জাতীয়

শাহ আবদুল করিমের ‘রাজনীতি’

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
শাহ আবদুল করিমের ‘রাজনীতি’
শাহ আবদুল করিমের ‘রাজনীতি’

বাউল শাহ আবদুল করিমকে অনেকে শুধু মরমি গীতিকার হিসেবে চেনেন। কিন্তু তাঁর গানে ও জীবনে মিশে আছে গভীর রাজনীতি—হাওরের দুঃখী মানুষের কথা, রাষ্ট্রের শোষণ আর সমাজ ভাঙনের আখ্যান। ‘দেশের দুঃখ-দুর্দশার ছবি’ আঁকতে গিয়ে করিম কীভাবে হয়ে উঠলেন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর, এ নিয়ে লিখেছেন সহুল আহমদ

কেউ বলে শাহ আবদুল করিম কেউ বলে পাগল
যার যা ইচ্ছা তা–ই বলে, বুঝি না আসল-নকল।
                                            —কালনীর ঢেউ

বাউল শাহ আবদুল করিমের জীবন ও গানে আষ্টেপৃষ্ঠে থাকা রাজনীতির খবর তাঁর ভক্ত-মুরিদ ও বিশ্লেষকদের কল্যাণে রাষ্ট্র হয়ে করিম-চর্চায় প্রবলভাবেই প্রতিষ্ঠিত। যতীন সরকার দরদের সঙ্গে তাঁর গান ও গীতে সন্ধান করেছিলেন ‘সর্বহারার দুঃখজয়ের মন্ত্র’, বলেছিলেন, মার্ক্স-এঙ্গেলস পড়ে করিম ‘দুঃখনিরোধের পথের সন্ধান করেননি’, বরঞ্চ ‘দুঃখের ভেতরে থেকেই তিনি অবলোকন করেছেন দুঃখের সব কারণ বা হেতুসমূহকে।’ আবার তাঁর জীবনী নিয়ে আলাপগুলোয় বাংলাদেশের মূলধারার ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে করিমের সম্পর্কের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। কাগমারী সম্মেলনে তাঁর যোগদানের বৃত্তান্ত বারবার উঠে এসেছে গানে, আত্মস্মৃতি ও আলাপচারিতায়। ফলে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর জীবনের সম্পৃক্ততা এবং গানের মধ্যে গণমানুষের দুঃখ–দুর্দশা তুলে ধরার রাজনীতি—দুটো আলাপই প্রতিষ্ঠিত। এ লেখাটাকেও একই কিসিমের বলে ধরে নেওয়া যায়, তবে লেখার শেষের দিকে দাবি করা হবে, আবদুল করিমের একটা বিষয় করিম-চর্চায় যথেষ্ট মনোযোগ পায়নি।

একটি ইশতেহার

বাউল করিমের ‘মন মজালে ওরে বাউলা গান’কে তাঁর পুরো বাউল–জীবনের ইশতেহার হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে। তাঁর জনপ্রিয় এই গানের ছত্রে ছত্রে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন গান গাওয়ার উদ্দেশ্য ও টান। গানের প্রথম অংশেই গানের প্রতি তাঁর সীমাহীন টান ও তীব্র ভালোবাসা প্রকাশিত হয়: ‘অন্তরে আসিয়া যখন দিলে তুমি ইশারা/ তোমার সঙ্গ নিলাম আমি সঙ্গে নিয়া একতারা/ মন মানে না তোমায় ছাড়া/ তোমাতে সঁপেছি প্রাণ।’ গানে গানে সুরে সুরে মনের কথা প্রকাশ করাই তাঁর কাছে রাত-দিনের সাধনার বিষয়: ‘কী করে পাব তোমারে তাই ভাবি দিনরজনী/ মনের কথা প্রকাশ করি কথায় দিয়ে রাগিণী।’

কিন্তু এই ‘এশকে দিলদরিয়ার পানি’ কোন দিকে বয়ে যায়? গানে সুরে তিনি তাঁর মনের কোন কথাটা প্রকাশ করতে চান? এই গানের শেষাংশেই তিনি এই সওয়ালের মোক্ষম জবাব দিয়েছেন। নিজেকে মরমি কবিদের থেকে পৃথক করে বলেন, মরমিরা তত্ত্বগান গেয়ে থাকেন। বাউল করিমেরও অসংখ্য গান যে মরমি তত্ত্বগানের চৌহদ্দিতেই থাকবে এর স্বীকৃতি খোদ প্রখ্যাত সুধীর চক্রবর্তীর জবানেই পাওয়া যায়: ‘অখণ্ড বাংলার লোকায়ত সাধনার একজন মরমি গীতিকার রূপে শাহ আবদুল করিমের একটি স্থায়ী আসন…আমাদের পাততেই হবে।’ আরেকজন সংগীত বিশ্লেষক আবদুল করিমকে যেভাবে ‘সীমার মাঝে অসীমের সন্ধান, দেহ থেকে দেহাতীতে, রূপ থেকে অরূপে যাওয়ার সাধনায় নিমগ্ন’ বলে চিহ্নিত করেছেন, তাতেও এই মরমি পরিচয়টাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শাহ আবদুল করিমের প্রচুর গানে একটা অতীতের চেহারা পাওয়া যায়, সেখানে ‘সেই সময়/জমানা’ বনাম ‘এই সময়/জমানা’–এর মধ্যকার তুলনামূলক আলাপ বিধৃত থাকে। আমাদের প্রজন্মের কাছে সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’। গানটা এই ঘরানার একেবারে ধ্রুপদি নজির হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে।

কিন্তু আবদুল করিম কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, মরমি কবিরা যেখানে তত্ত্বগান গেয়ে থাকেন, সেখানে তাঁর কাজ দেশের দুঃখ–দুর্দশার ছবি এবং বিপন্ন মানুষের দাবি তুলে ধরা। তাঁর গান, আত্মস্মৃতি ও প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে হাওর অঞ্চলের মানুষের দুঃখ–দুর্দশার কথা বারবার নানাভাবে উঠে আসে। হাওরাঞ্চলের মানুষের দারিদ্র্য, প্রকৃতির বিরুদ্ধে নিত্য সংগ্রাম, দুর্দশাগ্রস্ত জীবনযাপন তুলে ধরে এসব থেকে তাঁর জনপদকে মুক্ত করাই যেন তাঁর আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-সাধনা।

১৯৯৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা আমার গাঁয়ে এসেছেন, দেখে যান এখানে, এই বিশাল ভাটি অঞ্চলজুড়ে মানুষগুলো কী অপরিসীম দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে বাস করে। যখন মাঝে মাঝে শহরে যাই, স্তম্ভিত হয়ে এই ব্যবধান লক্ষ করি। লোকে কয়, আমি নিরন্ন দুস্থ মানুষের কবি, আমি আসলে তাক ধরে দুস্থদের জন্য কিছু লিখিনি। আমি শুধু নিজের কথা বলে যাই, ভাটি অঞ্চলের একজন বঞ্চিত নিঃস্ব দুঃখী মানুষ আমি, আমার কথা সব হাভাতে মানুষের কথা হয়ে যায়। … দ্যাখেন তো এই অঞ্চল ঘুরে মানুষের আয়ের কোনো উৎস আছে কি না।’

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা উল্লেখ করেছিলেন, এই কথাগুলো বলার সময় ‘করিম শাহ ক্রমে উত্তেজিত এবং চোখ দুটো আর্দ্র হয়ে উঠছে’.../ ‘করিম শাহর চোখে অশ্রুধারা’ পড়ছিল। তাঁর মতে, ‘মানুষই যদি না থাকে তাহলে দেহসাধনা করবে কে?’ তাই তিনি ‘সুযোগ পেলেই মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে’ ধরেন। যে ‘বাউলা’ গানে তাঁর মন মজেছে, সেখানে আসলে তিনি এই ছবি তুলে ধরে শান্তিবিধান চান: ‘আমি তুলে ধরি দেশের দুঃখ-দুর্দশার ছবি/ বিপন্ন মানুষের দাবি—/ করিম চায় শান্তিবিধান…’।

করিমের এই গান প্রচণ্ড রাজনৈতিক, যেমন করে তাঁর এই ‘সিদ্ধান্ত’ও রাজনৈতিক।

‘সময়’–এর চেহারা

শাহ আবদুল করিমের প্রচুর গানে একটা অতীতের চেহারা পাওয়া যায়, সেখানে ‘সেই সময়/জমানা’ বনাম ‘এই সময়/জমানা’–এর মধ্যকার তুলনামূলক আলাপ বিধৃত থাকে। আমাদের প্রজন্মের কাছে সম্ভবত তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’। গানটা এই ঘরানার একেবারে ধ্রুপদি নজির হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে। পুরো গানটাই আদতে অতীতের স্মৃতিচারণা; ফেলে আসা দিনগুলোতে কী করতেন, কেমন উদ্‌যাপনযোগ্য ছিল সমাজ, তারই চিত্র এঁকেছেন। স্মৃতিচারণার পর একেবারে শেষে বলেছেন, ‘করি ভাবনা সেদিন আর পাব না/ ছিল বাসনা সুখী হইতাম/ দিন হতে দিন আসে যে কঠিন/ করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম’।

“মন” বলতে আমরা যে জিনিসটাকে বোঝাই, সেটার চিহ্নমাত্রও থাকল না আর। তা ছাড়া সবচেয়ে আক্ষেপ লাগে যখন দেখি যে এই বিজ্ঞান বা যন্ত্রসভ্যতার ফল ভোগ করছে কয়েকজন হাতে গোনা কোটিপতি। এই যন্ত্রসভ্যতা ফলত ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্যকে আকাশ-পাতাল পর্যায়ে উন্নীত করেছে।

আরেক গানে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘অতীত বর্তমানে কি আর মিল আছে?/ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা নাই ঘুরছে সব স্বার্থের পাছে’। তাঁর এই ঘরানার সব গানেই ‘যায় দিন ভালো’র সুর আছে। এই সুরের মধ্যে বর্তমান নিয়ে হতাশা লেপটে থাকে; হতাশাগ্রস্ত বর্তমান নিয়ে আক্ষেপেরও বহিঃপ্রকাশ এই মনোভাব।

বিভিন্ন গানে ‘সেদিন/সেই সময়/সেই জমানা’র বা অতীতের যে চেহারা বাউল শাহ আবদুল করিম দেখান, সেখানে একটা জীবন্ত ‘সমাজ’–এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়, বা বলা যায় তিনি এর সন্ধান আমাদের সামনে হাজির করতে চান, কিন্তু সেই সমাজ এখন গরহাজির। সেই সমাজের নানা সাংস্কৃতিক ইশারাও গানে লেপটে থাকে। তাহলে বর্তমানে কী আছে? এই সময় বা বর্তমানে আদতে সেই ‘সমাজ’ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আত্মস্মৃতিমূলক গানে তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, এই সমাজে ‘মামলা-মোকদ্দমা’, ‘নির্বাচন’ ইত্যাদিসহ আধুনিক রাষ্ট্রের শুঁড় ও সরঞ্জাম প্রবেশ করেছে। এগুলো তাঁর ফেলে আসা সমাজজীবন ধ্বংস করেছে, মানুষে মানুষে হিংসা-দ্বেষ বৃদ্ধি করেছে।

ইতিহাসবিদ ই পি টমসন বলেছিলেন, সম্ভবত পরিসংখ্যানের গড় আর মানুষের অভিজ্ঞতা প্রায়ই উল্টো পথে হাঁটে। ‘সেই সময়ে’ কি সংকট ছিল না? অভাব-অনটন ছিল না? ‘সেই সময়’ থেকে কি ‘এই সময়ে’ মানুষের আয়–রোজগার বৃদ্ধি পায়নি? করিমের এলাকায় কি আগের চেয়ে রাস্তাঘাট ভালো হয়নি? নগরায়ণ ও শহরায়ণের ছোঁয়া লাগেনি? তবু করিম আমাদের আরেক অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির কথা শোনান। টমসনকে স্মরণ করে বলা যায়, মানুষের মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ যেভাবে বাড়ে, একইভাবে তো তাদের জীবনযাপনে অস্থিরতা, অশান্তি, হতাশাও বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেই সামাজিক জীবন ভেঙে যাওয়ার উপক্রমে জনজীবনে যে অস্থিরতা ও হতাশা ‘অতীত’ সম্পর্কে স্মৃতি রোমন্থনের জন্ম দেয়, তারই প্রতিচ্ছবির দেখা মেলে করিমের গানে।

শাহ আবদুল করিমের এই ‘অতীতমুখিনতা’ নিয়ে তাঁকে সওয়াল করা হয়েছিল। তিনি কি তবে বর্তমান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, বা নিচ্ছেন? করিমের জবাবে আমরা এই উন্নয়নের বিপরীতে হাঁটা মানুষের অভিজ্ঞতা পাই: ‘বর্তমান আমার কাছে গৌণ কোনো বিষয় নয়। আমার চোখের সামনে এই পরিবেশ-পরিপার্শ্ব আমূল বদলে গেছে। নগরায়ণ ও যন্ত্রসভ্যতার বিকাশ মানুষের জীবনযাত্রার মানকে পরিবর্তন করেছে। আমি একে খারাপ চোখে দেখি না। কিন্তু আমার কান্না পায়, ভেতরে তীব্র হাহাকার অনুভব করি, যখন দেখি যে চোখের সামনে অবিকল যন্ত্র হয়ে উঠল মানুষগুলো। “মন” বলতে আমরা যে জিনিসটাকে বোঝাই, সেটার চিহ্নমাত্রও থাকল না আর। তা ছাড়া সবচেয়ে আক্ষেপ লাগে যখন দেখি যে এই বিজ্ঞান বা যন্ত্রসভ্যতার ফল ভোগ করছে কয়েকজন হাতে গোনা কোটিপতি। এই যন্ত্রসভ্যতা ফলত ধনী-গরিবের মধ্যকার বৈষম্যকে আকাশ-পাতাল পর্যায়ে উন্নীত করেছে।’

তাঁর মতে, এখানে নির্বাচনব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে যে এর উসিলায় এক গ্রামের মানুষ পাঁচ দলে বিভক্ত হয়ে দলাদলি, মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা করে। প্রতি নির্বাচনের মৌসুম ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল’ তৈরি করে এবং নির্বাচনের পর ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়, কিন্তু তিন-চার বছর পর আবার শুরু হয়।

শাহ আবদুল করিম অতীতে মানুষের ‘মন’–এর অনুসন্ধান করেন, যা তাঁর মতে, নগরায়ণের ফলে ‘যন্ত্রে’ রূপান্তরিত হয়েছে। অতীতের সামাজিক উদ্‌যাপনের সঙ্গে ‘যন্ত্র’-এর প্রবল বৈপরীত্য। ধনী–গরিবের বৈষম্যের কারণেই নগরায়ণ ও বিজ্ঞানের সুফল গুটিকয় লোক ছাড়া আর কেউ পাচ্ছে না।

সবাই প্রতিযোগিতায় নেমেছে, সবাই সবাইকে শত্রু ভাবছে। প্রতিযোগী ‘মন’-এর কি আর ‘যন্ত্র’ না হয়ে উপায় থাকে? কিন্তু বাউল তো এটা চান না। তিনি অতীত রোমন্থন করতে পারেন, কিন্তু হতাশ নন। তিনি বারবার গানে–গীতে বিপ্লবের কথা বলেন, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন।

রাষ্ট্রের অন্দর

মোটাদাগে রাজনৈতিকতার দুটি পরিসর থাকে। একটি হচ্ছে যেখানে নাগরিক তার দাবিদাওয়া নানা অপ্রাতিষ্ঠানিক কায়দায় তুলে ধরে; আরেকটি হচ্ছে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক আদব–লেহাজে রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের ক্ষমতাসম্পর্কের বিবিধ সুরত নিয়ে বাতচিত করে। আবদুল করিমের রাজনীতি নিয়ে এতক্ষণ যা আলাপ হয়েছে, তা আসলে প্রথমাংশের বিষয়। এবং সাধারণত তাঁর গানে যে রাজনীতির অনুসন্ধান করা হয়েছে, সেটা আসলে এই জায়গা থেকেই: তিনি কীভাবে সাধারণ মানুষের দুঃখ–দুর্দশার কথা বলেছেন। কিন্তু তাঁর গানে এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পরিসর বিষয়ে যে আলাপ পাওয়া যায়, তা নিয়ে খুব একটা আলোচনা এখনো হয়নি।

১৯৯৮ সালে প্রকাশিত শাহ আবদুল করিমের ভাটির চিঠি এই দিক থেকে এক অনন্য সৃষ্টি। এখানে তিনি ভাটি অঞ্চলের জীবনযাপন তুলে ধরার পাশাপাশি নিজেদের প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতায় এই আধুনিক ‘রাষ্ট্র’ ও এর কলকবজার জটিলতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। হাওর অঞ্চলের জীবনযাপন থেকে গল্প শুরু করে ধারাবাহিকভাবে সেটা নিয়ে গেছেন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণের দিকে এবং তাতে যে ইশারা দিয়েছেন, সেটা এখনো আমাদের রাজনৈতিক মহল মানতে নারাজ।

যেমন, ধরা যাক নির্বাচনের কথা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘নির্বাচন’ তো একেবারে প্রধান ফটক বা ন্যূনতম। কিন্তু আমাদের এখানে নির্বাচনব্যবস্থা যে রূপ ধারণ করেছে, সেটার মধ্যেই যে সহিংসতার আঁচ লেপটে আছে, তা আবদুল করিমের নজর এড়ায়নি। তাঁর মতে, এখানে নির্বাচনব্যবস্থাটাই এমন হয়ে গেছে যে এর উসিলায় এক গ্রামের মানুষ পাঁচ দলে বিভক্ত হয়ে দলাদলি, মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা করে। প্রতি নির্বাচনের মৌসুম ‘স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানল’ তৈরি করে এবং নির্বাচনের পর ধীরে ধীরে তা স্তিমিত হয়, কিন্তু তিন-চার বছর পর আবার শুরু হয়। এই ব্যবস্থা মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ানোর ও ভালোবাসা-সম্প্রীতি কমানোর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি যে পথ হারাবে, সহিংসতার জন্ম দেবে, তার পূর্বাভাস যেন তিনি দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই পেয়েছিলেন।

চমস্কি যা বলার চেষ্টা করেছিলেন, আবদুল করিমের জবানিতেও আমরা তা শুনি: ‘নিরপেক্ষ থাকে যারা সাধারণ মানুষ/ চারদিকের তাড়নায় হয়ে যায় বেহুঁশ।’ এই বেহুঁশ ও বেহাল নাগরিকদের জন্য আবদুল করিমের গান ও গীতিকবিতা কিছুটা হলেও পথ দেখাতে পারে।

কিন্তু আবদুল করিম এখানেই তাঁর আলাপ শেষ করেননি। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন শাসনতান্ত্রিক কাঠামো নিয়েই। যেখানে নির্বাচন এলে ‘ভালো মানুষ’ বা ‘সৎ লোকের’ শাসন নিয়ে আলাপের জোয়ার বয়ে যায়, সেখানে আবদুল করিমের রায় হচ্ছে, এই শাসনকাঠামোতে ভালো লোক (বা পড়তে পারেন, সৎ লোক) গেলেও আখেরে কোনো লাভ হবে না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিশারদেরা যা তত্ত্বকথায় বিগত দশক যাবৎ বলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, করিম সেটা বলছেন তাঁর মতো করে:

শোষকের শাসনতন্ত্র বহাল থাকিলে।
কী হবে পার্লামেন্টে ভালো লোক দিলে।।
শোষকের তৈরি শাসনকাঠামো যে তার।
কৃষক-মজুর শোষণের হাতিয়ার।।
কাল যা ছিল আজো আছে ভেবে দেখ তাই।
এই তন্ত্রে শোষিতের পক্ষে কিছুই লেখা নাই।

এরপর তিনি বলার চেষ্টা করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না শাসনকাঠামো গণমুখী করা যাবে, ততক্ষণ আমাদের ভাগ্য পাল্টাবে না। তিনি যখন বলেন, ‘চারদিকে টাকার জয়, গরিবের মরণ/ চলেছে আমলাতান্ত্রিক নির্মম শোষণ’, তখন কোর্ট-কাছারি, আদালত, আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে গণমুখী করার বাসনাই পরিষ্কার হয়।

এ লেখায় আদতে আবদুল করিমের তিনটি গানকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক অভিমুখ ধরার চেষ্টা করেছি। এবার ইতি টানা যেতে পারে। একবার নোম চমস্কিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘আপনি তো এত সুন্দর সুন্দর বিষয়ে কথা বলেন, সাধারণ মানুষ এগুলো শোনে না কেন?’ চমস্কি তখন অনেকটা এভাবে উত্তর দিয়েছিলেন, এই নিওলিবারেল জমানা মানুষকে তো পেরেশানির মধ্যে ফেলে রেখেছে, যাকে টেবিলে খাবার জোগাড় করতেই সপ্তাহে ৫০ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয়; যদি আজকে অসুস্থ হই, আগামী মাসের বাসাভাড়া কীভাবে জোগাড় করা হবে, এই ভাবনাতেই উদ্বিগ্ন থাকতে হয়, অথবা বাচ্চাটাকে অসুস্থ রেখে কাজে গেলে বাচ্চাটার কী হবে, এমন হাজারো দুশ্চিন্তায় আমজনতা যখন বেহাল হয়ে থাকে, তখন তারা ওই ভাবনার সময় কোথায় পাবে? তারা কখন ভাববে, আমি এটা হব, ওটা হতে চাই? এই পরিকল্পিত শৃঙ্খলিত বাসিন্দাদের সেই চিন্তা করার মতো সময় থাকে না। চমস্কি যা বলার চেষ্টা করেছিলেন, আবদুল করিমের জবানিতেও আমরা তা শুনি: ‘নিরপেক্ষ থাকে যারা সাধারণ মানুষ/ চারদিকের তাড়নায় হয়ে যায় বেহুঁশ।’

এই বেহুঁশ ও বেহাল নাগরিকদের জন্য আবদুল করিমের গান ও গীতিকবিতা কিছুটা হলেও পথ দেখাতে পারে।

  • লেখায় ব্যবহৃত গান ও সাক্ষাৎকারের হদিস: শুভেন্দু ইমাম (সংকলন ও সম্পাদনা), শাহ আবদুল করিম রচনাসমগ্র, বইপত্র, ২০১৩

  • সহুল আহমদ: লেখক ও গবেষক

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়
কোথাও খানাখন্দ, কোথাও চলছে নির্মাণকাজ, সড়কে চলাই দায়

ঢাকার সাভারের বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দ ও ভাঙাচোরার কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের কারণে কোথাও কোথাও সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেনের কাজ। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত চলাচল করা মানুষ। পণ্য পরিবহন থেকে রোগী বহন—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তির কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙাচোরা এ সড়কে হেলেদুলে চলায় প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঝাঁকুনিতে যানবাহন থেকে পড়ে যাচ্ছে কাঁচামাল, ভেঙে যাচ্ছে পণ্য। শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে। এ ছাড়া রোগীরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাইপাইল–আশুলিয়া সড়কটি মূলত সাভার–আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি ঢাকার সঙ্গে আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত সড়কের এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ হলে ভোগান্তি থাকবে না।সড়ক বেহাল দশাগত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য বাইপাইল মোড়ের কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। পাশেই সড়কে জমেছে কাদা। স্থানটিতে সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় কিছুক্ষণ পরপরই যানজট তৈরি হচ্ছে। বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি ইটের সলিং করা। এই অংশের জায়গায় জায়গায় ইট উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিক বাসস্ট্যান্ডের ফয়সাল মার্কেট থেকে শিমুলতলা এলাকা পর্যন্ত দুই পাশের নতুন সড়কের কাজ করা হয়েছে। সরকার মার্কেট থেকে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। নরসিংহপুর এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে।এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে উঁচু করে ফেলে রাখা বালুর স্তূপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় সড়কের নিশ্চিন্তপুর অংশটিও সংকুচিত হয়ে গেছে। নিশ্চিন্তপুরে আল মুসলিম অ্যাপারেলস লিমিটেড থেকে ঘোষবাগের বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পর্যন্ত আশুলিয়ামুখী লেনের কাজ করা হয়েছে। বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে উঁচু–নিচু ও ছোট ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। আবার কিছু অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে।নষ্ট হচ্ছে যানবাহন, পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিবাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের কারণে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলে। খানাখন্দের কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা।সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের চালক মো. কামরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে মালিকেরা ড্যামারেজ দিয়া গাড়ি চালাইতেছে। রাস্তার কারণে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। পাতি ভাঙার খরচটা একটু বেশি। ব্রেক নষ্ট হয় প্রায়ই। চাকার ভেতরে ইটের টুকরা ঢুইকা চাকা বাস্ট হয় (ফেটে যায়)।’এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ঘেঁষে সড়কে ফেলে রাখা বালুর স্তুপের ওপর দিয়ে চলছে যানবাহন। গত সোমবার দুপুরে নরসিংহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়কাভার্ড ভ্যানে করে গাজীপুর থেকে সিরামিকের পণ্য আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান চালক মো. মামুন মিয়া। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকির কারণে মাঝেমধ্যেই গাড়িতে থাকা সিরামিকের দামি দামি বাসনপত্র ভেঙে যায় বলে জানান তিনি। মামুন মিয়া বলেন, ‘এক দিন ভাঙা না পাইলেও অন্য দিন ভাঙেই। দুই-তিন বছর ধইরা চলতাছি, দেখতাছি রাস্তার কাজ চলতেছে।’বাইপাইল আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন। ভাঙাচোরা সড়কে ঝাঁকুনিতে অনেক সময় পণ্য সড়কে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই সড়কে পণ্য পরিবহনে তাঁদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। জামগড়া চৌরাস্তায় কাজী মার্কেটের সবজি বিক্রেতা মো. আকাশ বলেন, ‘যে ঝাঁকি খায়, মানুষই পইড়া যায়। আর মাল তো পড়বোই। আগে যে জিনিস ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়া আনতাম, এখন লাগে ২৫০ টাকা।’শিল্পকারখানাগুলোও পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম বলেন, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ হিসেবে নবীনগর ও সাভারের সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।ভাঙাচোরা সড়কে সাবধানে চলছে যানবাহন। সোমবার দুপুরে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় শিল্পকারখানাসমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়কের আশপাশে কয়েক লাখ শ্রমিক বসবাস করেন। সাধারণত এসব মানুষ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সড়ক বেহালের কারণে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ দিয়ে অনেকটা ঘুরে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, বাচ্চাদের অসুখ হলে আগে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। এখন ওই রাস্তা ভালো না। ধুলাবালু ও ভাঙাচোরা। তাই এখন অসুস্থ হলে সাভারে নিয়ে যান।স্বস্তি এসেছে কিছু অংশে২ সেপ্টেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটারের পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ওই সেতুসংলগ্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলো পণ্য পরিবহনে সুবিধা পাচ্ছে। তবে ওই সেতুর দূরবর্তী স্থান থেকে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ পেরিয়ে যথাসময়ে কারখানায় পৌঁছানোসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের।আশুলিয়ার জিরাবোর ঘোষবাগ এলাকায় সড়কের কাজ চলছে। সোমবার দুপুরে সেতুসংলগ্ন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ন্যাচারাল গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স) মো. রাকিবুল আহসান বলেন, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত অংশটি খুলে দেওয়ায় কারখানা থেকে পণ্য পরিবহন এখন অনেক সহজ হয়েছে। তবে কারখানার কর্মচারী ও শ্রমিকেরা অন্য এলাকায় বসবাস করায় তাঁরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।বর্তমানে সড়কের যেসব স্থানে গর্ত বা খানাখন্দ রয়েছে, সেগুলো ঠিক করা হলেও বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল এবং ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশ অর্থাৎ দুই লেন পুরোটার কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

মেটায় ফেলোশিপ, দুই বছর পূর্ণ অর্থায়নসহ বিস্তারিত জেনে নিন

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

চেলোপাড়ায় বাদ্যযন্ত্র তৈরির ব্যস্ততা

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

ফাইনালে উঠতে পারলেন না মিরাজ, বৃথা গেল হেটমায়ারের সেঞ্চুরি

আমি আকাশ হতে চাই
আমি আকাশ হতে চাই

আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে মানুষেরা আসে মেঘ হয়ে—অতিথির মতো, থাকে ক্ষণিক,তবু আকাশ তো থাকে!একান্ত নীল,অচঞ্চল এক অস্তিত্বের রেখায় গাঁথা।আমি আকাশ হতে চাই,যেখানে প্রেম আসে ধূসর ধোঁয়ায়,তবু হারায় না হৃদয়ের স্বচ্ছতা।কারও আসা বা যাওয়ায়আকাশ কি কখনো নিজের রং বদলায়?না, সে থাকে স্থির, শান্ত, সর্বত্র বিস্তৃত।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ রাতের নিস্তব্ধতায়একটা চাঁদ জ্বলে, নিঃশব্দে ভালোবাসে,অন্ধকারের বুকে আশার মতোআলোকছায়া ছড়িয়ে দেয় নিরবধি।আমি আকাশ হতে চাই,যখন আমি কাঁদি—সে কান্না হয় বৃষ্টির মতো,যার সুরে মানুষ খুঁজে পায় পরিত্রাণ,শোকের জলেও ভিজে ওঠে প্রাণের ঘ্রাণ।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আকাশের মতো বিস্তৃত মন চাই আমার,যেখানে ক্ষুদ্রতা নেই, নেই হিংসা বা দ্বিধা,যেখানে প্রতিটি হৃদয়ের ব্যথাএক আশ্রয় পায়—বিশ্বাসের ছায়ায়।আমি আকাশ হতে চাই,কারণ আমি পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চাই,যেখানে সময় বদলায়, রং বদলায়,তবু আমি থেকে যাই—এক অদৃশ্য গভীরতায়স্থির, কিন্তু সীমাহীন।আমি আকাশ হতে চাই—কারণ আকাশ কখনো কারও হয় না,তবু সে সবার।তেমনি আমি—নির্বাক ভালোবাসা হয়েসব কষ্টের ছায়া হই,তবু নিজেই রয়ে যাই আকাশ হয়ে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন  চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো শাফি এখন চাকরি করেন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে, তাঁকে দেখা যায় স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মঞ্চেও

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ভিড় দেখে অনেকের ভয় বা অস্বস্তি হয় কেন

ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন
ফিনল্যান্ডে পাওয়া গেছে ভাইকিং যুগের গুপ্তধন

বনের ভেতর সুনসান নীরবতা। হঠাৎ বিপ বিপ করে বেজে উঠল মেটাল ডিটেক্টর। শব্দটা শুনে কান খাড়া করলেন কালে লাপ্পিনেন। জায়গাটা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে, সিসমা শহরের কাছের এক জঙ্গল। কালে হয়তো ভেবেছিলেন, মাটির নিচে পুরোনো কোনো টিনের কৌটা বা লোহালক্কড় মিলবে। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর মাটি খুঁড়তেই তাঁর চোখ ছানাবড়া! জঙ্গলের পাথুরে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে হাজার বছর পুরোনো রুপার বিশাল এক গুপ্তধন!ফিনল্যান্ডের ইতিহাসে এর আগে ভাইকিং যুগের এত বড় রুপার গুপ্তধন আর কখনো পাওয়া যায়নি। চলো, জেনে নিই সেই জঙ্গলের গুপ্তধনে কী কী পাওয়া গেল।১০ পাউন্ডের রুপার খনিএই গুপ্তধনে কী আছে শুনলে তুমিও চমকে যাবে। প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের রুপার কয়েন আর গয়না পাওয়া গেছে! লাহাটি হিস্টোরিক্যাল মিউজিয়ামের প্রত্নতত্ত্ববিদ এসকো তিক্কালা এই গুপ্তধন খনন করেছেন। তিনি জানান, ‘গুপ্তধনগুলো মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে বার্চগাছের ছালের পাত্রে ভরে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। পাত্র দুটি একে অপরের থেকে প্রায় ৩৯ ফুট দূরে এবং মাটির ১৮ ইঞ্চি গভীরে দুটি পাথরের মাঝখানে লুকানো ছিল।’যদিও এগুলো এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার করে গোনা হয়নি, তবে এর মধ্যে কয়েক হাজার কয়েন ও টুকরা আছে। তিক্কালার ভাষায়, ‘কয়েন এত বেশি যে আমি এখনো সব কটি নেড়েচেড়ে দেখার সময় পাইনি!’আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কীকোথা থেকে এল এত সম্পদপ্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এই গয়না ও কয়েনগুলো ১০০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যকার। এতে বর্তমান জার্মানি, সুইডেন আর গ্রেট ব্রিটেন এলাকার কয়েন রয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, এখানে বেশ কিছু দিরহামও মিলেছে। এগুলো ৮০০ থেকে ১০৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ফিনল্যান্ডে আসত।এর পাশাপাশি মিলেছে রুপার ব্রেসলেট এবং হ্যাক সিলভার। হ্যাক সিলভার হলো রুপার এমন টুকরা, যা সেকালে ওজনের ওপর ভিত্তি করে কেটে কেটে দাম মেটানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। শুধু এই রুপার ওজন হিসাব করলেই আজকের বাজারে এর দাম দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার ডলার!ভাইকিং যুগের, কিন্তু ভাইকিংদের নয়!তুমি হয়তো ভাবছ, গুপ্তধন যখন ভাইকিং যুগের, তখন নিশ্চয়ই এটা কোনো দুর্ধর্ষ ভাইকিং জলদস্যুর কাজ! কিন্তু এসকো তিক্কালা বলছেন অন্য কথা। সেকালে ফিনল্যান্ড রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিকভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ভাইকিংদের অংশ ছিল না। ফিনল্যান্ডের ইতিহাসবিদরা শুধু ওই সময়কাল বোঝাতে ‘ভাইকিং যুগ’ শব্দটা ব্যবহার করেন। তাই এই গুপ্তধন কোনো ভাইকিংয়ের না-ও হতে পারে।ভাইকিংদের গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছে ১৩ বছরের কিশোরকেন লুকানো হয়েছিল এই সম্পদমানুষ কেন এভাবে মাটির নিচে সম্পদ লুকিয়ে রাখত, তার সঠিক উত্তর দেওয়া মুশকিল। আশপাশে কোনো কবরের চিহ্নও মেলেনি। তবে রোমান আমলের ১৫ হাজারেরও বেশি গুপ্তধন নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, সেকালে মানুষ মূলত কর বা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে, দেবতাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে কিংবা যুদ্ধের মতো অনিশ্চিত সময়ে সম্পদ নিরাপদে রাখতে মাটির নিচে ধন লুকিয়ে রাখত।একের পর এক গুপ্তধনফিনল্যান্ডে এর আগে ভাইকিং যুগের সবচেয়ে বড় গুপ্তধনটি মিলেছিল ১৮৯৫ সালে নৌসিয়ানেন এলাকায়। তাতে ১ হাজার ৭০০ রুপার কয়েন থাকলেও তার ওজন ছিল এই নতুন গুপ্তধনের ঠিক অর্ধেক। শুধু ফিনল্যান্ড নয়, সম্প্রতি নরওয়েতেও ৪ হাজার ৭০০ কয়েনের এক বিশাল গুপ্তধন মিলেছে। আর ডেনমার্কে তো এক লোক নিজের বাড়ির পেছনের উঠান খুঁড়তে গিয়েই সাড়ে ১৮ কেজি ওজনের ৭০০ রুপার বস্তুর এক বিশাল ভান্ডার পেয়ে গেছেন!সূত্র: লাইভ সায়েন্সআর্লিং হলান্ড কেন নরওয়ের হয়ে খেলেন

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড কেইনের

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

কেউ চায় চিকিৎসক হতে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, সবার চিন্তা পড়ার খরচ

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

সবচেয়ে বেশি গোল্ডেন ডাক শিকার, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সোনা জয় ও আরও ৮ প্রশ্ন

0 Comments