জাতীয়

ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ভরসা সৌদি আরব, থামছে না হুথিরা

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ভরসা সৌদি আরব, থামছে না হুথিরা
ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর ভরসা সৌদি আরব, থামছে না হুথিরা

ইয়েমেনে আবারও বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ। কয়েক দিনের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর আরও এগিয়ে যাচ্ছে হুথিরা। তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে এবার পাল্টা হামলা শুরু করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী। তবে আকাশপথে ব্যাপক হামলা চললেও যুদ্ধের মাঠে এখনো নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে হুথিরা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি বাহিনী। হুথিরা যেসব এলাকায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করছে কিংবা যোদ্ধাদের সমাবেশ ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেসব স্থানই হামলার প্রধান লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক বেশির ভাগ বিমান হামলা হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোচা শহরের দক্ষিণে ধুবাব জেলায়। এলাকাটি বর্তমানে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মোচা ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হুথিদের সামরিক সুবিধাও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন এলাকা দখলের পাশাপাশি সমুদ্রপথে সামরিক অভিযান পরিচালনার সুযোগও এখন তাদের আগের চেয়ে বেশি। একই সঙ্গে অপেক্ষাকৃত কম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সুবিধা পেয়েছে তারা।

এর আগে মোচা ও বাব আল-মান্দাব হুথিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। ফলে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে তাদের মূলত দূরপাল্লার ও তুলনামূলকভাবে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু কৌশলগত এসব এলাকা নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাদের সামরিক তৎপরতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে হুথিদের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু অস্ত্রশস্ত্র নয়, তাদের যুদ্ধকৌশলও। কোনো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তারা দ্রুত নিজেদের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও যোদ্ধাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সরঞ্জাম গোপন বা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়।

ফলে আকাশে যুদ্ধবিমান থাকলেও মাটিতে হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডার, যোদ্ধা বা সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর জন্য।

একটি এলাকায় হামলা শুরু হলে হুথিরা দ্রুত অন্যত্র সরে যেতে পারে। এ কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে বিমান হামলা চললেও তাদের সামরিক শক্তিতে বড় ধরনের আঘাত হানা কঠিন হয়ে উঠছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অবশ্য নতুন নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এসব হামলার পরও হুথিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। বরং গোপন ও ছড়িয়ে থাকা যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করে তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এখন সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখল করা কতটা সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের দখল ভাঙতে হলে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযানও প্রয়োজন হতে পারে। কারণ শুধু আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া কঠিন।

তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো স্থল অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। আকাশে যুদ্ধবিমান উড়ছে, হুথিদের সম্ভাব্য সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রভাণ্ডারে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে মাটিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে সামরিক ও কৌশলগত সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হুথিরা।

ফলে ইয়েমেনের নতুন এই লড়াইয়ে প্রশ্ন এখন শুধু কে কত বেশি হামলা চালাচ্ছে, তা নয়। শেষ পর্যন্ত কে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে এবং কে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলো দখলে রাখতে সক্ষম হয়—সেটিই হয়ে উঠছে সংঘাতের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমআরএইস/এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
হুথিদের সঙ্গে লড়াইয়ে ৫০০ ইয়েমেনি সেনা নিহত
হুথিদের সঙ্গে লড়াইয়ে ৫০০ ইয়েমেনি সেনা নিহত

ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সঙ্গে লড়াইয়ে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে সরকারি বাহিনী। গত এক মাসের সংঘর্ষে ৫০০-এর বেশি ইয়েমেনি সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় দেড় হাজার। এর মধ্যেই ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারেও তৈরি হয়েছে নতুন আশঙ্কা। ইয়েমেনের স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সরকারপন্থি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছে, ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষে এসব সেনা হতাহত হয়েছেন। সরকারপন্থি বাহিনীর দাবি, এ লড়াইয়ে হুতিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তবে, হুতিদের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। ফলে, দুই পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির তুলনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের সঙ্গে সরকারপন্থি বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। সম্প্রতি সেখানে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। এক মাসে পাঁচ শতাধিক সেনা নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার আহত হওয়ার ঘটনা সরকারপন্থি বাহিনীর ওপর সংঘাতের বড় চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে, ইয়েমেনের সংঘাতের বাইরে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের তেল সরবরাহেও। গত শুক্রবার ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তার ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইন দিয়ে আবার তেল পরিবহন শুরু করা না গেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হামলায় পাইপলাইনটির কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং মেরামত শেষে কবে আবার তেল পরিবহন শুরু করা যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় তেল ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আশঙ্কা, পাইপলাইনটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় চার শতাংশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এছাড়া, রপ্তানির জন্য সৌদি আরবের মজুত তেলও শেষ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এতে আগে থেকেই চাপে থাকা বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের সংকট আরও বাড়তে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ব তেল সরবরাহে এরই মধ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সৌদির গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পাইপলাইন বন্ধ হওয়ায় সেই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা এমডিআরএইচ/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
দালালের ফাঁদে রাশিয়ায় যুদ্ধে, ড্রোন হামলায় নিহত ময়মনসিংহের মামুন

দালালের ফাঁদে রাশিয়ায় যুদ্ধে, ড্রোন হামলায় নিহত ময়মনসিংহের মামুন

দুর্গম পাহাড়ে ঋণ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ সংগঠক

দুর্গম পাহাড়ে ঋণ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ সংগঠক

দেশে সেই অন্ধকার, দুঃসময়, দুর্দিন যেন না আসে: রিজভী

দেশে সেই অন্ধকার, দুঃসময়, দুর্দিন যেন না আসে: রিজভী

আমাদের সংস্কৃতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে: রাষ্ট্রপতি
আমাদের সংস্কৃতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। সাক্ষাতের সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত আমলের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। তিনি আরও করেন, নানা ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে একত্র করে একটি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ঢালাওভাবে মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ার ফলে অদক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে। এ সময়ে তিনি বলেন, ‘ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আমাদের আরও জোর দিতে হবে। যাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি করে আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।’রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।’সাক্ষাতের সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দেশের উচ্চশিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তাঁরা কর্মদক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা চালু করা, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনে জাতীয় প্রয়োজনে বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও গুণগত মানের ভিত্তিতে অনুমোদনে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।এপিইউবির প্রতিনিধিদলের সদস্যরা যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়কে পিএইচডি ডিগ্রি, গবেষণা, পেটেন্ট ও বাণিজ্যিকীকরণের পূর্ণ সুযোগ প্রদান, শিল্প-সংযুক্ত পাঠ্যক্রম, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ), বিদেশি ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে কর্মসংস্থানযোগ্য করা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে সহায়ক ও উন্নয়নমুখী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নে রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানান।সাক্ষাতের সময় এপিইউবির চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ ও কে বি এম মঈন উদ্দিন চিশতি, ট্রেজারার কায়ুম রেজা চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল কাসেম হায়দার, কাজী জাহেদুল হাসান ও নওশাদ শামসুল আরেফিন এবং এপিইউবি সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সাভারে পুলিশ হত্যায় আরও এক আসামি রিমান্ডে

সাভারে পুলিশ হত্যায় আরও এক আসামি রিমান্ডে

ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি

নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি

রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল
রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল

রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল ইস্তেগফার। ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার প্রতি বান্দার ইমান, আনুগত্য ও মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ পায়। আল্লাহর প্রতি ভরসা ও নির্ভরতা প্রকাশ পায়। বিনয় ও অহংকারহীনতা প্রকাশ পায়। বান্দা যখন সত্যিকার অনুশোচনা নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব ও আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার পাশাপাশি তার দিকে সন্তুষ্টি ও রহমতের দৃষ্টি দেন। ফলে জীবনের সব ক্ষেত্রেই সে বরকত ও রহমত লাভ করে। কোরআনে আল্লাহ তার নবী নুহের (আ.) ঘটনায় উল্লেখ করেছেন, নুহ (আ.) তার জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করো, ইস্তিগফারের বরকতে আল্লাহ বৃষ্টি দান করবেন, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান সন্ততিতে বরকত দান করবেন। আল্লাহ বলেন, আর বলেছি, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা। (সুরা নুহ: ১০-১২) হাদিসেও ইস্তেগফার পাঠ করাকে সব বিপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে ‍মুক্তি ও রিজিক লাভের আমল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি সব সময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন, প্রত্যেক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করেন। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৮) এ আয়াত ও হাদিস থেকে বোঝা যায়, ক্ষমা লাভের পাশাপাশি দুনিয়ায় বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি, সমৃদ্ধি, হালাল রিজিক, সম্পদ ও সুসন্তান লাভের একটা উপায় হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। আরও পড়ুন হালাল রিজিক বৃদ্ধির জন্য ২ দোয়া হাদিসে বর্ণিত ইস্তেগফার বা তওবার দোয়া ১. أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لآ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি। অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তার কাছে তওবা করি। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৭) ২. رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ উচ্চারণ: রব্বিগফিরলী ওয়া তুব আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত তাউওয়াবুল গাফুর। অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী ও ক্ষমাকারী। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৬) ৩. اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা। অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার রব। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে যে নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারবে না। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬) আরও পড়ুন পাহাড়সম ঋণ থেকে মুক্তির দোয়া ওএফএফ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও দুর্নীতির অভিযোগের কথা জানাল দুদক

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও দুর্নীতির অভিযোগের কথা জানাল দুদক

বাড্ডায় বাসায় ঢুকে এক ব্যক্তিকে গুলি

বাড্ডায় বাসায় ঢুকে এক ব্যক্তিকে গুলি

0 Comments