বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিসাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় কোন কোন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেবেন সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘আমার কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।’
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন হবে। এতে ১১টি সদস্য দেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নেবেন।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এর আগে গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশন থেকে ফিরে এলেই তার ভারত সফরের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে।
গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেটে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।
একিউএফ/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির এবার পা রাখলেন সংগীতের জগতে। অভিনয়ের পাশাপাশি এবার সংগীতশিল্পী হিসেবে নতুন পরিচয় তৈরি করলেন তিনি। নিজের প্রথম গান ‘পাবলো’ দিয়ে সংগীতে অভিষেক হয়েছে তার। গানটির বিশেষত্ব হলো-এটি শুধু গেয়েই থেমে থাকেননি হানিয়া। গানটির কথা, সুর ও পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। ফলে ‘পাবলো’ হানিয়ার জন্য হয়ে উঠেছে একেবারেই নিজের ভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ। গান প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের বিনোদন অঙ্গনের একাধিক তারকা হানিয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং তার নতুন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে গানটির শেষ মুহূর্তে এসে দর্শকদের জন্য ছিল আরও একটি চমক। সেখানে দেখা যায় ভারতের আলোচিত অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্তকে। হানিয়ার গানের প্রশংসা করে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছেন রাখি। আরও পড়ুন বক্স অফিস সাফল্যের মাঝেই বিতর্কে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ রাখির এই উপস্থিতি হানিয়ার প্রথম গানকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। দুই দেশের দুই পরিচিত তারকার এই সংযোগ নিয়েও ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। আরও পড়ুন নামী ব্র্যান্ডের পণ্যে পোকা পেলেন অভিনেত্রী অভিনয়ে এরই মধ্যে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন হানিয়া আমির। এবার সংগীতেও নিজের প্রতিভার প্রকাশ ঘটিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করলেন তিনি। ‘পাবলো’ দিয়ে শুরু হওয়া এই পথচলা ভবিষ্যতে তাকে সংগীতের জগতেও নিয়মিত দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এমএমএফ
নওগাঁয় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১০ মাদক ব্যবসায়ীসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ৬১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫০টি ইয়াবা, পাঁচ শতাধিক লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জেলার মহাদেবপুর, মান্দা, পোরশা, পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের নেতৃত্বে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি পুলিশ মহাদেবপুরে অভিযান চালিয়ে ৪০০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। মান্দায় ২৪টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫০টি ইয়াবা ও একটি পালসার মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয় দুজনকে। পোরশায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাদক ও উপকরণ ধ্বংস করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়ামতপুরে ১৫০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন এবং পত্নীতলায় পৃথক দুটি অভিযানে ৩৬টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। একই উপজেলায় আরও পাঁচজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদক পরিবহনে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে জেলার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরমান হোসেন রুমন/এএইচ
রাজধানী ঢাকার দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম রাশেদ ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল গুমের শিকার হন। এরপর থেকে বাবার অপেক্ষায় অনিশ্চয়তার মধ্যেই বেড়ে উঠছে তার ছোট ছেলে রামীমুল ইসলাম রিফাদ। স্বামীর গুমের বিচারের জন্য ছোটাছুটিতে মোহাম্মদপুরে রিফাদের মা রুমা বেগম ২০২১ সালের নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর সাভারের হেমায়েতপুরে পরিবারের বসতভিটাটুকুও চাচার দখলে চলে যায়। ফলে বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে রিফাদ বর্তমানে চাঁদপুরে খালার কাছে থেকে বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এবার সে এসএসসি পরীক্ষার্থী। গুম পরিবারের সন্তান রিফাদের এসএসসি পরীক্ষার জন্য কিছু বই, টেস্ট পেপার প্রয়োজন। রিফাদের বড় ভাই রিমন বিষয়টি জানালে বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন রিফাদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বই তার ভাই রিমনের হাতে পৌঁছে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনিস্টিউট ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ, শেকৃবি ছাত্রদল নেতা শোআইব ইসলাম ও ইয়াসির আরাফাত মিরাজ প্রমুখ। গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠন সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি -১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান। কেএইচ/জেএইচ