মাদকবিরোধী আন্দোলন

শিশুর মানসিক বিকাশ: অভিভাবকদের করণীয় ও পরামর্শ

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
শিশুর মানসিক বিকাশ: অভিভাবকদের করণীয় ও পরামর্শ
শিশুর মানসিক বিকাশ: অভিভাবকদের করণীয় ও পরামর্শ
<p>প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২০২৫ সালের ২ আগস্ট প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৭১তম পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল এবং মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেখলা সরকার পরামর্শ প্রদান করেন। ‘সন্তানের মনের সংকটে অভিভাবকের করণীয়’—এই বিষয়ের ওপর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞগণ। উক্ত আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।</p><p>সভায় শিশুর সঠিক মানসিক বিকাশ ও বেপরোয়া আচরণ রোধে অভিভাবকদের বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক মোহিত কামাল। তিনি বলেন, অনেক সময় অভিভাবকেরা সন্তানের আবেগ ও চাহিদা অনুধাবন করেন না এবং তাদের সমস্যার কথা শোনেন না। এর ফলে শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা আত্মপরিচয়ের সংকটে ভোগে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়।</p><p>এই পরিস্থিতি এড়াতে অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে তিনি জানান:</p><ul><li><p><strong>সুযোগ তৈরি:</strong> সন্তানের সঙ্গে পরিবারের সবার ভালো যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।</p></li><li><p><strong>মতামতের মূল্যায়ন:</strong> বিভিন্ন বিষয়ে পারিবারিক আলোচনায় সন্তানদের যুক্ত করতে হবে এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত দক্ষতার উন্নতি ঘটে।</p></li><li><p><strong>সিদ্ধ চাপিয়ে না দেওয়া:</strong> সন্তানের মতামত না নিয়ে জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তারা বেপরোয়া ও বিধ্বংসী আচরণ করতে পারে। তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।</p></li></ul>

Prothomalo

View more
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: বন্ধু দীপ হেফাজতে
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: বন্ধু দীপ হেফাজতে

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: বন্ধু দীপ হেফাজতে

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
মৃত ও প্রবাসীদের দেখিয়েছেন শ্রমিক, ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ ৫৫ প্রকল্পের টাকা
মৃত ও প্রবাসীদের দেখিয়েছেন শ্রমিক, ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ ৫৫ প্রকল্পের টাকা

বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী হাসিনা বেগম অবাক হন। একই এলাকার মোস্তফার মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকেও টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
আড়াই শ ছবিতে অভিনয়, পরেশ রাওয়ালের পছন্দ মাত্র ১১টি! কোনগুলো
আড়াই শ ছবিতে অভিনয়, পরেশ রাওয়ালের পছন্দ মাত্র ১১টি! কোনগুলো

এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের অভিনীত কয়টি ছবিকে ভালো মনে করেন পরেশ রাওয়াল? উত্তরটা শুনলে অবাক হতে হয়। মাত্র ১১টি!

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
তুরাগ নদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার, তাহসিফের কি না যাচাই করছে পুলিশ
তুরাগ নদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার, তাহসিফের কি না যাচাই করছে পুলিশ

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পিবিআই। সংস্থাটি বলছে, মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে ৫০ গজ দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেল পাওয়া যায়।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নেতানিয়াহুর সাফল্যে আশা দেখছেন 
ডোনাল্ড ট্রাম্প
নেতানিয়াহুর সাফল্যে আশা দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিরোধীরা সরকার গঠন করতে না পারলে নেতানিয়াহু তাঁদের একাংশকে নিজের দিকে টেনে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
পৃথিবীতে পানি এল কোথা থেকে
পৃথিবীতে পানি এল কোথা থেকে

<p>পৃথিবীতে শুরু থেকেই পানি ছিল, নাকি বাইরের কোনো উৎস থেকে পানি এসেছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে। কোনো কোনো বিজ্ঞানীর ধারণা, পৃথিবীতে প্রথম জীবের আবির্ভাব হওয়ার আগেই পানির উপস্থিতি ছিল। আবার কারও ধারণা, সৌরজগতে থাকা গ্রহাণুর মাধ্যমে পানি এসেছে পৃথিবীতে। সম্প্রতি নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সৃষ্টির শুরুর দিকে পৃথিবী পুরোপুরি শুষ্ক বা পানিহীন অবস্থায় ছিল। আজকের পৃথিবীতে থাকা সব পানি আমাদের গ্রহ তার নিজস্ব পাথুরে কাঁচামাল থেকে সরাসরি তৈরি করেছে।</p><p>নেচার জিওসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা ফলাফলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, পৃথিবী তৈরির সময় আকাশ থেকে নিচে পড়া পাথরের কণার সঙ্গে হাইড্রোজেনসমৃদ্ধ বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটেছিল। এর ফলে চরম উত্তাপের মধ্যে এসব শিলার আয়রন অক্সাইড হাইড্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও বিশুদ্ধ লোহা তৈরি করেছে। এ লোহা পরে পৃথিবীর ধাতব কেন্দ্র বা কোর গঠন করেছে। এ বিষয়ে নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী জ্যাকারি শার্প জানান, বিশাল জলাশয়ের দিকে তাকিয়ে এটি কল্পনা করা কঠিন। প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডলের কারণে এ পানি তৈরি হয়েছিল।</p><p>বিজ্ঞানীরা শিলার নমুনা ১২০০ থেকে ১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় হাইড্রোজেনের প্রবাহের মধ্যে উত্তপ্ত করে নিজেদের তত্ত্ব পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে, হাইড্রোজেনের প্রবাহে রাখা ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরের নমুনায় থাকা আয়রন অক্সাইডের ৮০ শতাংশই ধাতব লোহায় রূপান্তরিত হয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পানি তৈরি হয়। হিলিয়াম–প্রবাহে রাখা নমুনায় এমন কোনো বিক্রিয়া ঘটেনি, যা প্রমাণ করে যে উত্তপ্ত হাইড্রোজেন বায়ুমণ্ডলই মূল চাবিকাঠি ছিল। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী জ্যাকারি শার্প বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম যে রিডাকশন পরীক্ষায় লোহা ও পানি তৈরি হবে, তবে কতটা দ্রুত ও কী পরিমাণে হবে, তা জানার উপায় ছিল না। আমাদের গবেষণার হিসাব থেকে দেখা গেছে, এ প্রক্রিয়ায় শত শত মহাসাগরের সমপরিমাণ পানি তৈরি হয়েছিল।’</p><p>সৌরজগতের সব গ্রহ ধূলিকণা ও পাথরের একটি ঘূর্ণায়মান রিং থেকে তৈরি হয়েছে। একে প্রোটোপ্ল্যানেটরি ডিস্ক বলা হয়। সূর্যের প্রবল বিকিরণের কারণে ভেতরের গ্রহগুলোয় পানির অণু ধ্বংস হওয়ার কথা ছিল। আগে ভাবা হতো যে ধূমকেতু বা উল্কাপিণ্ডের মতো বাইরের উৎস থেকে পৃথিবীতে পানি এসেছে। তবে পৃথিবীর শুরুর দিকে এত বিপুলসংখ্যক ধূমকেতুর আঘাত হানার বিষয়টি অনেকেই অসম্ভব বলে মনে করেন।</p><p>নতুন এ বৈজ্ঞানিক গবেষণা দূরবর্তী সব তারাকে কেন্দ্র করে ঘোরা অন্যান্য পাথুরে গ্রহে প্রাণের সন্ধানে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী শার্প বলেন, পেবল অ্যাক্রিশনের ধারণা তুলনামূলক নতুন। এ ধারণা গ্রহ গঠনের বিদ্যমান ধারণার অনেক সমস্যার সমাধান করেছে।</p><p><strong>সূত্র:</strong> ডেইলি মেইল</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল: ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা কি দীর্ঘ হতে পারে
ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল: ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা কি দীর্ঘ হতে পারে

<p>ইসরায়েলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত হয়েছে। এতে নিশ্চিত হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী জোট কিংবা প্রধান বিরোধী জোট, কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি।</p><p> এ ফলাফলের পর ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে দর-কষাকষি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা চলতে পারে।</p><p> নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাদের মিত্ররা পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন পেয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে দেখা গেছে, ২০২২ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহু জোটের পাওয়া ৬৪টি আসন থেকে এবার আসনসংখ্যা কমেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/iejvlkxt/Info-1.jpg"></figure><p>সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮ আসন। কয়েক মাস ধরে জনমত জরিপে এ জোট এগিয়ে ছিল। আর দুটি আরব দল পেয়েছে ১৯টি আসন, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।</p><blockquote>এ নির্বাচনকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন নজিরবিহীন হামলার পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন।</blockquote><p>নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফলাফলে ‘সামান্য সংশোধন’ হতে পারে। এরপর আগামী ৪ নভেম্বর ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়া হবে। আজ মধ্যরাতের (গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) কিছুক্ষণ পর কমিশন এ কথা জানায়।</p><p>চূড়ান্ত ফলাফল হাতে পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট হারজগ মূলত ঠিক করবেন, কার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সবচেয়ে বেশি সম্ভব। এরপর তিনি সেই নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/g0pitokq/eisekot-001.jpg"><figcaption>নির্বাচনে বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর তেল আবিবে নিজের দল ইয়াশারের সদর দপ্তরে ইসরায়েলের পতাকা নাড়ছেন দলটির নেতা ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ </figcaption></figure><p>আগামী সপ্তাহে ভোটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট সব দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন। ৪ নভেম্বর আসনের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে, আর দলগুলো ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত যেকোনো আইনি আপত্তি বা অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ পাবে।</p><aside><cite> —আসাফ শাপিরা, ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের (আইডিআই) গবেষক</cite>প্রেসিডেন্ট সম্ভবত গাদি আইজেনকটকেই প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন।</aside><p>জেরুজালেমের নিরপেক্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের (আইডিআই) গবেষক আসাফ শাপিরার মতে, প্রেসিডেন্ট সম্ভবত গাদি আইজেনকটকেই প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন। ইসরায়েলের আইন ও অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শের সময় অন্য দলগুলোর কাছ থেকে যে নেতা সবচেয়ে বেশি সমর্থন বা সুপারিশ পান, সাধারণত তাঁকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।</p><p>এ নির্বাচনকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে একধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নেতৃত্বাধীন নজিরবিহীন হামলার পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। ওই হামলার পর থেকেই গাজায় তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।</p><blockquote>রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে আলোচনা যদি কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে থমকে থাকে, তবে তা নেতানিয়াহুর জন্যই লাভজনক হবে। কারণ, নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিই ক্ষমতায় থেকে যাবেন।</blockquote><p>নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার দায় নিতে নেতানিয়াহুর অস্বীকৃতিতে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইহুদি দলগুলোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে পারেনি।</p><p>ভোটের ময়দানে নেতানিয়াহু অবশ্য সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছেন। আরব রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটারদের মন জয় করেন এবং তাঁর দল এককভাবে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়।</p><p>পুরো নির্বাচনী প্রচারে গাদি আইজেনকট নিজেকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর নীতি দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলেই তাঁর অভিযোগ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-30/id7dkb3x/Info-2.jpg"></figure><p>ভোটে নেতানিয়াহুর সামান্য সুবিধাজনক অবস্থান অবশ্য আইজেনকট ও আদর্শিকভাবে তাঁর ভিন্নমতাবলম্বী বিরোধী জোটকে এক কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হয় তাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বাঁধতে হবে, অন্যথায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করতে হবে।</p><p>ফলে সরকার গঠনের এ প্রক্রিয়া বেশ তিক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যা কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট কোনো প্রার্থীকে মনোনীত করার পর, সেই নেতা অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানোর আবেদন করা যেতে পারে।</p><p>প্রথম মনোনীত প্রার্থী যদি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে প্রেসিডেন্ট অন্য যেকোনো দুই নেতাকে পর্যায়ক্রমে এ দায়িত্ব দিতে পারেন। তাঁরাও যদি ব্যর্থ হন, তবে দেশটিতে আবারও নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রেসিডেন্ট হারজগ গত বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করতে হবে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সরকার গঠনে সাধারণত ২০ থেকে ১০০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে থাকে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/sfd9rpts/netaniahu-002.jpg"><figcaption>বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর জেরুজালেমে নিজের দল লিকুদের সদর দপ্তরে বক্তব্য দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ </figcaption></figure><p>জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন ছাড়াও রাজনীতিতে বেশ কিছু সম্ভাব্য সমীকরণের কথা শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো, বিরোধী জোট যদি আরব দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে। কারণ, আরব দলগুলোর ভালো ফলাফলের ফলে আগামী সরকার গঠনের আলোচনায় তারা অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে পারে। তবে বিরোধী জোটের দলগুলোসহ বেশির ভাগ ইহুদি দলই এ সিদ্ধান্তের পক্ষে নয়। মূলত জায়নবাদী অবস্থানকে সমর্থন করতে অনিচ্ছুক, এমন আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বহু বছর ধরেই ইসরায়েলি ইহুদিদের মধ্যে তীব্র আপত্তি রয়েছে।</p><p>পরিস্থিতি সামাল দিতে উভয় নেতাই এখন প্রতিপক্ষ শিবির থেকে দল বা স্বতন্ত্র এমপিদের নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করতে পারেন।</p><p>৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে আরব দলগুলোর প্রতি ইসরায়েলের মনোভাব আরও কঠোর হয়েছে। নেতানিয়াহু নির্বাচনী প্রচারে বারবার আরব ভোটারদের জুজুর ভয় দেখিয়েছেন। তাঁরা ‘ভোট চুরির চেষ্টা করছেন’ এমন বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে তিনি নিজের ভোটারদের সংগঠিত করেন।</p><p>অন্যদিকে আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করবেন কি না, তা স্পষ্ট করে না বললেও দলগুলোর কোনোটি তাঁর জোটের শর্ত পূরণ করে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/4jpzgxg1qf">ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল: ইসরায়েলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু</a></aside><p>রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে আলোচনা যদি কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছে থমকে থাকে, তবে তা নেতানিয়াহুর জন্যই লাভজনক হবে। কারণ, নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিই ক্ষমতায় থেকে যাবেন।</p><p>ইসরায়েলের সাধারণ ভোটারদের জন্য এ নির্বাচনী ফলাফল এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ইসরায়েলকে পঙ্গু করে দিয়েছিল এবং যে কারণে ভোটারদের পাঁচবার ভোটকেন্দ্রে যেতে হয়েছিল, দেশটিতে আবারও সেই অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা তাঁর ক্ষমতায় টিকে থাকার সম্ভাবনা দেখে স্বস্তি পেলেও যাঁরা তাঁর চূড়ান্ত পরাজয় আশা করেছিলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থার এ নতুন আশঙ্কায় তাঁরা বেশ হতাশ।</p>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে হবে কালকের মধ্যেই, নয়তো বাসা বাতিল
সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে হবে কালকের মধ্যেই, নয়তো বাসা বাতিল

আগামীকাল ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট বা ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সরকারি চাকরিজীবীকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁকেই সেখানে বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
নারকেলের হলুদ স্যুপের রেসিপি দেখুন
নারকেলের হলুদ স্যুপের রেসিপি দেখুন

<p>রাতে অনেকেরই গরম স্যুপ আর রুটি খেতে ভালো লাগে। এখানে রইলো একটা ভিন্ন স্বাদের স্যুপের খোঁজ। রেসিপি দিয়েছেন <strong>নাজিয়া ফারহানা</strong></p><h3>উপকরণ</h3><ul><li><p>নারকেলের দুধ ১ কাপ</p></li><li><p>অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ</p></li><li><p>পেঁয়াজকুচি ২ টেবিল চামচ</p></li><li><p>রসুনকুচি ১ চা-চামচ</p></li><li><p>আদাকুচি ১ চা-চামচ</p></li><li><p>হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ</p></li><li><p>সবজির স্টক ২ কাপ</p></li><li><p>লবণ স্বাদমতো</p></li><li><p>গোলমরিচ স্বাদমতো </p></li><li><p>লেবুর রস ১ চা-চামচ</p></li></ul><h3>প্রণালি</h3><ul><li><p>প্যানে অলিভ অয়েল গরম করে পেঁয়াজ, রসুন ও আদা ভেজে নিন। </p></li><li><p>হলুদগুঁড়া দিয়ে নেড়ে সবজির স্টক যোগ করুন। </p></li><li><p>৮-১০ মিনিট ফুটিয়ে নারকেলের দুধ মেশান। </p></li><li><p>আরও ৩-৪ মিনিট অল্প আঁচে রান্না করুন। </p></li><li><p>লবণ, গোলমরিচ ও লেবুর রস দিয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।</p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/slizllna1r">কোরিয়ার জনপ্রিয় চিকেন-নুডলস স্যুপ ডাক কালগুকসু, রেসিপি দেখুন</a></aside>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।