টেলিভিশন

ভালোবাসা ও মায়ার গল্পে তাসনুভা তিশা-প্রান্তরের ‘মায়ার শহর’

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ভালোবাসা ও মায়ার গল্পে তাসনুভা তিশা-প্রান্তরের ‘মায়ার শহর’
ভালোবাসা ও মায়ার গল্পে তাসনুভা তিশা-প্রান্তরের ‘মায়ার শহর’
<p>ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও শহুরে জীবনের গল্প নিয়ে আসছে তাসনুভা তিশা ও প্রান্তর দস্তিদার অভিনীত নাটক ‘মায়ার শহর’।<br></p><p>নাটকটির নির্মাতা ইয়াসিন রহমান সুমন বলেন, ‘এই শহরে আমরা সবাই কারও না কারও মায়ায় আটকে থাকি। চেনা শহরের ব্যস্ততা আর পরিচিত জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনুভূতি নিয়ে সাজানো হয়েছে নাটকটির গল্প। প্রান্তর ও তিশা দুজনই অসাধারণ অভিনয় করেছে।’</p><p>নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন জুবায়ের জাহিন, তাসরিন জাহান স্বপ্না, সাজ্জাদ চৌধুরী, নয়ামূল করিম, ফয়সাল আহমেদ, মায়া, মামুন ইব্রাহিম, জয় ও মাহাবুব উদ্দিন। নাটকটির নির্বাহী প্রযোজক জয়ন্ত চন্দ্র। রচনা, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রশিদুর রহমান।</p><p>সিনেপ্লাস স্টুডিও জানায়, দর্শকদের রুচিশীল ও মানসম্মত গল্প উপহার দেওয়ার ধারাবাহিকতায় ‘মায়ার শহর’ তাদের অন্যতম বড় আয়োজন।<br>নাটকটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা দুইটায় মুক্তি পাবে সিনেপ্লাস স্টুডিওর (CinePlus Studio) অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে <a href="https://www.youtube.com/@cineplusbd">(https://www.youtube.com/@cineplusbd)</a>।</p>

Prothomalo

View more
উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম লিটারে এবার ১৭ টাকা বাড়ল
উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম লিটারে এবার ১৭ টাকা বাড়ল

<p>দেশে টানা কয়েক মাস কমার পর উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট ফুয়েলের দাম তিন মাস ধরে বাড়ছে। এবার বাড়ানো হয়েছে প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ৬ পয়সা। এর আগে গত মাসে বাড়ানো হয় ৬ টাকা ১৩ পয়সা।</p><p> আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করছে তারা।</p><p>বিইআরসির নতুন দর বলছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ১.০৭৭০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.১৮৮২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য জেট ফুয়েলের লিটারের দাম ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে; যা আগে ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এ দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে দুই দফায় প্রতি লিটারে বেড়েছিল মোট ১০৭ টাকা।</p><p>গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের প্রায় পুরোটাজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। এতে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে বিশ্ববাজারে। এরপর যুদ্ধবিরতি শুরু হলে দাম কমতে শুরু করে।</p><p>আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।</p><p>প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
শেয়ারবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ সালমান বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকেও বাদ
শেয়ারবাজারে ‘অবাঞ্ছিত’ সালমান বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকেও বাদ

গত মাসে বেক্সিমকো ফার্মা পর্ষদ থেকে বাদ পড়েন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তি সালমান এফ রহমান। এবার তিনি বেক্সিমকো গ্রুপের আরও দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে বাদ পড়লেন।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
আসামি মুঠোফোন ব্যবহার করতেন না, পাঁচ বছর পর যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন
আসামি মুঠোফোন ব্যবহার করতেন না, পাঁচ বছর পর যেভাবে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন

হত্যাকাণ্ডের পরই নজরুল ইসলাম আত্মগোপন করেন। অভিযান চালালেও চারবার পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে তিনি পালিয়ে যান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার সাড়ে পাঁচ বছর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
বুদ্ধিমান নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প এখনো টানে ছেলে–বুড়ো সবাইকে
বুদ্ধিমান নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প এখনো টানে ছেলে–বুড়ো সবাইকে

<p>নাসিরুদ্দিন হোজ্জা যেমন বুদ্ধিমান, তেমনি কৌতুকপ্রিয়। ১২ শতকে তুরস্কে জন্ম তাঁর। ছিলেন সুফি সাধক। জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর অপরিসীম আগ্রহ ছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকেই তাঁর নামে নানা গল্প চালু হয়ে যায়। গল্পগুলো মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন—সমগ্র এশিয়ায়। শিশু থেকে বৃদ্ধ— কে না তাঁর ভক্ত। হোজ্জার বুদ্ধিদীপ্ত এসব কৌতুক খুব পছন্দ পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নওশিন জাহানের। প্রথমা প্রকাশনের ‘নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ১০০ গল্প’ বইটা নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে সে। এরপর মায়ের কাছে আবদার করে বইটি কিনে দিতে। নাসিরুদ্দিনের বইটি কেনা হতেই একটু দূরে গিয়ে পড়াও শুরু করে দেয় সে। </p><p> চট্টগ্রামের ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ বুধবার প্রথমা প্রকাশনের বই উৎসবে দেখা হয় নওশিনের সঙ্গে। সকাল সাড়ে সাতটায় আয়োজন শুরু হলেও জমে ওঠে দুপুর ১২টায় স্কুলের প্রভাতি শাখার ছুটির পর। নওশিনও ছুটির পরই সেখানে যায়। সে জানায়, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প পেলেই পড়ে সে। বই উৎসব হচ্ছে শুনে হোজ্জার বই খুঁজতে এসেছিল সে। আর বইটা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাকে বলে কিনে নিল। </p><p>বই উৎসবে গল্প, বিজ্ঞান, কিশোর উপন্যাস, রহস্য, কমিকসসহ নানা বিষয়ের বই ছিল। সঙ্গে ছিল দুটি জনপ্রিয় সাময়িকী কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসছিল স্টলে। কেউ মলাট দেখেই পছন্দের বইটি হাতে তুলে নিচ্ছিল। কেউ উল্টেপাল্টে দেখছিল ভেতরের পাতা। শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে এমন ব্যস্ততা চলে বেলা দুইটা পর্যন্ত।</p><p>অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান খুঁজছিল কিশোর থ্রিলার। একের পর এক বই হাতে নিয়ে মলাট দেখছিল, পাতা উল্টে পড়ছিল কয়েক লাইন। এরপর রকিব হাসানের দুটি থ্রিলার বই পেয়েই কিনে নেয় সে। নুসরাত জানায়, থ্রিলার পড়তে তার ভালো লাগে। মেলায় এসে পছন্দের অনেক বই একসঙ্গে দেখার সুযোগ পেয়েছে সে।</p><p>তবে অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা গেল বিজ্ঞানবিষয়ক বই, সায়েন্স ফিকশন আর অ্যাডভেঞ্চারের বইয়ের খোঁজ করতে। কেউ কিনছিল কমিকস আবার কেউ কিশোর উপন্যাস। বোঝা গেল, শিশু–কিশোরদের পছন্দের তালিকা মোটেও ছোট নয়।</p><p>উৎসব নিয়ে কথা হয় ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ শাহীম আল রাজির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। মানুষ জন্মের পর থেকে যে জ্ঞান অর্জন করেছে, মানবসভ্যতার যে অগ্রগতি হয়েছে, এর পেছনে বইয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। এখন হয়তো আমরা বলছি, তথ্যপ্রযুক্তির যুগ আসছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ আসছে। কিন্তু এসবের পেছনেও বইয়ের জ্ঞান রয়েছে।’</p><p>শাহীম আল রাজি আরও বলেন, এ ধরনের বইমেলার আয়োজন অবশ্যই একটি সুন্দর উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিভিন্ন ধরনের বই সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারবে। বিজ্ঞান, গল্প, ইতিহাসসহ নানা বিষয়ের বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। তাদের কৌতূহলও মেটাতে পারবে।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেন ঐতিহাসিক
ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেন ঐতিহাসিক

বর্তমান হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা জন্ম নিয়েছিল ২০১০ সালের দিকে, যে সময়টায় ফ্রান্সে শিশু জন্মের হার শীর্ষে ছিল।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
সড়ক বিভাজক থেকে সরানো হচ্ছে সবজিখেত, লাগানো হচ্ছে গাছ
সড়ক বিভাজক থেকে সরানো হচ্ছে সবজিখেত, লাগানো হচ্ছে গাছ

উচ্ছেদ অভিযানের আগে গত রোববার দিনভর সবজি চাষিদের চাষ করা সবজি সরিয়ে নিয়ে যেতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাইকিং করা হয়।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
‘চা’কে কেবল কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ আত্মঘাতী: হোসেন জিল্লুর রহমান
‘চা’কে কেবল কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ আত্মঘাতী: হোসেন জিল্লুর রহমান

<p>চা খাত নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশে একে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার সমালোচনা করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি এই সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবগুলো বর্তমান সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে বড় ধরনের স্ববিরোধিতা। এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।</p><p> ‘চা–শিল্পের পুনর্গঠন ও চা–শ্রমিকদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব’ বিষয়ে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় এ কথা বলেন খ্যাতনামা এই অর্থনীতিবিদ। আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ পরামর্শ সভা হয়। এ সভার আয়োজক ছিল পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (সেড) ও ব্রাত্যজন রিসোর্স সেন্টার (বিআরসি)।</p><p> গত জুলাই মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স ১০টি সুপারিশ দেয়। এর মধ্যে ‘চা’কে কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণা করে চা–বাগানগুলো যাতে কম সুদে ঋণ পায়, তার ব্যবস্থা করা, ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা ইত্যাদি সুপারিশ রয়েছে।</p><p>আজ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চা–শিল্পের সমস্যা কেবল বাণিজ্যিক সংকটের নয়, এখানে উৎপাদনশীলতারও বড় ঘাটতি রয়েছে। সব কোম্পানি এক নয়—কেউ উৎপাদনশীল ও শ্রমিকবান্ধব, আবার কেউ চরম অব্যবস্থাপনায় চলছে। তাই সবাইকে এক পাল্লায় না মেপে মূল আলোচনাটা হওয়া উচিত পুরো খাতের টেকসই বিকাশ নিয়ে।</p><p>চা মূলত কৃষি ও শিল্পের এক মিলিত রূপ। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ‘টি ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ: আ ভায়াবিলিটি স্টাডি শীর্ষক প্রতিবেদনে ‘কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক খাত’ বা ‘কৃষি-শিল্প খাত’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর মাধ্যমে চা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত দুই ধরনের কাজের মিশ্রণকে তুলে ধরা হয়। ব্যাংকের ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের ‘কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা’ অনুযায়ী, চা উৎপাদন দুটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ কৃষি এবং ৪০ শতাংশ শিল্প।</p><p>এসব বিষয় উল্লেখ করে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রস্তাবে সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এসব সুপারিশের স্ববিরোধিতা স্পষ্ট। সরকার সংস্কারের কথা বলছে। অথচ সংকীর্ণ স্বার্থে চা–এর পরিচয় বদলের চেষ্টা চলছে। খাতের টেকসই সংস্কারের বদলে সস্তা সুবিধার জন্য একে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।</p><p>সরকার যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কথা বলছে, সেখানে এই পরিকল্পনায় চা–শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার ও জীবনমান পুরোপুরি উপেক্ষিত।</p><p>হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান রাজস্ব সংকটের সময়ে মালিকদের নিজস্ব দায়—যেমন বাগানের স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের খরচ সরকারের কাঁধে চাপানোর পাঁয়তারা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।</p><p>হোসেন জিল্লুর বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি উপেক্ষা করে চা খাতের সংস্কারে গঠিত টেকনিক্যাল কমিটিতে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বদলে বিদেশি পরামর্শকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অত্যন্ত হতাশাজনক। মনে রাখতে হবে, চা কেবল একটি অর্থকরী ফসল নয়; এর একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত (হেরিটেজ) মূল্য রয়েছে। সেই বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে তড়িঘড়ি করে খাতের চরিত্র পরিবর্তনের যেকোনো সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে।</p><p>পরামর্শ সভায় ‘বাংলাদেশের চা–শিল্প পুনর্গঠন: চা–শ্রমিকের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনাপত্র বা অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন সেড-এর পরিচালক ফিলিপ গাইন। পরামর্শ সভার পটভূমি ও আলোচনাপত্র উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, সরকার চা–শিল্প পুনর্গঠনে যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তার মধ্যে চা–শ্রমিক বা তাঁদের প্রতিনিধিত্বকারী ট্রেড ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধিত্ব বা অংশগ্রহণ নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যে টাস্কফোর্স এবং পরবর্তী সময়ে যে মনিটরিং ও এডভাইজরি কমিটি গঠন করেছে, তার মধ্যে সরকারের বাইরে কেবল চা–বাগানমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশি চা সংসদের প্রতিনিধি আছে।</p><p>ফিলিপ গাইন বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬০টি চা–বাগানের মধ্যে ৭০-এর অধিক চা–বাগান দুর্বল ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহির সমস্যা, দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, কারখানা চালানোর অদক্ষতা ইত্যাদি কারণে লোকসানে চলে এবং মাঝেমধ্যে বন্ধ থাকে। এ জন্য অনেক সময় শ্রমিকের বেতন পরিশোধে অনিয়ম দেখা যায়।</p><p>সেড-এর চেয়ারপারসন এবং নিজেরা করি–এর সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন চা–শিল্পকে অন্য শিল্পের মতো চিন্তা করার সুযোগ নেই। কারণ, চা–শ্রমিকেরা চা–বাগানের ভেতরেই থাকেন। এই শিল্প নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চা–শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা জরুরি।</p><p>টাস্কফোর্স কমিটিকে ‘বণিকতান্ত্রিক’ কমিটি হিসেবে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান প্রশ্ন করেন, ‘কমিটির বেশির ভাগ সদস্য কোন বিবেচনায় নির্বাচিত হলো? বিষয়টা খতিয়ে দেখা উচিত।’</p><p>টাস্কফোর্সে শ্রমিক প্রতিনিধি বা শ্রম মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি নেই, টাস্কফোর্সের গঠন নিয়ে এমন মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, ‘চা–শ্রমিকের মতো ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর বেলায় জমির মালিকানার মতো মৌলিক বিষয় উপেক্ষা করে চা–শিল্পের যে পুনর্গঠন, তা মানা যায় না।’</p><p>চা–শ্রমিক খায়রুন আকতার বলেন, আগের সরকারের আমলে কেবল মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকার চা–শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে। এখনকার সরকারও কেবল মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে চা খাত নিয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে চা–শ্রমিক বলতে গর্ব বোধ করি। আমি কখনোই নিজেকে কৃষিশ্রমিক বলতে রাজি নই।’</p><p>অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জেনারেল এডুকেশন বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ এম হাসেমী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বিসিএসইউ) ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, চট্টগ্রাম জেলার বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি তপন দত্ত এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফি রতন। সভায় চা–বাগানের ২০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।</p>

অক্টোবর ৭, ২০২৬
‘বড় ভাই–বোনদের সাফল্য দেখে স্বপ্ন দেখতাম, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো’
‘বড় ভাই–বোনদের সাফল্য দেখে স্বপ্ন দেখতাম, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো’

‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় এসএসসিতে জিপিএ–৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
এবার শীতে গ্যাস–সংকট হতে পারে ইউরোপে, বাংলাদেশসহ এশিয়ার ঝুঁকি কোথায়
এবার শীতে গ্যাস–সংকট হতে পারে ইউরোপে, বাংলাদেশসহ এশিয়ার ঝুঁকি কোথায়

বেশি শীত পড়লে মজুত ধরে রাখতে ইউরোপের দেশগুলো বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে পারবে। এশিয়ার দেশগুলোর পক্ষে তা সম্ভব না–ও হতে পারে।

অক্টোবর ৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন