জাতীয়

সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে জকসুর মানববন্ধন

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে জকসুর মানববন্ধন
সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে জকসুর মানববন্ধন

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ব্যানারে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে মেধার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ব্যাহত হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয়করণ, ঘুষ বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হবে পয়সায়’, ‘ভাইভা না মেধা, মেধা মেধা’ এবং ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার তাদের দলীয় লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় বসানোর পাঁয়তারা করছে। এর ফলে নিয়োগে দলীয় রাজনীতির দাসত্ব কায়েম হবে। অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, লিখিত পরীক্ষা আগের মতো বহাল রেখেই নিয়োগপ্রক্রিয়ার যাবতীয় অসংগতি দূর করে স্বচ্ছতা আনতে হবে। কেবল ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কোনো সমাধান নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক—দুই পরীক্ষারই নম্বরের মানবণ্টনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। ১১ থেকে ২০শ গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার নম্বরবণ্টনে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এর মধ্যে ১১ থেকে ১২শ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০, ১৩ থেকে ১৬শ গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ এবং ১৭ থেকে ২০শ গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক দুই পরীক্ষায়ই ২৫ করে নম্বর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান কম থাকলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ক্ষুধা দূরীকরণে ইসলামের বাস্তবমুখী ৫ পদক্ষেপ
ক্ষুধা দূরীকরণে ইসলামের বাস্তবমুখী ৫ পদক্ষেপ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে ৮০ কোটিরও বেশি মানুষ প্রতি রাতে অনাহারে ঘুমাতে যায়। অথচ এক অবিশ্বাস্য বৈপরীত্য হলো, বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রয়োজনের চেয়েও উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদিত হওয়া সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ খাবার অপচয়ের কারণে নষ্ট হচ্ছে।এই খাদ্যাভাব কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; বরং এটি ত্রুটিপূর্ণ বণ্টনব্যবস্থা, অতিভোগবাদ ও অলসতার এক সম্মিলিত সংকট।ইসলাম খাদ্য নিরাপত্তাকে শুধু সাধারণ মানবাধিকার হিসেবে দেখেনি; বরং একে মানবজীবনের অস্তিত্ব রক্ষার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ও মহান আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ পার্থিব নেয়ামত হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।ক্ষুধা নিবারণের যে বাস্তবমুখী রূপরেখা ইসলাম দিয়েছে, তার পাঁচটি মৌলিক দিক তুলে ধরা হলো।সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৬তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সকালে নিজ পরিবারে নিরাপদে ওঠে, যার শরীর সুস্থ থাকে এবং যার কাছে সারা দিনের আহারের সংস্থান থাকে—সে যেন সমগ্র পৃথিবীটাই নিজের অধিকারে পেয়ে গেল।১. খাদ্য সংস্থানকে নিরাপত্তার ভিত্তি গণ্য করাইসলামি জীবনদর্শনে ক্ষুধা নিবারণ ও খাদ্য নিরাপত্তাকে মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।কোরাইশ জাতিকে দেওয়া আল্লাহর বিশেষ কৃপার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অতএব তারা যেন এই গৃহের (কাবা) রবের ইবাদত করে; যিনি তাদের ক্ষুধা থেকে অন্ন দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দান করেছেন।’ (সুরা কুরাইশ, আয়াত: ৩-৪)দৈনন্দিন খাদ্য সংস্থান নিশ্চিত হওয়া একজন মানুষের জন্য কতটা বড় সম্পদ, তা নবীজির একটি হাদিসে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সকালে নিজ পরিবারে নিরাপদে ওঠে, যার শরীর সুস্থ থাকে এবং যার কাছে সারা দিনের আহারের সংস্থান থাকে—সে যেন সমগ্র পৃথিবীটাই নিজের অধিকারে পেয়ে গেল।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৬)চোখের সুস্থতায় খাবার ও সুন্নাহভিত্তিক অভ্যাস২. কায়িক শ্রমের মর্যাদা দেওয়া ইসলামে অলসতা ও অন্যের ওপর বোঝা হয়ে বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ নেই। জীবিকা অন্বেষণকে ইসলাম নিছক বৈষয়িক কাজ হিসেবে না দেখে ইবাদতের মর্যাদায় উন্নীত করেছে।জুমার জামাত শেষ হওয়ার পরপরই জীবিকার সন্ধানে বের হওয়ার তাগিদ দিয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর যখন নামাজ সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধান করো...।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত: ১০)অপর আয়াতে এসেছে: ‘তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন; অতএব তোমরা এর দিগন্ত-প্রান্তরে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক আহার করো।’ (সুরা মুলক, আয়াত: ১৫)পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে আহার তুলে দেওয়াকে আল্লাহর পথে জিহাদের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। একবার এক কর্মঠ যুবককে পাশ দিয়ে যেতে দেখে সাহাবিরা মন্তব্য করলেন, ‘হায়, এই যুবকের শক্তি ও যৌবন যদি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় হতো!’ তখন রাসুল (সা.)  তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন করে বললেন, ‘সে যদি তার ছোট সন্তানদের জীবিকার জন্য বের হয়ে থাকে, তবে সে আল্লাহর পথেই রয়েছে; সে যদি তার বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণপোষণের জন্য বের হয়ে থাকে, তবে সে আল্লাহর পথেই রয়েছে; আর সে যদি অন্যের কাছে হাত পাতা থেকে নিজেকে বাঁচাতে বের হয়, তবে সে আল্লাহর পথেই রয়েছে।’ (ইমাম তাবারানি, হাদিস: ২৮২)অনেকে ‘আল্লাহর ওপর ভরসা’ করাকে অলস বসে থাকার বাহানা বানান। অথচ ইসলামে তাওয়াক্কুল হলো সর্বোচ্চ সাধ্য ব্যয় করে কাজ করার পর ফলাফলের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর সঁপে দেওয়া।নিজের হাতের উপার্জনকে সর্বোত্তম আখ্যা দিয়ে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘নিজ হাতের উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ কখনো গ্রহণ করেনি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে শ্রম দিয়ে উপার্জন করে আহার করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৭২)এমনকি ভিক্ষাবৃত্তির অবমাননা থেকে বাঁচাতে তিনি কাঠ কেটে বিক্রি করাকে অন্যের কাছে হাত পাতার চেয়ে বহুগুণ সম্মানজনক বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৭১)৩. পাখির মতো সক্রিয় জীবিকা অন্বেষণ অনেকে ‘আল্লাহর ওপর ভরসা’ করাকে অলস বসে থাকার বাহানা বানান। অথচ ইসলামে তাওয়াক্কুল হলো সর্বোচ্চ সাধ্য ব্যয় করে কাজ করার পর ফলাফলের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর সঁপে দেওয়া।রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল করতে, তবে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেওয়া হয় তোমাদেরও সেভাবে রিজিক দেওয়া হতো; তারা সকালে শূন্য পেটে বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় ভরা পেটে নীড়ে ফিরে আসে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৪)পাখিরা কখনো বাসায় বসে অলস সময় কাটায় না; ডানা মেলে আহারের সন্ধানে বের হওয়ার মাধ্যমেই তাদের ক্ষুধা নিবারণ হয়।খাদ্য নষ্ট করা ইসলামে একটি গুরুতর অপরাধ৪. শ্রমিকের ন্যায্য পারিশ্রমিক ক্ষুধা দূর করতে হলে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় যুক্ত মেহনতি মানুষের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিকের ঘাম ও অধিকার হরণকারী সমাজের বিরুদ্ধে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, কেয়ামতের দিন আমি তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে স্বয়ং প্রতিপক্ষ হব; তার মধ্যে একজন হলো সেই ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করে তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয়, অথচ তার ন্যায্য পারিশ্রমিক পরিশোধ করে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২২৭)শ্রমিকের পারিশ্রমিক আটকে রাখা বা তাদের শোষণ করাই প্রকারান্তরে তাদের পরিবারকে ক্ষুধার মুখে ঠেলে দেয়।৫. অপচয় রোধ ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বিশ্বের বর্তমান খাদ্যসংকটের বড় কারণ উৎপাদনের ঘাটতি নয়, বরং সম্পদের অপচয় ও অতিভোজন। ইসলাম অপচয়কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘...তোমরা আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)অতিরিক্ত অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই আখ্যা দেওয়া হয়েছে। (সুরা ইসরা, আয়াত: ২৭)সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র মানুষ ভর্তি করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমা খাবারই মানুষের জন্য যথেষ্ট। যদি খেতেই হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা উচিত।স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের নির্দেশ দিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র মানুষ ভর্তি করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমা খাবারই মানুষের জন্য যথেষ্ট। যদি খেতেই হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা উচিত।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০)এমনকি খাদ্য নষ্ট রোধে কোনো প্রাণীকে অপ্রয়োজনে হত্যা করাও নিষিদ্ধ; রাসুল (সা.) শিকারকৃত পাখির আহারযোগ্য অংশ অপচয় না করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৪৩৪৯)ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার জন্য ইসলাম এক সুষম ও সার্বিক কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে—যেখানে অলসতার পরিবর্তে সক্রিয় শ্রমকে ধর্মীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, শ্রমিকের অর্থনৈতিক অধিকারকে সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং থালার শেষ দানাটি পর্যন্ত অপচয় করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে।মানবিক সহমর্মিতা, হালাল উপার্জনের মেহনত এবং পরিমিতিবোধকে জীবনের অভ্যাস বানিয়ে নিলেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মতো বৈশ্বিক সংকট থেকে সমাজ চিরতরে মুক্তি পেতে পারে।মহানবীর প্রিয় খাবার ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
প্রত্যাবর্তনে ইউনাইটেডের বড় জয়, বায়ার্নেরও গোল–উৎসব, কোমোর স্মরণীয় অভিষেক

প্রত্যাবর্তনে ইউনাইটেডের বড় জয়, বায়ার্নেরও গোল–উৎসব, কোমোর স্মরণীয় অভিষেক

আবারও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের

আবারও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের

তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক কার, ফয়সালা করতে মমতা ও ঋতব্রতকে দিল্লিতে তলব

তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক কার, ফয়সালা করতে মমতা ও ঋতব্রতকে দিল্লিতে তলব

আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য
আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য

বিশ্বে প্রতিবছর সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ আত্মহত্যা ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে তাঁরা আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে ‘চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা উঠে আসে। আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।সেমিনারে আলোচকেরা বলেন, পরিবারের কোনো সদস্য, বন্ধু, সহপাঠী বা সহকর্মীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বা লক্ষণ দেখা গেলে তাঁর প্রতি তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া উচিত। এ সময় সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি তাঁর অব্যক্ত কথাগুলো শুনে মানসিক যন্ত্রণা প্রশমনে সহায়তা করতে হবে। সমস্যার সমাধানের পথ বের করার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান তাঁরা।সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য তুলে ধরে বলেন, প্রতিবছর বিশ্বে সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান। বিশ্বজুড়ে সংঘটিত আত্মহত্যার প্রায় ৭৭ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।ডা. ফারজানা রহমান বলেন, সর্বোচ্চ মানের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। আত্মহত্যামূলক আচরণকে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগও নিশ্চিত করতে হবে।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিটিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, প্রচলিত ধারণা পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এর অর্থ হলো এমন বহুমাত্রিক নীতির পক্ষে কথা বলা, যা মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ায় এবং প্রয়োজনে সহায়তা প্রদান করে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি সহানুভূতি ও করুণা জাগিয়ে তোলা দরকার। আত্মহত্যার চিন্তা ও অনুভূতি প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও কষ্টের। আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতি, তাঁর কথা শোনা ও সমর্থন দেওয়া অপরিহার্য।জয়শ্রী জামান বলেন, অধিকাংশ মানুষ জানেন না বা বিশ্বাস করেন না যে আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়। প্রচলিত মিথ এবং অসংখ্য মিথ্যা ও ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায়। কেউ আত্মহত্যা করতে চাইলে নানাভাবে সংকেত দেন। এ সময় যদি তাৎক্ষণিক তাঁর প্রতি সাড়া দেওয়া যায়, তাহলে তা প্রতিরোধ সম্ভব।সেমিনারে বক্তব্য দেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যাপক (অব.) কাজী লুতফুন নেসা, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস এবং ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত।অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপপ্রধান বার্তা সম্পাদক কবি জুনান নাশিত এবং বিটিএফের উপদেষ্টা, লেখক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মী এমিলি জামান। নৃত্য পরিবেশন করেন সৈয়দা তাসফিয়া জাহান সাবা।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইনারহুইল ক্লাব অব লবেলিয়া ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর ফাতিমা হাসনাত।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে গোয়েন্দা ছাড়পত্রের শর্ত অযৌক্তিক

সাবেক বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্টের জন্য নতুন করে গোয়েন্দা ছাড়পত্রের শর্ত অযৌক্তিক

গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র‍্যাবের 
প্রায় সবই থাকছে আইনে

গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র‍্যাবের প্রায় সবই থাকছে আইনে

খিলগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

খিলগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

রবীন্দ্রনাথের গান ও ভাবনা নিয়ে ‘এ আমির আবরণ’
রবীন্দ্রনাথের গান ও ভাবনা নিয়ে ‘এ আমির আবরণ’

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায় ছায়ানট মিলনায়তন। আয়োজন শুরু হতে হতে দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা ও ইমতিয়াজ আহমেদের সংগীতসন্ধ্যা ‘রবীন্দ্রনাথের গান ও এ আমির আবরণ’ দেখতে এসেছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে তরুণেরা। অনেকেই এসেছিলেন পরিবারসহ।রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে সাজানো দুই ঘণ্টার পরিবেশনায় মুগ্ধতা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন শ্রোতারা।রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন প্রবন্ধের সংকলন এ আমির আবরণ। যেখানে রবীন্দ্রনাথের গানের বাণী, ভাবনা ও নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কবিকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেই বইয়ের নামেই এ আয়োজন। গানের বিরতিতে শঙ্খ ঘোষের এ আমির আবরণ বই থেকে পাঠ করেন রাশেদ হাসান। শঙ্খ ঘোষের চোখে রবীন্দ্রনাথকে দেখা এবং রবীন্দ্রনাথের গান শোনা—সব মিলিয়ে সাজানো হয় আয়োজনটি।যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্কৃতিচর্চার প্রতিষ্ঠান আনন্দধারা আর্টস ইউকের আয়োজনে দ্বৈত কণ্ঠে ‘ওই আসনতলে’ গান দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল আটটি অংশে। সূচনা পর্বের পর লাইসা আহমদ লিসা গেয়ে শোনান ‘মধুর, তোমার শেষ যে না পাই’ ও ‘বাজাও আমারে’। দ্বিতীয় পর্বে ইমতিয়াজ আহমেদ পরিবেশন করেন ‘অধরা মাধুরী ধরেছি’ ও ‘মধুর মধুর ধ্বনি বাজে’।তৃতীয় পর্ব শুরু হয় দ্বৈত পরিবেশনায় ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’ গান দিয়ে। এরপর লিসা পরিবেশন করেন ‘বাজিল কাহার বীণা’ ও ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’। চতুর্থ পর্বে ইমতিয়াজ আহমেদ শোনান ‘জীবনে যত পূজা হলো না সারা’ ও ‘বড়ো বেদনার মতো’।এভাবেই ক্রমে দুই শিল্পী যৌথ ও এককভাবে পরিবেশন করেন ‘তুমি কেমন করে গান করো হে’, ‘তোমায় গান শোনাব’, ‘তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে’, ‘যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা’, ‘তোমায় নতুন করে পাব ব’লে’, ‘আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায়’, ‘যেতে যেতে একলা পথে’, ‘কার মিলন চাও বিরহী’, ‘আজি ঝড়ের রাতে’। আয়োজনে শেষ গান হিসেবে পরিবেশন করা হয় ‘গানের ভেতর দিয়ে যখন দেখি’। সবশেষে জাতীয় সংগীতের প্রতি দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরের বিচার শুরুর আদেশ

সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়েরের বিচার শুরুর আদেশ

এক সাবস্ক্রিপশনে চ্যাটজিপিটি-জেমিনাই-ক্লডের মতো এআই সেবা দেবে গ্রামীণফোন ও রবি

এক সাবস্ক্রিপশনে চ্যাটজিপিটি-জেমিনাই-ক্লডের মতো এআই সেবা দেবে গ্রামীণফোন ও রবি

দেশে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন

দেশে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন

0 Comments