জাতীয়

শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি হোক

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি হোক
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি হোক

‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ করেছে গাজীপুর বন্ধুসভা। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, বৃক্ষপ্রেম ও পরিচর্যার মানসিকতা গড়ে তুলতে ৭ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুরের কাজী রাজিয়া সুলতানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

এদিন শিক্ষার্থীদের হাতে প্রায় ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও চারা রোপণ করেন বন্ধুরা। চারার মধ্যে ছিল লেবু, কৃষ্ণচূড়া, করই, জলপাই, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও পরিবেশবান্ধব গাছ।

গাছের চারা রোপণ করছেন বন্ধুরা

চারা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে এগুলো রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এ সময় গাছ রোপণের প্রয়োজনীয়তা ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদা সুলতানা।

সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের দায়িত্ব। বন্ধুরা নিজেদের অর্থায়নে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আমরা চাই, প্রতিটি চারা বেড়ে উঠে একটি পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত হোক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করুক।’

শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে কাজী রাজিয়া সুলতানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার আক্তার বলেন, ‘শুধু গাছ লাগানো নয়, কীভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হয়, সে বিষয়েও বন্ধুসভার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়েছে। আমরা আশা করি, তারা এসব গাছ নিজেদের সন্তানের মতো যত্নে বড় করে তুলবে।’

গাজীপুর বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

কাজী রাজিয়া সুলতানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, ‘শিশুদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া অত্যন্ত সুন্দর একটি উদ্যোগ। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা প্রয়োজন। আজকের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের যত্ন নেওয়ার গুরুত্বও শিখেছে।’

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রচার সম্পাদক টুটুল শিকদার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক শাহরিয়ার মন্ডল পারভেজ, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক তামিম মল্লিক, কার্যনির্বাহী সদস্য ইয়াকিনুর ইসলাম ভূঁইয়া, বন্ধু মারুফ আল গালিব, বৃষ্টি আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, তাছমিয়া সুলতানা, সাথী আক্তার, নাইমা আক্তার, আফরিন জাহান, ফাতেমা আক্তার, আকিব হাসান, ফাহমিদুল মুরাদ, মাহমুদুল হাসান, রাহুল মিয়া, রায়হান হোসেনসহ অন্য বন্ধুরা।

সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর বন্ধুসভা

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় যৌনকর্মী নিহত
দৌলতদিয়ায় দুর্বৃত্তের হামলায় যৌনকর্মী নিহত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে দুর্বৃত্তের হামলায় হা‌সি আক্তার নামের এক যৌনকর্মী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ সে‌প্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রেন। তি‌নি জানান, ঘটনাস্থ‌লে থানা পুলিশসহ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তা‌রিত জানানো হবে। এদিকে, গত ২৯ আগস্ট রাতে যৌনপল্লিতে কথিত প্রেমিক মো. জুয়েলের মার‌ধরের শিকার হ‌য়ে গুরুতর আহত হন সোনিয়া আক্তার নামের এক যৌনকর্মী‌। পরে তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকা‌লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আরও পড়ুন বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে, পথে প্রাণ গেলো ট্রাকচাপায় নিহত সোনিয়া পল্লির তোফাজ্জেল হোসেন তপুর বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। এ ঘটনায় তপু বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেছেন। পু‌লিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে। সে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. লোকমান হোসেন শেখের ছেলে। রুবেলুর রহমান/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
মিরপুরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ১৩৯

মিরপুরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ১৩৯

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে, পথে প্রাণ গেলো ট্রাকচাপায়

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে, পথে প্রাণ গেলো ট্রাকচাপায়

গবেষণায় এআইয়ের অনৈতিক ব্যবহারে জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ছে

গবেষণায় এআইয়ের অনৈতিক ব্যবহারে জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়ছে

গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন আইন একদিন আপনাদের জন্যই বুমেরাং হবে
গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন আইন একদিন আপনাদের জন্যই বুমেরাং হবে

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল সংসদে পাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির অভিযোগ, জনমত উপেক্ষা করে সরকার এসব আইন পাস করেছে এবং জনগণের কাছে দেওয়া একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমাদের উন্নত আইন দেওয়ার কথা বলে ধোঁকা দিয়েছেন। একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, আগামী দিনে তাঁরাও ক্ষমতার বাইরে যেতে পারেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার নিয়ে করা এই আইন একদিন আপনাদের জন্যই বুমেরাং হবে।’আজ বুধবার বিকেল চারটায় রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে এ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সঞ্চালনা করেন এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন।সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা পূরণ হয়নি। আগের অধ্যাদেশ বাতিল করে আরও শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দুর্বল আইন করা হয়েছে।গুমের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠছে, সেই বাহিনীর হাতেই যদি গুমের অভিযোগের তদন্ত থাকে, তাহলে তা নিছক প্রহসন। গুমের তদন্ত এমন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে দিতে হবে, যার কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি বা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের চাপের ভয় থাকবে না। অতীতে গুমের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো গুমের দায় স্বীকার করেনি। তাই গুমের তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, নতুন আইনে ভবিষ্যতে নানা ধরনের জটিলতা ও বিরোধ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দানকৃত সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে বিক্রি বা হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ সময় মঞ্জু তিনটি আইন পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করার দাবি জানান।এদিন বিক্ষোভ সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, যাঁরা ধানখেতে, পাটখেতে ঘুমানোর ইতিহাস দেখেছেন, তাঁরা আজ নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের ভোটে সংসদে গিয়ে সেই ইতিহাস ভুলে গেছেন। জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতনের ইতিহাস, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ইতিহাস এবং হাজার হাজার মানুষকে গুম, গুলি ও ক্রসফায়ারের সেই ইতিহাসও ভুলে যাওয়া হয়েছে।২০০৯ সালের মানবাধিকার কমিশন আইনকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে দাবি করে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আইন যদি ফিরিয়ে আনতেই হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকেও ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।’ এই সংসদ অক্ষরে অক্ষরে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। তারা ৩১ দফার সঙ্গে বেইমানি করেছে এবং লাখ লাখ জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ফুয়াদ সতর্ক করে বলেন, ‘ভুলে যাবেন না, আবারও মুচলেকা দিতে হতে পারে।’বিক্ষোভ সমাবেশে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
আসিফ মাহমুদ দুদক না, শুধু আমাকে সামনাসামনি ফেস করুক: রাশেদ খাঁন

আসিফ মাহমুদ দুদক না, শুধু আমাকে সামনাসামনি ফেস করুক: রাশেদ খাঁন

ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস, বিতর্কিত মালিকদের ফেরার ধারাটি বাদ

ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস, বিতর্কিত মালিকদের ফেরার ধারাটি বাদ

ফুটবল খেলা দেখতে ফ্লাডলাইট ও গাছের ডালেও দর্শক

ফুটবল খেলা দেখতে ফ্লাডলাইট ও গাছের ডালেও দর্শক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, এএসপিসহ আহত ৫০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, এএসপিসহ আহত ৫০

রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি গ্রামের বাসিন্দা। ৯ সেপ্টেম্বর এ ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি সই

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি সই

সারসংকট নিয়ে সংসদে বিতর্ক

সারসংকট নিয়ে সংসদে বিতর্ক

0 Comments