জাতীয়

সামনে স্কুল পরীক্ষা, অথচ অভিষেকেই ইতিহাস গড়লেন ১৮ বছরের বাসন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সামনে স্কুল পরীক্ষা, অথচ অভিষেকেই ইতিহাস গড়লেন ১৮ বছরের বাসন
সামনে স্কুল পরীক্ষা, অথচ অভিষেকেই ইতিহাস গড়লেন ১৮ বছরের বাসন

বয়স মাত্র ১৮। এখনো স্কুলের শেষ পরীক্ষাই দেওয়া হয়নি। অথচ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকেই এমন কীর্তি গড়েছেন জেজে বাসন, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার ৪ দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচে লায়ন্সের হয়ে অভিষেক ম্যাচে ৯৯ রানে ১১ উইকেট নিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অভিষেক করা কোনো পেসারের সেরা ম্যাচ বোলিং ফিগার এখন তার দখলে।

এমন অভিষেক জেজে বাসন নিজেও কল্পনা করেননি। চলতি সপ্তাহেই তার স্কুলের শেষ পরীক্ষা দেওয়ার কথা। তার আগেই ক্রিকেট মাঠে নিজের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে এ বছরের শুরুর দিকে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন বাসন। তবে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উঠে এসে অভিষেকেই যে এমন ঝড় তুলবেন, তা হয়তো খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন।

‘আমার অভিষেক ম্যাচটা এমন হবে, কখনো কল্পনাই করিনি। যেভাবে অবদান রাখতে পেরেছি, সেটা দারুণ ব্যাপার। আমি যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে সত্যিই গর্বিত। এই ম্যাচটা অনেক দিন মনে থাকবে।’

বাসনের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ লায়ন্সের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা পেসার নিজের ক্যারিয়ারে অসংখ্য প্রতিভাবান ফাস্ট বোলার দেখেছেন। তাই নতুন কারও সম্ভাবনা নিয়ে খুব দ্রুত মন্তব্য করতে সাধারণত সতর্ক থাকেন তিনি। কিন্তু বাসনের অভিষেক তাকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে প্রশংসা না করে পারেননি।

‘এই ছেলেটাকে কী দারুণ খুঁজে পাওয়া গেছে!’- বলেছেন ডোনাল্ড। এরপরই অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন, এত দ্রুত কোনো তরুণকে বড় কোনো তকমা দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু বাসনের বোলিংয়ের পরিপক্বতা তাকে অবাক করেছে।

ডোনাল্ডের ভাষায়, ২৮ বছর বয়সী অনেক পেসার জীবনে হয়তো মাত্র একবার এমন স্পেল করতে পারেন, যা বাসন অভিষেকেই করে দেখিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে তার বোলিংয়ের পরিণত ভাব।

অভিজ্ঞ পেসারদের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব বাসনের কাঁধে

বাসনের কীর্তিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে লায়ন্সের পরিস্থিতি। দলের নিয়মিত বেশ কয়েকজন পেসার তখন ছিলেন না। লুথো সিপামলা নামিবিয়ার বিপক্ষে চোটে পড়েছিলেন। কুয়েনা মাফাকা ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের সঙ্গে। জেরাল্ড কোয়েৎজি ও কোডি ইউসুফ ছিলেন ‘এ’ দলের দায়িত্বে। আর ব্যক্তিগত কারণে ছিলেন না উইয়ান মুল্ডার।

ফলে অভিষেকেই লায়ন্সের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দিতে হয় বাসনকে। তার সঙ্গে ছিলেন আরও দুই বোলারের, উইলকো ডি ব্রুইন ও রাফিক প্যাটেলের, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক।

অর্থাৎ একেবারে নতুন একটি পেস আক্রমণের সামনে দায়িত্বটা ছিল বড়। কিন্তু প্রথম স্পেল থেকেই উইকেট নিয়ে বাসন বুঝিয়ে দেন, সেই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি প্রস্তুত।

প্রথম ইনিংসে নিজের তৃতীয় ওভারেই বোল্যান্ডের ওপেনার ব্লেড ক্যাপেলকে বোল্ড করেন বাসন। সেটিই ছিল শুরু। এরপর তার শিকার হন গ্যাভিন কাপলান। আগের মৌসুমে ৯০০-এর বেশি রান করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া কাপলানকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেন বাসন।

এরপর আউট করেন অপর ওপেনার রুয়ান টেরব্লাঞ্চেকে। তবে সবচেয়ে উপভোগ করেছেন দুইবারের টেস্ট অধিনায়ক নিল ব্র্যান্ডের উইকেটটি। ব্র্যান্ডকে সরাসরি বোল্ড করে দেন বাসন।

‘ওটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের উইকেট। আমি তাকে পরিষ্কার বোল্ড করেছি। একজন বোলারের জন্য ব্যাটারের ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বল গিয়ে স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়া- এর চেয়ে বিশেষ কিছু হতে পারে না। এটাই আমার প্রিয় উইকেট।’

এক পর্যায়ে বোল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৯০ রান। সেই ছয়টি উইকেটই নিয়েছিলেন বাসন। এরপর আবার তাকে আক্রমণে ফিরিয়ে আনা হয় সেঞ্চুরিয়ান লেহান বোথাকে ফেরাতে। ১৭০ রান করা বোথাকেও শেষ পর্যন্ত নিজের শিকারে পরিণত করেন এই তরুণ পেসার। প্রথম ইনিংসে বাসনের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৬২ রান।

লায়ন্স পরে বোল্যান্ডের সামনে ২৭৯ রানের লক্ষ্য দেয়। চতুর্থ দিনে সেই লক্ষ্য রক্ষা করতে গিয়ে লায়ন্সের ভরসার জায়গা ছিলেন বাসনই। দলের অন্য যে কোনো পেসারের চেয়ে বেশি ওভার করেন তিনি এবং যে চারটি উইকেট পড়ে, সব কটিই তুলে নেন বাসন। অর্থাৎ অভিষেক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট- ৯৯ রানে।

জেজে বাসনের বোলিংয়ে ডোনাল্ড সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ তার ছন্দ, সুইং ও কবজির অবস্থান দেখে। ‘ও যখন দ্বিতীয় স্পেল শুরু করল, তখনই বুঝতে পারছিলাম তার ছন্দ ঠিক জায়গায় আছে। এটা নিয়ে সে অনেক কাজ করেছে। আগে তার কিছু নো-বলের সমস্যা ছিল, কিন্তু এখন সে সেটা ঠিক করে ফেলেছে।’

তরুণ এই পেসারের বল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুইং করার ক্ষমতাকেও বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন ডোনাল্ড। লম্বা গড়নের বাসনের স্বাভাবিক কবজির অবস্থান এবং বাঁহাতি হওয়াও তাকে বাড়তি সুবিধা দেয় বলে মনে করেন তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ- শেখার আগ্রহ।

ডোনাল্ড বলেন, ‘বাসন খুব ভালো শ্রোতা এবং ভালো প্রশ্ন করে। অর্থাৎ শুধু প্রতিভা নয়, নিজের বোলিং আরও উন্নত করার মানসিকতাও রয়েছে তার।’

বাসনের পারফরম্যান্স দেখে ডোনাল্ডের মনে পড়ে গেছে কাগিসো রাবাদার কথা। ‘অ্যাডিলেড ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কাগিসোর রাবাদাকে প্রথমবার দেখার সময়ও এমন অনুভূতি হয়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম, ছেলেটার মধ্যে কিছু একটা আছে। মাঝেমধ্যে এমন কিছু ছেলে আসে, যাদের খুঁজে পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের- তাদের যত্ন করে গড়ে তুলতে হয়।’

অবশ্য বাসনের সঙ্গে রাবাদার তুলনা এখনই করার সময় আসেনি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন একজন তরুণ পেসারের আবির্ভাব দলটির জন্য নিঃসন্দেহে বড় সুখবর।

এই মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরের মাঠে রয়েছে আটটি টেস্ট, নয়টি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি। এর বাইরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজে দুটি টেস্টও খেলবে তারা। এমন ব্যস্ত সূচিতে পেসারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই নিয়মিত পেসারদের বিশ্রাম ও রোটেশনের প্রয়োজন হতে পারে। সেই সুযোগে বাসনের জন্য জাতীয় দলের দরজাও হয়তো খুলে যেতে পারে। তবে আপাতত তার সামনে আরও জরুরি একটি কাজ- স্কুলের পড়াশোনা শেষ করা। ডোনাল্ডও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘পড়াশোনাই আগে।’

অভিষেক ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে বই নিয়ে বাসনের বসে থাকার দৃশ্যটিও তার কাছে বেশ মজার। সতীর্থদের ক্রিকেটের ব্যস্ততার মাঝেই বাসনকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। কারণ চলতি সপ্তাহেই তার শেষ পরীক্ষা।

এই কারণে লায়ন্সের পরের ম্যাচেও খেলছেন না তিনি। ব্লুমফন্টেইনে নাইটসের বিপক্ষে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করার সুযোগ না পেয়ে কিছুটা হতাশ বাসন। ‘সম্ভবত সফরকারী একাদশের অংশ হওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া হওয়ায় খারাপ লাগছে। তবে এটা যাত্রারই অংশ।’

তবে স্কুল শেষ হওয়ার পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাসনের কোনো দ্বিধা নেই, ‘আমার শেষ পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরোপুরি ক্রিকেট।’

আইএইচএস/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
যশোরে ৩৪ মোটরসাইকেলসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক
যশোরে ৩৪ মোটরসাইকেলসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য আটক

যশোরে ৪৩টি স্থানে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ৩৪টি অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। এ সময় ১২টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা এবং কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে এ বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম চালানো হয়।অভিযান শেষে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, জেলার নয়টি থানা, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ৪৩টি স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। শহরের মণিহার, ধর্মতলা, দড়াটানা, নিউমার্কেট ও হাইকোর্ট মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি করা হয়। ৪৩টি চেকপোস্টে ১ হাজার ৭০০টির বেশি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার তল্লাশি করা হয়। বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল শনাক্ত, বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং যানবাহনে অবৈধ অস্ত্র, মাদক বা অন্যান্য অপরাধমূলক সামগ্রী পরিবহন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো যশোর জেলাজুড়েই পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এটি একদিনের অভিযান নয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার জেলার নয়টি থানা, ডিবি ও ট্রাফিক বিভাগের যৌথ সহায়তায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, এর আগে গত পরশুদিনও জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ১৫৫ জনকে গ্রেফতা করা হয়েছে। মিলন রহমান/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
পিকআপভর্তি ভারতীয় নাসির বিড়িসহ যুবক আটক

পিকআপভর্তি ভারতীয় নাসির বিড়িসহ যুবক আটক

আসিফ মাহমুদকে কৃতজ্ঞতা জানালেন মামুনুল হক

আসিফ মাহমুদকে কৃতজ্ঞতা জানালেন মামুনুল হক

হালাল বিনিয়োগ: কেন, কোথায় ও কীভাবে করবেন

হালাল বিনিয়োগ: কেন, কোথায় ও কীভাবে করবেন

পুলিশের ৮ কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন
পুলিশের ৮ কর্মকর্তাকে বদলি-পদায়ন

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আট কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজা সারোয়ারকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর আগে গত ২৫ আগস্টের এক আদেশে তাকে সাতক্ষীরায় বদলি করা হয়েছিল। নতুন আদেশে ওই বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিচ উদ্দীনকে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং টিআর পদে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সার্কেলের এএসপি নাফিছুর রহমানকে র‍্যাবে, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ সার্কেলের এএসপি সুবীর কুমার সাহাকে মুকসুদপুর সার্কেলে এবং নৌ পুলিশের এএসপি মো. সোহেল মিয়াকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এসি মো. আজিজুর রহমান খানকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) এসি অরুপ রতন সরকারকে নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। টিটি/কেএইচকে

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন রাবি শিক্ষার্থী

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চাকরি পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন রাবি শিক্ষার্থী

ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ঢাবিতে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫৯৩

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫৯৩

উপনির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা
উপনির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৬তম রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮ আসন পেয়ে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। এই নির্বাচনে বিজেপির জয় ও তৃণমূলের পরাজয়ের পর ভাঙন শুরু হয় তৃণমূলে। তৃণমূলের জয়ী ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে আলাদাভাবে তৃণমূল গড়েন। এর নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে রাজ্যের বিরোধী দলের স্বীকৃতি দিয়ে বিরোধী দলের নেতা করা হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে।এ বছর নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসনে জেতেন—কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা আসনেও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর জেতেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাত্র একটি আসন ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর কাছে হেরে যান। ফলে বিধানসভার আসন থেকে শূন্য হয়ে যান মমতা।বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন। আর হুমায়ুন কবীর ছেড়ে দেন নওদা আসন। আগামী ৬ অক্টোবর শুভেন্দু ও হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া এই আসনগুলোতে উপনির্বাচন হচ্ছে।সেই উপনির্বাচন ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। বিজেপি চাইছে এ দুটি আসনে জয়লাভ করে তাদের শক্তি জাহির করতে। তৃণমূলও চাইছে মমতার ভাবমূর্তিকে সম্বল করে নির্বাচনে লড়ে জিততে। আর কংগ্রেস ও বাম দলও এবার চাইছে ওই দুটি আসনে বিজেপি এবং তৃণমূলকে পরাজিত করে জয়ী হতে। এই লক্ষ্য নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব চলছে বিভিন্ন দলের।এই শূন্য দুই আসনে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই বিবদমান শিবির, জাতীয় কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিজেপি এখনো ঘোষণা করেনি। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের শূন্য আসনের মধ্যে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে মিলন প্রধানকে। আর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। সিপিএম প্রার্থী করেছে শান্তি গোপাল গিরিকে।নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপির প্রার্থী করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সাবেক আপ্ত সহায়ক বা পিএস চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথকে। চন্দ্রনাথ খুন হন এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের হাতে।আর মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী করা হয়েছে হুমায়ুনের পুত্র গোলাম নবী আজাদকে। হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা দিয়ে প্রচারের আলোতে চলে আসেন। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে রবিউল আলম চৌধুরীকে। কংগ্রেস করেছে আবদুল্লাহ হিল কাফিকে। সিপিএম প্রার্থী করেছে সইফ আসাদ আলীকে। আর তৃণমূলের বিদ্রোহী অংশ ঋতব্রত নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছেন এহতেশামুল হক ও রেজিনগরে প্রার্থী করেছেন শফিউদ্দিন শেখকে।বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ থাকলেও তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এ দুই দলই তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে লড়তে চাইছে। জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির পর এ দুই শিবিরের দাবি নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনে উভয় পক্ষের ৫ জন করে ১০ সদস্যের শুনানি হলেও এখনো নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে কে লড়বে।নির্বাচন কমিশন দুই দলের কাছে ফের নথিপত্র চেয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। সেই নথিপত্র জমা দেওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন নতুন করে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে কে লড়বেন জোড়া ফুল প্রতীক নিয়ে, নাকি জোড়া ফুলকে ফ্রিজ করে নতুন করে বিবদমান দুই দলকে আলাদা প্রতীক নিয়ে লড়ার নির্দেশ দেবে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত

কাদেরসহ ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের অর্ধেক সম্পদ বাজেয়াপ্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নে ইসি ও
সরকারের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নে ইসি ও সরকারের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে

আসিফ নজরুল: বিশ্বকাপ বয়কটের দায় আমারই

আসিফ নজরুল: বিশ্বকাপ বয়কটের দায় আমারই

0 Comments