তবে একটি বড় সমস্যা ছিল। ভারতের প্রতিটি ইতিবাচক পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তান প্রতিটি ক্ষেত্রে সামরিক আক্রমণ বা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।
<p>ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অচেতন এক ব্যক্তিকে ট্রলিতে করে নিয়ে এসে কৌশলে পালিয়ে গেছেন দুই যুবক। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পকেটে থাকা একটি চশমার দোকানের রসিদের সূত্র ধরে পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।</p><p> নিহত ব্যক্তির নাম সবুজ মল্লিক (৫০)। তিনি ঢাকার ধামরাইয়ে প্রতীক সিরামিক কোম্পানিতে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুর সদর এলাকায়।</p><p>শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবক অচেতন অবস্থায় সবুজ মল্লিককে ট্রলিতে করে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর তাঁদের একজন রোগী ভর্তির টিকিট কাটার কথা বলে ভেতরে চলে যান। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় হাসপাতালের কর্মী, নার্স ও ট্রলিম্যানরা সঙ্গে থাকা অপর যুবকের কাছে জানতে চান। তখন তিনি প্রথম যুবককে খোঁজার কথা বলে জরুরি বিভাগ থেকে কৌশলে পালিয়ে যান।</p><p>পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সবুজ মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর পকেটে তল্লাশি চালিয়ে একটি মানিব্যাগ, কয়েকটি ভিজিটিং কার্ড ও একটি চশমার দোকানের রসিদ পায় পুলিশ। সেই রসিদের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট চশমার দোকানে মৃত ব্যক্তির ছবি পাঠানো হয়। পরে দোকান কর্তৃপক্ষ ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।</p><p>ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বিষয়টি শাহবাগ থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।</p><p>সবুজ মল্লিকের ছেলে তামিম মল্লিক মুঠোফোনে বলেন, তাঁর বাবা ধামরাই এলাকায় সিরামিক কোম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই থাকতেন। তবে শুক্রবার তিনি কোথায় গিয়েছিলেন কিংবা কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে স্বজনেরা কিছুই জানেন না।</p>
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ৫৬ বস্তা সার জব্দ করেছে ডিবি। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মজুত করার দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে
<p>সমালোচনা এই মৌসুমে যেন কিলিয়ান এমবাপ্পের নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠেছে। চোটের মধ্যে প্যারিসে যাওয়া, সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানো, মাঠের বাইরে তাঁর এমন নানা ঘটনা নিয়ে বিরক্ত রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের একাংশ। তবে এমবাপ্পেকে নিয়ে সমর্থকদের এসব সমালোচনা ভালোভাবে নেননি কোচ জোসে মরিনিও। ফরাসি অধিনায়ককে নিয়ে সব সমালোচনাকে সরাসরি ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ এই কোচ। </p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/jexomwpj00">হাঁটুর চোটে ফ্রান্স দল থেকে ছিটকে পড়লেন এমবাপ্পে</a></aside><p>তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এরপর চোটের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তিনি ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে যান। এ সময় প্যারিসের একটি নৈশক্লাবের প্রবেশমুখে তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়। সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ট্রলও করতে থাকেন কেউ কেউ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/qo3p2a0x/gettyimages_2296521535_2048x2048.jpg"><figcaption>তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পান এমবাপ্পে।</figcaption></figure> <p>এমবাপ্পের এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মরিনিওর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য মিলিয়ে দেখছেন সমর্থকদের কেউ কেউ। কয়েক দিন আগেই রিয়াল কোচ বলেছিলেন, চোটের ঝুঁকি এড়াতে খেলোয়াড়দের স্কিইং কিংবা সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত। এরপর এমবাপ্পের সাইকেল চালানোর ছবি সামনে আসায় কেউ কেউ মনে করছেন, কোচের নির্দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করেছেন ফরাসি তারকা।</p><p>তবে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মরিনিও। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচের আগের দিন তিনি বলেছেন, ‘এই সমালোচনাগুলো কি বাড়াবাড়ি? অবশ্যই। এগুলো হাস্যকর।’</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/ar2yhsa8j3">এমবাপ্পের চোট কি তাহলে নতুন বুটের কারণে</a></aside><p>এমবাপ্পের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রিয়াল কোচ বলেন, ‘যেসব খেলোয়াড়কে প্রতিদিন উপস্থিত থেকে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলা হয়েছিল, তারা সবাই এখানে ছিল। অন্যদের মতো এমবাপ্পেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে এসেছিল, যাতে তাঁর চোটের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর সে ফ্রান্সে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গেছে। কারণ, তার হাঁটুতে আগে থেকেই সমস্যার ইতিহাস আছে, যেটি আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/q90i6sja/gettyimages_2293522155_2048x2048.jpg"><figcaption>এমবাপ্পের পাশে আছেন মরিনিও।</figcaption></figure> <p>এমবাপ্পেকে নিয়ে সমালোচনার প্রতিটি বিষয়েই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মরিনিও। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচের মতে, ফুটবলসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমালোচকদের সন্তুষ্টি হচ্ছে না বলেই তাঁরা অন্য প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেন, ‘ফুটবল নিয়ে সমস্যাগুলো আপনাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আপনারা নৈশক্লাবের প্রসঙ্গ তুলেছেন। অথচ সেটি আসলে কোনো নৈশক্লাবের অনুষ্ঠান ছিল না। ফ্যাশন উইকের একটি ব্যক্তিগত আয়োজন ছিল সেটি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/bj5b9dkv/gettyimages_2293521629_2048x2048.jpg"><figcaption>এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন বলে ‘নিশ্চিত’ মরিনিও।</figcaption></figure> <p>সুইজারল্যান্ডে এমবাপ্পের সাইকেল চালানো নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মরিনিও। তাঁর ভাষায়, ‘সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর যে ছবি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি ছিল একটি হোটেলে। সেখানে ছোট ছোট বাড়ি আছে। অতিথিরা সাইকেল ব্যবহার করে হোটেলের সবার জন্য নির্ধারিত জায়গাগুলোতে যেতে পারেন। অথচ আপনারা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছেন, যেন সে সুইজারল্যান্ডের সাইকেল রেসে অংশ নিচ্ছিল।’</p> <p>আগামীকাল ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পেকে সমর্থকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। তবে এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন মরিনিও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন বলে ‘নিশ্চিত’ এই কোচ।</p><p>এমবাপ্পেকে নিয়ে রিয়াল সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ এবারই প্রথম নয়। গত মাসেও তাঁকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল ক্লাবটির কট্টরপন্থী সমর্থকগোষ্ঠী আলত্রাস সুর। ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই গোষ্ঠীকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।</p> <aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/o36v0k8nap">মেসি, এমবাপ্পে, ইয়ামাল, কেইন—ব্যালন ডি’অরে সাবেকদের ফেবারিট কে</a></aside>
<p>ডিম কি শুধু প্রোটিনেরই সহজলভ্য উৎস, নাকি মস্তিষ্কের সুস্থতা ও জটিল স্নায়বিক কার্যক্রমেও এর কোনো বিশেষ ভূমিকা রয়েছে? ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় প্রায় এক লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে ডিম খাওয়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের বয়সজনিত পরিবর্তনের ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ডিমের কোলেস্টেরল নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকেও এখন নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে আধুনিক বিজ্ঞান।</p><p>আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডিম দিবস। এ বছর দিবসটির ৩০ বছর পূর্তি পালিত হচ্ছে। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য—‘প্রোটিন, যা শক্তি দেয় ও সুরক্ষা করে’। বাংলাদেশের বাস্তবতায় দিবসটির গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। কারণ, ডিম এখন কেবল পুষ্টির উৎস নয়; দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতার এক অপরিহার্য স্তম্ভ।</p><h3>মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তি নিয়ে গবেষণার নতুন বার্তা </h3><p>২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জার্নাল অব হিউম্যান নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২১টি ভিন্ন সমীক্ষার ৯৯ হাজার ৪৫৩ জন মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম ডিম খাওয়ার সঙ্গে বয়সজনিত জ্ঞানীয় অবনতির (কগনিটিভ ডিক্লাইন) তুলনামূলক কম ঝুঁকির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।</p><p>ডিমের কুসুমে বিদ্যমান ‘কোলিন’ মানবদেহে ‘অ্যাসিটাইলকোলিন’ নামক গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা স্মৃতিশক্তি, শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণাতেও প্রবীণদের মধ্যে নিয়মিত ডিম খাওয়ার সঙ্গে আলঝেইমারজনিত স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি কমার ইতিবাচক দিক উঠে এসেছিল। এটি নিশ্চয়তা না দিলেও মস্তিষ্কের পুষ্টি জোগানে ডিমের কার্যকারিতা সুস্পষ্ট করে।</p><h3>কোলেস্টেরল নিয়ে বদলাচ্ছে পুরোনো ধারণা </h3><p>ডিম নিয়ে সমাজে সবচেয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তি হলো এর কোলেস্টেরল। অনেকে এখনো ভুল ধারণাবশত কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খান। অথচ কুসুমেই রয়েছে কোলিন, লুটেইন ও জেক্সানথিনের মতো অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। ২০২৫ সালে দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় খাদ্যের কোলেস্টেরল ও সম্পৃক্ত চর্বির (স্যাচুরেটেড ফ্যাট) প্রভাব মূল্যায়ন করে দেখা গেছে, রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের কোলেস্টেরলের চেয়ে সম্পৃক্ত চর্বিই মূল দায়ী।</p><p>অর্থাৎ ডিমকে এককভাবে দায়ী না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসকে গুরুত্ব দেওয়াই যুক্তিসংগত। এ ছাড়া লাল ডিম ও সাদা ডিমের পুষ্টিমানে কোনো পার্থক্য নেই; খোসার রং নির্ভর করে মুরগির জাতের ওপর এবং কুসুমের রং নির্ভর করে তাদের খাদ্যের ওপর। তাই রঙের বিভ্রান্তি ছেড়ে মানসম্মত উৎপাদনকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।</p><h3>একটি ডিমে কত পুষ্টি </h3><p>প্রায় ৫০ গ্রাম ওজনের একটি ডিমে ছয় গ্রামের বেশি উচ্চমানের প্রোটিন এবং ৭০ থেকে ৭৫ কিলোক্যালরি শক্তি মেলে। এতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ৯টি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন এ, সেলেনিয়াম ও কোলিন থাকে। ডিমের প্রোটিন শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও প্রবীণদের বয়সজনিত পেশিক্ষয় (সারকোপেনিয়া) প্রতিরোধে কার্যকর। কুসুমে থাকা লুটেইন ও জেক্সানথিন চোখের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখে। তবে ডিমকে একক অলৌকিক সমাধান না ভেবে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।</p><h3>উৎপাদনে ঐতিহাসিক অর্জন ও পুষ্টির সংকট </h3><p>বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প গত দেড় দশকে অসামান্য উন্নতি করেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে যেখানে ৬০৮ কোটি ডিম উৎপাদিত হতো, ২০২৪-২৫ সালে তা প্রায় ৪ গুণ বেড়ে ২,৪৪১ কোটিতে পৌঁছেছে। দেশে নির্ধারিত ১,৮৫০ কোটি চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে মাথাপিছু বার্ষিক প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টি। এটি আমাদের খামারি ও পোলট্রি খাতের বিশাল অর্জন।</p><p>তবে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এলেও পুষ্টি গ্রহণের জায়গায় বড় বৈষম্য রয়ে গেছে। ইউনিসেফ ও বিবিএসের ২০২৫ সালের জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশ এখনো চরম খাদ্যদারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। পোলট্রি খাতের এই বিপুল সাফল্যকে শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে কাজে লাগানো জরুরি। শিশুদের ছয় মাস বয়সের পর সম্পূরক খাবারে ডিম অন্তর্ভুক্ত করা গেলে জাতীয় পর্যায়ে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।</p><h3>খামারি ও ভোক্তার স্বার্থের ভারসাম্য </h3><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে, পোলট্রি বাজারের সব ধরনের আর্থিক ও বাজারভিত্তিক ঝুঁকি এককভাবে বহন করেন প্রান্তিক খামারিরা। বাজারে পোলট্রি খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে খামারিরা কখনো নিঃস্ব হন, আবার কখনো ভোক্তাকে চড়া দামে ডিম কিনতে হয়। তাই খামারির জন্য ন্যায্য লাভজনক মূল্য এবং সাধারণ ভোক্তার জন্য সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করতে পোলট্রি ফিডের দাম স্থিতিশীল রাখা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা আনা জরুরি।</p><h3>জলবায়ু চ্যালেঞ্জ ও বাজারের নতুন দিগন্ত </h3><p>বাংলাদেশের অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া পোলট্রি খামারের জন্য নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অতিরিক্ত তাপে ডিম উৎপাদন কমে এবং খোসা পাতলা হয়। এ কারণে ভবিষ্যতে শুধু উন্নত জাতের মুরগি নয়; বরং তাপসহনশীল খামার ব্যবস্থাপনা, জৈবনিরাপত্তা এবং খামারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস ও সোলার পাওয়ারের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।</p><p>এর পাশাপাশি সনাতন খোসাসহ ডিম বিক্রির বাইরে তরল ডিম (লিকুইড এগ), পাস্তুরিত উপাদান ও ডিমের গুঁড়ার (এগ পাউডার) মতো প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির শিল্প বিকাশ প্রয়োজন। বেকারি, হোটেল ও তৈরি পোশাক খাতের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বাজারে এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে ডিম রপ্তানির নতুন দুয়ারও খুলে দিতে পারে।</p><p>বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০ বছর পূর্তিতে আমাদের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত—বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন শিশু, নারী ও প্রবীণদের পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করা, অন্যদিকে খামারিদের স্বার্থ রক্ষা করে পোলট্রি শিল্পকে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তর করা।</p><ul><li><p><strong>এ কে এম হুমায়ুন কবির</strong> শিক্ষক ও গবেষক, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।</p></li></ul>
<p>প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনসহ চারটি দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতা–কর্মীরা। অন্য দাবিগুলো হচ্ছে—গণতান্ত্রিক শ্রম বিধিমালা, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ ও অসৎ শ্রম আচরণ বন্ধ।</p><p> রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ শুক্রবার সমাবেশ ও মিছিল করে এসব দাবি করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতা–কর্মীরা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার।</p><p>কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসভাপ্রধান এফ এম নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হযরত বিল্লাল, কেন্দ্রীয় সদস্য মামুন, সাহিদা আক্তার, আকলিমা আক্তার প্রমুখ। সভায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন আউটসোর্সিং কর্মচারীর নেতা নুরুল হক, প্রাইভেট কার ইউনিয়নের সহসভাপতি আক্কাস মিয়া ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য সোহেলা রুমি।</p><p>সংশোধিত শ্রম আইনে শিল্প খাতের শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।</p><p>সমাবেশ বক্তারা বলেন, গত তিন বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে শ্রমিকদের নতুন মজুরির বিকল্প নেই। তাই প্রকৃত প্রতিনিধি নিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি মজুরি বোর্ডেই শ্রমিক বা নিরপেক্ষ প্রতিনিধি মূলত মালিকপক্ষের স্বার্থই বিবেচনা করেছে। এ পুরোনো পথ পরিহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।</p><p>শ্রমিকনেতারা আরও বলেন, চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধন করে কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন নিবন্ধনের পথ খোলে। তবে এখনো ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনে নানা হয়রানি ও দুর্বলতা রয়েছ। শ্রমিকের সংখ্যা নির্ধারণ, প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ও ৫৫ দিনে রেজিস্ট্রেশন না হওয়া, অনলাইন সার্ভার কাজ না করা ইত্যাদি বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। শ্রমিকের ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়াকে সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।</p>
<p>বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএলএ) ২০২৬-২৯ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে রমিজউদ্দিন আহমেদ সভাপতি ও মো. মাজম আলী খান মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।</p><p> আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা ট্যাক্সেস বার হলরুমে আয়োজিত বিটিএলএর ৩৯তম সাধারণ সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেশের বিভিন্ন ট্যাক্সেস বারের আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বে গঠিত এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসংখ্যা মোট ৩১।</p><p> কমিটিতে অতিরিক্ত মহাসচিব (অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি জেনারেল) হিসেবে মো. আবু নাসের মজুমদার ও কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে নুরুল্লাহ ভূঁইয়া বেলাল নির্বাচিত হয়েছেন।</p><p>নতুন কমিটিতে আঞ্চলিক ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে ১১ জন সহসভাপতি (ভাইস প্রেসিডেন্ট) নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন সৈয়দ আবদুন নূর (ঢাকা ক্যাপিটাল সিটি), মো. মুসা (কমার্শিয়াল ক্যাপিটাল সিটি-চট্টগ্রাম), মো. শামসুর রহমান খান (ঢাকা বিভাগ), মোস্তফা কামাল মনসুর (চট্টগ্রাম বিভাগ), খান মনিরুজ্জামান (খুলনা বিভাগ), মো. মুনতাসির মামুন (রাজশাহী বিভাগ), এস এম এনায়েত করিম (বরিশাল বিভাগ), আবুল ফজল (সিলেট বিভাগ), হোসেইন আহমেদ শাহজাহান (কুমিল্লা বিভাগ), মোহাম্মদ রুহুল আমিন (ময়মনসিংহ বিভাগ) ও কাজী মোস্তাফিজুর রহমান (রংপুর বিভাগ)।</p><p>একইভাবে ১১টি অঞ্চল ও বিভাগ থেকে ১১ জন উপমহাসচিব (ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল) নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন এ টি এম রাশেদ বাবু (ঢাকা ক্যাপিটাল সিটি), মো. ইমাম উদ্দিন (কমার্শিয়াল ক্যাপিটাল সিটি-চট্টগ্রাম), মো. জাহাঙ্গীর আলম খান (ঢাকা বিভাগ), মো. সারওয়ার আলম ভূঁইয়া (চট্টগ্রাম বিভাগ), মো. আমিনুর রহমান (খুলনা বিভাগ), আমিরুল হাসান রতন (রাজশাহী বিভাগ), রাজিউল কবির (বরিশাল বিভাগ), মো. মিজানুর রহমান মিঠু (সিলেট বিভাগ), মো. আবুল হাসেম রতন (কুমিল্লা বিভাগ), রাকিবুল আহসান (ময়মনসিংহ বিভাগ) ও মজমুল হোসেন প্রামাণিক (রংপুর বিভাগ)।</p><p>এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মো. সোলায়মান, আইন সহায়তা ও সমাজকল্যাণ (লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার) সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক এম এ হালিম মন্টু, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মো. নূর নবী পাটোয়ারী ও দপ্তর সম্পাদক মো. জামালউদ্দিন।</p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সারা দেশে ৪২ হাজারের বেশি কর আইনজীবী রয়েছেন। সংগঠনটির কার্যক্রম দেশব্যাপী বিস্তৃত রাখতে নতুন কমিটিতে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, লক্ষ্মীপুর, শেরপুর, রংপুর, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন ট্যাক্সেস বারের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।</p><p>দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে রমিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাকে পুনরায় দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য বিটিএলএর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করায় দেশের সব সম্মানিত ট্যাক্স লইয়ার্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই...দেশের ট্যাক্স আইনজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য সম্মানিত সব সদস্যের সহযোগিতা চাই।’</p>
১২৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আর বিপদ বাড়তে দেননি ম্যাট রেনশ ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন