অর্থনীতি

বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার

নভেম্বর ২, ২০২৬
বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার
বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-02/89pnanlw/WhatsApp-Image-2026-11-02-at-10.17.33-PM.jpeg"></figure><p>আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সরকার এখন বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পেতে অন্যান্য বিকল্প পথও খুঁজছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথমবারের মতো সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।</p><p> অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন ডলার ও ইউরোয় যেমন বন্ড ছাড়ার কথা ভাবা হচ্ছে, তেমনি জাপানি ইয়েনে সামুরাই বন্ড ও চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পান্ডা বন্ড ছাড়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ইউরো বন্ডটি হবে ডলারভিত্তিক। বিদেশি ঋণের উৎস বৃদ্ধি ও অর্থায়নের বিকল্প তৈরি করতে বন্ড ছেড়ে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p><p> এ লক্ষ্য পূরণে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা বা রোড শো আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে সরকারের। তবে কোন বন্ডে ঋণ নিলে খরচ কম হবে, তা নির্ভর করবে সুদের হার, মেয়াদ, বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।</p><p>জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি সরকার বা প্রতিষ্ঠান জাপানি ইয়েনে যে বন্ড ছাড়ে, সেটি সামুরাই বন্ড নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে জাপানের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা যায়। অন্যদিকে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদেশি সরকার বা প্রতিষ্ঠান চীনা মুদ্রা ইউয়ানে যে বন্ড ছাড়ে তাকে বলা হয় পান্ডা বন্ড।</p><p>আর আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারে বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রচলিত মাধ্যম হলো ডলারভিত্তিক ইউরো বন্ড। এখানে ইউরো বন্ড বলতে ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোতে বন্ড বোঝায় না।</p><p>বন্ড ছাড়ার ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান এবং হংকংভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্রিজওয়ার্কস ইন্টারন্যাশনালকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ডের কাঠামো নির্ধারণ, আইনি পরামর্শক ও ট্রাস্টি নির্বাচন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মতো কাজ করবে এ প্রতিষ্ঠানগুলো।</p><p>অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডলারে ঋণ নিলে ডলারে, ইয়েনে নিলে ইয়েনে এবং ইউয়ানে নিলে ইউয়ানে ঋণ ও সুদ পরিশোধ করতে হয়। তবে বিনিময় হার অনুকূলে না থাকলে ঋণের প্রকৃত খরচ বেড়ে যেতে পারে।</p><p>বন্ড ছাড়ার প্রক্রিয়াটিকে আকর্ষণীয় করতে ১৫-১৬ নভেম্বর কক্সবাজারে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক ঋণবিষয়ক সম্মেলনের আয়োজন করছে সরকার। ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এ সম্মেলনে অংশ নিতে ৩০টি দেশের ১০০ প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।</p><p>সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ছাড়া বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং এবং বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম।</p><aside><cite>জাহিদ হোসেন, সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়</cite>অর্থায়নের বিকল্প উৎসের সন্ধানে সরকার চেষ্টা করতেই পারে। তবে দেখতে হবে যে বন্ড ছেড়ে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে আমরা কী করছি। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়, এমন প্রকল্পে অর্থ খরচ করলে কিন্তু ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।</aside><h3>কোন বন্ডে ঋণের খরচ কেমন </h3><p>অর্থ বিভাগ গত জুলাইয়ে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে। এই কমিটি বন্ডের পরিমাণ, মুদ্রা, মেয়াদ, সুদের হার, বাজার নির্বাচন ও ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সুপারিশ জমা দেবে।</p><p>এ বন্ড ইস্যুতে মার্কিন ডলার প্রাধান্য পেলেও জাপানি ইয়েন, চীনা ইউয়ানসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রায়ও ঋণ সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পান্ডা বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।</p><p>বর্তমানে মার্কিন ডলারের তুলনায় জাপানি ইয়েন বা চীনা ইউয়ানে ঋণের সুদের হার কম। কিন্তু ঋণ পরিশোধের সময় ইয়েন বা ইউয়ানের বিপরীতে ডলারের মূল্য বেড়ে গেলে বাংলাদেশের জন্য ঋণের খরচ বাড়তে পারে। আবার তখন যদি ডলারের মূল্য কমে যায়, তাহলে খরচ কমতে পারে। তাই বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি কমাতে আগাম মুদ্রা বিনিময়ের চুক্তি করার সম্ভাবনা রয়েছে।</p><p>ডলারভিত্তিক বন্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সঙ্গে ঋণ পরিশোধের মুদ্রার মিল রয়েছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের বড় অংশ ডলারে আসে। ফলে ডলারে ঋণ নিলে মুদ্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে ডলারের সুদের হার বেশি হলে বা ঋণের মেয়াদে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হলে চাপ বাড়বে।</p><p>অন্যদিকে সামুরাই বন্ডের মাধ্যমে জাপানের বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছানো এবং পান্ডা বন্ডের মাধ্যমে চীনের বড় পুঁজিবাজার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এসব বাজারে বিনিয়োগকারীরা কী সুদে ঋণ দিতে আগ্রহী, কী শর্ত আরোপ করবেন এবং বন্ড ছাড়তে কত খরচ হবে—সেগুলো আগে যাচাই করবে সরকার।</p><h3>একমাত্র উদাহরণ প্রাণ গ্রুপের টাকা-বন্ড </h3><p>বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ কোটি টাকার ‘বাংলা বন্ড’ ছাড়ে, যা ৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। প্রাণ গ্রুপের উৎপাদন কার্যক্রম ও পণ্য বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণে অর্থায়নের জন্য বন্ডটি ছাড়া হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদি বন্ডটি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো এই বন্ড কেনে।</p><p>লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক নিখিল রাঠি তখন বলেছিলেন, আইএফসির এই ঐতিহাসিক বন্ড বৈশ্বিক বাংলা বন্ডবাজার চালুর পথ তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি টাকার পরিচিতি বাড়িয়েছে।</p><p>প্রাণ-গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘তখন সবারই চাওয়া ছিল বন্ডবাজার উন্মুক্ত হোক ও সম্প্রসারণ হোক। আমরাও চেয়েছিলাম আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। যত দূর মনে পড়ে, টাকা-বন্ডটি খুব ভালো ছিল। আমরা উপকার পেয়েছি। প্রয়োজনে আবার সে বাজারে যাব।’</p><h3>ঋণ নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন </h3><p>আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বাণিজ্যিক শর্তে ঋণ নেওয়ার সুবিধা হচ্ছে অর্থায়নের নতুন উৎস তৈরি করা। এতে বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থা বা দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ হয়। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণের নতুন উৎস তৈরি হয়।</p><p>এদিকে বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণের অর্থ কী কাজে ব্যয় করা হবে—এ নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে অর্থনীতিবিদদের। তাঁদের মতে, উৎপাদনশীল প্রকল্পে বিনিয়োগ করে আয় বাড়ানো গেলে ঋণ পরিশোধ সহজ হতে পারে। কিন্তু অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হলে সুদ ও আসল পরিশোধের দায় বাড়বে।</p><p>অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য তাই ডলার, ইয়েন ও ইউয়ানের মধ্যে শুধু কম সুদের বন্ড বেছে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। কোন মুদ্রায় ভবিষ্যৎ পরিশোধের ঝুঁকি কম, কোন বাজারে তুলনামূলক ভালো শর্ত পাওয়া যাবে এবং ঋণের অর্থ দিয়ে কতটা অর্থনৈতিক সুফল তৈরি করা সম্ভব—এসব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।</p><h3>বাংলাদেশের বন্ড ছাড়ার অতীত উদ্যোগ </h3><p>বাংলাদেশ ২০১১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে ৫০ কোটি ডলারের সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে ২০১২ সালে ৭ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে। কিন্তু উদ্যোগটি তেমন এগোয়নি। ২০১৩ সালেও ৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে লন্ডনে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়েছিল। এ উদ্যোগেও অগ্রগতি হয়নি।</p><p>পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে ২০০ কোটি ডলারের, ২০১৬ সালে ১০০-২০০ কোটি ডলারের, ২০২১ সালে এবং এর পরেও আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে ঋণের ঝুঁকি, বাজার পরিস্থিতি ও অর্থায়ন–সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে কোনো উদ্যোগই এগোয়নি।</p><p>এ নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, ‘অর্থায়নের বিকল্প উৎসের সন্ধানে সরকার চেষ্টা করতেই পারে। তবে দেখতে হবে যে বন্ড ছেড়ে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে আমরা কী করছি। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়, এমন প্রকল্পে অর্থ খরচ করলে কিন্তু ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, দুই বছর বা তিন বছরের জন্য ৮ থেকে ৯ শতাংশ সুদে বন্ড ছেড়ে ১০ বছর মেয়াদি প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে কী দাঁড়াবে, এ অঙ্ক খুব জটিল নয়। সহজেই বোঝা যায়।’</p><p>আইএমএফ থেকে নতুন ঋণ পাওয়া না–পাওয়ার সঙ্গে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার উদ্যোগকে সম্পর্কযুক্ত মনে হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয়, সরকার সমান্তরালভাবে এগোচ্ছে। তা হয়ে থাকলেও বিষয়টি নেতিবাচক নয়। বিদ্যমান বাস্তবতায় দেশে বহুমুখী অর্থায়ন উৎসের দরকার আছে।’</p>

Prothomalo

View more
মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন  ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প

বিভিন্ন জনমত জরিপে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

নভেম্বর ৩, ২০২৬
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনের সব স্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা করে। একই সঙ্গে সব স্তরে নারীদের কার্যক্রম ও কমিটি রয়েছে।

নভেম্বর ৩, ২০২৬
চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী
চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী

সহপ্রতিযোগীকে ঘোড়া থেকে ফেলে আহত করার অভিযোগ, রাজবীর দের সঙ্গে চুম্বন, প্রেম ও ঝগড়া—সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে নন্দিনী দত্ত।

নভেম্বর ৩, ২০২৬
সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি
সরকারের ব্যর্থতায় অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে: এবি পার্টি

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। তৈরি পোশাকশিল্প ও শ্রমিক রপ্তানি খাতেও নতুন করে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নভেম্বর ৩, ২০২৬
সরকারি হাসপাতালে এসেও ওষুধের দাম,পরীক্ষা–নিরীক্ষার খরচে যেভাবে ফতুর হচ্ছেন রোগীরা
সরকারি হাসপাতালে এসেও ওষুধের দাম,পরীক্ষা–নিরীক্ষার খরচে যেভাবে ফতুর হচ্ছেন রোগীরা

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/srkari-haspatale-eseoo-ooshudher-dampreeksha-nireekshar-khrce-zevabe-ftur-hcchen-rogeera</figure>

নভেম্বর ৩, ২০২৬
আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ
আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ

<p>রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পের ওপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।</p><p>পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন এসে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।</p><p>শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মাসুদ রানা প্রথম আলোকে বলেন, আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পের ওপর একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। </p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত
ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি–এডহক কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত

মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতির করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

নভেম্বর ২, ২০২৬
যে ক্যাফেতে কফি খেতে বসতে হয় মুরগির সঙ্গে
যে ক্যাফেতে কফি খেতে বসতে হয় মুরগির সঙ্গে

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/ze-kzafete-kfi-khete-bste-hy-murgir-sngoe</figure>

নভেম্বর ২, ২০২৬
পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের
পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের

পিএসজির কাছে হারের আগে চলতি মৌসুমে অপরাজিত ছিল বার্সেলোনা। এরপর এল ক্লাসিকোয় রিয়ালের কাছে হার। বড় মঞ্চে বার্সার সামর্থ্য নিয়ে তাই আলোচনা শুরু হয়েছে।

নভেম্বর ২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।