রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছে সিলেট মহানগর বিএনপির একাংশ। যথাযথভাবে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনে এককভাবে প্রস্তুতির কারণে অনুষ্ঠান বয়কট করা হয়েছে জানানো হয়েছে।
বয়কটকারীদের মধ্যে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন। তবে তারা রাষ্ট্রপতির অন্যান্য কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করছেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতির সম্মানে এই নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর আগে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট পৌঁছান রাষ্ট্রপতি।
পরে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। এসময় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টায় সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠোনে যাননি সিলেট বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতারা। অনুষ্ঠান বর্জনকারদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নিাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির শীর্ষ পদের একজন নেতা বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র অনেক নেতা সিসিকের অনুষ্ঠানে যাননি। দায়সারাভাবে আমন্ত্রণপত্র ও অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে এককভাবে সবকিছু করা হয়েছে। যে কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের গাড়ি রেখে আলাদা গাড়িতে রাষ্ট্রপতির বহরে রাখা হয়েছে। যে কারণে গাড়িকে অনুষ্ঠানস্থলের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপতির সফর বা তার কর্মসূচির বিরোধিতা করছি না। রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরের সঙ্গে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা তার মাজার জিয়ারতের সময়ও ছিলাম। তাকে স্বাগত জানাতেও এসেছি, বিদায়ের সময়ও থাকবো।’

‘আমাদের আপত্তি সিটি করপোরেশনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে। আমরা আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলাম। তবে যেভাবে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের কাছে সম্মানজনক মনে হয়নি। আমাদের মনে হয়েছে, এটি অনেকটা নিয়ম রক্ষার আমন্ত্রণের মতো। এ কারণে আমরা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি’, বলেন তিনি।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির সিনিয়র কোনো নেতা অংশ নেননি।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি না করে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।’
আহমেদ জামিল/এসআর/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল বাংলাদেশ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলই এই সিদ্ধান্তের মূল ব্যক্তি। ২২ পৃষ্ঠার লিখিত প্রতিবেদনে সরাসরি নাম না থাকলেও কমিটি সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুলকে চিহ্নিত করেন। আসিফ নজরুল ফেসবুকে দায় স্বীকার করে জানান, মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া, নিরাপত্তা শঙ্কা, দেশের মর্যাদা, ক্রিকেটার-সমর্থকদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যই এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
বিস্কিট ও ব্রেডের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয়, কাঁচামালের দাম, কর ও শুল্কসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় গত শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীদের ঘোষণা এবং উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সভা শেষে ব্যবসায়ী নেতারা বিস্কিট ও ব্রেডের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মতি দেন। পাশাপাশি বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সভায় সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করে জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যৌক্তিক মূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা এবং বেকারি পণ্য ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এনএইচ/কেএইচকে
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে সিগারেট তৈরির মেশিনসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ভারতীয় ‘মেসি’ ব্র্যান্ডের ছয় কার্টন সিগারেট ও একটি মেশিন জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। রাতে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউনিয়নের আশারকোটা গ্রাম থেকে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে একটি সিগারেট তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়। এ সময় কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় মেশিনটি পেরিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়। পরদিন ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের গোবিন্দ মানিক্য দিঘীসংলগ্ন এলাকায় একটি অবৈধ ডিপুতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে চোরাই সিগারেট তৈরির মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় মেশিনটি ও ছয় কার্টন নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। পেরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রশাসন অভিযানে পাওয়া সিগারেট তৈরির মেশিনটি আমার জিম্মায় রেখেছিল। চোরের দল ৫ আগস্ট মেশিনটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি ৬ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করি। মঙ্গলবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চৌদ্দগ্রাম থেকে মেশিনটি উদ্ধার করেছে বলে জানতে পেরেছি।’ নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক গণেষ চন্দ্র দাস বলেন, ‘নাঙ্গলকোট থানায় দায়ের হওয়া সিগারেট তৈরির মেশিন চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চৌদ্দগ্রামের বাতিসা এলাকায় একটি ডিপুতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মেশিন দিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট তৈরির সময় নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মেশিন ও ছয় কার্টন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল সিগারেট জব্দ করা হয়।’ তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানাননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে