ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। পরে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ কথা জানানো হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হবে কিনা—সেটা নিয়ে কিছুদিন ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। আগামী শনিবার ও রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আসর বসছে। এ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানায় ভারত। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়।
এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চললেও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। ১০ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন আদালত। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে—
জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে (কণ্ঠভোটে) দুটি আইন পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠন করা হয়েছে এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তদন্তের পরিধি সম্প্রসারিত করা হয়েছে। অবশ্য বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করেছেন যে, নতুন এই বাহিনী কার্যত ভিন্ন নামে র্যাবেরই রূপ নিতে পারে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিল দুটি সংসদে তোলা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধীদলের সদস্যদের আপত্তির কথা (নোট অব ডিসেন্ট) অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে বলেন, নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী তৈরি করা জনগণ কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। স্থায়ী কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা সাতটি প্রধান আপত্তি তুলে ধরে যুক্তি দেন যে, বিলে প্রথমে র্যাব বিলুপ্ত করে আলাদাভাবে নতুন বাহিনী গঠনের স্পষ্ট বিধান রাখা হয়নি। উল্টো বিলে ধারা ২৭(৩) অনুযায়ী—র্যাবের জনবল, স্থাপনা, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পত্তি, চুক্তি এবং দায়দেনা সরাসরি এসআরবি-তে স্থানান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন র্যাব বিলুপ্ত, নতুন বাহিনী এসআরবি: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারা সতর্ক করে বলেন, এসআরবির বিধিমালা, তদারকি ও পরিচালন প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন না আনলে বিদেশি সরকারগুলো এটিকে র্যাবেরই রূপান্তর হিসেবে দেখতে পারে, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। এছাড়া বিরোধী আইনপ্রণেতারা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে র্যাবের শারীরিক ও ইলেকট্রনিক নথিপত্রের সুরক্ষা, যথাযথ সংরক্ষণ, তালিকাভুক্তকরণ এবং কোনো ধরনের পরিবর্তন বা ধ্বংস থেকে সুরক্ষার জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান। তারা প্রস্তাবিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটির স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন (ধারা ২৪)। কারণ এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সদস্য সচিব হবেন আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক। এর পরিবর্তে তারা প্রস্তাব করেন যে, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এই কমিটি গঠন করা উচিত, যেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিরা থাকবেন। বিরোধীদল এসআরবির গ্রেফতার, তল্লাশি, বাজেয়াপ্তকরণ ও ফৌজদারি তদন্তের ক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও বেশি বাহ্যিক তদারকি এবং বেসামরিক নাগরিকদের আটক রাখার বিষয়ে স্পষ্ট সুরক্ষাকবচের দাবি জানায়। এসব আপত্তির জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন পাসের পরই র্যাব বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এরপর নতুন ব্যাটালিয়ন হিসেবে এসআরবি গড়ে তোলা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দুই বাহিনীর মধ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের সম্পদের অপচয় রোধ করতেই র্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি এসআরবিতে হস্তান্তর করা হবে। নতুন সরঞ্জাম কেনার বদলে সরকার বিদ্যমান সম্পদ পুনর্ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিকায়ন করবে। র্যাবের নথিপত্র সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, নথিপত্র হস্তান্তর একটি বিধিসম্মত প্রক্রিয়া এবং তা নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। প্রস্তাবিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটির পক্ষে যুক্তি দিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, এটি ফৌজদারি অপরাধের জন্য নয়, বরং বিভাগীয় ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়াদি মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ উঠলে তা প্রচলিত আইনেই বিচার করা হবে। আরও পড়ুন র্যাবের বদলে এসআরবি, নতুন বোতলে পুরোনো মদ: সংসদে এমপি নাজিবুর র্যাব বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ২০০৩-০৪ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের একটি ধারার অধীনে অ্যাডহক (অস্থায়ী) ভিত্তিতে র্যাব গঠন করা হয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর আইনি কাঠামোয় নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দেয়। তাই নতুন আইনের মাধ্যমে র্যাবকে এপিবিএন কাঠামো থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এসআরবি কেবল নতুন নামের র্যাব—এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের পরিচালনগত প্রয়োজন এবং সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা মেটাতেই এই নতুন বাহিনী গঠন করা হচ্ছে। এপিবিএন বিল এপিবিএন বিল পাসের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ রদ (বাতিল) করে বাংলায় একটি নতুন আইনি কাঠামো চালু করা হলো এবং এখান থেকে র্যাব সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দেওয়া হলো। নতুন আইনটিতে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন (ট্যুরিস্ট) ব্যাটালিয়ন এবং বিমানবন্দর ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে এপিবিএন কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে এপিবিএনের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাহিনীকে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। এপিবিএন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মনোনীত ভিআইপিদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় সহায়তা করবে। এই প্রথমবারের মতো এই বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC, ১৮৯৮) এবং পুলিশ রেগুলেশন (PRB, ১৯৪৩) অনুযায়ী ন্যূনতম সাব-ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এপিবিএনকে ডিটেনশন সেল (আটক কেন্দ্র), ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে আইনটিতে। এপিবিএন মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) অধীনে পরিচালিত হবে। এপিবিএন সদর দপ্তরে একটি সাইবার সেল এবং গবেষণা ইউনিট স্থাপন করা হবে। আরও পড়ুন র্যাব বিলুপ্ত হয়ে পাস হচ্ছে এসআরবি বিল, সংসদীয় কমিটির অনুমোদন অপারেশনাল চাহিদা অনুযায়ী সরকার বাইরে থেকে পুলিশ বাহিনীর বাইরের পেশাজীবীদের—যেমন আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারবে। বাহিনীতে যোগদানের পর সব সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন আইনে ১৯৭৯ সালের পুলিশ-নিয়ন্ত্রিত আদালত কাঠামোর পরিবর্তে এপিবিএনের বিশেষ ও আপিল আদালতে বিচার বিভাগীয় সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। এপিবিএনের সংক্ষিপ্ত আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্রসফায়ারের অভিযোগ এনে রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বহু বছরের দাবির মুখেই সরকার শেষ পর্যন্ত র্যাব বিলুপ্তির এই পদক্ষেপ নিল। এমওএস/এমএমকে
দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে। সঠিক তথ্য আর দ্রুততম আপডেট নিয়ে প্রথম আলো আছে সব সময় আপনার সঙ্গে। থাকুন ভালোর সঙ্গে, আলোর পথে।