নাটক

সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস
সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস
<p>সিডনি অপেরা হাউস চত্বরে রোববার অন্য রকম ভিড়। কেউ পরিবার–পরিজন নিয়ে এসেছেন অনুষ্ঠান দেখতে, কেউ সঙ্গীদের নিয়ে সেলফি তুলছেন। বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যটিকে পেছনে রেখে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন অনেকে। ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবসে সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে এমনই উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শনার্থীদের আসা–যাওয়া আর সংগীতের আয়োজনে চেনা অপেরা হাউস যেন পেয়েছে বাড়তি প্রাণ।<br> বিশ্বজুড়ে অনেকের কাছে অপেরা বলতেই সিডনি অপেরা হাউসের ছবি ভেসে উঠলেও এই মঞ্চশিল্পের জন্ম ষোড়শ শতকের শেষভাগে ইতালির ফ্লোরেন্সে। সেই শিল্পকে উদ্‌যাপনের দিনে সুর আর উৎসবের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল সিডনির এই ঐতিহাসিক স্থাপনাও।</p><p>সিডনি অপেরা হাউসের জোয়ান সাদারল্যান্ড থিয়েটারে অপেরা অস্ট্রেলিয়ার আয়োজনে পরিবেশিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান গ্রেট অপেরা হিটস। এতে শিল্পীরা পুচিনি, ভের্দি, রসিনি ও বিজের বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করেন। পাশাপাশি কনসার্ট হলে মঞ্চস্থ হয় জনপ্রিয় সংগীতনাট্য মাই ফেয়ার লেডি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/if8t8uxl/WhatsApp_Image_2026_10_25_at_5_14_33_PM.jpeg"><figcaption>অপেরার দৃশ্য। ছবি: সিডনি অপেরা হাউসের সৌজন্যে </figcaption></figure><p>মিলনায়তনের ভেতরে পরিবেশনা আর বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড়—দুইয়ে মিলে জমে ওঠে দিনের আয়োজন। আয়োজকদের একজন জানালেন (নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি), ব্রডওয়েতে প্রথম মঞ্চস্থের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিডনি অপেরা হাউসে এসেছে মাই ফেয়ার লেডির এই আয়োজন। এর কেন্দ্রে ফুল বিক্রেতা এলাইজা ডুলিটলের বদলে যাওয়ার গল্প। এলাইজা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লেয়ার লায়ন, আর অধ্যাপক হেনরি হিগিনসের ভূমিকায় ন্যাথানিয়েল পার্কার। প্রযোজনাটি সাজানো হয়েছে জুলি অ্যান্ড্রুজের নির্দেশনায় ২০১৬ সালে মঞ্চে আসা অস্ট্রেলীয় সংস্করণের ভিত্তিতে। ‘আই কুড হ্যাভ ড্যান্সড অল নাইট’ ও ‘উডন্ট ইট বি লাভারলি?’–এর মতো পরিচিত গান রয়েছে এতে। সংগীতনাট্যটির প্রদর্শনী চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।</p><p>বিশ্বখ্যাত দুই সুরকার—ফ্রান্সের জর্জেস বিজে ও অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় জোহান স্ট্রসের জন্মদিন স্মরণে প্রতিবছর ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অপেরা ফোরামের আলোচনার সূত্র ধরে ২০১৯ সালে যৌথভাবে দিবসটি পালন শুরু করে অপেরা আমেরিকা, অপেরা ইউরোপা ও অপেরা লাতিনো–আমেরিকা। নতুন দর্শকের কাছে অপেরাকে পৌঁছে দেওয়া এবং এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।<br>অপেরার গল্পে উঠে আসে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, আনন্দ কিংবা বেদনার মতো চেনা অনুভূতি। ভাষা আলাদা হলেও সেই আবেগের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন নানা দেশের দর্শক। সুর ও গল্পের মধ্য দিয়ে মানুষের এই কাছাকাছি আসার বিষয়টিও সামনে আনতে চায় বিশ্ব অপেরা দিবস। আয়োজকদের মতে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি উদার হতে ভূমিকা রাখতে পারে এই শিল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/x92qwcmf/WhatsApp_Image_2026_10_25_at_12_15_06_PM.jpeg"><figcaption>বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যটিকে পেছনে রেখে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন অনেকে</figcaption></figure><p>উদ্‌যাপনের পাশাপাশি সামনে এসেছে এই শিল্পের নেপথ্যের মানুষদের অনিশ্চয়তার কথাও। জার্মান অর্কেস্ট্রা পরিচালক কেভিন জন এডুসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বহু অপেরাশিল্পী ও কলাকুশলী এখনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, মহড়ায় পারিশ্রমিক না পাওয়া ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। অপেরাকে টিকিয়ে রাখতে তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।<br>সব মিলিয়ে রোববার সিডনি অপেরা হাউসে কেটেছে এক ব্যস্ত, উৎসবমুখর দিন। নানা আয়োজনে মুখর এই প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন নানা দেশ ও বর্ণের মানুষ। ভাষা আর সংস্কৃতির ভিন্নতা পেরিয়ে তাঁরা একসঙ্গে উপভোগ করেছেন সুর ও অভিনয়ের রস। কেউ ক্যামেরায় ধরে রেখেছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, কেউ ফিরেছেন মঞ্চের মুগ্ধতা নিয়ে।</p>

Prothomalo

View more
ডেন্টাল হাইজিনিস্ট থেকে শিল্পী, ফ্লোরিডায় উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে চলেছেন সন্দ্বীপের জাহান রিমা
ডেন্টাল হাইজিনিস্ট থেকে শিল্পী, ফ্লোরিডায় উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে চলেছেন সন্দ্বীপের জাহান রিমা

<p>বাংলাদেশের মেয়ে মাসুমা জাহান রিমা। পেশায় যুক্তরাষ্ট্রের একজন ডেন্টাল হাইজিনিস্ট। লেখক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন এক যুগের বেশি সময় আগে। শিল্পী হিসেবেও পরিচিতি গড়ে তুলেছেন অর্ধযুগ ধরে; আর সর্বশেষ নাম লিখিয়েছেন উদ্যোক্তা হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রে বড় শপিং মলে এখন তিনি নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।</p><p>চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে জন্ম নেওয়া জাহান রিমার জীবনের পথ একসময় এসে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। সেই পথের এক প্রান্তে চিকিৎসাসেবা, অন্য প্রান্তে সাহিত্য।</p><p>মাঝখানে শিল্প, সম্পাদনা, সৃজনশীলতা আর এখন ব্যবসা। একটি পরিচয় শেষ হওয়ার আগেই যেন আরেকটি পরিচয় এসে কড়া নেড়েছে দরজায়। নিজের পরিচয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে জাহান রিমার উত্তরও তাই বেশ গভীর, ‘আমার জীবনটা মিশ্র। পেশায় একজন ডেন্টাল হাইজিনিস্ট; মনের কাছে লেখক; আবেগে শিল্পী; আর নিজের ইচ্ছায় আমি একজন উদ্যোক্তা।’</p><p>জাহান রিমাকে কোন পরিচয়টি সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করে? প্রশ্নটি শুনে হেসে তিনি বলেন, ‘সবগুলোই আমি, আবার কোনোটাই শুধু আমি না।’</p><p>এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর পুরো জীবনদর্শন। তিনি কখনোই একটি পরিচয়কে অন্যটির প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলেননি; বরং জীবনের একেক বাঁকে একেকটি রূপকে সামনে এনেছেন। করোনার সময় সামনে এসেছিলেন সেবাকর্মী রিমা। ডেন্টাল হাইজিন পেশায় যুক্ত থাকায় তিনি দাঁড়িয়েছিলেন সম্মুখসারিতে—যখন গোটা পৃথিবীর মানুষ সুরক্ষার খোঁজে ঘরবন্দী। ২০২০ সালে তিনি ছুটে গেছেন দুর্গম এলাকায় আক্রান্ত রোগীদের পাশে। মহামারিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ‘রিমোট এরিয়া মেডিক্যাল’ (র‌্যাম) থেকে পেয়েছেন প্রশংসাপত্র (সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রিসিয়েশন)।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/83zfccli/Jahan-Rima-2.jpeg"><figcaption>ক্যানভাসে রং ও রেখা ফুটিয়ে তুলছেন মাসুমা জাহান রিমা </figcaption></figure><p>মানুষের হাসির যত্ন নেওয়া পেশা হলেও মানুষের মন, সম্পর্ক আর জীবনকে শব্দে বাঁধার তাড়না থেকে জন্ম নেয় তাঁর লেখক পরিচয়। ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গল্পের বই ‘যে তুমি মানুষ খোঁজো’। ২০২১ সালে যমজ বোন জাহান রিপার সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশ করেন কবিতার বই ‘রিপাবনে বিভোরিমা’। বর্তমানে লিখছেন তৃতীয় বই ‘আনন্দবাড়ির আব্বু’। লেখার সঙ্গে তাঁর সখ্য অবশ্য আরও পুরোনো। ২০১৪ সালে তাঁর কবিতা নিয়ে নির্মিত আবৃত্তি ও সংগীতের ভিডিওতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন দেশের একজন সুপরিচিত আবৃত্তিশিল্পী। দেশের বিভিন্ন পত্রিকাতেও তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।</p><p>শুধু লেখালেখিই নয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুক্ত সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোভিত্তিক বাংলা সাময়িকী একতারার সম্পাদকীয় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন এক দশকের বেশি সময় ধরে। এ ছাড়া কাজ করছেন ‘বাংলাটাইমস ৩৬০’–এর সহযোগী সম্পাদক হিসেবেও।</p><h3>পেশা বদল ও উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প</h3><p>জাহান রিমার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি বুঝতে হলে ফিরতে হবে তাঁর শিক্ষাজীবনে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি নিজের জীবনের গতিপথ যেন বদলে ফেলেন পুরোপুরি। যুক্তরাষ্ট্রে এসে নতুন করে ভর্তি হন স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও ডেন্টাল হাইজিনে। দীর্ঘ ছয়-সাত বছরের নিবিড় পড়াশোনা শেষে কাজ শুরু করেন একটি জরুরি ডেন্টাল ক্লিনিকে।</p><p>এরপর নিজের শিল্পবোধ ও সৃজনশীলতাকে সম্বল করে পা রাখেন ব্যবসার দুনিয়ায়। তবে ব্যবসাকে তিনি নিছক লাভ-ক্ষতির অঙ্কে আটকে রাখেননি; নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সার্বক্ষণিক শিল্পী হিসেবে।</p><p>প্রায় পাঁচ বছর আগে ফ্লোরিডার অন্যতম বৃহৎ ও ব্যস্ত শপিং মল ‘দ্য ফ্লোরিডা মল’–এ একটি কিয়স্কের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে তাঁর প্রতিষ্ঠান—জাহান’স আর্টিস্টিক ওয়ার্ল্ড। সেখানে মেহেদি, বডি আর্ট, পোর্ট্রেট, ক্যারিকেচার ও পেইন্টিং নিয়ে সেবা দেওয়া শুরু করেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/ezmmslxl/Jahan-Rima-3.jpeg"><figcaption>পেশাগত পোশাকে ডেন্টাল হাইজিনিস্ট জাহান রিমা। যুক্তরাষ্ট্রে করোনাকালে চিকিৎসাসেবার সম্মুখসারিতেও লড়াই করেছেন তিনি</figcaption></figure><p>যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ত শপিং মলে নিজের শিল্পের পরিসর গড়ে তোলা সহজ ছিল না। স্মৃতিচারণা করে জাহান রিমা বলেন, ‘শুরুতে ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। যদি না চলে? আমার আগে কেউ কেন করেনি? তার ওপর ছিল মলের চড়া ভাড়া আর অনিশ্চয়তা।’ সেই সময় ভবিষ্যৎবিষয়ক মার্কিন লেখক জ্যাক উলড্রিচের একটি কথা তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল, ‘যেটি তোমাকে একই সঙ্গে রোমাঞ্চিত করে এবং ভয় দেখায়, সম্ভবত সেটিই তোমার করা উচিত।’</p><p>সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হলেও তিনি ইউনিভার্সাল স্টুডিওর শিল্পীর চাকরি ছাড়েন। ফিরিয়ে দেন ডিজনি ওয়ার্ল্ডের মরক্কো প্যাভিলিয়নে যোগ দেওয়ার প্রস্তাবও। ডেন্টাল প্র্যাকটিসে ফেরার নিরাপদ পথ ছেড়ে পুরোপুরি মনোযোগ দেন নিজের তৈরি প্ল্যাটফর্মে। বর্তমানে ‘দ্য ফ্লোরিডা মল’ ছাড়াও হাই-এন্ড শপিং মল ‘অরল্যান্ডো ভাইনল্যান্ড প্রিমিয়াম আউটলেটস’–এ চালু করেছেন নতুন শাখা। পাশাপাশি অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এমসিও) রয়েছে তাঁর একটি লন্ড্রোম্যাট ব্যবসা।<br>‘আপনি কি সফল?’—প্রশ্ন শুনে হেসে জাহান রিমা বলেন, ‘আমি বলব না আমি সফল হয়ে গেছি। এখনো অনেক পথ বাকি; কিন্তু আমি আমার নিজের মতো করে সফল। আমার কাছে সাফল্য মানে মনের সুখ। আপনি যেখানে আছেন, সেখানে যদি খুশি থাকেন, তাহলেই আপনি সফল।’</p><p>জাহান রিমা আরও বলেন, ‘আমার আনন্দ হয় এই ভেবে যে আমাদের বাংলাদেশের ট্র্যাডিশনাল মেহেদি আর্টকে আমেরিকার মলে নিয়ে আসতে পেরেছি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা সংস্কৃতির মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি আমাদের আনন্দ উদ্‌যাপনের ঐতিহ্য।’</p><p>মেহেদি ছাড়াও তেলরং, জলরং, ওয়ান-লাইন আর্ট ও মিক্সড মিডিয়ায় নিয়মিত কাজ করেন জাহান রিমা। মিনিমালিস্ট ধাঁচের ওয়ান-লাইন আর্টে একটিমাত্র অবিচ্ছিন্ন রেখায় গল্প ফুটিয়ে তুলতে ভালোবাসেন। নতুন কিছু শেখার আগ্রহে সম্প্রতি একজন গুরুর কাছে শিখছেন ক্যারিকেচার। তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রার মূল শক্তি পরিবার। তাঁদের বাড়িটিকে ডাকেন ‘আনন্দবাড়ি’। হাসিমুখে জাহান রিমা বলেন, ‘তারা আমার পাওয়ারহাউস।’ সম্প্রতি অরল্যান্ডো ভয়েজার ম্যাগাজিনের ‘হিডেন জেম’ সিরিজেও তাঁকে নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে।</p><p>পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া জাহানের ভাষায়, ‘পুরো পৃথিবীটাই এখন আমার স্টুডিও মনে হয়।’</p><p>সন্দ্বীপ থেকে ফ্লোরিডা—দূরত্বটা শুধু হাজার মাইলের নয়; এর মধ্যে জড়িয়ে আছে সময়, রূপান্তর, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি এবং নিজেকে বারবার নতুন করে গড়ে তোলার সাহস। তবে এত পরিচয়ের ভিড়েও নাড়ির টান ভোলেননি তিনি।</p>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস
সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস

<p>সিডনি অপেরা হাউস চত্বরে রোববার অন্য রকম ভিড়। কেউ পরিবার–পরিজন নিয়ে এসেছেন অনুষ্ঠান দেখতে, কেউ সঙ্গীদের নিয়ে সেলফি তুলছেন। বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যটিকে পেছনে রেখে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন অনেকে। ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবসে সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে এমনই উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শনার্থীদের আসা–যাওয়া আর সংগীতের আয়োজনে চেনা অপেরা হাউস যেন পেয়েছে বাড়তি প্রাণ।<br> বিশ্বজুড়ে অনেকের কাছে অপেরা বলতেই সিডনি অপেরা হাউসের ছবি ভেসে উঠলেও এই মঞ্চশিল্পের জন্ম ষোড়শ শতকের শেষভাগে ইতালির ফ্লোরেন্সে। সেই শিল্পকে উদ্‌যাপনের দিনে সুর আর উৎসবের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল সিডনির এই ঐতিহাসিক স্থাপনাও।</p><p>সিডনি অপেরা হাউসের জোয়ান সাদারল্যান্ড থিয়েটারে অপেরা অস্ট্রেলিয়ার আয়োজনে পরিবেশিত হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান গ্রেট অপেরা হিটস। এতে শিল্পীরা পুচিনি, ভের্দি, রসিনি ও বিজের বিখ্যাত গানগুলো পরিবেশন করেন। পাশাপাশি কনসার্ট হলে মঞ্চস্থ হয় জনপ্রিয় সংগীতনাট্য মাই ফেয়ার লেডি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/if8t8uxl/WhatsApp_Image_2026_10_25_at_5_14_33_PM.jpeg"><figcaption>অপেরার দৃশ্য। ছবি: সিডনি অপেরা হাউসের সৌজন্যে </figcaption></figure><p>মিলনায়তনের ভেতরে পরিবেশনা আর বাইরে দর্শনার্থীদের ভিড়—দুইয়ে মিলে জমে ওঠে দিনের আয়োজন। আয়োজকদের একজন জানালেন (নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি), ব্রডওয়েতে প্রথম মঞ্চস্থের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিডনি অপেরা হাউসে এসেছে মাই ফেয়ার লেডির এই আয়োজন। এর কেন্দ্রে ফুল বিক্রেতা এলাইজা ডুলিটলের বদলে যাওয়ার গল্প। এলাইজা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লেয়ার লায়ন, আর অধ্যাপক হেনরি হিগিনসের ভূমিকায় ন্যাথানিয়েল পার্কার। প্রযোজনাটি সাজানো হয়েছে জুলি অ্যান্ড্রুজের নির্দেশনায় ২০১৬ সালে মঞ্চে আসা অস্ট্রেলীয় সংস্করণের ভিত্তিতে। ‘আই কুড হ্যাভ ড্যান্সড অল নাইট’ ও ‘উডন্ট ইট বি লাভারলি?’–এর মতো পরিচিত গান রয়েছে এতে। সংগীতনাট্যটির প্রদর্শনী চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।</p><p>বিশ্বখ্যাত দুই সুরকার—ফ্রান্সের জর্জেস বিজে ও অস্ট্রিয়ার দ্বিতীয় জোহান স্ট্রসের জন্মদিন স্মরণে প্রতিবছর ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালে স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অপেরা ফোরামের আলোচনার সূত্র ধরে ২০১৯ সালে যৌথভাবে দিবসটি পালন শুরু করে অপেরা আমেরিকা, অপেরা ইউরোপা ও অপেরা লাতিনো–আমেরিকা। নতুন দর্শকের কাছে অপেরাকে পৌঁছে দেওয়া এবং এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।<br>অপেরার গল্পে উঠে আসে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, আনন্দ কিংবা বেদনার মতো চেনা অনুভূতি। ভাষা আলাদা হলেও সেই আবেগের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন নানা দেশের দর্শক। সুর ও গল্পের মধ্য দিয়ে মানুষের এই কাছাকাছি আসার বিষয়টিও সামনে আনতে চায় বিশ্ব অপেরা দিবস। আয়োজকদের মতে, অন্যের অনুভূতি বুঝতে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি উদার হতে ভূমিকা রাখতে পারে এই শিল্প।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/x92qwcmf/WhatsApp_Image_2026_10_25_at_12_15_06_PM.jpeg"><figcaption>বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যটিকে পেছনে রেখে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন অনেকে</figcaption></figure><p>উদ্‌যাপনের পাশাপাশি সামনে এসেছে এই শিল্পের নেপথ্যের মানুষদের অনিশ্চয়তার কথাও। জার্মান অর্কেস্ট্রা পরিচালক কেভিন জন এডুসেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে বহু অপেরাশিল্পী ও কলাকুশলী এখনো স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, মহড়ায় পারিশ্রমিক না পাওয়া ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। অপেরাকে টিকিয়ে রাখতে তাঁদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।<br>সব মিলিয়ে রোববার সিডনি অপেরা হাউসে কেটেছে এক ব্যস্ত, উৎসবমুখর দিন। নানা আয়োজনে মুখর এই প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিলেন নানা দেশ ও বর্ণের মানুষ। ভাষা আর সংস্কৃতির ভিন্নতা পেরিয়ে তাঁরা একসঙ্গে উপভোগ করেছেন সুর ও অভিনয়ের রস। কেউ ক্যামেরায় ধরে রেখেছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, কেউ ফিরেছেন মঞ্চের মুগ্ধতা নিয়ে।</p>

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ
টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৬
ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৬

মামলার এজাহারে বলা হয়, তাঁদের কবল থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দেন।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
ঢাকায় ৫ নভেম্বর এআই বিজনেস সামিট, অংশ নেবে শতাধিক স্টার্টআপ
ঢাকায় ৫ নভেম্বর এআই বিজনেস সামিট, অংশ নেবে শতাধিক স্টার্টআপ

সম্মেলনে তিনটি বিশেষ অধিবেশনে বিশেষজ্ঞ আলোচনার পাশাপাশি শতাধিক স্টার্টআপ বাস্তব সমস্যার সমাধানে তাদের তৈরি বিভিন্ন উদ্ভাবন ও পণ্য তুলে ধরবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করলেন প্রধানমন্ত্রী
চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করলেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানের বড় কোম্পানি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
অসংক্রামক রোগের বড় কারণ খাবারে ভেজাল
অসংক্রামক রোগের বড় কারণ খাবারে ভেজাল

বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ, যার প্রধান কারণ খাদ্যে ভেজাল।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কোর্তোয়া কেন নেই, দেখে নিন এল ক্লাসিকোয় দুই দলের একাদশ
কোর্তোয়া কেন নেই, দেখে নিন এল ক্লাসিকোয় দুই দলের একাদশ

স্প্যানিশ লা লিগায় আজ রাতে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিস্তার
পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিস্তার

১০ দিনের বিশেষ জনসংযোগ অভিযানে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ হাজারের বেশি নতুন শাখা চালু করেছে আরএসএস। এতে রাজ্যে সংগঠনটির শাখার সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১০ হাজারে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার ও দণ্ড, ‘মোরাল পুলিশিং’ নিয়ে উদ্বেগ
পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার ও দণ্ড, ‘মোরাল পুলিশিং’ নিয়ে উদ্বেগ

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নাগরিকের স্বাধীনতা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নৈতিকতার অজুহাতে ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিষ্ঠার আগেই গণহারে শাস্তি দেওয়ার চর্চা বন্ধ করতে হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন