জেলা

তীর ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের মাঠে এখন পদ্মা

অক্টোবর ৮, ২০২৬
তীর ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের মাঠে এখন পদ্মা
তীর ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের মাঠে এখন পদ্মা
<p>দুই বছর আগেও বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল পদ্মা নদী। ক্রমাগত ভাঙনে সেই দূরত্ব কমতে কমতে নদী এখন চলে এসেছে বিদ্যালয়ের মাঠে। যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের সীমানাবেড়া (টিনের তৈরি) খুলে ফেলা হয়েছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু আসবাব। ভাঙন–আতঙ্কে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমেছে।</p><p>শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খান কান্দি গ্রামের আলতাফ হোসেন খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর পদ্মার ভাঙন তীব্র। নদীতীরের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ভেঙে গেছে গত কয়েক মাসে। নদীর ভাঙন বিদ্যালয়ের মাঠ পর্যন্ত চলে এসেছে।</p><p>গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, টিনের কাঠামোয় তৈরি এই বিদ্যালয়ে চারটি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের একটি কক্ষ রয়েছে। মেঝে পাকা করা। বিদ্যালয়ের সীমানাবেড়া খুলে ফেলা হয়েছে। আলমারিসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাব সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের পেছনে খোলা জায়গায় জড়ো করে রাখা হয়েছে। </p><p>বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে চিন্তায় থাকি, সকালে গিয়ে স্কুলটি দেখতে পাব কি না। ভাঙনের আশঙ্কায় কিছু মালামাল সরিয়ে নিয়েছি।’</p><p>এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। তাঁরা জানান, বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২১৪ জন। প্রতিদিন ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে আসে। ভাঙনের কারণে আশপাশের গ্রামের অনেক পরিবার দূরের এলাকায় চলে গেছে। এসব পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়ত।</p><p>বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কথা হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা ও জোনায়েদের সঙ্গে। তারা বলেছে, বিদ্যালয়ে আসতে এখন ভয় লাগে। মাঠে খেলাধুলা করতেও এখন তারা ভয় পায়। বিদ্যালয়টি ভেঙে গেলে কোথায় গিয়ে পড়াশোনা করবে, সেটিও তাদের চিন্তার বিষয়। </p><p>আলম খান কান্দি গ্রামটি পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। চারদিকেই নদী থাকায় নৌপথই এই এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ২০১৭ সালে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খান বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। তাঁর নামে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।</p><p>ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খান <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনেকবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু এলাকাটি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, এ বছরই গ্রামের অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে। এখন বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে।</p><p>জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ভাঙনের মুখে থাকা বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে এখনো নতুন জায়গা পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়টি ভাঙনের শিকার হলে যাতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।</p>

Prothomalo

View more
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিতে প্রশ্ন উঠছে, বিএনপি মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে কি না: অধিকার কমিটি
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিতে প্রশ্ন উঠছে, বিএনপি মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে কি না: অধিকার কমিটি

<p>চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হয়নি। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মানুষের মনে এই প্রশ্নের উদ্রেক করেছে যে সাম্রাজ্যবাদী কোনো দেশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কি না।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অধিকার কমিটি এ কথা বলেছে। আজ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে (সাবেক বিডা) ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। সেখানে সিপিবি, বাসদসহ বিভিন্ন বামপন্থী দল-সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অধিকার কমিটি।</p><p>গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেশি অপারেটরদের পরিচালনায় লাভজনক অবস্থায় থাকার পরও বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও দেশের বামপন্থী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর আন্দোলনের চাপে সরকার পিছিয়ে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা বিএনপি সরকার সব বাধা উপেক্ষা করে আজ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আজ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মিলনায়তনের বাইরে বিক্ষোভে পুলিশের হামলায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, নেতা মনিরুজ্জামান মিলন, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনীষা চক্রবর্তী, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আসিফ জামানসহ অনেকে আহত হন।</p><p>সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর চাপের কাছে ইতিমধ্যে সরকার নতি স্বীকার করেছে, এমন অভিযোগ করে অধিকার কমিটি বলেছে, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা না করা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনা, ফ্রান্স থেকে এয়ারবাসের বিমান কেনা, বন্দরের শ্রমিকদের দাবি ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর—এ ঘটনাগুলো মানুষের মনে এই প্রশ্নের উদ্রেক করেছে যে সাম্রাজ্যবাদী এসব দেশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কি না। ক্ষমতায় যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দেশের স্বার্থ অগ্রাহ্য করে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর স্বার্থ নগ্নভাবে রক্ষা করার এমন নজির এর আগে দেখা যায়নি।</p><p>এ ক্ষেত্রে বর্তমান বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, ‘আজ বিরোধী দলে যাঁরা আছেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন, তাঁরাও এই প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে একমত। সংসদে কিংবা সংসদের বাইরে তথাকথিত এই বড় দলগুলোর এ বিষয়ে কোনো অবস্থান নেই।’</p><p>অধিকার কমিটি বলেছে, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করা প্রধান সমুদ্রবন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো বা ‘কৌশলগত সম্পদ’ মুনাফালোভী গোষ্ঠী বা বিদেশি স্বার্থের কাছে হস্তান্তর করা দেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হলো। ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ পরিণতির জন্য এই সরকার দায়ী থাকবে।</p><h3>চুক্তি বাতিল চায় ছাত্র ইউনিয়ন </h3><p>এদিকে নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এই চুক্তি বাতিল চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনের একাংশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা সরকারকে ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী গণ-আন্দোলনে তৎকালীন বিএনপি সরকারের পরিণতির কথা স্মরণ করে দেশবিরোধী সব সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। সরকার যদি জনগণের এই দাবির প্রতি কর্ণপাত না করে, তবে কঠোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/business/economics/v24d37fj6j">নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা</a></aside>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে
আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে মারধর, অভিযোগ বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির নুরুজ্জামান মীরকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
তীর ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের মাঠে এখন পদ্মা
তীর ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের মাঠে এখন পদ্মা

<p>দুই বছর আগেও বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল পদ্মা নদী। ক্রমাগত ভাঙনে সেই দূরত্ব কমতে কমতে নদী এখন চলে এসেছে বিদ্যালয়ের মাঠে। যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের সীমানাবেড়া (টিনের তৈরি) খুলে ফেলা হয়েছে। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু আসবাব। ভাঙন–আতঙ্কে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমেছে।</p><p>শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খান কান্দি গ্রামের আলতাফ হোসেন খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর পদ্মার ভাঙন তীব্র। নদীতীরের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ভেঙে গেছে গত কয়েক মাসে। নদীর ভাঙন বিদ্যালয়ের মাঠ পর্যন্ত চলে এসেছে।</p><p>গত মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, টিনের কাঠামোয় তৈরি এই বিদ্যালয়ে চারটি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের একটি কক্ষ রয়েছে। মেঝে পাকা করা। বিদ্যালয়ের সীমানাবেড়া খুলে ফেলা হয়েছে। আলমারিসহ বিভিন্ন ধরনের আসবাব সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের পেছনে খোলা জায়গায় জড়ো করে রাখা হয়েছে। </p><p>বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান বলেন, ‘প্রতিদিন স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে চিন্তায় থাকি, সকালে গিয়ে স্কুলটি দেখতে পাব কি না। ভাঙনের আশঙ্কায় কিছু মালামাল সরিয়ে নিয়েছি।’</p><p>এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। তাঁরা জানান, বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২১৪ জন। প্রতিদিন ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে আসে। ভাঙনের কারণে আশপাশের গ্রামের অনেক পরিবার দূরের এলাকায় চলে গেছে। এসব পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়ত।</p><p>বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কথা হয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা ও জোনায়েদের সঙ্গে। তারা বলেছে, বিদ্যালয়ে আসতে এখন ভয় লাগে। মাঠে খেলাধুলা করতেও এখন তারা ভয় পায়। বিদ্যালয়টি ভেঙে গেলে কোথায় গিয়ে পড়াশোনা করবে, সেটিও তাদের চিন্তার বিষয়। </p><p>আলম খান কান্দি গ্রামটি পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। চারদিকেই নদী থাকায় নৌপথই এই এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ২০১৭ সালে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খান বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। তাঁর নামে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।</p><p>ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খান <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনেকবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু এলাকাটি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, এ বছরই গ্রামের অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে। এখন বিদ্যালয়টিও ভাঙনের মুখে।</p><p>জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ভাঙনের মুখে থাকা বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে এখনো নতুন জায়গা পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়টি ভাঙনের শিকার হলে যাতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক

<p>দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে। সঠিক তথ্য আর দ্রুততম আপডেট নিয়ে প্রথম আলো আছে সব সময় আপনার সঙ্গে। থাকুন ভালোর সঙ্গে, আলোর পথে। </p><figure></figure>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
ইউপি নির্বাচন কবে, জানা যাবে সোমবার
ইউপি নির্বাচন কবে, জানা যাবে সোমবার

<p>ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি আগামী সোমবার ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউপি নির্বাচন কয়টি ধাপে এবং কোন ধাপ কবে হবে—এসব সেদিন নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, ইসি শুধু নির্বাচনের সময়ের বিষয়টি জানাবে। তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা।</p><p>গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচী ঘোষণা করেছিল ইসি। ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠকে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন করার অসুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। তখন ইসি জানিয়েছিল, আরও আলোচনা করে নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসি আগামী জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু করে মে মাসের মধ্যে শেষ করতে চায়। ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরু হওয়ার আগেই তিন–চারটি ধাপের নির্বাচন করা হতে পারে। তবে এসব চূড়ান্ত হবে আগামী সোমবার কমিশনের বৈঠকে।</p><p>ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়ে আজ নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোমবার কমিশন মিটিংয়ে আমরা দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে জানিয়ে দেব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কয় স্লটে, কবে কবে হবে। সব দিন জানিয়ে দেব। তফসিল আমরা ঘোষণা করব না, তফসিল ঘোষণা করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। আমরা স্লটগুলো বলে দেব যে কোন কোন স্লটে নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে।’</p><p>ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে যেমনটা বলেছিলাম, আমরা একদম শুরুর ব্রিফিংয়ে যেটা বলেছিলাম, আশা করি সেই সময়ের মধ্যেই আমাদের সব স্লট শেষ হয়ে যাবে। সোমবার পর্যন্ত আমরা ওয়েট করি। দেখা যাক, ওইটা সোমবারের দিন সিদ্ধান্ত।’</p><p>রাজনৈতিক সংলাপ কবে শুরু হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘তার পরপরই হবে। সব কাজ হবে, এখন ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।’</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
২০-এর কোঠায় যাঁরা এই কাজ করতেন, ৮০ বছর বয়সে তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে সুখী
২০-এর কোঠায় যাঁরা এই কাজ করতেন, ৮০ বছর বয়সে তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে সুখী

<p>২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ-তরুণী একাকিত্ব অনুভব করেন। এই হার বয়স্ক প্রজন্মের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-30/j8nyje56/Generated_Image_November_17_2025_631PM.png"><figcaption>জেন–জির মধ্যেই একাকিত্বের অনুভূতি বেশি</figcaption></figure><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ, ডেটিং অ্যাপ, ভিডিও কল—সব মিলিয়ে জেন–জির যোগাযোগ এখন হাতের মুঠোয়। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, এ প্রজন্মের মধ্যেই একাকিত্বের অনুভূতি বেশি। ছুটির দিনে কারও সঙ্গে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, তার সঙ্গে একাকিত্বের অনুভূতির সরাসরি সম্পর্ক নেই।</p><h3>কীভাবে একাকিত্ব থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়? </h3><p>হার্ভার্ডের দীর্ঘমেয়াদি সুখবিষয়ক গবেষণার অন্যতম পরিচালক মনোরোগবিশেষজ্ঞ রবার্ট ওয়ালডিঙ্গারের মতে, এর একটি উত্তর হতে পারে, নিজের চেয়ে বড় কোনো কিছুর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা। অর্থাৎ শুধু নিজের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে ব্যস্ত না থেকে অন্য মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রয়োজন ও কল্যাণের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/43zng1ae55">প্রবীণের সঙ্গে তরুণের বন্ধুত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ</a></aside><h3>সুখী মানুষদের মধ্যে যে মিল</h3><p>হার্ভার্ডের ‘স্টাডি অব অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্ট’ আট দশকের বেশি সময় মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সুখ নিয়ে গবেষণা করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরবর্তী জীবনে যাঁরা ভালো ছিলেন, তাঁদের অনেকেই তরুণ বয়স থেকেই অন্যদের জন্য কিছু করা বা অর্থপূর্ণ কোনো কাজে অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন।</p><p>ড. ওয়ালডিঙ্গার একে বলেন ‘পারপাস’ বা জীবনের উদ্দেশ্য। এটি শুধু নিজের পছন্দ বা আনন্দের পেছনে ছোটা নয়; বরং নিজের সময়, দক্ষতা বা সামর্থ্য দিয়ে অন্য মানুষ, সমাজ, পরিবেশ কিংবা নিজের চেয়ে বড় কোনো কিছুর জন্য অবদান রাখা। সন্তানকে বড় করা, কাউকে শেখানো, স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা কিংবা নিজের সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো—সবই এর অংশ হতে পারে।</p><p>মনোবিশ্লেষক এরিক এরিকসনের ভাষায়, এটি ‘জেনারেটিভিটি’, অর্থাৎ নিজের জীবনকে এমন কিছুর সঙ্গে যুক্ত করা, যার অর্থ নিজের অস্তিত্বের বাইরেও ছড়িয়ে যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-04-11/8j7ioltv/friends-friendship-togetherness.jpg"><figcaption>অসংখ্য বিকল্পের ভিড়ে সত্যিকারের বন্ধু খুঁজে পাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে</figcaption></figure><h3>উদ্দেশ্যই একাকিত্বের ওষুধ </h3><p>জীবনের কোনো অর্থপূর্ণ উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও গভীর হতে পারে। আর অর্থপূর্ণ সম্পর্ক একাকিত্ব থেকে সুরক্ষার অন্যতম ভিত্তি।</p><p>তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সব সময় সেই অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করছে না। অসংখ্য বিকল্পের ভিড়ে সত্যিকারের বন্ধু খুঁজে পাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে।</p><p>রোমান্টিক সম্পর্কও অনেকটাই ‘সোয়াইপ’নির্ভর। ফলে মানুষকে সময় নিয়ে জানার আগ্রহ, প্রেমে পড়ার বদলে তাকে যেন একটি পণ্য হিসেবেই বেছে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC">একাকিত্ব রোগবালাই বাড়ায়</a></aside><h3>একাকিত্ব কেন এত গুরুতর সমস্যা? </h3><p>দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন সার্জন জেনারেল বিবেক মূর্তি একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে জনস্বাস্থ্যের বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেন।</p><p>মানুষ মূলত সামাজিক প্রাণী। কিন্তু দীর্ঘদিন সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলে উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে, যা আবার মানুষকে আরও গুটিয়ে নিতে পারে। ফলে একাকিত্বের চক্র আরও গভীর হয়।</p><p>হার্ভার্ডের গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হলো, ভালো সম্পর্ক মানুষের স্বাস্থ্য ও সুখের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছর বয়সে যাঁরা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন, ৮০ বছর বয়সে তাঁদের শারীরিক স্বাস্থ্যও তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-01-01/pk0zrmj5/KBRH1935.JPG"><figcaption>প্রতিদিন অন্তত একজন মানুষের খোঁজ নিন। একটি ছোট মেসেজ, ফোনকল কিংবা প্রশংসাও হতে পারে শুরু</figcaption></figure><h3>জীবনে উদ্দেশ্য খুঁজবেন যেভাবে</h3><p>প্রতিদিন অন্তত একজন মানুষের খোঁজ নিন। একটি ছোট মেসেজ, ফোনকল কিংবা প্রশংসাও হতে পারে শুরু।</p><p>নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন সমস্যা আপনাকে ভাবায়? কোন কাজ করলে অন্যের উপকার হয়, আবার আপনি আনন্দও পান? কোন মানুষ বা গোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে চান?</p><p>এ প্রশ্নগুলোর উত্তরই হয়তো আপনাকে আপনার জীবনের উদ্দেশ্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে। কারণ, দীর্ঘ জীবনে সুখের জন্য শুধু নিজের জন্য বাঁচা নয়, অন্যের জীবনে অর্থপূর্ণভাবে যুক্ত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।</p><p><sup>সূত্র: দ্য হেলদি</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/relation/of5niu9o4r">আপনার কোনো বেস্ট ফ্রেন্ড নেই? জেনে নিন আপনি মানুষ হিসেবে কেমন</a></aside>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
কেউ যখন বলে, ‘আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি’—তার অর্থ কী
কেউ যখন বলে, ‘আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি’—তার অর্থ কী

ইসলামি সংস্কৃতিতে পরিচিত ও হৃদয়স্পর্শী বাক্য হলো, ‘আমি তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি।’ তবে অনেকে এই বাক্যের আসল বার্তাটি বুঝতে পারেন না।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
‘কিশোর গ্যাং’ নেতাকে জুলাই যোদ্ধা বললেন মেয়র, নগর ভবনে অভিযানের পর ওসি বদলি
‘কিশোর গ্যাং’ নেতাকে জুলাই যোদ্ধা বললেন মেয়র, নগর ভবনে অভিযানের পর ওসি বদলি

কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। মেয়র শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে তিনি পরিচিত।

অক্টোবর ৮, ২০২৬
বাড়ি কেনা বনাম নির্মাণ: দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কোনটি এগিয়ে
বাড়ি কেনা বনাম নির্মাণ: দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় কোনটি এগিয়ে

<p>নিজের একটি বাড়ি—শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং অনেকের কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়ার মতো একটি সম্পদ। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন—রেডিমেড বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনবেন, নাকি নিজের মতো করে বাড়ি তৈরি করবেন?</p><p> এই প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে আপনার আর্থিক সক্ষমতা, জমির মালিকানা, জীবনযাত্রা, পরিবারের আকার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অর্থায়নের ধরনের ওপর। যে সিদ্ধান্ত একজনের জন্য উপযুক্ত, অন্যজনের ক্ষেত্রে সেটি না–ও হতে পারে।</p><h3>বর্তমানে মানুষ কোনটি বেশি পছন্দ করছেন </h3><p>বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বড় শহরে কর্মব্যস্ত জীবন, জমির সংকট এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেকেই প্রস্তুত ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এতে নির্মাণকাজ তদারকির ঝামেলা থাকে না, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসায় ওঠাও সম্ভব হয়।</p><p>অন্যদিকে যাঁদের নিজস্ব জমি রয়েছে কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে, তাঁদের একটি বড় অংশ এখনো নিজস্ব বাড়ি নির্মাণকেই অগ্রাধিকার দেন। কারণ, এতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ি সম্প্রসারণ, নকশা পরিবর্তন কিংবা অতিরিক্ত তলা নির্মাণের সুযোগ থাকে। বাস্তবে তাই রেডিমেড বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা এবং নিজের বাড়ি নির্মাণ—দুই ধরনের প্রবণতাই দেখা যায়; কোনটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তিগত বাস্তবতার ওপর।</p><h3>দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসেবে কোনটি বেশি কার্যকর </h3><p>বাড়ি বা ফ্ল্যাট—দুটিই দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হতে পারে। তবে সম্পদের ধরন এবং ভবিষ্যৎ মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে অবস্থান, নির্মাণ মান, আইনি বৈধতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর।</p><p>প্রস্তুত বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনলে শুরু থেকেই একটি ব্যবহারযোগ্য সম্পদ পাওয়া যায়। অন্যদিকে নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করলে জমি ও স্থাপনা—দুইয়ের মূল্যই সময়ের সঙ্গে বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।</p><p>তবে শুধু সম্পদের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্পদটি দীর্ঘ মেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হবে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p><h3>পারিবারিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ </h3><p>নিজস্ব একটি বাড়ি পরিবারকে শুধু স্থায়ী ঠিকানাই দেয় না, মানসিক স্থিতিও তৈরি করে। বিশেষ করে সন্তানদের শিক্ষা, কর্মস্থলের স্থায়িত্ব কিংবা পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের কথা বিবেচনা করলে স্থায়ী আবাসের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।</p><p>তবে ভবিষ্যতে কর্মস্থল পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে কিংবা অন্য শহরে বসবাসের পরিকল্পনা থাকলে প্রস্তুত ফ্ল্যাট কেনা অথবা কিছু সময় ভাড়ায় থাকাও অনেকের জন্য বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে। আবার যাঁরা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাস করতে চান, তাঁদের জন্য নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ দীর্ঘ মেয়াদে বেশি উপযোগী হতে পারে।</p><h3>অর্থায়নের ধরনও সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে </h3><p>বর্তমানে বাড়ি কেনা বা নির্মাণ—দুই ক্ষেত্রেই হোম লোন অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়নের মাধ্যম। তবে লোন নেওয়ার আগে শুধু সুদের হার নয়, নিজের মাসিক আয়, ডাউন পেমেন্টের সক্ষমতা, নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য এবং জরুরি সঞ্চয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।</p><p>প্রস্তুত ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সাধারণত সম্পত্তির নির্ধারিত মূল্যের ভিত্তিতে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হয়। অন্যদিকে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্মাণের অগ্রগতি, ব্যয়ের ধাপ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের আর্থিক পরিকল্পনার সঙ্গে কোন বিকল্পটি বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি মূল্যায়ন করা জরুরি।</p><p>এসব বিষয়ে প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নাজিম এ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা অথবা নির্মাণ—দুটিই দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনার অংশ। তবে প্রত্যেকের প্রয়োজন ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পছন্দ ভিন্ন হতে পারে। ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহক তুলনামূলক কম সময়ে নিজস্ব আবাসনে বসবাস শুরু করতে পারেন এবং নির্মাণের সময়, ব্যবস্থাপনা ও নানা ঝুঁকি কম থাকে।</p><p>এম নাজিম এ চৌধুরী আরও বলেন, নিজস্ব জমি থাকা এবং নিজের মতো করে বাড়ির নকশা ও নির্মাণ করতে আগ্রহী গ্রাহকের জন্য নির্মাণ–ঋণ বেশি উপযোগী। এ ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে নির্মাণ ব্যয় মেটানোর সুযোগ থাকায় নিজের মতো পরিকল্পনাও করা যায়। এই সময়ে প্রাইম ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে নানা ধরনের হোম লোন–সুবিধা দিচ্ছে। নিজের বাড়ি শুধু বসবাসের জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ, যা সময়ের সঙ্গে মূল্য সৃষ্টি করতে পারে এবং আর্থিক নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।</p><p>বাড়ি কেনা বা নির্মাণ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই অন্যের অভিজ্ঞতা বা প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে নিজের প্রয়োজন, আর্থিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।</p>

অক্টোবর ৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন