মমতাজ আরা বর্ষা নামের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রাক্তন যে ছাত্রীকে আটক করতে গিয়ে র্যাব বিতর্ক তৈরি করেছিল, তিনি এখন আত্মগোপনে।
বর্ষার রুমমেট, জবির শিক্ষক ও জকসুর নেতারা বলছেন, ঘটনার পর তিনি মেস ছেড়েছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মুঠোফোনও বন্ধ। বর্ষার বোনও বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে বর্ষার যোগাযোগ নেই।
এদিকে পুলিশ বলছে, ‘জিনে ভর করার’ নাম করে র্যাবের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেওয়ার একটি মামলায় বর্ষা এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে গিয়েছিল র্যাব।
অবশ্য কেউ কেউ বলছেন, যেভাবে সাদাপোশাকে মাইক্রোবাসে করে র্যাব বর্ষাকে আটক করতে গেছে, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। বর্ষার রুমমেটরা র্যাবের বিরুদ্ধে গালাগালির অভিযোগও করেছেন।
বর্ষা জবির নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন বলে তাঁর দুজন সহপাঠী জানিয়েছেন।
রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় সাততলা ভবনের সপ্তম তলার একটি মেসে থাকতেন বর্ষা। ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে আটক করতে যায় র্যাব।
বর্ষার রুমমেট ও মেস ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বলেছেন, সকাল পৌনে সাতটার দিকে এই মেসের সামনে যায় একটি মাইক্রোবাস। সেখানে তিনজন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের পরনে র্যাবের পোশাক ছিল না। ওই তিন ব্যক্তি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়ে মেসে যান এবং দরজা খুলতে বলেন। তবে মেসের বাসিন্দারা শুরুতে দরজা খোলেননি।
রুমমেটরা আরও বলছেন, গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কির মুখে তাঁরা দরজা খুলতে বাধ্য হন। এরপর ওই তিন ব্যক্তি মেসে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন। কিছু না পেয়ে তাঁরা বর্ষাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
মেসের বাসিন্দারা বেশির ভাগ জবির শিক্ষার্থী। তাঁরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জবির ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতাদের জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যেই সেখানে র্যাবের আরেকটি গাড়ি এবং স্থানীয় থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি জানান, প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে গিয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে বলেন, তাঁরা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন। এর মধ্যেই বর্ষাকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাধা দেয়।
ঘটনার বিষয়ে জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ওইদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বর্ষাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

সকালের ঘটনা নিয়ে ওই দিন বিকেলে জবির ভাষাশহীদ রফিক ভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলন করেন বর্ষা। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর বোনের সাবেক স্বামী সুমন মিয়া র্যাবের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে (আইটি) কাজ করেন। তিনি প্রতিশোধ নিতে র্যাবের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
র্যাব বলছে, র্যাব-২–এ সুমন নামে কেউ কাজ করেন না। বাহিনীটির ১৫টি ব্যাটালিয়ন আছে। পুরো নাম ও পদবি না বললে কোনো ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
মেসে নেই বর্ষা
র্যাবের বিরুদ্ধে অপহরণ, গুম, হত্যাসহ অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়া বাহিনীটিকে বিলুপ্ত করে সরকার এখন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের আইন আনছে। বিলটি সংসদীয় কমিটিতে রয়েছে।
র্যাবের কর্মকর্তারা কেন একটি মেয়েকে আটক করতে গেলেন, তা জানতে খোঁজ নেওয়া শুরু করে প্রথম আলো। বর্ষার কাছ থেকে বিস্তারিত জানার জন্য গত রোববারের পর তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার কলতাবাজারে বর্ষার মেসে যান প্রথম আলোর প্রতিবেদক। সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
ওই মেসের একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষা দুটি টিউশনি করতেন। সেখান থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা পেতেন। তিনি মেসে দুটি আসন ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ভাড়ার পেছনেই চলে যেত ছয় হাজার টাকা। তবে মাস তিনেক আগে বর্ষা টিউশনি ছেড়ে দেন।

ভবনটির এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, বর্ষা তাঁকে বলেছিলেন, কেউ খুঁজতে এলে যেন বলা হয় যে তিনি (বর্ষা) সেখানে থাকেন না।
বর্ষার মেসে বাসিন্দাদের কাছ থেকে তাঁর বোন বৃষ্টির মুঠোফোন নম্বর পাওয়া যায়। তিনি দিনাজপুরে থাকেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, দুই দিন ধরে বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তাঁরা।
বৃষ্টি আরও বলেন, বর্ষার জন্য তাঁর বাবা টাকা পাঠাতেন। পাশাপাশি বর্ষা টিউশনি করে চলতেন। তিনি অনলাইনে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং একসময় নিজের একটি প্রতিষ্ঠানও ছিল। সে সময় বর্ষা হ্যাকিং বিষয়ে পারদর্শী হন বলেও উল্লেখ করেন বৃষ্টি।
‘জিনের ভর’ ও চুরি
এই ঘটনা অনুসন্ধানে নেমে একটি চুরির মামলার খোঁজ পাওয়া যায়। মামলাটি হয় গত ১২ আগস্ট রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায়। মামলার বাদী একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার। তিনি বর্তমানে র্যাব-২–এ কর্মরত।
মামলায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িচালক মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মাছুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রাসেল ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে বলেন যে তাঁর স্ত্রী মাছুরার ওপর জিন ভর করেছে। জিন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর পরিবারের অনেক কথা জানে। জিনের কথামতো চললে পেশাজীবনে উন্নতি হবে এবং পারিবারিক বিপদ দূর হবে।
পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জিনের কথা বলে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা ও সোনার গয়না নিয়েছেন রাসেল ও তাঁর স্ত্রী। চেতনানাশক খাইয়েও টাকা ও সোনার গয়না চুরি করেছেন তাঁরা। খোয়া যাওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ১৪ লাখ এবং সোনা ১০ ভরি। বাসার কাজের জন্য টাকাগুলো রেখেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা।
মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসেল ও তাঁর স্ত্রী মাছুরা সোনা বিক্রি করেছেন বর্ষার কাছে। মামলাটি তদন্ত করছে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলার দুই আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন হিসেবে বর্ষার নাম আসে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। বর্ষাকে আটক করতে সহযোগিতার জন্য র্যাবের কাছে রিকুইজিশন বা আবেদন করে থানা-পুলিশ।
র্যাব যা বলছে
র্যাব-২–এর পরিচালক এবং পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক নয়মুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, র্যাবের অভিযানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। এজাহারনামীয় আসামি ধরতে র্যাব সেখানে গিয়েছিল। সেখানে আসামিকে না ধরতে র্যাবের ওপর চাপ তৈরি করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জবির সহকারী প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষাকে আটক করতে প্রথম দিকে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা পরিচয় জানাতে পারেননি। তাঁদের কাছে কোনো নথি বা মামলার এজাহার ছিল না। এ কারণেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
৬ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বর্ষা বা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগাযোগ হয়নি উল্লেখ করে ইহসানুল কবির বলেন, ‘আমাদের প্রাক্তন ছাত্রী যদি অপরাধী হন, তাহলে ফৌজদারি আইন অনুসারে তাঁর বিচার হবে।’
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা বলেছেন, ইসলামের উত্তরাধিকার আইনে হেবা সংক্রান্ত বিধানে সরকার এমন একটি সংশোধন এনেছে যা ইসলামের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো এই আইনের উদ্দেশ্য ও পরিণতি ইসলামের অকাট্য উত্তারাধিকার আইনকে বাইপাস করা, উপেক্ষা করা। তারা বলেন, একজন মুসলমান প্রাত্যহিক জীবনে নানা অপারগতায় শরীয়াহর কোনো কোনো বিধান মান্য নাও করতে পারেন; সেটা মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমাযোগ্য অপরাধ। কিন্তু শরীয়াহর কোনো বিধানকে উপেক্ষা করা বা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আইন করা মহান আল্লাহর সঙ্গে ধৃষ্টতা দেখানোর শামিল। বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে ৯১ শতাংশ মুসলমান সেই দেশে মহান আল্লাহর সঙ্গে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের সব বিভাগীয় শহরে সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬ এর বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই এই আইন থেকে সরে আসতে হবে। কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না। আরও পড়ুন হেবা আইনের সংশোধন বাতিল দাবিতে শুক্রবার ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ নেতারা বলেন, প্রবীন নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায়, পিতা-মাতার স্বার্থ রক্ষায় সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। শিশুদের মনে পিতা-মাতার সম্মান সম্পর্কে ইসলামের বয়ান গ্রোথিত করে দিতে হবে এবং পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্যে অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সরকারকে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটে, রংপুর , ময়মনসিংহ, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা বলেন, সরকারের ছয়মাস অতিক্রান্ত হচ্ছে। এই ছয়মাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন ধরণের সফলতা দেখাতে পারেনি। দক্ষতা দেখাতে পারছে না। ফলে জ্বালানি সংকট, বিদ্যুত সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাসে বিপর্যস্ত হচ্ছে। এই অবস্থার পরিবর্তন করতেই হবে। এমইউ/এমআইএইচএস
খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ও বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সরোয়ার আলমগীর। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্মৃতি ইউনিয়নভিত্তিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ফাইনালে কাঞ্চননগর ইউনিয়ন ছাত্রদলকে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নানুপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল। নির্ধারিত সময়ে দুই দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন সরোয়ার আলমগীর। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তরুণরা যত বেশি খেলাধুলায় অংশ নেবে, তাদের মন-মানসিকতা তত বেশি ভালো হবে। খেলাধুলা তরুণদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখে। সরোয়ার আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ চালু করছেন। অচিরেই চট্টগ্রামে এর উদ্বোধন হবে। আশা করছি, ফটিকছড়ির প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় পর্যায়ে খেলবে। ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ঘিরে সরকারি কলেজ মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মিঞা মোশরাফুল আনোয়ার চৌধুরী মশুর সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব মহিন উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মো. ইব্রাহীম, ফটিকছড়ি পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোবারক হোসেন কাঞ্চন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
রাজধানীর লালবাগে শেখ ওয়াসিম রনী (৪৭) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা ও মরদেহ গুমের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম- মো. মাসুম (৪৩)। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। লালবাগ থানার বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী শেখ ওয়াসিম রনীর নিখোঁজের ঘটনায় তার ভাই লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে লালবাগ থানা পুলিশের একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় তথ্যের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন মো. মাসুমকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মাসুম শেখ ওয়াসিম রনীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন বিসি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের নিচতলার সংকীর্ণ করিডোর থেকে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন পেঁচানো বালি চাপা অবস্থায় শেখ ওয়াসিম রনীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে লালবাগ থানা পুলিশ। তিনি বলেন, গ্রেফতার মাসুম শেখ ওয়াসিম রনীর কাছ থেকে তিন মাসের জন্য ৩ লাখ টাকা ধার নেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় শেখ ওয়াসিম রনী পাওনা টাকার জন্য মাসুমের অফিসে যান। সেখানে মাসুম তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রনীকে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অফিস কক্ষের পাশে বালি চাপা দিয়ে মরদেহ গুম করে। এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। কেআর/এমআইএইচএস