স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে পুলিশ। আগে নির্বাচনী দায়িত্বের প্রশিক্ষণ নেননি, এমন সদস্যদের দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) অনুরোধের পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি), সব রেঞ্জের ডিআইজি) উপমহাপরিদর্শক, সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও দেশের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারের এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ছিলেন। পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের একসঙ্গে পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন সিইসি।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব হলো সুন্দর নির্বাচন করা। একইভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। ‘ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল’ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। কমিশন থেকে নির্বাচনের সময় কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না, এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, পুলিশও একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের ইতিবাচক সাড়া থেকেই সেটি বোঝা গেছে। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত কী ফল হলো, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কে কী কাজ করল, কতটা ভালো বা খারাপ করল, তার প্রমাণ পাওয়া যাবে চূড়ান্ত ফলাফলে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে তারা পারে। মানুষের মধ্যে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার ওপর যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এখন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন প্রমাণ করেছে যে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই সক্ষমতা দেখানোর আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পেশাদার পুলিশ বাহিনী এ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়। গাড়ির সংকট রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সময়ে পুলিশের অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে, যার সব কটির প্রতিস্থাপন এখনো সম্ভব হয়নি। প্রশিক্ষণের জন্য ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। পুলিশ তাদের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই তা বহন করার কথা জানিয়েছে। তবে এ ব্যয় তাদের জন্য কষ্টকর হওয়ায় কিছু তহবিল চাওয়া হয়েছে।
সিইসি জানান, পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসার সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ শুরু হবে। আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করেছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। একইভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও চান তিনি। সিইসি বলেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে একটি সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং তাঁর বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন তা করতে পারবে। তাঁর ভাষায়, তাদের প্রতিশ্রুতিতে কোনো ভেজাল নেই।
অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল। তারপরও নির্বাচন হয়েছে। পুলিশের ওপর তাঁর প্রধান আস্থা রয়েছে। পুলিশ যদি তাঁর সঙ্গে সঠিকভাবে কাজ করে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা না দেয়, তাহলে তারা পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। অনেক প্রার্থী থাকেন, একই পরিবারের মধ্যেও একাধিক প্রার্থী থাকেন। এ নিয়ে এলাকায়, গ্রামে গ্রামে বিরোধ ও মারামারি হয়। তবে সহিংসতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি–ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। মাঠের পরিস্থিতি রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রস্তুতির কাজ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন কমিশন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তফসিল এভাবে অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা যায় না। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা দলীয় পদ থাকবে না। নিষিদ্ধ কার্যক্রমে থাকা আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটি দলীয় বা দলভিত্তিক নির্বাচন নয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আইনে যাঁরা যোগ্য, তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। আর আইনের বাধার কারণে যাঁরা যোগ্য নন, তাঁরা পারবেন না। কারা নির্বাচনে যোগ্য আর কারা অযোগ্য, তা আইনেই বলা আছে। আইন অনুযায়ী যোগ্যদের মনোনয়ন বৈধ হবে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সবকিছু বিবেচনা করে কোনো নির্বাচন কখন হবে, পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সব নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন। এখন দলীয় সরকার ক্ষমতায়। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ চাপমুক্তভাবে নির্বাচন করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দলীয় সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যত ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সবই নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রকল্পের অর্থায়ন প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াতের সময় কমবে। আরও পড়ুন সংসদে প্রধানমন্ত্রী / গভীর সাগরে নতুন এলএনজি টার্মিনাল ও ২৬ ব্লকে হবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালুর পরিকল্পনা আছে কি? এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখিত পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী- আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। আরও পড়ুন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর তিনি বলেন, এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে। আশা করি এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব কমাতে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব কমবে এবং গড় গতি বাড়বে। এর ফলে অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে। এমওএস/কেএসআর
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা দল। এ ঘটনায় রাজধানীর বনানী ও মিরপুরে আলফা ই-শপের দুটি শোরুমে অভিযান চালিয়ে ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলফা শপের দুটি শোরুমে অভিযান চালিয়ে ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করেছে অধিদপ্তরের দুটি নিবারক দল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতাও বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের রিসার্চ টিম মাঠপর্যায়ে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর ভিত্তিতে সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে আলফা শপ অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরের দুটি নিবারক দল একযোগে প্রতিষ্ঠানটির দুটি শোরুমে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে সংরক্ষিত ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল জব্দ করা হয়। এনবিআর জানায়, আলফা ই-শপ বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের ফ্যান, ডেকোরেটিভ ফ্যান, ঘর সাজানোর লাইটিং ও ঝাড়বাতি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, এসি, টিভিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কিনে বিক্রি করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ইন্টেরিয়র ডিজাইন টিমের মাধ্যমে অফিস ও বাসার ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজও করা হয়। ক্রেতা আকর্ষণে প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে। পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে পণ্য বিক্রির তথ্যও পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা দল। এনবিআর জানায়, অভিযানে জব্দ করা দলিলাদি ও বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি করপোরেট সেল, শোরুম সেল, বনানী অনলাইন সেল, অনলাইন কল সেল, হোয়াটসঅ্যাপ কল সেল, ওয়েবসাইট সেলসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে আসছিল। পাশাপাশি রাজধানীর বনানী-১১ ও মিরপুর-১২ এলাকায় থাকা দুটি শোরুমের মাধ্যমেও পণ্য বিক্রি করা হয়। এনবিআর জানায়, প্রাথমিকভাবে জব্দ করা দলিলাদি পর্যালোচনা করে প্রায় ২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ফাঁকিকৃত রাজস্ব পরিশোধে মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছে। এসএম/এমএএইচ/
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাড়িতে হাঁশ খেতে এসে জনতার হাতে আটক হওয়া বনবিড়ালের দুটি বাচ্চা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয় এর পাশের এক বাসা থেকে বনবিড়ালের বাচ্চা দুটি উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, শ্রীমঙ্গল আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয়, লাহারপুরের পাশে সমর মোদকের বাসায় হাঁস খেতে বনবিড়াল আসে। পরে হাঁসের চিৎকার শুনে বাসার লোকজন বাইরে এসে দেখতে পান, তিনটি বনবিড়াল হাঁস শিকার করার চেষ্টা করছে। এ সময় বাসার লোকজন বনবিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা করলে মা বনবিড়ালটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে দুইটি বাচ্চা বনবিড়ালকে আটক করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সমর মোদক বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চা বনবিড়াল দুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার করা বনবিড়াল দুটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, বনবিড়ালের বাচ্চা গুলোকে বনে অবমুক্ত করা হবে। মাহিদুল ইসলাম/এসজেডএইচ/জেআইএম