেন, ‘মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন?’১৫ জুলাই ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির দলীয় কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে ‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’ বলে বক্তব্য দেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের।ওবায়দুল কাদেরের এমন নির্দেশনার পর ১৬ জুলাই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি করে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার মুরাদপুর এলাকায় মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহম্মেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করে। একই দিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারা দেশে ছয়জন নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়। এর জন্য তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।দুই নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই রাজধানীর তেজগাঁওয়ের দলীয় কার্যালয়ে নেতা–কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।পরদিন ১৮ জুলাই ধানমন্ডির আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ আন্দোলনকে সরকারবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দেন ওবায়দুল কাদের।১৯ জুলাই গণভবনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রধানদের বৈঠক শেষে কারফিউ জারি ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘এটা অবশ্যই কারফিউ, সেটা শুট অ্যাট সাইট হবে।’ওবায়দুল কাদেরের এসব নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে মিরপুরে ১৮ জুলাই শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনসহ ৩ জন, ১৯ জুলাই আসিফ ইকবালসহ ৩০ জন, ২০ জুলাই সিফাত হোসেন, মহাখালী এলাকায় ৬ জনসহ সারা দেশে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করে।তিন নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকে রুখে দিতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। তাঁরএই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে মিরপুরে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শাহরিয়ার হাসান আলভী, মিরাজ ফরাজি, মহিউদ্দিনসহ ১২ জনকে, ফেনীর মহিপালে ইশতিয়াক আহাম্মেদসহ ৭ জনকে এবং লক্ষ্মীপুর সদরে সাদ-আল আফনানসহ ৪ জনকে হত্যা করে। একইভাবে ৫ আগস্ট মিরপুরে মাহফুজুল আলমসহ ২০ জনকে এবং রাজশাহী মহানগরে রায়হান আলী, সাকিব আনজুমসহ সারা দেশে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।চার নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ওবায়দুল কাদেরের নিয়ন্ত্রণ ছিল। তারপরও তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।বাহাউদ্দিন নাছিমআ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমবাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে একটি (দুই নম্বর অভিযোগ) থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া অভিযোগটি হলো, নাছিমের নিজ জেলা মাদারীপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সাবেক মেয়র খালিদ হোসেনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারক করতেন তিনি। সেখানে ১৮ জুলাই দীপ্ত দে এবং ১৯ জুলাই তৌহিদকে হত্যা এবং অসংখ্য আন্দোলনকারীকে গুরুতর জখম করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্যাডাররা।তিন ও চার নম্বর অভিযোগে বাহাউদ্দিন নাছিমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নাছিমের প্ররোচনায় ৪ আগস্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আসামির নির্বাচনী এলাকা বাংলামোটরে তিনজনকে এবং পল্টন নাইটিঙ্গেল মোড়ে একজনকে হত্যা করে। পরদিন ৫ আগস্ট ঢাকা মেডিকেলের সামনে রাকিব হোসেনসহ গুলিস্তান, বাংলামোটর ও চানখাঁরপুল এলাকায় মোট ১৩ জনকে হত্যা করে।এক নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নাছিমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে অপরাধ সংঘটনে সমর্থন ও প্ররোচনা দেন।মোহাম্মদ আলী আরাফাতমোহাম্মদ আলী আরাফাতসাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের মধ্যে একটিতে (তিন নম্বর অভিযোগ) খালাস দেওয়া হয়েছে। তিন নম্বর অভিযোগে আরাফাতের বিরুদ্ধে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ (যৌথ অপরাধমূলক উদ্যোগ) অভিযোগ আনা হয়েছিল।দুই নম্বর অভিযোগে আরাফাতকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক ও চার নম্বর অভিযোগে তাঁকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে আরাফাত বিভিন্ন রকম উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। ১৯ জুলাই আরাফাত প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসী তকমা দেন। পাশাপাশি তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টানা পাঁচ বছর অস্ত্র-গুলি ব্যবহার করার মতো মজুতের বিষয় উল্লেখ করে হুমকি দেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ১৯ জুলাই হামলা চালিয়ে মো. শাহজাহান, গনি মিয়াসহ ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য দলীয় সশস্ত্র ক্যাডাররা। এই হত্যাকাণ্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আরাফাত।শেখ ফজলে শামস পরশশেখ ফজলে শামসযুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের একটিতে (এক নম্বর অভিযোগ) তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এক নম্বর অভিযোগে পরশের বিরুদ্ধে জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের (যৌথ অপরাধমূলক উদ্যোগ) অভিযোগ আনা হয়েছিল।পরশকে দুই নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তিন ও চার নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে আছে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনা মোতাবেক সারা দেশে আন্দোলন নস্যাতের জন্য পরশ যুবলীগকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। তাঁর নির্দেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সশস্ত্র অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি অস্ত্রসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও গুরুতর আহত করে।মাইনুল হোসেন খান নিখিলমাইনুল হোসেন খান নিখিলযুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল চারটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এক নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দুই, তিন ও চার নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশ ও প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯ জুলাই মাইনুল নিজে অস্ত্র হাতে নিয়ে মিরপুর এলাকায় মহড়া দেন। সেদিন তাঁর নেতৃত্ব ও নির্দেশে মিরপুরে নির্বিচার গুলি চালিয়ে রুস্তম, আসিফ ইকবালসহ ২৬ জনকে হত্যা করা হয়।সাদ্দাম হোসেনসাদ্দাম হোসেনছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন চারটি অভিযোগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এক ও দুই নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তিন ও চার নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তিনি ১৫ জুলাই ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে’ বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ১৮ জুলাই নির্বিচার গুলি করে, যাতে সারা দেশে ২৩ জন নিহত হন।শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের সব কটিতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এক ও দুই নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং তিন ও চার নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইনান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য নির্দেশ দেন। তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি, ঢাকা কলেজের কমিটির সদস্যরা হামলা চালান। ১৬ জুলাই সারা দেশে ছয়জন নিহত হন।রায়ে বলা হয়, ওবায়দুল কাদের ছাড়াও দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের নিজ সংগঠন ও দল এবং সরকারে নিয়ন্ত্রণ ছিল। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য হিসেবে দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নাছিমের নিয়ন্ত্রণ ছিল। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের ওপর আরাফাতের নিয়ন্ত্রণ ছিল।যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের তাঁদের সংগঠনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল। একইভাবে সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের নিয়ন্ত্রণ ছিল ছাত্রলীগের ওপরেও।রায়ে বলা হয়, নিজ সংগঠন ও দল এবং সরকারে নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও এই সাত আসামি গণ-অভ্যুত্থানের সময় নেতা-কর্মীদের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। এই অভিযোগে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এটি সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায়।‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি ও ব্যক্তিগত দায়’আমিনুল ইসলামসাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া আদায় করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রায় ঘোষণার পর নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ ছিল। তাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়ও ছিল।ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো অপরাধী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পলাতক থাকে, আইনে যেভাবে বিধান আছে, সেভাবেই বিচারকার্য পরিচালিত হয়েছে। অতএব এখানে কোনো মানবাধিকার সংগঠনের মন্তব্যের অবকাশ নেই।চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, রায় প্রকাশিত হওয়ার ৩০ দিন পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ নেই। আপিল না হলে রায় বাস্তবায়ন করতে বাধা নেই।ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ মেহেরুন্নেসা তানহার বাবা মোশারফ হোসেন এবং মামলার সাক্ষী রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার। আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন ইসরাত জাহান ও এম হাসান ইমাম। তাঁরা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।৪৫৪ দিনে তদন্ত থেকে রায়প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওবায়দুল কাদেরসহ এই মামলার দণ্ডিত সাত আসামির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল গত বছরের ১৮ জুন। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। পরে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)।এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সেদিন সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২৮ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয় ১৭ আগস্ট। গতকাল রায় ঘোষণা করা হলো।ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত