জাতীয় পর্বে মোট ৫৯ জন শিক্ষার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে তিনটি শ্রেণির সেরাদের সেরা ৩ জনকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হয়।
<p>চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীন। মায়ের শেষ কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছে তাঁর মেয়ে।</p><figure></figure>
<p>বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে কোনো গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ হওয়া মিরাজ শেখ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি এসেছে।</p><p>মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তাঁর বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’</p><p>আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিগত সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাঁদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শিরোনামে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু কমিশন গঠন করে গুমের সমাধান হবে না। প্রতিটি ভুক্তভোগী যাতে আদালতে যেতে পারেন এবং বিচার ও প্রতিকার পান, সে লক্ষ্যেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ করা হয়েছে। আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি ও তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।</p><p>আইনে থাকা বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরে না এলে তাঁর উত্তরাধিকারীরা যাতে সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার চালাতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধানও রয়েছে। দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।</p><p>আইনটি নিয়ে কারও পরামর্শ বা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা দেওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনটি বিভিন্ন পক্ষ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন ও মানবাধিকার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছে। জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আইনটি সংশোধনের সুযোগ থাকবে।</p><p>জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারে কাজ করছে। বাহিনীগুলোর মনোবল ও পেশাদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে। শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী, গোয়েন্দা সহায়তা ও সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাহিনীতে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।</p><p>অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন। তিনি বলেন, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তাঁরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনেছেন। ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করেছেন। সব মিলিয়ে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা দেখতে পেয়েছেন। অথচ এখন পর্যন্ত কার্যকর আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ অস্বীকার করতে বিভিন্ন বক্তব্য এবং স্থানীয় মানুষ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।</p><p>অতীতে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে নূর খান লিটন বলেন, একজন গুমের শিকার ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্তে অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে থাকেন। তাই রাজনৈতিক কারণে তাঁদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা সেই কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দেয়।</p><p>নতুন আইন প্রসঙ্গে নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, তদন্তের দায়িত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত বাহিনীর অধীন থাকা উচিত নয়। মানবাধিকার কমিশনের অধীন, পুলিশের বাইরে কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় তদন্ত করতে হবে। মিরাজ শেখের ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।</p><p>সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগে গুমের শিকার পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটালেও এখন সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের গুমবিরোধী ও মানবাধিকার কমিশন আইন করেছে। এতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি। প্রধান মাস্টারমাইন্ডরা কারাগারে রয়েছে। সঠিক বিচারের মাধ্যমে গুমের এই সংস্কৃতির চির অবসান ঘটবে।</p><p>সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অভিযোগ করেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের ধারা ১৪, ১৯ ও ২১ স্বাধীন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। অবিলম্বে তিনি এই ধারাগুলো বাদ দেওয়ার দাবি জানান। গুমের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত তহবিল ও জনবল নিশ্চিত করারও কথা বলেন আহমাদ বিন কাসেম। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।</p><p>আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তাঁদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি, শিক্ষার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি ব্যাংক হিসাবও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে চাইলেও তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। এখন প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্তব্যবস্থা রাখার ওপর জোর দেন তিনি।</p><p>নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে আদিবা ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর বাবার শেষ পরিণতি কী হয়েছে, তা তাঁরা জানতে চান। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাবা এখন কোথায়, কেমন আছেন—কিছুই তাঁরা জানেন না। দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে তাঁরা ক্লান্ত। আর এভাবে অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে থাকতে চান না। বাবার বিষয়ে দ্রুত একটি জবাব চান তাঁরা।</p><p>অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন, নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানসহ গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।</p><p>আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে মায়ের ডাক। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীর সমন্বয় করে নেত্র নিউজ।</p>
ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের একটি মসজিদে গত বুধবার রাতে।
<p>বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের একটি খালের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে বাঁশ–কাঠ দিয়ে নির্মিত একটি সাঁকো ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে সাঁকোটি উদ্বোধন করেন ডৌয়াতলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রাশেদ খান মামুন। সাঁকো উদ্বোধনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।</p><p>স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডৌয়াতলা ইউনিয়নের হোগলপাতি এলাকার খালের ওপর একটি লোহার সেতু ছিল। সেতুটি পরিত্যক্ত হয়ে খালে ধসে পড়ে আছে। এতে এলাকার লোকজন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে বিভিন্ন গাছের কাঠ ও বাঁশ দিয়ে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। সাঁকোটি উদ্বোধনের সময় বিএনপির নেতা–কর্মীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।</p><p>ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা রাশেদ খান মামুন কাঁচি হাতে নিয়ে লাল ফিতা কাটছেন। এ সময় তাঁর পেছনে দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভিডিওটি নিয়ে অনেকে ফেসবুকে মন্তব্য করছেন। একজন লিখেছেন, ‘সামান্য কাঠের সেতু এত ঢাক-ঢোল পিটাইয়া উদ্বোধন করার কিছুই নাই। মানুষ এতে হাসে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘ধন্যবাদ বিএনপিকে এবং হোগলপাতি এলাকার বিএনপি নেতাদের। কারণ, হাক্কা (সাঁকো) উদ্বোধন দেখলাম, জীবনের প্রথম বিএনপির আমলে।’</p><p>সাঁকোটি উদ্বোধনের পর স্থানীয় লোকজন সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল শুরু করেন। সাঁকোটি উদ্বোধনের বিষয়ে বিএনপির নেতা রাশেদ খান মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাঁকোটি নির্মাণে আমিও পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ভাই বলেছেন, এখানে একটি ঢালাই সেতু করা হবে। তাই এই সাঁকোটি সাময়িক সময়ের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।’</p><p>প্রসঙ্গত, ৬ আগস্ট বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার মাহার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থায়নে নির্মিত একটি সাঁকোর উদ্বোধন করেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান। এ নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/1nwvafhogp">বরিশালে ফিতা কেটে সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা, চলছে নানা আলোচনা</a></aside>
ইমরানের প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানিয়েছেন মঈন, ‘তাঁর যা যা প্রয়োজন, সেগুলো যেন নিশ্চিত করা হয়।’
<p>ফিলিপাইনের পামপাঙ্গা প্রদেশে প্রবল স্রোতে ধসে পড়ে দোতলা একটি বাড়ি। পানির তোড়ে বাড়িটির নিচের নদীতীরের মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দেখুন ভিডিওতে...</p><figure></figure>
<p>দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া। আমদানিনির্ভর জ্বালানিব্যবস্থার কারণে দেশে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এখন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে চায় সরকার। গত ৬ মাসে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।</p><p>আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২২টি ফাউন্ডেশনের ১৮০ দিনের কর্মসূচি ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।</p><p>রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট আড়াল না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোচ্ছে সরকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এতে জ্বালানিনিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও কমবে। দুই গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কীভাবে উৎপাদন ও অর্থায়ন করা হবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের জন্য বাজেটে রাখা দুই হাজার কোটি টাকা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।</p><p>গ্রাহকদের বিদ্যুতের ব্যবহারকারীর পাশাপাশি উৎপাদক হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ জন্য নেট মিটারিং–ব্যবস্থার জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইডকল ও বিআইএফএফএলের মতো প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়নে যুক্ত করা হবে। কোনো গ্রাহক বা উৎপাদক মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ দেবেন, আরেকটি প্রতিষ্ঠান বা অ্যাগ্রিগেটর দেবে ২০ শতাংশ। বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি ঋণের মাধ্যমে দেওয়া হবে। এতে ঋণের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানান উপদেষ্টা।</p><p><strong>পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য</strong></p><p>সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২২টি ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি। পরে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পিকেএসএফ পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।</p><p>মো. ফজলুল কাদের বলেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোগের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি নিরসন ও অর্থায়নের মাধ্যমে এসব কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতেও কাজ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পিকেএসএফের পাঁচ হাজার কোটি টাকার ঋণচুক্তি হয়েছে। প্রয়োজন হলে সরকার আরও অর্থ দেবে। পাশাপাশি অংশীদার সংস্থাগুলোর মাধ্যমেও অর্থায়ন করা হবে।</p><p>বৈঠক শেষে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি বিষয় বা ক্লাস্টার নিয়ে কাজ করবে। এগুলো হলো ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’, সৌরবিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ও নতুন কর্মসংস্থান; আর কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়গুলো সরকারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।</p>
জাপানের আওমোরি প্রিফেকচারে অবস্থিত হিরোসাকি দুর্গের সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে দুর্গটি সরানো হয়েছে। ভূমিকম্পে দুর্গের একটি দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি মেরামতের জন্য মূল কাঠামোটিকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল
<p>২৯ আগস্ট শনিবার প্রধানমন্ত্রী গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন। বিস্তারিত ভিডিওতে</p><figure></figure>
<p>ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি গোলাবারুদের গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ৩৭ জন নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।</p><p>আজ শনিবার কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তৈমুর তকাচেঙ্কো বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বুচা জেলায় নিহত বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকারী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পরিষেবা সংস্থা এই মর্মান্তিক ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’</p><p>ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ আজ জানিয়েছে, কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলির কাছে মাইলা শহরের ওই গোলাবারুদের গুদামে হামলার পরপরই সেখানে একের পর এক বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।</p><p>তকাচেঙ্কো জানান, এই হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার কারণে সেখানে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, যা পরে আশপাশের বাড়িঘর এবং একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।</p><p>হামলার শিকার ওই এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।</p><p>এ ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তকাচেঙ্কো জানান, নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-29/tmusz8b0/Russian-Attack-2.jpg"><figcaption>রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল মেঘ। ২৯ আগস্ট, ২০২৬</figcaption></figure><p>ইউক্রেনীয় সরকারি কৌঁসুলিদের মতে, ওই গুদামে ‘বিস্ফোরক বস্তু’ মজুত করা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধমূলক অবহেলার দায়ে তাঁরা একটি তদন্ত শুরু করছেন বলেও জানিয়েছেন।</p><p>তদন্তে মূলত ‘ওই প্রতিষ্ঠানের জায়গায় বিস্ফোরক পণ্য ও সরঞ্জাম মজুত রাখা কতটা বৈধ ছিল’, সেটির ওপর জোর দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই কোম্পানির ‘প্রয়োজনীয় অনুমতি এবং অনুমোদন’ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। কোম্পানিটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।</p><p>ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, হামলার পর সেখানে ‘বিস্ফোরণ ঘটে’। তিনি ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে নিশ্চিত করেছেন, এ ঘটনার পর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p><p>ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার ভোরের মধ্যে ইউক্রেনে অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৬৭টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া।</p><p>কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুদামে হামলার পাশাপাশি শনিবার ভোরে রাশিয়ার অন্যান্য হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কিয়েভে দুই বছরের একটি শিশু এবং রাজধানীর বাইরের শহরতলিতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-29/w0hhp0f2/Russian-Attack-3.jpg"><figcaption>কিয়েভে মারিনস্কি প্রাসাদের চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ১০ মে, ২০২৫</figcaption></figure><p>অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রামে জানিয়েছে, রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে নয়জন। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।</p><p>ক্রিমিয়া উপদ্বীপের রুশ-নিয়ন্ত্রিত সেভাস্তোপোলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির রুশ-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।</p><p>সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় দেশই একে অপরের ওপর দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। এতে ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন বিভিন্ন গুদাম এবং তেল ও বন্দর স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর ফলে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অনেক বেড়ে গেছে।</p>
সিডনিতে ক্যানসার গবেষণা, রোগী ও তাদের পরিবারের সহায়তা এবং সচেতনতা বাড়াতে তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে
<p>রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট। নেপালে বন্যায় বাড়ছে প্রাণহানি। বিস্তারিত অডিও সংবাদে…</p><figure></figure>
আলোচনা সভায় ভুক্তভোগীরা কেঁদেছেন, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকারের সময়ও নতুন করে গুমের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাঁদের।
<p>তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার গল্প নিয়ে বিশেষ আয়োজন: প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ : সিজন–৩’। আয়োজনে প্রথম আলো ডটকম।</p><p>এ পর্বের অতিথি ‘কৃষি স্বপ্ন’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জুবায়ের হাসান। শৈশবে দেখা কৃষকদের কষ্ট আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও ডেটার মাধ্যমে ৪০ হাজারের বেশি কৃষকের জীবন বদলে দেওয়ার গল্প শুনিয়েছেন তিনি। সফল করপোরেট ক্যারিয়ার ছেড়ে তাঁর কৃষির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এই পথচলা কেমন ছিল?</p><p>বিস্তারিত জানতে দেখুন ভিডিওটি...</p><figure></figure>
<p>সেন্ট মার্টিনে নির্মাণ হচ্ছে নতুন রিসোর্ট–কটেজ। কেয়াবন, বালু ও চুনাপাথর ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বিস্তারিত দেখুন ভিডিও প্রতিবেদনে… </p><figure></figure>
আজ শনিবার ঢাকার এআইইউবি ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াডের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। সারা বাংলাদেশ থেকে ২০২ জন শিক্ষার্থী এ অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়।
অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজে। সবুজের বুকজুড়ে মাথা দোলাতে থাকে সাদা কাশফুল।
গত মঙ্গলবার অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে উপজেলা ছাত্রদল। এর পর থেকেই কমিটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে পদবঞ্চিত একটি পক্ষ।
রিয়াল মাদ্রিদ কোচের মতে, ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা ফুটবল ইতিহাসে এমন জায়গা করে নেন যে অবসরের পরও তাঁদের অভাব অনুভূত হয়, ব্যালন ডি’অর পাওয়া উচিত তাঁদেরই।
২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘বৃক্ষরোপণে সেরা দশ’ বন্ধুসভা বাছাইয়ের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি ‘সহমর্মিতার ঈদে সেরা দশ’ ও ‘বর্ষসেরা দশ’ বন্ধুসভা বাছাইয়ের জন্যও কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলীর বিল এলাকায় নুরুল আমিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০০ কোটির বেশি মানুষ উপকূলীয় বা তার কাছাকাছি অঞ্চলে বসবাস করেন, যাঁদের সিংহভাগই স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশের বাসিন্দা। এসব উপকূলীয় এলাকায় মাটির নিচের ভূগর্ভস্থ পানিই পানীয় ও রান্নাবান্নার প্রধান উৎস।
বড় ভাই নিজেই হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন সেই ঘটনা। কিন্তু ভুলে যাননি রুবেল। তাই এত বছর পর বড় ভাইয়ের সেই পুরোনো পছন্দের কথা মনে রেখে তাঁকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিলেন তিনি।
<p>হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিস্তারিত ভিডিওতে....</p><figure></figure>
নজরুলের অসুস্থতার দিনগুলোতে জসীমউদ্দীনের উদ্বেগ, তাঁর হাসপাতালে ছুটে যাওয়া, বন্ধুর প্রতি তাঁর অসীম মমতা এবং সেই সময়ের নানা ঘটনার আমি প্রত্যক্ষ দর্শক।
জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভার অনুমতি না মেলায় আজ শনিবার সন্ধ্যায় শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা মঞ্চে সভাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোমানিয়ার মোয়ারা ভ্লাসিয়েই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মেয়েদের কনটিনেন্টাল কাপে গ্রিসের বিপক্ষে রেকর্ডটি গড়েন জোয়ান হিকস।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, তদন্ত করার প্রক্রিয়াটা যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে আসলে একভাবে ধোঁকা দেওয়া হবে সবাইকে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে সেদিনের ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই তরুণী।
ছোট বা সংখ্যালঘু ভাষার জন্য বড় ভাষা মডেল তৈরির অন্যতম প্রধান বাধা প্রশিক্ষণ উপাত্তের অভাব। অথচ সরকারগুলোর কাছে বিপুল তথ্য রয়েছে, যার অনেকটাই সংবেদনশীল ও গোপনীয়।
<p>ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার পথে যানজটে আটকে মারা গেছেন এক রোগী। বিস্তারিত ভিডিওতে…</p><figure></figure>
বাংলাদেশেরও পাকিস্তানকে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তারা আমাদের বন্ধু নয়; নিজেদের স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বন্ধুত্বের ভান করে মাত্র।
<p>চুয়াডাঙ্গা শহরতলির গ্রাম বেলগাছি। গ্রামের বকচর বিল তখন ধানে ধানে ভরে আছে। একদিন বিলের পাশে একটি প্রাণীকে ঘোরাফেরা করতে দেখলেন কৃষকেরা। অনেকে ছোট জাতের ‘বাঘ’ ভেবে বসলেন। কিছুদিন পর বিলের পাশে আবার দেখা গেল প্রাণীটিকে। এবার তার সঙ্গে তিনটি ছানা। এলাকায় কৌতূহলের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ল।</p><p>কিছুদিন পর বকচর বিলের ধান কাটা শেষ হলো। এক রাতে শুরু হলো প্রচণ্ড কালবৈশাখী। সকালে কৃষকেরা ধানখেতে পেলেন একটি ছানা। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মা প্রাণীটি হয়তো দুটি ছানাকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারলেও একটিকে ফেলে গেছে। কৃষকেরা ছানাটিকে আটকে রাখলেন খাঁচায়।</p><p>এই খবর পেয়ে ছুটে এলেন বখতিয়ার হামিদ। দেখলেন, ছানাটি আসলে মেছো বিড়ালের। গ্রামের ছেলে বখতিয়ার হামিদ চুয়াডাঙ্গা সদরের গাইদঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ও তাঁর বন্ধুরা মিলে বেলগাছি গ্রামের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষার কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের উদ্যোগে গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে প্রাণপ্রকৃতির অভয়ারণ্য হিসেবে।</p><p>ছানাটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলেন বখতিয়ার।</p><p>বছর দশেক আগের সেই ঘটনা সবিস্তার বলেন বখতিয়ার, ‘আমার মনে হলো, রাতে বৃষ্টি হয়েছে, মাটিও নরম। তাই মা মেছো বিড়ালের পায়ের ছাপ অনুসরণ করে তার সর্বশেষ গন্তব্য খুঁজে বের করা সম্ভব।’</p><p>সেদিন বিকেলেই অনুসন্ধানে বের হলেন হামিদ। পেয়েও গেলেন। ধানখেত থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি পানবরজের মাটিকাটা গর্তের আশপাশে ছিল মা ও দুই ছানার সর্বশেষ বিচরণস্থল। রাত আটটার পর একা সেখানে গিয়ে ছানাটিকে ছেড়ে এলেন বখতিয়ার হামিদ। মেছো বিড়ালছানাটির শরীরের গন্ধই জানান দিচ্ছিল, মা হয়তো আশপাশেই কোথাও আছে।</p><p>খুব সকালে আবার সেখানে গিয়ে পায়ের ছাপ দেখে নিশ্চিত হলেন, মা তার ছানাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গেছে।</p><p>সেদিনের অভিজ্ঞতার পর আরও কিছু ঘটনা নজরে আসে বখতিয়ারের। অনেকে মেছো বিড়ালকে আক্রমণাত্মক প্রাণী ভেবে মেরে ফেলেন। অথচ প্রাণীটি তা নয়। মানুষের এই নেতিবাচক ধারণা দূর করতে প্রাণীটি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হলো বখতিয়ার হামিদের। তাঁদের গড়া সংগঠন ‘পানকৌড়ি’র উদ্যোগে শুরু হলো সেই কাজ।</p><h3>বাঘ নয়, মেছো বিড়াল</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-29/youn0e8m/Mechho.jpg"><figcaption>মেছো বিড়াল রক্ষায় দেয়ালচিত্র</figcaption></figure><p>এই এক দশকে ‘পানকৌড়ি’ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪০টির বেশি মেছো বিড়াল উদ্ধার ও অবমুক্ত করেছে। এর মধ্যে কিছু মেছো বিড়ালকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে অবমুক্ত করা হয়েছে।</p><p>দু-একটি গল্প শোনালেন বখতিয়ার। এর মধ্যে আলমডাঙ্গার জামজামি ইউনিয়ন থেকে আঘাতপ্রাপ্ত একটি মেছো বিড়াল উদ্ধারের ঘটনা রয়েছে। প্রাণীটির স্নায়বিক সমস্যা ছিল। অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকের পরামর্শে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সেটিকে খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে পাঠানো হয়। পরে সেখানে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে প্রাণীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।</p><p>বছর দুয়েক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি মেছো বিড়ালের চোয়াল ও এক চোখে আঘাত লাগে। সেটিকেও চিকিৎসা দিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর অবমুক্ত করা হয়। প্রাণীটি টিকে থাকতে পারছে কি না, তা জানতে জায়গাটি কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। তবে পরে তেমন কোনো দুঃসংবাদ পাওয়া যায়নি।</p><p>মেছো বিড়াল মারা পড়ার অন্যতম কারণ, মানুষের চোখে সেটিকে ‘বাঘ’ হিসেবে চিহ্নিত করা। এই ‘কলঙ্ক’ দূর করতে অনেক দিন ধরেই সচেতনতামূলক কাজ করছে ‘পানকৌড়ি’।</p><p>চুয়াডাঙ্গার স্কুল ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে পথসভা করা হচ্ছে। মেছো বিড়ালের ছবি ও তথ্যসংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন, বিভিন্ন যানবাহনে স্টিকার লাগানো, পোস্টার ও প্রচারপত্র বিতরণ চলছে। জেলার ইউনিয়নগুলোতে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও মাইকিং করা হচ্ছে।</p><p>শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে স্কুল, কলেজ ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারের রাস্তার পাশে দেয়ালে আঁকা হয়েছে মেছো বিড়ালের গ্রাফিতি। এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য, মেছো বিড়াল সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা দূর করা এবং প্রাণীটির সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা।</p><p>মেছো বিড়াল সংরক্ষণ ও প্রাণীটি নিয়ে গবেষণার কাজে ‘পানকৌড়ি’র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। সহযোগিতা করছে আরণ্যক ফাউন্ডেশন।</p><p>গবেষণার অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার, জরিপ ও ক্যামেরা ট্র্যাপিং চলছে। এসব কাজের মধ্য দিয়ে মেছো বিড়ালের জীবনধারা সম্পর্কে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করার আশা করছে ‘পানকৌড়ি’।</p><p>প্রচারণা চালিয়ে কেমন সাড়া মিলছে, জানতে চাইলে বখতিয়ার হামিদ বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে বন বিভাগ ও ‘পানকৌড়ি’র হটলাইন নম্বর এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে। মৌসুমভেদে মেছো বিড়াল বিষয়ে সপ্তাহে দু-তিনটি ফোন আসে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/bgg31sfm3s">এই দেশে কারাগার আছে একটি, বন্দী মাত্র ১১ জন—সবাই বিদেশি নাগরিক</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-08-29/4ss4r9st/IMG_20251014_165432.jpg"><figcaption>বখতিয়ার হামিদ তাঁর বন্ধুদের নিয়ে বেলগাছি গ্রামের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষার কাজ করে যাচ্ছেন</figcaption></figure><p>পানকৌড়ির এই কাজে যুক্ত আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনতাসীর আকাশ। তিনি বলেন, আগে গ্রামীণ ঝোপঝাড় ও জলাভূমির পরিমাণ বেশি ছিল। মেছো বিড়াল সেখানে নিজেদের লুকিয়ে রাখার সুযোগ পেত। এখন এসব জায়গা কমে যাওয়ায় তাদের আবাস ও আশ্রয়স্থল সংকুচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যসংকটও তৈরি হচ্ছে। এ কারণে খাদ্যের সন্ধানে মেছো বিড়াল ফিশ ফার্ম, পোলট্রি ফার্ম ও লোকালয়ের আশপাশে চলে আসছে। ফলে মানুষের সঙ্গে তাদের দেখা হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।</p><p>মেছো বিড়াল মূলত ছোট আকারের একটি বন্য বিড়াল। হাওর-বাঁওড় ও জলাভূমির আশপাশে থাকে। ফসলি জমি, বিশেষ করে ধানখেত, ভুট্টা, পাট ও ঘাসের জমির আল ধরে এরা বিচরণ করে। তবে প্রজনন মৌসুমে লোকালয়ের কাছাকাছি অবস্থান নেয়।</p><p>মেছো বিড়াল মূলত মাছ খায়। এ ছাড়া ফসলের ইঁদুর, ব্যাঙ, সাপ ও কাঁকড়াও খায়।</p><p>বখতিয়ার হামিদ বলেন, মানুষ দেখলেই মেছো বিড়াল আক্রমণ করতে আসে না। বরং মানুষ দেখলে অনেক সময় এদের তেমন কোনো প্রতিক্রিয়াই থাকে না। কখনো ধীরে ধীরে সরে যায়, আবার কখনো চুপ করে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। আর তখনই মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবে কোনো পরিস্থিতিতে প্রাণীটি নিজেকে অনিরাপদ মনে করলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতেই পারে। পানকৌড়ির সংগঠকদের বিশ্বাস, সচেতনতামূলক কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মানুষ মেছো বিড়ালের প্রতি আরও সদয় হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/xfyucwo074">পারমাণবিক জাহাজে করে উত্তর মেরু গিয়েছিল রাজশাহীর স্কুলপড়ুয়া প্রত্যয় </a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন