শিল্প

শ্রমিকের মজুরি আন্দোলনে ৬৮১ কারখানার উৎপাদন ব্যাহত

নভেম্বর ২, ২০২৬
শ্রমিকের মজুরি আন্দোলনে ৬৮১ কারখানার উৎপাদন ব্যাহত
শ্রমিকের মজুরি আন্দোলনে ৬৮১ কারখানার উৎপাদন ব্যাহত
<p>পোশাকশ্রমিকদের চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে আজ সোমবার বিভিন্ন শিল্প এলাকার অন্তত ৬৮১ কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ তৈরি পোশাকশিল্পের। গতকাল রোববার ৫২৯ পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়।</p><p> মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভার, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকেরা গত সপ্তাহ থেকে আন্দোলনে নামেন। এর মধ্যে গতকাল পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রম মন্ত্রণালয়। সেদিনই গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুরে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, পুলিশ বক্স ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আজ গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয় শ্রমিকদের।</p><p>তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানায়, আজ ৬৭৯ তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে বেরিয়ে যান। এর মধ্যে মিরপুরের ৬৫, গাজীপুরের ৩৮২, সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকার ৯ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কাজ করেন ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন শ্রমিক।</p><p>জানা যায়, গাজীপুরে কালিয়াকৈরে অবস্থিত দেশীয় একটি জুতার কারখানায় সকালে উৎপাদন শুরু হলেও নয়টার দিকে আন্দোলনকারীদের চাপে শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আশুলিয়ার পিকার্ড বাংলাদেশের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।</p><p>পোশাকশিল্প খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ সকালে সচিবালয়ে মালিকপক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিকেলে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।</p><p>জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কারখানা চালাচ্ছি না—এ কথা ঠিক নয়। আসল কথা হচ্ছে চালাতে পারছি না। আগামীকাল মঙ্গলবার কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করব। না পারলে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পথে যেতে হবে।’ কেন চালু রাখতে পারছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানার সামনে মিছিল, বাইরে থেকে কারখানায় ঢিল ইত্যাদি চলছিল। মজুরি বোর্ড গঠিত হওয়ার পর শ্রম অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।</p><p>অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘শ্রমিকনেতা থেকে শুরু করে সবাই চেষ্টা করছেন। আশা করছি, কাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’ কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই।’তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানায়, আজ ৬৭৯ তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে বেরিয়ে যান। এর মধ্যে মিরপুরের ৬৫, গাজীপুরের ৩৮২, সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকার ৯ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কাজ করেন ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন শ্রমিক।</p><p>জানা যায়, গাজীপুরে কালিয়াকৈরে অবস্থিত দেশীয় একটি জুতার কারখানায় সকালে উৎপাদন শুরু হলেও নয়টার দিকে আন্দোলনকারীদের চাপে শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া আশুলিয়ার পিকার্ড বাংলাদেশের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।</p><p>পোশাকশিল্প খাতের চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ সকালে সচিবালয়ে মালিকপক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিকেলে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।</p><p>জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কারখানা চালাচ্ছি না—এ কথা ঠিক নয়। আসল কথা হচ্ছে চালাতে পারছি না। আগামীকাল মঙ্গলবার কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করব। না পারলে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পথে যেতে হবে।’ কেন চালু রাখতে পারছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানার সামনে মিছিল, বাইরে থেকে কারখানায় ঢিল ইত্যাদি চলছিল। মজুরি বোর্ড গঠিত হওয়ার পর শ্রম অসন্তোষের কোনো কারণ নেই।</p><p>অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘শ্রমিকনেতা থেকে শুরু করে সবাই চেষ্টা করছেন। আশা করছি, কাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’ কারখানা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই।’</p>

Prothomalo

View more
চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী
চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী

সহপ্রতিযোগীকে ঘোড়া থেকে ফেলে আহত করার অভিযোগ, রাজবীর দের সঙ্গে চুম্বন, প্রেম ও ঝগড়া—সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে নন্দিনী দত্ত।

নভেম্বর ৩, ২০২৬
সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি
সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। তৈরি পোশাকশিল্প ও শ্রমিক রপ্তানি খাতেও নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নভেম্বর ৩, ২০২৬
সরকারি হাসপাতালে এসেও ওষুধের দাম,পরীক্ষা–নিরীক্ষার খরচে যেভাবে ফতুর হচ্ছেন রোগীরা
সরকারি হাসপাতালে এসেও ওষুধের দাম,পরীক্ষা–নিরীক্ষার খরচে যেভাবে ফতুর হচ্ছেন রোগীরা

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/srkari-haspatale-eseoo-ooshudher-dampreeksha-nireekshar-khrce-zevabe-ftur-hcchen-rogeera</figure>

নভেম্বর ৩, ২০২৬
আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ
আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ

<p>রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।</p><p>পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।</p><p>শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পের ওপর একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। </p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত
ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত

মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতির করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

নভেম্বর ২, ২০২৬
যে ক্যাফেতে কফি খেতে বসতে হয় মুরগির সঙ্গে
যে ক্যাফেতে কফি খেতে বসতে হয় মুরগির সঙ্গে

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/ze-kzafete-kfi-khete-bste-hy-murgir-sngoe</figure>

নভেম্বর ২, ২০২৬
পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের
পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের

পিএসজির কাছে হারের আগে চলতি মৌসুমে অপরাজিত ছিল বার্সেলোনা। এরপর এল ক্লাসিকোয় রিয়ালের কাছে হার। বড় মঞ্চে বার্সার সামর্থ্য নিয়ে তাই আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ২, ২০২৬
বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার
বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/89pnanlw/WhatsApp-Image-2026-11-02-at-10.17.33-PM.jpeg"></figure><p>আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সরকার এখন বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পেতে অন্যান্য বিকল্প পথও খুঁজছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথমবারের মতো সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।</p><p> অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন ডলার ও ইউরোয় যেমন বন্ড ছাড়ার কথা ভাবা হচ্ছে, তেমনি জাপানি ইয়েনে সামুরাই বন্ড ও চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পান্ডা বন্ড ছাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ইউরো বন্ডটি হবে ডলারভিত্তিক। বিদেশি ঋণের উৎস বৃদ্ধি ও অর্থায়নের বিকল্প তৈরি করতে বন্ড ছেড়ে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p><p> এ লক্ষ্য পূরণে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা বা রোড শো আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। তবে কোন বন্ডে ঋণ নিলে খরচ কম হবে, তা নির্ভর করবে সুদের হার, মেয়াদ, বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।</p><p>জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি সরকার বা প্রতিষ্ঠান জাপানি ইয়েনে যে বন্ড ছাড়ে, সেটি সামুরাই বন্ড নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে জাপানের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা যায়। অন্যদিকে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি সরকার বা প্রতিষ্ঠান চীনা মুদ্রা ইউয়ানে যে বন্ড ছাড়ে তাকে বলা হয় পান্ডা বন্ড।</p><p>আর আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারে বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রচলিত মাধ্যম হলো ডলারভিত্তিক ইউরো বন্ড। এখানে ইউরো বন্ড বলতে ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোতে বন্ড বোঝায় না।</p><p>বন্ড ছাড়ার ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান এবং হংকংভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়ার্কস ইন্টারন্যাশনালকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ডের কাঠামো নির্ধারণ, আইনি পরামর্শক ও ট্রাস্টি নির্বাচন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মতো কাজ করবে এ প্রতিষ্ঠানগুলো।</p><p>অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডলারে ঋণ নিলে ডলারে, ইয়েনে নিলে ইয়েনে এবং ইউয়ানে নিলে ইউয়ানে ঋণ ও সুদ পরিশোধ করতে হয়। তবে বিনিময় হার অনুকূলে না থাকলে ঋণের প্রকৃত খরচ বেড়ে যেতে পারে।</p><p>বন্ড ছাড়ার প্রক্রিয়াটিকে আকর্ষণীয় করতে ১৫-১৬ নভেম্বর কক্সবাজারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ঋণবিষয়ক সম্মেলনের আয়োজন করছে সরকার। ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে অংশ নিতে ৩০টি দেশের ১০০ প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।</p><p>সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম।</p><aside><cite>জাহিদ হোসেন, সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়</cite>অর্থায়নের বিকল্প উৎসের সন্ধানে সরকার চেষ্টা করতেই পারে। তবে দেখতে হবে যে বন্ড ছেড়ে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে আমরা কী করছি। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়, এমন প্রকল্পে অর্থ খরচ করলে কিন্তু ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।</aside><h3>কোন বন্ডে ঋণের খরচ কেমন </h3><p>অর্থ বিভাগ গত জুলাইয়ে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। এই কমিটি বন্ডের পরিমাণ, মুদ্রা, মেয়াদ, সুদের হার, বাজার নির্বাচন ও ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সুপারিশ জমা দেবে।</p><p>এ বন্ড ইস্যুতে মার্কিন ডলার প্রাধান্য পেলেও জাপানি ইয়েন, চীনা ইউয়ানসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রায়ও ঋণ সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পান্ডা বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।</p><p>বর্তমানে মার্কিন ডলারের তুলনায় জাপানি ইয়েন বা চীনা ইউয়ানে ঋণের সুদের হার কম। কিন্তু ঋণ পরিশোধের সময় ইয়েন বা ইউয়ানের বিপরীতে ডলারের মূল্য বেড়ে গেলে বাংলাদেশের জন্য ঋণের খরচ বাড়তে পারে। আবার তখন যদি ডলারের মূল্য কমে যায়, তাহলে খরচ কমতে পারে। তাই বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি কমাতে আগাম মুদ্রা বিনিময়ের চুক্তি করার সম্ভাবনা রয়েছে।</p><p>ডলারভিত্তিক বন্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সঙ্গে ঋণ পরিশোধের মুদ্রার মিল রয়েছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের বড় অংশ ডলারে আসে। ফলে ডলারে ঋণ নিলে মুদ্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে ডলারের সুদের হার বেশি হলে বা ঋণের মেয়াদে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হলে চাপ বাড়বে।</p><p>অন্যদিকে সামুরাই বন্ডের মাধ্যমে জাপানের বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছানো এবং পান্ডা বন্ডের মাধ্যমে চীনের বড় পুঁজিবাজার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এসব বাজারে বিনিয়োগকারীরা কী সুদে ঋণ দিতে আগ্রহী, কী শর্ত আরোপ করবেন এবং বন্ড ছাড়তে কত খরচ হবে—সেগুলো আগে যাচাই করবে সরকার।</p><h3>একমাত্র উদাহরণ প্রাণ গ্রুপের টাকা-বন্ড </h3><p>বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ কোটি টাকার ‘বাংলা বন্ড’ ছাড়ে, যা ৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। প্রাণ গ্রুপের উৎপাদন কার্যক্রম ও পণ্য বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণে অর্থায়নের জন্য বন্ডটি ছাড়া হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদি বন্ডটি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো এই বন্ড কেনে।</p><p>লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক নিখিল রাঠি তখন বলেছিলেন, আইএফসির এই ঐতিহাসিক বন্ড বৈশ্বিক বাংলা বন্ডবাজার চালুর পথ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি টাকার পরিচিতি বাড়িয়েছে।</p><p>প্রাণ-গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘তখন সবারই চাওয়া ছিল বন্ডবাজার উন্মুক্ত হোক ও সম্প্রসারণ হোক। আমরাও চেয়েছিলাম আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। যত দূর মনে পড়ে, টাকা-বন্ডটি খুব ভালো ছিল। আমরা উপকার পেয়েছি। প্রয়োজনে আবার সে বাজারে যাব।’</p><h3>ঋণ নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন </h3><p>আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাণিজ্যিক শর্তে ঋণ নেওয়ার সুবিধা হচ্ছে অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি করা। এতে বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থা বা দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ হয়। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণের নতুন উৎস তৈরি হয়।</p><p>এদিকে বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণের অর্থ কী কাজে ব্যয় করা হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে অর্থনীতিবিদদের। তাঁদের মতে, উৎপাদনশীল প্রকল্পে বিনিয়োগ করে আয় বাড়ানো গেলে ঋণ পরিশোধ সহজ হতে পারে। কিন্তু অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হলে সুদ ও আসল পরিশোধের দায় বাড়বে।</p><p>অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য তাই ডলার, ইয়েন ও ইউয়ানের মধ্যে শুধু কম সুদের বন্ড বেছে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। কোন মুদ্রায় ভবিষ্যৎ পরিশোধের ঝুঁকি কম, কোন বাজারে তুলনামূলক ভালো শর্ত পাওয়া যাবে এবং ঋণের অর্থ দিয়ে কতটা অর্থনৈতিক সুফল তৈরি করা সম্ভব—এসব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।</p><h3>বাংলাদেশের বন্ড ছাড়ার অতীত উদ্যোগ </h3><p>বাংলাদেশ ২০১১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে ৫০ কোটি ডলারের সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে ২০১২ সালে ৭ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে। কিন্তু উদ্যোগটি তেমন এগোয়নি। ২০১৩ সালেও ৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে লন্ডনে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়েছিল। এ উদ্যোগেও অগ্রগতি হয়নি।</p><p>পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে ২০০ কোটি ডলারের, ২০১৬ সালে ১০০-২০০ কোটি ডলারের, ২০২১ সালে এবং এর পরেও আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে ঋণের ঝুঁকি, বাজার পরিস্থিতি ও অর্থায়ন–সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে কোনো উদ্যোগই এগোয়নি।</p><p>এ নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, ‘অর্থায়নের বিকল্প উৎসের সন্ধানে সরকার চেষ্টা করতেই পারে। তবে দেখতে হবে যে বন্ড ছেড়ে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে আমরা কী করছি। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়, এমন প্রকল্পে অর্থ খরচ করলে কিন্তু ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, দুই বছর বা তিন বছরের জন্য ৮ থেকে ৯ শতাংশ সুদে বন্ড ছেড়ে ১০ বছর মেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে কী দাঁড়াবে, এ অঙ্ক খুব জটিল নয়। সহজেই বোঝা যায়।’</p><p>আইএমএফ থেকে নতুন ঋণ পাওয়া না–পাওয়ার সঙ্গে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার উদ্যোগকে সম্পর্কযুক্ত মনে হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, সরকার সমান্তরালভাবে এগোচ্ছে। তা হয়ে থাকলেও বিষয়টি নেতিবাচক নয়। বিদ্যমান বাস্তবতায় দেশে বহুমুখী অর্থায়ন উৎসের দরকার আছে।’</p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কিসের আশঙ্কা
জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কিসের আশঙ্কা

<p>বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নাগরিকদের তিন দিনের প্রস্তুতি নিতে বলছে। সুইডেন ও নরওয়েতে এক সপ্তাহ এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। যুক্তরাজ্যে সরকারের আহ্বানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে টিনজাত খাবার, রেডিও, টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রিও বেড়েছে। কেন এত দেশ নাগরিকদের জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলছে? এর পেছনে কি আসন্ন কোনো যুদ্ধ বা বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা আছে?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/il6a2mp8/pexels-photo-35285844.avif"><figcaption>বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার</figcaption></figure><p>বিভিন্ন দেশের সরকারি নির্দেশনা এবং বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তুতির পেছনে আছে একাধিক ঝুঁকি। </p><p>এর মধ্যে আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চরম আবহাওয়া, সাইবার হামলা এবং বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। ইউরোপের কিছু দেশের প্রস্তুতিতে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বিবেচনায় আছে।</p><p>তবে এসব নির্দেশনা থেকে নির্দিষ্ট কোনো যুদ্ধ বা বিপর্যয় আসন্ন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি নেই।</p><h3>যুক্তরাজ্যে কী হচ্ছে </h3><p>গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামের একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। এর উদ্দেশ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকেরা যেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারে।</p><p>ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় একজনের জন্য প্রতিদিন তিন লিটার খাবার পানি, সহজে নষ্ট হয় না এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাটারিচালিত বা হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p><p>সরকার বলছে, ঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎবিভ্রাট কিংবা সাইবার হামলার কারণে জরুরি পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো কিছুদিন নিজেরা চলতে পারলে উদ্ধার ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বেশি বিপদে থাকা মানুষদের আগে সাহায্য করতে পারবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/w8h3fl8c3v">ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নমিনি নির্বাচনের আগে যা জানা জরুরি</a></aside><h3>টিনজাত খাবার ও রেডিওর বিক্রি বেড়েছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/cjaeigw5/pexels-photo-5125690.avif"><figcaption>সরকারের আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে</figcaption></figure><p>সরকারের এই আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।</p><p>বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে এক সপ্তাহান্তে টিনজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বোতলজাত পানির বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।</p><p>যুক্তরাজ্যের গৃহস্থালির ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রবার্ট ডায়াস জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় তাদের রেডিও বিক্রি বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।</p><p>যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাপলিনের হিসাবে, সরকারি ঘোষণার পর রেডিওর বিক্রি ৯২ শতাংশ, টর্চলাইটের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি ১০৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগের মাসের একই সময়ের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের তুলনা করেছে।</p><p>জরুরি পরিস্থিতির সরঞ্জাম বিক্রি করে এমন কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানও চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।</p><p>তবে এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট কয়েকটি বিক্রেতার। এ থেকে গোটা যুক্তরাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বা খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।</p><p>সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের টিনজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।</p><h3>অন্য দেশগুলো কী বলছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/ylt4s5st/Screenshot_2026_11_02_211408.png"><figcaption>যেসব দেশে জরুরি প্রস্তুতিবিষয়ক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে</figcaption></figure><p>২৮ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের জরুরি প্রস্তুতিবিষয়ক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।</p><p>প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো কানাডা, জাপান, মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসেও তিন দিনের জরুরি সামগ্রী রাখার পরামর্শ আছে। সুইডেন ও নরওয়ে প্রায় এক সপ্তাহ এবং জার্মানি দিয়েছে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ।</p><p>ভারতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে বললেও সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট ‘রেডি ডট গভ’-এও কয়েক দিন চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার নির্দেশনা আছে।</p><p>তবে সব দেশের নির্দেশনার কারণ এক নয়। জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে স্থানীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা নির্দেশনা আছে।</p><p>এ ছাড়া এসব নির্দেশনার সবই নতুন নয়। অনেক দেশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ প্রস্তুতির কর্মসূচি চালু আছে।</p><h3>ইউরোপে কেন বাড়তি গুরুত্ব </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/qr4fh3g9/EU-preparedness-union-strategy-Card.jpg"><figcaption>ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে</figcaption></figure><p>ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে। এতে সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।</p><p>ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।</p><p>সুইডেনের সরকারি নির্দেশিকায় সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধের পরিস্থিতির কথাও আছে। দেশটির নাগরিকদের এক সপ্তাহ চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।</p><p>তবে সুইডেনে যুদ্ধকালীন নাগরিক প্রস্তুতির নির্দেশনা নতুন নয়। দেশটির এমন নির্দেশিকা প্রকাশের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সাম্প্রতিক সংস্করণে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/zngheorqay">সিপিআর শেখা কেন জরুরি, কীভাবে দেওয়া হয়</a></aside><h3>যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ৯০ দিনের প্রস্তুতি </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/4ibsz4n1/photo-1701009711077-07f9f4ea0edd.avif"><figcaption>যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে</figcaption></figure><p>এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।</p><p>২ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বাইরে থেকে সহায়তা না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন অন্তত ৯০ দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।</p><p>এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির স্বনির্ভরতা, সরবরাহব্যবস্থা, জরুরি মজুত এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা আছে।</p><p>তবে এই ৯০ দিনের প্রস্তুতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য দেওয়া কোনো নির্দেশনা নয়। এটি সামরিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার পরিকল্পনা।</p><h3>তাহলে কি বড় কোনো বিপর্যয় আসছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/aq2hg4uv/pexels-photo-5380603.avif"><figcaption>আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগ বা সাইবার হামলায় একটি পরিষেবা বন্ধ হলে অন্য পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারে</figcaption></figure><p>বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির উদ্যোগকে একই ধরনের আসন্ন হুমকির সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।</p><p>আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগ বা সাইবার হামলায় একটি পরিষেবা বন্ধ হলে অন্য পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারে। সরকারি নির্দেশনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ কমানো।</p><p>ব্রিটিশ সরকারও স্পষ্ট করেছে, জরুরি প্রস্তুতি মানে একবারে বিপুল পরিমাণ খাবার বা পানি কিনে রাখা নয়। ঘরে আগে থেকেই থাকা সামগ্রী দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে কিছু জিনিস যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p><p>সরকারের নির্দেশনায় প্রতিবেশীদের খোঁজ রাখা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর লিখে রাখা এবং যাঁদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের কথা বিবেচনা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।</p><p>অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের এই উদ্যোগের মূল বার্তা হলো সম্ভাব্য সংকটের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা। এসব আসন্ন যুদ্ধ বা খাদ্যসংকটের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।</p><p><sup>সূত্র: বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, ইউরোপীয় কমিশন, সুইডিশ সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের রেডি ডট গভ</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/svcd9mo24n">ফ্রিজের ওপর সাইবার হামলার কথা আগে শুনেছেন? ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটে এমনটা হলো কেন</a></aside>

নভেম্বর ২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।