এনআরবি ব্যাংক পিএলসি ফ্রন্ট ডেস্ক এক্সিকিউটিভ পদে ২২-৩৫ বয়সী প্রার্থী নিয়োগ দেবে, আবেদন ২২ অক্টোবর পর্যন্ত
গুলিবিদ্ধ সুজন পালের বাড়ি পাশের খালিয়াজুরি উপজেলায়। তিনি ‘মনোরমা মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামের মোহনগঞ্জের একটি দোকানে কাজ করেন। স্ত্রীকে নিয়ে মোহনগঞ্জে বাসায় ভাড়া থাকেন।
এডমন্টন শহরের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেছেন, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে এখানকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি চাপের মুখে পড়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ বা প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব।
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না।’
ট্রফির জন্যই খেলে দলগুলো। কিন্তু সমর্থকদের মনে থেকে যায় জয়টা কীভাবে এসেছে সেই রেশও। আর সে জায়গাটিতেই বার্সেলোনা এবার অপ্রতিরোধ্য।
<p>পিঠাপিঠি দুই ভাই—শাফি বিন সুলতান ও সাবিক বিন সুলতান। ছোটবেলায় তাঁদের হাতে কোনো খেলনা গাড়িই নাকি ‘আস্ত’ থাকত না। দুজন মিলে গাড়ির কলকবজা খুলে আবার জোড়া লাগানোর চেষ্টা করতেন। </p><p>গল্পের শুরুটা বোধ হয় সেখান থেকেই। দুই ভাই এখন কলেজে পড়েন। এরই মধ্যে দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন ‘এজেন্টিকহায়ার’ নামে একটি স্টার্টআপ। চাকরিদাতারা যেন এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজটা সেরে ফেলতে পারেন, সেটিই এই উদ্যোগের মূল কাজ। স্টার্টআপের জন্য প্রায় ৩০ হাজার ডলারের বিনিয়োগও নিশ্চিত করেছেন দুই ভাই। তাঁদের বাবা সুলতান মহিউদ্দিন ভূঁইয়া ও মা রোখশানা আফরোজ।</p><h3>করোনায় পাওয়া প্রেরণা </h3><p>রোবোটিকস নিয়ে দুই ভাইয়ের কাজের শুরু করোনাকালে। বাবা তখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে আলাদা ঘরে ‘আইসোলেশনে’ ছিলেন। বাবার কাছে খাবার পৌঁছে দিতে দুই ভাই তখন তৈরি করে ফেলেন একটি ‘লাইন-ফলোয়িং’ রোবট। রান্নাঘর থেকে বাবার ঘর পর্যন্ত মেঝেতে কালো টেপ মেরে দিয়েছিলেন সেই সময়ের স্কুলপড়ুয়া দুই ভাই। ইনফ্রারেড সেন্সর রোবটকে পথ চিনিয়ে দিত। কালো টেপ অনুসরণ করে, খাবার নিয়ে সে পৌঁছে যেত গন্তব্যে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/76c1qfiajh">ধূসর টি-শার্ট থেকে বিলাসবহুল ফ্যাশনে, মার্ক জাকারবার্গের বদলে যাওয়া স্টাইল</a></aside><p>করোনার সেই ঘরবন্দী সময়টাতেই ইউটিউব আর গিটহাব ঘেঁটে দুই ভাই শিখতে শুরু করেন সি++, জাভার মতো প্রোগ্রামিং ভাষা আর ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। অন্যদের সঙ্গে মিলে প্রকল্পও বানাতে শুরু করেন তাঁরা। গড়ে তোলেন ‘টিম আকাশ পাঠাও’। বাংলাদেশে বিজ্ঞান উৎসব, প্রযুক্তি মেলা আর রোবোটিকসের নানা আয়োজনেও অংশ নিয়েছেন তাঁরা। ধীরে ধীরে পৌঁছে গেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।</p><h3>আন্তর্জাতিক মঞ্চ </h3><p>২০২৫ সালে ডায়মন্ড চ্যালেঞ্জ নামে একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন শাফি ও সাবিক। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ারের হর্ন এন্টারপ্রেনিউরশিপ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, অংশ নেয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেবার তাদের প্রকল্পের নাম ছিল ‘ব্লুশিল্ড ফিল্টার’। কার্বন ন্যানোপার্টিকেল দিয়ে পানি পরিশোধনের একটি ধারণা নিয়ে কাজ করে প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিলেন দুই ভাই।</p><p>পরের গন্তব্য সিঙ্গাপুর। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের (এনইউএস) সঙ্গে যুক্ত একটি ইয়ুথ ফেলোশিপে আমন্ত্রণ পান শাফি ও সাবিক। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ২০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে ছিল ১০ দিনের আয়োজন। নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও বাজার নিয়ে দুই ভাইয়ের আগ্রহ জন্মায় মূলত সেখানে। পরিচয় হয় নানা পর্যায়ের মানুষের সঙ্গেও।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-15/7bbw8gmd/4ef88327-979d-490b-87f9-67acbf03e2bb.jpeg"><figcaption>নানা দেশের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে খুঁজেছিল নানা সমস্যার সমাধান</figcaption></figure><h3>এজেন্টিকহায়ারের জন্ম </h3><p>২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা সিঙ্গাপুরে ইয়ুথ ফাউন্ডার সামিট (ওয়াইএফএস) নামের একটি কর্মসূচির ফাউন্ডার একসিলারেটর প্রোগ্রামে যোগ দেন। বুটক্যাম্পসহ নানা কার্যক্রম চলে পাঁচ দিন। এশিয়ার ১১টি দেশের ৭০ জনের বেশি তরুণ এতে অংশ নেন। আয়োজক ছিল ওয়েভস্পার্কস, সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনিউরশিপ এবং বিয়ন্ডএক্স ল্যাব। সহায়তায় ছিল সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইয়ুথ কাউন্সিল।</p><p>তরুণেরা যেন একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়, মিলেমিশে কোনো একটা সমস্যার সমাধান খোঁজে, সেই অনুযায়ী একটা স্টার্টআপ সাজায়—সেটাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আর এখান থেকেই জন্ম নেয় এজেন্টিকহায়ার।</p><p>বুটক্যাম্পেই শেষ হয়নি। ছয় মাসের কর্মসূচি ছিল বেশ দীর্ঘ। বিভিন্ন দেশের মোট সাতজনের দল নিয়ে এজেন্টিকহায়ারকে বাস্তবে রূপ দিতে হয়েছে। জোগাড় করতে হয়েছে সিড ফান্ডিংও। দুই ভাই মিলে নিশ্চিত করেছেন ৩০ হাজার ডলারের বিনিয়োগ। এগিয়ে এসেছে প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স, স্পোর্টিফাই, ওয়েভস্পার্কস এবং ন্যাশনাল ইয়ুথ কাউন্সিল অব সিঙ্গাপুরের মতো বেশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। দলের অন্যান্য সদস্যরাও নিজেদের মতো করে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছেন।</p><p>নানা ধাপ পেরিয়ে সিঙ্গাপুরের সেই আয়োজনে সেরা ৩-এ জায়গা করে নিয়েছে এজেন্টিকহায়ার। সাংহাই, ব্যাংকক ও হংকংয়ের প্রযুক্তি ও ব্যবসাবিষয়ক নানা আয়োজনেও অংশ নিয়েছেন তাঁরা।</p><h3>এজেন্টিকহায়ার কী </h3><p>অনেক স্টার্টআপের ক্ষেত্রেই লোক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো দল থাকে না। দেখা যায় প্রতিষ্ঠাতাকেই একটা একটা করে সিভি দেখতে হয়, প্রার্থীদের কল বা ই-মেইল করতে হয়। এই সমস্যাটাই সমাধান করার চেষ্টা করছে এজেন্টিকহায়ার। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক কাজটা এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই করে দেবে। শুধু যে সিভি পর্যালোচনা করবে তা নয়, ইন্টারভিউও নেবে। এরপর প্রত্যেক প্রার্থী সম্পর্কে তৈরি করে দেবে একটি লিখিত সারসংক্ষেপ। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের সিদ্ধান্ত থাকবে মানুষেরই হাতে—সেটিও নিশ্চিত করে এই স্টার্টআপ। সাবস্ক্রিপশন নিয়ে যেকোনো প্রতিষ্ঠান এজেন্টিকহায়ারের গ্রাহক হতে পারে।</p><p>বর্তমানে এজেন্টিকহায়ারের সিইও ও সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আছেন সাবিক বিন সুলতান। আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিওও শাফি বিন সুলতান। এ ছাড়া আছেন সিঙ্গাপুরের হাওয়াং উ (সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও), কাজাখস্তানের দানিয়া তোখানোভা (হেড অব মার্কেটিং), থাইল্যান্ডের আপিউইট পাসুওয়াট (আউটরিচ প্রধান), কম্বোডিয়ার মোকা সোখা (অপারেশনস অ্যাসোসিয়েট) এবং মালয়েশিয়ার জেসি চু (প্রোডাক্ট অ্যাসোসিয়েট)।</p><h3>ভবিষ্যতে চোখ </h3><p>সিইও সাবিক বিন সুলতান এখন পড়ছেন বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলার একাদশ শ্রেণিতে। অন্যদিকে সিওও শাফি বিন সুলতান সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পড়ালেখা, সঙ্গে স্টার্টআপ—এত কিছু কীভাবে সামলাচ্ছেন? জানতে চাইলে সাবিক বলেন, ‘সত্যি বলতে একেবারে নিখুঁতভাবে সব সামলে নিচ্ছি, বললে ভুল হবে। তবে হ্যাঁ, আমাদের দলের একেকজন একেক দেশের হওয়ায় একজন না থাকলেও বাকিরা ঠিক সামলে নিচ্ছে।’</p><p>পাঁচ বছর পর এজেন্টিকহায়ারকে কোথায় দেখতে চান? প্রশ্নের উত্তরে শাফি বলেন, ‘আমরা চাই এজেন্টিকহায়ার সারা বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলুক। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা ও প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপগুলোর ক্ষেত্রে, যাদের নিজস্ব এইচআর টিম নেই। আমরা এটাও চাই, মানুষ মনে রাখুক এর শুরু কোথায়—বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থীর হাত ধরে, যারা একটি একসিলারেটর কর্মসূচির মাধ্যমে অন্য দেশের সহযোগীদের সঙ্গে এক হয়ে একটা কিছু গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’</p><p>দুই ভাই জানালেন, ভবিষ্যতে তাঁরা বিশ্বমানের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান। পাশাপাশি ব্যবসা তো চলবেই। তাঁদের মতে, উদ্যোক্তা হওয়া শেখা যায় পড়াশোনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে।</p><p>২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এজেন্টিকহায়ারের বৈশ্বিক লঞ্চের পরিকল্পনা করছে দলটি। তার আগপর্যন্ত উদ্যোক্তাদের মনোযোগ এখন পণ্যটির মান উন্নয়ন ও সম্ভাব্য ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানো নিয়ে। এই পুরো যাত্রায় হার্ভার্ডের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী তাঁদের পরামর্শদাতা হিসেবে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।</p>
বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার অভিযোগ। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাজস্ব ফাঁকির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।
ওয়াকিলের খোঁজ করে আসছিল পুলিশ। সর্বশেষ ৬ অক্টোবর নগরের টাইগার পাস এলাকার নগর ভবনে ওয়াকিল অবস্থান করছেন খবর পেয়ে সেখানে তাঁকে ধরতে যান পুলিশ সদস্যরা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন