বাংলাদেশ

‘শালা–সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল’, বিচারকের প্রশ্নে বললেন আসামি

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
‘শালা–সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল’, বিচারকের প্রশ্নে বললেন আসামি
‘শালা–সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল’, বিচারকের প্রশ্নে বললেন আসামি
<p>যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি চলাকালে বিচারক জানতে চান, এত প্রবেশপত্র কেন, এগুলো দিয়ে তিনি কী করতে চেয়েছিলেন? জবাবে এক আসামি বলেন, তাঁর শালা–সম্বন্ধীরা পরীক্ষার্থী ছিলেন।</p><p> আজ রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে শুনানি চলাকালে বিচারক ও আসামির মধ্যে এই কথোপকথন হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. মফিজুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩১), এস এম এমদাদুল রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও নূর মোহাম্মদ (৩০)। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক, আর মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক, রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং মফিজুল ও হাসিনুর প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্য।</p><p>১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিল পাওয়া যাওয়ায় কিছুক্ষণ আগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন এই চক্রের সদস্যরা। তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি সনদ, ৪০ জনের ব্যাংক চেকের পাতা ও ব্যাংকের চেক বই জব্দ করা হয়।</p><p>আজ দুপুরে সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, আসামিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/9woxtitqug">যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়ার চুক্তি হয় ১০ লাখ টাকায় </a></aside><p>আবেদনে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আরও অনেকে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। আসামিদের কাছ থেকে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাঁদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্ত চলাকালে আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এবং তাঁদের স্থায়ীভাবে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত চলাকালে তাঁদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।</p><p>শুনানিতে আসামিদের রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড (প্রবেশপত্র), ব্যাংকের চেক, প্রশ্ন লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।</p><p>এ সময় আসামি এস এম এমদাদুল রহমানের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। আদালতকে তিনি বলেন, এই আসামি এজাহারভুক্ত না। তাঁর কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি নির্দোষ। তাঁকে হয়রানি করার জন্য এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, তাঁর মক্কেলের দায় কী? কী আলামত পাওয়া গেছে তাঁর কাছে কিছুই মামলায় উল্লেখ নেই। রিমান্ড আবেদনেও তাঁর ব্যাপারে বিশেষ কিছু লেখা হয়নি। একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে এই আইনজীবী বলেন, শুধু রিমান্ড আবেদন করলেই রিমান্ড হয়ে যায় না। আদালত এগুলো বুঝে ভালোমতো। মনে করেছে রিমান্ড আবেদন করলেই হয়ে যায়।</p><p>এ সময় আসামি এমদাদুল রহমান কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ঠিক ঠিক’। তখন পাশ থেকে আসামি আসাদুল তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। তখন এমদাদুল হেসে দেন। এ সময় পাশে বসে থাকা কয়েকজন আইনজীবী তাঁর দিকে তাকালে তিনি পেছনে ঘুরে মুখ লুকান।</p><p>এ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে আইনজীবী খোরশেদ আলম উচ্চস্বরে বলেন, ‘যা না তা আবেদন করেন আপনারা। আপনাদের কোনো কাজই হয় না। রিমান্ডে নেওয়ার মতো কী পাইছেন এই আসামি সম্পর্কে বলেন? কিছু পাইছেন আপনি? কেন রিমান্ড আবেদন করলেন এই আসামির? গ্রেপ্তার করার মতো কী পাওয়া গেছে?’ এভাবে জেরা করতে থাকেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তাকে। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা বিচারকের দিকে দুইবার তাকান ইতস্ততভাবে।</p><p>তখন বিচারক এই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি মেরিটে কথা বলেন। আপনি শুনানির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবেন। অন্য প্রসঙ্গে কথা বলবেন না।’ তখন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘জি, মাননীয় আদালত আমি মেরিটেই কথা বলছি।’ এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে এই আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না। তখন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তিনি এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন।’</p><p>এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী খোরশেদ আলম আবারও বলেন, ‘কোনো কিছুই নেই তাকে রিমান্ডে নেওয়ার মতো। আমি জামিনের আবেদন জানাচ্ছি।’</p><p>এ পর্যায়ে বিচারক আসামিপক্ষের এই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনার শুনানি শেষ। সব শুনানি শেষে আদেশ হবে।’</p><p>এরপর আসামি আসাদুল ইসলামের পক্ষে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী আলমগীর হোসেন। আদালতকে তিনি বলেন, আসাদুল একেবারেই নির্দোষ। এ ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর সম্পর্কে রিমান্ড আবেদনেও কিছু নেই। এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর বিষয়ে কিছু পাওয়া গেছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, পাওয়া গেছে।’</p><p>তখন আদালতে দাখিল করা নথি দেখে বিচারক আসাদুলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছে ও ফোনে অনেকগুলো স্ট্যাম্প, চেক পাওয়া গেছে। চেকের ৪৫টি পাতা পাওয়া গেছে। এগুলো আপনার কাছে কেন, আপনি এগুলো দিয়ে কী করেন?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাকরি করি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।’ বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে এতগুলো চেক, স্ট্যাম্প কেন আপনার কাছে?’ উত্তরে এই আসামি বলেন, ‘আমার একটা ছোট ব্যবসা আছে।’ বিচারক বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে কি আপনি ব্যবসা করতে পারেন, আইনে আছে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে ব্যবসা।’ বিচারক বলেন, ‘আপনি কি সেটা করতে পারেন, আপনার কাছে এতগুলো ডকুমেন্টস, প্রবেশপত্র কেন, কী করতেন এগুলো দিয়ে?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শালা-সম্বন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল।’ বিচারক বলেন, ‘কিন্তু আপনার ফোনে কেন? আর এতগুলো! কী করতেন এগুলো?’</p><p>এ সময় আরেকজন আইনজীবী আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম করে আসছেন। যার প্রমাণ প্রাথমিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তা পেয়েছেন। তারা আরও ১১টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিল। এ সময় আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী বলেন, মিথ্যা, এটা মিথ্যা।</p><p>এ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, তাঁরা সাতজন প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে কানেক্টেড (যুক্ত)। তাঁদের কার্যক্রম বিস্তৃত।</p><p>আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।</p>

Prothomalo

View more
তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ চাইছি: নাহিদ ইসলাম
তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ চাইছি: নাহিদ ইসলাম

<p>সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে আওয়ামী লীগ যেভাবে ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলদার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে, একই ঘটনা যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষেত্রে ঘটবে না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর আশঙ্কা, বর্তমান সংসদের ‘একদলীয়’ সংবিধান সংশোধন কমিটি যদি সবচেয়ে ভালো সংশোধনীটিও আনে, ভবিষ্যতে সেই সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে অবৈধ ঘোষণা করা হতে পারে।</p><p> আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।</p><p>আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। এই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ছিল আজ।</p><p>পুরোনো ধারাবাহিকতা থেকে সরকারকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা বলছি, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে পুরোনো সংসদ, পুরোনো অবৈধ সরকার এবং পুরোনো ফ্যাসিস্ট সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশে নতুনভাবে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করুন।’</p><p>সমতল থেকে পাহাড়—দেশের সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘অশান্ত’ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকার পাহাড়কে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পাহাড় অশান্ত কেন, এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাচ্ছি না। পাহাড়ে কারা অস্থিতিশীলতা করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কীভাবে তৎপরতা ও ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে, এটা জনগণের সামনে সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে। কারণ, এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।’</p><p>সরকার ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘এই গোপন আঁতাতের ফলেই পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে নানাভাবে। আমরা জানি, পাহাড়ে কারা অস্ত্র দেয়, পাহাড়ে কারা অশান্তি তৈরি করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ কথিত বন্ধুরাষ্ট্রের যখন বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তখনই তারা পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করে।’</p><p>আওয়ামী লীগ শাসনামলের তিনটি সংসদকে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) অবৈধ ঘোষণার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি শেখ হাসিনার তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে। আমরাও মনে করি এগুলো অবৈধ। কিন্তু আইনগতভাবে এটা বলার সুযোগ নেই। কারণ, বিএনপি সরকার ওই তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেনি।’</p><p>এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার প্রমুখ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মনিরা শারমিন, সালেহউদ্দিন সিফাত, নুসরাত তাবাসসুম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।</p>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
বিচ্ছেদের পর জাস্টিন ট্রুডোর প্রেমে কেটি পেরির নতুন জীবন
বিচ্ছেদের পর জাস্টিন ট্রুডোর প্রেমে কেটি পেরির নতুন জীবন

<p>অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি, বিচ্ছেদের কষ্ট সামলে বিশ্বজুড়ে কনসার্ট, তারপর নতুন প্রেম। ব্যক্তিগত জীবনের বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া কেটি পেরি এখন ভালোবাসার কথা বলছেন খোলামেলাই। কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বর্ণনা করেছেন নিজের জীবনের ভালোবাসার মানুষ হিসেবে। আজ রোববার, ২৫ অক্টোবর মার্কিন এই পপ তারকার ৪২তম জন্মদিন।<br> গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পিপল সাময়িকীর সাক্ষাৎকারে কেটি জানান, ‘লাইফটাইমস ট্যুর’ তাঁকে ভক্তদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভালোবাসার মানুষেরও দেখা পাইয়ে দিয়েছে। বিচ্ছেদের কঠিন সময় পেরিয়ে এখন জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করছেন তিনি। নতুন গান, কনসার্ট চলচ্চিত্র আর মেয়ে ডেইজিকে ঘিরে এগিয়ে চলেছে তাঁর জীবন।<br> </p><p><strong>সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেম</strong><br>২০২৫ সালের জুলাইয়ে কানাডায় কনসার্ট সফরের সময় ট্রুডোর সঙ্গে কেটির ঘনিষ্ঠতার খবর সামনে আসে। ২৮ জুলাই মন্ট্রিয়লে তাঁদের একসঙ্গে নৈশভোজে দেখা যায়। এর দুই দিন পর মেয়েকে নিয়ে কেটির কনসার্টে যান ট্রুডো। এরপর বিভিন্ন আয়োজনে দুজনের উপস্থিতি সম্পর্কের আলোচনা আরও বাড়িয়ে দেয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-02-28/ebdg1hrc/C3VWOTS545KDVEL4D2UTVS4QOM.jpg"><figcaption>কেটি পেরি</figcaption></figure><p><br>তখন কেটির জীবনে চলছিল বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের সঙ্গী হলিউড অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ২০১৬ সালে তাঁদের প্রেমের শুরু। মাঝে সাময়িক বিচ্ছেদের পর আবার এক হন তাঁরা। ২০১৯ সালে হয় বাগ্‌দান। পরের বছর জন্ম নেয় তাঁদের মেয়ে ডেইজি ডাভ ব্লুম।<br>২০২৫ সালের ৩ জুলাই দুজনের প্রতিনিধিরা বিচ্ছেদ নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে জানান, মেয়েকে যৌথভাবে বড় করে তোলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন কেটি ও অরল্যান্ডো।<br>ট্রুডোর সঙ্গে পরিচয়ের পর জীবনে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন কেটি। চলতি বছরের ৮ জুন নিউইয়র্কের ট্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের কনসার্ট চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারে ট্রুডোকে নিয়ে লালগালিচায় হাঁটেন তিনি। সেখানকার এক আলাপচারিতায় কেটি বলেন, জীবনের নানা ক্ষেত্রে নিজেকে এখন আরও স্থির মনে হচ্ছে তাঁর। ট্রুডোর সঙ্গে ভালোবাসা তাঁকে পূর্ণতার অনুভূতি দিয়েছে।<br>সেপ্টেম্বরে পিপলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও উঠে আসে সেই সম্পর্কের প্রসঙ্গ। কেটি জানান, ট্রুডো তাঁর গান জানেন, কাজের প্রতি সমর্থন দেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য মানসিক ক্ষত সারিয়ে ওঠার মতো।<br>শুধু কনসার্ট বা চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার নয়, অন্য আয়োজনেও কেটির পাশে দেখা গেছে ট্রুডোকে। ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলউডে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগের অনুষ্ঠানে গান করেন কেটি। সেদিন ট্রুডোও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।</p><p><strong>আঘাত পেরিয়ে নতুন গান</strong><br>কেটির সাম্প্রতিক গানেও উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক আঘাত ও সেই অবস্থা পেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘ব্যান্ডএইডস’ গানে সম্পর্কের ক্ষত ও কষ্টের কথা উঠে আসে। তবে গানটির প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন ব্যাখ্যা দেননি তিনি।<br>চলতি বছরের ২৫ জুন প্রকাশিত হয় নতুন গান ‘ওয়াচ ইট বার্ন’। এতে দীর্ঘদিন চেপে রাখা ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে মুক্তি পাওয়া মিউজিক ভিডিওটি আগের ‘ব্যান্ডএইডস’-এর গল্প এগিয়ে নেয়।<br>ইউনিভার্সাল মিউজিক কানাডার ভাষ্য অনুযায়ী, গান দুটি মিলে আবেগের একটি যাত্রা তুলে ধরে—প্রথমটিতে আঘাত, পরেরটিতে সেই আঘাত থেকে মুক্তি। ‘ওয়াচ ইট বার্ন’-এর সহগীতিকার ও সহপ্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন জাস্টিন ট্রান্টারসহ কয়েকজন। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন ক্রিশ্চিয়ান ব্রেসলাওয়ার।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-10-12/tba86udm/bac6bb71-e6d4-4320-b8d0-90c87736e713.jpg"><figcaption>কেটি পেরি আর জাস্টিন ট্রুডোর প্রেম এখন ‘আনুষ্ঠানিক’। কোলাজ</figcaption></figure><p><strong>পাঁচ মহাদেশে ৯১ কনসার্ট</strong><br>ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়েও কনসার্ট চালিয়ে গেছেন কেটি। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল মেক্সিকো সিটিতে শুরু হয় তাঁর ‘লাইফটাইমস ট্যুর’। পাঁচ মহাদেশের ২৩টি দেশে ৯১টি কনসার্টের এই সফর শেষ হয় ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর, আবুধাবিতে।<br>অরল্যান্ডোর সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের সময় কেটি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়।</p><p>পিপলকে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, বন্ধুরা সবাই বাড়ির কাছাকাছি ছিলেন, আর তিনি ছিলেন অনেক দূরে। মন খারাপ হতো, কান্নাও পেত। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই মঞ্চে উঠেছেন, গান শুনিয়েছেন দর্শকদের।<br>সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘কেটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর-লাইভ ফ্রম প্যারিস’। পল ডাগডেল পরিচালিত কনসার্ট চলচ্চিত্রটি গত ২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে। এতে রয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্যারিসের আকোর অ্যারেনায় ধারণ করা তাঁর পরিবেশনা।<br><strong>যে গানে বদলে যায় ভাগ্য</strong><br>১৯৮৪ সালের ২৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় জন্ম কেটি পেরির। তাঁর জন্মনাম ক্যাথেরিন এলিজাবেথ হাডসন। ছোটবেলায় গির্জায় গান গাইতেন। সংগীতজীবনের শুরুতে গসপেল গান করলেও পরে পপসংগীতে মনোযোগ দেন।<br>২০০৮ সালে ‘আই কিসড আ গার্ল’ তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ‘হট এন কোল্ড’, ‘ফায়ারওয়ার্ক’, ‘রোর’, ‘ডার্ক হর্স’ ও ‘ক্যালিফোর্নিয়া গার্লস’-এর মতো গান তাঁকে পপসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা করে তোলে।<br>২০১০ সালে প্রকাশিত টিনএজ ড্রিম তাঁর সংগীতজীবনের বিশেষ মাইলফলক। অ্যালবামটির পাঁচটি গান যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকার শীর্ষে ওঠে। প্রথম নারী শিল্পী হিসেবে এক অ্যালবাম থেকে পাঁচটি গান নিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন কেটি।<br>ইউনিভার্সাল মিউজিক কানাডার জুন ২০২৬-এর তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কেটির গান ১২ হাজার ৫০০ কোটির বেশিবার স্ট্রিম হয়েছে। বিশ্বজুড়ে তাঁর অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে সাত কোটির বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ছয়টি গান ও টিনএজ ড্রিম অ্যালবাম ডায়মন্ড সনদ পেয়েছে।</p><p><strong>মেয়ে ডেইজিকে ঘিরে জীবন</strong><br>দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচনাও সামলাতে হয়েছে কেটিকে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘১৪৩’ অ্যালবামটি কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর বিচ্ছেদ, কনসার্ট সফর ও নতুন সম্পর্ক—সব মিলিয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে তাঁর জীবন।<br>এ জীবনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ছয় বছর বয়সী মেয়ে ডেইজি। কনসার্ট সফরেও মেয়েকে সঙ্গে রেখেছেন কেটি। তাঁর আশা, মায়ের কাজ ও পরিশ্রম কাছ থেকে দেখে বড় হবে ডেইজি।<br>জন্মদিন উপলক্ষে রোববার প্রকাশিত পিপলের বিশেষ ফটোফিচারেও উঠে এসেছে মা-মেয়ের সম্পর্ক। সেখানে সেপ্টেম্বরের সাক্ষাৎকার থেকে কেটির একটি বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ডেইজি দেখছে, তার মা নিজের কাজের মধ্যে রয়েছেন; মাকে শক্ত থাকতে দেখছে—এটি মেয়ের জন্য ভালো।</p>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
বন্ধুর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরে স্কুলশিক্ষক নিহত
বন্ধুর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরে স্কুলশিক্ষক নিহত

<p>দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বন্ধুর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামের এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন। আজ রোববার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।</p><p> নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার চক সুকদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের সোনাপুকুর মাঝিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।</p><p>পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের প্রয়াত আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেন (৫৩)। কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে আজিজুলের ছেলে আল রোমানের (২৫) সঙ্গে কয়েক দিন ধরে তাঁর বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া বাড়ির পাশের একটি রাস্তার জমি নিয়ে প্রতিবেশী আসাদুজ্জামানের সঙ্গেও আল রোমানদের বিরোধ ছিল।</p><p>রোববার দুপুরে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেন ও আসাদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন আল রোমানদের বাড়িতে যান। সেখানে আজিজুল মাস্টারের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়। এ সময় আল রোমানদের বাড়িতে যাওয়া লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে তিনি পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।</p><p>ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে এক শিক্ষককে মারধরের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।</p><p>আল রোমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মোবাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, প্রায় ১৩ বছর আগে তাঁর বাবা মারা যান। মনোরঞ্জন রায় ছিলেন তাঁর বাবার বন্ধু। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাঁদের দুই ভাইবোনের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেখভাল করতেন মনোরঞ্জন রায়। অন্যদিকে কাঠমিস্ত্রি ফরতাজও তাঁর মাকে ধর্মমেয়ে বলে সম্মোধন করতেন এবং তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন।</p><p>আল রোমানের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে তাঁদের বাড়ির কয়েকটি ইউক্যালিপটাসগাছ কাটা হয়। তাঁর অনুমতি ছাড়াই ফরতাজ গাছগুলো করাতকলে নিয়ে চেরাই করান। পরে কাঠের হিসাব করে পরিমাণে কম পান তিনি। বিষয়টি তিনি মনোরঞ্জন রায়কে জানিয়েছিলেন।</p><p>এর মধ্যে বাড়িতে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেন আল রোমান। প্রথমে ফরতাজ কাজটি শুরু করেন এবং তাঁকে পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। কিন্তু ফরতাজ ওই টাকা অন্য শ্রমিকদের না দিয়ে নিজেই রেখে দেন বলে আল রোমান অভিযোগ করেন। পরে ফরতাজ শ্রমিকপ্রতি ৮০০ টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেন। এতে আপত্তি জানান আল রোমান। একপর্যায়ে ফরতাজকে কাজ থেকে বাদ দিয়ে অন্য শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো শুরু করেন তিনি। আল রোমানের ভাষ্য, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ফরতাজ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান।</p><p>এ বিষয়ে দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রয়াত বন্ধুর পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করতে চিরিরবন্দর থেকে ওই শিক্ষক সেখানে গিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির পর তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।</p><p>এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।</p>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে; এগিয়ে যাচ্ছে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম
ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে; এগিয়ে যাচ্ছে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ ৮৭ কোটি ইউরোর ডেনিম রপ্তানি করেছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি: ক্ষমা চাইতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ
সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি: ক্ষমা চাইতে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ

<p>সাংবাদিকদের নিয়ে পেটানোর হুমকির ঘটনায় বক্তব্য দেওয়ায় ইসলামি বক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক সাংবাদিক।</p><p> আজ রোববার ঢাকার আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান। প্রথম আলোকে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।</p><p> নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মানহানি, হামলার হুমকি ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণে করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে একটি বক্তব্য দেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটা যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে। সাংবাদিকরা ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করে নাই, প্রচার করেছে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক। এরা হলুদ সাংবাদিকতা করে। এরা বিদেশি ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ কর্তৃক পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক এটা তারা চায় না।’</p><p>নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে নিজে এবং অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি দিয়েছেন, যা সাংবাদিকতার জন্য ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সাংবাদিকতা পেশা ও পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য চরম অবজ্ঞামূলক, মানহানিকর ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।</p><p>নোটিশদাতা সাংবাদিক আজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি একজন ইসলামি বক্তা হয়ে সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, যা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা তাঁর এই বক্তব্য ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য অফিশিয়ালি নোটিশ দিয়েছি। সাত দিনের মধ্যে যদি তিনি ক্ষমা না চান তাহলে আমরা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।’</p>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাফসান-সুনেরাহর কি সত্যিই বাগদান হয়েছে?
রাফসান-সুনেরাহর কি সত্যিই বাগদান হয়েছে?

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/6wu0djnj/rafsan-sunerah-2.png"><figcaption>ঝলমলে পোশাকে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইফতেখার রাফসান ও সুনেরাহ তাসনিমের এসব ছবি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, তবে কি দুজন গাঁটছড়া বাঁধলেন?</figcaption></figure><p>হঠাৎ করেই ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঝলমলে পোশাকে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইফতেখার রাফসান ও সুনেরাহ তাসনিমের এসব ছবি দেখে নেটিজেনরা বলছেন, তবে কি দুজন গাঁটছড়া বাঁধলেন?</p><p>রাফসান ও সুনেরাহর প্রেমের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। তাঁদের দাবি, তাঁরা দুজন ভালো বন্ধু। অনেক ভিডিওতেই দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/kyl7zpn2/rafsan-sunerah-1.png"><figcaption>দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বন্ধুত্বের রসায়ন নেটিজেনরা পছন্দও করেন</figcaption></figure><p>দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বন্ধুত্বের রসায়ন নেটিজেনরা পছন্দও করেন। তবে সম্পর্কের ব্যাপারে কখনোই তাঁরা খোলাসা করে কিছু বলেননি। তাই গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছে আরও।</p><p>রাফসান-সুনেরাহকে জুটি হিসেবে দেখার অপেক্ষায় আছেন যাঁরা, তাঁদের এই দফায় অবশ্য হতাশই হতে হচ্ছে।</p><p>দুই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ছবিগুলো মূলত একটি ক‍্যাম্পেইনের জন‍্য তোলা। শিগগিরই বিস্তারিত জানা যাবে। </p>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে কলসিন্দুরের জয়
টাইব্রেকারের রোমাঞ্চে কলসিন্দুরের জয়

দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, এরপর রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে নাটকীয় জয়! প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের ঢাকা আঞ্চলিক ফাইনালে

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
৭৫ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্তে এবার সিআইডি
৭৫ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি তদন্তে এবার সিআইডি

<p>অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি অভিযোগে করা মামলার পুনঃ তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি পুলিশকে দিয়েছেন আদালত।</p><p> এ মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।</p><p>বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা প্রথম আলোকে বলেন, পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আদালত সিআইডি পুলিশকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সিআইডিকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।</p><p>২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়।</p><p>তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘সত্যতা পায়নি’ মর্মে গত ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম। সেই প্রতিবেদনে তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বাদী পক্ষের নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষীদের শুনানি শেষে আদালত আজ ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।</p><p>মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। তানজিন তিশা ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা দামের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।</p><p>মামলায় আরও বলা হয়, শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান সানায়া। এরপর শাড়ি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশা তাঁকে ‘গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি’ দেন। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তখনো শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় বলা হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/qd6lcb1w58">২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল অভিনেত্রী তিশার</a></aside><p>এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করার এবং ‘সামাজিকভাবে হেয় করার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। ওই অভিযোগে ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।</p><p>এদিকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের শাড়ি নিয়েও তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা চলছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে অভিনেত্রী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।</p>

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ অক্টোবরই এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এর প্রভাবে দেশে বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন