সকালের নরম রোদ মেখে মেঠোপথ ধরে স্কুলে আসছে শিশুরা। কারো হাতে বই, কারো কাঁধে স্কুলব্যাগ। কারো চোখে নতুন দিনের স্বপ্ন, আবার কারো মুখে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার উচ্ছ্বাস। কিন্তু পথের নির্মল বাতাস পেরিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকতেই বদলে যায় সেই পরিচিত দৃশ্য। বাতাসে ভেসে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। কেউ নাক চেপে ধরে, কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়। গন্ধের উৎস বিদ্যালয়ের মাঠের পাশের জমে থাকা দূষিত পানি।
এরই মধ্যে স্কুলের ঘণ্টা বেজে গেছে। শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশে শিক্ষকরা। শুরু হয়েছে সকালের সমাবেশ। জাতীয় সংগীতের সুরে মুখর হওয়ার কথা পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। লাল-সবুজের পতাকা ধীরে ধীরে উঠছে আকাশের দিকে। কিন্তু সেই গানের সুরের মধ্যেও বারবার বাধা হয়ে আসছে মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য মিশ্রিত পানির তীব্র দুর্গন্ধ।

এ চিত্র ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ৪০ নম্বর বাঁশাটি চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির সঙ্গে আশপাশের মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও বর্জ্য মিশে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। মাঠের একটি অংশ এখন শিশুদের খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী।
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সাধারণত শিশুদের সবচেয়ে আনন্দের জায়গাগুলোর একটি। ক্লাসের ফাঁকে সেখানে ছোটাছুটি করার কথা, দল বেঁধে খেলাধুলা করার কথা। শরীরচর্চা, ক্রীড়া কিংবা জাতীয় দিবসের বিভিন্ন আয়োজনও হওয়ার কথা মাঠটিকে ঘিরে, কিন্তু বাঁশাটি চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা যেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে মাঠের একাংশে জমে আছে নোংরা পানি। পানির ওপর ভাসছে ময়লা-আবর্জনা। আশপাশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় মাটি কাদায় পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও পানির রংও বদলে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুলের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশে গড়ে ওঠা গরু ও মুরগির খামার থেকে বের হওয়া বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় বিভিন্নভাবে বিদ্যালয়ের মাঠের দিকে চলে আসছে। বৃষ্টির পানি ও অন্যান্য প্রবাহের সঙ্গে মিশে সেই বর্জ্য জমা হচ্ছে নিচু জায়গায়। ফলে একদিকে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বর্জ্য মিশে পানিকে আরও দূষিত করে তুলছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তি গরু ও মুরগির খামার করেছেন। সেখান থেকে মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য ময়লা বিদ্যালয়ের সীমানা দিয়ে শিশুদের খেলার মাঠে এসে পড়ছে।
তিনি বলেন, এসব বর্জ্য থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায়। এর কারণে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষক-কর্মচারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। অফিসকক্ষে বসা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলি করতেও অসুবিধা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য এরইমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের মাঠের এমন পরিবেশে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশুরা। যেসব শিশু সকালবেলা বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে, তাদের একটি অংশকে প্রতিদিন দুর্গন্ধযুক্ত পানির পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয়। খেলাধুলার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পাশে দূষিত পানি জমে থাকলে তা শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার এবং বিভিন্ন ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
অভিভাবক সাথী আক্তার বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো হয় পড়াশোনা করার পাশাপাশি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য। কিন্তু বিদ্যালয়ের মাঠের এই অবস্থা দেখে তারা চিন্তিত। কখন শিশুরা কোনো রোগে আক্রান্ত হয়, সেই ভয় থাকে।

আরেক অভিভাবক জহুরা বেগম বলেন, মুরগির খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে শুধু খামারের আশপাশ নয়, পুরো এলাকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যালয়ের মতো সংবেদনশীল জায়গার পাশে এমন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, বছরের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির পানি জমে মাঠের নিচু অংশ প্লাবিত হয়। সেই পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। এর সঙ্গে আশপাশের বর্জ্য মিশে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণচন্দ্র বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খেলার মাঠের যে অংশে পানি জমে থাকে, সেখানে মাটি ভরাট করে ফুলের বাগান তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মুরগির খামারের মালিকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
প্রশাসনের এমন উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। তবে তাদের প্রশ্ন, শুধু মাঠের একটি অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করলেই কি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে? পানি কোথা থেকে আসছে, কোথায় যাচ্ছে, খামারের বর্জ্য কীভাবে বিদ্যালয়ের মাঠে পৌঁছাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেসব বিষয়ও সমাধানের আওতায় আনা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে জমে থাকা দূষিত পানি ও বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মাঠের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। আশপাশের খামারগুলোর বর্জ্য যাতে বিদ্যালয়ের মাঠ কিংবা আশপাশের পরিবেশে না আসে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
শিশুদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ কোনো বিলাসিতা নয়, এটি তাদের অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের।
হোসাইন সুলভ/এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির অবস্থান কী হবে—তা স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ, দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। আরও পড়ুন যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যে কোনো দলের যোগ্যতা থাকা সব বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দল সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা। আরও পড়ুন তথ্য উপদেষ্টা / শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ’লীগের নেতাকর্মীরা তিনি বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের বার্তা কী—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মেসেজ ক্লিয়ার। যেহেতু এটি দলীয় নির্বাচন নয়, ফলে এই নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যাদের যোগ্যতা আছে আইন অনুযায়ী তারা সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। আরএমএম/এমকেআর
ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সময়টা আসলেই ভালো যাচ্ছে না! পাকিস্তান জাতীয় দল এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে হেরে গেছে, এজবাস্টনে সিরিজের শেষ টেস্টেও রয়েছে চাপে। এর সঙ্গে মাঠের বাইরে নানা বিতর্ক তো আছেই। এবার সামনে এল ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিব্রতকর এক পরিস্থিতিতে পড়ার খবর। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের যুব ক্রিকেটারদের ইংল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থী ভেবে কিছু বিক্ষোভকারী ঘিরে ধরেছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে। ঘটনার সূত্রপাত পোর্টসমাউথের ম্যারিয়ট হোটেলকে ঘিরে। সেখানে আশ্রয়প্রার্থীরা অবস্থান করছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হোটেলের বাইরে জড়ো হন একদল বিক্ষোভকারী। আসলে সেই হোটেলে ছিলেন পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ক্রিকেটার ও স্টাফরা।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০ জন পুরুষ হোটেলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের দেখে বিক্ষোভকারীদের সন্দেহ হয়, তাঁরা আশ্রয়প্রার্থী। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তিরা পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় ও স্টাফ।পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে যান ইংল্যান্ডের রিফর্ম পার্টির কাউন্সিলর জর্জ ম্যাডউইক। তিনি হোটেলে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্টাফ ও বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন। এরপর ধীরে ধীরে সেখান থেকে সরে যান বিক্ষোভকারীরা।ইংল্যান্ড টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলছে পাকিস্তানের যুব দলম্যাডউইক গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমি দলের কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি খুব ভালোভাবে বুঝেছেন। এরপর আমি বিক্ষোভকারীদের বলেছি, “আপনারা ভুল করছেন। এটা একটি ক্রিকেট দল।” কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা চলে যায়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’ম্যাডউইক আরও বলেন, ‘পোর্টসমাউথের মানুষ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। একই কোম্পানির একটি কোচে করে প্রায় ৪০ জন বিদেশি সেখানে আসছিলেন বলে খবর ছিল।’ গত রোববার এ নিয়ে সংঘর্ষও হয়। সেদিন ফ্রান্স থেকে একটি ছোট নৌকায় করে আশ্রয়প্রার্থীরা পোর্টসমাউথে পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।পাকিস্তানের যুব ক্রিকেটারদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার পর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) পাকিস্তান ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি দলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে তারা।ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল এরই মধ্যে একটি চার দিনের ম্যাচ খেলেছে। আরুন্ডেলে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১০ রানে হেরেছিল পাকিস্তান।এরপর গতকাল দুই দল মুখোমুখি হয় যুব ওয়ানডেতে। সেখানে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডকে ১৭৭ রানে হারায় তারা। সিরিজে আরও তিনটি যুব ওয়ানডে বাকি।অ্যামিস থেকে হারমান, ওয়ানডে অভিষেকের ২০ সেঞ্চুরিয়ান
আগামী ২৯ অক্টোবর জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ইসি তফসিল চূড়ান্ত করার পর নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপনির্বাচনের সময়সূচি সাংবাদিকদের জানান।ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর।প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৮ অক্টোবর। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ অক্টোবর।এরই মধ্যে এ আসনের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দেলাওয়ার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর দেলাওয়ার হোসেন পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলাওয়ারএই আসনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন দলটির পক্ষ থেকে তা এখনো জানানো হয়নি। আলোচনায় আছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ভাই মির্জা ফয়সাল আমীন এবং মেয়ে শামারুহ মির্জা।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়েছে