সাভারে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ওসিসহ আহত ৫০
সাভারের উলাইল এবং হেমায়েতপুর পদ্মার মোড় এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’ উপলক্ষে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বদলির আদেশ জারি, নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিনের এসব দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৩০ ডিসেম্বর...
গাজীপুরে তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা।
এর আগে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে গত রবিবার (১ নভেম্বর) ফুয়াদকে তলব করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ৪ নভেম্বর তাকে হাজির...
সংবিধান সংস্কারবিষয়ক বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ নেবে না বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।
সকাল ৫টায় শুরু হওয়া এই পরিশ্রম শেষ হয় রাত ১১টায়। দিন শেষে মজুরি পান ৪০০ টাকা।
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/nijer-sencurir-ceye-dler-jyi-mukhz</figure>
সরিয়ে দেওয়া হলো আশফাকুর রহমানকে, নিম্নতম মজুরী বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আজাদ সুবহানী
<p>বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদী বলেছেন, বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশে জ্বালানি পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। </p><p>আজ বুধবার ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেছেন হরমুজ প্রণালিতে যেসব হামলার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই।</p><p>যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কাছে সমঝোতা মানে আত্মসমর্পণ বলে মন্তব্য করেন জলিল রাহিমি। তিনি বলেন, সমঝোতার নামে আত্মসমর্পণ মেনে নেবে না ইরান। সংঘাতের তৃতীয় দফায় পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের হামলা হলে ইরান পাল্টা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন রাষ্ট্রদূত।</p><p>এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল হারলেও ইরান ইস্যুতে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন তিনি। জলিল রাহিমির ধারণা, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একই থাকবে।</p><p>ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক।</p><p>এ ছাড়া আরবের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি না থাকলে ইরান সেসব দেশে কখনোই হামলা করত না বলেও মন্তব্য করেন জলিল রাহিমি।</p>
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/sona-kena-ki-lavjnk-biniyog</figure>
পরাজয়ে হতাশ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন’
<p>ভারতের রাজধানী দিল্লির একেবারে কেন্দ্রস্থলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে সামান্য দূরের একটি ছোট্ট মসজিদ। পুরোনো মসজিদটির চারপাশে ছড়িয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। তবে মসজিদের ধূসর দেয়াল, খিলান আর উঠানের সাদা–সবুজ টাইলসগুলো এখনো সেভাবেই অক্ষত আছে। শুধু নেই সেসব মানুষেরা, যাঁদের পদচারণে মুখর থাকত মসজিদ প্রাঙ্গণ, বসতি।</p><p> তাঁদেরই একজন মোহাম্মদ ওয়াসিম। বয়স ৫০ বছর। পেশায় গাড়িচালক তিনি। মসজিদঘেঁষা ধ্বংসস্তূপের দিকে তিনি আঙুল তুলে দেখালেন, সেখানেই একসময় বসতঘর ছিল ওয়াসিমের। বললেন, ‘এখানে আমার বাবার বিয়ে হয়েছিল। কয়েক দশক পর আমার মেয়ের বিয়েও এখানে হয়েছে।’</p><p> পরিবার নিয়ে শুধু ওয়াসিম নন, কয়েক শ মানুষ মসজিদটি ঘিরে বসবাস করতেন। জায়গাটি দিল্লির রেসকোর্স এলাকায়। ভারতের রাজধানীর অন্যতম অভিজাত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা এটি। সেখানে রয়েছে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, অভিজাত ক্লাব, সারি সারি বিশাল বাংলো। এসবের মাঝে ছোট ছোট কিছু ঘর নিয়ে গড়ে উঠেছিল মুসলিমদের ওই বসতি।</p><p>গত ৭ অক্টোবর সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়ি, দোকান, স্থাপনা; পুরো বসতি। কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি জমিতে অবৈধ বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল। তাই, অভিযান চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে আনে কর্তৃপক্ষ।</p><p>মুসলিমরা কয়েক প্রজন্ম ধরে দিল্লির ওই জায়গাটিতে বসবাস করে আসছিলেন। আশপাশের অভিজাত বাড়িগুলোয় কেউ গাড়িচালক, কেউ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আবার কেউবা মালির কাজ করতেন। উচ্ছেদ করা হয়েছে ৭১৭টি পরিবারকে। তাদের এখন ঠাঁই হয়েছে ‘সাভদা ঘেবরা’ নামের একটি আবাসিক এলাকায়। জায়গাটি দিল্লির উপকণ্ঠে, আগের বসতি থেকে প্রায় ৩১ মাইল দূরে।</p><p>সরকারের উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যুক্তি ছিল কর্মস্থল, বিদ্যালয় আর পরিচিত জনপদ থেকে এত দূরে সরিয়ে নেওয়া হলে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তবে আদালত এসব যুক্তি আমলে নেননি।</p><p>গত আগস্টে আদালত তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। সরকার নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল, আদালত তা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন।</p><p>ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযানের পর এলাকাটিতে শুধু মসজিদটি আর কাছাকাছি থাকা একটি মন্দির অক্ষত আছে। তবে সেখানকার পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেখানে যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মুসল্লিদের মসজিদের ফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে অনুরোধ করে কেউ কেউ ভেতরে ঢুকছেন।</p><blockquote>উচ্ছেদের পর মসজিদের পানি–বিদ্যুতের সংযোগ আবার চালু করতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ওয়াক্ফ বোর্ড। চিঠিতে মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথাও লেখা রয়েছে। সেই সঙ্গে মসজিদটিতে নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ভেঙে ফেলার আশঙ্কা জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন একজন মুসল্লি।</blockquote><p><strong>মসজিদটি শতাব্দীপ্রাচীন</strong></p><p>ভারত সরকার বলছে, মসজিদটি সরকারি জমিতে নির্মিত। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৯৭৭ সালে এটি ওয়াক্ফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ইসলামি আইন অনুযায়ী, ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য স্থায়ীভাবে উৎসর্গ করা জমি বা স্থাপনাকে ওয়াক্ফ সম্পত্তি বলা হয়। মসজিদটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবেও তালিকাভুক্ত।</p><p>দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। তবে অনেকে বলছেন, এর বয়স ১২৫ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কাজেই মসজিদটিকে শতাব্দীপ্রাচীন বলাই যায়।</p><p>উচ্ছেদের পর মসজিদের পানি–বিদ্যুতের সংযোগ আবার চালু করতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ওয়াক্ফ বোর্ড। চিঠিতে মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথাও লেখা রয়েছে। সেই সঙ্গে মসজিদটিতে নামাজ আদায়ে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ভেঙে ফেলার আশঙ্কা জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন একজন মুসল্লি।</p><p>গত ২৯ অক্টোবর সরকার আদালতকে জানায়, ওয়াক্ফ বোর্ডের আপত্তিগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্য আগামী চার সপ্তাহ কিছু করা হবে না। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেখানে নামাজ আদায়ের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার বিরোধিতা করেছে সরকার। তাদের যুক্তি, আশপাশে উচ্ছেদের কাজ চলায় সেখানে নামাজ আদায় করা ঝুঁকিপূর্ণ।</p><p>মুসল্লিদের আইনজীবী সরকারের এ যুক্তির বিরোধিতা করেছেন।</p><blockquote>সমালোচকদের মতে, দিল্লিতে এমন উচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যার অংশ। কাজের সন্ধানে শহরে আসা নিম্ন আয়ের মানুষদের বারবার শহরের দূরবর্তী প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর বড় কারণ তাঁরা সেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস করলেও জমির বৈধ মালিকানার প্রমাণ দেখাতে পারেন না।</blockquote><p><strong>ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা</strong></p><p>আদালত বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি। আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।</p><p>মসজিদটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একসময় যাঁরা মসজিদের আশপাশে বসবাস করতেন, তাঁদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন—সেখানকার জীবনের কতটুকু আর ফিরে পাওয়া যাবে?</p><p>এখন ওয়াসিম সময় পেলেই মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে যান। কখনো কখনো নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। আবার কখনো অনুমতি মেলে। চার–পাঁচজন মিলে নামাজ আদায় করেন। বাইরে বড়সড় একটি জেনারেটর বসানো হয়েছে। উচ্চশব্দে চলছে সেটি। সেখান থেকেই বিদ্যুৎ সবরাহ করা হচ্ছে।</p><p>ওয়াসিম বলেন, ‘আমাদের পুরো জীবন এ জায়গাটি ঘিরে। শৈশবে এখানে খেলাধুলা করে বেড়ে উঠেছি। আমরা এখন কীভাবে জায়গাটি ছেড়ে যেতে পারি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/qjrtwjpf/Dellhi-1.avif"><figcaption>মসজিদের সামনে ও আশপাশে বেশ কিছু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় মুসলিম পরিবারগুলো বসবাস করত</figcaption></figure><p>রেখা নামে এক বিধবা নারী সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। পাশের একটি বাসায় ধোয়ামোছার কাজ করতেন। সেই বেতন দিয়ে পরিবার চলত। পাশাপাশি স্থানীয় একটি মন্দিরে সেবায়েতের কাজেও যুক্ত ছিলেন। বাড়ি থেকে উচ্ছেদের কারণে এখন অকূলপাথারে পড়েছেন রেখা।</p><p>অসহায় কণ্ঠে রেখা বলেন, ‘বেশ কয়েক দশক এখানে ছিলাম। এখন উচ্ছেদ করা হলো। বহুদিনের গোছানো সংসার ফেলে এখন নতুন জায়গায় গিয়ে আবার কীভাবে সব গড়ে তুলব?’</p><p>নতুন জায়গায় যেতে হওয়ায় আগের কাজটি হারিয়েছেন রেখা। তাঁর ১৯ বছরের ছেলে হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছেন। তিনতলায় একটি ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে রেখাকে। অস্ত্রোপচার হয়েছিল, পায়ে একটি লোহার পাত পরানো রয়েছে রেখার। তাই সিঁড়ি ভেঙে তিনতলায় ওঠানামা করতে ভীষণ কষ্ট হয় তাঁর।</p><p>ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভোগা রেখা বলেন, ‘আমাকে একটা বাসা দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমার বাড়িটি কেড়ে নিয়েছে।’</p><p><strong>‘জীবিকা চলে যায়, আয় কমে’</strong></p><p>সমালোচকদের মতে, দিল্লিতে এমন উচ্ছেদের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যার অংশ। কাজের সন্ধানে শহরে আসা নিম্ন আয়ের মানুষদের বারবার শহরের দূরবর্তী প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর বড় কারণ তাঁরা সেখানে কয়েক দশক ধরে বসবাস করলেও জমির বৈধ মালিকানার প্রমাণ দেখাতে পারেন না।</p><p>নগর গবেষক মুক্তা নায়েক বিবিসিকে বলেন, উচ্ছেদের ফলে এসব মানুষ কর্মস্থল ও পরিচিত সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা—দুটো থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এতে তাঁদের জীবিকা চলে যায়, আয় কমে।</p><p>পুরোনো জায়গায় পরিবারগুলো দীর্ঘদিন একসঙ্গে বসবাস করায় একে অপরের সহায় হয়ে ওঠেন। একটি পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। নতুন জায়গায় সেই নেটওয়ার্ক আবার গড়ে তোলাটি বেশ কঠিন। মুক্তা বলেন, ‘নতুন জায়গায় পরিবারগুলোকে একাই নিজেদের সবকিছু সামলাতে হয়।’</p><aside><cite>রেখা, ভুক্তভোগী নারী।</cite>‘বেশ কয়েক দশক এখানে ছিলাম। এখন উচ্ছেদ করা হলো। বহুদিনের গোছানো সংসার ফেলে এখন নতুন জায়গায় গিয়ে আবার কীভাবে সব গড়ে তুলব?</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/jblj58coi4">বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ, উচ্ছেদ-আতঙ্কের মধ্যেই দিল্লির শতবর্ষী মসজিদে জুমার নামাজ পড়লেন মুসল্লিরা</a></aside><p>দিল্লির রাজ্য সরকারের আবাসন সংস্থা, স্থানীয় পৌর কাউন্সিল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি দপ্তরের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছিল বিবিসি। জবাব পাওয়া যায়নি।</p><p>সাভদা ঘেবরা জায়গাটি দিল্লি–হরিয়ানার সীমান্তঘেঁষা। ২০০৬ সালে সেখানে বিস্তৃর্ণ কৃষিজমিতে এটা গড়ে তোলা হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য এ আবাসিক এলাকা তৈরি করা হয়েছিল।</p><p>শুরুর দিকে এখানে যাঁরা বসতি গড়তে এসেছিলেন, তাঁরা পেয়েছিলেন খালি জমি। সড়ক, পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ—কিছুই ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা নিজেদের ঘরবাড়ি বানান, দোকানপাট গড়ে তোলেন। তাঁদের মৌলিক নাগরিক সুবিধাগুলো আদায়ের জন্য লড়াই করতে হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/oyn7pn5d4k">আসামের পর দিল্লিতে ৭০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, মসজিদ ভেঙে দেওয়ার নোটিশ জারি</a></aside><p><strong>নিত্যদিনের যাতায়াতে সমস্যা</strong></p><p>চলতি শতকের শুরুর দশকে সাভদা ঘেবরায় হাজার পঞ্চাশেক মানুষ বসবাস করতেন। তাঁদের অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তাঁরা ধীরে ধীরে জায়গাটিকে একটি জনপদে পরিণত করেন। এখন রেসকোর্স থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো সেখানে একইভাবে নতুন করে জীবন গড়ার কঠিন ও দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছে।</p><p>কথা হচ্ছিল বাবলুর সঙ্গে। তাঁর সন্তান এখনো দিল্লির মধ্যাঞ্চলের আগের বিদ্যালয় পড়ছে। বাবলু বলেন, সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় বাড়ি থেকে বেরোতে হয়। এরপর মেট্রোতে চড়ে সন্তানকে দিল্লির ওই বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতে তাঁকে তিনবার ট্রেন বদলাতে হয়। বিদ্যালয় চলার পুরো সময়টা তিনি পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষা করেন। পরে একইভাবে ট্রেন বদলে আবার বাড়ি ফেরেন।</p><p>বাবলু জানান, তিনি কাজে চলে গেলে সন্তানকে নিয়ে তাঁর স্ত্রীকে এই যুদ্ধটা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন বাড়িটা বেশ দূরে। তাই তিনি বা তাঁর স্ত্রীর সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরতে বিকেল চারটা বেজে যায়।</p><p>রেসকোর্সের একটি ক্লাবে কাজ করতেন বাবলু। এখন দিল্লির উত্তর–পূর্বাঞ্চলের মিরাট শহরে কাজ খুঁজছেন তিনি। বাবলু বলেন, কর্মস্থল আর ছেলেমেয়ের বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাগুলোয় চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন অনেকেই।</p><p>সরকারের দাবি, রেসকোর্সের কাছাকাছি উপযুক্ত ফ্ল্যাট পাওয়া যায়নি। আদালতে সরকার বলেছে, সাভদা ঘেবরায় চিকিৎসাকেন্দ্র, বিদ্যালয় ও যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর বসবাসের জন্য এলাকাটি বেশ উপযুক্ত।</p><aside><cite>মুক্তা নায়েক, নগর গবেষক।</cite>উচ্ছেদের ফলে এসব মানুষ কর্মস্থল ও পরিচিত সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা—দুটো থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এতে তাঁদের জীবিকা চলে যায়, আয় কমে।</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/dw18w33elo">আসামের ধুবড়িতে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন ৪ হাজার বাঙালি মুসলমান</a></aside><p><strong>নাগরিক সুবিধার অপ্রতুলতা</strong></p><p>কিন্তু এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে খুব একটা আশ্বস্ত হতে পারছেন না ৬৩ বছর বয়সী নাঈম খান। তাঁর দুই নাতি কথা বলতে ও শুনতে পারে না। তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজন। নাঈমের দাবি, সাভদা ঘেবরায় এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই।</p><p>নাঈম বলেন, স্থানান্তরের কারণে তাঁর পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। এক ছেলে আর বিবাহবিচ্ছিন্ন মেয়ে তাঁর সঙ্গে ছোট্ট এক কক্ষের ফ্ল্যাটে থাকেন। জায়গার অভাবে অন্য দুই ছেলেকে থাকতে হচ্ছে আলাদা জায়গায়। নাঈমের ভাষায়, ‘আমাদের প্রায় ২০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।’</p><p>এই বাস্তুচ্যুতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে নারীদের ওপর। নগর গবেষক মুক্তা বলেন, শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব, যাতায়াতের খরচ ও নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে নারীদের জন্য দূরে গিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/4l09a781wh">আসামে বাঙালি মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ, মসজিদ ভাঙার অভিযোগ</a></aside><p>রেসকোর্সের আশপাশের ধনী পরিবারগুলোয় কাজ করে আয় করার সুযোগ ছিল। কারও বাসায় থালাবাসন ধোয়া, বাগানের পরিচর্যা করা, ফেলে দেওয়া বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করা—এসব কাজ করে উচ্ছেদ হওয়ার আগে নারীরা উপার্জন করতে পারতেন।</p><p>তাঁদেরই একজন আখতারি। স্বামী মারা গেছেন। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের পানির বোতল কুড়িয়ে দিনে প্রায় ১০০ রুপি আয় হতো তাঁর। এখন সেই আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।</p><p>নতুন বসতির বিষয়ে আখতারি বলেন, ‘এখানে যাঁরা থাকেন সবাইকে একসময় উচ্ছেদ করা হয়েছে। সবাই গরিব, অসহায়। নিজেরা টিকে থাকার লড়াই করছেন। অন্যের বাসায় কাজের জন্য কে আর কাউকে নিয়োগ দেবে?’</p><p>হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কী হবে, এখন সেই চিন্তা তাড়া করছে আখতারিকে। তিনি বলেন, ‘ঘরে মৃত পড়ে থাকলেও কেউ জানতে পারবে না। আশা করি কেউ একদিন দরজা ভেঙে আমাকে (মৃত অবস্থায়) খুঁজে পাবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/india/64hkqcnuj7">এবার দিল্লির ১৫০ বছরের পুরোনো মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশ</a></aside>
লেকের পাশে মাছ মারার ছিপ পেতে বসে আছে পল্টু। পাশেই একটা সাইন ঝোলানো। সেখানে লেখা, ‘এখানে মাছ ধরা নিষেধ’।
জন্ম থেকেই এক চোখ দৃষ্টিহীন। অন্য চোখেও ঝাপসা দেখেন ইনামুল হক। তবু ৪০ বছর ধরে সাইকেলে পত্রিকা বিলি করছেন তিনি। এই কাজ করেই বড় করেছেন তিন সন্তানকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বুথ ফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে অর্থনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
এক বছর আগে যে দুটি সিনেট আসনকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্র বলে মনে করা হচ্ছিল, সেগুলো ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিশ্চিত জয়ে পরিণত হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রের সারি থেকে শুরু করে উৎসাহী সমর্থক পর্যন্ত, ছবিতে তুলে ধরা হলো প্রচারণার শেষ দিনগুলোর এক ঝলক।
আজ বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার খবরে গুরুত্ব পেয়েছে গার্মেন্ট কারখানাগুলোয় আন্দোলন – সহিংসতার খবর। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের খবরও গুরুত্ব পেয়েছে।
মোটা দাগে বলতে গেলে, আমেরিকানদের মতামত জানানোর পর তিনটি সম্ভাব্য ফলাফল রয়েছে। সেগুলো কী হতে পারে, ফলাফল আসতে শুরু করলে প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী হতে পারে এবং সেদেশের জন্য এর অর্থ কী হতে পারে, তা এখানে তুলে ধরা হলো।
বাংলাদেশে মুসলিমদের এমন অনেকেই আছেন, যারা শুধু কবুল পড়ে অথবা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিড করে বিয়ে করেন। আইনজীবী এবং কাজী অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মসজিদে গিয়ে বর-কনে কবুল বলে বিয়ে করলে সেটি রেজিস্ট্রি না করলেও শরীয়তসম্মত। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়ে কী বৈধ?
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ কয়েকদফা দাবিতে গত কয়েকদিনের মতো সোমবারও সকাল থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবারও ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তেসরা নভেম্বর মার্কিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, যে নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনভিজ্ঞতা নিয়ে উপহাস করে তাদের ‘এনজিওগ্রাম সরকার’ বলা হয়েছিল। এখন বিএনপি সরকারকে তাদের অনুসারী ও সমর্থকরাই ‘লন্ডনিগো সরকার’ বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এ তহবিলের আওতায় হিমায়িত চিংড়ি, মাছ, মৎস্যজাত পণ্য এবং অন্যান্য হিমায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা মাত্র ৭ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।
পাবনার ঈশ্বরদীতে চার বছর বয়সী শিশুকে হত্যার হুমকি দিয়ে চাচিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। এর বাইরে জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বড় অংশ দিনের বেলায় পরিচালিত হয়, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংবিধান সংস্কারবিষয়ক বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ নেবে না বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।
এর আগে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে গত রবিবার (১ নভেম্বর) ফুয়াদকে তলব করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ৪ নভেম্বর তাকে হাজির হয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গাজীপুরে তৌফিক নামে এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা।
বদলির আদেশ জারি, নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিনের এসব দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়ে তারা দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।