এআই ব্যবহার করে আদালতের রায় লেখা উচিত নয়: প্রধান বিচারপতি
এআই ব্যবহার করে আদালতের রায় লেখা উচিত নয়: প্রধান বিচারপতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে আদালতের রায় লেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তার মতে, একটি রায় লেখার ক্ষেত্রে মামলার তথ্য, প্রযোজ্য আইন এবং বিচারকের নিজস্ব বিবেক ও চিন্তাশক্তির সমন্বয় জরুরি। এই তিনটির শেষটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতায় একটি রায় লিখতে তিনটি বিষয় প্রয়োজন। প্রথমে দেখতে হবে মামলাটি কী নিয়ে এবং এর প্রকৃত ঘটনা বা তথ্য কী। এরপর সেই তথ্যের ওপর প্রযোজ্য আইন ও আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করতে হবে। সবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারকের নিজের বিবেককে ব্যবহার করতে হবে।’ ‘এই বিবেক কিন্তু আপনি এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না,’ বলেন প্রধান বিচারপতি। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিবেক মানুষের নিজস্ব বিষয়। এটি মানুষের স্বপ্রণোদিত চিন্তাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষ যখন তার চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে। আরও পড়ুন ১৯২ কোটি টাকায় হবে এআই হাব, পরামর্শক ব্যয়ই ৬২ কোটি প্রধান বিচারপতির মতে, বিচারকের নিজের বুদ্ধি ও বিবেক ব্যবহার করেই তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। এআই ব্যবহারের ঝুঁকির দিকটিও তুলে ধরেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ইংল্যান্ডে এআই ব্যবহার করে একটি মামলার রায় লেখা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, এআই রায়ে যে বিচারিক সিদ্ধান্তগুলোর রেফারেন্স দিয়েছিল, সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। তাই এ বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই যেন কেবল ইতিবাচক কাজে ব্যবহৃত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন মোহাম্মদ একরামুল হক বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাসনোভা শেলী। এফএইচ/একিউএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
শেষ মুহূর্তে রক্ষা, টানা দুই ড্র লিভারপুলের
শেষ মুহূর্তে রক্ষা, টানা দুই ড্র লিভারপুলের

ভিক্টর মুনিওজের শেষ মুহূর্তের গোলে নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে হার এড়াল লিভারপুল। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে শনিবার ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা। ফলে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রিমিয়ার লিগে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো লিভারপুলকে। প্রথম ম্যাচেও নিউক্যাসলের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা। নতুন মৌসুমে লিভারপুলের কোচ হিসেবে এখনো প্রথম জয়ের দেখা পাননি আন্দোনি ইরাওলা। নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ম্যাচটিতেও দুইবার পিছিয়ে পড়েছিল তার দল। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে লিভারপুলকে চাপে রাখে ফরেস্ট। তারই পুরস্কার হিসেবে ম্যাচের প্রথম গোলটি পায় সফরকারীরা। ড্যান এনদোয়ে গোল করে এগিয়ে দেন নটিংহ্যামকে। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে লিভারপুল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে সমতা ফেরান আলেক্সান্ডার ইসাক। এতে স্বস্তি ফেরে অ্যানফিল্ডে। তবে লিভারপুলের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মরগ্যান গিবস-হোয়াইটের পেনাল্টি থেকে আবারও এগিয়ে যায় ফরেস্ট। ম্যাচ তখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে সফরকারীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিভারপুলকে রক্ষা করেন এবারের দলবদলে ৩৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে আসা ভিক্টর মুনিওজ। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র আট মিনিট আগে গোল করে স্কোর ২-২ করেন তিনি। অ্যানফিল্ডের দর্শকদের জন্য এটি ছিল বড় স্বস্তির মুহূর্ত। তবে এই ড্রয়েও লিভারপুলের মৌসুমের শুরুটা যে প্রত্যাশামতো হচ্ছে না, সেটি স্পষ্ট। এর আগে গত সপ্তাহে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করেছিল তারা। দলের আক্রমণভাগে নতুন প্রাণ ফেরাতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের ফরোয়ার্ড ব্র্যাডলি বারকোলার সম্ভাব্য আগমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন ইরাওলা। অন্যদিকে অলিভার গ্লাসনার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহে লিডসের কাছে দুইবার হারের পর নটিংহ্যাম ফরেস্ট এই ম্যাচে নিজেদের অনেক বেশি গোছানো ফুটবল উপহার দিয়েছে। অ্যানফিল্ড থেকে প্রায় জয় নিয়েই ফিরছিল তারা। শেষ পর্যন্ত মুনিওজের গোলে সেই স্বপ্ন ভেস্তে গেলেও পারফরম্যান্সে নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দিয়েছে ফরেস্ট। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
পাকিস্তানের সামনে বড় লিড নিচ্ছে ইংল্যান্ড
পাকিস্তানের সামনে বড় লিড নিচ্ছে ইংল্যান্ড

লর্ডস টেস্টে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছিল ২৯০ রান। জবাবে মাত্র ১১০ রানে অলআউট পাকিস্তান। ১৮০ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের সামনে লিড শুধু বাড়িয়েই যাচ্ছে ইংলিশরা। যদিও দ্বিতীয় ইনিংসে খুব বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় নেই ইংল্যান্ডও; কিন্তু প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেওয়ার কারণে দ্বিতীয় ইনিংসের রান মিলে ইংল্যান্ড চলে যাচ্ছে পাকিস্তানের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ রিপোর্ট লেখার সময় দ্বিতীয় সেশনের খেলা চলছিল এবং বৃষ্টির কারণে বন্ধ ছিল খেলা। ততক্ষণে ইংল্যান্ডের রান ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৭। ড্যান লরেন্স ব্যাট করছেন ৫০ রান নিয়ে। তার সঙ্গে রয়েচেন অলি রবিনসন, ২ রান নিয়ে। ইংল্যান্ডের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ ওপেনার বেন ডাকেট ১ রানে আউট হন। এরপর এমিলিও গে ৩১ রান করেন। ১১ রানে আউট হন জর্ডান কক্স। ২৪ রান করেন জো রুট। ৩৪ রানে আউট হন হ্যারি ব্রুক। জেমি স্মিথ সাজঘরে ফেরেন ৭ রানে এবং গাস অ্যাটকিনসন আউট হন ৭ রানে। পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাস নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট নেন খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলি। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর গুম: প্রধানমন্ত্রী
নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর গুম: প্রধানমন্ত্রী

গুমকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এটি মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন এবং একটি বৈশ্বিক সমস্যা। রোববার (৩০ আগস্ট) পালিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস সামনে রেখে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান। তারেক রহমান বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয়, কিংবা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। এতে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ থমকে যায়। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এমন এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, নেই শোক পালনের স্বাভাবিক সুযোগ। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান। তিনি বলেন, বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে গুমের মতো অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিখানা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাবমতে, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক হিসেবে উল্লেখ করেন। আরও পড়ুন গুম-খুন ও জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘গুম বা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করে, উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। অপরদিকে ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি। গুমের আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে রাখতে সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’। এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহির জন্য প্রধানমন্ত্রী দুনিয়াজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান। কেএইচ/একিউএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বাবার মতোই ফ্রি-কিক মেসির ছেলে সিরোর
বাবার মতোই ফ্রি-কিক মেসির ছেলে সিরোর

লিওনেল মেসির ছেলেরা ফুটবল খেলবে- এটা যেন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু মেসি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য সিরো মেসি যখন মাঠে নেমে বাবার মতোই দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। মাত্র আট বছর বয়সেই নিজের ফুটবল প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে আবারও ভক্তদের নজর কেড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকার কনিষ্ঠ সন্তান। ইন্টার মায়ামির বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ড্রিমস কাপে খেলছিলেন সিরো। সেখানেই ম্যাচে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। গোলটির পর তার উদযাপনও ছিল দেখার মতো- সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ করার পর চোখে সানগ্লাস পরে, দুই হাত বুকের সামনে ক্রস করে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন সিরো। আট বছরের এক শিশুর এমন ‘কুল’ উদযাপন মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। ফ্রি-কিক নেওয়ার আগে সিরোর আত্মবিশ্বাসই নজর কেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বলের সামনে দাঁড়িয়ে গোলের দিকে তাকিয়ে এরপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে বলকে প্রতিপক্ষের দেয়ালের ওপর দিয়ে জালে পাঠান তিনি। গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে বল চলে যায় গোলে। তবে এখানেই রয়েছে মজার একটি পার্থক্য। বাবা লিওনেল মেসি বিখ্যাত বাঁ-পায়ের ফুটবলার। বিপরীতে সিরো ডান পায়ে খেলেন। ফলে পায়ের ব্যবহারে বাবার সঙ্গে তার পার্থক্য থাকলেও ফ্রি-কিক নেওয়ার আত্মবিশ্বাস এবং বলের গতিপথ দেখে অনেকেরই মনে পড়ে গেছে মেসির অসংখ্য বিখ্যাত ফ্রি-কিকের কথা। আর গোলের পর সানগ্লাস পরে সিরোর উদযাপন যেন মুহূর্তটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। ড্রিমস কাপে অবশ্য একটি গোল করেই থামেননি সিরো। পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। ফাইনালে ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-৮ দল ওয়েস্টন এফসিকে ১০-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জেতে। সেই ম্যাচেও সিরো করেন দুটি গোল। টুর্নামেন্ট শেষে তার হাতে ওঠে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতাও হন তিনি। অর্থাৎ শুধু বাবার পরিচয়ের কারণে নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েও নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছেন সিরো। ফুটবল যেন মেসি পরিবারের রক্তেই মিশে আছে। সিরো একা নন- লিওনেল মেসির বড় দুই ছেলে থিয়াগো ও মাতেওও ইন্টার মিয়ামির যুব কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তিন ভাই একই ক্লাবের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফুটবল শিখছেন। এদিকে তাদের বাবা লিওনেল মেসি এখনো ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায় লিখে চলেছেন। ফলে একই ক্লাবের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে তিন ছেলের বেড়ে ওঠা মেসি পরিবারের ফুটবল-যাত্রাকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। তবে এখনই ‘পরের মেসি’ নয় সিরোর বয়স মাত্র আট বছর। তাই এত অল্প বয়সে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো স্বাভাবিকভাবেই কঠিন। তার ওপর বাবার নাম লিওনেল মেসি- যিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ফলে সিরো মাঠে নামলেই তার সঙ্গে বাবার তুলনা হওয়াটা প্রায় অনিবার্য। কিন্তু এই বয়সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলাটাকে উপভোগ করা, শেখা এবং ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা তৈরি করা। বাবার মতো হতে হবে- এমন কোনো চাপ তার ওপর থাকা উচিত নয়। তবে সিরোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, ফুটবল নিয়ে তার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস যথেষ্ট। ড্রিমস কাপে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল, ফাইনালে জোড়া গোল, সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এমভিপি- সব মিলিয়ে আট বছর বয়সেই নিজের জন্য একটি স্মরণীয় টুর্নামেন্ট কাটিয়েছেন তিনি। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নেপালের বন্যা নিয়ে অমিতাভের আবেগঘন বার্তা
নেপালের বন্যা নিয়ে অমিতাভের আবেগঘন বার্তা

উৎসবের আবহের মধ্যেই নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও এর জেরে তৈরি হওয়া ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। বিপর্যয়ের ছবি দেখে ব্যথিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন ‘শাহেনশাহ’খ্যাত এই অভিনেতা। শনিবার নিজের ব্লগে রাখিবন্ধনের শুভেচ্ছা জানান অমিতাভ বচ্চন। হাতে একাধিক রঙিন রাখি বাঁধা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি। ভাই-বোনের সম্পর্কের ভালোবাসা, যত্ন ও স্নেহের কথা তুলে ধরেন অভিনেতা। তবে উৎসবের শুভেচ্ছা জানানোর পরই নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রসঙ্গ সামনে আনেন অমিতাভ। বিপর্যয়ের নানা ছবি দেখে নিজের কষ্ট ও উদ্বেগের কথা জানান তিনি। আরও পড়ুন দ্বিতীয় সন্তান নেবেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া? যে কথায় লজ্জায় লাল অভিষেক অমিতাভ লেখেন, নেপালের বন্যায় যে বিপুল ধ্বংস হয়েছে, তার ছবি দেখা অত্যন্ত কষ্টকর। প্রকৃতির এমন ভয়াবহ শক্তির সঙ্গে মানুষের পক্ষে লড়াই করা সম্ভব নয়। এই কঠিন সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে অমিতাভের বক্তব্যে প্রকৃতির ভয়াবহ শক্তির সামনে মানুষের অসহায়ত্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। তার মতে, প্রকৃতির রোষের কাছে মানুষের ক্ষমতা সীমিত। তাই দুর্যোগকবলিত মানুষের জন্য প্রার্থনা করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নেপালের বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে আসার পর থেকেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিপর্যয়ের ছবি ও ভিডিওও নাড়া দিয়েছে অনেককে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো অমিতাভ বচ্চনের নামও। আরও পড়ুন দুর্যোগের মধ্যেই নেপাল ছাড়লেন অভিনেতা উৎসবের আনন্দের মাঝেও বিপর্যস্ত নেপালের মানুষের কথা স্মরণ করে অমিতাভের এই বার্তা তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রকাশ। নিজের লেখার মাধ্যমে তিনি দুর্যোগকবলিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাদের নিরাপত্তা ও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য প্রার্থনা করেছেন। এমএমএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মাদক-বালুর বিরোধ নিয়ে যুবদল-শ্রমিকদল সংঘর্ষ, আহত ৬
মাদক-বালুর বিরোধ নিয়ে যুবদল-শ্রমিকদল সংঘর্ষ, আহত ৬

ফেনীর পরশুরামে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে যুবদল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর সীমান্ত ও বটতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ​স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান এবং ফকিরের খিলের মুহুরী নদী ও বটতলী বাজার এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা নিয়ে পরশুরাম উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সমর্থক এবং মির্জানগর ইউনিয়ন শ্রমিক দল নেতা শাহ আলমের অনুসারীদের মধ্যে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ​এরই জেরে শনিবার দুপুরে মধ্যম রাঙ্গামাটিয়া সীমান্ত এলাকায় মাদক বহনের অভিযোগে জাকির হোসেনের অনুসারী সাইফুল ইসলাম ইকরাম, শামীম ও রিয়াজের পথরোধ করেন শাহ আলমের সমর্থক ফারুক, হাসান ও রাজু। এতে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ​প্রথম দফার ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শামীম ও রিয়াজ বটতলী বাজারে ফিরলে বিকেলে আবারও দুইপক্ষ মুখোমুখি হয়। এতে দ্বিতীয় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো বাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ​আহতদের মধ্যে মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ইকরাম (৩২) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া মো. হোসেন (২১) ও মো. ওমর ফারুক (২৭) হাসপাতালের বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ​সংঘর্ষের পর দুইপক্ষই পরস্পরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে। যুবদল নেতা জাকির হোসেনের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে শাহ আলমের লোকজন ইকরামের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিক দল নেতা শাহ আলম বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক আনার সময় শামীমকে বাধা দিলে সে উল্টো আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। ​এদিকে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের পর বটতলী বাজারে একটি বিএনপি কার্যালয়ে শাহ আলমের অনুসারীরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে মির্জানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আহমেদ খন্দকার জানান, ওই বাজারে বিএনপির দলগত কোনো কার্যালয় নেই, ব্যক্তিগত নামে কোনো কার্যালয় থাকতে পারে। ​পরশুরাম মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেএইচকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
আরেক পুরুষের সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের বান্ধবীর আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে তোলপাড়
আরেক পুরুষের সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের বান্ধবীর আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বান্ধবী ও ব্রাজিলিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার ভার্জিনিয়া ফনসেকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার প্রশিক্ষকের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। ভিডিওটিতে ভার্জিনিয়াকে তার ট্রেনারের সঙ্গে এমন এক মুহূর্তে দেখা যায়, যা অনেকের কাছে দুজনকে চুম্বনের কাছাকাছি অবস্থানে থাকার মতো মনে হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে, ভিডিওটির ওই অংশই মূলত ভক্তদের নজর কেড়েছে। কেউ কেউ ভার্জিনিয়ার আচরণকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। আবার ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে ভার্জিনিয়া তার ট্রেনারকে দূরে সরিয়ে দেন। ফলে ভিডিওটির প্রকৃত অর্থ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ভিডিওটির স্থান নিয়ে। অনেক ভক্তের দাবি, ভিডিওটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাড়ির ভেতরে ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির জিমে ভার্জিনিয়ার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ নতুন নয়। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকার সঙ্গে ভার্জিনিয়ার সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দুজনকে ঘিরে ব্রাজিলের বিনোদন ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভার্জিনিয়া দেশটির অন্যতম পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব; একই সঙ্গে তিনি উদ্যোক্তা ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও পরিচিত। নতুন ভিডিও প্রকাশের পর কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত বাসস্থান ও জিমকে ভার্জিনিয়া কতটা ব্যক্তিগত পরিসর হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া; ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে বা ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এদিকে ভিডিওকে কেন্দ্র করে ট্রেনারের যৌনতা নিয়েও অনলাইনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কারও যৌন পরিচয় নিয়ে অনুমান করার চেয়ে ভিডিওতে দেখা ঘটনাটির বাস্তব প্রেক্ষাপটের ওপরই গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন অনেকে। ভিডিওতে ঠিক কী ঘটেছিল, সেটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত নানা দাবি ও মন্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে, ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে নতুন এই ভিডিও আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভিডিওটির কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নানা জল্পনার সত্যতা এখনো স্পষ্ট নয়। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
গুনা মায়ার ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে থাকার লড়াই এখন মুখে মুখে
গুনা মায়ার ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে থাকার লড়াই এখন মুখে মুখে

নেপালে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৯৭ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর গুনা মায়া বোহারা নামের ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন পুলিশ, সেনাবাহিনী ও পরিবারের সদস্যরা। বুধবার (২৬ আগস্ট) বন্যার পানির প্রভাবে একটি বৃদ্ধনিবাস ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে সেখানে আটকা পড়েন গুনা মায়া। পরে তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ ও নেপাল সেনাবাহিনী। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) খননযন্ত্রের বাকেটে করে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কাদামাখা পোশাকে ৯৭ বছর বয়সী ওই নারীর জীবিত ফিরে আসার দৃশ্য নেপালের ভয়াবহ বন্যার মধ্যে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। গুনা মায়া ওই বৃদ্ধনিবাসেই থাকতেন। বন্যার পানিতে পুরো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে তার নিচে চাপা পড়েন তিনি। উদ্ধার অভিযানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। গুনা মায়ার আত্মীয় দীপক বোহারা জানান, তার ভাই ও ছেলে গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে প্রবেশ করেন। তারাই গুনা মায়া এখনও জীবিত আছেন বলে জানতে পারেন। তবে তাকে খুঁজতে গিয়ে আশপাশে আরও অনেক মানুষকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। ভয়াবহ বন্যায় শত শত প্রাণহানি এর আগে বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৩০০ জনের বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে নেপালের আবহাওয়া বিভাগ নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে। এতে উদ্ধার অভিযান এবং নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ৯৭ বছর বয়সী গুনা মায়াকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নেপালে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। সূত্র: এনডিটিভি এমআরএইচ/এমএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

নোয়াখালীর সদরে ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিনমনি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে সোনাপুর-বসুরহাট সড়কে প্রায় একঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সদ্য ঘোষিত অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে পদ পাওয়া ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিলো। শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বলসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইকবাল হোসেন মজনু/কেএইচকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি\'র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এনসিপি নেতারা জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।এর আগে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর সংসদের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। এর জেরে শুক্রবার মধ্যরাতে তারা শহরে বিক্ষোভ করেন। মাদরাসা ছাত্ররা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপি রাজনৈতিক সভাস্থলে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। এর নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে জেলা প্রশাসন দুপক্ষকেই শিল্পকলা একডেমিতে সভা না করতে দেওয়ার কথা জানায়। এর মধ্যে শনিবার বিকালে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় যান। সেখানে তিনি কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। জেএইচ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
জ্যাকুলিনকে নিয়ে নোরার ঈর্ষা? সুকেশের চিঠিতে বিস্ফোরক দাবি
জ্যাকুলিনকে নিয়ে নোরার ঈর্ষা? সুকেশের চিঠিতে বিস্ফোরক দাবি

প্রতারণার মামলায় কারাবন্দি সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে বলিউডে বিতর্কের যেন শেষ নেই। অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে অতীতে কম আলোচনা হয়নি। এবার সেই আলোচনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির নাম। সুকেশের হাতে লেখা বলে দাবি করা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে জ্যাকুলিনকে ঘিরে নোরার বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন সুকেশ। তবে ভাইরাল হওয়া চিঠিটি সত্যিই সুকেশের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে চিঠিতে করা অভিযোগগুলোর সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভাইরাল চিঠিতে সুকেশ দাবি করেছেন, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নোরা ফাতেহি ঈর্ষান্বিত ছিলেন। এমনকি তাদের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য নোরা তাকে বারবার উসকানি দিতেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। শুধু সম্পর্কের বিষয়েই নয়, নোরার সঙ্গে নিজের কথোপকথন নিয়েও চিঠিতে নানা দাবি করেছেন সুকেশ। তার অভিযোগ, নোরা নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ করতেন। এমনকি দিনে প্রায় ১০ বার পর্যন্ত ফোন করে বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য মোটা অংকের অর্থ দাবি করতেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। চিঠিতে নোরাকে দামি উপহার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন সুকেশ। তার দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি দামি প্রসাধনী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ, বিলাসবহুল গাড়িসহ আরও বিভিন্ন মূল্যবান উপহার দেওয়ার দাবিও করেছেন সুকেশ। আরও পড়ুন দ্বিতীয় সন্তান নেবেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া? যে কথায় লজ্জায় লাল অভিষেক সুকেশের দাবি, জ্যাকুলিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নোরা মেনে নিতে পারতেন না। এ কারণে বিভিন্ন সময় ফোন করে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। চিঠিতে তাদের কথোপকথনের কিছু তথ্য থাকার দাবিও করা হয়েছে। চিঠির শেষদিকে নোরাকে সতর্কও করেছেন সুকেশ। তাকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘আমাকে উসকানি দিও না।’ নিজের করা অভিযোগগুলোর পক্ষে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। প্রয়োজনে সেই প্রমাণ প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সুকেশ। জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে সুকেশ চন্দ্রশেখরের সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও বহুবার আলোচনা হয়েছে। কারাবন্দি অবস্থায়ও জ্যাকুলিনের জন্য দামি উপহার পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে একাধিকবার খবরের শিরোনামে এসেছেন সুকেশ। এবার নোরা ফাতেহিকে ঘিরে তার কথিত চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে চিঠিটির সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এতে করা অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আরও পড়ুন দুর্যোগের মধ্যেই নেপাল ছাড়লেন অভিনেতা এ বিষয়ে নোরা ফাতেহি কিংবা জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে সুকেশের চিঠিতে করা দাবিগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা ও বিতর্ক। এমএমএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ চান অংশীজনরা
স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ চান অংশীজনরা

দেশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে একটি ‘স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তারা বলেন, এই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মাধ্যমে সরকার স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য এখন প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। কমিশন গঠনের আগে গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদকীয় ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সম্পাদক, আইন বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিকতা বিষয়ের শিক্ষক, গণমাধ্যম উন্নয়ন সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া জরুরি। শনিবার (২৯ আগস্ট) যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ ও দৈনিক গ্রামের কাগজের যৌথ উদ্যোগে, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া সাপোর্ট (আইএমএস), ডেনমার্কের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে এসব মত উঠে এসেছে। গণমাধ্যম সংস্কারে এমআরডিআইয়ের পাঁচ বছর মেয়াদি অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিকল্পনার আওতায় আয়োজিত সংলাপে বক্তারা বলেন, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে এর স্বাধীনতা, কাঠামো, ক্ষমতা ও জবাবদিহির বিষয়ে অংশীজনদের আস্থা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনটি এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন এটি একদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা ও পেশাগত মান নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে জবাবদিহি ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করে। সংলাপের শুরুতে এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বর্তমান সরকার একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে যে অঙ্গীকার করেছে এবং এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই এ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম অংশীজন ও নাগরিকদের মতামতকে বিবেচনায় নিতে হবে। ২০২৩ সালে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা এবং তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক ‘মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। হাসিবুর রহমান বলেন, খসড়া গণমাধ্যম কমিশন আইনে স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার যে ধারণা রয়েছে, সেটিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এই কমিশন গণমাধ্যম খাতকে একটি সহায়ক কাঠামো দিতে পারে, যা সাংবাদিকতার পেশাদারত্ব নিশ্চিতের পাশাপাশি এই খাতের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারে ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যমের মালিকানার ক্ষেত্রে সার্কুলেশন সংখ্যা প্রকাশ এবং অডিটে বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাঠকের আস্থা বাড়াতে হলে এসব প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য একটি কার্যকর কোড অব কনডাক্ট প্রণয়নও গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে এমআরডিআইয়ের পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনায় স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রেক্ষাপট, এর প্রয়োজনীয়তা এবং কমিশনের কাছে বিভিন্ন অংশীজনের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়। যেখানে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় বরং এর স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও পেশাগত মানের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করাই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ বলে জানানো হয়। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, জনস্বার্থে সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে এখনই সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণের সময় এসেছে। এর মাধ্যমে একদিকে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত মান বজায় থাকবে, অন্যদিকে জনগণের সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকারও অক্ষুণ্ন থাকবে। শুধু একটি কমিশন গঠন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না জানিয়ে কামাল আহমেদ বলেন, এর স্বাধীনতা, কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের নৈরাজ্যজনক অবস্থা সমাধান করতে এবং অপব্যবহার রোধে তিনি সাংবাদিকতার জন্য একটি নূন্যতম জাতীয় মানদণ্ড তৈরি এবং নীতি নৈতিকতার কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। নীতি সংলাপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য, কমিশনের কাঠামো ও ক্ষমতা, স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। তবে কমিশনকেও জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে। কমিশন যেন নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ভূমিকা পালন করে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের পেছনে সরকার ও গণমাধ্যম মালিক উভয়েরই দায় রয়েছে। ভালো সাংবাদিকতার জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান, বিজ্ঞাপন নীতিমালায় পরিবর্তন এনে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করা এবং সাংবাদিকদের নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন। কমিশন গঠনে জনমত তৈরিতে সবার অংশগ্রহণে এ ধরনের আলোচনা আরও হওয়া প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সভায় যশোরের স্থানীয় পর্যায়ের সম্পাদক, সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন একরাম-উদ-দ্দৌলা, সম্পাদক, দৈনিক কল্যাণ, যশোর; সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সভাপতি, যশোর আইনজীবী সমিতি; ফকির শওকত, সাবেক সভাপতি, প্রেস ক্লাব, যশোর; শাহিন ইকবাল, সাবেক অধ্যক্ষ, উপশহর ডিগ্রী কলেজ, যশোর; আহসান কবির বাবু, সম্পাদক, দৈনিক সুবর্ণভূমি, যশোর; ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, সাবেক সভাপতি, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন; আমিনুর রহমান মামুন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক সমাজের কথা, যশোর; সাজেদ রহমান বকুল, সভাপতি, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন; এসএম তৌহিদুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রেসক্লাব যশোর; আকরামুজ্জামান আকরাম, সভাপতি, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর; শেখ দীনু আহমেদ, সভাপতি, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর; এলিন সাঈদ-উর রহমান, সহকারী পরিচালক, জেলা তথ্য অফিস, যশোর; বিথীকা সরকার, ব্যবস্থাপক, আইইডি, যশোর; এবং হাবিবা শেফা, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, যশোর। এমকেআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে পুশ-ইন করলো বিএসএফ
কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে পুশ-ইন করলো বিএসএফ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দুই নারীসহ ৩ বাংলাদেশি নাগরিককে পুশ-ইন করেছে। পরে তাদেরকে স্থানীয়রা আটক করে থানায় হস্তান্তর করেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার দেবলছড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদেরকে পুশ-ইন করে বিএসএফ। উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের বকসি টিলা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন- নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গা শোলপুর গ্রামের রানা মোল্লা (২৪), তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার লিমা (২২) এবং খুলনা জেলার বেজেরডাঙ্গা গ্রামের ময়না খাতুন (২০)। আরও পড়ুন যমুনায় সরকারি ওষুধ ফেলার চেষ্টা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওএসডি স্থানীয় ও আনসার সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর আওতাধীন কমলগঞ্জ উপজেলার দেবলছড়া বিওপির সীমান্ত এলাকা দিয়ে শনিবার সকালে আলীনগর ইউনিয়নের বকসি টিলা এলাকায় বিএসএফ ওই ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে রাখেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন কয়েকজন পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, আটককৃতদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা বাংলাদেশি নাগরিক। কাজের তাগিদে কয়েক মাস আগে তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। ইতোমধ্যেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, পরিবারের লোকজন এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। মাহিদুল ইসলাম/এনএইচআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
যমুনায় সরকারি ওষুধ ফেলার চেষ্টা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওএসডি
যমুনায় সরকারি ওষুধ ফেলার চেষ্টা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওএসডি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পিকআপভর্তি সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়রা আটক করেন। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেলকে ওএসডি করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি ও পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা আদেশে বদলি ও পদায়ন করা কর্মকর্তাকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন তিনি। এর আগে, গত বুধবার মধ্যরাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিকআপভর্তি সরকারি ওষুধ ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে পিকআপের চালককে আটক করে ওষুধসহ গাড়িটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নইম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে ঘটনার মূল ব্যক্তিদের আড়াল করতে পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে আজমতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে মূল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে মামলা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সরকারি ওষুধ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা হাসপাতাল ও থানা ঘেরাও করেন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশের আশ্বাসে পরে অবরোধ তুলে নেন তারা। আব্দুল্লাহ আল নোমান/কেএইচকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
কোয়াবের নতুন উপদেষ্টা কমিটিতে সুজন-সালমা-হাবিবুল
কোয়াবের নতুন উপদেষ্টা কমিটিতে সুজন-সালমা-হাবিবুল

ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) নতুন একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। নতুন এই উপদেষ্টা কমিটিতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন, সাবেক নারী অধিনায়ক সালমা খাতুন ও শাহরিয়ার নাফিসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া উপদেষ্টা কমিটিতে রয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল হক, আতহার আলী খান, সাথিরা জাকির জেসি, সানাউর হোসাইন, এনামুল হক মনি, সেলিম শাহেদ, শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত, নিয়ামুর রশিদ রাহুল, ইশতিয়াক সাদেক, নাঈম ইসলাম, নাদিফ চৌধুরী ও আনিসুল হাকিম। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষা, তাদের সুস্থতা এবং ক্রিকেটের সামগ্রিক সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নতুন উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে পরামর্শ দেবেন। এদিকে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনজন নতুন সদস্যকে পরিবর্তন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার মার্শাল আইয়ুব, জিয়াউর রহমান ও মাহমুদুল হাসান রানাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে যুক্ত করা হচ্ছে খালেদ মাসুদ পাইলট, শামসুর রহমান শুভ ও ইমরুল কায়েসের পরিবর্তে। এসকেডি/আইএইচএস

আগস্ট ২৯, ২০২৬
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজদলের কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন
চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় নিজদলের কর্মীর হাতে যুবদল নেতা খুন

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁওয়ে সড়কে ভাসমান ভ্যান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ফজলুল আমিন নামে এক যুবদল নেতাকে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে চান্দগাঁও থানার ওমর আলী মাতবর সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত ফজলুল আমিন চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মামলায় মো. শাহজাহান নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শাহজাহান নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। মামলায় স্থানীয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আরও পড়ুন চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল নিহতের ছেলে জোবায়ের হক ইনান বলেন, স্থানীয় একটি স্কুলের সামনে ভ্যানে দোকান বসানোর কারণে শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী বৈঠক করে সেখানে দোকান না বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শুক্রবার আবার স্কুলের সামনে রিকশাভ্যান নিয়ে দোকান বসানো হয়। ইনান বলেন, ভ্যান বসানোর নামে চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় নিজদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত মো. শাহজাহান ও তার ছেলে সিফাতের সঙ্গে ফজলুল আমিনের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির মধ্যে তাকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, ওই এলাকায় রিকশাভ্যানে দোকান বসানোর মাধ্যমে চাঁদাবাজি করা হয়। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ) কাজী মো. বিধান আবিদ বলেন, ওমর আলী মাতবর সড়কে ফজল আমিনকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, হয়তো আগে থেকেই তার শারীরিক দুর্বলতা বা কোনো অসুস্থতা ছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আরও পড়ুন চাঁন্দাবিডি ডটকম / তিনদিনেই ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, শীর্ষে ঢাকা সড়কে রিকশাভ্যান বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রাস্তায় রিকশাভ্যান না বসাতে ফজল আমিন নিষেধ করেছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে সেখানে চাঁদাবাজি হতো কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ফজলুল আমিন সংগঠনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ওমর আলী মাতবর সড়কে রাস্তায় রিকশাভ্যান বসানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের কথা তারা শুনেছেন। অভিযুক্ত শাহজাহানের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়। অপরাধ হলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হচ্ছে কি না, সেটাই জরুরি। এমআরএএইচ/ইএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
‘কাতালোনিয়া’ নামে আলাদা দেশের দাবিতে বার্সেলোনার গ্যালারিতে বিক্ষোভ
‘কাতালোনিয়া’ নামে আলাদা দেশের দাবিতে বার্সেলোনার গ্যালারিতে বিক্ষোভ

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর দেড় মাসও পার হয়নি। এর মধ্যেই ফুটবল মাঠে উঠল স্বাধীনতার দাবি। বার্সেলোনা সমর্থকদের একাংশ হাতে স্বাধীনতাকামী পতাকা নিয়ে দেখতে এসেছিলেন লা লিগার ম্যাচ। তৈরি হল উত্তেজনাও। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের নিয়ে একটি পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হন বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ। বার্সেলোনায় রয়েছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী আটজন ফুটবলার। যোগ দিয়েছেন রদ্রিও। বৃহস্পতিবার ন্যু ক্যাম্পে মৌসুমের প্রথম ম্যাচের পর বিশ্বজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বার্সেলোনা কর্তাদের। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে জয়ের পরও সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখেন। ম্যাচের শুরুতেই বিতর্কের আঁচ পাওয়া যায়। খেলা শুরুর আগে বার্সেলোনার ফুটবলারেরা যখন মাঠে গান গাইছিলেন, তখনই গ্যালারিতে দেখা যায় ‘দ্য এস্তেলাদা’ পতাকা। যা হল স্বাধীনতাকামী কাতালানিয়ার পতাকা। দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবিতে সরব স্পেনের এই অঞ্চলের বাসিন্দারা। তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে নানা সময়ে জড়িয়ে পড়েছে বার্সেলোনাও। শুক্রবার ম্যাচ শুরুর আগে ন্যু ক্যাম্পের গ্যালারিতে সমর্থকদের একাংশ ‘দ্য এস্তেলাদা’ পতাকা বিলিও করেন। গ্যালারির বিভিন্ন অংশে প্রচুর ‘দ্য এস্তেলাদা’ পতাকা দেখা গেছে। পরিস্থিতি জটিল হতে পারে আঁচ করে সংবর্ধনার পরিকল্পনা বাতিল করে দেয় বার্সেলোনা। ক্লাবের সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা শুধু বলেছেন, উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। ‘দ্য এস্তেলাদা’ পতাকা প্রদর্শনকারী বার্সেলোনা সমর্থকদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যদিও স্বাধীনতাকামীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন লাপোর্তা। তার বক্তব্য, পতাকা প্রদর্শন ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের অধিকারের মধ্যে পড়ে। পুলিশের দমনপীড়ন সমর্থন করা যায় না। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
তীব্র প্রয়োজনের সময় যে আমল করতে বলেছেন মহানবী (সা.)
তীব্র প্রয়োজনের সময় যে আমল করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

আপনার জীবনে যদি কোনো অভাব আসে, কোনো কিছুর তীব্র প্রয়োজন বোধ করেন, তাহলে কী করবেন? সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা তো করতেই হবে। পাশাপাশি কী দোয়া বা আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সাহায্য ও তওফিক চাইবেন? রাসুল (সা.) পরামর্শ দিয়েছেন, এ রকম পরিস্থিতিতে অজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে এবং এই দোয়াটি পাঠ করতে: বাংলা উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম। সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আরশিল আজিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আসআলুকা মুজিবাতি রাহমাতিকা ও আযায়িমা মাগফিরাতিকা ওয়াল-গানিমাতা মিন কুল্লি বিররিন ওয়াস-সালামাতা মিন কুল্লি ইছমিন লা তাদা’ লি যাম্বান ইল্লা গাফারাতহু ওয়া লা হাম্মান ইল্লা ফাররাঝতাহু ওয়া লা হাজাতান হিয়া লাকা রিদান ইল্লা ক্বাদাইতাহা ইয়া আরহামার রাহিমিন। বাংলা অর্থ: পরম সহনশীল ও দয়ালু আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। মহান আরশের রব আল্লাহ অতি পবিত্র। সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে অবধারিত রহমত, তোমার অফুরন্ত ক্ষমা, সকল সদাচারের ভান্ডার এবং প্রতিটি পাপাচার থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। আমি তোমার কাছে আরো প্রার্থনা করি যে, তুমি আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দাও, আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দাও, তোমার সন্তুষ্টিমূলক প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ করে দাও। এই দোয়াটি পড়ার পর আল্লাহর কাছে নির্দিষ্ট করে নিজের প্রয়োজনটি তুলে ধরবেন এবং আল্লাহ তাআলার রহমত, সাহায্য ও তওফিক প্রার্থনা করবেন। আরও পড়ুন কঠিন বিপদে যে দোয়া পড়েছিলেন আল্লাহর দুই নবি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের বলেছেন, যদি আপনাদের কারো আল্লাহর কাছে বা তার কোনো সৃষ্টির কাছে কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়, তিনি যেন ভালো করে অজু করেন, দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন, তারপর উপরোক্ত দোয়াটি পড়ে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য যা চাওয়ার আছে তা প্রার্থনা করেন। কারণ তা আল্লাহই নির্ধারণ করেন। (সুনানে তিরমিজি) কোরআনেও আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে বলেছেন ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা বলেন, হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। (সুরা বাকারা: ১৫৩) তাই যে কোনো বিপদে পড়লে, অভাবে পড়লে বা কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে কোরআন ও হাদিসের পরামর্শ অনুযায়ী নামাজ পড়ে আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করুন। আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা আপনার প্রয়োজন পূরণ করে দেবেন। আরও পড়ুন বিপদের সময় যে দোয়া পড়বেন  ওএফএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
গুমের জন্য এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পাবে
গুমের জন্য এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পাবে

বিএনপি সরকার গুমের জন্য এমন আইন আনতে চায় যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ‘মায়ের ডাক’ কর্তৃক আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন। আমরা গুমের জন্য এমন আইন আনতে চাই যাতে প্রতিটি ভুক্তভোগী বিচার পায়। যারা অপরাধী তারা সাজা পাবে। কিন্তু গুম কমিশনে এগুলো ছিল না। আমরা চেয়েছি যারা গুমের শিকার তারা যেন সরাসরি আদালতে যেতে পারে। এ ধরনের আইন আমরা সংসদে প্লেস করেছি৷ আরও পড়ুন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসন পেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তিনি আরও বলেন, কোন ধরনের গুমে কী সাজা সেগুলো অ্যাড্রেস করেছি। তদন্ত কারা করবে, কীভাবে করবে সেগুলো ঠিক করেছি। গুমের শিকার কাউকে পাওয়া না গেলে তার ওয়ারিশগণ যেন তার সম্পদ পান সে বিধান করেছি। যারা গুম করেছে তারা যদি শেষ অবধি ক্ষতিপূরণ দিতে নাও পারে তবুও রাষ্ট্র যেন সেটা দিতে পারে সেই বিধান করেছি। এভাবেই গুম প্রতিকার আইন-২০২৬ নিয়ে এসেছি আমরা। এই আইনে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু এটা তো সংশোধন করা যাবে। আমরা সেই আইনটাই করেছি। এটা দরকার ছিল। আরও পড়ুন ৬৪ জেলায় ৬৪ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলে মন্দ হতো না: রুমিন ফারহানা মন্ত্রী আরও বলেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও গুমের শিকার। আমি কি চাইব না যে, একটি শক্তিশালী আইন হোক গুম নিয়ে? এখানে কি আর কোনো স্বার্থ থাকতে পারে? আমরা আজ সরকারে আছি, আগামীতে নাও থাকতে পারি। কিন্তু এই আইনটা থাকবে। ফলে গুমের শিকার যেই হোন, তারা বিচার পাবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের গত দুই বছর অবজ্ঞা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তাদের নিয়ে অপসংস্কৃতি চর্চা করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। আমরা যারা গুম হয়েছি তাদের মধ্যে আমি বেঁচে আছি, হুম্মাম কাদের বেঁচে আছেন। আমরা কী জানতাম আমরা বেঁচে থাকবো? আমাদের বেঁচে থাকা নিয়ে হাস্যরস করা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হতাশাগ্রস্ত করবে। টিটি/এমএমকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মাছের সংকট কাটছে, প্রাণ ফিরছে উপকূলের জেলেদের
মাছের সংকট কাটছে, প্রাণ ফিরছে উপকূলের জেলেদের

দীর্ঘদিনের মাছের সংকট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে। গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরে জেলেদের জালে বাড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের পরিমাণ। প্রতিদিন শত শত মাছ ধরার ট্রলার মাছ নিয়ে ফিরছে জেলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে। এছাড়া মাছের সরবরাহ বাড়ায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে মৎস্যবন্দরজুড়ে। এতে জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় এখন মুখর পুরো এলাকা। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত আলীপুর ও মহিপুরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে চলছে মাছ ওঠানো, বাছাই, ওজন ও বিক্রির ব্যস্ততা। সাগর থেকে মাছভর্তি ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আড়তদার ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ট্রলার থেকে ঝুড়ি ও ক্যারেটে করে মাছ নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে আড়তে। এরপর ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আকার ও মান অনুযায়ী বাছাই করে নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে আসা জেলেরাও আলীপুর-মহিপুরে মাছ বিক্রি করছেন। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, নোয়াখালী, হাতিয়া ও পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকার মাছ ধরার ট্রলার এসব মৎস্যবন্দরে এসে ভিড়ছে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে মাছের সরবরাহ। আরও পড়ুন চাঁদপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টয়েলট সংকট, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরে সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় একদিকে যেমন জেলেদের লোকসান গুনতে হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দামও ছিল তুলনামূলক বেশি। তবে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। সাগরে মাছের পরিমাণ বাড়ায় আলীপুর-মহিপুরের আড়তগুলোতে বেড়েছে ইলিশের সরবরাহ। এর প্রভাব পড়েছে দামে। ‘সাগরে মাছের প্রাপ্যতা বাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সরবরাহ বেড়েছে। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং দামও কিছুটা কমে আসে। পানির চাপ কমলে বড় ইলিশও বাড়বে বলে আশা রাখি।’ ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সাইজের ইলিশের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় মণপ্রতি প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে একদিকে যেমন জেলেরা মাছ ধরে ভালো দাম পাচ্ছেন, অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় ব্যবসায়ীরাও স্বস্তিতে মাছ কিনতে পারছেন। বর্তমানে ছোট জাটকা ইলিশ মণপ্রতি প্রায় ১৯ হাজার থেকে ২৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম মণপ্রতি প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা। আর এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি এক লাখ টাকার ওপরে। তবে মাছের আকার, মান, সতেজতা ও বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দাম কিছুটা কমবেশি হচ্ছে। ইলিশের পাশাপাশি আড়তগুলোতে দেখা মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। বড় বড় ট্রলার থেকে একের পর এক মাছ নামানো হচ্ছে। মাছের সরবরাহ বাড়ায় আড়তগুলোর পুরোনো কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। নোয়াখালী থেকে মাছ বিক্রি করতে আলীপুরে আসা ট্রলার মাঝি জব্বার হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ৩ লাখ টাকার বাজার নিয়ে সমুদ্রে গিয়েছিলাম। মাছ পেয়েছি প্রায় ৭ লাখ টাকার। গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরে মাছ বাড়ছে। আগে অনেক কষ্ট করে মাছ খুঁজতে হয়েছে। এখন তুলনামূলকভাবে ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আরও পড়ুন বর্ষায় দুধ উৎপাদন অর্ধেক, খাবারের খরচ মেটাতে হিমশিম খামারিরা তিনি আরও বলেন, সমুদ্রে মাছ পাওয়া গেলে আমাদের আয় বাড়ে। ট্রলারের খরচ, জ্বালানি, বরফ, খাবারসহ অনেক খরচ আছে। মাছ না পেলে এসব খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে যায়। এখন মাছ বেশি পাওয়ায় আমরা আশাবাদী। আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মাছের সরবরাহ অনেকটাই বেড়েছে। ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছও আসছে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। আগে মাছের সংকটের কারণে ব্যবসায়ীদের বেশি দামে মাছ কিনতে হয়েছে। এখন মাছ বেশি আসায় কেনাবেচাও বাড়ছে। ‘সাগরে মাছের প্রাপ্যতা কিছুটা বেড়েছে। আলীপুর-মহিপুরসহ জেলার বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়ার এখনই সময়, বছরের এই সময়ে মাছের সরবরাহ বাড়ে জেলেরাও খুশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে দামের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ মহিপুর ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি রাজু আহম্মেদ রাজা বলেন, দীর্ঘদিন সাগরে মাছ কম থাকায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। প্রতিটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ, খাবার, শ্রমিকের মজুরিসহ বিপুল টাকা খরচ হয়। মাছ না পেলে সেই খরচই ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। মাছের সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে বেড়েছে শ্রমিকদের ব্যস্ততা। ট্রলার থেকে মাছ নামানো, বাছাই, বরফ দেওয়া, ওজন করা, নিলামে তোলা ও পরিবহন। সবকিছুতেই এখন আগের তুলনায় কর্মচাঞ্চল্য বেশি। মাছভর্তি ট্রলার ঘাটে ভেড়ার পরপরই শ্রমিকরা ছুটে যাচ্ছেন ট্রলারের কাছে। কেউ মাছ নামাচ্ছেন, কেউ আড়তে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ মাছের ওজন ও হিসাব করছেন। অন্যদিকে আড়তদারদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে পুরো মৎস্যবন্দর। মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম থাকলে যেমন দাম বাড়ে, তেমনি পর্যাপ্ত মাছ এলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ে এবং দাম কিছুটা কমে আসে। বর্তমানে আলীপুর-মহিপুরে মাছের সরবরাহ বাড়ায় এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। পাইকারি ক্রেতা মো. সোলাইমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ অনেক বেড়েছে। আগে মাছের সংকট থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম ছিল, ফলে বেশি দামে মাছ কিনতে হয়েছে। এখন সাগর থেকে প্রচুর মাছ আসায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে দামের ওপরও। আরও পড়ুন সোনালি আঁশে ৫৪৯ কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন বুনছেন রাজশাহীর কৃষকরা তিনি আরও বলেন, আমরা পাইকারি ক্রেতারা এখন আগের তুলনায় কিছুটা কম দামে মাছ কিনতে পারছি। একই সঙ্গে মাছের মান ও আকার অনুযায়ী বিভিন্ন দামে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমাদের ব্যবসার জন্যও সুবিধা হচ্ছে। জেলেরা মাছ পাচ্ছেন, আড়তদাররা মাছ বিক্রি করতে পারছেন, আর আমরাও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ পাঠাতে পারছি। ‘সাগরে মাছের প্রাপ্যতা কিছুটা বেড়েছে। আলীপুর-মহিপুরসহ জেলার বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়ার এখনই সময়, বছরের এই সময়ে মাছের সরবরাহ বাড়ে জেলেরাও খুশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে দামের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’ কুয়াকাটা মৎস্য আড়তের খুচরা বিক্রেতা শাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়তে শুরু করছে। আগে মাছ কম আসায় দামও বেশি ছিল। এখন সাগর থেকে বেশি মাছ আসায় ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। এতে সাধারণ ক্রেতারাও আগের তুলনায় স্বস্তিতে মাছ কিনতে পারছেন। তবে মাছের আকার ও মানের ওপর দাম নির্ভর করছে। তবে আমরা আশা করছি দাম আরও কমবে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, সাগরে ইলিশের প্রাচুর্য একটি স্বাভাবিক মৌসুমি প্রক্রিয়ার অংশ। পরিবেশ ও পানির তাপমাত্রা অনুকূলে থাকলে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের বিচরণ ও খাদ্যপ্রাপ্তি বাড়ে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত আহরণ বন্ধ রেখে মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ জালের ব্যবহার না কমালে মাছের উৎপাদন বাড়বে না। পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, সাগরে মাছের প্রাপ্যতা কিছুটা বেড়েছে। আলীপুর-মহিপুরসহ জেলার বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়ার এখনই সময়, বছরের এই সময়ে মাছের সরবরাহ বাড়ে জেলেরাও খুশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে দামের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি আরও বলেন, মৎস্যসম্পদের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়াতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জরুরি। জেলেদেরও আইন মেনে মাছ আহরণের পাশাপাশি ছোট মাছ ও জাটকা রক্ষায় সহযোগিতা করতে হবে। ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় সমুদ্রগামী নিবন্ধিত জেলেদের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চালের ৫৮ দিনের হিসাব অনুযায়ী একজন জেলে মোট প্রায় ৭৭ কেজি ৩৩০ গ্রাম চাল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কলাপাড়া উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩০৫ জন। অন্যদিকে, ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য জনপ্রতি ২৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়ার সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ ধরতে না পারা জেলে পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সহায়তা দেওয়া হয়। কলাপাড়া মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপ-কেন্দ্র প্রধান ড. কাজী বেলাল উদ্দিন বলেন, লম্বা সময়ে মাছের উৎপাদন কম তবে বর্তমানে মাছের পরিমান দেখা মিলছে, তাই আমাদের পর্যবেক্ষণ চলছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল প্রায় ৫ লাখ টন। তবে বর্তমান উৎপাদন এখনো জানা যায়নি। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সাগরে মাছের প্রাপ্যতা বাড়ায় গত কয়েকদিন ধরে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সরবরাহ বেড়েছে। ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং দামও কিছুটা কমে আসে। পানির চাপ কমলে বড় ইলিশও বাড়বে বলে আশা রাখি। এনএইচআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ইমরান তো চুরি করেনি, যা করেছে পাকিস্তানের স্বার্থে: কাঁদলেন মিয়াঁদাদ
ইমরান তো চুরি করেনি, যা করেছে পাকিস্তানের স্বার্থে: কাঁদলেন মিয়াঁদাদ

পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইমরান খানের মুক্তির দাবি তুললেন জাভেদ মিয়াঁদাদ। সাবেক সতীর্থকে জেলবন্দি করে রাখার কারণ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ইমরানের সততা নিয়ে সংশয় নেই তার। ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান খান এবং কাসেম খানের সাক্ষাৎকার নিয়ে নতুন বিতর্কে পাকিস্তানের ক্রিকেট। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে সুলেমান এবং কাসেমের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করা হয়। তাতে জেলবন্দি ইমরানের শারীরিক এবং মানসিক দুরবস্থা, পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন নিয়ে মুখ খোলেন সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রীর ছেলেরা। তারপরই দল না নামানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পক্ষ থেকে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের কোচ সরফরাজ আহমেদ। এই বিতর্কের মধ্যেই ইমরানের জেলমুক্তির দাবিতে সরব জাভেদ মিয়াঁদাদ। কথা বলার সময় কেঁদে ফেলেন তিনি। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজের সম্প্রচারকারী স্কাই স্পোর্টসে সুলেমান-কাসেমের সাক্ষাৎকার নেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক আথারটন। দুই ভাই এমন কিছু কথা বলেন, যেগুলি পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকারের পক্ষে অস্বস্তির। পিসিবি চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভি আবার শরিফ মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। স্বভাবতই বিরক্ত হলেন তিনিও। স্কাই স্পোর্টসকে ওই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার বন্ধ করতে বলে পিসিবি। কিন্তু চ্যানেল কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। এরপর ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন পিসিবি কর্মকর্তারা। সম্প্রচার বন্ধ করা না হলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দল না নামানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ইসিবির মধ্যস্থতায় খেলা শুরু হলেও বিতর্ক মেটেনি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচ সরফরাজকে। লর্ডসে কি সত্যিই দল না নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আপনারা? সরফরাজ় বলেছেন, ‘আমি কিছু জানি না। আমি শুধু ম্যাচ নিয়ে রয়েছি। আপনারা কি একটি সাক্ষাৎকারের ব্যাপারে কথা বলছেন? এ ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘দলে সব ঠিকঠাক আছে। ওই সময় আমরা মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত ছিলাম। সাক্ষাৎকারটার ব্যাপারে কিছু জানা নেই আমাদের।’ পাক সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন মিয়াঁদাদ। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক অবিলম্বে সতীর্থের জেলমুক্তির দাবি তুলেছেন। মিয়াঁদাদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনও কোনওরকম শত্রুতা ছিল না। আমরা বছরের পর বছর একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি। বছরে ছয় মাসের বেশি একসঙ্গেই থাকতাম। বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে গিয়েছি। পাকিস্তানের হয়ে একসঙ্গে খেলেছি। দুজনেই দুজনের নেতৃত্বে খেলেছি। আমাদের মধ্যে দারুণ সম্পর্ক ছিল। ক্রিকেটজীবনের অনেকটা পথ আমরা ভাগাভাগি করে নিয়েছি।’ কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন মিয়াঁদাদ। কাঁদতে কাঁদতেই বলেন, ‘আমরা খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম। এখন ইমরানের কথা ভাবলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। জানি না জেলের মধ্যে ও কী অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তানকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল ইমরান। আমার মন বলছে, ওর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। ওকে মুক্তি দিলে সমস্যা কী? আমাকে কেউ কি বুঝিয়ে বলবেন? ইমরানকে মুক্তি দিলে কি পাকিস্তান মুছে যাবে? সকলের বোঝা উচিত, আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমি ইমরানকে খুব ভালভাবে চিনি। অত্যন্ত সৎ মানুষ। কোনও দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে কখনও জড়িত ছিল না। না হলে আরও অনেক কিছু করতে পারত। ইমরান দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিল। ওর বিরুদ্ধে তো চুরি বা আর্থিক দুর্নীতির কোনও অভিযোগ নেই।’ সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মিয়াঁদাদ বলেছেন, ‘বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান পাওয়া যেতে পারে। ইমরান অসম্ভব শ্রদ্ধার মানুষ। পাকিস্তানের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। আমাদের বোধহয় একটু ভাবা দরকার। ভালবাসা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে জীবনযাপন করা ওর প্রাপ্য। ঈশ্বর না করুন, জেলের ভিতরে ওর কিছু হয়ে গেলে গোটা পাকিস্তান কাঁদবে। তখন মানুষই প্রশ্ন তুলবে, ইমরানের মতো একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হল? আরে ইমরান তো চুরি করেনি। যা করেছে, পাকিস্তানের স্বার্থে করেছে। নিজের সব কিছু দেশের জন্য দিয়েছে। দেশের জাতীয় নায়কের সঙ্গে এমন আচরণ দুর্ভাগ্যজনক। অত্যন্ত দুঃখের। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়।’ ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে সুনিল গাভাস্কার, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বর্ডারের মতো সাবেক ক্রিকেটারাও উদ্বিগ্ন। পাকিস্তান সরকারকে ইমরানের জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে একাধিক বার অনুরোধ করেছেন তারা। ইমরানকে যথাযথ সম্মান দেওয়ার দাবি তুলেছেন প্যাট কামিন্সও। মিয়াঁদাদ সরাসরি ইমরানের প্রশংসা করে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুললেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে মিয়াঁদাদই প্রথম সাবেক অধিনায়ক এবং প্রধানমন্ত্রীর মুক্তির দাবি তুললেন। যা শাহবাজ, নাকভিদের অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি করতে পারে। একাধিক অভিযোগে ২০২৩ সাল থেকে জেলবন্দি ইমরান। জেলে তার উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে বহুবার। সাবেক পাক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যেরা নানা অভিযোগ করেছেন। অসুস্থ ইমরানের ঠিক মতো চিকিৎসা না করানো, দিনে ২৩ ঘণ্টার বেশি একটি ছোট্ট ঘরে আটকে রাখা, একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া, পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের ঠিক মতো দেখা করতে না দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। তার দল পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফকে নির্বাচনে লড়াই করতে দেয়নি বর্তমান সরকার। পাকিস্তানের নাগরিকদের একাংশও ইমরানকে জেলবন্দি করে রাখায় ক্ষুব্ধ। একমাত্র ইমরানের নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসাবে বিবেচনা করা হয় তাকে। ক্রিকেটমহলে এখনও যথেষ্ট জনপ্রিয় তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই টেস্ট ম্যাচের বিরতিতে ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে তার দুই ছেলের বক্তব্যের সঙ্গে শাহবাজ সরকারের ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত। স্কাই স্পোর্টস খেলাধুলোর মধ্যে দেশের আভ্যন্তরীণ এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক বিষয়কে টেনে আনায় ক্ষুব্ধ পিসিবি। বিষয়টিকে দেশের মর্যাদাহানী হিসাবে দেখছেন নাকভিরা। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
চোখ বেঁধে সীমান্ত দিয়ে শিলং, পরে পাগল ভেবে হাসপাতালে নেওয়া হয়
চোখ বেঁধে সীমান্ত দিয়ে শিলং, পরে পাগল ভেবে হাসপাতালে নেওয়া হয়

নিজের গুমের ৬১ দিনের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চোখ ও হাত বেঁধে তাকে সীমান্ত পার করে ভারতের শিলংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে প্রথমে মানসিকভাবে অসুস্থ (পাগল) ব্যক্তি মনে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘মায়ের ডাক’ কর্তৃক আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম অবস্থায় প্রতিটি মুহূর্তে মনে হতো পরের ভোরটি দেখতে পারবো কি না। কারণ বন্দিদশায় দিনের আলো দেখার সুযোগ ছিল না। সকালের নাশতা এলে বুঝতাম সকাল হয়েছে। নখের আঁচড় দিয়ে দেওয়ালে দাগ কেটে কেটে দিন গুনতাম। ‘আমার গুমের ৬১ দিন... তার যতটা মিনিট, যতটা মুহূর্ত কেটেছে, তার প্রত্যেকটা যদি আমি লিখে রাখতে পারতাম, তাহলে জাদুঘরের সংকলন হতো না কোনো কিতাব।’  কবরের মতো কক্ষে ৬১ দিন গুমকারীরা তাকে প্রায় ৮ ফুট বাই ৪ ফুটের একটি সংকীর্ণ স্থানে রাখত বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জায়গাটি ছিল অনেকটা কবরের মতো। সেখানে একটি পানির কল এবং প্রস্রাব-পায়খানার জন্য একটি ছিদ্র ছিল। দুর্গন্ধের পাশাপাশি সেখানে বিষাক্ত পোকামাকড়ও দেখা যেত। মেঝেতে একটি কম্বল পেতে ঘুমাতে হতো এবং পাতলা একটি বালিশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। খাবার, পানি ও ওষুধ নিয়মিত দেওয়া হলেও অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের সহায়তা পাওয়া যেত না। সালাহউদ্দিন বলেন, গুমকারীদের তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে বলতেন, আমার হার্টে স্টেন্টিং আছে, অন্যান্য জটিলতা আছে, কিডনিতে জটিলতা আছে। এই পরিবেশে কতক্ষণ টিকে থাকব জানি না। আমার মৃত্যু হলে তোমরা আমার লাশটা আমার পরিবারের কাছে ফেরত দিও। অসুস্থ হলেও চিকিৎসা মেলেনি একদিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাবার দিতে এসে তার সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খোলা হয়। পরে গামছা ফেলে তাকে টেনে তোলা হয়। তখন বুকের তীব্র ব্যথার কথা জানালে তাকে বলা হয়, এখানে ডাক্তার আসা নিষেধ। নিজে নিজে সুস্থ থাকার চেষ্টা করেন। এর কিছুদিন পর তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সেদিন সকালে পানি কম খেতে বলা হয়েছিল। তখন তার মনে হয়েছিল, হয়তো আজকেই শেষ। চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাকে মোটা কাপড় দিয়ে চোখ বাঁধা হয়। এরপর হাত বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তোলা হয়। গাড়িতে আরও কয়েকজন মানুষ ছিল বলে তিনি ধারণা করেন। কয়েক ঘণ্টা যাত্রার পর একটি স্থানে দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে কিছুটা হাঁটিয়ে একটি জিপের মতো গাড়িতে তোলা হয়। এরপর আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে একটি উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মানুষের হিন্দিতে কথা বলার শব্দ শুনে তিনি নিশ্চিত হন যে তাকে ভারতের কোনো এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শিলংয়ে নামিয়ে দিয়ে বলা হয়, ইউ আর ফ্রি নাউ সালাহউদ্দিন বলেন, আরও কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে যাওয়ার পর ভোরের দিকে তার চোখ খুলে দেওয়া হয়। তখন তিনি একটি চৌরাস্তা, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা ও বড় একটি মাঠ দেখতে পান। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, সেটি শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকা। তাকে নির্জন একটি এলাকায় ফুটপাতে নামিয়ে দিয়ে বলা হয়, ইউ আর ফ্রি নাউ। তখন তার পা ফুলে যাওয়ায় ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না। আশপাশের পথচারীদের কাছে সাহায্য চান তিনি। কিন্তু তার দাড়ি, ময়লা পোশাক ও শারীরিক অবস্থা দেখে অনেকে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি মনে করেছিলেন বলে জানান সালাহউদ্দিন। পুলিশও প্রথমে বিশ্বাস করেনি পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে একটি বিট হাউসে নেওয়া হয়। সেখানেও নিজের পরিচয় দেওয়ার পর প্রথমে তাকে বিশ্বাস করা হয়নি বলে জানান তিনি। এরপর তাকে শিলং সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে নর্থ ইস্টার্ন ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সায়েন্সেসে (মিমহানস) নেওয়া হয়। সেখানে একজন চিকিৎসকের কাছে নিজের পরিচয় ও বাংলাদেশের পরিবারের ফোন নম্বর দিয়ে যোগাযোগের অনুরোধ করেন তিনি। চিকিৎসককে সালাহউদ্দিন বলেন, তুমি যদি একটু আমার এখানে টেলিফোন করো, আমি কে বুঝতে পারবা। আমাকে একটু সেন্ড ব্যাক করার ব্যবস্থা করো। স্ত্রীর ফোনে পরিচয় নিশ্চিত একপর্যায়ে তার দেওয়া নম্বরে বাংলাদেশে ফোন করার চেষ্টা করা হয়। তার স্ত্রী তখন বাইরে থাকায় প্রথমে ফোনটি ধরতে পারেননি। পরে বিদেশি নম্বর দেখে তিনি কলব্যাক করেন। সালাহউদ্দিন বলেন, ফোনে নিজের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্ত্রী চিৎকার করে বলেন, আমি জান্নাত পেয়ে গেছি। ওই মুহূর্তটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন পরে তাকে শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে তার মানসিক সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে জানান তিনি। পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যেও কোনো একটি ভারতীয় টেলিভিশন ক্যামেরা দূর থেকে তাকে ধারণ করে। সেখানে মাত্র এক সেকেন্ডের জন্য তিনি বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন।’ পরে ওই ভিডিও বাংলাদেশে প্রচারিত হয়। এরপর তাকে ভারতে গ্রেফতার দেখিয়ে ফরেনার্স অ্যাক্টের মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর আদালতে আইনি লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি হয়। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরতে পারার পেছনে বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবদান রয়েছে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা দীর্ঘ ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন, বাংলাদেশটাকে মুক্ত করেছেন। গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছেন। টিটি/জেএইচ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সোহেল রানার ৪০ বছরের পুরোনো ইচ্ছা পূরণ করলেন রুবেল
সোহেল রানার ৪০ বছরের পুরোনো ইচ্ছা পূরণ করলেন রুবেল

চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও চিত্রনায়ক রুবেল দুই ভাই। বড় ভাইয়ের প্রতি ছোট ভাইয়ের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে এসেছে। এবার প্রায় চার দশক আগের একটি ইচ্ছার কথা মনে রেখে সোহেল রানাকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন রুবেল। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়েছেন বর্ষীয়ান এই অভিনেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রায় ৪০ বছর আগের সেই স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য একসময় তাকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তার সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুল ইসলাম খোকন ও ছোট ভাই রুবেল। সোহেল রানা লেখেন, প্রায় ৪০ বছর আগে চিকিৎসার জন্য তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানান। এরপর হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে ওঠেন তিনি। বিকেলে বেরিয়ে পড়েন ঘুরতে। সেই সময় দামি ঘড়ির প্রতি নিজের আগ্রহের কথাও জানান অভিনেতা। তার হাতে তখন রাডোর একটি ঘড়ি ছিল। সেটি বেশ টেকসই হলেও নতুন একটি দামি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল তার। আরও পড়ুন ইউটিউবে কাজী মারুফের ‘গ্রিন কার্ড’ দেখে কাঁদছেন দর্শক, কেন? সোহেল রানা লেখেন, ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো হাতে ছিল, যার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম। সঙ্গে রুবেল এবং খোকন।’ একটি বড় শোরুমে গিয়ে সবচেয়ে দামি ঘড়িগুলোর একটি দেখতে পান সোহেল রানা। ঘড়িটি তার পছন্দ হয়ে যায়। কিন্তু দাম শুনে চমকে যান তিনি। তখন সেই ঘড়ি কেনার মতো অর্থ তার কাছে ছিল না। ফলে পছন্দের ঘড়িটি না কিনেই ফিরে আসতে হয় তাকে। তবে প্রায় চার দশক আগের সেই মুহূর্তটি ছোট ভাই রুবেলের মনে গেঁথে ছিল। এত বছর পর বড় ভাইয়ের সেই ইচ্ছার কথা মনে রেখেই তাকে উপহার দিয়েছেন একটি দামি ঘড়ি। সোহেল রানা জানান, কয়েকদিন আগে তার বাসায় এসে রুবেল তার হাত টেনে নিয়ে একটি ঘড়ি পরিয়ে দেন। এরপর বলেন, যে ঘড়িটির দিকে বড় ভাই প্রায় ৪০ বছর আগে তাকিয়েছিলেন, সেটির দাম এখন এক থেকে দেড় কোটি টাকার মতো। সেই ঘড়িটি কেনা এখন তার নাগালের বাইরে। তবে বড় ভাইয়ের জন্য যে ঘড়িটি তিনি উপহার দিয়েছেন, সেটিও অত্যন্ত দামি। ঘটনাটি স্মরণ করে সোহেল রানা লেখেন, ‘গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল। বলল, যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলব না।’ ছোট ভাইয়ের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত সোহেল রানা আরও লেখেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো।’ রুবেল ঘড়িটি পরিয়ে দিয়ে সেটি সব সময় পরে থাকার কথাও বলেছেন বলে জানান সোহেল রানা। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত। আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’ আরও পড়ুন দেখা না করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত, যেভাবে চঞ্চলের বিয়ে হয়েছিল প্রায় চার দশক আগে করা একটি ছোট্ট ইচ্ছা যে এত বছর পরও ছোট ভাইয়ের মনে ছিল, সেটিই সবচেয়ে বেশি আবেগাপ্লুত করেছে সোহেল রানাকে। তাই রুবেলের দেওয়া এই ঘড়ি তার কাছে শুধু দামি একটি উপহার নয়; বরং দুই ভাইয়ের ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের এক বিশেষ স্মারক হয়ে থাকবে। এমএমএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
প্রাণ গ্রুপে জনবল নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ
প্রাণ গ্রুপে জনবল নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি ইনচার্জ (এডিআইসি)’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ অথবা সমমান ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে প্রাণ গ্রুপের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রাণ গ্রুপ পদের নাম অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি ইনচার্জ (এডিআইসি) পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ অথবা সমমান অভিজ্ঞতা ৩ বছর। তবে ফ্রেশার প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ২২-৩২ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ২৯ আগস্ট ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: যে কোনো জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন প্রাণ গ্রুপ। আরও পড়ুনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদনপুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ১১২ টাকা১১৩ জনকে নিয়োগ দেবে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ২৫০ জন সহকারী জজ নিয়োগ দেবে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন এমআইএইচ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
পর্যটকদের নির্মল আনন্দ দিতে নতুন রূপে সাজবে পতেঙ্গা সৈকত
পর্যটকদের নির্মল আনন্দ দিতে নতুন রূপে সাজবে পতেঙ্গা সৈকত

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে আধুনিক ডাস্টবিন ও ওয়াশ ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৈকতের সাজসজ্জায়ও পরিবর্তন আনা হবে।  শনিবার (২৯ আগস্ট) পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির শুরুতে সৈকতে র‍্যালি বের করা হয়। পরে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় নাগরিকরা সৈকতের ওয়াকওয়ে ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করেন। এসময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লিন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সৈকতের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। দোকানগুলোর বর্জ্য কোথায় ফেলা হয়, তা জানতে চান তিনি। নির্ধারিত ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি পর্যটকদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলতে সচেতন করার জন্য দোকান মালিকদের নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে সৈকতের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের মান নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পতেঙ্গা সৈকতকে আধুনিক ও মনোরমভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানকার সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হবে। আধুনিক ডাস্টবিন ও প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হবে। আমরা এর একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান চাই। সৈকতের দোকানগুলোর মান নিয়েও কঠোর হওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, খাবারের মান, স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেই দোকান পরিচালনা করতে হবে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের নোটিশ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈকতে প্রয়োজনের তুলনায় দোকানের সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, এত বেশি দোকানের প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। যারা নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে চলতে পারবে, তাদের দোকান থাকবে। যারা পারবে না, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত মান অনুযায়ী খাবার পরিবেশন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা বজায় না রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পতেঙ্গা সৈকতের নিরাপত্তা বাড়াতে আনসার সদস্য নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। প্রয়োজনে সদস্য সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। তবে নিরাপত্তাকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে অনেক পর্যটক সাগরে নেমে পড়েন উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তরুণদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা এখানে আসুন, আনন্দ করুন এবং নির্মল প্রকৃতি উপভোগ করুন। কিন্তু আপনার জীবন আপনার কাছেই সবচেয়ে মূল্যবান। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা মেনে চলুন। সৈকতের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনো অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু সরকারি কোনো একটি সংস্থার পক্ষে সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, এটি শুধু আমার বা আপনার দায়িত্ব নয়। সবাই দায়িত্ব পালন করলে সৈকতের পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব। আমরা কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতের পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ গড়ার লক্ষ্যে গত ২৫ জুলাই জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। সরকারি দপ্তরের ছাদ ও প্রাঙ্গণ পরিষ্কারের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পুকুর ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধ এবং পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমআরএএইচ/এমকেআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় মারা সেই সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় মারা সেই সাবেক ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার

মাগুরায় মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারার ঘটনায় নাঈমুজ্জামান নয়ন নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মাগুরা সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার নয়ন ভায়না মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্য মো. ইমরান হোসেনের সঙ্গে নাঈমুজ্জামান নয়নের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন প্রকাশ্যে ইমরান হোসেনকে থাপ্পড় দেন। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন উপস্থিত কেউ একজন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ঘটনার পর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ দলটির কয়েকজন নেতা নাঈমুজ্জামান নয়নকে নিয়ে সদর থানায় যান। সেখানে ভুল বোঝাবুঝির কথা উল্লেখ করে নয়ন পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনের কাছে ক্ষমা চান। পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে মীমাংসার পরও ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, থানার পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। মো.মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেএইচকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মৃত্যুর সময় ঋণের পাহাড়, এখন কোটি কোটি ডলারের মালিক মাইকেল জ্যাকসন!
মৃত্যুর সময় ঋণের পাহাড়, এখন কোটি কোটি ডলারের মালিক মাইকেল জ্যাকসন!

১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে জন্ম নেয় এক শিশু। নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন। কয়েক দশক পর সেই শিশুই হয়ে ওঠেন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংগীতশিল্পী। গান, নাচ, পোশাক, মিউজিক ভিডিও-সবকিছুতেই নতুন ধারা তৈরি করে তিনি পরিচিতি পান ‘কিং অব পপ’ হিসেবে। ২০০৯ সালের ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে মারা যান মাইকেল জ্যাকসন। মৃত্যুর সময় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্ক ও আইনি জটিলতা ছিল। এর সঙ্গে ছিল বিপুল ঋণের বোঝা। কিন্তু মাইকেলের গল্প সেখানেই শেষ হয়নি। বরং মৃত্যুর পর যেন শুরু হয় তার আরেক অধ্যায়। মৃত্যুর পর গত ১৭ বছরে তার গান, সংগীতের স্বত্ব, সিনেমা, মঞ্চ প্রযোজনা, লাইভ শো ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে আয় করেছে তার এস্টেট। সেই আয় তাকে মৃত তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে সফলদের একজন করে তুলেছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে মাইকেলের মৃত্যুর পর থেকে তার এস্টেটের আয় ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। ২০২৫ সালের ফোর্বসের মৃত তারকাদের আয়ের তালিকায়ও শীর্ষে ছিলেন তিনি। ওই এক বছরে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকার সমান। অর্থাৎ মৃত্যুর ১৭ বছর পরও মাইকেলের নাম থেকে বছরে হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি আয় আসছে। তার গান ও সংগীতের স্বত্বের পাশাপাশি সিনেমা, মঞ্চনাট্য, লাইভ শো ও লাইসেন্সিং থেকেও আসছে বিপুল অর্থ। আজকের এই বিপুল আয়ের সঙ্গে মাইকেলের মৃত্যুকালের আর্থিক অবস্থার ছিল বড় পার্থক্য। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় তার ওপর প্রায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ ছিল। তবে তার হাতে ছিল অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, সংগীতের স্বত্ব এবং নানা ব্যবসায়িক সম্ভাবনা। নগদ অর্থের সংকট থাকলেও এসব সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে বিপুল অর্থ আয় করা সম্ভব ছিল। মাইকেলের মৃত্যুর পর তার এস্টেটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ঠিক সেই কাজটিই করেন। তার রেখে যাওয়া সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় মাইকেল জ্যাকসনের ‘দ্বিতীয় ক্যারিয়ার’। মৃত্যুর আগে ‘দিস ইজ ইট’ নামে কনসার্ট সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাইকেল। কিন্তু তার আকস্মিক মৃত্যুর কারণে সেই কনসার্ট আর অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে তার মহড়া ও পর্দার পেছনের দৃশ্য নিয়ে তৈরি করা হয় চলচ্চিত্র ‘মাইকেল জ্যাকসনস দিস ইজ ইট’। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বক্স অফিসে আয় করে ২৬ কোটির বেশি ডলার। পরবর্তী সময়ে এর সংগীত, ডিভিডি ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি থেকেও আয় হয়। মাইকেলের মৃত্যুর পর তার অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই সিনেমা ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। ভক্তদের কাছে এটি ছিল প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ। ব্যবসার দিক থেকে এটি প্রমাণ করে, মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পরও তার নামের মূল্য এতটুকু কমেনি। আরও পড়ুন দ্বিতীয় সন্তান নেবেন অভিষেক-ঐশ্বরিয়া? যে কথায় লজ্জায় লাল অভিষেক মাইকেলের ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি হলো সংগীতের স্বত্ব কেনা। ১৯৮৫ সালে প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে এটিভি নামের একটি সংগীত ক্যাটালগ কিনেছিলেন তিনি। এই ক্যাটালগে প্রায় চার হাজার গানের স্বত্ব ছিল। এর মধ্যে জন লেনন ও পল ম্যাককার্টনির লেখা বিটলসের বেশ কিছু জনপ্রিয় গানও ছিল। সেসময় এই বিনিয়োগ নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও পরবর্তী সময়ে এটি সংগীত ব্যবসার ইতিহাসের অন্যতম সফল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়। পরে সনির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ক্যাটালগের মূল্য আরও বাড়ে। ২০১৬ সালে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট নিজেদের অংশ সনির কাছে প্রায় ৭৫ কোটি ডলারে বিক্রি করে। অর্থাৎ কয়েক কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ পরবর্তী সময়ে শত শত কোটি ডলারের সম্পদে পরিণত হয়। আরও পড়ুন দুর্যোগের মধ্যেই নেপাল ছাড়লেন অভিনেতা মাইকেলের সংগীতের মূল্য মৃত্যুর পর কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। ২০২৪ সালে তার এস্টেট নিজস্ব সংগীত, মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনা অধিকার-সংক্রান্ত সম্পদের ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব সনির কাছে প্রায় ৬০ কোটি ডলারে বিক্রি করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চুক্তির ফলে মাইকেলের সংগীতসম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। চুক্তিটি নিয়ে অবশ্য পারিবারিক বিরোধও তৈরি হয়েছিল। মাইকেলের মা ক্যাথরিন জ্যাকসন এর বিরোধিতা করেছিলেন। পরে আদালত এস্টেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এই চুক্তি আরও একবার প্রমাণ করে, মৃত্যুর দেড় দশক পরও মাইকেল জ্যাকসনের সংগীতের স্বত্ব বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান বিনোদন সম্পদ। মাইকেলের আয় শুধু গান ও অ্যালবামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার জীবন ও সংগীতকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে মঞ্চনাট্য ও স্থায়ী শো। ‘এমজে: দ্য মিউজিক্যাল’ মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীত নিয়ে তৈরি সফল মঞ্চ প্রযোজনা। ২০২২ সালে শুরু হওয়ার পর এটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এর প্রযোজনা হয়েছে। অন্যদিকে লাস ভেগাসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ‘মাইকেল জ্যাকসন ওয়ান’। সার্ক দু সোলেইলের এই শোতে মাইকেলের গান, নাচ ও মঞ্চনির্ভর দৃশ্যভাষাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়। শোটি এরই মধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি প্রদর্শনী করেছে এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মাইকেল জ্যাকসনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার গান। ‘থ্রিলার’, ‘বিলি জিন’, ‘ব্যাড’, ‘ম্যান ইন দ্য মিরর’-এর মতো গান এখনো বিশ্বজুড়ে সমান জনপ্রিয়। ডিজিটাল যুগে পুরোনো গান থেকেও নতুন করে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে একটি গান যত বেশি শোনা হয়, তত বেশি রয়্যালটি আসে। ফলে কয়েক দশক আগে প্রকাশিত মাইকেলের গান থেকেও প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন আয়। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা তার গান শুনছে, পুরোনো ভক্তরা আবার ফিরে যাচ্ছেন প্রিয় গানের কাছে। ফলে সময়ের সঙ্গে মাইকেলের সংগীতের বাণিজ্যিক মূল্যও টিকে আছে। মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখছে তার জীবন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। ২০২৬ সালে মুক্তি পেয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই জীবনীভিত্তিক সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অঁতোয়ান ফুকুয়া। মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। একটি জীবনীভিত্তিক সিনেমার প্রভাব শুধু বক্স অফিসে সীমাবদ্ধ থাকে না। সিনেমা মুক্তির পর শিল্পীর গান শোনা, অ্যালবাম কেনা, মঞ্চনাট্য দেখা ও বিভিন্ন পণ্য কেনার প্রবণতাও বাড়তে পারে। ফলে মাইকেল জ্যাকসনের ব্র্যান্ডমূল্যও নতুন করে বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পরও বিপুল আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তার সংগীতের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা। তার গান একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আটকে নেই। কয়েক দশক পরও নতুন শ্রোতারা তা আবিষ্কার করছেন। এর পাশাপাশি মাইকেল ছিলেন শুধু একজন গায়ক নন। তার নাচ, পোশাক, মিউজিক ভিডিও ও মঞ্চ পরিবেশনা তাকে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত করেছে। জীবদ্দশায় করা সংগীতসম্পর্কিত বিনিয়োগগুলোও তার মৃত্যুর পর বিশাল সম্পদে পরিণত হয়েছে। তার এস্টেট সেই সম্পদকে সিনেমা, মঞ্চনাট্য, লাইভ শো, লাইসেন্সিং ও অন্যান্য ব্যবসায় ছড়িয়ে দিয়েছে। আর আছে ভক্তদের আবেগ। কয়েক প্রজন্মের মানুষের স্মৃতি ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসনের নাম জড়িয়ে আছে। সেই আবেগই তার মৃত্যুর এত বছর পরও তাকে বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী করে রেখেছে। মাইকেল জ্যাকসন । ছবি: সংগৃহীত মাইকেল জ্যাকসন নেই ১৭ বছর ধরে। কিন্তু তার গান থামেনি, তাকে নিয়ে আলোচনা থামেনি। নতুন প্রজন্ম এখনো তার গান শুনছে, নাচ অনুকরণ করছে, তার জীবন নিয়ে সিনেমা দেখছে। মৃত্যুর সময় যার ওপর ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ, মৃত্যুর পর সেই শিল্পীর এস্টেট আয় করেছে ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি। শুধু ২০২৫ সালেই এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তাই মাইকেল জ্যাকসনের গল্প শুধু একজন সংগীতশিল্পীর সাফল্যের গল্প নয়। এটি এমন এক শিল্পীর গল্প, যিনি মৃত্যুর পরও তার গান, সৃষ্টিশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রভাবকে বিশাল এক অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যে পরিণত করে গেছেন। সত্যিই, ‘কিং অব পপ’র রাজত্ব থামেনি-বরং মৃত্যুর পরও তা নতুন নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিস্তৃত হচ্ছে। এমএমএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: ভূমিমন্ত্রী
বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: ভূমিমন্ত্রী

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত ও উৎপাদনমুখী শিক্ষা অর্জন করে বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীর সমপর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর রাখা এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষা ও শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, জাতিকে সব দিক থেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার মাধ্যমেই দেশের আগামী দিনের অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। এ কারণেই শিক্ষাক্ষেত্রকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আরও পড়ুন বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে বিরোধ / বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতের দায়ে প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে উপযুক্ত স্থান অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য। নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের অনেক মেধাবী সাবেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা কর্মদক্ষতার মাধ্যমে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সবসময় হৃদয়ে ধারণ করছেন। নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের সবার প্রিয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা অনেকটা নিজের মায়ের মতো। এই প্রতিষ্ঠান বহু কৃতী সন্তান তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতেও এখান থেকে আরও অনেক গুণী ও বড় মানুষ বেরিয়ে আসবে। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক এবং যেসব সাবেক শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন। মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দের। আগামী দিনে নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমও সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কলেজের অডিটোরিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, অডিটোরিয়ামটি বর্তমানে অনেকটা জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। একজন ভাই হিসেবে আমার চেষ্টা থাকবে খুব দ্রুত এটিকে সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া এবং আরও সুন্দর ও আধুনিক করে গড়ে তোলা। নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর হাবিবুর রহমান, নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম জার্জিস কাদিরসহ অনেকেই। মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
পাঁচ মৌসুম পর ঢাকা স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল, হোম হিসেবে চায় মোহামেডান
পাঁচ মৌসুম পর ঢাকা স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল, হোম হিসেবে চায় মোহামেডান

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল ফিরতে যাচ্ছে টানা পাঁচ মৌসুম পর। ২০২১ মৌসুমে ২০ সেপ্টেম্বর আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের ১-১ গোলের ম্যাচটিই বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বশেষ ম্যাচ এই স্টেডিয়ামে। এরপর ২০২২, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলের কোনো বল গড়ায়নি দেশের প্রধান এই ক্রীড়া ভেন্যুতে। লম্বা সময় ধরে সংস্কার চলেছে এই স্টেডিয়ামে। সংস্কার শেষে শুধু আন্তর্জাতিক ফুটবলই এখানে আয়োজন করেছে বাফুফে। রাজধানীর বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা এবং ঘুরে ফিরে ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলা শহরে হয়েছে ঘরোয়া ফুটবলের খেলা। গত বছর ৪ জুন ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে এই স্টেডিয়ামে ফুটবল গড়িয়েছিল সংস্কার শেষে আধুনিক স্টেডিয়ামে। মোহামেডান ও আবাহনী অনেক দিন ধরেই নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল কুমিল্লার ভাষা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামকে। এবার দুটি ক্লাবই হোম হিসেবে পেতে চাচ্ছে ঢাকা স্টেডিয়ামকে। পেশাদার লিগ শুরুর পর এই দুই জনপ্রিয় ক্লাবসহ আরো কয়েকটি দল এই স্টেডিয়ামকেই হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বাফুফে এবার ঢাকা স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জের পাশাপাশি ঢাকা স্টেডিয়ামে ফেডারেশনের কাপের খেলা হবে বলে ঘোষণা করেছে। বাফুফে চাইছে গত বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শীর্ষ ৬ দলের পরস্পরের বিপক্ষে ম্যাচগুলো ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রাধান্য পাবে। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব অবশ্য এই প্যাচগোচ মানতে নারাজ। তাদের কথা মোহামেডান হোম ভেন্যু হিসেবে ঢাকা স্টেডিয়ামই চায়। ক্লাবটির পরিচালক (ক্রীড়া) মোস্তাকুর রহমান বলছিলেন, ‘বাফুফে ২০ আগস্ট ক্লাবগুলোকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে এবার ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামেও ঘরোয়া ফুটবল হবে। তাই আমরা মৌখিকভাবে বলেছি এই স্টেডিয়াম আমাদের হোম ভেন্যু হিসেবে দিতে হবে এবং আমরা দ্রুতই বাফুফেকে চিঠি দিয়ে আমাদের দাবি জানাবো। ফেডারেশন কাপের কয়টা ম্যাচ এখানে কিভাবে আয়োজন করবে সেটা বাফুফের বিষয়। আমরা লিগে জন্য ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামকে হোম ভেন্যু হিসেবে চাই।’ আরআই/আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুমের কাহিনী সাজানোর চেষ্টা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো হয়েছে,তবে তদন্তে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মিরাজ শেখকে ঘিরে মোংলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে বিভিন্ন জলদস্যু গ্রুপের পারস্পরিক বিরোধের ফল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘মায়ের ডাক’ কর্তৃক আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরাজ শেখের লোকজন নদীর তীরে একটি পন্টুন স্থাপন করেছিল। ওই পন্টুন ব্যবহার করে জলদস্যুদের জন্য সমুদ্র থেকে রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। কোস্ট গার্ড পন্টুনটি সরিয়ে দেওয়ার পর এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। তিনি বলেন, ওই ঘটনার জেরে একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কম্পিউটার ভাঙচুর এবং কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পন্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাশাপাশি মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ড নিয়ে গেছে এমন অভিযোগও সামনে আনা হয়। তবে বিষয়টি জলদস্যুদের পরস্পরবিরোধী গ্রুপগুলোর সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। মিরাজ শেখ ও তার পরিবারের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মিরাজ শেখ ও তার বাবার রেকর্ডও একই ধরনের ছিল। তার বিরোধী গ্রুপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের তথ্য রয়েছে। তবে এসবের পরও ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য একটি বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করানো হলেও সেখান থেকে কোনো ফাইন্ডিংস পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে তো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে না। মিরাজ শেখের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কেউ গুমের কাহিনী তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের অবস্থানকে স্বচ্ছ দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, \'উই আর ট্রান্সপারেন্ট\'। এরপরও কেউ স্বাধীন তদন্ত চাইলে সরকার তাতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা কোনো স্বাধীন তদন্ত করতে চান, উই আর রেডি। আমরা স্বাধীন তদন্ত করবো। টিটি/জেএইচ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বিধ্বংসী ব্যাটিংই নয় শুধু, বোলিংয়ে উইকেটও নিতে জানে সূর্যবংশী
বিধ্বংসী ব্যাটিংই নয় শুধু, বোলিংয়ে উইকেটও নিতে জানে সূর্যবংশী

মোহাম্মদ শামি, শাহবাজ আহমেদ, অনুকূল রায়, মুকেশ কুমারদের মতো বোলার থাকলেও ঈশান কিশান আস্থা রেখেছিলেন বৈভব সূর্যবংশীর উপর। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংসে তিন ওভার বল করে ১১ রানে ২ উইকেট নেয় বৈভব। বৈভব সূর্যবংশীকে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য চেনেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেই বৈভবই সফল বল হাতে। দিলীপ ট্রফির ম্যাচে ১৫ বছরের ক্রিকেটারের হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক ঈশান কিশান। দলকে হতাশ করেনি বৈভব। বল করার অভিজ্ঞতা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) জানিয়েছে বৈভব। বোলিং নিয়ে বৈভব বলেছে, ‘বল করতে বেশ ভালই লেগেছে। বোলারদের ব্যাট করতে যেমন ভাল লাগে, তেমনই ব্যাটারদেরও বল করতে ভাল লাগে। যে কোনও ব্যাটারই এ কথা বলবেন।’ কেন বল করলে হঠাৎ? বৈভব বলেছে, ‘প্রতিপক্ষ দলের উইকেট ফেলতে পারছিলাম না আমরা। তখন ঈশান ভাই বলেন, দু’তিন ওভার বল করবি? মনে হয়, ঈশান ভাই একটু ঝুঁকি নিয়েই কথাটা বলেছিলেন; কিন্তু উনি জানতেন না, আমি উইকেটও নিতে পারি।’ বল করার সময় কী ভাবনা ছিল? বৈভব হাসতে হাসতে বলেছে, ‘একটা ব্যাপারে পরিষ্কার ছিলাম। ৫ উইকেট নিলেও আমাকে তিন ওভারই করতে দেওয়া হবে। তার মধ্যেই যতটা সম্ভব ভাল করতে হবে। তাই প্রতিটা বল এক জায়গায় রাখার চেষ্টা করেছি। দ্রুত স্পেল শেষ করতে চেয়েছিলাম।’ বল হাতে সফল হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে রান পায়নি বৈভব। তা নিয়ে বলেছে, ‘শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারিনি। তবে বল হাতে দলকে সাহায্য করতে পেরেছি। সেটাই ভাল লাগছে। আর কোনও ব্যাটার যখন উইকেট পায়, তখন একটু বেশিই আনন্দ হয়। শেষ ম্যাচে আমার তেমনই আনন্দ হয়েছে।’ দলে মহম্মদ শামি, শাহবাজ আহমেদ, অনুকূল রায়, মুকেশ কুমারদের মতো বোলার থাকলেও ঈশান আস্থা রেখেছিলেন বৈভবের উপর। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংসে বৈভবকে দিয়ে তিন ওভার বল করান। ১১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বিহারের ১৫ বছরের ক্রিকেটার। আউট করে প্রতিপক্ষের হয়ে চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা কিশান লিংডো এবং আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা ইমলিওয়াতি লেমতুরকে। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বন্যায় ভেসে যায় ব্যাংকের লকার, এরপরই শুরু লুটপাট
বন্যায় ভেসে যায় ব্যাংকের লকার, এরপরই শুরু লুটপাট

নেপালে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে পানিতে ভেসে যাওয়া একটি ব্যাংকের লকার ঘিরে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। বন্যার স্রোতে লকারটি বহু দূরে ভেসে যাওয়ার পর সেটি ভেঙে ভেতরের অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, রাসুয়া জেলার ভোতেকোশি এলাকায় বন্যার পানিতে লকারটি ভেসে যায়। পরে ধাদিং জেলার গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলার কাছে ত্রিশূলী নদীর তীরে সেটি পাওয়া যায়। ধাদিং পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন লকারটি ভেঙে ভেতরের অর্থ নিয়ে গেছে—এমন খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এরপর তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে ২৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই গালছি-৪-এর মাস্টার এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কয়েকজন গালছি-৬-এর আদমঘাট এবং সিদ্ধলেক-৭-এর আদমতার এলাকার বাসিন্দা। অন্য কয়েকজনের বাড়ি চিতওয়ান ও পারসায় হলেও তারা বর্তমানে ধাদিংয়ে বসবাস করছেন। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। উদ্ধার করা টাকার প্রকৃত উৎস ও মালিকানা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। বন্যার মরদেহ থেকেও স্বর্ণালংকার চুরি এদিকে নেপালে বন্যার মধ্যে আরেকটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণী নদীতে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণের কানের দুল চুরির অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণের কানের দুল খুলে নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বন্যায় মৃত্যু ৬২৬, নিখোঁজ ২ হাজার ৪২৬ এর মধ্যে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছে, বন্যায় নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। শুক্রবার রাতে নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯২৪ জন। নতুন হিসাবে নিখোঁজ নেপালির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫১৭ জনেই অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যার তিন দিন পরও দেশের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। ফলে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি এমএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ, সম্পাদক মাঈন
মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সাঈদ, সম্পাদক মাঈন

মিরসরাই প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে আবু সাঈদ ভূঁইয়া সভাপতি, জাগো নিউজের মিরসরাই প্রতিনিধি এম মাঈন উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার মহামায়ার একটি রেস্টুরেন্টে প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও প্রীতি সম্মিলনে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি পদে আবু সাঈদ ভূঁইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনায়েত হোসেন মিঠুর সভাপতিত্বে সাধারণ সভার প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক এম মাঈন উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন নিজ নিজ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিসহ সংগঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দল-মত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করতে হবে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাই কোনো পক্ষের প্রতি পক্ষপাত না করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে হবে। নুরুল আমিন আরও বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। জাতির যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে লেখনির মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ ও সমাজের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্লিফটন গ্রুপের সিইও এমডি মহিউদ্দিন চৌধুরী, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন ও সাংবাদিক দেব দুলাল ভৌমিক। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এম মাঈন উদ্দিন/কেএইচকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড তুলে নিয়েছে, তদন্তে স্বাধীন সংস্থা চান নূর খান
মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড তুলে নিয়েছে, তদন্তে স্বাধীন সংস্থা চান নূর খান

বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখকে (৩০) কোস্টগার্ডের সদস্যরা তুলে নিয়ে থাকতে পারেন বলে দাবি করেছেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবর্তে স্বাধীন কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা ও জেলে মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নূর খান লিটন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও কিছু ডিজিটাল প্রমাণ থেকে মিরাজকে কারা নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে পথনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। এপ্রিলের ১০ তারিখে মিরাজ শেখকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষী এবং কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স সবকিছু মিলিয়ে স্পষ্ট কিছু পথনির্দেশনা দেয় যে কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, কোস্টগার্ডের কতিপয় সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, পুরো বাহিনীর ওপর তো তদন্ত আমরা দাবি করছি না। আরও পড়ুন তুলে নেওয়ার অভিযোগ, চার মাসেও সন্ধান নেই বাগেরহাটের মিরাজের মিরাজ শেখের পরিবারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নূর খান লিটন বলেন, কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাছেও কোস্টগার্ডের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ জিডির তদন্ত করছে। আর কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে হচ্ছে পরিবারের অভিযোগ এবং আমরা যারা ওখানে গিয়েছি, আমাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহ করার কারণ আছে যে কোস্টগার্ডই তাকে তুলে নিয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নূর খান লিটন বলেন, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে একই বাহিনী বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করা কঠিন। তাই তদন্তের দায়িত্ব স্বাধীন কোনো সত্তার কাছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশনের অধীনে পুলিশের কর্মকর্তাদের দিয়ে তদন্ত করানো যেতে পারে। সেটিও সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মতো একটি ব্যবস্থা অথবা পৃথক স্বাধীন তদন্তকারী সত্তা গড়ে তোলা প্রয়োজন। নূর খান লিটন আরও অভিযোগ করেন, মিরাজ শেখের সন্ধান চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার দাবি, এর ফলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ভয়ে কথা বলতে চাইছেন না। তিনি বলেন, প্রশ্ন তোলার কারণে সরকার বিব্রত হচ্ছে, নাকি ঘটনার কারণে বিব্রত হচ্ছে সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন। মিরাজ শেখকে যদি কোনো অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে হাজির করা হোক। আরও পড়ুন নিখোঁজ মিরাজ শেখকে ১৫ দিনের মধ্যে হাজির করতে হাইকোর্টের নির্দেশ মিরাজ শেখকে উদ্ধারের পাশাপাশি তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান নূর খান লিটন।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  মিরাজ শেখ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। গত ১০ এপ্রিল কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। সাড়ে চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। টিটি/এমকেআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টা মোকাবিলা করবে বিএনপি
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টা মোকাবিলা করবে বিএনপি

পরাজিত ও পলাতক শক্তি পরস্পর যোগসাজশ করে নানা ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যে কোনো ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবন চত্বরে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল বলেন, বিএনপি কোনো অপশক্তির ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করবে না। দেশের সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পরাজিত ও পলাতক অপশক্তির যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে বিএনপি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠনের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সময় ও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। মহানগর বিএনপির প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানা থেকে নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুনসহ যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে র‍্যালি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও তিতিক্ষার পর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। দেশের মানুষ বিএনপির ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, ঐক্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এমআরএএইচ/ইএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছুটি নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরীর, কোথাও ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি!
ছুটি নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরীর, কোথাও ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি!

  বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত নৈশপ্রহরীদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সর্বজনীন বদলিপ্রত্যাশী এমপিওভুক্ত শিক্ষক ফোরাম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী- নৈশপ্রহরীদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে শিক্ষকদের বদলি চালু করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরীরা অমানবিক জীবনযাপন করছেন। শিক্ষকদের ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত নৈশপ্রহরীদের ছুটির কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। ‘বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরীদের রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নৈশপ্রহরীদের ডিউটি সংশ্লিষ্ট একটি নীতিমালা করতে হবে। নৈশপ্রহরীদের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি না করিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনের কর্মঘণ্টা অনুযায়ী ডিউটি করাতে হবে।’ তারা জানান, কর্মচারীদের নিয়োগও এখনো কমিটির হাতে রয়েছে। কমিটির হাতে নিয়োগ মানেই বাণিজ্য। এ নিয়োগ বাণিজ্য রুখে দিতে কর্মচারীদের নিয়োগ অবশ্যই কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বহু কর্মচারী পরিবার-পরিজন ছেড়ে অনেক দূরে চাকরি করেন। তাদেরও শিক্ষকদের মতো নিজেদের এলাকায় বদলির সুযোগ দিতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাইনুদ্দিন, জহিরুল ইসলাম, মো. মিজানুর রহমান, শামীম আহমেদ, রবিউল ইসলাম, তোফায়েল সরকার, শিশির কুমার নন্দী, সোলেমান হোসেন, দীপক কুমার রায়, আব্দুর রহমান বাহার, রবিউল ইসলাম, সোহেলী দাস, সাবরিনা সিদ্দিকা, আবুল কালাম, দিদার হোসেন প্রমুখ। এএএইচ/জেএইচ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
ভারত-আফগান সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব পাকিস্তানী সংস্থাকে দেয়ায় বিতর্ক
ভারত-আফগান সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব পাকিস্তানী সংস্থাকে দেয়ায় বিতর্ক

সেপ্টেম্বরে ভারতের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান। ভারতের মাটিতে সিরিজ হলেও আয়োজক দেশ আফগানিস্তান। ফলে এই সিরিজের সব দায়িত্ব তাদের। টি-টোয়েন্টি সিরিজের সম্প্রচারের স্বত্ব পাকিস্তানের একটি সংস্থাকে দিয়েছে তারা। এতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, সিরিজের বাণিজ্যিক ও টেলিভিশন প্রোডাকশনের স্বত্ব দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের সংস্থা ‘ট্রান্সগ্রুপ’-কে। এই সংস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও পাকিস্তান সুপার লিগের সব ম্যাচের সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘আফগান বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্ত ট্রান্সগ্রুপকে এই সিরিজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিরিজের মিডিয়া প্রোডাকশন পার্টনার টিপিটি৩৬০। ভারতে এই সিরিজ দেখানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্যানকোডকে।’ কিন্তু পাকিস্তানের সংস্থা সম্প্রচারের দায়িত্ব পেলে কিভাবে ভারতে এই সিরিজ সম্প্রচার হবে? তবে কি ভারতীয় টিভিতে এই সিরিজ দেখা যাবে না? যাবে। সনি স্পোর্টসে দেখানো হবে সিরিজটি। মূল স্বত্ব ট্রান্সগ্রুপের কাছে থাকলেও তাদের কাছ থেকে ঘুরপথে সিরিজের সম্প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে সনি। তবে এই ঘটনার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক ক্রিকেট বলতে গেলে বন্ধ। ভারত পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে যায় না। ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান ভারতে এলেও চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলেছে তারা। এ পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে আয়োজিত একটি সিরিজের দায়িত্ব পাকিস্তানী সংস্থাকে দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে আফগান ক্রিকেট বোর্ড। ১৩, ১৫ ও ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তান। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচ তিনটি। এর আগেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আইএইচএস/

আগস্ট ২৯, ২০২৬
১০ হাজার টাকা ভাতায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে বিআরটিসি
১০ হাজার টাকা ভাতায় ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে বিআরটিসি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। ৬ মাস মেয়াদি এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এক নজরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬পদের বিবরণ আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ আবেদনের শেষ তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আবেদন পদ্ধতি: অফলাইনে চাকরির ধরন: অস্থায়ী প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ কর্মস্থল: ঢাকা ইন্টার্নশিপের বিষয়: পরিবহন ব্যবস্থাপনা, মেরামত প্রযুক্তি, সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন পরিচালনা। আবেদনপত্র সংগ্রহের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদনের ঠিকানা: পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন), বিআরটিসি প্রধান কার্যালয়, বিআরটিসি ভবন, ২১ রাজউক এভিনিউ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। আরও পড়ুনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদনপুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ১১২ টাকা১১৩ জনকে নিয়োগ দেবে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ২৫০ জন সহকারী জজ নিয়োগ দেবে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন এমআইএইচ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
চেয়ারম্যানশূন্য পিএসসি, ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির কী হবে
চেয়ারম্যানশূন্য পিএসসি, ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির কী হবে

চলতি বছরের নভেম্বরে ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিচ্ছিল সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। হঠাৎ কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগে তাতে ছন্দপতন ঘটেছে। ফলে আগামী নভেম্বরে যথাসময়ে ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। পিএসসি সূত্র বলছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শূন্যপদের তথ্য এখনো আসেনি। মন্ত্রণালয় শূন্যপদের তথ্য পাঠালে তারপর পিএসসি কাজ শুরু করবে। এর মধ্যে সরকার পিএসসিতে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলে নভেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে কোনো অসুবিধা হবে না। তবে যদি দ্রুত চেয়ারম্যান নিয়োগ না হয়, তাহলে কমিশন সভা হবে না। এতে বিজ্ঞপ্তির সময় পেছানোর আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় কমিশনের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিয়মিত বিসিএস আয়োজন ও শেষ করার ধারা বজায় রাখতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলমান। আরও পড়ুন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চাইলেন পিএসসি চেয়ারম্যান তিনি আরও বলেন, ‘৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির জন্য প্রথা অনুযায়ী- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ক্যাডারভিত্তিক শূন্যপদের চাহিদা পিএসসিতে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের শূন্যপদের তালিকা পাওয়ার পর পদসংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। পদ নির্ধারণ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিএসের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করবে কমিশন।’ চেয়ারম্যান না থাকায় কাজে বিলম্ব বা বিঘ্ন ঘটবে কি না এমন প্রশ্নে ওই সদস্য বলেন, ‘চেয়ারম্যান না থাকায় স্বাভাবিক গতি হারাচ্ছে পিএসসি। তবে বিজ্ঞপ্তিতে দেরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ না হলে তখন যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে প্রভাব পড়তে পারে।’ আরও পড়ুন ৫০তম বিসিএসের ভাইভার প্রার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা পিএসসির পিএসসির চেয়ারম্যান পদে নতুন নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. তৌফিক ইমাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘যিনি ছিলেন, তিনি অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। তাকে এখনো অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা নেই। পাশাপাশি পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ সরকারও ফাঁকা রাখতেও চায় না। সেক্ষেত্রে অবশ্যই এ নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখতে পাবেন।’ এএএইচ/ইএ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
জুলাই গণহত্যার বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯ দাবি জানালো ‘অল্টারনেটিভস’
জুলাই গণহত্যার বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯ দাবি জানালো ‘অল্টারনেটিভস’

দেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সার্বভৌমত্ব, শ্রম ও শিক্ষা খাতের সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অল্টারনেটিভস’। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত ‘দেশের অবস্থা’ শীর্ষক প্রেস মিটে সংগঠনটির জাতীয় সাংগঠনিক কমিটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। প্রেস মিটে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও অল্টারনেটিভসের সংগঠক মাহফুজ আলম ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের আন্দোলনের পরও প্রত্যাশিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাঠামোগতভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়নি; কেবল সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। এ অবস্থায় স্বাধীনভাবে কথা বলা, সংগঠিত হওয়া ও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়। অল্টারনেটিভসের ৯ দফা দাবি ১. সাংবিধানিক ও কাঠামোগত সংস্কার: সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ২. জুলাই গণহত্যার বিচার: জুলাই গণহত্যার বিচার, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন নিজস্ব মব না থাকলে মাইর একটাও মাটিতে পড়বে না: মাহফুজ আলম ৩. মানবাধিকার ও জবাবদিহি: মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও এসআরবি আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ৪. জ্বালানি সংকট ও সার্বভৌমত্ব: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান, কুইক রেন্টাল ও অসম বিদ্যুৎ-জ্বালানি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আমদানি ও বিদেশি কোম্পানি-নির্ভরতা কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও জ্বালানি সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ৫. স্বাস্থ্য ও ওষুধনীতি: ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ–২০২৫’ আইন হিসেবে প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সুলভ রাখা, মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়নের দাবি রয়েছে। ৬. নারী ও সাংস্কৃতিক অধিকার: নারী কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, যৌন নিপীড়ন ও শিশু নিপীড়ন প্রতিরোধ, ভিন্নমত ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত এবং ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ৭. শ্রম ও কৃষি খাত: শ্রম কমিশনের সুপারিশ ও শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, বন্ধ কলকারখানা চালু, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনঃকর্মসংস্থানের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সার সংকট সমাধান, কৃষকদের দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ এবং সরকারি পাটকল, চিনিকল ও অন্যান্য কারখানা বেসরকারি খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন বন্ধ করবে না, নতুন গণমাধ্যম অনুমোদন দেবে সরকার: মাহফুজ আলম ৮. শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের জন্য স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠন, ছাত্র ও যুবসমাজের কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় পক্ষপাতমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতে নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি ও চাকরির সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। ৯. পরিবেশ ও জলবায়ু: প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংসকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অল্টারনেটিভসের জাতীয় সাংগঠনিক কমিটি। আরটি/এমএমকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রিসোর্টের ঘটনা ছিল আমাকে হত্যার নীল নকশা: মামুনুল হক
রিসোর্টের ঘটনা ছিল আমাকে হত্যার নীল নকশা: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালে রয়েল রিসোর্টে আমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার নীল নকশা করেছিল। সেই নীল নকশায় তারা নিজেরাই ফেঁসে গেছেন। ওইদিন তৌহিদী জনতার তোপের মুখে পড়ে বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কাউকে রয়েল রিসোর্টে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়াম হল রুমে খেলাফতে মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মাওলানা ইকবাল হোসাইন স্মরণে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, তৌহিদী জনতার কণ্ঠরোধে মিথ্যা মামলার পথ বেছে নিয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। সেই মিথ্যা মামলা বর্তমান সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ২০২১ সালের রয়েল রিসোর্টের মিথ্যা মামলাসহ হেফাজতে ইসলামের সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। রয়েল রিসোর্টের ঘটনায় দায়ের করা মিথ্যা মামলায় খেলাফত মজলিসের সোনারগাঁ থানা কমিটির তৎকালীন সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইনের গ্রেফতার কারা বরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তিনি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান প্রমুখ। মো.আকাশ/কেএইচকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
পাকিস্তানকে ‘বন্ধু নয়’ বললেন হামিন আহমেদ, সামনে আনলেন ১৯৭১
পাকিস্তানকে ‘বন্ধু নয়’ বললেন হামিন আহমেদ, সামনে আনলেন ১৯৭১

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও অধিনায়ক ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসের টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সামরিক শাসন ও ইমরান খানের সঙ্গে আচরণের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হামিন আহমেদ। তিনি লেখেন, পাকিস্তানে কিছুই বদলায়নি। এখনো সামরিক শাসন চলছে এবং নিজেদের দেশের মানুষের ওপর হত্যা ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। আরও পড়ুন ইউটিউবে কাজী মারুফের ‘গ্রিন কার্ড’ দেখে কাঁদছেন দর্শক, কেন? ইমরান খানের প্রসঙ্গ টেনে হামিন বলেন, অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্বাচিত ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে বেআইনিভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে কারাগারে বন্দী করা হয়েছে। তার মতে, এর উদ্দেশ্য ইমরানকে রাজনীতি থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সমালোচনা করে হামিন আহমেদ লেখেন, সেনাপ্রধান ও তার সহযোগীদের এসব কর্মকাণ্ডের পরিণতি শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই ফিরে আসবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি একসময় বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে পারে। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হামিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাকিস্তানকে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। নিজেদের স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তান বন্ধুত্বের ভান করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে হামিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়াও এখনো বাকি। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ও আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা উচিত বলে মত দেন তিনি। হামিন আহমেদের এই মন্তব্যের সূত্রপাত লর্ডস টেস্টে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকারকে ঘিরে। ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারটি নেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বর্তমান সম্প্রচারক মাইকেল আথারটন। সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার দুই ছেলে। কারাগারে বাবার জীবন নিয়েও শঙ্কার কথা জানান তারা। প্রায় তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারটি প্রচারের প্রতিবাদে স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে পিসিবি। এমনকি সাক্ষাৎকার প্রচার নিয়ে আপত্তির জেরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চের পর পাকিস্তান দলকে মাঠে না নামানোর কথাও বিবেচনা করেছিল বোর্ডটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাঞ্চের বিরতির আগে স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকার নিয়ে আপত্তি জানায় পিসিবি। এরপর সাক্ষাৎকারটির প্রচার কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে স্কাই স্পোর্টস। সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার সময় পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা দ্বিতীয় সেশনের জন্য মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে তাদের মাঠে নামার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামে পাকিস্তান দল। আরও পড়ুন দেখা না করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত, যেভাবে চঞ্চলের বিয়ে হয়েছিল ইমরান খানকে ঘিরে পিসিবি ও স্কাই স্পোর্টসের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই হামিন আহমেদের মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের ‘বন্ধু নয়’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলায় তার বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছে। এমএমএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
স্বামীর দেওয়া সোনার নেকলেস কেন বিক্রি করে দিয়েছিলেন ফাতেমা (রা.)?
স্বামীর দেওয়া সোনার নেকলেস কেন বিক্রি করে দিয়েছিলেন ফাতেমা (রা.)?

একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের আদরের মেয়ে ফাতেমার (রা.) ঘরে ঢুকে দেখলেন, তার হাতে একটি সোনার নেকলেস। নেকলেসটি আলী (রা.) ফাতেমাকে উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ফাতেমা! তুমি কি পছন্দ কর যে, লোকেরা বলাবলি করবে, ফাতেমা রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মেয়ে, অথচ তাঁর কাছে আগুনের নেকলেস আছে! এই কথা বলে নবীজি (সা.) আর বসলেন না, বের হয়ে গেলেন। ফাতেমা (রা.) তখনই নেকলেসটি খুলে বাজারে পাঠিয়ে তা বিক্রি করালেন এবং ওই নেকলেস বিক্রির টাকা দিয়ে একজন ক্রীতদাস কিনে আজাদ করে দিলেন। পরে এ খবর শুনে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর শোকর, যিনি ফাতেমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন। (সুনানে নাসাঈ, মুনযিরি ফিত-তারগিব ওয়াত-তারহিব) নারীদের জন্য সোনার অলংকার ব্যবহারের বিধান এই হাদিসটি পড়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে তবে কি নারীদের জন্য সোনা ব্যবহার করা হারাম? উত্তর হলো, না, হারাম নয়। ইসলামি আইন বিশারদদের মতে নারীদের জন্য সোনা ও রেশম ব্যবহার করা যে সম্পূর্ণ বৈধ ও জায়েজ এ ব্যাপারে পুরো উম্মতের ইজমা’ বা ঐকমত্য রয়েছে। পবিত্র কোরআনে সুরা যুখরুফে আল্লাহ তাআলা নারীদের ব্যাপারে বলেছেন, তারা ‘অলংকারে আবৃত হয়ে লালিত পালিত হয়’। (সুরা যুখরুফ: ১৮) রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের যুগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের দ্বিমত ছাড়াই মুসলিম নারীদের সোনা পরিধান করা সর্বজনবিদিত। ইমাম নববী (রহ.) ‘আল-মাজমু’ গ্রন্থে লিখেছেন, সহিহ হাদিসসমূহের ভিত্তিতে ইজমা বা সর্বসম্মত মত হলো, নারীদের জন্য রেশম পরা, সোনা ও রুপার অলংকার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। আরও পড়ুন হজরত ফাতেমার (রা.) ইন্তেকাল যেভাবে হয়েছিল হাদিসটির ব্যাখ্যা কী? তাহলে রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন ফাতেমার (রা.) সোনার চেইন দেখে এমন কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং ফাতেমাই (রা.) বা কেন তা বিক্রি করে দিলেন? বিজ্ঞ আলেম ও মুহাদ্দিসগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: ১. হতে পারে হাদিসটি মানসুখ কিছু আলেমের মতে, ইসলামের প্রথম যুগে সোনা ব্যবহারের বিষয়ে যে কঠোরতা ছিল, এটি তখনকার ঘটনা। পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহর (সা.) বহু হাদিস দ্বারা নারীদের সোনা পরিধান জায়েজ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আগের কঠোরতা মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। ২. সোনার অলংকারের জাকাত দেওয়া জরুরি অনেক আলেমের মতে, হাদিসে বর্ণিত শাস্তির হুঁশিয়ারি এমন সোনার অলংকারের ব্যাপারে যে অলংকারের জাকাত আদায় করা হয় না। আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই নারীর হাতে সোনার বালা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি পছন্দ করো যে আল্লাহ তোমাদের জাহান্নামের আগুনের বালা পরিয়ে দিন? তাঁরা বললেন, না। নবীজি (সা.) বললেন, তবে এর জাকাত আদায় করো। (মুসনাদে আহমদ) হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, অলংকারের জাকাত দেওয়া হলে তা ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। (বায়হাকি) ৩. অহংকার ও লোকদেখানো মানসিকতা না থাকা জরুরি অনেক মুহাদ্দিস বলেছেন, সোনা পরার কারণে যার মধ্যে অহংকার, লোকদেখানো ভাব বা আত্মগরিমা প্রকাশ পায়, তার ক্ষেত্রে এই হাদিসে বর্ণিত শাস্তির হুঁশিয়ারি প্রযোজ্য হবে। ৪. নবীজি (সা.) নিজের মেয়ের জন্য অপছন্দ করেছেন হতে পারে সাধারণভাবে সোনার অলংকার পরিধান করা জায়েজ হলেও নবীজি (সা.) নিজের মেয়ের জন্য এটা অপছন্দ করেছেন। তিনি চেয়েছেন নবী পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে ফাতেমা (রা.) খোদাভীতি ও দুনিয়াবিমুখতার ক্ষেত্রে সাধারণ মুমিনদের চেয়ে উঁচু মানদণ্ড অনুসরণ করুন। রাসুলুল্লাহর (সা.) সামান্যতম অপছন্দ বা অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই ফাতেমা (রা.) স্বামীর দেওয়া প্রিয় অলংকারটি ত্যাগ করেন। সেই অর্থ দিয়ে একজন মানুষকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিনিময়ে তিনি পান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মহানবীর (সা.) মুখ নিঃসৃত পরম আশীর্বাদ। আরও পড়ুন সচ্ছলতার জন্য ফাতেমাকে (রা.) যে দোয়া পড়তে বলেছিলেন নবিজি (সা.) ওএফএফ

আগস্ট ২৯, ২০২৬
৫৭ মুসলিম দেশের জোট ওআইসি পেল নতুন নেতৃত্ব
৫৭ মুসলিম দেশের জোট ওআইসি পেল নতুন নেতৃত্ব

৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব হয়েছেন মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের ২৩তম বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ওই অধিবেশনেই তিনি হুসেইন ইব্রাহিমের স্থলাভিষিক্ত হন। পরে সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে মহাসচিব হিসেবে শপথ নেন ইসমাইল শেখ আহমেদ। দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসমাইল শেখ আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জীবনে ওআইসির মহাসচিব হওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে তিন দশকের বেশি সময় কাজ করার পর এই দায়িত্ব পাওয়া তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সদস্যদেশগুলো তার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তাতে গর্বিত জানিয়ে নতুন মহাসচিব বলেন, শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে তিনি এই আস্থার মর্যাদা রাখতে চান। ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো বক্তব্য বিশেষ অধিবেশনে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ড. ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিনও বক্তব্য দেন। সভা আয়োজনের উদ্যোগ এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সৌদি আরবের অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ফিলিস্তিনি এই মন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এখনো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ পাওয়ায় ইসরায়েল এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং এসব কর্মকাণ্ডে অর্থায়নকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। আল-আকসা নিয়ে উদ্বেগ আল-কুদস বা জেরুজালেম এবং আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারসেন আগাবেকিয়ান। তার ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড জেরুজালেমের ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা। একই সঙ্গে এগুলো অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সূত্র: ওআইসি এমআরএইস/এমএসএম

আগস্ট ২৯, ২০২৬
সুপারি গাছে উঠতে না চাওয়ায় কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
সুপারি গাছে উঠতে না চাওয়ায় কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

লক্ষ্মীপুরে সুপারি গাছে উঠতে রাজি না হওয়ায় রিয়াদ হোসেন (১২) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল হোসেন পলাতক রয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চররুহিতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াদ চররুহিতা এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক শাহেদ হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত রুবেল একই এলাকার দিনমজুর মো. মিলনের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রিয়াদকে রুবেল সুপারি গাছে উঠতে বলে। কিন্তু রিয়াদ উঠবে না বলে জানিয়ে দেয়। এতে রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াদকে ছুরিকাঘাত করে। পরে আহত অবস্থায় রিয়াদকে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনার পরপরই রুবেল পালিয়ে যায়। এতে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। চররুহিতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সুমন বলেন, সুপারি গাছে না উঠায় রিয়াদকে ছুরিকাঘাত করে রুবেল। এতে রিয়াদ মারা যায়। ঘাতক রুবেল পলাতক, তাকে আটকের জন্য আমরা খুঁজছি। সে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  কাজল কায়েস/কেএইচকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতের দায়ে প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার
বিএনপি নেতা ছুরিকাঘাতের দায়ে প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

‎জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ ওঠার পর ছুরিকাহত হন বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ (৫৫)। পরে তার করা মামলায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হারুনুর রশিদ স্থানীয় রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে পৌরশহরের কলেজপাড়া মহল্লার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। ‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার রোয়াইড়-রাজকান্দা সড়কের রাজকান্দা মোড়ে হারুনুর রশিদ ছুরিকাহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। ‎এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে হারুনুর রশিদের স্ত্রী মোছা. শামীমা আক্তারের মাধ্যমে থানায় এজাহার পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। মামলায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তার স্ত্রী সোনামুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. শামীমা নাসরিন, তার বড় ভাই দুলাল হোসেন ও দারাজ উদ্দিন এবং চাচাতো ভাই গাজীউলকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। ‎এজাহারে হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান ধারালো হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে তার বাঁ হাতের বাহুতে কাটা জখম হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে একজন তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হারুনুর রশিদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছিলেন। এর আগে আক্কেলপুর ‎রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে হারুনুর রশিদের বিরোধের সূত্রপাত। গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তিনি পায়ের জুতা খুলে প্রধান শিক্ষককে পেটান বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ, শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানকে আসামি করা হয়। শনিবার থানায় সাংবাদিকদের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২১ জুন হারুনুর রশিদ তাকে জুতাপেটা করেছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন। মামলা তুলে নিতে হারুনুর রশিদ তাকে চাপ ও চাকরি খাওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে এখন হামলা ও ছুরিকাঘাতের ‘সাজানো নাটক’ করে তাদের ফাঁসানো হয়েছে। ‎আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, হারুনুর রশিদের করা মামলায় প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।‎মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/এনএইচআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগে আগ্রহী মারস্ক লাইন
বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগে আগ্রহী মারস্ক লাইন

  বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পে সরাসরি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডেনিশ শিপিং ও লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান মারস্ক লাইন (Maersk Line)। একই সঙ্গে জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার এবং এপি মোলার সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেনে পিল পেডারসেন। বৈঠকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত জানান, মারস্ক লাইন বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণশিল্পে সরাসরি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে সুনামের সঙ্গে জাহাজ পরিচালনা এবং শিপিং ও লজিস্টিকস ব্যবসা করে আসছে। আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পেও মারস্ককে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মারস্ক লাইনের বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক বড় আকারের জাহাজ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত পুরোনো জাহাজের পরিবেশসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পুনর্ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বৈঠকে বলা হয়, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার—দুই খাতেই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে আন্তর্জাতিক মানের বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা গেলে দেশের শিল্পায়নের পাশাপাশি ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন, যুগ্মসচিব (এফটিএ ২) মাহবুবা খাতুন মিনু, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খায়রুজ্জামান; এপি মোলার মারস্ক গ্রুপের ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ব্যবসা উন্নয়ন, পাবলিক পলিসি ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান বিবেক শর্মা; মারস্ক বাংলাদেশ লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর (পাবলিক অ্যাফেয়ার্স) খালিদ মুস্তাফিজ গাফফার এবং রয়েল ডেনিশ দূতাবাসের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ডানিডা বিজনেসবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা সামিনা আহসান শাহরুখ। এনএইচ/এমকেআর

আগস্ট ২৯, ২০২৬
তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দৃষ্টান্ত বিএনপিই তৈরি করেছে: আলাল
তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের দৃষ্টান্ত বিএনপিই তৈরি করেছে: আলাল

তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের দৃষ্টান্ত বিএনপিই তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান—বিএনপির নেতৃত্ব তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আরও পড়ুন গ্রাম আদালত পরিচালনা / সেরা ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানকে স্বীকৃতি-প্রণোদনা দেবে সরকার সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংগঠন একটি কাঠামোর মাধ্যমেই তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আজকের সমাবেশের মাধ্যমে সংগঠনটি সেই কাজটি করছে। ইউনিয়ন পরিষদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে আলাল বলেন, এ অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে পুরোনো কাঠামোগুলোর একটি ইউনিয়ন পরিষদ। নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থাকে আরও তৃণমূলে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদেরও এক ধাপ নিচে গ্রাম সরকার গঠন করেছিলেন তিনি। বর্তমানে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা না থাকলেও জিয়াউর রহমানের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য আলাল বলেন, ‘জনকল্যাণের জন্য যা কিছু এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে যা কিছু, সবকিছুর মূল উদ্যোক্তা কিন্তু বিএনপি। হয় জিয়াউর রহমান, নয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, না হয় তারেক রহমান।’ আরও পড়ুন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে বিএনপি: রিজভী তারেক রহমানের ২০০৪ সালের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আলাল বলেন, ওই সময় তারেক রহমান সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। ঠাকুরগাঁও থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এসব দাবি সুনির্দিষ্টভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে উপস্থাপন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে দাবিগুলো পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তিনি। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে আলাল বলেন, বর্তমান বাজারব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘শায়েস্তা খানের আমলে এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত। এখন এক টাকায় কিছুই পাওয়া যায় না।’ বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আরও পড়ুন বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়, সহকারী ও অন্যান্য কার্যক্রমের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন আলাল। উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিতভাবে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্যরা। কেএইচ/এমএমকে

আগস্ট ২৯, ২০২৬
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে চরমোনাই পীরের কড়া সমালোচনা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তারা অতীতের সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে অতীতের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রাজধানীর পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের ২০২৭-২৮ সেশনের নবগঠিত কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস অতিক্রম হওয়ার পরও জাতীয় সংকট নিরসনে টেকসই কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারেনি। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি ঘটছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের সয়লাবে ছাত্র ও যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নীতি-নৈতিকতাহীন ও অমানবিক একটি সমাজব্যবস্থার দিকে দেশ ধাবিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম। আরও পড়ুন লোডশেডিং কমান, না হলে মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে: চরমোনাই পীর মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসন বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। দেশবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রতিকারে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির নেতারা শপথ নেন। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম দায়িত্ব পেয়েছেন। সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন মুফতি ওয়ালীউল্লাহ, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম ও ডা. মুজিবুর রহমান। জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি ফরিদ ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোস্তফা আল-মামুন মনির। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দীন, মুফতি নিজাম উদ্দীন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস রশিদী, মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, হাফেজ আবু হানিফ ভূঁইয়া ও মুফতি হাফিজুল হক ফাইয়াজ। এছাড়া কমিটিতে প্রচার সম্পাদক মুফতি মাসুদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. শরিফুল্লাহ শাকিল, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এবিএম রাকিবুল হাসান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম, দাওয়াহ ও জনশক্তি সম্পাদক মাওলানা ডা. সাব্বির খান, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই, ছাত্রী ও মহিলা ইউনিট সম্পাদক মাওলানা সাব্বির আহমেদ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ইউনুস তালুকদার, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মাস্টার আমিনুল ইসলাম তালুকদার (অব.), নির্বাচন ও জনপ্রতিনিধি সম্পাদক মুফতি সিরাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন পদে নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুফতি অলিউল্লাহ, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মাওলানা তাজুল ইসলাম, ডা. মুজিবুর রহমান, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, এস এম মোস্তফা আল মামুন মনির, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন পরশ, মুফতি নিজাম উদ্দিন, মুফতি আব্দুল কুদ্দুস রশিদী, মুফতি আরমান হোসাইনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এমইউ/এমআইএইচএস

আগস্ট ২৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেফতার; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের দাবি পরিবারের
দেশজুড়ে

ফতুল্লায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেফতার; হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের দাবি পরিবারের

News জুলাই ৬, ২০২৬ 0