জাতীয়

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে দিঘলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
  • হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেয়াল ভাঙা এবং ফাটল
  • জনবল সংকট রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে

খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। একদিকে হাসপাতালে জনবল সংকট অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা সেবা। স্বাস্থ্য সহকারী পদ, কুক এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মী সংকটের কারণে হাসপাতাল থাকে অপরিচ্ছন্ন। নানা জটিলতার মধ্যে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন রুম ও আবাসিক রোগীদের ওয়ার্ডেও বিভিন্ন স্থানে দেয়ালের ওপর থেকে ভেঙে পড়ছে পলেস্তার। অনেক রুম পরিত্যক্ত বিধায় ব্যবহার করা হচ্ছে না। বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। পাশে একটি নতুন ভবন হলেও জায়গা সংকটের মধ্যে চলছে চিকিৎসাসেবা। অপরিষ্কার অবস্থায় রয়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান। রয়েছে একটি মাত্র এম্বুলেন্স। কিছুদিন আগে ড্রাইভার নিয়োগ হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আউটডোরে চলে চিকিৎসাসেবা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির ৪০টি পদের মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ১৩টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৩টি পদ পূর্ণ রয়েছে, তৃতীয় শ্রেণির ৮৮টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪০টি পদ এবং চতুর্থ শ্রেণির ২২টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২০টি পদ। হাসপাতালে নিরাপত্তা প্রহরী নেই। নেই কোনো কুক ও আনসার সদস্য। নেই ওয়ার্ড বয়। আউটসোর্সিং কর্মীদের দিয়ে চলছে অস্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের কাজ। স্টোর কিপার না থাকায় হচ্ছে জটিলতা। স্বাস্থ্য সহকারীর ২৯টি পদের ২৫টি রয়েছে শূন্য। শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট দুইটি পদের একটি শূন্য। একজন কনসালটেন্ট সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার আসেন রোগী দেখতে।

আরও জানা যায়, গত এক মাস ধরে হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। আর আউটডোরে থাকেন ৪৫০ থেকে ৫০০ জন রোগী। তবে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী ৪৭ জন রোগীর বেশী ডায়েট লিস্ট করা সম্ভব হয় না। হাসপাতাল থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৭ পদের ওষুধ রোগীদের সরবরাহ করা হয়। প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার সিজার করা হয়।

হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী পদ, নিরাপত্তা প্রহরী, কুক এবং ওয়ার্ড বয় হাসপাতালে নেই। ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা দিতে গেলে স্বাস্থ্য সহকারী প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনভিজ্ঞ আউটসোর্সিং কর্মীদের দিয়ে সে কাজ করাতে হয়। অনেক আউট সোর্সিং কর্মীরা কোম্পানি থেকে সঠিক সময়ে বেতন না পাওয়ায় কাজ ছেড়ে চলে গেছে। সব মিলিয়ে নানারকম জটিলতায় ভুগছে এই হাসপাতাল।

তারা আরও বলেন, দিঘলিয়া উপজেলার ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র। তারা স্বল্প খরচে চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলেও অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কম জটিল সার্জারিগুলো করা হচ্ছে। হাসপাতালে সিজার, নরমাল ডেলিভারি রোগী এবং হার্নিয়া অপারেশন করাও হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সফুরা খাতুন বলেন, আমি দীর্ঘদিন শ্রমিকের কাজ করেছি। এখন মাঝে মাঝে হাড়ের সমস্যায় ভুগি। এজন্য মাসে এক-দুইবার হাসপাতালে আসতে হয়। একবার হাসপাতালে ভর্তিও হতে হয়েছে। তবে হাসপাতালে থাকার মতো অবস্থা নেই। কিন্তু ডাক্তার দেখালে এখান থেকে কিছু ওষুধ পাওয়া যায়। তবে দামি ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয় বলে তিনি জানান।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগী জসিম মিয়ার স্বজন আলতাফ শেখ বলেন, মাঝে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসি বড় ভাইকে নিয়ে। টেস্ট করে জানতে পারি ডেঙ্গু হয়েছে। পরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। তবে হাসপাতালের অনেক স্থান থেকে দেয়াল ভেঙে ভেঙে পড়েছে। অনেক রুম পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। থাকতে ভয় লাগে।

আউটডোরে কথা হয় জেসমিন খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, গাইনি সমস্যা নিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছি। ডাক্তার পেয়েছি। চিকিৎসা নিতে সমস্যা হয়নি। তবে হাসপাতালের পরিবেশ আরেকটু ভালো করা দরকার। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ দরিদ্র। সবার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না।

দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা কনডেমনেশন প্রক্রিয়ায় রয়েছি। এই ভবন অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। ওয়ার্ডে রোগী রাখা যায় না, ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দায় রোগী রাখতে হয়। এছাড়া জনবল সংকট তো রয়েছেই। স্বাস্থ্য সহকারী পদ রয়েছে ২৯ টি। কিন্তু সেখানে জনবল রয়েছে মাত্র চারজন। এছাড়া দপ্তরেও জনবল সংখ্যার ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে সব সময় আলোচনা চলছে।’ তবে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এই ঘাটতি আর থাকবে না বলে তিনি জানান।

খুলনার সিভিল সার্জন মাহফুজা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘হাসপাতালের বিষয়ে অবগত রয়েছি। এটা আর মেরামত করতে চাচ্ছি না। ওখানে নতুন করে ভবন নির্মাণের প্রয়োজন। আমরা সে প্রক্রিয়ায় রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দিঘলিয়াতে নয়, জেলার নয়টি উপজেলাতে জনবল ঘাটতি রয়েছে। এমনকি আমার অফিসেও জনবল ঘাটতি। নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে জনবল সংকট কিছুটা দূর হবে।’

আরিফুর রহমান/কেজে/জেআইএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চিন্ময় কৃষ্ণের মা মারা গেছেন
চিন্ময় কৃষ্ণের মা মারা গেছেন

কারাগারে থাকা বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রাণী ধর (৭১) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মেখল পুণ্ডরিক ধামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সন্ধ্যা রাণী ধর সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার মৃত্যুর বিষয়টি হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুসে সংক্রমণ, নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন সন্ধ্যা রাণী ধর। প্রায় এক মাস চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তাকে পুণ্ডরিক ধামে নেওয়া হয়। আরও পড়ুন দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন মৃত্যুর আগে গুরুতর অসুস্থ মাকে দেখতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য বুধবার কারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করেছিল পরিবার। চিন্ময়ের বড় ভাই রঞ্জন কুমার ধর বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসা শেষে তাকে পুণ্ডরিক ধামে নিয়ে আসা হয়েছিল। পুণ্ডরিক ধাম সূত্র জানায়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে সেখানেই সন্ধ্যা রাণী ধরকে সমাধি দেওয়া হবে। এমআরএএইচ/এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
রোনালদোর গোলে ৮৭ বছরের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ আল নাসরের

রোনালদোর গোলে ৮৭ বছরের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ আল নাসরের

রাজবাড়ীর দুই নৌপথে পুরোনো ফেরি, মাঝনদীতেই বিকল হচ্ছে ইঞ্জিন

রাজবাড়ীর দুই নৌপথে পুরোনো ফেরি, মাঝনদীতেই বিকল হচ্ছে ইঞ্জিন

গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতায় বিশ্বসেরা সিঙ্গাপুর, শীর্ষ দশে এশিয়ার পাঁচ দেশ

গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতায় বিশ্বসেরা সিঙ্গাপুর, শীর্ষ দশে এশিয়ার পাঁচ দেশ

জাবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’
জাবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মহেশ’

গ্রামবাংলার শোষিত মানুষের নীরব আর্তনাদ, সামন্ততান্ত্রিক সমাজের নির্মম শোষণ এবং এক হতদরিদ্র কৃষক ও তার অবলা প্রাণীর মধ্যকার অকৃত্রিম ভালোবাসার ট্র্যাজিক রূপ ফুটে উঠেছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গল্প ‘মহেশ’-এ। তীব্র অনাহার, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যে গফুর ও তার পোষা বলদ মহেশের আত্মিক বন্ধন বাংলা সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।গত ৩১ আগস্ট বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার পাঠচক্রে আলোচনা হয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘মহেশ’ নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ১০ নম্বর কক্ষে এই পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। গ্রন্থআশ্রমের সহযোগিতায় আয়োজনে মূল আলোচক ছিলেন পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মারিয়া মুরাদ।শুরুতে আলোচক মারিয়া মুরাদ গল্পের প্রেক্ষাপট, তৎকালীন জমিদার ও সমাজপতিদের শোষণ-নিপীড়ন এবং দরিদ্র কৃষক গফুরের নিঃস্ব জীবনের হাহাকার বিশদভাবে তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে, এক ফোঁটা পানি ও সামান্য খড়ের জন্য গফুরের আকুতি, অনাহারক্লিষ্ট মহেশের কষ্ট এবং শেষ পর্যন্ত অসহায়ত্ব ও ক্ষোভের মুখে মহেশের মর্মান্তিক পরিণতি।যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “মহেশ” গল্পের মধ্য দিয়ে কেবল এক দরিদ্র কৃষকের হাহাকার দেখাননি; বরং দেখিয়েছেন কীভাবে তৎকালীন সমাজব্যবস্থা, জাতপাত ও ধর্মের ভণ্ডামি প্রান্তিক মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে ফেলে। গফুরের সেই আর্তনাদ—“মহেশ আমার ছেলে, ও যে কথা কইতে পারে না”—আজও সমাজের অসংগতি ও নির্মম বাস্তবতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ। সাহিত্যের এমন ক্ল্যাসিক রচনা পাঠের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের চিন্তার পরিধি আরও শাণিত ও মানবিক হতে পারে।’আলোচনায় উপস্থিত বন্ধুরা গল্পের চরিত্র বিশ্লেষণ, সমাজকাঠামো এবং সম্পর্কের মানবিক দিকগুলো নিয়ে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও পাঠ-অনুভূতি প্রকাশ করেন। প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনা ও ধর্মের অনুশাসনকে ব্যবহার করে দুর্বলকে কোণঠাসা করার যে চিত্র গল্পটিতে রয়েছে, তা বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়েও প্রাণবন্ত মতবিনিময় হয়।পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৈয়দ সালমান হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সিফাত আরেফিন, বন্ধু সাকিব আহমেদসহ বন্ধুসভার অন্যান্য সদস্যরা।পাঠচক্রের উদ্দেশ্য তুলে ধরে অর্থ সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ জানান, তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, চিন্তা করার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করা এবং সাহিত্যের মাধ্যমে মানবিক সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই বন্ধুসভা নিয়মিত এ ধরনের পাঠচক্রের আয়োজন করে আসছে।সভাপতি, জাবি বন্ধুসভা

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
বিটিএসের নতুন রেকর্ড

বিটিএসের নতুন রেকর্ড

টেকসই জীবনযাপনে আজ থেকেই শুরু করুন ছোট ছোট এই ৯ অভ্যাস

টেকসই জীবনযাপনে আজ থেকেই শুরু করুন ছোট ছোট এই ৯ অভ্যাস

২২ বছরের ঘর, স্বামীর কবর—সবই কি ছেড়ে যেতে হবে ৭৮ বছর বয়সী জয়েসকে

২২ বছরের ঘর, স্বামীর কবর—সবই কি ছেড়ে যেতে হবে ৭৮ বছর বয়সী জয়েসকে

ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেমন হলো আনচেলত্তির ব্রাজিল দল
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কেমন হলো আনচেলত্তির ব্রাজিল দল

২৬ জনের স্কোয়াডে আটজন নতুন মুখ। খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৪.৪ বছর। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি কি তাহলে নতুন কোনো চিন্তাভাবনা করছেন?আন্তর্জাতিক বিরতিতে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। সে জন্য গতকাল রাতে এই স্কোয়াড ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর এটাই আনচেলত্তির প্রথম স্কোয়াড।ব্রাজিল সমর্থকের নিশ্চয়ই মনে আছে, নরওয়ের বিপক্ষে সেই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে জাতীয় দলের স্কোয়াড ঢেলে সাজানোর কথা বলেছিলেন আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচ সেই কথা রাখতে ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ১৫ খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছেন।আনচেলত্তির স্কোয়াডে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে। বোঝা যাচ্ছে, ২০৩০ বিশ্বকাপ-চক্র সামনে রেখে ২৮ বছর পর ট্রফি জয়ের ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করছেন আনচেলত্তি।যেমন ধরুন, খেলোয়াড়দের বয়স। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ছিল ২৯ বছর ৬ মাস ২৯ দিন। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে গড় বয়সের হিসাবে সেটাই সবচেয়ে বেশি বয়সী দল। তাতে কাজ না হওয়ায় আনচেলত্তি সম্ভবত অভিজ্ঞতাকে তেমন একটা গুরুত্ব না দিয়ে একটু বয়সী খেলোয়াড়ের আধিক্য থেকে সরে এসেছেন। এবার আনচেলত্তির দলের গড় বয়স ২০.৪ বছর।ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়াকে দলে রেখেছেন আনচেলত্তিআনচেলত্তির এই দলে ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে খেলা খেলোয়াড়দের প্রাধান্যও চোখে পড়ার মত। গত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ব্রাজিলের ঘরোয়া দল থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন চারজন খেলোয়াড়। এই স্কোয়াডে ব্রাজিলের ঘরোয়া দলগুলো থেকে ১০ জন খেলোয়াড়কে রেখেছেন আনচেলত্তি। সংখ্যাটা গত ১৩ বছরে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ ব্রাজিলের স্কোয়াডে ঘরোয়া ক্লাবগুলো থেকে কমপক্ষে ১০ জন খেলোয়াড় দেখা গিয়েছিল ২০১৩ সালের ১৪ মে। সেবার প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘরোয়া ফুটবলে খেলা ১১ জনকে স্কোয়াডে রেখেছিলেন তৎকালীন কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি।মেসি–লেভানডফস্কির উত্তাপ টের পেল যুক্তরাষ্ট্রআনচেলত্তি পরিবর্তনের শুরুটা করেছেন একদম গোলপোস্ট থেকে। তিনজন গোলকিপারই বলতে গেলে নতুন মুখ। হুগো সউজা শুধু একটি ম্যাচ খেলেছেন জাতীয় দলে। ওতাভিও এবং পেদ্রো মরিসকো অভিষেকের অপেক্ষায়। জায়গা হয়নি লিভারপুলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিসন বেকারের। সিদ্ধান্তটির ব্যাখ্যায় ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘তার মানে এই নয় যে বাকিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। আলিসনকে ভালো করেই চিনি। কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্ট যখন আসবে, তখন সে যদি ব্রাজিলের সেরা গোলরক্ষক থাকে, তবে আলিসনই খেলবে। কিন্তু এই মুহূর্তে তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’আনচেলত্তির দল থেকে বাদ পড়েছেন গোলরক্ষক আলিসন বেকারসে জন্যই অভিজ্ঞ দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাবিনিও এবং কাসেমিরোর স্কোয়াডে জায়গা হয়নি। নতুনদের মধ্যে আছেন অ্যাতলেতিকো পারানায়েন্সের ডিফেন্ডার আর্থার দিয়াস ও পিএসভি আইন্দহোভেনের ফুলব্যাক মাউরো জুনিয়র। তরুণদের সঙ্গে কিছুটা অভিজ্ঞতার মিশেল ঘটাতে ব্রুনো গিমারাইস ও মারকিনিওসকে স্কোয়াডে রেখেছেন আনচেলত্তি।আসলে অভিজ্ঞ কিছু খেলোয়াড়কে রেখে সামনের পথটা ঠিক করতে চাচ্ছেন ব্রাজিল কোচ। সেটা বোঝা গেল তাঁর ব্যাখ্যায়, ‘জাতীয় দলের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতেই আমি মারকিনিওস, গাব্রিয়েল, ব্রুনো, রাফিনিয়া এবং ভিনিকে নিয়েছি। ভবিষ্যতের জন্য তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতির পথ দেখাবে। তার মানে এই নয় যে অন্য খেলোয়াড়দের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল।’গ্লাভস হাতে গোলকিপার থেকে মুকুট মাথায় রাজাআনচেলত্তির এমন সিদ্ধান্তে ব্রাজিলের সবাই কিন্তু প্রশংসাসূচক করতালি দেয়নি। দেশটির সাবেক অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা যেমন একটু সমালোচনার সুরেই বলেছেন, কোনো খেলোয়াড় অবদান রাখতে পারলে শুধু বয়সের অজুহাতে তাঁকে জাতীয় দল থেকে ছেঁটে ফেলা উচিত নয়। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে আনচেলত্তির ব্যাখ্যা, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার-৩৪ বা ৩৫ বছর বয়সী কোনো খেলোয়াড় ভবিষ্যতের ভিত্তি হতে পারেন না। তাঁরা বর্তমান। ওই বয়সের কেউ যদি কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকেন, তবে তিনি অবশ্যই দলে সুযোগ পাবেন। কিন্তু এখন মূল বিষয় হলো তরুণদের গড়ে তোলা।’করিন্থিয়ান্সের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ব্রেনো বাইডনতরুণদের গড়ে তোলার এই পরিকল্পনায় করিন্থিয়ান্সের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ব্রেনো বাইডনকে সম্ভবত আলাদা চোখেই দেখবেন আনচেলত্তি। ২১ বছর বয়সী বাইডন অনেকের চোখেই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হতে পারেন। আর আনচেলত্তিও হন্যে হয়ে জাতীয় দলের জন্য মানসম্পন্ন মিডফিল্ডার খুঁজছেন, যে পজিশনের খেলোয়াড় নিয়ে এক সময় গর্ব করত ব্রাজিল।ব্রাজিল কোচের ঘনিষ্ঠদের দাবি, এ পজিশনের জন্য নতুন খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে আনচেলত্তি এখন মরিয়া। নিজের খেলার কৌশলকে মাঠে ফলাতে এই জায়গায় সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন ক্লাব ফুটবলে প্রায় সর্বজয়ী এ কোচ। সে জন্য ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক দলগুলোয় চোখ রাখছেন আনচেলত্তি। বাইডন যেমন উঠে এসেছেন ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে। ব্রাজিল স্কোয়াড: গোলকিপার: হুগো সউজা, পেদ্রো মরিসকো, ওতাভিও। ডিফেন্ডার: আর্থার দিয়াস, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল মাগালায়েস, জাইর, মার্কিনিওস, মাথেউজিনিও, মাউরো জুনিয়র, ভিতর রেইস, ওয়েসলি। মিডফিল্ডার: আন্দ্রে সান্তোস, ব্রেনো বাইডন, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সান্তোস, দগলাস লুইস, গাব্রিয়েল বোন্তেম্পো। ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রো, পেদ্রো, রাফিনিয়া, রায়ান, স্যামুয়েল লেনো ও ভিনিসিউস জুনিয়র।তবে মাউরা সিলভার ডাক পাওয়াটা চমক। কারণ, আনচেলত্তি নিজেই স্বীকার করেছেন, এই খেলোয়াড়কে তিনি ভালোভাবে চেনেন না, ‘আমি এখনো তাঁকে খুব ভালো করে চিনি না। তবে আমরা ইউরোপে সব ফুলব্যাককেই পরখ করে দেখছি এবং আমাদের হাতে বেশ কিছু ভালো বিকল্প আছে। মাউরো জুনিয়রকে আমি কাছ থেকে দেখতে চাই; কারণ, তাঁর খেলার ধরন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।’২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে টাউনসভিলের কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়াম ও ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
এন আই বুলবুলের গীতিকবিতায় সজিব-রিমির ‘আদরে আদরে’

এন আই বুলবুলের গীতিকবিতায় সজিব-রিমির ‘আদরে আদরে’

১০ অফিসার নিয়োগ দেবে ওয়ালটন, লাগবে না অভিজ্ঞতা

১০ অফিসার নিয়োগ দেবে ওয়ালটন, লাগবে না অভিজ্ঞতা

এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে ফেল থেকে পাস ১৯০, জিপিএ-৫ পেল ৮০ শিক্ষার্থী

এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে ফেল থেকে পাস ১৯০, জিপিএ-৫ পেল ৮০ শিক্ষার্থী

0 Comments