technology

যে প্রাইভেসি দুর্লভ রোগীদের অস্তিত্বহীন করে দেয়

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
যে প্রাইভেসি দুর্লভ রোগীদের অস্তিত্বহীন করে দেয়
যে প্রাইভেসি দুর্লভ রোগীদের অস্তিত্বহীন করে দেয়
<p>একটা জাতীয় স্বাস্থ্য ডেটাবেজ কল্পনা করুন। কোনো এক জেলায় বছরে মাত্র সাত-আটজন রোগী বিরল কোনো এক জটিলতায় ধরা পড়ছে। সংখ্যাটা খুব ছোট, কিন্তু ওই সাত-আটজন মানুষের জন্য এটাই তাঁদের পুরো বাস্তবতা। এখন কল্পনা করুন, এই ডেটাবেজে রোগীর পরিচয় গোপন রাখার জন্য একটা গাণিতিক পদ্ধতি বসানো হলো, যার কাজ হলো প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে সামান্য একটু এলোমেলো ‘শব্দ’ বা ‘নয়েজ’ যোগ করে দেওয়া। বড় সংখ্যার জন্য এই নয়েজ কিছুই না। কিন্তু সাত বা আটের মতো ছোট সংখ্যার ক্ষেত্রে এই সামান্য নয়েজই পুরো সংখ্যাকে গিলে ফেলতে পারে। ডেটাবেজ তখনো ঠিকই ‘গোপনীয়’ থাকে, কিন্তু ওই জেলার রোগীরা যেন কাগজে-কলমে অস্তিত্বহীন হয়ে যায়!</p><p>এই ব্যাপারটার একটা কেতাবি নাম আছে—ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি। মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী সিনথিয়া ডোয়ার্ক ২০০৬ সালে এই ধারণাটা প্রথম গাণিতিকভাবে দাঁড় করান। আর গত এক দশকে এটা বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ডেটা, আদমশুমারি, এমনকি বড় বড় এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সমস্যাটা হলো, যে গণিত আমাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে, সেটিই কিছু মানুষকে পরিসংখ্যানের জগৎ থেকে একেবারে মুছে দিতে পারে। আর এই ঘটনা ঘটে নিয়মিতভাবে এবং প্রায় সব সময় একই ধরনের মানুষের সঙ্গে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/lbxurysx85">হেডফোনে নয়েজ ক্যানসেলিং প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে</a></aside><blockquote>সমস্যাটা গাণিতিকভাবেই অনিবার্য। ধরুন, একটা এলাকায় কোনো একটি বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৫। শক্তিশালী প্রাইভেসি সেটিংসে নয়েজ যোগ করলে সেই ৫ হয়ে যেতে পারে ২ কিংবা ৯।</blockquote><h2><strong>নয়েজ যেভাবে কাজ করে</strong></h2><p>ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসির মূল কৌশলটা বেশ সহজ। কোনো একটি প্রশ্নের সত্যিকারের উত্তরের সঙ্গে এলোমেলো একটা সংখ্যা যোগ করে দেওয়া হয়, যাতে কোনো একজন ব্যক্তির রেকর্ড ডেটাবেজে থাকুক বা না থাকুক, চূড়ান্ত উত্তরে খুব বেশি পার্থক্য না হয়। এই নয়েজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে একটি প্যারামিটার।  একে বলা হয় এপসাইলন (ε)। এপসাইলন যত ছোট হবে, প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা হবে তত শক্তিশালী; কিন্তু সেই সঙ্গে নয়েজও তত বাড়বে।</p><p>সমস্যাটা গাণিতিকভাবেই অনিবার্য। ধরুন, একটা এলাকায় কোনো একটি বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৫। শক্তিশালী প্রাইভেসি সেটিংসে নয়েজ যোগ করলে সেই ৫ হয়ে যেতে পারে ২ কিংবা ৯। অন্যদিকে বড় শহরে, যেখানে একই রোগে আক্রান্ত হাজারো মানুষ আছে, সেখানে একই পরিমাণ নয়েজ সংখ্যাটিকে প্রায় অপরিবর্তিতই রাখে। অর্থাৎ নয়েজ সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করলেও তার প্রভাব কিন্তু সব জায়গায় সমান নয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/gyi0wf0oy6">কম্পিউটারের ক্যাবলের মাথায় প্লাস্টিকের মোটা অংশ থাকে কেন</a></aside><blockquote>নয়েজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে একটি প্যারামিটার, যাকে বলা হয় এপসাইলন। এই এপসাইলন যত ছোট হবে, প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা তত শক্তিশালী হবে; কিন্তু সেই সঙ্গে নয়েজও তত বাড়বে।</blockquote><p>২০১৯ সালে এই ঘটনাটা একটি মেশিন লার্নিং মডেলে হুবহু করে দেখান যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষক ইউজিন বাগদাসারিয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁরা ছবি চেনার দুটি মডেল তৈরি করেন। একটি সাধারণভাবে এবং অপরটি ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি দিয়ে। যে সংখ্যাটার ছবি ডেটাসেটে বেশি ছিল (যেমন ‘২’), দুটি মডেলই সেটা প্রায় সমান নির্ভুলতায় (৯৮-৯৯ শতাংশ) চিনতে পেরেছিল। কিন্তু যে সংখ্যার ছবি কম ছিল (যেমন ‘৮’-এর মাত্র ৫০০টি নমুনা), সাধারণ মডেল সেটা ৯৭ শতাংশ নির্ভুলতায় চিনতে পারলেও প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেলটি চিনতে পেরেছিল মাত্র ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ একই নয়েজ, কিন্তু কম উপস্থাপিত গ্রুপের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব ছিল বহুগুণ বেশি।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/hjc4z58wf9">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য বৈষম্য ও আমাদের ভবিষ্যৎ</a></aside><blockquote>যে সংখ্যার ছবি কম ছিল, সাধারণ মডেল সেটা ৯৭ শতাংশ নির্ভুলতায় চিনতে পারলেও প্রাইভেসি-সুরক্ষিত মডেলটি চিনতে পেরেছিল মাত্র ৭৭ শতাংশ।</blockquote><h2><strong>আদমশুমারিতে যা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে</strong></h2><p>এটি শুধু ল্যাবের কোনো পরীক্ষা নয়। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো প্রথমবারের মতো পুরো দেশের ডেটাতে ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রয়োগ করে। তার ফলাফল ছিল ঠিক এই নমুনারই একটি বাস্তব সংস্করণ।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জে টি মিউলার এবং পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির আলেকজান্ডার আর সান্তোস-লোজাদার ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বড় কাউন্টির মোট জনসংখ্যার হিসাব প্রায় নিখুঁত থাকলেও গ্রামীণ ও ছোট জনগোষ্ঠীর উপাত্তে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। মিনিয়াপোলিস ফেডারেল রিজার্ভের সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান কান্ট্রি ডেভেলপমেন্টের ২০২৩ সালের এক গবেষণাপত্র অনুযায়ী, মার্কিন আদিবাসী ও আলাস্কা নেটিভ এলাকাগুলোর মধ্যে যেসব উপজাতি গোষ্ঠী আগে বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক সম্পূর্ণ তথ্য পেত, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই নতুন নিয়মে আর সেই তথ্য পাবে না। কারণ, তাদের জনসংখ্যা কম হওয়ায় তা বেঁধে দেওয়া সীমার নিচে পড়ে গেছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/w1p2mridlr">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি গান বানাতে পারে</a></aside><blockquote>২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো প্রথমবারের মতো পুরো দেশের ডেটাতে ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রয়োগ করে। তার ফলাফল ছিল ঠিক এই নমুনারই একটি বাস্তব সংস্করণ।</blockquote><p>হুবহু একই জিনিস ঘটেছে স্বাস্থ্যের হিসাবের ক্ষেত্রেও। হাওয়ার ও সান্তোস-লোজাদার ২০২১ সালের গবেষণা দেখিয়েছে, ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রয়োগ করলে কোভিড-১৯-এর বয়সভিত্তিক মৃত্যুহারে এমন বিকৃতি আসতে পারে যে হিসাব করা মৃত্যুহার ১০০ ভাগের বেশিও দেখাতে পারে! বিশেষ করে হাজারেরও কম জনসংখ্যার গ্রুপগুলোতে। তাঁদের হিসাবমতে, কাউন্টি পর্যায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বয়স-লিঙ্গ গ্রুপ এবং ৬০ শতাংশ জাতিগত গ্রুপ এই মারাত্মক বিকৃতির শিকার হতে পারে। সান্তোস-লোজাদা, হাওয়ার্ড ও ভার্ডেরির ২০২০ সালের আরেকটি গবেষণা আরও নির্দিষ্ট করে দেখিয়েছে, এই বিকৃতি শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মৃত্যুহারের হিসাবে বেশি প্রভাব ফেলে।</p><p>এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা হলো, কেউ কিন্তু ইচ্ছা করে এই বৈষম্য বা পক্ষপাত তৈরি করেনি। গণিতটাই এমন। যে গ্রুপে মানুষ কম, সেই গ্রুপে একই পরিমাণ নয়েজের আপেক্ষিক প্রভাব সব সময় বেশি। প্রাইভেসি রক্ষা করার এই পদ্ধতি নিরপেক্ষভাবেই কাজ করে, কিন্তু তার ফলাফল আর নিরপেক্ষ থাকে না।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/iahq39gugs">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল: অ্যালগরিদম কি আসলেই নিরপেক্ষ</a></aside><blockquote>হাওয়ার ও সান্তোস-লোজাদার হিসাবমতে, কাউন্টি পর্যায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ বয়স-লিঙ্গ গ্রুপ এবং ৬০ শতাংশ জাতিগত গ্রুপ এই মারাত্মক বিকৃতির শিকার হতে পারে।</blockquote><h2><strong>বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা চিন্তার পরীক্ষা</strong></h2><p>বাংলাদেশে এখনো জাতীয় স্বাস্থ্য নিবন্ধনে ডিফারেনশিয়াল প্রাইভেসি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রয়োগ হয়নি। কিন্তু দেশ যেটাই হোক না কেন, গণিতটা তো একই থাকবে! তাই একে বাংলাদেশের নিজস্ব ও আসল ডেটা দিয়ে একটি চিন্তার পরীক্ষা হিসেবে দেখা যাক।</p><p>২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন মানুষ। আর মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের। ২০০০ সালের পর থেকে সেটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। এর আগের বছরগুলোতে সংখ্যাটা ছিল অনেক কম। যেমন ২০২০ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ হাজার ২১৬ জন। এই বড় সংখ্যাগুলো কোনো প্রাইভেসি প্রযুক্তির নয়েজেই হারিয়ে যাবে না। কিন্তু ডেঙ্গুর মধ্যেও কিছু বিরল ও জটিল উপপ্রকার আছে—যেমন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা—যেগুলো একটি নির্দিষ্ট জেলায় হয়তো বছরে হাতে গোনা কয়েকটি কেসেই সীমাবদ্ধ থাকে।</p><p>যদি কখনো এই ধরনের ছোট, জেলাভিত্তিক জটিলতার তথ্য শক্তিশালী প্রাইভেসি সুরক্ষার আওতায় প্রকাশ করা হয়, তাহলে ওপরের গবেষণাগুলো যা দেখিয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি ঘটার একটি চরম বাস্তব সম্ভাবনা থেকে যায়। অর্থাৎ ছোট সংখ্যাগুলো স্রেফ নয়েজের নিচে চাপা পড়ে যাবে।</p><p>এটি একটি আশঙ্কা মাত্র, এখনো প্রমাণিত কোনো সত্য নয়। কিন্তু এই আশঙ্কাটা করার জন্য খুব বেশি কল্পনাশক্তির দরকার নেই, শুধু ওপরের গবেষণাগুলোর সংখ্যাগুলো এক জায়গায় বসিয়ে মিলিয়ে দেখলেই চলে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/ts2ab8lnw1">কম্পিউটারের সঙ্গে মস্তিষ্কের নতুন যোগাযোগ</a></aside><blockquote>২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন মানুষ। আর মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের, যা ২০০০ সালের পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব।</blockquote><h2><strong>গোপনীয়তা এবং দৃশ্যমানতার মধ্যে একটি পছন্দ</strong></h2><p>এর মানে এই নয় যে আমাদের প্রাইভেসি প্রযুক্তি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। রোগীর তথ্য সুরক্ষা পাওয়াটা একটি মৌলিক অধিকার। আর সেটি ছাড়া তো স্বাস্থ্য ডেটা শেয়ার করাই যেত না। আসল প্রশ্নটা হলো, নয়েজের পরিমাণ সব জায়গায় একই রকম হওয়া উচিত কি না। একটি বড় শহরের সাধারণ রোগের হিসাবের ক্ষেত্রে যতটা নয়েজ নিরাপদ, একটি প্রত্যন্ত জেলার বিরল রোগের হিসাবে ঠিক ততটাই নয়েজ প্রয়োগ করলে ফলাফল কখনোই সমান হয় না।</p><p>সংখ্যা দিয়ে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার এই পদ্ধতিটা তখনই ন্যায্য থাকে, যখন আমরা মনে রাখি যে প্রতিটি ছোট সংখ্যার পেছনে আসলে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা পরিসংখ্যানের নিয়মে না বুঝেই সবচেয়ে সহজে অদৃশ্য হয়ে যান।</p><h4>লেখক: গবেষক ও মেশিন লার্নিং বিজ্ঞানী, ট্রাস্টওয়ার্দি এআই</h4><h4>সূত্র: ১. Dwork, C. (2006). Differential Privacy. Proceedings of the 33rd International Colloquium on Automata, Languages and Programming (ICALP).</h4><h4>২. Bagdasaryan, E., Poursaeed, O., &amp; Shmatikov, V. (2019). Differential Privacy Has Disparate Impact on Model Accuracy. Advances in Neural Information Processing Systems (NeurIPS), 32, 15479–15488.</h4><h4>৩. Mueller, J. T., &amp; Santos-Lozada, A. R. (2022). The 2020 US Census Differential Privacy Method Introduces Disproportionate Discrepancies for Rural and Non-White Populations. Population Research and Policy Review, 41(4), 1417–1430.</h4><h4>৪. Hauer, M. E., &amp; Santos-Lozada, A. R. (2021). Differential Privacy in the 2020 Census Will Distort COVID-19 Rates. Socius, 7.</h4><h4>৫. Santos-Lozada, A. R., Howard, J. T., &amp; Verdery, A. M. (2020). How Differential Privacy Will Affect Our Understanding of Health Disparities in the United States. Proceedings of the National Academy of Sciences, 117(24), 13405–13412.</h4><h4>৬. Gregg, M., Trostle, H., &amp; Liebler, C. A. (2023). New 2020 Census Rules Make It Harder to Navigate Native American Data. Federal Reserve Bank of Minneapolis, Center for Indian Country Development, CICD Working Paper 2023-05.</h4><h4>৭. Bhowmik, K. K., et al. (2023). Recent outbreak of dengue in Bangladesh: A threat to public health. Health Science Reports, 6(4), e1210.</h4><h4>৮. Araf, Y., et al. (2024). Emerging health implications of climate change: dengue outbreaks and beyond in Bangladesh. The Lancet Microbe, 5(3), e213.</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/technology/oadbuaozan">এজেন্টিক এআই কীভাবে বদলাচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞান</a></aside>

Prothomalo

View more
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন

লন্ডনে গতকাল রাতে ২০২৬ ব্যালন ডি’অর জেতেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা হ্যারি কেইন।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সকালে দিনমজুরি, বিকেলে রিকশা চালিয়ে চলে মজিবুরের সংসার
সকালে দিনমজুরি, বিকেলে রিকশা চালিয়ে চলে মজিবুরের সংসার

মজিবুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড: ‘ভাষা বোঝেন না, আইনজীবী পান না, লাশও ফেরে না’
সৌদিতে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড: ‘ভাষা বোঝেন না, আইনজীবী পান না, লাশও ফেরে না’

<p>সৌদি আরবে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনা, যার মধ্যে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ৫৯ বিদেশি নাগরিকের এ সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষ করে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান, বিদেশি আসামিদের ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এ প্রেক্ষাপটে দেশটির বিচারব্যবস্থা ও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে তৈরি ধারাবাহিকের আজ প্রকাশিত হলো শেষ পর্ব।</p><p>গত বছরের মে মাসের কোনো একদিন। সৌদি আরবে এক ইথিওপীয় বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এর আগে দেশে থাকা মাকে ফোন করে তিনি বলেছিলেন, পরদিন সকালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেদিনই হবে তাঁর শেষ নিশ্বাস। কথাটা শুনেই শুরু হয় মায়ের ‘গগনবিদারী কান্না’।</p><p>ঘটনাটি এখানেই শেষ নয়। ওই ইথিওপীয়র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়; কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ গেলেও লাশ পরিবারের হাতে আসেনি। এদিকে ছেলেকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষা করে করে মায়ের মধ্যে তীব্র মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়; শেষে তাঁকে ভর্তি করতে হয় হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগে।</p><p>ঘটনাটি লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছিলেন ইথিওপীয় সম্প্রদায়ের একজন সদস্য। তাঁর নিজের ভাইও সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ওরা (সৌদির শাসকেরা) শুধু আমাদের ভাইদের মারছে না, আমাদেরও মারছে।’</p><p>উল্লেখ্য, সৌদি আরবের খামিস মুশাইত কারাগারেই এখন মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দী আছেন ৫৮ ইথিওপীয়।</p><blockquote>সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের হিসাব খুললে বিদেশিদের সংখ্যা পড়বে চোখে পড়ার মতো। দেশটির মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১ কোটি ৫৭ লাখের মতো মানুষ বিদেশি। অথচ ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শুধু মাদক অপরাধেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৫৯৭ জনের; তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশই প্রবাসী।</blockquote><p>হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ইথিওপীয় বন্দীর ঘটনাটি কোনো ব্যতিক্রম নয়। সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের হিসাব খুললে বিদেশিদের সংখ্যা পড়বে চোখে পড়ার মতো। দেশটির মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১ কোটি ৫৭ লাখের মতো মানুষ বিদেশি/প্রবাসী। অথচ ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত শুধু মাদক অপরাধেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ৫৯৭ জনের; তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশই বিদেশি (অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য)।</p><p>বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইএসওএইচআরের তথ্য, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি–জুন) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন (প্রায় ৫৪ শতাংশ) বিদেশি। একই সময়ে মাদক অপরাধে কার্যকর করা ৭১টি মৃত্যুদণ্ডের ৪৯টি বিদেশির।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/9tt7u059dj">সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: দেশটির আইন কী বলে, আদালতে কী ঘটে</a></aside><p><strong>কোন দেশের কতজন</strong></p><p>এই হিসাবে চোখ রাখলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত দশকে শুধু মাদক অপরাধে ১৫০ জন সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি যাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৫৫ জন পাকিস্তানি, ৬৬ জন সিরীয়, ৫০ জন জর্ডানি, ৩৯ জন ইয়েমেনি, ৩৩ জন মিসরীয়, ৩২ জন নাইজেরীয়, ২২ জন সোমালীয় ও ১৩ জন ইথিওপীয়।</p><p>এ ছাড়া ইরান, আফগানিস্তান, চাদ, বাহরাইন, লেবানন, সুদান, তুরস্ক, ভারত ও ফিলিস্তিনের নাগরিকদেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে পাকিস্তানি নাগরিকের সংখ্যা সৌদি নাগরিকের সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে।</p><p>তবে এ হিসাবের একটি সীমা আছে, যা অ্যামনেস্টি স্বীকার করেছে। তাদের বিশ্লেষণ শুধু সৌদি কর্তৃপক্ষ সরকারি সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে যেসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা প্রকাশ করেছে, সেগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে; প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। গ্রেপ্তার, তদন্ত, বিচার ও সাজার প্রতিটি ধাপে বৈষম্য ঘটছে কি না, সে তথ্য এতে ধরা পড়ে না। অপরাধের ঘটনা, গ্রেপ্তার, অভিযোগ বা সাজার সরকারি পরিসংখ্যানও সংস্থাটির হাতে নেই। সে কারণে অ্যামনেস্টি বিদেশিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/video/international/plcunr0ajc">সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/nhk0r4jk/crown-prince.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান</figcaption></figure><p><strong>বিচারের আগেই শুরু হয় ঝুঁকি</strong></p><p>এই প্রবাসীদের বিপন্নতা শুরু হয় বিচারের অনেক আগে, দেশ ছাড়ার সময় থেকেই। সৌদি আরবের মোট কর্মী বাহিনীর প্রায় ৭৭ শতাংশ অভিবাসী শ্রমিক। অ্যামনেস্টির বিশ্লেষণে, তাঁদের অসুবিধা শুরু হয় নিজ দেশে, প্রতারণামূলক নিয়োগপদ্ধতিতে; সৌদি আরবে এসে তা ধরে রাখে কাফালা বা স্পনসরশিপ ব্যবস্থা।</p><p>কাফালা এমন এক সীমাবদ্ধ ও শোষণমূলক অভিবাসন ব্যবস্থা, যা আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর বিশেষভাবে নেতিবাচক প্রভাব বা চাপ ফেলে।</p><p>আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) নির্দেশিকা অনুযায়ী, হুমকি, বলপ্রয়োগ, জবরদস্তি বা প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে শোষণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ, পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়া মানব পাচারের সংজ্ঞায় পড়ে। এই শোষণের মধ্যে যেমন জোরপূর্বক শ্রম আছে, তেমনি আছে অবৈধ কাজে বাধ্য করাও।</p><p>আইওএম সৌদিপ্রবাসীদের ঝুঁকির কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে অনিয়মিত অভিবাসন; গৃহকর্ম, সমুদ্রে কাজ বা অনানুষ্ঠানিক খাতের মতো চোখের আড়ালের কাজ; নিয়োগকর্তার অনুচিত নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগে দুর্নীতি, তৃতীয় পক্ষের দালালের ওপর নির্ভরতা এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় ফাঁক অন্যতম।</p><aside><cite></cite>সৌদি গিয়ে কোনো আইনি জটিলতা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে, নিজেদের সহায়-সম্বল ও শিক্ষার অভাবে প্রবাসীরা ভালো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না বা সঠিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও কমে যায়। এতে ন্যায্য বিচারের অধিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।</aside><p>এ ঝুঁকি শুধু তত্ত্বের কথা নয়। অ্যামনেস্টির নথিবদ্ধ মামলাগুলোর দুটিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁদের জোর করে নিষিদ্ধ মাদক বহন করানো হয়েছিল; কিন্তু আদালত সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেননি, মেনেও নেননি। সংস্থাটির নথিবদ্ধ তথ্য বলছে, সৌদি আরবে অভিবাসী শ্রমিকেরা নিয়োগ-দালালদের হাতে প্রতারিত হয়েছেন, অতিরিক্ত ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং মজুরি চুরির শিকার হয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে তা সম্ভবত শ্রম শোষণের উদ্দেশ্যে মানব পাচারের শামিল।</p><p>জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডের প্রভাব বিদেশি নাগরিকদের ওপর অসমভাবে পড়ে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর ওপর এ অসম প্রভাব বন্ধের আহ্বান তাঁরা জানিয়েছেন। কারণ, বিচার ও আপিলের সময় কার্যকর আইনি সুরক্ষা জোগাড় করা এসব মানুষের পক্ষে প্রায়ই সম্ভব হয় না।</p><p>আবার যখন কেউ একই সঙ্গে একাধিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হন, তখন ওই সব সমস্যার একটি অন্যটিকে আরও তীব্র বা জোরালো করে তোলে। যেমন একজন শুধু অভিবাসী হওয়ার কারণেই বিভিন্ন অসুবিধায় পড়তে পারেন। কিন্তু তিনি যদি একই সঙ্গে কোনো একটি নির্দিষ্ট জাতিসত্তার হন এবং নারী (লিঙ্গ) হন, তাহলে তাঁর জন্য আইনি সহায়তা পাওয়া, কাজের জায়গায় অধিকার আদায় করা বা বৈষম্য এড়ানো দ্বিগুণ বা তিন গুণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ এখানে একটি অসুবিধা অন্য অসুবিধাটিকে হালকা না করে বরং বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ceh1ce4a/king-salman.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ</figcaption></figure><p><strong>আদালতে একা, ভাষা না জানা</strong></p><p>এ বিপন্নতা আদালতে কেমন চেহারা নেয়, তা বুঝতে ইএসওএইচআর ও জেপিপির (জাস্টিস প্রজেক্ট পাকিস্তান) সহায়তায় মিসর, ইথিওপিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান ও সোমালিয়ার ২৫ বিদেশির মামলা নথিবদ্ধ করেছে অ্যামনেস্টি। তাঁরা সবাই মাদক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত; কেউ এখন মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায়, কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে গেছে।</p><p>গ্রেপ্তার হওয়া থেকে রায় পর্যন্ত এবং কারও ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও সৌদি বিচারব্যবস্থার ভেতর দিয়ে সংশ্লিষ্ট বন্দী ও তাঁদের পরিবারগুলো কীভাবে পথ চলেছে, সেটা খতিয়ে দেখেছে অ্যামনেস্টি। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ১৩ জনের পরিবার, ৪ জনের নিজ সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্য ও ১ জন কনস্যুলার কর্মকর্তার। আরও ১৫ জনের আদালতের নথিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।</p><p>পর্যালোচনার ফলাফল হলো, কম পড়াশোনা, ভাষাজ্ঞান আর টাকার অভাব থাকার কারণে এসব মানুষের দ্বিগুণ ক্ষতি হচ্ছে। প্রথমত, অভিবাসনের সময় ক্ষতি। টাকাপয়সা কম থাকায় এবং নিজের অধিকার বা নিয়মকানুন ভালোভাবে না বোঝায় সৌদি আরবে যাওয়ার শুরুতেই তাঁরা দালালদের প্রতারণা বা শোষণের শিকার হচ্ছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/9v9wjre6oy">সৌদিতে ‘দণ্ডপ্রাপ্তদের’ তালিকায় আরও ২০ বাংলাদেশি, নজরুল-সুইটির মতো তাঁদের শাস্তিও জানায়নি</a></aside><blockquote>মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর অনেক পরিবার পেয়েছে অন্য বন্দীদের ফোনকলে কিংবা গণমাধ্যমে, যখন সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় তা প্রকাশ করেছে।</blockquote><p>দ্বিতীয়ত, সৌদিতে গিয়ে কোনো আইনি জটিলতা বা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে, নিজেদের সহায়-সম্বল ও শিক্ষার অভাবে প্রবাসীরা ভালো কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন না বা সঠিকভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগও কমে যায়। এতে ন্যায্য বিচারের অধিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।</p><p>ওই ২৫ জনের অনেকে একা বিচারব্যবস্থার ভেতর দিয়ে গেছেন; আদালতের নথি বা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তাঁরা বুঝতে পারেননি, সেগুলো হাতেও পাননি। কনস্যুলার সহায়তা পাননি। সৌদি ফৌজদারি ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও ভাষার সঙ্গে পরিচয়হীনতা, গ্রেপ্তারের সময় নিজের অধিকার সম্পর্কে সীমিত ধারণা, পর্যাপ্ত দোভাষী ও আইনজীবী ছাড়া আদায় করা স্বীকারোক্তির ঝুঁকি এবং সহায়তার অভাব—সব মিলিয়ে জটিল আইনি প্রক্রিয়া সামলে কার্যকর আত্মপক্ষ সমর্থন তাঁদের জন্য অত্যন্ত কঠিন, কিছু ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।</p><figure></figure><p>কাগজে অধিকার আছে। সৌদি আরবের ২০১৩ সালের ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ তদন্ত ও বিচার—দুই ধাপেই আসামিদের আইনি সহায়তার অধিকার দেয়, নির্যাতনও নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ইএসওএইচআর খামিস মুশাইত, নাজরান ও তাবুক কারাগারের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের মামলায় যে চিত্র নথিবদ্ধ করেছে, তা ভিন্ন। তাঁদের পেশাদার দোভাষী নেই, আইনি সহায়তা নেই, বিচারপ্রক্রিয়া তাঁরা বোঝেননি, আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ পাননি। অনেক ক্ষেত্রে বন্দীরা নিজেরাই জানতেন না, তাঁদের দণ্ড কবে বহাল হলো কিংবা ক্ষমার আবেদন কবে নাকচ হলো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/y2jv6bo5/saudi-flag.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা</figcaption></figure><p><strong>একসঙ্গে সরানো হয়, তারপর একে একে...</strong></p><p>২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা তিন মিসরীয়র আসন্ন মৃত্যুদণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানান। ৩ ডিসেম্বর এ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাবুক কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা অন্তত ৪০ মিসরীয়র একটি বড় দলের অংশ ছিলেন তাঁরা।</p><p>ওই বছরের নভেম্বরে আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার (দক্ষিণ এশিয়াসহ) বিভিন্ন দেশের কয়েকজন বন্দীর সঙ্গে উল্লিখিত তিন মিসরীয়কে সরিয়ে নেওয়া হয় একটি আলাদা ওয়ার্ডে, যেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য সহবন্দীদের একে একে নিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা। আর অন্য বন্দীরা নিজেদের পালার আতঙ্কে কাটিয়েছেন। অ্যামনেস্টির হিসাবে ২০২৪ সাল থেকে ওই মিসরীয়দের ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে; ১৯ জন এখনো দণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন (তথ্য অ্যামনেস্টির)।</p><p>নভেম্বর মাসেই জাতিসংঘের দুজন বিশেষ দূত সৌদি আরবের সরকারকে যৌথভাবে চিঠি পাঠিয়ে তিন মিসরীয়র পাশাপাশি আরও ২৯ বিদেশি পুরুষের মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। এঁদের ২৮ জন ছিলেন মিসরীয়, একজন জর্ডানি। ইএসওএইচআরের সাম্প্রতিক তথ্য হলো, তাবুক কারাগারে এখন আটজন মিসরীয় মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দী আছেন।</p><p>একই ধরনের অপরাধে দণ্ডিত বিদেশি বন্দীদের একসঙ্গে বিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়ার রীতি—যেমন তাবুকে মিসরীয়, নাজরানে ইথিওপীয় ও সোমালীয়দের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এটাকে বন্দীরা ও তাঁদের পরিবারগুলো আসন্ন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখে। ইএসওএইচআরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা বন্দীরাও বলেছেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুদণ্ডের আতঙ্কে আছেন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ আসন্ন মৃত্যুদণ্ডের আগাম খবর না দেওয়ার চর্চাকে বারবার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এটি দুর্ব্যবহারের একটি রূপ, যা নির্যাতন ও নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে।</p><aside><cite></cite>আমরা ভেঙে পড়েছিলাম, বিশেষ করে এ জন্য যে শোক করার মতো সামনে ভাইয়ের মরদেহ নেই। কোনো শেষবিদায়ের আয়োজনও নেই।</aside><p><strong>‘তোমার পালা এসেছে’: অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের আমৃত্যু প্রহর</strong></p><p>বন্দীদের পরিবারগুলো অনেক সময় জানতেই পারে না, কবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। অ্যামনেস্টি বলছে, সৌদি আইনে বন্দী বা তাঁর পরিবারকে আগাম নোটিশ দেওয়ার স্পষ্ট বিধান নেই। বড়জোর মৃত্যুদণ্ডের ২৪ ঘণ্টা আগে বন্দী নিজে ফোন করে খবর দিতে পারেন বলে জানিয়েছে বন্দীদের পরিবারগুলো। কারও ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তারা আগের দিন জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তোমার পালা এসেছে।’ বহু বন্দী পরিবারকে সহবন্দীদের কীভাবে মাঝরাতে, কোনো পূর্বাভাস ছাড়া সেল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা বলেছেন।</p><figure></figure><p>আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর অনেক পরিবার পেয়েছে অন্য বন্দীদের ফোনে কিংবা গণমাধ্যমে, যখন সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় তা প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানি এক বন্দীর ক্ষেত্রে পরিবার কয়েক দিন পর খবর জেনেছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অপেক্ষায় থাকা অন্যদের ফোনকলে। কারও কারও ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তারাই তাঁদের দিয়ে খবরটা পৌঁছে দিতে বলেছেন। দূরত্ব আর ফোনে বিরল যোগাযোগের কারণে এমন পরিবারগুলোকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা নিয়ে কাটাতে হয়।</p><p>যাঁদের প্রিয়জন (বন্দী) বছরের পর বছর মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের (বন্দী) জন্য মামলার অগ্রগতির তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব, অনিয়মিত যোগাযোগ আর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নিরন্তর ভয় মিলে তৈরি হয় ‘আমৃত্যু উদ্বেগ ও হতাশার’ অবস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর্থিক চাপ—গ্রেপ্তারের পর পরিবার হারিয়েছে তার প্রধান উপার্জনকারীকে। আর দূর থেকে প্রিয়জনের শারীরিক ও মানসিক অবনতি দেখার কষ্ট তো আছেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/cn46j6ej/execution-protest.jpg"><figcaption>সৌদি আরবে শিয়া ধর্মীয় নেতা নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিবাদে লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ১৩ জানুয়ারি ২০১৬</figcaption></figure><p><strong>ফেরে না লাশ</strong></p><p>কিছু পরিবারের জন্য যন্ত্রণা আরও বাড়িয়েছে মরদেহ আটকে রাখা। সৌদি আইনে মরদেহ হস্তান্তরেরও নিশ্চয়তা নেই।</p><p>অ্যামনেস্টির নথিবদ্ধ ২৫ জনের তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে। তিনটি ক্ষেত্রেই সৌদি আরব মরদেহ পরিবারকে ফেরত দেয়নি, কবর কোথায় তা–ও জানায়নি। এতে পরিবারগুলো নিজেদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী শোক পালনের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে, বলেছে সংস্থাটি।</p><p>বন্দী জর্ডানের নাগরিক হুসেইন আবু আল-খায়েরের পরিবারের কাছে এই কষ্টের চেহারা আরও জটিল। মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার সময় তিনি তাঁর মামলার অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী খবর পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালের মার্চে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। খবরটি শুনে রাজধানী আম্মানে তাঁর পরিবার প্রথমে নীরবে বসে ছিল, তারপর ‘পাগলের মতো চিৎকার’ শুরু করে—বলেছেন তাঁর বোন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা ভেঙে পড়েছিলাম, বিশেষ করে এ জন্য যে শোক করার মতো সামনে ভাইয়ের মরদেহটি নেই। কোনো শেষবিদায়ের আয়োজনও নেই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/6f0vollg/General-Court-in-Riyadh.jpg"><figcaption>সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত আদালতের বহিরাঙ্গন</figcaption></figure><p><strong>বাংলাদেশি পরিবারগুলোর উদ্বেগ</strong></p><p>সৌদি আরবে প্রবাসীদের বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ডের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব ও উদ্বেগ বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ওপরও গভীরভাবে এসে পড়ে।</p><p>সৌদিতে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশের, অন্তত ২৫ লাখ। এরপর ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন ও মিসরের। ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকও আছেন। সম্প্রতি পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে; তাঁরা ওই ছয় মাসের হিসাবের বাইরে। ওই সময়ে কতজন বাংলাদেশির সাজা কার্যকর হয়েছে, তা জানা যায়নি।</p><p>আগেই বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আদালত ও বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীরা ঠিক কী ধরনের বৈষম্য ও আইনি সংকটের মুখোমুখি হন, সেটি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করার জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২৫টি মামলা বেছে নথিভুক্ত করেছে। মামলাগুলো মিসর, ইথিওপিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান ও সোমালিয়ার বন্দীদের নিয়ে। মাদক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যেসব দেশের নাগরিকের নাম সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, তার মধ্যেও বাংলাদেশ নেই। এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশিরা এই হিসাবের বাইরে। কারণ, ইএসওএইচআরের তালিকায় তাঁদের নাম আছে। বরং সমস্যা তথ্যের অভাব।</p><p>ইএসওএইচআর জানিয়েছে, ১০৮টির মধ্যে ৯১টি (৮৪ দশমিক ২ শতাংশ) মামলা সম্পর্কে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা কোনো তথ্য জানতে বা নথিবদ্ধ করতে পারেনি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হাতেও গ্রেপ্তার, অভিযোগ বা সাজার সরকারি পরিসংখ্যান নেই। ফলে বাংলাদেশি বন্দীর সংখ্যা, অভিযোগের ধরন, আইনজীবী ও দোভাষীর সুযোগ কিংবা কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে কোনো উত্তর নেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/gnqfixfp/Protest-executions.webp"><figcaption>নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে সৌদি নারীদের বিক্ষোভ; কাতিফ, ৮ জানুয়ারি ২০১৬</figcaption></figure><p><strong>পরিশেষ</strong></p><p>জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বর্ণ ও জাতিগত বৈষম্য চিহ্নিত করেছে। কমিটির উদ্বেগ, শিয়া সংখ্যালঘু, অভিবাসী শ্রমিক ও গৃহকর্মীরা (নারীসহ) সেখানে যথেচ্ছ আটক, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন।</p><p>এই কমিটি মৃত্যুদণ্ডে স্থগিতাদেশ আরোপ করে বিলোপের পথে এগোতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশটিতে বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও স্পষ্ট তদন্ত দাবি করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও।</p><p>ভাষা না বোঝা, আইনজীবী না পাওয়া, শেষ খবরটুকুও দেরিতে আসা, আর লাশ না ফেরা—ধাপগুলো আসলে একই শিকলে বাঁধা। অ্যামনেস্টির ভাষায়, সৌদি আরবে গ্রেপ্তার বা আটক হওয়া প্রবাসীরা একই সঙ্গে একাধিক জটিল এবং পরস্পর সম্পর্কিত সমস্যার মুখোমুখি হন। তাঁরা অপরিচিত বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হন, সেখানকার ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝেন না, এসবের পাশাপাশি তাঁদের কোনো আইনি বা দোভাষীর সাহায্য দেওয়ার মানুষও থাকে না। এই সব কটি বাধা একত্রে মিলে তাঁদের নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করা বা জীবন বাঁচানোর লড়াইকে প্রায় অসম্ভব করে তোলে।</p><p>অন্যদিকে এই শিকলের শেষ প্রান্তে বসে আছেন সেই ইথিওপীয় মা (প্রতিবেদনের শুরুতে উল্লেখ করা), যিনি ছেলের মুখে ‘শেষ নিশ্বাস’-এর কথা শুনেছিলেন। কয়েক সপ্তাহ পরও লাশ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগে ভর্তি হতে হয়েছে।</p><p><strong>তথ্যসূত্র:</strong></p><p>১. ডব্লিউআইপিওর নিবন্ধ—Law of Criminal Procedure (promulgated by Royal Decree No. M/39 of 28 Rajab 1422 (16 October 2001)), Saudi Arabia;</p><p>২. অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন—Saudi Arabia: ‘If We Had Money and a Lawyer, Maybe My Brother Would Be Alive’: Saudi Arabia’s Execution Crisis, 7 July 2025</p><p>৩. এমইএনএ (মিনা) রাইটস গ্রুপ, এএলকিউএসটি ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস (ইএসওএইচআর)—তিনটি মানবাধিকার সংস্থার যৌথভাবে তৈরি করা প্রতিবেদন—Death penalty in Saudi Arabia: joint submission to the Special Rapporteur on extrajudicial, summary or arbitrary executions, March 10, 2026; এবং</p><p>৪. ইএসওএইচআরের প্রতিবেদন—108 Saudi Arabia: Executions in the First Half of 2026.</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
হিপহপ স্ট্রিট স্টাইল লুকে মালয়েশিয়ায় মেহজাবীন চৌধুরী
হিপহপ স্ট্রিট স্টাইল লুকে মালয়েশিয়ায় মেহজাবীন চৌধুরী

সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বরাবরই তাঁর ফ্যাশন-সচেতনতার কারণে নজর কাড়েন। এবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ফটোশুটে তাঁকে দেখা গেল হিপহপ স্ট্রিট স্টাইল লুকে। রইল লুকের বিস্তারিত।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আনল গিগাবাইট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আনল গিগাবাইট

কম্পিউটারগুলোয় সরাসরি অন-ডিভাইস এআই মডেল পরিচালনা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধা রয়েছে। গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও গেমিংয়ের চাহিদা বিবেচনা করে বাংলাদেশের বাজারে আনা হয়েছে কম্পিউটারগুলো।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
এক পণ্ড হওয়া নাটকের গল্প
এক পণ্ড হওয়া নাটকের গল্প

<aside><cite></cite>‘শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বেন আপনারা! আমরা অলরেডি থানায় লিখিত দরখাস্ত দিয়ে এসেছি। এখনই যদি এই আসর বন্ধ না হয়, তবে এলাকার শান্তিতে আগুন জ্বলে উঠবে!’</aside><p>শীতের এক পড়ন্ত বিকেল। পাড়ার ক্লাবের টিনের ঘরে দারুণ এক কাণ্ড ঘটানোর প্রস্তুতি চলছিল। তরুণরা মিলে ঠিক করেছিল, আগামী শুক্রবার বার্ষিক বনভোজনে একটা ছোটখাটো হাসির নাটক মঞ্চস্থ করা হবে। খাতার পাতায় স্ক্রিপ্ট লেখা শেষ, রিহার্সালও শুরু হয়ে গেছে। সংলাপ আর হারমোনিয়ামের টুংটাং শব্দে ক্লাবঘরটা তখন বেশ জমজমাট। নাটকে খলনায়কের সংলাপ চলছে, এমন সময় ক্লাবের দরজায় হাজির হলেন এলাকার স্বঘোষিত ‘নীতি ও সমাজ রক্ষা কমিটি’র প্রধান মকবুল ভাই ও তাঁর দুই বিশ্বস্ত সাগরেদ।</p><p>​মকবুল ভাইয়ের কপালে তখন চিন্তার সাতটি ভাঁজ। তিনি পকেট থেকে একটা খাতা বের করে গম্ভীর গলায় ঘোষণা করলেন, ‘থামুন! বন্ধ করুন এই বাদ্যযন্ত্র!’</p><p>​পরিচালক তেজি যুবা রোমেল অবাক হয়ে বলল, ‘কেন, মকবুল ভাই? আমরা তো নাটকের প্র্যাকটিস করছি!’</p><p>​মকবুল ভাই চোখ গোল গোল করে বললেন, ‘নাটকের নামে সমাজে যে মহাবিপদের বীজ বপন করা হচ্ছে, তা কি আপনারা বোঝেন? ঘরে-বাইরে এত হাসাহাসি আর সংলাপবাজি হলে সমাজের গাম্ভীর্য ধসে পড়বে না? আর সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাপার হলো, মঞ্চে ছেলে আর মেয়েরা একসাথে অভিনয় করবে? ওরে বাবা! এতে তো এই শান্ত পাড়ার বাতাসে এমন সাইক্লোন বইবে যে এলাকার মুরুব্বিরা স্ট্রোক করবেন!’</p><p>​রোমেল আমতা আমতা করে বলল, ‘ভাই, এটা তো একটা শিক্ষণীয় কমেডি নাটক...’</p><blockquote>​রফিক দাঁত বের করে বলল, ‘ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লিখতে হবে—‘এখানে কোনো নাটক বা বিনোদন হচ্ছে না; এটি মূলত মানসিক চাপ কমানোর একটি বিশেষ সাইলেন্ট সাউন্ড থেরাপি চলছে!’ আর ব্যাডমিন্টন বা ফুটবল খেলার সময় পাড়া কাঁপিয়ে শট না মেরে, তুলোর বল দিয়ে নিঃশব্দে খেলতে হবে, যেন বাতাসের একটা পরমাণুও কেঁপে না ওঠে!’</blockquote><p>​কথা শেষ করতে দিলেন না মকবুল ভাই। তিনি দুই হাত নেড়ে বললেন, ‘শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বেন আপনারা! আমরা অলরেডি থানায় লিখিত দরখাস্ত দিয়ে এসেছি। এখনই যদি এই আসর বন্ধ না হয়, তবে এলাকার শান্তিতে আগুন জ্বলে উঠবে!’</p><p>​থানার কথা শুনতেই রোমেল ও তার দলের উৎসাহ একনিমেষেই কর্পূরের মতো উড়ে গেল। এর আগেই তো পাড়ার মাঠে মেয়েদের একটা প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট এই একই কায়দায় পণ্ড হয়ে গেছে। মাঠে বল গড়ানোর আগেই মকবুল ভাইয়ের দল ফতোয়া দিয়েছিল—মেয়েরা শর্টস পরে দৌড়ালে নাকি নীতি-নৈতিকতার গোলপোস্ট চিরতরে উড়ে যাবে! সেই ভয়ে সেই খেলাও মাঠে মারা গিয়েছিল।</p><p>​ঝামেলা এড়াতে রোমেলদের আর উপায় রইল না। হারমোনিয়ামের বাক্সের মুখ বন্ধ হলো, নাটকের স্ক্রিপ্টগুলো বস্তাবন্দী হয়ে আলমারির অন্ধকার কোণে আশ্রয় নিল। রোমেলসহ সবাই মন খারাপ করে যার যার বাড়িতে ফিরে গেল।</p><p>​পরদিন সকালে পাড়ার চায়ের দোকানে বসে সবাই এ নিয়ে চরম রসিকতা শুরু করল। রফিক চায়ে চুমুক দিয়ে মুচকি হেসে বলল, ‘ভাই, যেভাবে একের পর এক আনন্দ-ফুর্তি বন্ধ হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে নাটক করতে গেলে মনে হয় দরজায় একটা বিশাল ব্যানার টানাতে হবে।’</p><p>​সবাই সমস্বরে জিজ্ঞেস করল, ‘কী ব্যানার?’</p><p>​রফিক দাঁত বের করে বলল, ‘ব্যানারে বড় বড় অক্ষরে লিখতে হবে—‘এখানে কোনো নাটক বা বিনোদন হচ্ছে না; এটি মূলত মানসিক চাপ কমানোর একটি বিশেষ সাইলেন্ট সাউন্ড থেরাপি চলছে!’ আর ব্যাডমিন্টন বা ফুটবল খেলার সময় পাড়া কাঁপিয়ে শট না মেরে, তুলোর বল দিয়ে নিঃশব্দে খেলতে হবে, যেন বাতাসের একটা পরমাণুও কেঁপে না ওঠে!’</p><p>​সবার হাসির রোল উঠল ঠিকই, কিন্তু সেই হাসির নিচে লুকিয়ে রইল একরাশ চাপা দীর্ঘশ্বাস। সব সহজ-সরল আনন্দের মধ্যেই যদি এভাবে ‘অশ্লীলতা’ আর ‘বিশৃঙ্খলা’র কাল্পনিক ভূত খোঁজা চলতে থাকে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে পাড়ার মোড়ে মোড়ে সবাই মিলে স্ট্যাচুর মতো থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আনন্দ করার আর কোন পথই বা খোলা থাকবে!</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/gx01b6xb1g">সম্পাদকের শুভবিবাহ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bvavx49d33">Breaking Good</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/j2xtgsfcge">আমি ভুল করিনি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9yko8mw3h1">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6dfwgsqw20">Lieসেন্স</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dkgc2prfwa">কোথায় কোথায় কালি মাখানো যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/72zdocu7yj">এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l7r2uxvti0">রস+আলো নোবেল ২০২৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bdeu25pngs">রসচিঠি</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
শীতে ছাদবাগানের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে
শীতে ছাদবাগানের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

<p>ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টা ছাদবাগানের জন্য যেন এক ‘রিসেট বাটন’ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ এই সময়ে সঠিক নিয়ম মেনে মাটি, চারা ও গাছের যত্ন নিলে শীতজুড়ে টাটকা শাকসবজি ও রঙিন ফুলে ভর্তি থাকবে ছাদবাগান</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/1gzyr91i/040A3308.jpg"><figcaption>সঠিক সময়ে একটুখানি যত্ন ও প্রস্তুতিই আপনার পুরো শীতের ছাদবাগানকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ</figcaption></figure><p>যাঁরা নতুন করে ছাদবাগান শুরু করতে চান কিংবা পুরোনো বাগানকে শীতের উপযোগী করে সাজাতে চান, তাঁদের এখনই ‘মাঠে’ নেমে পড়া উচিত। জেনে নেওয়া যাক, শীতকালীন ছাদবাগানের প্রস্তুতি ও পরিচর্যার পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা। এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকার আসাদ গেটে অবস্থিত ফলবীথি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ <strong>মো. রুহিদ হাসান</strong>। </p><h3>১. পরিচ্ছন্নতা ও মাটি প্রস্তুতি </h3><p><strong>রোগাক্রান্ত গাছ অপসারণ</strong></p><p>বৃষ্টি পরবর্তী মরা, রোগাক্রান্ত কিংবা পোকাধরা গাছ শিকড়সহ তুলে দূরে ফেলে দিন বা পুড়িয়ে ফেলুন। রোগাক্রান্ত গাছ কোনোভাবেই কম্পোস্ট সার তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না। </p><p><strong>মাটি শোধন</strong></p><p>ছাদবাগানে ব্যবহারের জন্য রাখা বস্তাবন্দী পুরোনো মাটি খুলে ৭-১০ দিন কড়া রোদে ছড়িয়ে রাখুন। ভালো ফল পেতে বৃষ্টিতে ভেজা মাটি স্বচ্ছ পলিথিনে ঢেকে ২-৪ সপ্তাহ রোদে রাখুন। একে ‘সোলারাইজেশন’ বলে। এর ফলে মাটিতে থাকা ক্ষতিকর ছত্রাক, পোকামাকড়ের ডিম ও আগাছার বীজ নষ্ট হয়ে যায়। </p><p><strong>শস্যপর্যায় অনুসরণ</strong></p><p>একই পরিবারের ফসল, যেমন টমেটো, বেগুন, মরিচ, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি পরপর একই টবে না লাগিয়ে আলাদা স্থানে লাগান। এতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি কমবে। </p><p><strong>আদর্শ মাটির মিশ্রণ</strong></p><p>মাটির গুণগত মান বাড়াতে ৫০ শতাংশ দোআঁশ মাটি, ৩০ শতাংশ পচা গোবর বা ভার্মিকম্পোস্ট এবং ২০ শতাংশ কোকোপিট মিশিয়ে নিতে পারেন। অথবা ৪০ শতাংশ দোআঁশ মাটি, ৩০ শতাংশ জৈব সার, ২০ শতাংশ কোকোপিট ও ১০ শতাংশ বালু বা ধানের তুষ মিশিয়েও মাটির আদর্শ মিশ্রণ তৈরি করা যায়। </p><p><strong>ভিত্তিসার</strong></p><p>গাছ রোপণের আগে বা টবের মাটি তৈরি করার সময় মাটিতে যে প্রাথমিক সার বা পুষ্টি উপাদান মিশিয়ে দেওয়া হয়, তা-ই মূলত ভিত্তিসার (বেসাল ডোজ)। মূলত গাছের শিকড় গজানো, গাছের প্রাথমিক বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সময় ধরে পুষ্টি জোগান নিশ্চিত করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। </p><p>ভিত্তিসার হিসেবে প্রতি বড় টবে ৫০-১০০ গ্রাম পচানো শর্ষের খৈল, ১-২ চামচ হাড়ের গুঁড়া ও একমুঠো কাঠের ছাই মিশিয়ে দিন। প্রয়োজনে সামান্য পরিমাণে (১০-১৫ গ্রাম) ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম দেওয়া যেতে পারে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/nn72vuyw/040A3675.jpg"><figcaption>চারা চার-পাঁচ সপ্তাহের হলে স্থায়ী টবে বা ব্যাগে রোপণ করুন</figcaption></figure><h3>২. শীতের সবজি চাষ ও বিশেষ পরিচর্যা </h3><p><strong>টব ও জিও ব্যাগের সবজি</strong></p><p>বেগুন, টমেটো, ওলকপি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, গাজর, বিটরুট, স্কোয়াশ, মরিচ, ক্যাপসিকাম, লেটুস, পুদিনাপাতা, মিষ্টি আলুসহ নানা পদের শাক চাষের জন্য ১২ থেকে ১৫ ইঞ্চি গভীর টব বা জিও ব্যাগ নির্বাচন করুন। </p><p>সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুতেই বীজতলায় চারা তৈরির কাজ শুরু করা ভালো। চারা চার-পাঁচ সপ্তাহের হলে স্থায়ী টবে বা ব্যাগে রোপণ করুন। টমেটো ও বেগুনগাছ ভারী হয়ে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে কঞ্চি বা লাঠির সাপোর্ট দিন। </p> <p><strong>সরাসরি বপনযোগ্য শাকসবজি</strong></p><p>মুলা, ঢ্যাঁড়স, শালগম, গাজর, পালংশাক, লালশাক, বাটিশাক, বথুয়াশাক, শর্ষেশাক, ধনেপাতা ও লেটুসের বীজ সরাসরি টবে বোনা যায়। বীজ বোনার আগে ২০-৩০ মিনিট রোদে শুকিয়ে নিন। শুকানোর পর ঠান্ডা হলে ১০-১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে টবে বা বেডে লাগান, এতে বীজ গজানোর হার বাড়ে। </p><p>লালশাক, পালংশাক ও ধনেপাতা ১০-১৫ দিন পরপর অল্প অল্প করে বুনুন, তাহলে ধাপে ধাপে গাছ বড় হতে থাকবে, শীতজুড়ে তুলতে পারবেন টাটকা শাকপাতা। </p> <p><strong>মাচার জন্য লতানো সবজি</strong></p><p>লাউ, শিম, বরবটি ও শসার মতো লতানো সবজির জন্য ২০ ইঞ্চির টব বা বড় হাফ ড্রাম উপযোগী। টবের আকার যত বড় হবে, তত ভালো। চারা লতিয়ে উঠতে শুরু করলে বাঁশ, দড়ি বা নেট দিয়ে শক্ত মাচা তৈরি করে দিতে হবে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/qa1tjlgszs">কীভাবে এত সবজি ফলে ডালিয়ার ছাদবাগানে?</a></aside><h3>বীজ ও চারা সংগ্রহ </h3><p><strong>বীজ</strong></p><p>বীজের জন্য যেতে পারেন ঢাকায় থাকা বিএডিসির চারটি বিক্রয়কেন্দ্রে—গাবতলী বীজ ভবন, মতিঝিল কৃষি ভবন, জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে সেচ ভবনের সামনে এবং গ্রিন রোড ল্যাবএইড হাসপাতালের বিপরীতে। </p><p>এসব বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সরকার নির্ধারিত স্বল্প মূল্যে বীজ নিতে পারবেন। এ ছাড়া যেতে পারেন দেশের সর্ববৃহৎ বীজবাজার গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে।</p><p><strong>চারা</strong></p><p>স্বল্পমূল্যে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করতে পারেন সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে। ঢাকাসহ দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা শহরেই হর্টিকালচার সেন্টার রয়েছে। </p><p>ঢাকায় আছে আসাদ গেট–সংলগ্ন ফলবীথি হর্টিকালচার সেন্টার ও গুলশানে গুলশান হর্টিকালচার সেন্টার। এখানে সবজির চারার দাম শুরু মাত্র ২ টাকা থেকে; পাওয়া যায় বীজও। শুক্র, শনি ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য দিনে সরকারি অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হর্টিকালচার সেন্টার খোলা পাবেন। </p><p>এ ছাড়া চারা নিতে পারেন আপনার নিকটবর্তী বিশ্বাসযোগ্য কোনো নার্সারি থেকেও।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/67t8f9xo/040A3341.jpg"><figcaption>বৃষ্টি পরবর্তী মরা, রোগাক্রান্ত কিংবা পোকাধরা গাছ শিকড়সহ তুলে দূরে ফেলে দিন বা পুড়িয়ে ফেলুন</figcaption></figure><h3>বিশেষ পরিচর্যা </h3><p><strong>টমেটোর পরিচর্যা:</strong> টমেটো ফলের নিচে কালো দাগ হতে পারে, যাকে ‘ব্লসম এন্ড রট’ রোগ বলে। এটি মূলত ক্যালসিয়ামের ঘাটতি ও অনিয়মিত সেচের কারণে হয়। নিয়মিত সমপরিমাণ পানি দিন। সঙ্গে জিপসাম সার বা ফেলে দেওয়া শুকনা ডিমের খোসা গুঁড়া করে গাছের গোড়ায় দিন। </p><p><strong>মালচিং:</strong> মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে গাছের গোড়ায় শুকনা খড় বা পাতার আস্তরণ দিন। সবজির বেডে চাষের ক্ষেত্রে পলিথিন মালচিং ব্যবহার করতে পারেন। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/kjiz7jlpvp">ছাদবাগান থেকেই শতাধিক প্রজাতির হাজারের বেশি ছবি তুলেছেন আশিফুল, রইল তারই ১৫টি</a></aside><h3>৩. রঙিন ফুলের বাগান </h3><p>শীতকালেই ছাদবাগানে সবচেয়ে বেশি ফুলের সমারোহ ঘটে। গাঁদা, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, পিটুনিয়া, ক্যালেন্ডুলা, স্যালভিয়া, ডায়ান্থাস, প্যানজি, জিনিয়া, সূর্যমুখী ও বোতাম ফুলের বীজ বা চারা এ সময়েই রোপণ করা হয়। </p><p><strong>আলোর চাহিদা:</strong> দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা রোদ থাকা প্রয়োজন।</p><p><strong>পিঞ্চিং বা গাছের ডগা ছাঁটাই:</strong> গাঁদা ফুল রোপণের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে ডগা ছাঁটলে গাছ ঝোপালো হয়ে বেশি ফুল দেয়। </p><p><strong>গোলাপের ডাল ছাঁটাই:</strong> অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি গোলাপগাছ ছাঁটাইয়ের উপযুক্ত সময়। ডাল ছাঁটাইয়ের ৭-১০ দিন আগে থেকে পানি দেওয়ার মাত্রা কমিয়ে দিন। মরা, চিকন ও রোগাক্রান্ত ডালপালা ৪৫ ডিগ্রি কোণে কেটে দিন এবং কাটা অংশে বোর্দো পেস্ট লাগান। </p><p>পানিতে তুঁতে ও কলিচুন সমান অনুপাতে মিশিয়ে এই পেস্ট তৈরি করা হয়। ডালপালার কাটা অংশকে রোগজীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এটি প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডাল ছাঁটাইয়ের ৭-১০ দিন পর জৈব সার, হাড়ের গুঁড়া ও পটাশ প্রতি টবে ১ চামচ করে দিন। সঠিক সময়ে ডাল ছাঁটলে নতুন ডালে প্রচুর কুঁড়ি আসে এবং ফুলও আকারে বড় হয়। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/hqf0w83a/040A3326.jpg"><figcaption>অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখুন</figcaption></figure><h3>৪. কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থাপনা </h3><p><strong>জৈব সুরক্ষা:</strong> গাছে পোকার আক্রমণ রোধে সপ্তাহে ১-২ বার প্রতি লিটার পানিতে ৫ মিলিলিটার করে নিম তেল মিশিয়ে স্প্রে করুন। ছত্রাক বা পাতাপচা রোগ থেকে বাঁচতে গাছে কাঠের ছাই ছিটাতে পারেন।</p><p><strong>সেচ সতর্কতা:</strong> শীতের রাতে শিশির পড়ে, তাই সান্ধ্য সেচ এড়িয়ে চলাই ভালো। রাতে সেচ দিলে গাছের গোড়ায় পচন ধরতে পারে; তাই সব সময় সকালে সেচ দিন এবং টবের মাটি শুকিয়ে এলে তবেই পানি দিন।</p><h3>৫. ছাদের নিরাপত্তা ও বাড়তি পরামর্শ</h3><p><strong>পানির প্রবাহ ঠিক রাখা:</strong> অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখুন।</p><p><strong>টবের নিচে স্ট্যান্ড ব্যবহার:</strong> টব বা ড্রামের নিচে স্ট্যান্ড, ট্রে বা ইট ব্যবহার করুন, যাতে ছাদের গায়ে সরাসরি পানি জমে ছাদের ক্ষতি না হয়।</p><p><strong>টবের বণ্টন:</strong> ছাদের এক স্থানে অনেকগুলো ভারী টব না রেখে সুষমভাবে ছড়িয়ে রাখুন।</p><p>নতুন বাগানপ্রেমীরা শুরুতেই খুব বেশি গাছ না নিয়ে অল্প যত্নে ফলে এমন লালশাক, পালংশাকের মতো অল্প কিছু শাক, টমেটো, বেগুনের মতো সবজি কিংবা কয়েকটি গাঁদা বা কসমস ফুল দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারেন। সঠিক সময়ে একটুখানি যত্ন ও প্রস্তুতিই আপনার পুরো শীতের ছাদবাগানকে করে তুলবে প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/p5rkofnmwp">ছাদবাগান মশামুক্ত রাখার উপায়</a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
সৌদি-হুতি যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক কেন আলোচনার কেন্দ্রে
সৌদি-হুতি যুদ্ধে বাংলাদেশের শ্রমিক কেন আলোচনার কেন্দ্রে

এই যুদ্ধে সম্পদ ও সামরিক ব্যয়ের হিসাবও সরল নয়। সৌদি আরবকে বিস্তৃত তেল অবকাঠামো, বিমানবন্দর, বন্দর ও নগরজীবন রক্ষা করতে হয়।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা
৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা

৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”