মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। বর্তমানে খসড়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও হালনাগাদের কাজ চলছে। শিগগির এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে একটি মূল এসআরও’র পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও ৫টি এসআরও জারির প্রস্তুতিও চলছে। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের জন্য আইবাস প্লাস প্লাসে (আইবাস++) প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, সবকিছু নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো অসঙ্গতি পেলে তা আপডেট (হালনাগাদ) করা হচ্ছে। আমরা দ্রুত পর্যালোচনা শেষ করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেবো। ভেটিং সম্পন্ন হলে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভেটিং হতে কতো সময় লাগতে পারে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যদি এক পেজের কিছু হতো তাহলে হাতে হাতে নিয়ে গিয়ে ভেটিং করানো যেত। এখানে তো অনেকগুলো কাগজ। নতুন পে-স্কেলের মূল গেজেট হবে একটি। এছাড়া আরও ৫টি এসআরও জারি হবে। অর্থাৎ, মোট ছয়টি এসআরও জারি হবে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কার্যক্রম সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুতই সবকিছু সম্পন্ন হবে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা আছে কি না—এমন প্রশ্নে এ কর্মকর্তা বলেন, কোনো জটিলতা নেই। সবকিছু নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন কোনো ত্রুটি না থাকে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। যেহেতু ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, তাই সম্পূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে একটু সময় লাগছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ২০১৫ সালে আইবাস প্লাস প্লাসে ছিল না। আবার এখন ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য আইবাস প্লাস প্লাসে কিছু তথ্য আপডেট করার বিষয় আছে। বিশেষ করে যারা এরই মধ্যে অবসরে গেছেন, তাদের পেনশন-সংক্রান্ত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসে হালনাগাদ করতে হবে। তবে বর্তমানে চাকরিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো জটিলতা নেই।
নতুন পে-স্কেলের মূল কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক প্রয়োগবিধি নির্ধারণ করা হবে। এজন্য মোট ছয়টি এসআরও জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা এসআরও জারি করা হবে।
কোনো জটিলতা নেই। সবকিছু নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন কোনো ত্রুটি না থাকে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।—অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
অর্থাৎ, একটি সাধারণ গেজেটের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোর মূল সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা পৃথক এসআরওতে স্পষ্ট করা হবে। এতে বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিস্তারিত বিধান থাকবে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পুনর্নির্ধারণ করে জাতীয় বেতন স্কেল (পে-স্কেল)-২০২৬ অনুমোদন করা হয়। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের শুরুর মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন বেতন স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে।
মন্ত্রিসভায় একই সঙ্গে নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি-২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো যুগোপযোগী করতে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ ও সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়।
নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং ভারসাম্যপূর্ণ ও যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নেওয়া হয়।
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমানো হয়েছে। বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ অনুপাত কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার সামরিক ও অসামরিক ক্ষেত্রে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন) পদ্ধতি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ পদ্ধতি একসঙ্গে বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া অসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় তা পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অবসরভোগী পেনশনধারীদের নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ।
২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমানো হয়েছে
এক্ষেত্রে ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়বে ৭৫ শতাংশ। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়বে ৬৫ শতাংশ। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়বে ৬০ শতাংশ। ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়বে ৫৫ শতাংশ।
জানা গেছে, নতুন বেতন স্কেলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রত্যেক সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
এছাড়া ডিজিটাল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার আওতাও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। নতুন বেতন স্কেলে সব গ্রেডের কর্মচারী এই ভাতা পাবেন।
নতুন বেতন স্কেল এক সঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর কারণ হিসেবে বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক সংশ্লেষ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা বলা হয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও একইভাবে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
এদিকে, জুডিসিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। সেটিও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতন স্কেলের মতো ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
সরকার মনে করছে, পর্যায়ক্রমে বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা প্রশমিত করা সম্ভব হবে।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এজন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সরকারের দাবি, মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, নতুন বেতন স্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমএএস/এমকেআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোরকা পরে চুরি করার অভিযোগ তুলে ইসরাইল (৩০) নামে এক যুবককে সারা রাত ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বোরকা পরে চুরি করার কথা প্রচার করা হলেও পুলিশের দাবি, ঘটনাটি রহস্যজনক। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়া গ্রামের সদর মন্ডলের বাড়িতে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরে প্রবেশ করেন ইসরাইল। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ঘরের ভেতর থেকে মোবাইলফোন চুরির চেষ্টা করছিলেন। এসময় ওই বাড়ির সদস্যরা তাাকে দেখতে পান এবং আটকানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ইসরাইল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে বাড়ির সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে ধরে ফেলেন। পরে তার পরনের বোরকা খোলা হলে তিনি পুরুষ বলে নিশ্চিত হন স্থানীয়রা। এরপর তাকে সারারাত ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্মম নির্যাতনে তার হাঁটু ভেঙে যায় এবং কোমড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর জখম হয়। খবর পেয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী ওই যুবকের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। এসময় তারা নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় চরম ক্ষোভ জানিয়ে সেখান থেকে ওই যুবককে উদ্ধার না করেই চলে আসেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দৌলতপুর থানার পুলিশ সেখানে যায়। এর আগেই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত লাগায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরাইলের বিরুদ্ধে এলাকায় আগেও একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। সন্দেহ এড়াতে তিনি নারীদের পোশাক ও বোরকা পরে চুরির চেষ্টা করেছিলেন বলেও তারা দাবি করেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ওই যুবককে নারীদের পোশাক পরা অবস্থায় চোরের অপবাদ দিয়ে স্থানীয়রা বেধড়ক মারধর করেছেন। এতে তার পা ও কোমরে বেশ ভালোভাবে আঘাত লাগে। ওসি আরও বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সেই কারণেও ঘটনাটি ঘটতে পারে। যারা চুরির অভিযোগ করেছেন, তারা চুরির কোনো সুনির্দিষ্ট আলামত দেখাতে পারেননি। নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই যুবকের ভাই সিমারুল বাদী হয়ে ওই বাড়ির মালিক সদর মন্ডলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। আল-মামুন সাগর/এসআর/এএসএম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে শাখা ছাত্রদল। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ থেকে এ অভিযান শুরু হয়। জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা হয়। অভিযান চলাকালে নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় যেন পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানান তারা। আরও পড়ুন নাহিদ ইসলাম / দেশের সব আন্দোলনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল জবির, অথচ তারা মূল্যায়ন পায়নি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; শিক্ষার্থীসহ সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও মশার প্রজননস্থলমুক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা/ছবি: জাগো নিউজ তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা সমাজের সবচেয়ে সক্রিয় অংশ। তারা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের মানুষকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এদিকে সুমন সরদারের নেতৃত্বে নেওয়া এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। কর্মসূচিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, ইয়াসির আরাফাত, মনির হোসেন, রায়হান হোসেন অপু, আল আমিন সোহেল, রবিন মিয়া শাওন, মেহেদী হাসান, আহ্বায়ক সদস্য নাইমুর রহমান, নাইম, সাইফুল, কামরুল, নাইম, ইভান, আশরাফুল, আবু হুয়াইয়া, আকরাম, সৌরভ, সাব্বির, মালেক, রায়হান, মামুন, মিথীল, সিয়ামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। টিএইচকিউ/এমএমকে
নারায়ণগঞ্জের সদ্যবিদায়ী ও নবাগত সিভিল সার্জনের বিদায় ও যোগদান অনুষ্ঠান উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) নার্সদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের জন্য ইতিমধ্যে নার্সদের কাছ থেকে ৭০ হাজার ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগে আগামীকাল সোমবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু চাঁদা তোলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিদায়ী সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান ও নবাগত সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে আসবেন না বলে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হাসান।গত বৃহস্পতিবার একটি হাতে লেখা চাঁদা তোলার নোট প্রথম আলোর হাতে এসেছে। এতে সোমবার বিদায়ী ও নবাগত সিভিল সার্জনের বিদায় ও যোগদান উপলক্ষে সভা আয়োজনের কথা উল্লেখ আছে। সেখানে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার কথাও লেখা আছে। নোটের নিচে নার্সদের নামের তালিকা দেওয়া হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন নার্স কর্মরত। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার কথা ছিল। আজ বিকেল পর্যন্ত নার্সদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নার্স প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে বলা হয়েছিল। অনেকে এই টাকা দিতে আগ্রহী নন। এতে নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তাঁরা বলেন, তাঁরা হাসপাতালে চাকরি করেন। সিভিল সার্জনের বিদায় বা যোগদান অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। এখানে নার্সদের থেকে কেন টাকা নিতে হবে, প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।তবে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রাণী মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেভাবেই হালকা-পাতলা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জনপ্রতি এক হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হলেও যিনি পারবেন, তিনি দেবেন। এখানে জোরের কিছু নেই। পুরো আয়োজনের বিষয়ে তিনি আরএমও নাজমুল হাসানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।অনুষ্ঠানের উপহার ও খাওয়াদাওয়ার জন্য চাঁদা তোলা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আরএমও নাজমুল হাসান। নার্সদের আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের তো ফান্ড নেই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে চাঁদা দিয়ে নিজেরাই অনুষ্ঠান করছিলাম। কিন্তু চাঁদার বিষয়টি সামনে আসার পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত হচ্ছে।’যোগাযোগ করলে বিদায়ী সিভিল সার্জন মুশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তো কোনো ফেয়ারওয়েল চাইনি। আর বিদায় উপলক্ষে চাঁদাবাজি করবে কেন? এটা তো অনৈতিক কাজ। আমি এই অনুষ্ঠান প্রত্যাখান করছি। যাঁদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের টাকা ফেরত দিতে হবে। এ বিষয়ে আরএমও নাজমুল হাসান বলতে পারবে।’চাঁদা তোলার বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন নবাগত সিভিল সার্জন ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এস এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানের কথা হয়েছিল। কিন্তু নার্সদের থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানি না। এটা আমার জন্য বিব্রতকরও। এই অনুষ্ঠানে আমার যাওয়া উচিত হবে না।’২০২২ সালের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মশিউর রহমান। গত ২০ আগস্ট তাঁকে ওএসডি করা হয়। পরে তাঁর জায়গায় নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে এস এম সাখাওয়াত হোসেনকে পদায়ন করা হয়।