জাতীয়

সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে
সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

সময় যতই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে চাকরির বাজার ততই কঠিন হচ্ছে। আর সরকারি চাকরি হলে তো কথাই নেই। তবে শারীরিক ফিটনেস এবং কিছু যোগ্যতা থাকলেই আপনি পেতে পারেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরির সুযোগ। এখানে শারীরিক ফিটনেস, যোগ্যতা, সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ-সুবিধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সেনাবাহিনীর কাজ কী?

সেনাবাহিনী হলো একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সেই প্রধান শাখা, যা মূলত ভূমিতে যুদ্ধ অথবা দেশ রক্ষা করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সুসজ্জিত থাকে। সেনাবাহিনীর প্রধান কাজ হলো যে কোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা।

সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দেওয়া হলো:

দেশ রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা

প্রতিরক্ষা: দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র বা আক্রমণ প্রতিহত করা।
সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা: দেশের সংকটময় মুহূর্তে বা জরুরি পরিস্থিতিতে অসামরিক প্রশাসনকে (সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) সাহায্য করা।

দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবসেবা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা।

জাতি গঠন ও আন্তর্জাতিক অবদান

অবকাঠামো উন্নয়ন: সরকারের নির্দেশনায় দেশের রাস্তাঘাট, সেতু, ফ্লাইওভার ইত্যাদি নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
জাতিগঠনমূলক কাজ: জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি অথবা ভোটার তালিকা প্রস্তুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে সহযোগিতা করা।
আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা: জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।

আরও পড়ুন

নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকরির প্রধান যোগ্যতাগুলো দেওয়া হলো:

শিক্ষাগত যোগ্যতা

সাধারণ ট্রেড: এসএসসি বা সমমান (মাদরাসা, কারিগরি, উন্মুক্ত) পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩ পেয়ে উত্তীর্ণ।

টেকনিক্যাল ট্রেড: এসএসসি ভোকেশনাল অথবা সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়ে ন্যূনতম জিপিএ ৩ অথবা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৩ সহ পাস থাকতে হবে।

বয়সসীমা

সাধারণ ট্রেড: ১৭ থেকে ২২ বছর।
টেকনিক্যাল ট্রেড: ১৭ থেকে ২৩ বছর (এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)।

শারীরিক যোগ্যতা (পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য)

উচ্চতা: পুরুষ প্রার্থীর জন্য ন্যূনতম ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি)।
নারী প্রার্থীর জন্য সাধারণত ন্যূনতম ৫ ফুট ১ ইঞ্চি বা সার্কুলার অনুযায়ী নির্ধারিত।

ওজন: পুরুষ প্রার্থীর জন্য কমপক্ষে ৪৯.৯০ কেজি এবং নারী প্রার্থীর জন্য উপযুক্ত অনুপাতে।

বুকের মাপ: পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং প্রসারণে অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি।
নারী প্রার্থীদের বুকের মাপ সাধারণত স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি এবং প্রসারণে ৩০ ইঞ্চি অথবা বিজ্ঞপ্তির ধরন অনুযায়ী হয়ে থাকে।

 

অন্যান্য যোগ্যতা

বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়)।
নাগরিকত্ব: বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
সাঁতার: সেনাবাহিনীতে চাকরি করতে হলে সাঁতার জানা বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগ জন্য শারীরিক ও প্রাথমিক পরীক্ষা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে ভর্তির মাঠে প্রাথমিক শারীরিক, মেডিকেল ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। আবেদন করার কিছুদিন আগেই আপনার ফিটনেস নিয়ে কাজ করুন। তাহলে সহজেই এই ধাপগুলো অতিক্রম করতে পারবেন। প্রাথমিক শারীরিক ও ফিটনেস পরীক্ষায় সাধারণত নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার প্রস্তুতি

দৌড়: সৈনিক পদে ভর্তির প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষায় সাধারণত ১৬০০ মিটার (প্রায় ১ মাইল) দৌড়াতে হয়।

লং জাম্প: শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার অংশ হিসেবে লং জাম্প বা দীর্ঘ লাফে সাধারণত ৯ থেকে ১০ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। লং জাম্পের জন্য পায়ের পেশির জোর ও গতির প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন দৌড়ঝাঁপ এবং নির্দিষ্ট মাপে লাফানোর অনুশীলন করলেই এইধাপ অতিক্রম করা যাবে।

পুশ-আপ ও সিট-আপ: চাকরি প্রার্থীর স্ট্যামিনা ও শক্তি যাচাইয়ের জন্য পুশ-আপ, সিট-আপ অথবা চিন-আপ বা পুল-আপ করানো হয়।

পুশ-আপ দেওয়ার নিয়ম

বুক মাটিতে সমান্তরাল রেখে হাত কাঁধের সমান দূরত্বে মাটিতে রাখতে হবে।
শরীর সম্পূর্ণ সোজা রেখে বুক নিচে নামাতে হবে যেন মাটি থেকে সামান্য দূরত্ব থাকে।
এরপর হাত সোজা করে শরীর আবার আগের অবস্থানে তুলতে হবে।
পিঠ উঁচু বা নিচু করা যাবে না।

সিট-আপ দেওয়ার নিয়ম

পিঠ মাটিতে লাগিয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করতে হবে।
হাত মাথার পেছনে বা ক্রশ করে বুকে রাখতে হবে।
পেট ও কোমরের পেশির জোরে শরীর ওপরের দিকে তুলে হাঁটুর কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে।
এরপর আবার আস্তে করে শুয়ে পড়ার অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও মেডিকেল পরীক্ষা

ডাক্তার দ্বারা শরীরের বাহ্যিক কোনো ত্রুটি, হাত বা আঙ্গুলের সমস্যা এবং শারীরিক গঠন ঠিক আছে কিনা তা দেখা হয়। প্রাথমিক ধাপ পেরোলে চোখ, কান, নাক, দাঁত, গলা (ইএনটি), রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা এবং এক্স-রেসহ বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ অথবা বাহ্যিক কোনো বড় শারীরিক ত্রুটি আছে কিনা তাও দেখা হয়।

আরও পড়ুন

আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা

লিখিত পরীক্ষার বিষয়সমূহ

লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন থাকে।

বাংলা: ব্যাকরণ ও সাহিত্য অংশ থেকে প্রশ্ন থাকে। যেমন: সংজ্ঞা, বানান শুদ্ধি, এককথায় প্রকাশ, সমার্থক শব্দ ও ভাবসম্প্রসারণ।
ইংরেজি: অনুবাদ, গ্রামার (টেন্স, প্রিপজিশন) ও ফিল ইন দ্য ব্ল্যাংকস।
গণিত: সাধারণ পাটিগণিত ও বীজগণিত থেকে প্রশ্ন করা হয়। যেমন: ঐকিক নিয়ম, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, বীজগণিতীয় সূত্র ও মান নির্ণয়।
সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ভূগোল এবং সমসাময়িক বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞান।

মৌখিক ও ভাইভা পরীক্ষার প্রশ্ন

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস, মানসিক দ্রুততা এবং সাধারণ জ্ঞান যাচাই করা হয়। ভাইভা পরীক্ষায় নিন্মের বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে পরীক্ষা সহজ হবে।

ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পরিবার সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা।
সেনাবাহিনী সম্পর্কিত: কেন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান, সেনাবাহিনীর কাজ কী এবং সেনাপ্রধান বা বাহিনী সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা।
ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, ৭ই মার্চের ভাষণ এবং জাতীয় ইতিহাস সম্পর্কিত প্রশ্ন।
সাধারণ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ: সাম্প্রতিক ঘটনা, বিভিন্ন জাতীয় প্রতীক, নদী, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন।

সেনাবাহিনীর চাকরিতে কী কী কাগজ লাগে?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক বা অন্যান্য পদে আবেদন ও পরীক্ষার সময় যেসব কাগজপত্র এবং জিনিসপত্র সঙ্গে রাখতে হয়; তার একটি তালিকা দেওয়া হলো:

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ

সকল পরীক্ষার (এসএসসি ও সমমান) মূল অথবা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট এবং নম্বরপত্র (মার্কশিট)। ফটোকপি হলে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।

প্রশংসাপত্র ও চারিত্রিক সনদ

প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত মূল প্রশংসাপত্র (যাতে জন্মতারিখ ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ থাকে)।অভিভাবকের সম্মতিপত্র (যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা চেয়ারম্যান অথবা ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে)।

ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র

সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত)।
নাগরিকত্ব ও অবিবাহিত সনদ (স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ইস্যুকৃত)।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ।
কারিগরি পদের জন্য সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত কারিগরি বা টেকনিক্যাল সার্টিফিকেট।

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে পরীক্ষার মাঠে যা সঙ্গে নিতে হবে

  • পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিন কার্ড)
  • কলম, পেন্সিল, স্কেল ও ক্লিপবোর্ড।
  • সাঁতার কাটার উপযোগী পোশাক।

সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে পরীক্ষার স্থান

আপনার পরীক্ষার নির্দিষ্ট স্থান এবং তারিখ আপনার মোবাইলে আসা এসএমএস অথবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত নিজ নিজ জেলার জন্য নির্ধারিত নিকটস্থ সেনানিবাসে বা জোনে এই মাঠ পরীক্ষা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

তরুণ বয়সেই গড়ে উঠুক ভবিষ্যতের ভিত্তি

সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরির সুযোগ-সুবিধা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ছাড়াও বিনামূল্যে রেশন, বাসস্থান এবং চিকিৎসা সুবিধাসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।

প্রধান সুযোগ-সুবিধাসমূহ

  • বেতন ও ভাতা: সরকার নির্ধারিত সৈনিক পদের মূল বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন এবং বিভিন্ন ভাতা (যেমন: পোশাক ভাতা, ঝুঁকি ভাতা ইত্যাদি) দেওয়া হয়।
  • বাসস্থান: কর্মকালীন সময়ে বিনামূল্যে নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান অথবা কোয়ার্টারের ব্যবস্থা থাকে।
  • রেশন: সেনা সদরের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাদ্য অথবা রেশন সরবরাহ করা হয়।
  • চিকিৎসা সুবিধা: সৈনিক ও তাদের পরিবার সামরিক হাসপাতালে বিনামূল্যে উচ্চমানের চিকিৎসা ও ওষুধ সুবিধা পান।
  • পেনশন ও অবসর সুবিধা: চাকরি শেষে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পেনশন, গ্রাচ্যুইটি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
  • উচ্চ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ: দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়।
  • ক্যান্টিন সুবিধা: সৈনিকরা কম মূল্যে সেনা ক্যান্টিন থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার সুবিধা পান।
  • জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার সুযোগ: পেশাগত দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে সম্মানজনক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ থাকে।

 

সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কী কী সমস্যা থাকলে চাকরি হয় না?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে শারীরিক বা অন্যান্য কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে প্রাথমিক বা মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। সেনাবাহিনীতে চাকরির ক্ষেত্রে ছোটোখাটো বিষয়ও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কিছু সমস্যা থাকলেই প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়।

  • শারীরিক মাপ ও যোগ্যতার সমস্যা
  • শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত ত্রুটি
  • চোখের দৃষ্টি কম থাকলে অথবা নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি সমস্যা থাকলে
  • পা দুটি যদি জোড়া লাগার সমস্যা (নক-নি) থাকে কিংবা পায়ের তলা সম্পূর্ণ সমান (ফ্ল্যাট ফুট) হয়; তবে মেডিকেল টেস্টে বাদ পড়তে হয়।
  • কনুইয়ের অতিরিক্ত বাঁকা ভাব (ক্যারিং অ্যাঙ্গেল সমস্যা), হাত বা আঙুল কাটা কিংবা জন্মগত শারীরিক বিকৃতি।
  • অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অথবা জটিল হৃদরোগ থাকলে চাকরি হয় না।
    পোকা খাওয়া, ফিলিং বা সিল করা, ফাঁকা কিংবা এলোমেলো ও অস্বাস্থ্যকর দাঁত থাকলে।
  • নাকে পলিপাস বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে।
  • ভেরিকোজ ভেইন (শিরা ফুলে যাওয়া), চর্মরোগ বা শরীরে বড় ধরনের পোড়া বা কাটা-ছেঁড়ার দৃশ্যমান স্থায়ী দাগ।
  • অতিরিক্ত ঘামা, তোতলামি, কানের লতিতে ইনফেকশন/নখকুনি জাতীয় জটিলতা।
  • ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক তথ্য থাকলে।

সেনাবাহিনীর সৈনিকদের ট্রেনিং

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সাধারণ ট্রেডসহ অন্যান্য সৈনিক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সাধারণত ১ বছর বা ১২ মাস মেয়াদী হয়ে থাকে। বিভিন্ন আর্মস ও সার্ভিসেস এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই মৌলিক ও ট্রেড প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়।

প্রশিক্ষণের বিবরণ

সময়কাল: এক বছর মেয়াদি মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ।
কার্যক্রম: এই এক বছরে শারীরিক ফিটনেস, অস্ত্র চালনা, ট্যাকটিক্যাল বা যুদ্ধ কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেডের ওপর বিশেষ কারিগরি বা পেশাগত জ্ঞান দেওয়া হয়।
নিয়োগ: সফলভাবে এই এক বছরের প্রশিক্ষণ শেষ করার পর রিক্রুটদের আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সৈনিক’ পদে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্তি বা এনরোলমেন্ট দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর গবেষণার ১০টি মৌলিক ধাপ

সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে আবেদন করার নিয়ম

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দিতে প্রথমে টেলিটক প্রি-পেইড সংযোগের মাধ্যমে এসএমএস করে নিবন্ধন করতে হয় এবং এরপর টেলিটক সৈনিক পোর্টাল থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

আবেদন করার নিয়ম

এসএমএস এর মাধ্যমে নিবন্ধন: টেলিটক প্রি-পেইড সিম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন ও ফি (সাধারণত ৩০০ টাকা) জমা দিতে হয়। ফি জমা দেওয়ার পর একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাওয়া যায়।
অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ: প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে টেলিটক সৈনিক পোর্টাল বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অফিসিয়াল ওয়েবসাইট প্রবেশ করে ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে।
ছবি আপলোড: ৩০০*৩০০ পিক্সেলের রঙিন ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কেবি) আপলোড করতে হবে।
প্রবেশপত্র প্রিন্ট: আবেদন সফল হওয়ার পর অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে হবে। যা পরীক্ষার দিন সঙ্গে রাখতে হয়।

আপডেট হালনাগাদ তথ্যের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা নিয়মিত প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে হবে।

এমআইএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সরকারি নিয়োগে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ
সরকারি নিয়োগে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে বেরোবিতে বিক্ষোভ

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত অংশে নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুস-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরির অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মূল ফটকে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় বক্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে। নিয়োগে দলীয়করণ বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, ‌‘সরকারি চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় প্রায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পেছনে একটাই কারণ রয়েছে—সরকার দলীয় ক্যাডারদেরই চাকরি দিতে চায়। তারা মেধাবীদের বঞ্চিত করে নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দিতে চায়। তবে কোনোভাবেই এ ধরনের প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না।’ আজিজুর রহমান/এসআর      

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
মেসি এবার স্পেনের আরেকটি ক্লাব কিনছেন

মেসি এবার স্পেনের আরেকটি ক্লাব কিনছেন

ইরানের সরকার পতনের খুব কাছাকাছি: নেতানিয়াহু

ইরানের সরকার পতনের খুব কাছাকাছি: নেতানিয়াহু

যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী সাগর হত্যা মামলায় তিনজনের রিমান্ড

যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী সাগর হত্যা মামলায় তিনজনের রিমান্ড

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে উত্তাপ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন রুমিন ফারহানা। এসময় তিনি বলেন, সব সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না— এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না। যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না— সেটাও হতে পারে না। রুমিন ফারহানা আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া, ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপি হওয়া— ইত্যাদি ইত্যাদি। তার এ বক্তব্যে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হৈ-চৈ শুরু করেন। এসময় রুমিন ফারহানা বলেন, এত অসহিষ্ণু সংসদ! মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন একই ধরনের আচরণ করছে, আরও খারাপ আচরণ বরং বলি। এরপর ব্যাংক রেজুলেশন বিলে যুক্ত করা নতুন ধারার প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, যাই হোক, এই আইনটিতে ১৮-এর ক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ১৮-ক রাখা হবে না। কেন রাখা হচ্ছে— এর কারণ হচ্ছে এই সংসদ, বেশিরভাগ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত। আরও পড়ুন সংসদে রুমিন ফারহানা / বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা— এগুলো আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহুত দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি রিট, খেলাপি থেকে বাদ দেয়। আর ইলেকশনটা যেই শেষ হয়, ওকে এই...। এ পর্যায়ে সংসদে আবারও হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ধন্যবাদ মাননীয় সদস্য, বসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডেপুটি স্পিকার রুলিং দিয়ে বলেন, সবাই শান্ত হন। মাননীয় সদস্য, আপনি বসেন। হৈ-চৈ অব্যাহত থাকলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, মাননীয় সদস্য আপনি বসেন। সংসদের সব সদস্য, অনুগ্রহ করে শান্ত হন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, মাননীয় চিফ হুইপ, একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। তার কথা বলার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু অন্যান্য সংসদ সদস্যরা তার বক্তব্য প্রদানে বাধা দিচ্ছেন— সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনো অবস্থাতেই কাম্য না। আরও পড়ুন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড / এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি এরপর ডেপুটি স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্যকে আপনি সুযোগ দিয়েছেন, হতে পারে তার কথাগুলো সবগুলো সঙ্গত নয়। আবার হতে পারে যে কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ, আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না। তার কথাগুলো শোনার যেমন দায়িত্ব আমাদের আছে, বলারও অধিকার তার আছে। তিনি যদি অসংসদীয় কোনো কথা বলে থাকেন সেটা আপনার জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার এসব কথার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন দাঁড়াবেন, তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন তিনি দিতেই পারেন। এরপর বক্তব্য দিতে রুমিন ফারহানা কয়েকবার দাঁড়ালেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মণি বলেন, আমরা চাই সংসদে সব সমস্যার সমাধান হোক। কিন্তু সংসদে সমস্যার সমাধানের চেয়ে যদি আমরা সমস্যা তৈরি করি নিজেরা, সেটা একটা প্রবলেম। আমরা চাই এখানে গঠনমূলক আলোচনা হোক। আমরা সংসদে এমন আলোচনা যদি করি যে আলোচনা একজনকে আহত করে অথবা একজনকে ক্ষতি করে, সে আলোচনা আমরা করতে চাই না। এসময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আপনার মূল দায়িত্ব হাউজে শৃঙ্খলা রাখা। আমরা প্রত্যাশা করবো যার যার স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিকভাবে পরিষ্কারভাবে বক্তব্য রাখবেন। এমওএস/কেএসআর

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
বদলি আদেশের পরও থানা ছাড়ছেন না ওসি

বদলি আদেশের পরও থানা ছাড়ছেন না ওসি

হংকংয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

হংকংয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও পরিবারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ

ঢাবিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫০তম বিসিএস প্রার্থীদের মক ভাইভা

ঢাবিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে ৫০তম বিসিএস প্রার্থীদের মক ভাইভা

ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা: অস্ত্র-গুলি সরবরাহের অভিযোগে দুই নারী কারাগারে
ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টা: অস্ত্র-গুলি সরবরাহের অভিযোগে দুই নারী কারাগারে

  রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শনিরআখড়ায় ব্যবসায়ী আসলাম খানকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় অস্ত্র ও গুলি সরবরাহের অভিযোগে গ্রেফতার দুই নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা হলেন- আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আব্দুস ছবুর জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপ-পরিদর্শক মিঠু মন্ডল দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসলাম খানের সঙ্গে আসামি জলিল মন্ডলের জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের জেরে আসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আসলাম তার দোকান মেসার্স লাকী ক্রোকারিজে ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিতে তার ডান চোয়াল ও বাম বাহুতে গুরুতর জখম হয়। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে আবেদনে বলা হয়, রুনিয়া ও সোনিয়া ঘটনার আগে কামাল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি সংগ্রহ করেন। পরে তারা কদমতলীর জুরাইন বউবাজার এলাকার একটি বাসায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও জসিমের সঙ্গে অবস্থান করেন। সেখান থেকে ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে শনিরআখড়া ফ্লাইওভারের নিচে অস্ত্র ও গুলি মঞ্জুরুল ও জসিমের কাছে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অস্ত্র ব্যবহার করেই মঞ্জুরুল মোটরসাইকেল থেকে নেমে আসলামের দোকানে ঢুকে গুলি চালান। এসময় আসলাম আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। জসিমও অস্ত্র হাতে দোকানে ঢোকার চেষ্টা করেন। গুলির শব্দ ও স্থানীয়দের চিৎকার শুনে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে মঞ্জুরুল ও জসিম গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ মঞ্জুরুলকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ৯ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনটি গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে অন্যরা পালিয়ে যান। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে কাচকুড়ার বগবাড়ির মোড় এলাকা থেকে রুনিয়া এবং উত্তরখান এলাকা থেকে সোনিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আসলাম খানের শ্বশুর বাদল মিয়া ৬ সেপ্টেম্বর কদমতলী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এর আগে এ মামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম ও ইকবাল কালুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, গুলি চালানোর ঘটনায় কদমতলী থানার এসআই অশোক কুমার সরকার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করেন। ওই মামলায় মঞ্জুরুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এমডিএএ/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান মেয়ের

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান মেয়ের

মাউথ টেপিং: ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানোর এই অদ্ভুত ট্রেন্ড কি উপকারী নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

মাউথ টেপিং: ঘুমের সময় মুখে টেপ লাগানোর এই অদ্ভুত ট্রেন্ড কি উপকারী নাকি ঝুঁকিপূর্ণ?

বৃষ্টিতে ভেসে গেলো ফাইনাল, শিরোপা জিতলো অনূর্ধ্ব-১৯ দল

বৃষ্টিতে ভেসে গেলো ফাইনাল, শিরোপা জিতলো অনূর্ধ্ব-১৯ দল

0 Comments