সিলেটে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
এসময় বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের বিভিন্ন আসনের সদস্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
সফরসূচি অনুযায়ী, এয়ারপোর্ট থেকে সার্কিট হাউজে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রপতি গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সার্কিট হাউজ থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
এরপর শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে সার্কিট হাউজে ফিরে কিছু সময় অবস্থান করবেন। সেখান থেকে বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি। সংবর্ধনা শেষে আবার সার্কিট হাউজে ফিরে যাবেন তিনি।
সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার বঙ্গভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আহমেদ জামিল/এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশে ফরেক্স ট্রেডিং চালুর বিষয়ে আলোচনা চললেও এ মুহূর্তে এ নিয়ে কোনো নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, এখনই কোনো নীতি করার পরিকল্পনা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফরেক্স ট্রেডিংয়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলেই সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোনো নীতি গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সময় ফরেক্স ট্রেডিংয়ের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়টি গুলিয়ে না ফেলারও আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার বিষয় এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি আলাদা বিষয়, তাই দুটিকে একইভাবে দেখার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর ফোন ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন করা হচ্ছে, একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ধরনের তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম নিয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই জরুরি। কোনো বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য বা দাবি প্রচার করা ঠিক নয়। ফরেক্স ট্রেডিং প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনই কোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হচ্ছে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন ও অনলাইনভিত্তিক ফরেক্স ট্রেডিংয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এ বিষয়ে কী ধরনের নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন, সেটি আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। এমএএস/এমএএইচ/
সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্তে কটকা। নদী, খাল আর ঘন ম্যানগ্রোভের এই নির্জন ভূখণ্ডে প্রকৃতিই যেন নিজের মতো করে সাজিয়েছে সবকিছু। কোথাও হরিণের পাল, কোথাও কাদামাটিতে বেঙ্গল টাইগারের পায়ের ছাপ, কোথাও বুনো শূকর, আবার অগভীর খালের পানিতে শামুক-ঝিনুকের সারি। জঙ্গলের নীরবতার ফাঁকে দেখা মেলে মাছরাঙারও। কটকার পথে পথে এমনই নানা দৃশ্য ধরা পড়ে ক্যামেরায়।কটকা পৌঁছানোর পথে নদীর পাড়ের ঘন জঙ্গলের কাছে দেখা মেলে হরিণের পালেরকটকায় সকালে চোখে পড়ে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ফরেস্ট স্টেশনের কার্যালয় কটকায় নামতেই পথের পাশ দিয়ে নির্ভয়ে হেঁটে যায় একটি বুনো শূকর অগভীর খালের পানিতে ছড়িয়ে থাকা শামুক-ঝিনুক তৈরি করেছে প্রকৃতির নিজস্ব নকশা ঘন জঙ্গলের আড়াল থেকে হরিণের পালও কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থাকে আগন্তুকের দিকে মানুষ একটু এগিয়ে গেলেই নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে শুরু করে হরিণের পাল কটকার জঙ্গলে-খালে দেখা মেলে নানা প্রজাতির মাছরাঙার ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনকে রক্ষার লড়াইয়ে গাছগুলোই থাকে প্রথম সারিতে। মৃত গাছও সেই লড়াইয়ের সাক্ষী
দেশে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই ট্রেন চলবে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে। ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে এই বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর প্রকল্পে মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি ব্যয় ৯৪২ কোটি টাকা। বাকি টাকা উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দেবে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. সুবক্তগীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইমপ্লিকেশন অব ইলেকট্রিক ট্রাকশন অ্যালং নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে। সামনের একনেক সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। এসব এলাকার সড়কে যানজট ও গাড়ির চাপ কমাতে বৈদ্যুতিক রেলব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই রুটে যাত্রীও অনেক বেশি। প্রকল্পটি চালু হলে ঢাকার ওপর চাপও কমবে। অনেকে জয়দেবপুর-নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।’ আরও পড়ুন ইলেকট্রিক ট্রেন চালু করতে সমীক্ষায় পার ৫ বছর বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, নানা কারণে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম- বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ট্রেনের গড় গতিবেগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে পরিচালন ব্যয় হ্রাস ও আয় বৃদ্ধি; কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টি; নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে সড়ক পরিবহনের ওপরে চাপ কমানো; বাংলাদেশ রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে অপারেশনাল ইফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ রেলওয়ে আরও জানায়, বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ার কারণে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। বর্তমানে পরিবহন খাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবা প্রদানের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় সরকারকে সড়ক অবকাঠামো খাতে অধিক বিনিয়োগ করতে হয়। রেলওয়ে বিদ্যুতায়ন করলে তার পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং সড়ক খাতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, যেখানে যাত্রীচাপ, শিল্পাঞ্চলের উপস্থিতি এবং মোটরযানের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। বিদ্যমান সড়ক ও রেলপথ চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। রেল নেটওয়ার্কের বিদ্যুতায়ন যাত্রার সময় কমাবে, প্রতি ট্রেনের বহন ক্ষমতা বাড়াবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমে জীবনমানের উন্নতি হবে। প্রকল্পের প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব ২০২৫ সালের ৩০ জুন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ নীতিগতভাবে অনুমোদন করেন। আরও পড়ুন সংসদে প্রধানমন্ত্রী / ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন, কমবে যাতায়াতের সময় সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে এডিবি ও ইআইবি প্রকল্পটিতে অর্থায়নের বিষয়ে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। তখন প্রস্তাবিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) ব্যয় ছিল ৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। তবে প্রস্তাবিত ডিপিপি হতে পুনর্গঠিত ডিপিপিতে মোট ৪৬০ কোটি ৩৫ (১২.০৪ শতাংশ) কোটি টাকা ব্যয় কমেছে। প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি রেলপথ। প্রতিদিন কয়েক লাখ যাত্রী এ পথে চলাচল করেন। কিন্তু রেলপথ ও রোলিং স্টকের সীমাবদ্ধতার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে চাহিদা অনুযায়ী পরিবহন সেবা দিতে পারছে না। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়িত হলে রেলপথের সেকশনাল ক্যাপাসিটি ও রোলিং স্টকের পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিজেল-ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেম ব্যবহার করে ট্রেন পরিচালনা করছে। এ সিস্টেমের তুলনায় ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেম প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী। এছাড়া ডিজেল-ইলেকট্রিক রোলিং স্টকের তুলনায় ইলেকট্রিক রোলিং স্টকের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম। তাই ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেমে ট্রেন পরিচালনা করা উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয়ী। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রেল পরিচালনার ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেম ব্যবহার করছে। আরও পড়ুন বুলেট ট্রেনে ৫৭ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে প্রচলিত ডিজেল-ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেমের রোলিং স্টকের তুলনায় ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেমের রোলিং স্টকের এক্সিলারেশন ও ডিসিলারেশন বেশি। তাই ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতি বাড়াতে ও কমাতে পারে। সে কারণে ইলেকট্রিক ট্যাকশন সিস্টেমের রোলিং স্টকের গড় গতিবেগ তুলনামূলকভাবে প্রায় ১৮-২০ শতাংশ বেশি হয়। বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেম পরিবেশবান্ধব রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন সিস্টেম বাংলাদেশ রেলওয়েতে ব্যবহার করা হলে তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। সার্বিক বিবেচনায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রস্তাবিত সেকশনে ট্রেনের গড় গতিবেগ বৃদ্ধি পাবে; পরিচালন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস পাবে; পরিবহন সক্ষমতা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই প্রকল্পটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম নির্মাণ; ১৬ সেট (প্রতি সেটে ৫ টি কোচ) ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) সংগ্রহ, ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ইএমইউ) মেরামত কারখানা নির্মাণ। আরও পড়ুন বিনা টিকিটে ভ্রমণের অনুশোচনা, রেলকে ২৫ হাজার টাকা দিলেন নারীযাত্রী প্রকল্প এলাকা নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় এখানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। বর্তমানে দেশের পরিবহন খাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মার্কেট শেয়ার কম। ফলে সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে যদি পরিবহন খাতে তার মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি করতে পারে, তবে সরকার সড়ক পরিবহন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমানে ব্যবহৃত ডিজেল লোকোমোটিভের স্বল্প প্রাপ্যতা অর্থাৎ মোট লোকোমোটিভের তুলনায় সচল লোকোমোটিভের সংখ্যা কম। বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা চালু করা হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তার পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে পারবে। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথ বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল করিডোর। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা এবং জয়দেবপুর থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু এই রুটে বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থা চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। বর্তমান সড়ক ও রেলপথের সক্ষমতা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান রেলপথে ইলেকট্রিক ট্যাকশন বাস্তবায়িত হলে ট্রেনের পরিবহন সময় হ্রাস পাবে, প্রতি ট্রেনের পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুততর, অধিক সাশ্রয়ী ও অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে, যা সড়ক পরিবহনের ওপর বিদ্যমান চাপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে। আরও পড়ুন রেল ভ্রমণে সীমাহীন ভোগান্তি, টেকসই সমাধানের পথ কোথায়? নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর অঞ্চলটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিল্প-কারখানা অবস্থিত। এই প্রকল্প এলাকার সড়কে মোটরচালিত যানবাহনের ঘনত্বও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। শিল্প-কারখানা এবং সড়কে মোটরচালিত যানবাহনের ঘনত্বও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। শিল্প-কারখানা এবং মোটরচালিত যানবাহনের নির্গমণের কারণে এ অঞ্চলে বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ এবং অনেক সময় এটি বিশ্বের সর্বাধিক দূষিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে স্থান পায়। এর ফলে এই অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর এই অঞ্চলে পরিবহন খাত থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে। যেহেতু পরিবেশদূষণের কারণে এ অঞ্চলের জনগণ বাংলাদেশের মধ্যে সর্বাধিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাই বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটটি নির্বাচন করা হয়েছে। আরও পড়ুন রাজস্ব আহরণে সব বিভাগকে তাগিদ রেলওয়ের প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের যুক্তি তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর বিদ্যমান রেলপথে ইলেকটিক ট্র্যাকশন স্থাপনের মাধ্যমে ট্রেনের পরিবহন সময় হ্রাস পাবে, প্রতি ট্রেনের পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবহন ব্যয় কম হবে।’ ‘ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুততর, অধিক সাশ্রয়ী ও অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম হবে, যা সড়ক পরিবহনের ওপর বিদ্যমান চাপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে। এছাড়া, পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসসহ রেলের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।’ যোগ করেন তিনি। এমওএস/ইএ