গ্যাজেট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আনল গিগাবাইট

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আনল গিগাবাইট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর কম্পিউটার ও ল্যাপটপ আনল গিগাবাইট
কম্পিউটারগুলোয় সরাসরি অন-ডিভাইস এআই মডেল পরিচালনা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং সুবিধা রয়েছে। গবেষণা, তথ্য বিশ্লেষণ ও গেমিংয়ের চাহিদা বিবেচনা করে বাংলাদেশের বাজারে আনা হয়েছে কম্পিউটারগুলো।

Prothomalo

View more
‘স্বামীকে ভালোবাসি, তাতে সমস্যা কোথায়?’ কাদের ওপর চটলেন রাশমিকা
‘স্বামীকে ভালোবাসি, তাতে সমস্যা কোথায়?’ কাদের ওপর চটলেন রাশমিকা

করণ জোহরের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে একসঙ্গে হাজির হওয়ার পর রাশমিকা ও বিজয়ের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
আয়কর রিটার্ন কখন দিলে ছাড় পাবেন, কখন জরিমানায় পড়বেন, জেনে নিন
আয়কর রিটার্ন কখন দিলে ছাড় পাবেন, কখন জরিমানায় পড়বেন, জেনে নিন

<p>জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন দেওয়ার সময় আছে আর মাত্র দুই মাস। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো জরিমানা ছাড়া নির্ধারিত কর দিয়ে আয়কর রিটার্ন দিতে পারবেন। ১ জানুয়ারি থেকে রিটার্ন দিলে জরিমানার মুখে পড়তে হবে।</p><p> এ বছর থেকে সব করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দিতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাই যা কর আরোপ হবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নির্ধারিত হবে। ফলে ১ জানুয়ারি থেকে রিটার্ন দিলে শুধু নির্ধারিত কর দিয়ে সাবমিট বা জমা দিতে চাইলে এনবিআরের সিস্টেম তা নেবে না।</p><p> বর্তমান সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতিবছর মাত্র ৫০ লাখের মতো রিটার্ন দেন।</p><p><strong>কখন রিটার্ন দিলে ছাড়, কখন জরিমানা</strong></p><p>চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) যাঁরা রিটার্ন দিয়েছেন, তাঁরা পরিশোধ করা থেকে ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম, তা-ই ছাড় পাবেন। তবে রিটার্ন দেওয়ার সময় যে কর পরিশোধ করা হবে, সেই করের ওপর শুধু ছাড় পাওয়া যাবে।</p><p>দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর), অর্থাৎ এখন যাঁরা রিটার্ন দেবেন, তাঁরা কোনো ছাড় পাবেন না। যা কর আসবে, তা-ই দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।</p><p>জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা তিন হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। মার্চ মাসের পর রিটার্ন দিলে জরিমানা আরও বাড়বে।</p><p>এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা পাঁচ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।</p><p><strong>কীভাবে কর দেবেন</strong></p><p>করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।</p><p>অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মীরা কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করবেন।</p><p><strong>দলিল সংরক্ষণ করবেন</strong></p><p>শুধু রিটার্ন জমা দিলেই করদাতার দায়িত্ব শেষ নয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ, ভবিষ্যতে কর কর্মকর্তাদের নিরীক্ষায় পড়লে যেন সহজে উপস্থাপন করা যায়। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে ঝুঁকি আছে।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
কলেজে ভর্তি হয়েও জিপিএ–৫ পাওয়া রাজশাহীর রুকসানার পড়াশোনা অনিশ্চিত
কলেজে ভর্তি হয়েও জিপিএ–৫ পাওয়া রাজশাহীর রুকসানার পড়াশোনা অনিশ্চিত

<p>এসএসসি পরীক্ষার পর রাজশাহী শহরের একটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যে মেয়েটির চোখে স্বপ্নের আলো জ্বলে উঠেছিল, সেই আলো এখন ক্রমেই ম্লান হয়ে আসছে। অর্থের অভাবে তার বই কেনা হয়নি, শহরে থাকার মেসও ঠিক হয়নি। বাড়ি থেকে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করাও সম্ভব নয়। এর মধ্যে আড়াই বছর ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত তার মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে সেটি হয়নি।</p><aside><cite>মতিউর রহমান, প্রধান শিক্ষক, ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়</cite>রুকসানার পরিবার খুবই দীন। বসবাস করার মতো ভালো ঘরও নেই। স্কুলে থাকাকালীন তার কোনো বেতন নেওয়া হয়নি। এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও তাকে সাহায্য করেছি।</aside><p>রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের মেয়ে মোছা. রুকসানা খাতুন। মা রাফিয়া বিবি। বাবা মো. নূর মোহাম্মদ দিনমজুর। পাশের এলাকার ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে রুকসানা। পরে সে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হয়।</p><h3>কলেজে ভর্তিতে সহায়তা করেছিলেন এক কর্মকর্তা </h3><p>দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রুকসানার স্বপ্ন, একদিন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরবে। অনেক কষ্টে এসএসসিতে ভালো ফল করলেও কলেজে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে পারেনি। অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় তার পরিবার। খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন পুঠিয়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবুদাস। তাঁর সহযোগিতায় রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হয় রুকসানা। সেই কর্মকর্তা এখন বদলি হয়ে গেছেন।</p><p>কিন্তু কলেজে ভর্তিই শেষ কথা নয়। রাজশাহী শহরে থেকে পড়তে হলে লাগবে থাকা-খাওয়া, বই-খাতা ও যাতায়াতের খরচ। সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, জানে না রুকসানা।</p><blockquote>কলেজে ভর্তিই শেষ কথা নয়। রাজশাহী শহরে থেকে পড়তে হলে লাগবে থাকা-খাওয়া, বই-খাতা ও যাতায়াতের খরচ। সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, জানে না রুকসানা।</blockquote><p>রুকসানার মা রাফিয়া বিবির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ১৮ অক্টোবর তাঁকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর চিকিৎসকেরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। অর্থের অভাবে সেখানে নেওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকাও নেই। ফলে তার মাকে বাড়িতে এনে রাখতে বাধ্য হয়েছেন বাবা নূর মোহাম্মদ। একদিকে মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে রুকসানার লেখাপড়া—দুটোই আটকে আছে অর্থাভাবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/g2j1yl1i/RajStudent-2.jpg"><figcaption>অসুস্থ মায়ের পাশে বসে আছে রুকসানা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুঠিয়ার সিংড়া গ্রামে</figcaption></figure><h3>‘যেভাবেই হোক পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই’ </h3><p>রুকসানা প্রথম আলোকে বলে, ‘আমার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁদেরও আর্থিক অবস্থা ভালো না। কোনো সহায়তা করতে পারেন না। কিন্তু যেভাবেই হোক আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।’</p><p>ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রুকসানার পরিবার খুবই দীন। বসবাস করার মতো ভালো ঘরও নেই। স্কুলে থাকাকালীন তার কোনো বেতন নেওয়া হয়নি। এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও তাকে সাহায্য করেছি।’ বিত্তবান কেউ এগিয়ে এলে মেয়েটি অনেক দূর যেতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ
প্রকৃতি ও পরম্পরার সেতুবন্ধ

<p>রাজধানীর গুলশান ২-এ ১০৪ নম্বর রোডে নতুন প্রতিষ্ঠিত গ্যালারি হামিদুজ্জামানে ২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের শিল্পকলার বিভিন্ন প্রজন্ম, প্রবণতা ও সংবেদনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখার একটি উপলক্ষ। প্রত্যেকের কাজে ভিন্নতার মধ্যেও যেন প্রকৃতি ও পরম্পরার একটি সেতুবন্ধু লক্ষণীয়। প্রদর্শনীটি আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।</p><p>কোথাও রং ও রেখার বিমূর্ত বিন্যাস, কোথাও প্রকৃতির নিবিড় উপস্থিতি, আবার কোথাও অবয়বের মধ্য দিয়ে অন্তর্লোকের অনুসন্ধান। এভাবেই প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলো নানা আঙ্গিক ও অভিব্যক্তিতে তুলে ধরেছে শিল্পের বহুমাত্রিক ভাষা, যা কেবল দৃশ্যমান বাস্তবতার অনুলিপি নয়, বরং শিল্পীর নিজস্ব অনুভব, উপলব্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির সৃজনশীল প্রকাশ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/77gmy8ho/1.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A7%80%E0%A6%A8.jpg"><figcaption>‘শিরোনামহীন’, মুস্তাফা মনোয়ার।</figcaption></figure><p>শিল্পী বীরেন সোমের ‘আমার মনের লাল রং’ এবং শাহানুর মামুনের ‘একাত্তরের চেতনা’র মধ্যে রং প্রয়োগের একটি লক্ষণীয় সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। দুই শিল্পীর প্রজন্মগত ব্যবধান থাকলেও ক্যানভাসে রং লেপনের স্বাধীনতা, পৃষ্ঠতলের সক্রিয়তা এবং দৃশ্য নির্মাণের প্রবণতায় কোথাও যেন মিল রয়েছে। বীরেন সোমের ক্যানভাসে লাল রং কেবল একটি বর্ণ নয়; তা হয়ে ওঠে মানসিক অনুভবের বিস্তার। অন্যদিকে শাহানুর মামুনের ল্যান্ডস্কেপধর্মী রঙের স্তর ও প্রয়োগ দৃশ্যমান প্রকৃতিকে অতিক্রম করে আবেগের নিজস্ব পরিসর তৈরি করে। এই সাদৃশ্যকে নিছক অনুসরণ বলা যায় না; বরং এর মধ্যে বাংলাদেশের শিল্পচর্চায় এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত শৈল্পিক সংবেদনের আভাস মেলে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/1ywvd8ws/2.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AA.jpg"><figcaption>‘নীরবতার সংলাপ’, মনিরুল ইসলাম।</figcaption></figure><p>বাংলাদেশের চিত্রকলায় প্রকৃতি বরাবরই এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। নদী, জল, আকাশ, মেঘ, দিগন্ত ও ঋতুবৈচিত্র্য এ দেশের শিল্পীদের মননে নানাভাবে ছাপ ফেলেছে। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলার প্রকৃতি কখনো সরাসরি দৃশ্য হয়ে, কখনো রং ও রেখার বিমূর্ত ইশারায় ক্যানভাসে ফিরে আসে। এই প্রদর্শনীতেও প্রকৃতি কেবল চোখে দেখা কোনো ভূদৃশ্য নয়; শিল্পীর অন্তর্জগতের সঙ্গে তার এক নিবিড় সম্পর্ক অনুভব করা যায়।</p><blockquote>বাংলাদেশের চিত্রকলায় প্রকৃতি বরাবরই এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। নদী, জল, আকাশ, মেঘ, দিগন্ত ও ঋতুবৈচিত্র্য এ দেশের শিল্পীদের মননে নানাভাবে ছাপ ফেলেছে। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলার প্রকৃতি কখনো সরাসরি দৃশ্য হয়ে, কখনো রং ও রেখার বিমূর্ত ইশারায় ক্যানভাসে ফিরে আসে।</blockquote><p>শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের জলরঙের ল্যান্ডস্কেপে প্রকৃতির এই অন্তরঙ্গ রূপ বিশেষভাবে ধরা পড়ে। তাঁর রঙের সংযম, জলরঙের স্বচ্ছতা এবং দৃশ্য নির্মাণের মুনশিয়ানা প্রকৃতিকে নিছক অনুকরণে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং দৃশ্যের মধ্যে একধরনের নৈঃশব্দ্য ও অনুভবের গভীরতা তৈরি করে। শিল্পী মনিরুল ইসলামের জলরঙের বিমূর্তধর্মী কাজগুলোও স্বতন্ত্র শিল্প–সুষমায় উজ্জ্বল। সেখানে রং ও রেখা পরিচিত বস্তুর সীমা ছাড়িয়ে নিজস্ব অর্থ ও অনুভূতির জগৎ নির্মাণ করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/47kxxqtu/3.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%AE-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%B0%E0%A6%82.jpg"><figcaption> ‘আমার মনের লাল রং’, বীরেন সোম।</figcaption></figure><p>রনজিৎ দাসের দিগন্তবিস্তৃত ল্যান্ডস্কেপে বাংলাদেশের নদীমাতৃক ভূপ্রকৃতির একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ রূপ ধরা পড়ে। বিস্তৃত পরিসর, দূরত্বের অনুভব ও ভূদৃশ্যের বিন্যাস দর্শককে প্রকৃতির সঙ্গে একধরনের নীরব সংলাপে যুক্ত করে। শিল্পী আবদুল মান্নানের আকাশ, মেঘ ও জমিনের বিন্যাসেও বাংলার প্রকৃতির প্রতি এক নান্দনিক অনুরাগ লক্ষ করা যায়। শিল্পী রোকেয়া সুলতানা, কনক চাঁপা চাকমা ও আনিসুজ্জামান কাজেও প্রকৃতির নানা রূপ ও রঙের উপস্থিতি প্রদর্শনীর দৃশ্যভাষাকে বহুমাত্রিক করেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/vlgyzbt1/4.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF.jpg"><figcaption>‘পাহাড়ের সৌন্দর্য’, কনকচাঁপা চাকমা।</figcaption></figure><p>তবে ‘বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ’ শিরোনামের এই প্রদর্শনী কেবল প্রকৃতিনির্ভর শিল্পের প্রদর্শনী নয়। প্রকৃতির সঙ্গে এ অঞ্চলের আধ্যাত্মিকতা, প্রতীকী ভাষা ও প্রাচ্যশৈলীর যে দীর্ঘ সম্পর্ক, তারও পরিচয় মেলে কয়েকটি কাজে। শিল্পী আবদুস সাত্তারের ‘বুদ্ধ’ প্রতিকৃতিতে বুদ্ধের মুখাবয়ব, প্রশান্ত অভিব্যক্তি ও অলংকরণে ধ্যানমগ্নতার আবহ তৈরি হয়েছে। এখানে অবয়বের সৌন্দর্য শুধু দৃশ্যগত নয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্তরের প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভব। তাঁর শিল্পভাবনার দীক্ষা লাভ করা শিল্পী আফরোজা জামিল কঙ্কার ‘আমাসের কথা’ শীর্ষক কাজে দ্বিমাত্রিক রং লেপনে নারী মুখাবয়বে নিজস্ব প্রকাশ লক্ষণীয়। অন্যদিকে শওকাতুজ্জামানের মোরগের ছবিতে প্রাণীর অবয়বের মধ্য দিয়েই অভিব্যক্তির এক স্বতন্ত্র ভাষা তৈরি হয়েছে। চোখ, মুখ ও দেহভঙ্গি সেখানে নিছক জীবজগতের পরিচয় ছাড়িয়ে রূপক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/fqn40e4r/5.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B8-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7.jpg"><figcaption>‘বুদ্ধ’, আব্দুস সাত্তার।</figcaption></figure><p>চিত্রকলার পাশাপাশি প্রদর্শনীতে ভাস্কর্যের উপস্থিতিও দর্শকের অভিজ্ঞতাকে প্রসারিত করেছে। কাওসার হাসান টগর ও আইভি জামানের ভাস্কর্যে দ্বিমাত্রিক ক্যানভাসের বাইরে ত্রিমাত্রিক রূপ, আয়তন ও পরিসরের আনন্দ অনুভব করা যায়। মাধ্যমের এই ভিন্নতা প্রদর্শনীর নামের তাৎপর্যকেও যেন আরও স্পষ্ট করে—শিল্পের প্রকাশ কোনো একটি মাধ্যম কিংবা নির্দিষ্ট রীতির মধ্যে আবদ্ধ নয়।</p><blockquote>চিত্রকলার পাশাপাশি প্রদর্শনীতে ভাস্কর্যের উপস্থিতিও দর্শকের অভিজ্ঞতাকে প্রসারিত করেছে। কাওসার হাসান টগর ও আইভি জামানের ভাস্কর্যে দ্বিমাত্রিক ক্যানভাসের বাইরে ত্রিমাত্রিক রূপ, আয়তন ও পরিসরের আনন্দ অনুভব করা যায়। মাধ্যমের এই ভিন্নতা প্রদর্শনীর নামের তাৎপর্যকেও যেন আরও স্পষ্ট করে—শিল্পের প্রকাশ কোনো একটি মাধ্যম কিংবা নির্দিষ্ট রীতির মধ্যে আবদ্ধ নয়।</blockquote><p>বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের চিত্রকলার একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হলো বাস্তব দৃশ্যের আলোকচিত্রনির্ভর উপস্থাপনা এবং কারিগরি নিপুণতার প্রদর্শন। অবশ্য বাস্তবতার কাছাকাছি যাওয়া কিংবা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন নিজে কোনো সীমাবদ্ধতা নয়। কিন্তু শিল্প যখন কেবল দৃশ্যের বিশ্বস্ত প্রতিরূপ নির্মাণে থেমে যায়, তখন তার অন্তর্লোক আবিষ্কারের সম্ভাবনা সংকুচিত হতে পারে। ‘বিয়ন্ড বাউন্ডারিজ’-এর নির্বাচিত কিছু কাজে রং, রেখা, রঙের স্বতঃস্ফূর্ততা ও বিমূর্ততার যে উপস্থিতি দেখা যায়, তা দর্শককে দৃশ্যের বাইরে অনুভবের জগতে প্রবেশের সুযোগ দেয়। যেমন শিল্পী বিপাশা হায়াত, কাজী সহিত ও কামাল উদ্দিনের শিল্পকর্মে বাস্তবধর্মী থাকলেও, উপস্থাপনার স্বাতন্ত্র্যে তা নিছক বাস্তবের প্রতিফলন না থেকে ভিন্নতর ভাবার্থ ও ব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/gqmmhwsx/6.-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%80-%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A8-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF.jpg"><figcaption>‘একাত্তরের শক্তি’, শাহানুর মামুন।</figcaption></figure><p>রাজধানীর গুলশান ২-এ ১০৪ নম্বর রোডে নতুন প্রতিষ্ঠিত গ্যালারি হামিদুজ্জামানে ২ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের শিল্পকলার বিভিন্ন প্রজন্ম, প্রবণতা ও সংবেদনের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে দেখার একটি উপলক্ষ বলা যায়। প্রত্যেকের কাজে ভিন্নতার মধ্যেও যেন প্রকৃতি ও পরম্পরার একটি সেতুবন্ধু লক্ষ্যণীয়। প্রদর্শনীটি আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।</p>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি-৫
মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি-৫

<p>মালাক্কা থেকে পেনাংয়ে যাওয়ার ডোমেস্টিক ফ্লাইট নেই। হয় কুয়ালালামপুর ফিরে ফ্লাইট ধরে যেতে হবে, নয়তো বাস কিংবা ট্যাক্সি। আমরা ট্যাক্সি নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম।</p><p> রাতের অন্ধকারে গাড়ি এগিয়ে চলল উত্তরের দিকে। পেনাংয়ে যাওয়ার পথটা বেশ দীর্ঘ। প্রায় পাঁচ শ কিলোমিটার। আমাদের সারথি (ট্যাক্সিচালক) সিম্বে দা জানালেন, বিরতি ও যানজটের ওপর নির্ভর করে ছয় ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।</p><p> রাতের যাত্রায় বাইরের দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ে না। জানালার ওপারে অন্ধকার, এদিকে সারা দিন ঘোরাঘুরির ক্লান্তি। কখন যে রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে এল, বুঝতেই পারিনি। সকালে পেনাংয়ে পৌঁছে কোপিতিয়ামে কায়া টোস্ট, আধা সেদ্ধ ডিম আর কফি দিয়ে নাশতা সেরে নিলাম।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/zwzt8u43/%E0%A7%A8.-%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%96.jpeg"><figcaption>মন্দিরের ভেতরে সারি সারি বুদ্ধের মুখ। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>এবার আমাদের গন্তব্য কেক লোক সি মন্দির। সকালবেলায় মন্দির দেখতে যাওয়ার মধ্যে আলাদা একটা স্বস্তি ছিল। দিনের ব্যস্ততা তখনো শুরু হয়নি। মন্দিরের বিশাল চত্বরজুড়ে চীনা বৌদ্ধ স্থাপত্যের নিদর্শন। বাঁকানো ছাদ, রঙিন কারুকাজ আর বুদ্ধমূর্তিতে সাজানো প্রার্থনাকক্ষগুলোর মধ্যে ঘুরতে ঘুরতে চোখ আটকে গেল সাততলা প্যাগোডাটিতে। চীনা, থাই ও বার্মিজ স্থাপত্যরীতির মিশেলে তৈরি এই স্থাপনার প্রত্যেকটা স্তরের গড়ন আলাদা। আরও ওপরে করুণার বোধিসত্ত্ব গুয়ানইনের বিশাল ব্রোঞ্জমূর্তি। এত বৈচিত্র্যময় স্থাপত্য একই মন্দিরচত্বরে পাশাপাশি দেখে মনে হচ্ছিল, পেনাংয়ের ইতিহাসে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন, কেক লোক সি যেন তারই অপূর্ব প্রকাশ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/yvdg40h9/%E0%A7%A9.-%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A3-%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF.jpeg"><figcaption>জর্জ টাউনের বন্দরগুলোতে এলে চোখে পড়ে দারুণ জেটি। ছবি: লেখকের সৌজন্যে </figcaption></figure><p>মন্দির দেখা শেষ হলে সিম্বে দা আমাদের নিয়ে গেলেন তাঁর পরিচিত এক মালয় বাড়িতে। জায়গাটির নাম এয়ার ইতাম। পাহাড়ঘেরা এই জনপদে কৃষিকাজ ও ফলের বাগানের পুরোনো ঐতিহ্য রয়েছে। মালয় পরিবারটি আতিথেয়তার কোনো কমতি রাখল না। গোলাপি পেয়ারা আর ভেষজ পাতার একটি পানীয় দেওয়া হলো। নাম জানি না, তবে দারুণ ছিল খেতে। পরে কলাপাতায় পরিবেশিত হলো মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার নাসি লেমাক। নারকেলের দুধে রান্না করা সুগন্ধি ভাতের সঙ্গে সাম্বাল, ডিম, চিনাবাদাম আর ছোটমাছ। পেনাং শহরকে চেনার পাশাপাশি মালয় পরিবারের আতিথেয়তা এক অনন্য অভিজ্ঞতা।</p><p>বিশ্রাম শেষে এবার বেরিয়ে পড়লাম জর্জ টাউনের উদ্দেশে। আমাদের সঙ্গে মালয় পরিবারটির দুজন সদস্য যোগ দিলেন। সকালে মন্দিরে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল, বিকেলের দিকে শহর ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা একেবারে অন্য রকম।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/l5etpar3n1">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি-১</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/ictx70dy/%E0%A7%AA.-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%86%E0%A6%A7%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7-%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A5%A4-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%80-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0.jpeg"><figcaption>কোপিতিয়ামে কায়া টোস্ট, আধা সেদ্ধ ডিম, কফি। পেনাংয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>১৭৮৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পেনাংয়ে বাণিজ্যিক ঘাঁটি তৈরি করার পর শহরটির উপযোগিতা বাড়তে থাকে। বন্দরের টানে চীনা ও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। মালয় অধিবাসীদের সঙ্গে তাঁদের জীবন ও কাজের যোগাযোগ তৈরি হয়।</p><p>আজকের পেনাং বন্দর অবশ্য সেই পুরোনো জেটি আর পালতোলা জাহাজের জগতে আটকে নেই। মালাক্কা প্রণালির পাশে আধুনিক কনটেনার টার্মিনাল, পণ্যবাহী জাহাজ, ফেরি ও ক্রুজ টার্মিনাল মিলিয়ে এটা উত্তর মালয়েশিয়ার বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারগুলোর একটি। বন্দরের কার্যক্রম দ্বীপের জর্জ টাউনেই সীমাবদ্ধ নয়। কার্গো টার্মিনালের বড় অংশ মূল ভূখণ্ডের বাটারওয়ার্থ ও প্রাই এলাকায়।</p><p>পেনাং বন্দরকে শুধু পণ্য ওঠানামার জায়গা বললে ভুল হবে। এই দ্বীপে কারা এসেছে, কারা বসতি গড়েছে, আর কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতির মানুষ একই শহরের অংশ হয়ে উঠেছে, এটা সেই দীর্ঘ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/me81wox6/%E0%A7%AB.-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%82-%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A5.jpeg"><figcaption>তানজুং রু, যেখানে সমুদ্র নিজেই মেলে ধরে বালির পথ। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>পরদিন পেনাংয়ের ফোর্ট কর্নওয়ালিস, চিয়ং ফাট জে ব্লু ম্যানশন আর ক্ল্যান জেটি দেখে আমরা রওনা দিলাম কুয়ালা পেরলিসের দিকে। সেখান থেকে ফেরি ধরে যাব লংকাউই।</p><p>মালয়েশিয়া আসার পর থেকে পুরোটা সময় ছোটমামা আর সিম্বেদা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ছোটমামা খুব ভালো মালয় বলেন। তাই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা, কোথাও যাওয়ার জন্য পথঘাট বুঝে নিতে আলাদা কোনো অসুবিধে হয়নি। কুয়ালা পেরলিসে এসে সেই সঙ্গের ইতি টানতে হলো।</p><p>মামা আর সিম্বেদার কাছে থেকে বিদায় নিয়ে লংকাউইগামী যাত্রীবাহী ফেরিতে উঠলাম। মন খারাপ হলে দূর দিগন্তে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে। মামাকে ছেড়ে, পেরলিসের উপকূল পেছনে রেখে এগোতে থাকলাম লংকাউইয়ের দিকে। স্থলপথের সঙ্গে সমুদ্রযাত্রার একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। এখানে রাস্তার বাঁক ধরে গন্তব্যের দিকে যাওয়া যায় না। জলরাশির বিস্তারের মধ্যে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে দিগন্ত। ঘণ্টা দেড়েক পর কুয়াহ বন্দর চোখে পড়ল।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/t0n7cmgq9k">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–২</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/tvf6fpzr/%E0%A7%AC.-%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%82-%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%95.jpeg"><figcaption>তানজুং রু দ্বীপে লেখক। ছবি: লেখকের সৌজন্যে </figcaption></figure><p>বন্দরে নেমে প্রথমেই গেলাম ইগল স্কয়ারে। সমুদ্রের কাছে বিশাল বড় ভাস্কর্য। লংকাউইয়ের নামটা এই ঈগলের কাছে ঋণী। মালয় ভাষায় ‘হেলাং’অর্থ ঈগল। আর ‘কাউই’হলো লালচে-বাদামি রং।</p><p>কুয়াহ শহর ঘুরে ঘুরে দেখলাম বন্দরকেন্দ্রিক জনপদের বাণিজ্যিক রূপ। একসময় কুয়াহতে ছিল মৎস্যজীবী জেলেদের বসতি। সমুদ্রপথে যোগাযোগ সহজ বলে পরবর্তী সময়ে এখানে বন্দরনগরী গড়ে ওঠে। ১৯৮৭ সালের লংকাউইকে শুল্কমুক্ত দ্বীপ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে কুয়াহ হয়ে ওঠে লংকাউই দ্বীপপুঞ্জের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র।</p><p>লংকাউইয়ের অসংখ্য দ্বীপের মধ্যে থাকার জন্য পছন্দ তানজুং রু। কুয়াহতে জনপরিবহন খুব একটা নেই। অগত্য গ্রাব নিয়েই পৌঁছে গেলাম রিসোর্টে। একটু জিরিয়ে বেরিয়ে পড়লাম সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে। লংকাউইয়ের উত্তর প্রান্তে এসে চোখে পড়ে বিস্তৃত বালুকাবেলা, নীল সমুদ্র আর দূরে নীলাভ জলে ভেসে থাকা দ্বীপগুলো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/wohip7pl/%E0%A7%AD.-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B2-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%B0.jpeg"><figcaption>সমুদ্রের বুকে ভেসে থাকা পাহাড়গুলো নীল দিগন্তের নিজস্ব স্বাক্ষর। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>যদিও দ্বীপপুঞ্জটির শিলা ও ভূপ্রকৃতি পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস ধরে রেখেছে। তানজুং রুসহ উত্তর-পূর্ব লংকাউইয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চুনাপাথরের কার্স্ট দেখা যায়। সমুদ্রে জমে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট পলির সঙ্গে মিশে দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় চুনাপাথরে পরিণত হয়েছে। পরে ভূত্বকের পরিবর্তন, উত্থান, জল ও আবহাওয়ার দীর্ঘ ক্ষয় সেই শিলাগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি দিয়েছে। কোথাও তৈরি হয়েছে গুহা, কোথাও খাড়া পাহাড়ি দেয়াল, আবার কোথাও সমুদ্রের মধ্যে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/2hfhrkkd/%E0%A7%A7%E0%A7%A6.-%E0%A6%86%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A6%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A5%A4-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%98-%E0%A6%AC%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A7%9F.jpeg"><figcaption>আকাশছোঁয়া স্কাইব্রিজ। পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে মেঘ, বন আর সমুদ্রকে একসঙ্গে দেখা যায়। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে এসব কথা ভাবলে দৃশ্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চোখের সামনে যেসব পাথুরে দ্বীপ, সেগুলো প্রাগৈতিহাসিক সাক্ষী। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটিয়ে সন্ধের সূর্যকে বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরলাম। ততক্ষণে রিসোর্টে রাতের খাবার তৈরির ধুম পড়ে গেছে। খাবারের নামগুলো বেশ মজার। মি গুলং, ইকান বাকর, পেক ঙা। সর্বোপরি রয়েছে মালয়েশিয়ায় সিগনেচার আইটেম ‘কোকোনাট স্টিকি রাইস’।</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/l563xn37sv">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–৩</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/qizx81se/%E0%A7%AE.-%E0%A6%A6%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%98-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%98%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE.jpeg"><figcaption> দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটিয়ে সন্ধের সূর্যকে বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরলাম। ছবি: লেখক </figcaption></figure><p>রাত কাটল তানজুং রু রিসোর্টে। ঘরের জানালা দিয়ে সমুদ্র দেখা যায়। দিনের বেলায় সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যে অসীম বিস্তার দেখেছি, রাতে দেখলাম ঘরের ভেতর থেকে, জানালার ফ্রেমে। দেখার জায়গা বদলেছে, সমুদ্র রয়ে গেছে একই। তবু রাতের দৃশ্যটা আলাদা করে মনে থাকল।</p><p>পরদিন সকালে লংকাউই স্কাই ব্রিজের কোল ঘেষে পৌঁছে গেলাম পদাং মাতসিরাত বিমানবন্দরে। কুয়ালালামপুরের উড়ান ধরবার আগে দ্বীপটির সঙ্গে পরিচয়পর্ব এখানেই শেষ হলো।</p><p>অল্প সময় ঘুরে যতটুকু বুঝেছি, দ্বীপটির ভূপ্রকৃতি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছিল তানজুং রুতে। সমুদ্রে ভেসে থাকা চুনাপাথরের দ্বীপ, পায়ের কাছে নেমে আসা নীল জল আর দীর্ঘ বালুকাবেলা। লংকাউইকে মনে রাখার জন্য এই দৃশ্যই যথেষ্ট। শেষ</p><p>*অমৃতা ইশরাত: ব্যাংকার ও লেখক</p><aside><a href="https://nagorik.prothomalo.com/travel/pmgy2pfr1b">মালয়েশিয়া ভ্রমণ: কালের যাত্রাধ্বনি–৪</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/3nvszu6g/%E0%A7%AF.-%E0%A6%B2%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%87%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%87-%E0%A6%88%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%8B%E0%A6%A3%E0%A7%80.jpeg"><figcaption>লংকাউইয়ের নামটা এই ইগলের কাছে ঋণী। ছবি: লেখক </figcaption></figure>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বরের পর্যন্ত
চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বরের পর্যন্ত

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২২টি পদের জন্য ৩৯৩ কর্মী নিয়োগ দেবে, আবেদন ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার পিএইচডি ফেলোশিপ, অনুদান ৬০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার পিএইচডি ফেলোশিপ, অনুদান ৬০ হাজার ডলার

<p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ আবেদন আহ্বান করেছে। এ ফেলোশিপে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার অনুদান পাবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণারত শিক্ষার্থীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগ উন্মুক্ত।</p><p><strong>ফেলোশিপের সুযোগ-সুবিধা—</strong></p><p>এ ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ডলার দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যবস্থাপনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ভাতা, টিউশন ফি ও বাধ্যতামূলক ফি পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। ফেলোশিপের অংশ হিসেবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এনভিডিয়ার নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ করতে হবে। ফেলোশিপের শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে এ ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/vwa87lwbks">চিকিৎসাশিক্ষায় ৬৩ শতাংশই ছাত্রী, ডেন্টাল ও নার্সিংয়েও এগিয়ে</a></aside><p><strong>আবেদনের যোগ্যতা—</strong></p><p>এনভিডিয়ার এ ফেলোশিপের জন্য আবেদনকারীদের কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, সিস্টেম আর্কিটেকচার, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পিএইচডি করতে হবে। আবেদনের আগে পিএইচডির প্রথম বছর সম্পন্ন করার পাশাপাশি গবেষণাপত্র বা অভিসন্দর্ভের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত থাকতে হবে।</p><p>ফেলোশিপের ৯ মাসের পুরস্কারকালজুড়ে আবেদনকারীকে পূর্ণকালীন পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে হবে। এ সময়ের মধ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করা যাবে না। নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত গবেষণা কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপ করার সক্ষমতা থাকতে হবে।</p><p>এনভিডিয়ার পূর্ণকালীন কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিকটাত্মীয়রা এ ফেলোশিপের জন্য যোগ্য নন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-07-22/w8ioo0gf/%E0%A6%9B%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%B8%E0%A6%AC.png"></figure><p><strong>যেসব কাগজপত্র লাগবে—</strong></p><p>আবেদনের সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার গবেষণার সারসংক্ষেপ বা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে তথ্যসূত্র যুক্ত করা যাবে, যা দুই পৃষ্ঠার সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না। এ ছাড়া যোগাযোগের তথ্যসহ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) দিতে হবে।</p><p>আবেদনকারীর জন্য অন্তত দুটি সুপারিশপত্র প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি আবেদনকারীর গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক বা অধ্যাপকের কাছ থেকে হতে হবে। সর্বোচ্চ তিনটি সুপারিশপত্র জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি নির্ধারিত গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্নশিপে সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/uj8maasa2b">কোটি টাকার ফেলোশিপ-বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন আশফাকুর রহমান </a></aside><p><strong>আবেদনের প্রক্রিয়া</strong></p><p><a href="https://webportalapp.com/sp/login/nvidia_grad_fellow_2027" target="_blank" rel="nofollow">পোর্টালে প্রোফাইল তৈরি</a> করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে। এরপর গবেষণার সারসংক্ষেপ বা অভিসন্দর্ভের প্রস্তাব, সিভি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।</p><p>আবেদনের শেষ তারিখ</p><p>১৫ জানুয়ারি ২০২৭</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/5dp552hmbv">উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে </a></aside>

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন

লন্ডনে গতকাল রাতে ২০২৬ ব্যালন ডি’অর জেতেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা হ্যারি কেইন।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা
৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা

৯০০ টাকায় লাগিয়েছিলেন দুটি গাছ, এখন বছরে বিক্রি ৩২ লাখ টাকা

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”