পুরোপুরি আইন মেনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন পাওয়া বাসগুলো সড়কে চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।
স্লিপার এসি বাসের নির্বিঘ্নে চলাচল বন্ধ, আটক, জব্দ, ডাম্পিং বা অন্য কোনোভাবে বিঘ্ন না ঘটাতে নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে স্লিপার এসি বাস সড়কে চলাচল করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বিআরটিএর আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, বিআরটিএ বিভিন্ন ক্যাটাগরির যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে থাকে। এর মধ্যে স্লিপার বাস হিসেবে কোনো ক্যাটাগরি নেই। বিআরটিএ হতে কোনো স্লিপার বাসের (ডাবল ডেকার) অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেয়নি। স্লিপার বাসের অনুমোদন নেই, রেজিস্ট্রেশন নেই, রুট পারমিট নেই, আইনে নেই—এগুলো চলাচলের অনুমতি পাবে কীভাবে। এসব বাস চলাচল বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি।
রাফিউল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন ও ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা অনুসরণ করে যেসব বাসের রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদন বিআরটিএ দিয়েছে, সে বাসগুলো সড়কে চলতে কোনো বাধা দেওয়া যাবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির মালিকপক্ষের আইনজীবী মাহফুজার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অমনি (বড় ও মধ্যম) বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে স্লিপার বাসগুলো বৈধভাবেই সড়কে চলাচল করে আসছে। তবে এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুলাই হাইকোর্ট তিনটি বিষয়ে বিআরটিএর প্রতি নির্দেশ দেন। স্লিপার বাস মানসম্মত কি না, তা এখনো নিরূপণ পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই বিআরটিএ ১১ আগস্ট এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মূলত স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা শুরু করে। যে কারণে মালিকপক্ষ আবেদনটি করে।
বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সদস্যদের মালিকানায় থাকা আইন মেনে বিআরটিএর বৈধ অনুমোদন পাওয়া কোনো বাস আটক, জব্দ বা ড্যাম্প না করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী মাহফুজার রহমান। তিনি বলেন, বৈধ অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় বিআরটিএ চাইলে অমনি বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া স্লিপার বাসগুলো সড়কে চলাচল করতে পারে। রেজিস্ট্রশনের ক্ষেত্রে স্লিপার বাস হিসেবে ক্যাটাগরি না থাকায় অমনি বাস হিসেবে এসব বাসের রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে বিআরটিএ।
অবশ্য বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, অমনি বাস হচ্ছে সিঙ্গেল ডেকার বাস। অমনি বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে কাঠামো পরিবর্তন করে ডাবল ডেকার স্লিপার বাসে পরিণত করা হয়েছে। যা সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।
আদালতে বিআরটিএর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম। বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম শাহজাহান আকন্দ ও মাহফুজার রহমান। রিটের পক্ষে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান।
সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচলের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গত বছর ১৩ জানুয়ারি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন। পরবর্তী সময়ে রিট আবেদনকারী এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুলাই আদালত কয়েক দফা নির্দেশসহ আদেশ দেন। তাতে কতটি স্লিপার বাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অননুমোদিত ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা এবং তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে স্লিপার বাসের বর্তমান পরিস্থিতি ও নজরদারির জন্য নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদন দাখিল করে বিআরটিএ। অন্যদিকে স্লিপার এসি বাসের নির্বিঘ্ন চলাচলে বাধা না দিতে নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির পক্ষে ওই আবেদন করা হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায় ছায়ানট মিলনায়তন। আয়োজন শুরু হতে হতে দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিল্পী লাইসা আহমদ লিসা ও ইমতিয়াজ আহমেদের সংগীতসন্ধ্যা ‘রবীন্দ্রনাথের গান ও এ আমির আবরণ’ দেখতে এসেছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে তরুণেরা। অনেকেই এসেছিলেন পরিবারসহ।রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে সাজানো দুই ঘণ্টার পরিবেশনায় মুগ্ধতা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন শ্রোতারা।রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে শঙ্খ ঘোষ লিখেছেন প্রবন্ধের সংকলন এ আমির আবরণ। যেখানে রবীন্দ্রনাথের গানের বাণী, ভাবনা ও নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কবিকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেই বইয়ের নামেই এ আয়োজন। গানের বিরতিতে শঙ্খ ঘোষের এ আমির আবরণ বই থেকে পাঠ করেন রাশেদ হাসান। শঙ্খ ঘোষের চোখে রবীন্দ্রনাথকে দেখা এবং রবীন্দ্রনাথের গান শোনা—সব মিলিয়ে সাজানো হয় আয়োজনটি।যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্কৃতিচর্চার প্রতিষ্ঠান আনন্দধারা আর্টস ইউকের আয়োজনে দ্বৈত কণ্ঠে ‘ওই আসনতলে’ গান দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। পুরো অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল আটটি অংশে। সূচনা পর্বের পর লাইসা আহমদ লিসা গেয়ে শোনান ‘মধুর, তোমার শেষ যে না পাই’ ও ‘বাজাও আমারে’। দ্বিতীয় পর্বে ইমতিয়াজ আহমেদ পরিবেশন করেন ‘অধরা মাধুরী ধরেছি’ ও ‘মধুর মধুর ধ্বনি বাজে’।তৃতীয় পর্ব শুরু হয় দ্বৈত পরিবেশনায় ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’ গান দিয়ে। এরপর লিসা পরিবেশন করেন ‘বাজিল কাহার বীণা’ ও ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’। চতুর্থ পর্বে ইমতিয়াজ আহমেদ শোনান ‘জীবনে যত পূজা হলো না সারা’ ও ‘বড়ো বেদনার মতো’।এভাবেই ক্রমে দুই শিল্পী যৌথ ও এককভাবে পরিবেশন করেন ‘তুমি কেমন করে গান করো হে’, ‘তোমায় গান শোনাব’, ‘তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে’, ‘যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা’, ‘তোমায় নতুন করে পাব ব’লে’, ‘আমার ভাঙা পথের রাঙা ধুলায়’, ‘যেতে যেতে একলা পথে’, ‘কার মিলন চাও বিরহী’, ‘আজি ঝড়ের রাতে’। আয়োজনে শেষ গান হিসেবে পরিবেশন করা হয় ‘গানের ভেতর দিয়ে যখন দেখি’। সবশেষে জাতীয় সংগীতের প্রতি দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা পরীক্ষা করে দেখবে বাংলাদেশ। তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) ভারতীয় পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস কবে চালু হবে, সেই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।বৃহস্পতিবার রেলভবনে তিন দিনব্যাপী আইজিআরএম বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক। তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসব ট্রেন বন্ধ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এগুলো বন্ধ করেছে। ফলে চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে জিয়াউল হক বলেন, ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। কারণ, পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলেনি। নতুন রুটে ট্রেন চালাতে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।জিয়াউল হক আরও বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রাণালয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, এবারের বৈঠকে এ দুটি ট্রেন চালুর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল না। তবে গত বছরের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান জিয়াউল হক। তিনি বলেন, আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে হবে। কিন্তু এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কি না, জানতে চাইলে জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের সম্পর্ক খারাপ ছিল না, এখনো ভালো আছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনে হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। এবার পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ে যেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হবে।
রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে অভিযান চালিয়ে হেরোইন, গাঁজা ও টাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ডিএনসি জানিয়েছে, রাকিব ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাকিব পালিয়ে গেছেন।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আল-আমিন ওরফে সাকিব (২৩) ও মো. মোজাম্মেল হক (৩২)।ডিএনসি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, বনানী থানার কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠ এলাকায় মো. কালু মিয়ার ভাড়াটে মো. রাকিব ইসলাম তাঁর সংঘবদ্ধ দল নিয়ে তিন কক্ষের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রি করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৫ গ্রাম হেরোইন, ২ কেজি গাঁজা, মাদক কারবারের ১৭ হাজার টাকাসহ আল-আমিন ও মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি রাকিব ইসলাম পালিয়ে যান।অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁরা জানান, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের প্রকৃত মালিক রাকিব ইসলাম। তাঁরা রাকিব ইসলামের পক্ষে অবৈধ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার কাজে সহযোগিতা করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত, ২০২৬) অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম চলছে।এর আগে গত ২৯ আগস্ট কড়াইল বস্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মমিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক ব্যবসার ৪৩ লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।