চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ ৮৭ কোটি ইউরোর ডেনিম রপ্তানি করেছে।
<p>সাংবাদিকদের নিয়ে পেটানোর হুমকির ঘটনায় বক্তব্য দেওয়ায় ইসলামি বক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক সাংবাদিক।</p><p> আজ রোববার ঢাকার আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান। প্রথম আলোকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।</p><p> নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মানহানি, হামলার হুমকি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণে করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে একটি বক্তব্য দেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটা যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে। সাংবাদিকরা ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করে নাই, প্রচার করেছে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক। এরা হলুদ সাংবাদিকতা করে। এরা বিদেশি ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ কর্তৃক পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক এটা তারা চায় না।’</p><p>নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে নিজে এবং অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি দিয়েছেন, যা সাংবাদিকতার জন্য ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সাংবাদিকতা পেশা ও পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য চরম অবজ্ঞামূলক, মানহানিকর ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।</p><p>নোটিশদাতা সাংবাদিক আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি একজন ইসলামি বক্তা হয়ে সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা তাঁর এই বক্তব্য ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য অফিশিয়ালি নোটিশ দিয়েছি। সাত দিনের মধ্যে যদি তিনি ক্ষমা না চান তাহলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/6wu0djnj/rafsan-sunerah-2.png"><figcaption>ঝলমলে পোশাকে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইফতেখার রাফসান ও সুনেরাহ তাসনিমের এসব ছবি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, তবে কি দুজন গাঁটছড়া বাঁধলেন?</figcaption></figure><p>হঠাৎ করেই ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঝলমলে পোশাকে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইফতেখার রাফসান ও সুনেরাহ তাসনিমের এসব ছবি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, তবে কি দুজন গাঁটছড়া বাঁধলেন?</p><p>রাফসান ও সুনেরাহর প্রেমের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। তাঁদের দাবি, তাঁরা দুজন ভালো বন্ধু। অনেক ভিডিওতেই দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/kyl7zpn2/rafsan-sunerah-1.png"><figcaption>দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বন্ধুত্বের রসায়ন নেটিজেনরা পছন্দও করেন</figcaption></figure><p>দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বন্ধুত্বের রসায়ন নেটিজেনরা পছন্দও করেন। তবে সম্পর্কের ব্যাপারে কখনোই তাঁরা খোলাসা করে কিছু বলেননি। তাই গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছে আরও।</p><p>রাফসান-সুনেরাহকে জুটি হিসেবে দেখার অপেক্ষায় আছেন যাঁরা, তাঁদের এই দফায় অবশ্য হতাশই হতে হচ্ছে।</p><p>দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ছবিগুলো মূলত একটি ক্যাম্পেইনের জন্য তোলা। শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে। </p>
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, এরপর রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে নাটকীয় জয়! প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের ঢাকা আঞ্চলিক ফাইনালে
<p>অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি অভিযোগে করা মামলার পুনঃ তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি পুলিশকে দিয়েছেন আদালত।</p><p> এ মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।</p><p>বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা প্রথম আলোকে বলেন, পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত সিআইডি পুলিশকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সিআইডিকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।</p><p>২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।</p><p>তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ মর্মে গত ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম। সেই প্রতিবেদনে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বাদী পক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষীদের শুনানি শেষে আদালত আজ ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।</p><p>মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। তানজিন তিশা ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।</p><p>মামলায় আরও বলা হয়, শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান সানায়া। এরপর শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশা তাঁকে ‘গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি’ দেন। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তখনো শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় বলা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/qd6lcb1w58">২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল অভিনেত্রী তিশার</a></aside><p>এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করার এবং ‘সামাজিকভাবে হেয় করার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। ওই অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।</p><p>এদিকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের শাড়ি নিয়েও তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা চলছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে অভিনেত্রী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।</p>
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ অক্টোবরই এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে দেশে বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে
হাতীবান্ধা সীমান্তে বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে
<p>যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি চলাকালে বিচারক জানতে চান, এত প্রবেশপত্র কেন, এগুলো দিয়ে তিনি কী করতে চেয়েছিলেন? জবাবে এক আসামি বলেন, তাঁর শালা–সম্বন্ধীরা পরীক্ষার্থী ছিলেন।</p><p> আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে শুনানি চলাকালে বিচারক ও আসামির মধ্যে এই কথোপকথন হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. মফিজুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩১), এস এম এমদাদুল রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও নূর মোহাম্মদ (৩০)। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক, আর মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক, রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং মফিজুল ও হাসিনুর প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্য।</p><p>১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিল পাওয়া যাওয়ায় কিছুক্ষণ আগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন এই চক্রের সদস্যরা। তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি সনদ, ৪০ জনের ব্যাংক চেকের পাতা ও ব্যাংকের চেক বই জব্দ করা হয়।</p><p>আজ দুপুরে সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, আসামিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/9woxtitqug">যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়ার চুক্তি হয় ১০ লাখ টাকায় </a></aside><p>আবেদনে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আরও অনেকে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিদের কাছ থেকে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাঁদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্ত চলাকালে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং তাঁদের স্থায়ীভাবে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত চলাকালে তাঁদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।</p><p>শুনানিতে আসামিদের রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড (প্রবেশপত্র), ব্যাংকের চেক, প্রশ্ন লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।</p><p>এ সময় আসামি এস এম এমদাদুল রহমানের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। আদালতকে তিনি বলেন, এই আসামি এজাহারভুক্ত না। তাঁর কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি নির্দোষ। তাঁকে হয়রানি করার জন্য এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেলের দায় কী? কী আলামত পাওয়া গেছে তাঁর কাছে কিছুই মামলায় উল্লেখ নেই। রিমান্ড আবেদনেও তাঁর ব্যাপারে বিশেষ কিছু লেখা হয়নি। একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে এই আইনজীবী বলেন, শুধু রিমান্ড আবেদন করলেই রিমান্ড হয়ে যায় না। আদালত এগুলো বুঝে ভালোমতো। মনে করেছে রিমান্ড আবেদন করলেই হয়ে যায়।</p><p>এ সময় আসামি এমদাদুল রহমান কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ঠিক ঠিক’। তখন পাশ থেকে আসামি আসাদুল তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। তখন এমদাদুল হেসে দেন। এ সময় পাশে বসে থাকা কয়েকজন আইনজীবী তাঁর দিকে তাকালে তিনি পেছনে ঘুরে মুখ লুকান।</p><p>এ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে আইনজীবী খোরশেদ আলম উচ্চস্বরে বলেন, ‘যা না তা আবেদন করেন আপনারা। আপনাদের কোনো কাজই হয় না। রিমান্ডে নেওয়ার মতো কী পাইছেন এই আসামি সম্পর্কে বলেন? কিছু পাইছেন আপনি? কেন রিমান্ড আবেদন করলেন এই আসামির? গ্রেপ্তার করার মতো কী পাওয়া গেছে?’ এভাবে জেরা করতে থাকেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তাকে। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা বিচারকের দিকে দুইবার তাকান ইতস্ততভাবে।</p><p>তখন বিচারক এই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি মেরিটে কথা বলেন। আপনি শুনানির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবেন। অন্য প্রসঙ্গে কথা বলবেন না।’ তখন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘জি, মাননীয় আদালত আমি মেরিটেই কথা বলছি।’ এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে এই আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না। তখন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তিনি এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন।’</p><p>এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী খোরশেদ আলম আবারও বলেন, ‘কোনো কিছুই নেই তাকে রিমান্ডে নেওয়ার মতো। আমি জামিনের আবেদন জানাচ্ছি।’</p><p>এ পর্যায়ে বিচারক আসামিপক্ষের এই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনার শুনানি শেষ। সব শুনানি শেষে আদেশ হবে।’</p><p>এরপর আসামি আসাদুল ইসলামের পক্ষে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী আলমগীর হোসেন। আদালতকে তিনি বলেন, আসাদুল একেবারেই নির্দোষ। এ ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর সম্পর্কে রিমান্ড আবেদনেও কিছু নেই। এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর বিষয়ে কিছু পাওয়া গেছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, পাওয়া গেছে।’</p><p>তখন আদালতে দাখিল করা নথি দেখে বিচারক আসাদুলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছে ও ফোনে অনেকগুলো স্ট্যাম্প, চেক পাওয়া গেছে। চেকের ৪৫টি পাতা পাওয়া গেছে। এগুলো আপনার কাছে কেন, আপনি এগুলো দিয়ে কী করেন?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাকরি করি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।’ বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে এতগুলো চেক, স্ট্যাম্প কেন আপনার কাছে?’ উত্তরে এই আসামি বলেন, ‘আমার একটা ছোট ব্যবসা আছে।’ বিচারক বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে কি আপনি ব্যবসা করতে পারেন, আইনে আছে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে ব্যবসা।’ বিচারক বলেন, ‘আপনি কি সেটা করতে পারেন, আপনার কাছে এতগুলো ডকুমেন্টস, প্রবেশপত্র কেন, কী করতেন এগুলো দিয়ে?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল।’ বিচারক বলেন, ‘কিন্তু আপনার ফোনে কেন? আর এতগুলো! কী করতেন এগুলো?’</p><p>এ সময় আরেকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম করে আসছেন। যার প্রমাণ প্রাথমিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তা পেয়েছেন। তারা আরও ১১টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিল। এ সময় আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী বলেন, মিথ্যা, এটা মিথ্যা।</p><p>এ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, তাঁরা সাতজন প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে কানেক্টেড (যুক্ত)। তাঁদের কার্যক্রম বিস্তৃত।</p><p>আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন