<p>ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অবরুদ্ধ হেবরন শহরে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শহরের কিছু অংশ এখন পুরোপুরি ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে। গত শুক্রবার বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ওই দিন দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি সন্দেহভাজন হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনিও নিহত হন।</p><p>স্বাধীন সাংবাদিক জ্যাসপার নাথানিয়েল আল–জাজিরাকে বলেছেন, হেবরন এখন ‘ভুতুড়ে শহরে’ পরিণত হয়েছে। কারণ, ‘সব বাসিন্দাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত দুই ফিলিস্তিনি যে পাড়ায় থাকতেন, সেনাবাহিনী সেই ‘পুরো পাড়া’ তছনছ করে দিয়েছে। পরিবারগুলোকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়িতে ‘এক্স’ চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছে।</p><p>যে তল্লাশিচৌকিতে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, তার কাছেও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বন্দুকের মুখে পরিবারগুলোকে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।</p><p>নাথানিয়েল আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী নিজেরাই জানে না, এখানে তারা কী করছে। আমরা এখানে মূলত সেনাদের দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখছি।’</p><h3>রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান </h3><p>আল–জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেন, হেবরনে সামরিক অভিযানের সঙ্গে রাজনীতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। মনে রাখতে হবে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। তিনি হেবরন শহরেই অবৈধভাবে বসবাস করেন। বসতিবিষয়ক মন্ত্রীও হেবরনের আরেক বসতি স্থাপনকারী। সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা হওয়ার পর তাঁরা প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। নিজেদের সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে অবস্থান আরও মজবুত করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সেটাই তাঁরা করতে পেরেছেন।</p><p>ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচও অবৈধ বসতি স্থাপনকারী। তবে তিনি হেবরনের নন। তিনি বলেছেন, অবিলম্বে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ তিনি নিজেই দিয়েছেন।</p><p>তাই এই সামরিক অভিযান আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সাজানো হয়েছে। এটি একটি আদর্শগত চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে। সেই লক্ষ্য হলো হেবরন দখল করা। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দিক থেকে ফিলিস্তিনি ও ইহুদি—উভয়ের কাছেই হেবরন গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>হেবরন শহরের ভেতরে বসতি স্থাপনকারীরা আছেন। এখন সেনারাও বিভিন্ন পাড়ার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন। সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ঘোষণাও দিচ্ছেন। এসবের মধ্য দিয়ে এই লড়াইয়ের পরিসর আরও বাড়ছে। আদর্শগত বিভাজন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/fylh0wvn7r">পশ্চিম তীরে গুলিতে ইসরায়েলি দুই সেনা নিহত, ’৬৭ সালের মতো অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর</a></aside>
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বন্য প্রাণীর আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আজ রোববার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
<p>চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশি চক্ষুরোগীদের জন্য একটি ‘গ্রিন চ্যানেল’ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার কুনমিংয়ে ‘হুয়াক্সিয়া অপথালমোলজি ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন কুনমিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু। এরপর তিনি ‘কুনমিং হুয়াক্সিয়া আই হসপিটাল’-এ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য স্থাপিত এই ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর ফলক উন্মোচন করেন।</p><p> এ সময় উপস্থিত ছিলেন কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এবং হুয়াক্সিয়া চক্ষু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ঝিইয়ং।</p><p>চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য এটিই প্রথম কোনো বিশেষায়িত চক্ষুসেবা ব্যবস্থা। এই ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি চক্ষুরোগীরা ভ্রমণের আগেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা-নথি পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া হাসপাতালে পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক, অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট, দোভাষী সহায়তা এবং দেশে ফেরার পর ফলোআপ সেবা পাওয়া যাবে।</p><p>উদ্বোধনী বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু জনস্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং চক্ষুচিকিৎসায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসার মান, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই কনস্যুলেট জেনারেলের প্রধান প্রত্যাশা। একই সঙ্গে বাংলাদেশি চক্ষুচিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, টেলি-কনসালটেশন এবং বাংলাদেশের চক্ষু প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান শাহনাজ।</p>
ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে অবিশ্বাস্যভাবে ১ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন শাদাব খান।
রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ আয়োজনে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকেরা
<p>গতকাল সকালে অনুশীলনের সময়ই আঁচ করতে পেরেছিলেন, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। একাডেমি মাঠে এক সহকর্মীর কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণেই এমন মনে হওয়া। কিন্তু ঠিক কী ঘটতে যাচ্ছে, মোহাম্মদ আশরাফুল ভেবে পাচ্ছিলেন না।</p><p>সন্ধ্যার পর আর ভাবতে হয়নি। বিসিবি থেকে ক্রিকেট পরিচালনা ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফীসের ফোন। সারমর্ম—ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেই আশরাফুল আর জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ নন। নতুন বিদেশি কোচ খোঁজা হচ্ছে। আশরাফুলকে শিগগিরই নতুন দায়িত্ব জানিয়ে দেওয়া হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/svqjrkf4o9">সকালে অনুশীলন করানো আশরাফুলকে বিকেলে সরিয়ে দেওয়া হলো</a></aside><p>আশরাফুল বিস্মিত হয়েছেন। ২৮ অক্টোবর থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু, তার ঠিক আগমুহূর্তে বিসিবি এই সিদ্ধান্ত নিল! আর তাঁর ব্যাটিং কোচ থাকার সময়ে তো টেস্টে বাংলাদেশ ভালোই করছে। আশরাফুল দায়িত্বটা নেন গত বছর ১ নভেম্বর, আমিনুল ইসলাম বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর। তার আগে আশরাফুলের ছেড়ে দেওয়া কাউন্সিলরশিপ নিয়ে আমিনুল বিসিবি সভাপতি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল আশরাফুলের ব্যাটিং কোচ হওয়াটা তাঁর প্রতি আমিনুলের একধরনের ‘কৃতজ্ঞতা প্রকাশ’ নয় তো!</p> <figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2014/09/30/5d1a949cd07a3fd0814998def7e08e96-3.jpg"><figcaption>মোহাম্মদ আশরাফুল</figcaption></figure><p>সেই প্রশ্ন বেশি গভীরে যেতে পারেনি বাংলাদেশ দল ভালো খেলায়, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। আশরাফুল দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮টি টেস্ট খেলে ৫টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ, ড্র একটিতে, হারও মাত্র একটিতে। এই সময়ে বাংলাদেশ ১৪টি ওয়ানডে খেলেছে, ১১টি টি–টুয়েন্টি; যদিও এশিয়ান গেমসের দুই ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে ছিলেন না।</p><p>অন্য দুই সংস্করণ বাদ দিয়ে টেস্টের সঙ্গেই আশরাফুলের বেশি হিসাব মেলানো স্বাভাবিক, কারণ তাঁকে বিদায় করা হলো একটা টেস্ট সিরিজের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়, যে টেস্ট সংস্করণে তাঁর সময়ে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স এককথায় দুর্দান্ত। তা ছাড়া বিদেশি কোচও তো এখনো ঠিক হয়নি। নতুন কোচ পাওয়া পর্যন্ত তো তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতেই পারতেন।</p> <p>আশরাফুলের ভাবনা একরকম, বিসিবির আরেক রকম। বিসিবি মনে করে, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বটা একটু অপরিণত অবস্থাতেই পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বয়সভিত্তিক, একাডেমি বা হাইপারফরম্যান্স পর্যায়ে কোচিং করিয়ে জাতীয় দলের সিঁড়ি ধরলে ব্যাটসম্যানরা যেমন তাঁর মাধ্যমে আরও বেশি উপকৃত হতেন এবং তাঁর ওপর আরও বেশি আস্থা রাখতে পারতেন; তেমনি আশরাফুলও তাঁদের কোচিং করানোটা আরও বেশি উপভোগ করতেন। এখন ব্যাটসম্যানরা হয়তো নেটে তাঁর সঙ্গ উপভোগ করেন, কিন্তু খুব বেশি টেকনিক্যাল বিষয়ে আশরাফুলের শরণাপন্ন হন না। নতুন ব্যাটিং কোচ পাওয়ার আগপর্যন্ত তাই দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনকে, যাঁকে এর আগে জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে সরিয়ে হাই পারফরম্যান্স বিভাগের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/9b1n4emd/WhatsApp-Image-2026-10-24-at-2.37.18-PM-1.jpeg"><figcaption>ব্যাটিং কোচ থাকার সময়ে জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান মুশফিকের সঙ্গে আশরাফুল।</figcaption></figure> <p>বিসিবির ভাবনার সমান্তরালে এটাও ঠিক—ক্রিকেটারদের অনেকে আশরাফুলের সঙ্গে কাজ করাটা উপভোগ করতেন। গত অস্ট্রেলিয়া সফরেও সেটি দেখা গেছে। বিশেষ করে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা, বড় বড় বোলারদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে ব্যাটিং করা; এসবকে গুরুত্ব দিতেন ব্যাটসম্যানরা। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অন্য কোনো ব্যাটিং কোচের নেই।</p> <p>দায়িত্ব হারানোর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আশরাফুল অবশ্য বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করেছেন। বিসিবি নতুন দায়িত্ব দিলে সেটিও আনন্দের সঙ্গে পালন করবেন বলে জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে, ‘এটা পুরোপুরি ক্রিকেট বোর্ডের হাতে, তাদের সিদ্ধান্ত। বোর্ড চাইলে আমাকে অন্য জায়গায়ও কাজে লাগাতে পারবে। যে দায়িত্বই দেয়, আমি তা পালন করব।’</p><p>আজ বিকেলে এক অনুষ্ঠানে বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের তিনি এ–ও বলেছেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে এক দিন কাজ করতে পারাও অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে আমি তো ১১ মাস কাজ করেছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2020/05/22/ed8fab72e8a47894f733152b7d123845-5ec747d0e1def.jpg"><figcaption>মোহাম্মদ আশরাফুল। প্রথম আলো ফাইল ছবি</figcaption></figure> <p>বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয়েছিল হুট করে আশরাফুলকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ। আশরাফুলের সাবেক এই সতীর্থ মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও বলেছেন, ‘আমরা আসলে জাতীয় দলের জন্য ভালো এবং নামী বিদেশি ব্যাটিং কোচ খুঁজছি। সে রকম দু–একজনের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তাও চলছে। আশরাফুল ভাইকে আমরা নতুন দায়িত্ব দেব।’</p> <p>৩১ জানুয়ারির পর চুক্তি নবায়ন করে আশরাফুলকে অন্য দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বোর্ডের আরেক কর্মকর্তাও, ‘মোহাম্মদ আশরাফুল প্রায় এক বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতার অপচয় আমরা কেন করব? জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে হয়তো উনি একটু আগে চলে এসেছেন; তবে তাঁর ওয়ার্ক এথিকস ভালো। আমরা তাঁকে তাঁর উপযোগী জায়গাতেই কাজে লাগাব।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo/import/media/2017/11/01/1e162be4e3c3854cb56c9098218d43bd-59f976013b585.jpg"><figcaption>হাশিম আমলা</figcaption></figure> <p>নতুন ব্যাটিং কোচ কে হতে যাচ্ছেন—এই প্রশ্নে স্বাভাবিকভাবেই আপাতত নীরব তামিম ইকবাল। শুধু বলেছেন, ‘কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই সময়ে ভালো কোচ পাওয়া কঠিন। কেউ লম্বা সময়ের জন্য এখানে আসতে চান না। তবে আমাদের ইচ্ছা লম্বা সময়ের জন্যই কাউকে নেওয়ার।’</p><p>সূত্র জানিয়েছে, নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে বিসিবি যাঁদের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা।</p>
সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ ফি
প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্ধুসভার ‘একটি ভালো কাজ’–এর অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষে শনিবার বিকেলে প্রাঙ্গণটি ফুলের বাগানে রূপ পায়। সেখানে রঙ্গন, চায়না টগর, গোলাপ, তিন ধরনের গাঁদা, পাতাবাহার, কসমস, ডালিয়াসহ বিভিন্ন ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। ভাস্কর্য, দেয়াল, টাইলস ও বাংলাদেশের মানচিত্রের অংশও পরিষ্কার করেন বন্ধুরা।
<p>আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। আর ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটির নাম ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’।</p><p> আজ রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) পৃথক সভায় বই চারটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।</p><p> এনসিসিসি দুটি। একটি মাধ্যমিকের, আরেকটি প্রাথমিকের জন্য। প্রাথমিকের এনসিসিসিতে চতুর্থ শ্রেণির দুটি বই এবং মাধ্যমিকের এনসিসিসির সভায় ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী আগামীকালের (আজ সোমবার) মধ্যে পরিমার্জন করে বইগুলো চূড়ান্ত করা হবে।</p><p>সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুল খালেক, প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব জেসমিন নাহার প্রমুখ।</p><p>এনসিটিবির সূত্রমতে, দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বই চারটি বাধ্যতামূলক হবে। তবে এসব বিষয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না; ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বইগুলোর মোট সংখ্যা দেড় কোটির বেশি। অনুমোদনের দিনেই বইগুলো ছাপার কাজ পাওয়া মুদ্রণকারীদের নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেওয়া হয়েছে।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’র অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। কয়েকটি অধ্যায়ে এটির বিষয়বস্তু সাজানো হয়েছে। অধ্যায়গুলো হলো কারিগরি শিক্ষা পরিচিতি, চারপাশের প্রযুক্তি ও নতুন বিশ্ব, যারা বানায় তারাই পৃথিবী বদলায়, সমস্যা ও সমাধান করি, ছোট উদ্যোগ বড় সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ পেশা ও দক্ষতা, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপন এবং শব্দকোষ।</p><blockquote>* বই চারটি বাধ্যতামূলক হবে। তবে এসব বিষয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না; ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে।* বইগুলোর মোট সংখ্যা দেড় কোটির বেশি।</blockquote><p>ষষ্ঠ শ্রেণির আরেক নতুন বই ‘আনন্দময় শিক্ষা’য় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বইও কয়েকটি অধ্যায়ে সাজানো। এর মধ্যে রয়েছে আমি ও আমরা, আমার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত জীবনযাপন, প্রযুক্তির সঙ্গে খেলি, নতুন কিছু করি, পরিষ্কার থাকি পরিচ্ছন্ন রাখি, উদ্যাপনের দিনগুলো ও আনন্দে থাকি, আনন্দে রাখি।</p><p>চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’তে সংস্কৃতির ধারণা, ব্যক্তিজীবনে সংস্কৃতির প্রভাব, জাতীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি এবং সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। আর ‘খেলাধুলা’ বইয়ে আটটি খেলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট।</p><h3>আরও যত পরিবর্তন </h3><p>আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।</p><p>এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা-সম্পর্কিত বর্ণনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।</p><h3>বইয়ের ছবি নিয়ে বিতর্ক </h3><p>২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার আইকন (ছবি) রাখা হয়েছিল। তবে এ নিয়ে বিতর্কের পর ছবিটি বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বইটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।</p><p>এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বইটির সংশ্লিষ্ট পাতাটি পরিবর্তন করে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোনো ছবি বা আইকন ছাড়াই বই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে যেসব বই ছাপিয়ে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলো ফেরত এনে এবং সরবরাহের অপেক্ষায় থাকা বইগুলো সংশোধন করে দেওয়া হবে। আলাদা কোনো খরচ ছাড়াই মুদ্রণকারীরা ওই সংশোধন করে দিতে রাজি হয়েছেন। ফলে এনসিটিবির বাড়তি খরচ হবে না।</p><p>প্রসঙ্গত, চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবিটি ছিল না। আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ের জন্য নতুন করে ছবিটি যুক্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর এনসিটিবির একজন কর্মকর্তাকে আজ খাগড়াছড়িতে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই কর্মকর্তা শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য।</p><p>এদিকে কয়েকটি পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি থাকা নিয়েও একটি পক্ষের মধ্যে বিতর্ক উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তার দাবি, বিষয়বস্তু ও আধেয়র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। আবহমান বাংলার সবুজ প্রকৃতি বোঝাতে নৌকা, ধান কাটা ও এ ধরনের প্রাসঙ্গিক দৃশ্য পাঠ্যবইয়ে রয়েছে। এসব ছবি এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দফায় এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আগামী শিক্ষাবর্ষের বই পরিমার্জনের সময়ও ছবিগুলো রাখা হয়েছে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন